July 31, 2012

অলিম্পিকস অলিম্পিকস



অলিম্পিকস দেখছেন? আমি নিয়মিত ফলো করছিনা, যদিও এদিকসেদিক খবরাখবর রাখছি, শুনছি, পড়ছি। আমার সহকর্মী A রোমহর্ষক রেসের ক্লিপিংস পাঠাচ্ছে অফিস-মেলে, সেগুলো দেখছি। আমি নিজে লুডো ছাড়া কিচ্ছু খেলতে পারিনা, কিন্তু খেলা দেখতে আমার ভালোলাগে। এটা মায়ের থেকে পেয়েছি বোধহয়। মা জন্মে কিছু খেলেননি কোনোদিন, সারাজীবন বাড়ির বাগানে মামাদের ফুটবল খেলায় হাওয়াই চটি হাতে গলিয়ে গোলকিপার-গিরি করে এসেছেন, অথচ সৌরভ গাঙ্গুলি সম্পর্কে মায়ের উৎসাহ দেখলে আপনার শ্রদ্ধা হবে।

খেলাধুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় মাকে হারাতে পারবনা, তবে আমি সত্যি সত্যি মনে করি টিভিতে খেলা ছাড়া আর দেখার কিছু নেই। বাজার গরম করা উড়ো খবর, অপসংস্কৃতিময় নাচাগানা কিংবা সারাদিন ধরে রান্নার ক্লাস দেখার থেকে বল নিয়ে গুঁতোগুঁতি দেখা ঢের ভালো। আমার ছোটবেলার সবথেকে স্পষ্ট স্মৃতিগুলোর মধ্যে বাবার পাশে বাবু হয়ে বসে ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ দেখার স্মৃতি একটা। দেখছি আর বাবার দেখাদেখি গম্ভীর মুখে মাঝে মাঝে বলছি, “উফ পাসটা কী বাড়ালো দেখলে? ইন্ডিয়া খেলবে এদের সঙ্গে? তাহলেই হয়েছে।”

ছোটবেলায় খুব উৎসাহভরে অলিম্পিকস দেখতাম। ওপেনিং সেরিমনি থেকে শুরু করে ক্লোজিং সেরিমনি শেষ হয়ে যতক্ষণ না ক্যামেরাম্যানরা যন্ত্রপাতি গুটিয়ে মাঠ ছাড়তেন ততক্ষণ পর্যন্ত। এখন আর দেখতে ইচ্ছে করেনা। খেলা ব্যাপারটাও ওই ভূতের সিনেমার মতো, একা একা দেখার থেকে না দেখা ভালো।

অলিম্পিকসে কী দেখেন আপনি? আমার সবথেকে ভালো লাগে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের খেলাগুলো। তার মধ্যে অবশ্য কমবেশি আছে। শটপুট আর জ্যাভলিন নিক্ষেপ থেকে দৌড় দেখতে সবসময়েই বেশি ভালোলাগে। দৌড়বীররা যখন স্টার্টিং পয়েন্টে মাথা নিচু করে ডাউনওয়ার্ড ডগ হয়ে দাঁড়ান আমার বুকের ভেতর ঢেঁকির পাড় পড়তে থাকে। তারপর হঠাৎ একটা ঠাই করে বন্দুকের আওয়াজে ভয়ানক চমকে উঠে কোনোমতে ধাতস্থ হতে না হতেই ১০০ মিটার শেষ। চক্ষের নিমেষে। উল্লাসে ফেটে পড়া মাঠ আর ক্যামেরা, সাংবাদিক, কর্মকর্তাদের ভিড়ের ফাঁকে ঘামে কান্নায় ভেজা বিজয়ীর মুখ।

আর ভালোলাগে জলের ভেতর মাছের মতো নড়াচড়া শরীর দেখতে। সাঁতার, ডাইভিং, সিনক্রোনাইজড সাঁতার। ডুবন্ত ক্যামেরার চোখ দিয়ে মাইকেল ফেল্পসের ভাস্কর্যের মতো দেহ লুকিয়েচুরিয়ে দেখি। এই সাড়ে তিন হাত শরীরটাকে নিয়ে কী কী করতে পারে মানুষ, আমার হাঁটুর বয়সী মানুষ, দেখেশুনে আমার মুখের হাঁ বন্ধ হয়না। একটা কঞ্চির ওপর ভর করে আকাশে লাফ মারে, আকাশ থেকে দেহটাকে গুটিয়েসুটিয়ে গোল্লা পাকিয়ে জলের ভেতর ঝাঁপায়, শূন্যে একের পর এক ইঞ্চি-মেপে ডিগবাজি খেয়ে এসে ঠিক সেই সরু প্ল্যাটফর্মটার ওপরেই এসে ল্যান্ড করে। প্রত্যেকবার।

আমি আমার চরম বেতালা শরীরটাকে নিয়ে পর্দার এপারে বসে বসে দেখি সব। আর টেনশনে মুঠো মুঠো চিপস মুখে পুরি। এই বুঝি বাচ্চা মেয়েটার পা মচকে গেল। এই বুঝি লাফাতে গিয়ে শিরদাঁড়ার ঠোকা লেগে ডাণ্ডা পড়ে গেল, এই বুঝি মিলিমাইক্রো সেকেন্ডের ব্যবধানে এই লোকটা ওই লোকটার থেকে আগে চলে গেল।

ছবি গুগল ইমেজেস থেকে

কাউকেই চিনিনা, তাই যে-ই আগে যায় তার জন্যেই আনন্দে লাফাতে ইচ্ছে করে আমার, যে-ই হেরে যায় তার মুখটা দেখেই কান্না পায়। কী জ্বালা।

এই পোস্টটা লিখতে গিয়ে সেসব কথা মনে পড়ে গেল। আর অমনি অলিম্পিকস দেখার ইচ্ছেটা আবার চাগিয়ে উঠল মনের ভেতর। দেখি, কাল থেকে দেখবখ’ন।

আপনাদের অলিম্পিকসের কী কী খেলা দেখতে ভালো লাগে? 

Dis or Dat






রেনল্ডস না সেলো গ্রিপারঃ সেলো গ্রিপার

রবিবাসরীয় না রোববারঃ রবিবাসরীয়

মারুতি ৮০০ না অ্যামবাসাডরঃ অ্যামবাসাডর

আবহাওয়ার খবর না নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণাঃ নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণা

আইসক্রিম না জেল্যাতোঃ আইসক্রিম 

ইন আ কাপ না ইন আ কোনঃ ইন আ কাপ প্লিজ।

সুগার অ্যান্ড স্পাইস না মনজিনিসঃ মনজিনিস। আমার ফেভারিট ছিল চিকেন ইন্টারনেট। 

প্রেম না অ্যারেঞ্জডঃ প্রেম 

(যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া) বাসন মাজা না কাপড় কাচাঃ বাসন মাজা

শ্রেয়া ঘোষাল না সুনিধি চৌহানঃ সুনিধি চৌহান

হিল্যারি ক্লিন্টন না সোনিয়া গান্ধীঃ হিল্যারি ক্লিন্টন

জ্যাজ না কান্ট্রিঃ কান্ট্রি

ম্যাডোনা না মাইকেল জ্যাকসনঃ মাইকেল জ্যাকসন

প্রণব না প্রতিভাঃ প্রণব 

পিয়ার্সিং না ট্যাটুসঃ ট্যাটুস

ক্যাপুচিনো না অ্যামেরিক্যানোঃ ক্যাপুচিনো 

মাঝরাত না ভরদুপুরঃ মাঝরাত 

পিয়্যানো না গিটারঃ গিটার

ভিক্স না হলসঃ ভিক্স কি গোলি লো, খিচখিচ দূর করো।

মৌরি না জোয়ানঃ জোয়ান

কমলা না বাতাবিঃ বাতাবি। জন্ডিসের সময় প্রাণভরে খেয়েছিলাম। 

পাতি না গন্ধঃ গন্ধ

আরশোলা না টিকটিকিঃ আরশোলা

কাঁটা না চামচঃ কাঁটা

প্যানকেক না ওয়্যাফলঃ ওয়্যাফল। বেলজিয়ান হলে বেটার। 

স্যান্ডউইচ না পিৎজাঃ স্যান্ডউইচ  

শাখাপ্রশাখা না গণশত্রুঃ শাখাপ্রশাখা 

টেলিফিল্ম না সিরিয়ালঃ টেলিফিল্ম

টক না ঝালঃ ঝাল

টাইম না মানিঃ টাইম

July 30, 2012

যে আগুন নেভেনা





গল্প যখন ফুরোয়


সব আড্ডাতেই একটা না একটা সময় আসে যখন আর নিন্দেমন্দ করার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যায়না। একে অপরের লেগপুলিং শেষ, অ্যাডভাইসরের পিণ্ডি চটকানো শেষ, মাতৃভূমি পিতৃভূমির সমাজ-সংসার-রাজনীতি নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শেষ, এদিকে হাতে ধরা লাল, সাদা, বাদামী---কড়া, নরম নানারকম পানীয় তখনও শেষ হতে দেরি আছে অনেক। গল্পের মুডও আছে ষোলআনা। অতঃকিম?

তখন আপনারা আমরা যেটা করি সেটা করতে পারেন। লাইট যদি মৃদু করার উপায় থাকে করে দিন, না থাকলে এ ঘরের আলো নিভিয়ে অন্য ঘরের আলো জ্বালিয়ে আসুন যাতে একটা আলোছায়ার ভাব সৃষ্টি হয়। একটা ল্যাপটপ বাদে বাকিগুলোর ঝাঁপ ফেলে দিন, (একটাই বা বাকি থাকে কেন সেটা একটু পরেই খোলসা হবে।)

এবার গান ধরুন। সরু মোটা ভাঙা ব্যারিটোন, ভগবান যাকে যেমনটি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, খুলে গান ধরুন। মনে রাখবেন এ গাওয়া যত না গাওয়া তার থেকে বেশি গানগুলোর সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে লেপটে থাকা একটা সময়কে খুঁড়ে তুলে আনা। হলই বা শুধু একটা সন্ধ্যের জন্য।

গত শনিবার ছিল আমাদের এরকম একটা গান পার্টির দিন। রুজিরুটির খোঁজে দূরে চলে যাওয়া পুরোনো ক’জন বন্ধু এসেছিল। সঙ্গে করে এনেছিল গোটা দুই গিটার। গরমমশলা, আদারসুন পেস্ট, টকদই, গ্রেট করা পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা কুচি আর অবিশ্বাস্য পরিমাণ সর্ষের তেল দিয়ে মেখে মাংস ম্যারিনেট করতে রেখে আমরা গোল হয়ে বসলাম। চেয়ার, কফিটেবিল, কফিটেবিলের ওপর ফ্যান্সি ডোকরার মূর্তি সব সরিয়েটরিয়ে মেঝেতে থেবড়ে। তারপর গান শুরু হল। সবাই একসাথে গাইতে পারে এমন গান। একের পর এক গান চলল। 

যতক্ষণ না আকাশ বাতাস, ঘরের প্রতিটি কোণাঘুঁজি, আমাদের সব্বার মগজ আর হৃদয়ের প্রতিটি রক্তবিন্দু সে গানের সুরে সুরে উপচে না পড়ে। (আর পেটে ছুঁচো ডনবৈঠক না দেয়।)

সে সন্ধ্যের গাওয়া কোটি কোটি গানের মধ্য থেকে টপ টেন গানের তালিকা এখানে তুলে দিলাম। 

১। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে। ঝিমিয়ে পড়া আড্ডায় অ্যাড্রিনালিনের জোগান দিতে এ গানের জুড়ি নেই। নচিকেতা আর অমিতাভ বচ্চন দুজনেই নিজেদের মতো করে ভালো গেয়েছেন, কিন্তু আমাদের মতো ব্যাকডেটেডদের কানে এখনও কিশোরকুমারের গলাটাই সবথেকে ভালো বাজে।


২। রবীন্দ্রনাথ আর কিশোরকুমার। শুরু যখন হয়েই গেছে তখন এই গানটা না গাওয়া ক্রাইম।


৩। “মহীন, মহীন” কেউ না কেউ চেঁচিয়ে উঠবেই। তখন এই গানটা শুরু হবে। “মহৎ প্রেমিক ন্যাকা ন্যাকা” লাইনটা গাইবার সময় সবাই হাতের গেলাস আকাশের দিকে তুলে ধরে হইহই করে উঠব।



৪। ততক্ষণে গানের নেশা চড়েছে সবার মাথায়। আর সে নেশার আগুনে ফুঁ দিতে আসবেন, কে আবার, সুমন। জাতিস্মর...না না...তোমাকে চাই...না না গড়িয়াহাটার মোড়...এসব তর্কাতর্কি পেরিয়ে আমরা সবাই শেষমেশ সেই গানটা গাইব যেটা আমাদের সবার বুকের একেবারে ভেতরে গিয়ে নোঙর ফেলবে।।

“বলে সুখে আছ যারা সুখে থাক, এ সুখ সইবে না/দুখে আছ যারা বেঁচে থাক, এ দুখ রইবে না/বন্ধু এ দুখ রইবে না...”


৫। গলার কাছটা ধরে এসেছে? কারো কারো চোখের পাতায় একদু’ফোঁটা কী যেন চকচক করছে? কুছ পরোয়া নেই। এ দুঃখের শেষ দেখে ছাড়ব আমরা। আর দুঃখের গান বড় ভালো গান আমাদের রূপমদা। অতএব...


এই গানটার আরও একটা ভালো দিক হচ্ছে, এত দুঃখের গান কিন্তু গাইতে গাইতে সবার মুখের মেঘ সরিয়ে দাঁত বেরিয়ে যায়। হাসির চোটে সারা গা কাঁপতে থাকে। বিশেষ করে “তবু যাচ্ছি কি, ফিরে যাচ্ছি কি” লাইনদুটো বান্টি কী অসাধারণ আবেগ দিয়ে, গলার শিরাটিরা ফুলিয়ে গায় দেখেও যদি কারো মন ভালো না হয় তাহলে সে মানুষ নয় দেবতা।

৬। গান আর গানের পর গড়াগড়ি খাওয়া হাসি অবশেষে থামলে বুড়োদের মধ্যে কেউ বলি, এই আর ফাজলামো নয়, একটা ভালো দেখে সিরিয়াস গান ধর দেখি। আর বাঙালির কাছে সিরিয়াস গান আর কী আছে, এইটা ছাড়া?



৭। ঋত্বিক ছাড়া বাঙালি অচল, মান্না ছাড়াও। কফিহাউসের স্বর্ণযুগে জন্মান কি না জন্মান, ভ্যাপসা গরমে ক্যাঁচক্যাঁচে স্লো মোশনে ঘোরা ফ্যানের তলায় বসে আড্ডা দিন আর না দিন, নস্টালজিয়্যায় ভুগতে হলে এ গান আপনাকে গাইতেই হবে। আমরাও গাই।


৮। গান থামলে হাতের গেলাসে চুমুক দিয়ে পা নাচিয়ে বান্টি বলে, এইসব শহুরে এলিটপনা আর কদিন চলবে তোমাদের বল দেখি? ওয়েস্ট বেঙ্গলের ক’টা লোক কলেজ স্ট্রীটে ঘোরাঘুরি করে বলে তোমাদের মনে হয়? এসমস্ত রিমুভড রিয়্যালিটি থেকে বেরিয়ে না এলে...আমি ওর মুখ চেপে ধরে বলি, কী চাই তোর? মা মাটি মানুষের গান? মুখ বন্ধ অবস্থাতেই ওপর নিচে প্রবল মাথা হেলিয়ে সায় দেয় বান্টি। আমরা পত্রপাঠ শুরু করে দিই...



৯। ততক্ষণে বেশ একটু একটু খিদে পেয়ে গেছে সবার। মাংসও ম্যারিনেডে ভিজে, চিতায় ওঠবার জন্য রেডি। কিন্তু এখন গান থামালে মহাপাতকী হতে হবে যে। বাঙালির কোরাসগানের শেষ কথা, নস্টালজিয়্যার তুঙ্গ মুহূর্তের সেই গানটাই যে গাওয়া হয়নি আমাদের। যে গানটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সবাই গেয়ে এসেছে পিকনিকে, রিইউনিয়নে, পাত্রপক্ষের সামনে, অবসরগ্রহণ অনুষ্ঠানে আর মদের আড্ডায়। ছি ছি এখনও চিনতে পারছেন না? জঘন্য। শুনুন তবে।



হল? হল না? কেন আর কী হতে হবে? নাকি ভাবছেন কুন্তলা গুনতে পারেনা। হিউম্যানিটিসের ছাত্রী বলে আর কত হেয় করবেন বলুন তো? টপ টেনের জায়গায় টপ নাইন হল যে সেটা আমি ভুলে গেছি বলতে চান? ভুলিনি ভুলিনি। আরও অনেক কিছু মনে আছে। মনে আছে যে আর ৪৮ ঘণ্টা পরেই এই সন্ধ্যেটা স্মৃতি হয়ে যাবে, কে জানে কতদিনের জন্য। অফিসে কী বোর্ডের ওপরে আঙুল রেখে, মনিটরের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে ভাবব, সত্যি কি অত ভালো লেগেছিল? চ্যাটবাক্সে যতদিন পারা যায় সে ভালোলাগার আগুন জিইয়ে রাখার চেষ্টা করব প্রাণপণ। মনে আছে? আয় না আরেকবার সময় করে, প্লিইইইইইজ? পায়ে পড়ি?

সেইসব দিনগুলোর কথা ভেবে আমরা সবাই মিলে এই গানটা শুনব। আর ওই যে একটা ল্যাপটপ খুলে রেখেছিলাম মনে আছে, তাতে এই ভিডিওটা চালিয়ে স্টেপ মিলিয়ে মিলিয়ে কেউ কেউ নাচবও। আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন, ইজি স্টেপস



আপনাদের পছন্দের সাথে মিলল আমাদের গানের পার্টির টপ টেন লিস্ট? আপনারা বন্ধুরা একসাথে হলে কী গান করেন? শোনার অধীর অপেক্ষায় রইলাম।

July 29, 2012

সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট #৬-ভালোবাসা। দেখাবার না লুকোবার?



প্রেম কীসে হয়, কীসে টেঁকে, কীসে ভাঙে সে নিয়ে বাজারে কম থিওরি নেই। কেন এত থিওরি আছে সেটা নিয়ে আমার অবশ্য আরেকটা থিওরি আছে। যতই মনের মিল, টেম্পারামেন্ট, প্রিয়কবি ইত্যাদি দেখেশুনে বাছাবাছি করা হোক না কেন, আসলে তো ব্যাপারটা একটা পর্বতপ্রমাণ জুয়া। মানি আর না মানি, জানি আর না জানি। বেশিরভাগ লোকেই অবশ্য আন্দাজ করতে পারেন এবং পেরে শঙ্কিত হয়ে থাকেন। থিওরিগুলো তখন শঙ্কার মুখে খড়কুটোর কাজ দেয়।

একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলি, লোকে কী দেখে প্রেম বাছে (লোকের মধ্যে আমিও পড়ি, যদিও এটা আমার গল্প নয়) সে দেখলে সত্যি বলছি পিলে চমকে যায়। আমার এক স্নেহের পাত্রের একটি মেয়েকে খুব মনে ধরেছিল। ক’দিন ঝড়ের মতো মেসেজ-চ্যাট চলার পর দেখি হঠাৎ সব চুপচাপ। আমি বললাম, “কী রে? কী হল? হাল ছাড়লি নাকি?” তাতে সে ছোকরা বলে, “ছাড়ব কি গো, পালিয়ে বেঁচেছি। যে মেয়ে চে গুয়েভারার নাম জানেনা, তার সাথে প্রেম করব? আমি?”

গল্পের নীতিকথা একটাই, যারা প্রেমের খোঁজে আছেন তাঁরা উইকিপিডিয়া খুলে চে-র জীবনীটা ঝালিয়ে নিন। কখন কোথায় কাজে লাগবে বলা যায় না।

আজকের সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট মেয়েটির সমস্যা/প্রেমটার শুরু হয়েছিল এরকম একটা থিওরি দিয়ে। মেয়েটি শান্ত, ছেলেটি দুর্দান্ত। মেয়েটি স্কুলের স্পোর্টসে গুলিচামচে থার্ড প্রাইজ, ছেলেটি রাজ্যস্তরে পিং পং চ্যাম্পিয়ন। মেয়ের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না, ছেলে প্রিন্সিপ্যালের হুবহু নকল করে পার্টিশুদ্ধু লোকের পেটে খিল ধরায়।

বায়োলজির নিয়ম মেনে একদিন এদের দুজনের চারচক্ষু এক হল। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে বলল, “আরে জানিস না অপোজিটস অ্যাট্রাক্ট? এ জুটি স্বর্গে অর্ডার দিয়ে তৈরি। লেগে পড়।”

প্রেম শুরু হয়ে গেল। সমস্ত অমিল ঝড়ের মুখে ছেঁড়া প্লাস্টিকের মতো উড়ে গেল।

যতদিন না ফেসবুকের ব্যাপারটা শুরু হচ্ছিল।

সমস্যাঃ

প্রেমিক প্রেমিকার দুজনেরই ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু সেখানেও মিল ওর বেশি গড়ায়নি। মেয়েটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিল, সবাই খোলে, তাই। মাঝে মাঝে গিয়ে এদিক ওদিক দেখা, পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেলে হাই হ্যালো, তোর ছানাটা কী মিষ্টি...ব্যস। আর এদিকে ছেলেটি ফেসবুকে খায়, ঘুমোয়, বাঁচে, ছবি টাঙায়। সে টাঙানো নিয়ে মেয়েটির কোনো আপত্তি ছিল না। হাজার হোক পার্সোনাল স্পেস।

তারপর ছেলেটি ওদের যুগলছবি আপলোড করা শুরু করল। মেয়েটি বিব্রত হয়ে বলল, থাক না, আমাদের ছবি আমরাই দেখব’খন। ছেলেটি ওর গালে ভীষণ ভালোবেসে একটা চুমু খেয়ে বলল, সেকি হয়? আমার এমন সুন্দর প্রেমিকা, লোকের হিংসে না হলে চলবে কী করে। মেয়েটি গলে গেল।

তারপর ছবির সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলল, ছবির নিচে লাইক আর বন্ধুদের মন্তব্যের বান ডাকল, ছেলেটি সমস্ত মন্তব্যের গদগদ উত্তর দিতে লাগল, আর মেয়েটি সংকোচে অল্প অল্প মরে যেতে থাকল। আরও ক’বার বারণ করল মেয়েটি, ছেলেটি হয় শুনল না, কিংবা বলল, “তোমার সবেতে বাড়াবাড়ি, বাকি সবাইও তো করে।”

মেয়েটার শেষ যে ছবিটা আপলোড করেছে ছেলেটা ফেসবুকে, তার পাশে লেখা “আমার মিত্তি গার্লফ্রেন্ড”। মেয়েটি এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে বিষয়টা নিয়ে ওর আর কথা বলতেও ইচ্ছে করছেনা।

খালি মনে হচ্ছে, বড় বেশি অন্যরকম লোকের সাথে প্রেম করে ফেলেছে ও। ভুলই হয়েছে বোধহয়।

কুন্তলার মতেঃ

একটাই সমাধান, ছেলেটিকে সোজাসুজি বলা যে এসব চলবে না। হুমকি দিয়ে নয়, বাবা বাছা বলে নয়। হাসিমুখে বুঝিয়ে দাও যে তোমার ছবি কে কোথায় টাঙাবে সে সম্পর্কে তোমার কথাই শেষ কথা। এর সাথে কে কাকে কত ভালোবাসে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভালোবাসলে তার পছন্দ অপছন্দ রক্ষা করার দায়ও নিতে হয়, যেটা এখানে ছেলেটা স্পষ্টতই নিচ্ছে না।

ভুল ঠিকের ব্যাপারটায় বলি, এর থেকেও গুরুতর অমিল থাকে প্রেমিকপ্রেমিকার মধ্যে। কেউ পোষা কুকুরবেড়াল ছাড়া থাকতে পারেনা, কেউ বোনাফাইড অ্যানিমাল হেটার হয়। কেউ জয়েন্ট ফ্যামিলি থেকে আসে, কারো বাড়িতে একসাথে তিনের বেশি মানুষ থাকলে অ্যাজমা অ্যাটাক হয়। কেউ পি.সি. ব্যবহার করে, কেউ ম্যাক। তবু তারা আলাপআলোচনা করে বা না করেই একসাথে থাকার একটা উপায় বার করে। তোমাদের পার্থক্যটা হচ্ছে প্রেম করার স্টাইলের পার্থক্য। মিল থাকলে ভালো হত, নেই যখন একটা সম্মানজনক রফায় আসতে হবে।

সে রফায় যদি না আসা যায় তাহলে অবশ্য ভাবার ব্যাপার আছে। কিন্তু সেটা পরের কথা।

July 28, 2012

সাপ্তাহিকী





এঁরা কী করছেন?

প্রেম। কখন কীরকম।

Have you ever had a bad time in Levi's? সত্যি বলছি, না।

আরেকটা মোক্ষম সত্য।

OCD আছে? তাহলে কিনে ফেলুন।

সিরিয়াসলি, এটা আমারও প্রশ্ন।

কী সুন্দর স্টেশন।

যদি আমিও পারতাম।

আজ আসলাম তবে? ভালো হয়ে থাকবেন। ভিড় কম থাকতে থাকতে এইবেলা পুজোর বাজার শুরু করে দিন। দরজির দোকানে ব্লাউজপিস দিয়ে আসুন। যাচ্ছি যাব করে পুজোর একমাস আগে গিয়ে তারপর ডেলিভারি না পেলে কাঁদবেন না। সোমবার দেখা হবে, টা টা।

ঘোষণা


সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট #৬ এই সপ্তাহে শুক্রবারের বদলে রবিবার বেরোবে। আপনাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। 

July 27, 2012

চেনেন নাকি? (বোনাস)




নিজের গল্প



আত্মজীবনী লেখা খুব শক্ত কাজ শুনেছি। সত্যি কিনা জানিনা কারণ আমি কোনোদিন লেখার চেষ্টা করিনি। যারা লিখেছেন তাঁদের আত্মজীবনীর শুরুতে কৈফিয়ৎ বলে যে চ্যাপ্টারটা থাকে সেখানে পড়েছি, কেন তাঁরা আত্মজীবনী লিখেছেন এবং লিখতে গিয়ে কোথায় কোথায় প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যারা আত্মজীবনী লেখেননি তাঁরা কী কী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে লেখেননি, সেও পড়েছি।

তবে সাধারণবুদ্ধিতে মনে হয় ব্যাপারটা সোজা হওয়ার কোনো কারণ নেই। লোকজনকে না চটানোর ব্যাপার আছে, সত্যিমিথ্যের টানটান দড়ির ওপর দিয়ে ব্যালেন্স রেখে হাঁটার ব্যাপার আছে। নিজের অসাধারণত্বের মুখ রাখার জন্য, অতি সাধারণ দিনরাতকে উদ্ভট সাজপোশাক পরিয়ে পাঠকের সামনে মিছিল করানোর ব্যাপার আছে। রোয়াল্ড ডাল ঠিকই বলেছেন, আত্মজীবনী হল ইতিহাস বই। পার্থক্য শুধু এই যে শেরশাহ বা ঝাঁসির রাণীর বদলে মূল চরিত্রে আপনি। আর ইতিহাস বই লেখা কি সোজা হতে পারে কখনো?

সত্যি বলছি পড়াও শক্ত। আমি পারতপক্ষে জীবনী বা আত্মজীবনীর ধার মাড়াইনা। কত প্রিয় লোকের আত্মজীবনী পড়তে বসে যে আমার তাঁদের সম্পর্কে মোহ ছুটে গেল, কত অপ্রিয় লোকের আত্মজীবনী পড়তে বসে তাঁরা যে আমার দুচক্ষের বিষ হয়ে গেলেন। যিনি যত বড় মহীরুহই হোননা কেন, পাঁচশো পাতা ধরে কেবল তাঁর কথা, তাঁর মায়ের হাতের অমৃতের মতো রান্না আর বিশ্বকর্মার মতো উলবোনার কথা, বাবার সিংহের মতো তেজ এবং সত্যবাদিতার কথা পড়তে পড়তে সত্যি বলছি, হিংসের থেকেও বেশি মাথা ধরে যায়। লেখকদের দোষ দিচ্ছিনা। আমার মতো হেঁজিপেঁজি লোকের একএকটা দিনই অতীত হয়ে গেলে সর্বাঙ্গসুন্দর লাগে, ওনাদের তো হবেই। এত অভিজ্ঞতা, এত পাওয়া না পাওয়া, এত কাছ থেকে স্রষ্টার চোখ দিয়ে একটা গোটা জীবন দেখার কথা---নিজের সযত্নলালিত ভাষায় লিখে না রেখে কি চলে যেতে মন চায়?

ব্যতিক্রম আছে নিশ্চয়। আমার আজীবনের প্রিয় কয়েকটা বই আত্মজীবনীর রকমফের। জীবনস্মৃতি, যখন ছোট ছিলাম, Boy-Tales of Childhood. কিন্তু সেগুলো যারা লিখেছেন তাঁরা বুদ্ধিমান। লিখতে লিখতে একটা বয়সে এসে থেমে গেছেন। যে বয়সটা পর্যন্ত মা, বাবা, আত্মীয়স্বজনকে ...মা, বাবা, আত্মীয়স্বজন বলেই মনে হয়। তাঁদের অসাধারণত্বগুলো ফুলেফেঁপে উঠে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকে গিলে ফেলেনা। অনাগত খ্যাতির ছায়া পড়ে নিজের জীবনটাকে আর পাঁচটা শিশুর জীবনের থেকে আলাদা দেখতে লাগে না।

তবু ব্যতিক্রম ব্যতিক্রমই। বইয়ের দোকানে আমাকে আর যেখানেই খুঁজে পান বায়োগ্রাফির আইলে পাওয়ার চান্স নেই। ও, আর রোম্যান্সের আইলেও।

তাই যখন স্টিফেন কিং-এর On Writing পড়তে শুরু করলাম বেশ ভয় ভয় লাগছিল। একে তো মলাটে ‘মেমোয়ার’ শব্দটা লেখা আছে, তার ওপর আবার স্টিফেন কিং। দেরিতে ইংরিজি বই পড়া শুরু করার সবথেকে বড় বিপদটা হয়েছে এই বেছে পড়তে যাওয়ার ব্যাপারটা। টেইম কম অতএব আজেবাজে পড়ে সময় নষ্ট করা চলবে না। ঝাঁপিয়ে মার্কেজ, কামু, কাফকা, প্রুস্ট। সিডনি শেলডন? ছ্যাঃ। স্টিফেন কিং? ছোঃ।

কিন্তু মিস্টার কিং আমার মাথা ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে দিয়েছেন। অনেকদিন পর একটা বই পড়তে পড়তে মাথা পাতার সাথে প্রায় ঠেকে গেল, স্থানকাল ভুলে ঘনঘন মাথা পেছনে হেলিয়ে চোখ বুজে হাহা করে হাসতে হল, ভুরু কুঁচকে ঠোঁট কামড়ে উত্তেজনায় কাঁপতে হল, টাইমজোন গোল্লায় দিয়ে মাঝরাতে ফোন করে ঘুম ভাঙিয়ে, “এই জায়গাটা একটু শোনো প্লিজ” বলে প্রায় পুরো বইটাই রিডিং পড়ে শোনাতে হল।

অথচ বইটাতে শুধুই নিজের জীবনের কথা লিখেছেন ভদ্রলোক। মা, দাদা, স্কুল, স্ত্রীর সাথে প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্ত। আর মাঝে মাঝে আছে লেখার খুঁটিনাটি নিয়ে চর্চা। ব্যাকরণ, অ্যাকটিভ-প্যাসিভ, আর অ্যাডভার্ব-বিছোনো নরকের রাস্তার কথা। কোথাও কল্পনার উড়ান দেওয়ার সুযোগ নেই, কেরামতি ফলানোর জায়গা নেই। ফলানওনি। অতি সাধারণ ভাষায় একটা অসাধারণ জীবনের কথা লিখে গেছেন। সে লেখার গুণ এমনই, সস্তা, চলটা ওঠা অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে লেখক যখন ফোনের ওপার থেকে তাঁর উপন্যাস বিক্রি হওয়ার খবরটা প্রথম শোনেন, আর ঠিক শুনছেন কিনা জানতে টাকার অঙ্কটা বারবার মিলিয়ে নিতে থাকেন, তখন আমি নিজেকে দেশ কালের সীমানা পেরিয়ে ঠিক তাঁর সামনে আবিষ্কার করি। অসহ্য উত্তেজনায় মুখচোখ লাল করে লাফাচ্ছি। নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করছি, “কত? কত?” লেখকের সাথে সাথে আমারও হাঁটু কাঁপতে থাকে। ফোন রেখে তিনি যখন ছুটে মোড়ের ড্রাগস্টোর থেকে ট্যাবির জন্য একটা হেয়ারড্রায়ার কিনে আনেন, আমিও তাঁর পেছন পেছন ছুট লাগাই। স্ট্রেচারে শুয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার মুখে যন্ত্রণার ঘোর ভেঙে যখন তিনি বলেন, ট্যাবিকে যেন কেউ মনে করে বলে দেয় তাঁর ভালোবাসার কথা, সেই মুহূর্তেও তাঁর ওপর হিংসেয় বুক জ্বলে যায় আমার।

আমারও ট্যাবি কিং-এর মতো একটা সারা জীবনের সঙ্গী পেতে ইচ্ছে করে। আর কিচ্ছু না পেলেও।

গুগল ইমেজেস থেকে

আপনাদের আত্মজীবনী পড়তে কেমন লাগে? কার জীবনের গল্প সবথেকে বেশি ছুঁয়েছে আপনাকে?
  

July 26, 2012

চেনেন নাকি?




'কথা'র কথা



কথা তো বলার জন্যেই ব্লগটা দেখেছেন নিশ্চয় আপনারা সবাই? ওটা সুনন্দ আর সংহিতা আর ওদের আর কজন বন্ধু মিলে চালায়। নিজেরা লেখে, অন্যদের দিয়ে লেখায়, সে লেখায় কমেন্ট করে, অন্যদের চোখা চোখা কমেন্টের খোঁচা সামলায়।

সবাই মিলে একসাথে। একে অপরকে খুন না করে ফেলে।

আমি পারতাম না। আমার CV তে গাদাগাদা মিথ্যে কথা লিখে রেখেছি আমি কিন্তু টিমওয়ার্কার কথাটা এমনকি আমার মতো মিথ্যুকের হাত দিয়েও বেরোয়নি। টিমওয়ার্কের নাম শুনলেই আমার কম্প দিয়ে জ্বর আসে। আমার এবং টিমে আমার সাথে যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁদেরও।

যাই হোক, আজকে আমার একখানা লেখা বেরোচ্ছে ‘কথা’য়। লেখাটা আপনারা অনেকে আগেও পড়েছেন, ‘মিসেস ব্যানার্জি’। যারা পড়েছেন, যারা পড়েননি, তাঁদের সবার কাছে আমার অনুরোধ, 'কথা'য় উঁকি মেরে আরেকবার লেখাটা দেখে আসবেন। কেমন দেখাচ্ছে সেটাও যদি একটু বলে আসেন তাহলে তো কথাই নেই। আমার খুব ভালো লাগবে।


অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে

July 25, 2012

Don't yell, don't run, don't worry, and above all, don't quit.

নিতাইস্যার আর প্রণববাবু



আমি ক্লাস ইলেভেন টুয়েলভে যার কাছে বাংলা পড়তে যেতাম তাঁর নাম ছিল নিতাইবাবু। স্থানীয় রামকৃষ্ণ আশ্রম স্কুলের রেজিস্টারে অবশ্য তাঁর নামের জায়গায় ত্রিদিবেশ ভট্টাচার্য লেখা ছিল, কিন্তু সহশিক্ষক বা স্কুলের কর্মচারী বা বছরের পর বছর পাস করে বেরনো ছাত্রদের একজনও তাঁকে ওই নাম ধরে ডাকেনি কোনোদিন। রিষড়া স্টেশনে নেমে মিশনের রিটায়ার্ড টিচার নিতাইবাবুর বাড়ি যাব বললেই সবাই দেখিয়ে দিত। “ত্রিদিবেশবাবুর বাড়িটা কোথায় দাদা” জানতে চাইলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকত। বা হাত নেড়ে বলত, “ওই নামের কোনো স্যার মিশনে ছিলেন না জম্মে। নাম ঠিক করে জেনে আসুন।”


আমি যখন পড়তে যেতাম তখন নিতাইবাবুর বয়স ষাট পেরিয়েছে। কিন্তু রোগা লম্বা শরীরের মাথায় ব্যাকব্রাশ করা এবং কলপ না ছোঁয়ানো চুলে তখনও সাদার ছোঁয়ামাত্র লাগেনি। স্যারের তিন চাকরি করা ছেলে সবাই পৈতৃক বাড়িতে একসাথে নিজেদের স্ত্রী সন্তান সহযোগে বাস করত। একান্নবর্তী সিস্টেমে। কাজেই স্যারের টিউশন করার দরকার ছিলনা। আমাদের পাশেরবাড়ির বুচিদিদির জেঠু মিশনে নিতাইবাবুর সমসাময়িক অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন। আমার মা জেঠুকে ধরে নিতাইবাবুকে রাজি করিয়ে ছিলেন আমার বাংলাটা একটু “দেখে দেওয়ার জন্য”। শনিবার সকালে আর মঙ্গলবার বিকেলে।

ওই দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে আমি আমার লাল রঙের হিরো সাইকেল চেপে স্যারের বাড়ি পৌঁছে যেতাম। বড়রাস্তা থেকে ডানদিকে ঢুকে একটা গলি, সেই গলি থেকে বাঁদিকে ঢুকে আরেকটা গলি, সেই গলিটা থেকে বাঁদিকে বেঁকে আরেকটা গলি, সে গলির শেষে ইস্কুলমাস্টারির টাকা জমিয়ে দোতলা বাড়ি তুলেছিলেন নিতাইস্যার। আমাকে সাইকেল চেপে আসতে দেখলে আশেপাশের বাড়ির সদয় প্রতিবেশীদের কেউ না কেউ চেঁচিয়ে খবর দিত, “অ্যাই মুন্নি, দাদুর ছাত্রী এসেছে, দরজা খুলে দে।” মুন্নি ছিল স্যারের বড় ছেলের ঘরের ৭ বছরের নাতনি।

মুন্নি দরজা খুলে দেওয়ার পর আমি ঘরে ঢুকে স্যারের তকতকে ঠাণ্ডা লাল সিমেন্টের মেঝেতে বইপত্র খুলে বসতাম। স্যারের পড়ানোর কায়দা ছিল সহজসরল। যে রচনা/প্রবন্ধ/কবিতাটা স্কুলে পড়ানো হচ্ছে সেটা সংক্রান্ত প্রশ্ন টেস্ট পেপার থেকে খুঁজে খুঁজে উত্তর লেখা। ঘণ্টা দুয়েকে যেক'টা হয়। আমি লাল মেঝেতে বসে শকুন্তলা আর দুষ্মন্তের সম্পর্কের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতাম, স্যার খাটের ওপর তীরের মতো সোজা হয়ে বসে কোনোদিন খবরের কাগজ পড়তেন, কোনোদিন গীতা, কোনোদিন কিছুই না পড়ে চোখ বুজে বসে থাকতেন। কিন্তু ঘুমোতেন না। কারণ মেরুদণ্ড একই রকমের সোজা হয়ে থাকত।

নিতাইবাবুর সাথে আমার সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্দশা নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের আলোচনা হত। স্যার মাথা নেড়ে বলতেন, “তোমরা তো কিছুই শিখছনা”, আমি মাথা নেড়ে তাতে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাতাম, স্যার মনে মনে খুব খুশি হতেন। তাছাড়া মুন্নি আর মুন্নির হামাগুড়ি দেওয়া খুড়তুতো বোন, যার নাম আমি ভুলে গেছি, প্রায়ই আমাকে সঙ্গ দিতে আসত। আমার পেনসিলবক্সটাকে গাড়ি বানিয়ে খেলত। মাঝে মাঝে পেনটেন বার করেও ঠোকাঠুকি করত কিন্তু আমার খারাপ লাগত না। আমি পড়তে পড়তেই স্যারের ছোট পুত্রবধূর কোল আলো করে একটি পুত্রসন্তান এসেছিল। নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে স্যার নাতির নাম রেখেছিলেন অমিতেশ। অমিতেশ ভট্টাচার্যের মুখেভাতে আমি আর আমার মা নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিলাম। মা গিফট হিসেবে থালাবাটি কিছু একটা নিয়ে গিয়েছিলেন নিশ্চয়, তার সঙ্গে আমি একটা হাতে বানানো কার্ডে একটা স্বরচিত কবিতা লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম। কবিতাটার বিশেষত্ব ছিল প্রতিটি লাইনের শুরুর অক্ষরগুলো পাশাপাশি সাজালে সেটা “অ-মি-তে-শ-ভ-ট-টা-চা-র-য” হয়ে যাবে। স্যার সবাইকে খুব গর্বিত হেসে কার্ডটা দেখাচ্ছিলেন। “আমার ছাত্রী লিখেছে। কীরকম মাথা খাটিয়েছে দেখেছ?”

মনে আছে একদিন পড়তে পড়তে খবরের কাগজটা হুঃ বলে নামিয়ে রেখেছিলেন স্যার। আমি শকুন্তলা ছেড়ে মুখ তুলে তাকাতে বললেন, “দেশটা ছারখারে গেল বুঝলে কুন্তলা।” আমি বললাম, “সে আর বলতে স্যার।” স্যার বললেন, “একটা দুটো দায়িত্ববান লোক এখনো আছে, এই আমাদের প্রণবের মতো, তাই রক্ষে। নাহলে এতোদিনে আর দেখতে হচ্ছিল না।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “প্রণব কে স্যার?” স্যার হেসে হাঁটুতে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, “আরে তোমাদের প্রণব মুখার্জি গো, আমার ছোটবেলার স্কুলের বন্ধু।”

“সত্যি স্যার?” আমার অবিশ্বাসী মুখ দেখে স্যার বললেন, “সত্যি গো সত্যি। আমরা এক গ্রামের এক পাঠশালায় পড়তাম, এক প্রাইমারি স্কুলে পাশাপাশি বেঞ্চে বসে ক্লাস করতাম, ক্লাস শেষে ফুটবলও খেলেছি কত। লিডারশিপটা তখন থেকেই প্রণবের মধ্যে ছিল।” নিতাইস্যার স্মৃতিচারণ করতে লাগলেন। ছোটবেলার বন্ধুকে নিয়ে গর্বটা মুখে ফুটে উঠছিল। একই বিন্দু থেকে শুরু করে অনেক উঁচুতে উঠে যাওয়া বন্ধুর প্রতি, ভিড়ের মধ্যে পড়ে থাকা আরেক বন্ধুর ঈর্ষার ভেজালমাত্র ছিল না সে গর্বে।

নিতাইস্যারের সাথে যোগাযোগ রাখা হয়নি। আরও অনেক স্যারের মতো ওনাকেও কথা দিয়ে এসেছিলাম, নিশ্চয় আসব, ফোন করব---করিনি। মাঝখানে একদিন ফোনে শুনলাম, রাস্তায় নাকি স্যারের ছোটবউয়ের সাথে দেখা হয়েছে মায়ের। স্যারের শরীর একেবারে ভেঙে গেছে। সংসারেও অনেক অদলবদল হয়ে গেছে। ভাঙচুর। ছোটবউ মা’কে বলেছেন, “কুন্তলাকে বলবেন না এলে একদিন বাবার সাথে দেখা করতে, পুরোনো ছাত্রছাত্রীরা এলে খুব আনন্দ পাবেন।”

সেটা হবেনা জানি। কীই বা বলব এতদিন বাদে গিয়ে, “আপনাকে দেখতে এলাম”? অকওয়ার্ড লাগবে খুব।

সে যাই আর না যাই, স্যারের কথা খুব মনে পড়ছে আজ। খবরটা নিশ্চয় পেয়েছেন। প্রণবের রাষ্ট্রপতি হয়ে যাওয়ার খবরটা। কী মনে হচ্ছে স্যারের? বীরভূমের গ্রামের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে? প্রণবের ছোটবেলার মুখটা মনে করার চেষ্টা করছেন? মনে পড়ছে নাকি এতদিন বাদে সব ধুয়েমুছে ঝাপসা? অন্য যারা ওঁদের সাথে ফুটবল খেলত তাঁদের কে এখন কোথায় আছে, কার জীবনটা কোন পথে বাঁকলো, জানতে ইচ্ছে করছে? স্যারের নিশ্চয় গর্ব হচ্ছে খুব। গর্বের সাথে সাথে কি কোথাও নিজের জীবনটার দিকে তাকিয়ে অল্প অল্প কষ্টও হচ্ছে? কিছুই কি করে উঠতে পারলাম সেই নিয়ে সংশয় জাগছে?

যেন না জাগে, যেন না জাগে।

July 24, 2012

মনের কথা

Dis or Dat: এই বই সেই বই



ছবি গুগল ইমেজেস থেকে


গৌরচন্দ্রিকা আর ফুটনোট, দুটো ব্যাপারই আমার জঘন্য লাগে। ভালো ছাত্ররা শুনেছি প্রতিটি আর্টিকলের প্রতিটি ফুটনোট পড়েন। আমার এক প্রফেসর ক্লাসে বলেছিলেন ওটাই ভালো আর যেমনতেমন ছাত্র আলাদা করার সবথেকে ফুলপ্রুফ ছাঁকনি। ফুটনোটের ছাঁকনি আমারও অবশ্য আছে একটা। ভাল আর যেমনতেমন আর্টিকল আলাদা করার জন্য। তবে সেটা প্রফেসরমশাইয়ের ছাঁকনিটার থেকে সামান্য অন্য ভাবে কাজ করে।

তবু এই পোস্টটা শুরু করার আগে একটা গৌরচন্দ্রিকা লিখছি (এবং অন্তে একটা ফুটনোটও কায়দা করে গুঁজে দিয়েছি), কারণ এই পোস্টটা স্পেশাল। বই নিয়ে ডিস অর ড্যাট লেখার আইডিয়াটা যখন মাথায় এসেছিল তখন ব্যাপারটাকে হাতিঘোড়া কিছু মনে হয়নি, লেখা শেষ করার পর দেখছি মাথার চুল অর্ধেক পাতলা হয়ে গেছে। প্রথমে ভেবেছিলাম ইংরিজি, বাংলা দুরকম বইই থাকবে। সে তাসের ঘর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পর বাংলা বইয়ের মধ্য থেকেও কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী---বেসিক্যালি উপন্যাস (আর একজোড়া নাটক) ছাড়া সবই---বাদ চলে গেল। ছোটগল্পের* সঙ্গে সঙ্গে বাদ চলে গেলেন উপেন্দ্রকিশোর, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী, নরেন্দ্রনাথ মিত্র, বনফুল, গজেন্দ্রকুমার মিত্র, গৌরকিশোর ঘোষ, প্রেমেন্দ্র মিত্র, রমাপদ চৌধুরী, নবনীতা দেবসেন। এঁরা অনেকেই উপন্যাস লিখেছেন কিন্তু সেগুলো আমার পড়া নেই। অতএব মার্জনা করবেন। যেটুকু বাকি রইল তার মধ্যেও অনেক গোঁজামিল দিতে হল। কোথাও কোথাও যুদ্ধ হল একই লেখকের দুটি রচনার মধ্যে, কোথাও কোথাও দুজন আলাদা লেখককে একে অপরের সাথে লড়তে হল। এর জন্য দায়ী যত না আমার পক্ষপাতিত্ব তার থেকে বেশি অপারগতা। সেজন্যও ক্ষমা চেয়ে রাখছি।

ওকে, গৌরচন্দ্রিকা শেষ, চলুন খেলা শুরু করা যাক।


আলালের ঘরের দুলাল না হুতোম প্যাঁচার নকশাঃ আলালের ঘরের দুলাল

আনন্দমঠ না দেবী চৌধুরানীঃ আনন্দমঠ

ঘরে বাইরে না গোরাঃ ঘরে বাইরে

চোখের বালি না শেষের কবিতাঃ চোখের বালি

দেবদাস না পথের দাবীঃ দেবদাস

ঢোঁড়াই চরিত মানস না তিতাস একটি নদীর নামঃ ঢোঁড়াই চরিত মানস

বিবর না রাত ভ’রে বৃষ্টিঃ রাত ভ’রে বৃষ্টি

কালপুরুষ না কালবেলাঃ কালবেলা

ভূশণ্ডীর মাঠে না তুঙ্গভদ্রার তীরেঃ ভূশণ্ডীর মাঠে

হাঁসুলিবাঁকের উপকথা না পদ্মানদীর মাঝিঃ পদ্মানদীর মাঝি

কেরী সাহেবের মুন্সী না ইছামতীঃ কেরী সাহেবের মুন্সী

সেই সময় না প্রথম আলোঃ সেই সময়

অরণ্যের দিনরাত্রি না প্রতিদ্বন্দ্বীঃ অরণ্যের দিনরাত্রি

ঘুণপোকা না মনোজদের অদ্ভুত বাড়িঃ মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

আরণ্যক না পথের পাঁচালীঃ পথের পাঁচালী

হ য ব র ল না ডমরুচরিতঃ হ য ব র ল

চাঁদের পাহাড় না সবুজ দ্বীপের রাজাঃ চাঁদের পাহাড়

স্ট্রাইকার না শিউলিঃ স্ট্রাইকার

একুশে পা না চৌরঙ্গীঃ একুশে পা

কড়ি দিয়ে কিনলাম না কোয়েলের কাছেঃ কড়ি দিয়ে কিনলাম

অন্তর্জলি যাত্রা না অরণ্যের অধিকারঃ অরণ্যের অধিকার

মহাস্থবির জাতক না দেশে বিদেশেঃ দেশে বিদেশে

চিরকুমার সভা না লক্ষ্মণের শক্তিশেলঃ লক্ষ্মণের শক্তিশেল

দহন না লজ্জাঃ দহন

হারবার্ট না গোলাপ সুন্দরীঃ হারবার্ট

মাল্যবান না সাঁঝবাতির রূপকথারাঃ সাঁঝবাতির রূপকথারা

পাকদণ্ডী না ন হন্যতেঃ পাকদণ্ডী

সুবর্ণলতা না প্রথম প্রতিশ্রুতিঃ প্রথম প্রতিশ্রুতি


*খুঁতধরা পাঠকেরা ধরে ফেলবেন এই লিস্টে একটা ছোটগল্প আছে। আছে কারণ এক, নিয়ম না ভাঙলে সে নিয়মের মানইজ্জত থাকেনা। আর দুই, গল্পটা যার তাঁকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করার থেকে শিলাজিতের গান নিয়ে সাতদিনব্যাপী সেমিনার দেওয়া ভালো।

July 23, 2012

বানানভিতির প্রোতি



ছোটোব্যালায় লোকের অনেক কিছু নিয়ে অকারোন উদ্দেগ থাকে। আমার মা কল্পোনা কোরতেন হঠাৎ অ্যাকদিন জোদি দরজা খুলে দ্যাখেন ইন্দিরা গান্ধি দাড়িয়ে আছেন তাহলে মা কথোপোকথোন চালাবেন কি করে? তিনি তো অতো ইংরিজি জানেন না। আমার বাবার শুনেছি অ্যালজেব্রার অংকো কোশতে গিয়ে ভিশোন টেনশন হোতো, ব্র্যাকেট খুলতে খুলতে আর পড়াতে পড়াতে কখোন বুঝবেন যে অংকোটা শেশ হোয়ে গেছে? আর কিছু করার দরকার নেই?

অংকো বা ইংরিজিতে আমার ভয় ছিলোনা। দিদিভাইরা বোলতেন বাংলা মিডিআমের আর পাচটা ছাতরোছাতরির তুলোনায় কুন্তলা ইংরিজিটা ভালো জানে। অংকোও তাই। অংকো অরথাত পাটিগোনিত। কেষ্টোদার দোকানে গিয়ে মা ধোনে, জিরে, পোস্তো, শোর্শের তেল কিন্তেন, কেষ্টোদার আগে আগে আমি মুখেমুখে জোগ কোরে বোলে দিতাম মোট কতো টাকা হোয়েছে। খুশি হোয়ে কেষ্টোদা আমাকে অ্যাক্টা এক্লেয়ারস ফ্রি-তে খেতে দিতেন। মা দাম দিতে চাইলেও কিছুতেই নিতেন না।

আমার ভয় ছিলো বানানে। বাংলা ইংরিজি শবরকম বানান। বিশম ভয়। প্রিথিবিতে জতো শব্দো আছে তাদের প্রোত্যেকটির বানান জোদি আমাকে শিখতে হয়? লক্ষ লক্ষ কোটিকোটি লোক শারাদিন অবিরাম কথা বোলে জাচ্ছে, ট্রেনে বাসে কফিশপে মোবাইল ফোনে, কাজের কথা, অকাজের কথা, আর শেই কথা থেকে লক্ষ লক্ষ কোটিকোটি শব্দো বেরিয়ে আকাশে বাতাশে স্ট্র্যাটাস্ফিয়ারে মিশে জাচ্ছে, শে শব শব্দের বানান আমাকে শিখতে হবে? শেখা কি শম্ভব?

মা হাহা কোরে হাস্তেন। বোলতেন দুর বোকা, শব শিখতে হয়না। কয়েকটা শিখতে হয়, তারপর একটা আন্দাজ তোইরি হোয়ে জায়। কোন শব্দের কি বানান হোতে পারে। জেমন “গম্ভীর” বানানে দিরঘি হবে, “ফাজিল” বানানে রোশশি। “অশীতিপর” বানানে রোশশি দিরঘি তালোবোশ্য, বেসিকালি জতরকোম জোটিলতা শ্রিষ্টি হওয়া শম্ভব শবরকোম হবে কিন্তু “সুইটু” বানান হবে সুইট অ্যান্ড সিম্পল।

বাজে কথা। আমার অ্যাক্কুরি অ্যাগারো বছোরের জিবোনে আমি কম কথা বোলিনি। মা তো বলেন দরকারের বেশিই বোলেছি, আরেক্টু কম বোল্লেই বরোং ভালো হোতো। তাও আমি কখোনো আন্দাজ কোরতে পারিনি “মুহুর্তো” বানানের প্রোথোমে রোশশু পরেরটায় দিরঘু নাকি প্রোথোমটা দিরঘু পরেরটা রোশশু হবে। জে দাবি কোরছে পারে, সে আগাপাশ্তলা মিথ্যে কথা বোলছে। অ্যাতো বছোর ধোরে অ্যাতো লোকের শাথে অ্যাতো ফালতু কথা বোলে আর শুনেও আমি বিন্দুমাত্র আন্দাজ কোরতে পারিনি ড়াব্রি বানানের কোথায় কোন র বোসবে। অথোচো ড়াব্রিও জে আমি কম খেয়েছি শে কথা কেউ বোলতে পারবে না।

ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুল্লে শুনেছি এশব শমোশ্যা থাকে না। কিংবা আনোন্দোবাজারে চাক্রি কোরলেও। ফেসবুকে বানানভুল কোরলে লোকে লাইক করে আর আনোন্দোবাজার বানান ভুল কোরলে শবাই পরদিন থেকে ভুল বানাণ্টাই লিখতে শুরু করে। বলে আজ থেকে এই বানাণ্টাই চালু হল।

আমি অনেকদিন পোর্জোন্তো আশায় আশায় ছিলাম জে অ্যাকদিন্না অ্যাকদিন আমার এই বানানের দুরদশা ঘুচবে। আজ না হোক কাল আমি আর পাচটা শিখখিতো লোকের মোতো বানান লিখতে শিখে যাবো। কিন্তু আমার সে আশায় ছাই পোরেছে। লোকে ঠিকি বলে, জা নয়ে হয়না নোব্বোইতেও শেটা হওয়ার চান্স নেই।

নেই তো নেই। আমি শিদ্ধান্তো নিয়ে নিয়েছি। এভাবে মোরে মোরে বাচার থেকে অ্যাকেবারে মোরে জাওয়া ভালো। আমি অবোশ্যো মোরছি না। বোয়ে গ্যাছে আমার মোর্তে। আমি মারবো। আমার বানানের ভয়কে। আমার ওস্তিত্তো থেকে শে ভয়কে জোদি আমি আগাছার মোতো তুলে ছুড়ে না ফেলেছি তবে আমার নাম কুন্তলা নয়। 

এই পোস্টটা আমার ছোটোব্যালার সেই বানানের ভয়কে মোদ্ধোমা ব্রিদ্ধাংগুষ্ঠ দেখিয়ে লিখলাম। আজ থেকে আমি ওর কবোল থেকে মুক্তো...মুক্তো...মুক্তো।

জানোয়ার বলে কি মানুষ না?


আপনারা যদি ভেবে থাকেন যে কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন আর মোটা মেয়ের নাম তন্বী কেবল মানুষের সংসারেই হয়, ভুল ভেবেছেন। মানুষ কেবল নিজের ছেলেমেয়ের নাম রাখতেই গোলমাল পাকায় না, মানুষই দিব্যি সোজা জায়গার নাম উল্টোডাঙা রাখে এবং জন্তুজানোয়ারদেরও ছেড়ে কথা বলে না। প্রমাণ চান? এই দেখুন। 


তবু যদি কখনো



কেমন আছেন? সপ্তাহান্তে কী করলেন? ডার্ক নাইট রাইজেস দেখলেন নাকি? কেমন হয়েছে? আমারও দেখতে যাওয়ার কথা ছিল এসপ্তাহে, কিন্তু লোকজন জুটিয়ে, মেলের পর মেল পাঠিয়ে, হাতে পায়ে তেলমালিশ করে, সবার সব সুবিধে অসুবিধের জায়গা করতে করতে শেষপর্যন্ত আর যাওয়াই হল না। আমারই দোষ। একা একা চলে গেলেই হয়। কিচ্ছু খারাপ লাগে না একা একা সিনেমা দেখতে, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি। বরং অনেক বেশি ভালো লাগে। পপকর্ন খেতে খেতে হাহা হাসো, ফ্যাচফ্যাচিয়ে কাঁদো---কে কী ভাবল, আমার বোকামো দেখে হাসল কিনা সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না। ইন্টারভ্যালে বাথরুমে লম্বা লাইন দিয়ে ফিরতে ফিরতে সিনেমা শুরু হয়ে গেলে “এক্সকিউজ মি এক্সকিউজ মি” বলতে বলতে সবার পা পাড়িয়ে সিটে এসে বসে পাশের লোককে টোকা মেরে “কী হল দাদা এতক্ষণ?” জেনে নিলেই হয়। কেউ কিচ্ছু মাইন্ড করে না, বরং হাত পা নেড়ে অভিব্যক্তি সহযোগে গল্প বলতে পেরে বর্তেই যায়। কিন্তু সিনেমা দেখতে যাওয়ার আগে এত কথা মনে থাকলে তো। সমাজবদ্ধ জীব হওয়ার এই ঝামেলা, সব ব্যাপারে প্রথমেই দল পাকানোর কথা মাথায় আসে। আইসক্রিম খেতে যাবি রে? সিনেমা দেখতে যাবি রে? দোলনা চড়তে যাবি রে?

যেন একা যাওয়ার নিয়ম নেই। গেলে পুলিশে ধরবে। জঘন্য। সিরিয়াসলি জঘন্য।

মেজাজটা এই মুহূর্তে একেবারে গাঁদালপাতা-তেতো হয়ে আছে। জীবনের যেসব ছেঁড়াফাটাগুলোর ওপর অবান্তরের কম্বল চাপা দিয়ে ভুলে থাকি রোজ রোজ, সেগুলো একটু আগে দাঁতনখ দেখিয়ে গেল। আমার হাসি হাসি মুখখানার ওপর দুখানা হেভিওয়েট ঘুষি বসিয়ে, কানটা কষে মুলে, নাকটা জোরসে টেনে, বক দেখাতে দেখাতে আবার যে যার জায়গায় ফিরে গেল।

কী ভালো ভালো গম্ভীর আর্থসামাজিক বিষয়ের ওপর দুখানা পোস্ট ভেবে রেখেছিলাম অবান্তরের জন্য, লেখা হলনা। কাজেই এখন আবার একটা হালকাচালের পোস্টই লিখতে হবে আমাকে। যত না আপনাদের জন্য তার থেকে বেশি নিজের জন্য। আপনারা বুঝবেন জানি। বুঝবেন না?

*****

আমাকে ছোটবেলায় সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠাকুরকে নম করতে শেখানো হয়েছিল। মনে মনে বলতে বলা হয়েছিল---ঠাকুর যেন সবাই ভালো থাকে, যেন আমি বড়দের কথা শুনে চলি, যেন আমার পড়াশোনায় মতি থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। সকালে ঘুমচোখে নম-র ব্যাপারটা কী হত, বা আদৌ হত কিনা আমার মনে নেই। কিন্তু রাতেরটা স্পষ্ট মনে আছে। কারণ রাতে ঠাকুরের কাছে আমি আমার মনের সব কথা খুলে বলতাম। রাখঢাক না করে। যেমন ধরুন, ঠাকুর বুচিদিদি যেন আমাকে ওর চাঁদমামাটা পড়তে দেয়। বা কাল স্কুলে যেন দ আমার পাশে বসে। পরিস্থিতিভেদে চাওয়াগুলো পাল্টে পাল্টে যেত। কিন্তু যে প্রার্থনাটা কখনও বদলাত না সেটা হচ্ছে, “ঠাকুর আজ রাতে যেন আমাদের বাড়িতে ডাকাত না পড়ে।”

এত কিছু থাকতে হঠাৎ ডাকাত কেন সেটা বুঝতে হলে আপনাদের তৎকালীন রিষড়ার আর্থসামাজিক পরিস্থিতিটা একটু জানতে হবে। চারদিকে টপাটপ কারখানা বন্ধ হচ্ছে আর তার সাথে জিওমেট্রিক প্রোগ্রেশনে বাড়ছে ডাকাতদলের সংখ্যা। একবছরের মধ্যে খুব কম করে হলেও পাঁচটা বাড়িতে ডাকাত পড়েছে আমাদের পাড়ায়। ডাকাতদের রুখতে গিয়ে কম করে হলেও সাতজনের মাথা ফেটেছে, কানের দুলের সঙ্গে সঙ্গে জনাপাঁচেক মহিলার কানের লতিসুদ্ধ ছিঁড়ে ডাকাতের হাতে চলে এসেছে, ডাকাতদলের ছোঁড়া বোমায় পাড়ার আরও অনেকের সাথে আমার সেজকাকু আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন---সে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। মাৎস্যান্যায়।

ছবি গুগল ইমেজেস থেকে

ঠাকুর আছেন কিনা জানিনা, আমার প্রার্থনার জোরে কিনাও জানিনা, তবে আমাদের বাড়িতে ডাকাত পড়েনি। ইন ফ্যাক্ট কিছুদিনের মধ্যে গোটা অঞ্চল থেকেই ডাকাতির হিড়িকটা চলে গিয়েছিল। ডাকাতেরা সব ডাকাতির পয়সায় বড়লোক হয়ে গিয়ে মাফিয়াগিরিতে প্রোমোশন নিয়ে চলে গেলেন। তারপর থেকে তাঁরা একে অপরকে টাইট দিতেই ব্যস্ত থাকতেন, মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীর বাড়ির গোদরেজ আলমারি ভেঙে হাত গন্ধ করতেন না।

আমার বিশ্বাস, ওই সময় নাগাদই ঠাকুরকে নম করার ব্যাপারটা আস্তে আস্তে আমার জীবন থেকেও বিদায় নিল।

কিন্তু আবার সেটাকে ফেরত আনার দরকার পড়েছে মনে হচ্ছে। গত মাসে আমার পাড়ার দুটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন কীভাবে লেগেছে কে জানে। গুজব বলছে না নেভানো সিগারেট থেকে। যেখান থেকেই লাগুক লেগেছে যে সেটাই সত্যি। মাঝরাতে হঠাৎ কানের পর্দা ফাটানো তীক্ষ্ণ সাইরেনে ঘুম ভেঙে আকাশে গনগনে কমলা আভা দেখেছি। সারা পাড়ার লোককে ভয়ার্ত মুখে গুটিগুটি রাস্তায় জড়ো হতে দেখেছি। জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে দমকলকর্মীদের লাফ মেরে ঢুকে যেতে দেখেছি, যাঁদের বাড়িতে আগুন লেগেছে তাঁদের কান্নায় ভেঙে যাওয়া মুখ দেখেছি, শোকে পাথর হয়ে যাওয়া দৃষ্টি দেখেছি। ওই গরম আঁচের নিচে দাঁড়িয়েও বুকের ভেতরটা সাইবেরিয়ার মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।

আর এতবছর পর মাথার ভেতর আবার সেই গলাটা ঘুম ভেঙে উঠে বসেছে। ভরগ্রস্তের মতো ক্রমাগত উচ্চারণ করে গেছে “ঠাকুর আমার সঙ্গে যেন না হয়...না হয়...না হয়...”

যাই হোক। ভালো ব্যাপারটা হচ্ছে দুটো ঘটনাতেই প্রাণের ক্ষতি কিছু হয়নি, যা গেছে কাঠ কংক্রিটের ওপর দিয়ে গেছে। ইনশিওরেন্স কম্পানিরা সে ক্ষতি পূরণ করে দেবে।    

তবুও সবাই এখনও সতর্ক। নাগরিক মিটিং হয়েছে। বেসিক সাবধানতার ব্যাপারগুলো আরেকবার করে ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার অঙ্গ হিসেবেই আমি বাড়ি ফিরে কয়েকটা জিনিস একজায়গায় করে রেখেছি। আগুন যদি লেগেই যায় তাহলে যাতে শুধু সেগুলো হাতে নিয়ে ছুটে বেরিয়ে আসতে পারি। পাসপোর্ট। সারাজীবন ধরে তিলে তিলে জমানো ছাতার মাথা সার্টিফিকেটের বান্ডিল। টেবিলের ওপর রাখা ফোন, হ্যান্ডব্যাগ, ল্যাপটপ, চাবির গোছা। পুরোনো ছবির খাম। কয়েকটা হলুদ হয়ে যাওয়া চিঠি। ঠাকুমার দেওয়া সোনার আংটিটা। মেজমামির দেওয়া মুক্তোর দুলজোড়া।

বইয়ের আলমারিটার দিকে তাকিয়ে শুধু কান্না পেয়ে গিয়েছিল। বইগুলো চাইনা, বইয়ের ভেতরের হাতে লেখা শব্দগুলো যদি তুলে নিয়ে যেতে পারতাম। মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোনোর পর গীতবিতান গিফট করেছিল ছোটনদি, আর “স্নেহের সোনাকে” ‘সেই সময়’-এর দুটো খণ্ড বইমেলা থেকে কিনে দিয়েছিল সেজমাসি । অসংখ্য বইয়ের শুরুতে পাতায় পাতায় লেখা “আমার সোনাকে মা”, অসংখ্য বইয়ের শুরুর পাতা থেকে “জন্মদিনে সোনাকে অনেক ভালোবাসা সহ, বাবা ও মা” শব্দগুলো আমার দিকে চেয়ে আছে। এগুলোকে ফেলে কী করে যাব আমি? কোথায়ই বা যাব?

শেষপর্যন্ত শুধু মলাটছেঁড়া ধুদ্দুড়ে “পথের পাঁচালী”টা ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখেছি। আর গানের খাতাদুটো। একটায় সা রে গা মা থেকে শুরু করে শুদ্ধ কল্যাণ। আরেকটায় “শুকনো পাতার নূপুর পায়ে” থেকে শুরু করে “ভরিয়া পরাণ শুনিতেছি গান”। ওদুটো তো শুধু গানের খাতা নয়, ক্লাস থ্রি থেকে থার্ড ইয়ার পর্যন্ত কুন্তলার হাতের লেখার অভিযোজনের প্রামাণ্য দলিল। পেনসিল থেকে কালিপেন হয়ে সেলো গ্রিপারে উত্তরণের কাহিনী। মাধ্যমিকের মার্কশিট গেলে যাক, ওদুটো গেলে আমি আর উঠে দাঁড়াতে পারব না।

আমি কক্ষনো চাই না আপনাদের কারো সঙ্গে কোনোরকম দুর্ঘটনা ঘটুক। আপনারা সবাই স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে সুখে জীবনযাপন করুন এই আমার একমাত্র কামনা। তবু। তবু যদি কখনো এককাপড়ে বেরিয়ে আসতেই হয়, তাহলে সঙ্গে করে কী কী নেবেন আপনি?   

July 21, 2012

সাপ্তাহিকী


The truth about teddy bears.

“Sow a thought, reap an action; sow an action, reap a habit; sow a habit, reap a character; sow a character, reap a destiny.”
                                                                     Stephen R. Covey (1932-2012)

পুরুষদের জ্ঞাতার্থে।

মেয়েদের জ্ঞাতার্থে।

‘অ্যান্টি গ্র্যাভিটি ইলিউশন’ কার আবিষ্কার বলুন দেখি?

খেলতে খেলতে।

চলতে চলতে।

তথ্য বিস্ফোরণ।

ফ্যান ফিকশন কাকে বলে জানতেন? আমি জানতাম না।

সবশেষে এ সপ্তাহের গান। সময়োপযোগী এবং চিরকালীন।

আজ তবে এইটুকু থাক। বাকি কথা সোমবারে হবে। টা টা। 

July 20, 2012

সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট #৫--সহবাস। বিয়ের আগে না পরে?


হাই কুন্তলাদি,

আমার ফিয়ন্সে আর আমি আলাদা শহরে থাকি। ও আমার থেকে একবছরের সিনিয়র। গ্র্যাজুয়েট করে অন্য শহরে চাকরি নিয়ে চলে গেছে। আমিও ওই শহরেই জবের জন্য অ্যাপ্লাই করেছিলাম। পেয়েও গেছি। বিয়ের পরে একসাথে থাকা যাবে কী মজা।

দ্য থিং ইজ, আমার চাকরির জয়েনিং ডেট আর বিয়ের ডেটের মধ্যে ছমাস গ্যাপ আছে। ও বলছে আমার সাথে থাকো। আমারও তাতে আপত্তি নেই। ও একলা থাকে কাজেই রুমমেট-ফেটের ওপিনিয়নের ঝুটঝামেলা নেই। কিন্তু আমার বাবা মা, বিশেষ করে মা এব্যবস্থায় ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছেন। বলছেন মাসের জন্য আত্মীয়স্বজনদের কাছে ছোট হয়ে কী দরকার। ফ্র্যাঙ্কলি, আমি আত্মীয়স্বজনের পরোয়া করিনা। কিন্তু মায়ের করি। মা সেটা জানে। তাই ব্ল্যাকমেল করছে।

ওর বাড়ির লোক কুলকাল। কিছুতেই আপত্তি নেই। আমার বাড়ির লোক এত ব্যাকওয়ার্ড আমি সিরিয়াসলি ইম্যাজিন করিনি। কী করব? মায়ের কথা শুনে ছ’মাস আলাদা থেকে বিয়ের পরেই মুভ-ইন করব? নাকি কারো কথা না শুনে সোজা ওর বাড়িতে গিয়ে উঠব?

ওহ আর বিয়েতে তোমার নেমন্তন্ন রইল কিন্তু, না আসলে কপালে দুঃখ আছে।

ইতি,
ব্যাকওয়ার্ড বাড়ির প্রোগ্রেসিভ কন্যা।

***** 

হাই বিবিপিকে,

ভয়ানক তাড়ায় আছি তাই তোমার নামটা শর্টে লিখতে হল। কিছু মনে কোরো না। দেখ তোমার কাছে তিনটে চারটে রাস্তা আছে।

এক, মায়ের কথা শুনে ছ’মাস আলাদা থাকা। বিয়ের পর মুভ ইন করা।

দুই, মায়ের কথা এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বার করে ছ’মাস আগেই মুভ ইন করা।

তিন, মাকে বোঝানো যে ছ’মাসের জন্য আলাদা বাড়ি নেওয়ার অনেক ঝামেলা আছে। বেশিরভাগ এস্টেট এজেন্টরাই লিজের মাঝখানে মুভ আউট করতে গেলে ভয়ানক গোলমাল করে। বলে ভাড়াটে খুঁজে দিয়ে তবে যাও। তখন তো আত্মীয়রা সেসব ঝক্কি পোয়াতে আসবেন না। আসবেন কি? এসব বুঝিয়ে সুঝিয়ে মাকে তোমার মতে রাজি করানো।   

চার, ছ’মাস আগেই মুভ ইন করা কিন্তু মাকে বলা যে করিনি। মা তো আর এদ্দুর উজিয়ে দেখতে আসছেন না। তবে ফোনে কথা বলার সময় “টিভি কমাও কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না” যাতে মুখ থেকে বেরিয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারে সাবধানে থাকতে হবে।

এইবার এই চারটে রাস্তার দিকে একমনে তাকিয়ে থাকো। পূর্ণ কনসেন্ট্রেশন দিয়ে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে দেখবে একটা রাস্তা তোমার কাছে বাকি তিনটে রাস্তার থেকে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেটা উঠছে সেটাই তোমার রাস্তা।

বিয়েতে দেখা হচ্ছে। হচ্ছেই।

অনেক ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা সহ,
কুন্তলাদি।

আবহাওয়ার খবর



কোনো এক জোকসের বইতে পড়েছিলাম যে ওয়েদার চ্যানেল হচ্ছে বুড়োদের MTV.  কথাটা একেবারে মিথ্যে নয় কিন্তু। মনে আছে ছোটবেলায় আমরা বাড়ির সবাই একসাথে বসে রাতের নিউজ শুনতে শুনতে রুটি তরকারি খেতাম। তাই বলে সবাই সব কিছু সমান মন দিয়ে শুনতাম না। বাবা মা গম্ভীর মুখে রাজনীতির খবর শুনতেন, সেজকাকু চোখমুখ কুঁচকে একাগ্র হয়ে খেলার খবর শুনত, আমাকে পুরো খবরটাই শুনতে হত কারণ ওটা ছিল আমার ইংরিজি শেখার ক্লাস। আর আবহাওয়ার খবর শুরু হলেই ঠাকুমা মহা উৎসাহে চেয়ারের প্রায় কানায় এগিয়ে এসে বসতেন। বলতেন, “আহ চেঁচাস না, কী বলে শুনতে দে।”



ভারতের ম্যাপে কলকাতার ওপর মেঘ দেখাচ্ছে না সূর্য সেটা ঠাকুমার কাছে জীবনমরণ ব্যাপার ছিল। লেবুর আচার রোদ পাবে কিনা, সদ্য পোঁতা পদ্মচারা বিনা বৃষ্টিতে শুকিয়ে মরবে কিনা, নানারকম দুশ্চিন্তা। ঠাকুমার উৎসাহ দেখে বাবা মা চোখাচোখি করে হাসতেন, কাকু চোখ ঘোরাত। আমিও তাঁদের দেখাদেখি ব্যাপারটাকে খুব হেয় করার চেষ্টা করতাম।

এখন আর করিনা। বয়সটা যত গুঁড়ি মেরে ঠাকুমার বয়সের দিকে এগোচ্ছে বুঝছি যে আবহাওয়ার গুরুত্ব মানুষের জীবনে কতখানি। আমার জীবনে, এবং যৌবনমদমত্ত আপনাদের জীবনেও। রাস্তাঘাটে সম্পূর্ণ অচেনা লোকের সাথে খুচরো আলাপ জমাতে,  চেনা আড্ডায় তুমুল ঝগড়ার পর শ্মশানের নীরবতা ভাঙতে, “সরি” বলার অপমানের জ্বালা এড়িয়ে প্রেমিক/কার মান ভাঙাতে---“গরমটা আর নেওয়া যাচ্ছেনা বস”-এর থেকে বেশি কার্যকরী আমি অন্তত আর কিছু দেখিনি। আমার এই একত্রিশ বছরের জীবনে।

আমাদের ছোটবেলায় কলকাতা আবহাওয়া অফিসের একজন হোমরাচোমরা কর্তা ছিলেন গোলদার মশাই। রেল, ব্যাঙ্ক, জীবনবিমা সব অফিসেই যেমন থাকেন। তাঁদের কারোর নাম আমরা জানতাম না, জানার উৎসাহও ছিল না। কিন্তু গোলদারবাবুর নাম বাচ্চা বুড়ো নির্বিশেষে প্রতিটি বাঙালি জানত। “গোলদার কী বলেছে, আজ বৃষ্টি হবে?”, “তাহলে তো ছাতা না নিয়ে বেরোলেই হয়” গোছের সংলাপে ঘরে ঘরে অফিসটাইম মুখরিত হয়ে থাকত। আমি একবার গোলদারবাবুকে টিভিতে দেখেছিলাম। আপাদমস্তক শান্তশিষ্ট ভদ্রলোক, হাসিমুখে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। বেচারা। ক’বছর পর গোলদারবাবু বদলি হয়ে গেলেন বা প্রোমোশন পেয়ে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন, গিয়ে বেঁচে গেলেন নির্ঘাত কিন্তু আমার বেশ মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল মনে আছে।

আবহাওয়া নিয়ে এত কথা উঠল কারণ একটা বেশ নতুন রকমের আবহাওয়ার চ্যানেলের খোঁজ পেলাম। MTV না হলেও তার থেকে খুব খারাপও না। দাঁড়ান আপনাদের চ্যানেলটার একটা হেডশট দেখাই। 


ভালো না? এখানে বলা হচ্ছে যে ২০শে জুলাই নিউইয়র্কের আকাশ মেঘলা থাকবে আর গরমও থাকবে বেশ। আপনি যদি সেদিন শহরে থাকেন আর আপনি যদি মহিলা হন তাহলে আপনার পক্ষে কীধরণের সাজপোশাক করা সুবিধে হবে সেটার সাজেশনও দিয়ে দিচ্ছে ওয়েবসাইটটি। আবার ধরুন আপনি একজন পুরুষ আর আপনি সেদিন নিউইয়র্কের বদলে তিব্বত যেতে চান। তাহলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনার জন্যও সাজেশন আছে।





আবহাওয়ার খবরকে যারা এতদিন বো-ও-রিং বলে অশ্রদ্ধা করতেন তাঁদের যোগ্য জবাব দিতে এসে গেছে এই ঝাঁচকচকে নতুন যুগের ওয়েদার ডট কম। এবার থেকে ছেলে বুড়ো ঠাকুমা নাতি সবাই সমান মনোযোগ দিয়ে ঝড় বৃষ্টি বজ্রপাতের খবর শুনবে। মাঙ্কিক্যাপ বা বউটুপি পরার দরকার আছে কি নেই সে ব্যাপারে মায়েদের মোনোপলি আর চলবে না। পটলা আর টুকটুকির দল নিজেরাই ওয়েবসাইটে উঁকি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ইস আমাদের সময় যদি এমন কিছু থাকত।

যাই হোক হিংসে করে লাভ নেই। সাইটটা আপনাদের ভালো লাগল কিনা জানাবেন।

On Writing



Reading Maketh a Full man; Conference a Ready Man; Writing an Exact Man.
                                                                        Francis Bacon (1561-1626)




Desire to seem clever, to be talked about, to be remembered after death, to get your own back on the grown-ups who snubbed you in childhood, etc., etc. It is humbug to pretend this is not a motive, and a strong one. Writers share this characteristic with scientists, artists, politicians, lawyers, soldiers, successful businessmen — in short, with the whole top crust of humanity. The great mass of human beings are not acutely selfish. After the age of about thirty they almost abandon the sense of being individuals at all — and live chiefly for others, or are simply smothered under drudgery. But there is also the minority of gifted, willful people who are determined to live their own lives to the end, and writers belong in this class. Serious writers, I should say, are on the whole more vain and self-centered than journalists, though less interested in money.
                                         George Orwell (1903-1950) on why he writes. 




I have spent a good many years since---too many, I think---being ashamed about what I write. I think I was forty before I realized that almost every writer of fiction and poetry who has ever published a line has been accused by someone of wasting his or her God-given talent.
                                                                                      Stephen King (1947-)




It begins with a character, usually, and once he stands up on his feet and begins to move, all I can do is trot along behind him with a paper and pencil trying to keep up long enough to put down what he says and does.
                                                                  William Faulkner (1897-1962)




Don’t use adjectives which merely tell us how you want us to feel about the thing you are describing. I mean, instead of telling us a thing was “terrible,” describe it so that we’ll be terrified. Don’t say it was “delightful”; make us say “delightful” when we’ve read the description. You see, all those words (horrifying, wonderful, hideous, exquisite) are only like saying to your readers, “Please will you do my job for me.”
                                                            C. S. Lewis (1898-1963)





The test of any good fiction is that you should care something for the characters; the good to succeed, the bad to fail. The trouble with most fiction is that you want them all to land in hell, together, as quickly as possible.
                                                                                Mark Twain (1835-1910)





It's none of their business that you have to learn to write. Let them think you were born that way.
                                                    Ernest Miller Hemingway (1899-1961)


লেখাটায় যেসব সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো হল, Brain Pickings, Letters of Note, www.logicalcreativity.com, www.flavorwire.com, orwell.ru ছবি সৌজন্যে গুগল ইমেজেস।


 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.