August 31, 2012

মিথ্যুক



মিথ্যেবাদীদের প্রতি আমার মনোভাব কী সেটা আমাকে যারা চেনেন তাঁরা জানেন। আমি নিজে মিথ্যে কথা বলতে ভালোবাসি, ডাইনে বাঁয়ে বলে থাকি এবং কেন সবাই মিথ্যে বলার প্রতি এরকম খড়গহস্ত হয়ে থাকে সেটা ভেবে থই পাই না।

কিন্তু আমি জন্ম-মিডিওকার, মিথ্যে বলাতেও সরেস হতে পারিনি। আমার মিথ্যে কথাগুলো সব ওই দরজায় চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে মোবাইল ফোন তুলে “আরে ভীষণ জ্যাম, পৌঁছতে লেট হবে” কিংবা আগাপাশতলা সুর-তাল-লয়হীন গান শুনে সিরিয়াস মুখে “ফাটিয়ে দিয়েছেন” গোছের। ব্যস। মিথ্যে বলাটাকে আর্টের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি আমি। আর্টিস্ট নই বলেই বোধহয়। 

সেটা যারা পেরেছেন আমি তাঁদের শ্রদ্ধা করি। ইন ফ্যাক্ট ফেসবুকে যারা নিজেদের প্রিয় কোটেশনের জায়গায় “অনেস্টি ইস দ্য বেস্ট পলিসি” বা “সত্যের জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা যায়” লিখে রাখেন তাঁরাও করেন। কারণ তাঁদেরই প্রিয় বইয়ের লিস্টে দেখবেন থরে থরে ঘনাদা, টেনিদা, জোজো সাজিয়ে রাখা আছে। রাখাই উচিত। সন্তুর থেকে জোজো হাজারগুণ ভালো আর লক্ষগুণ ইন্টারেস্টিং। সত্যি কথা বলতে কি জোজো না থাকলে কাকাবাবুর ক’টা গল্প আমি পুরোটা বসে পড়তে পারতাম আমার সন্দেহ আছে।

কিন্তু আজকের পোস্টটা এইসব সেলিব্রিটি মিথ্যুকদের নিয়ে নয়। আজকের পোস্ট সেই সব মিথ্যেবাদীদের নিয়ে যারা আমার আপনার চারপাশের ভিড়ে মিশে থাকেন। তাঁদের কারোকারো প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়, কারো পায়না। এরকম একজন সম্ভাবনাময় মিথ্যুককে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম। আমাদের ক্লাসের ম। ক্লাস টু থেকে থ্রি-তে ওঠার মাঝখানের ছুটির পর স্কুল খোলার প্রথম দিন যখন ম এসে বলল, “আমার দিদিমা দুবাই থেকে আমার জন্য রূপোর চকলেট আর সোনার চুলওয়ালা বার্বিডল পাঠিয়েছেন”, তখনি বুঝেছিলাম এ মেয়ের হবে। শুধু বলেছিল না, এমন বিশ্বাসযোগ্য করে বলেছিল যে ক্লাসের তিনচতুর্থাংশ মেয়ে সে কথা সম্পূর্ণ বিশ্বাসও করেছিল। সেই শুরু। তারপর একের পর এক আশ্চর্য উপহার পাঠাতে লাগলেন দুবাইয়ের দিদিমা। সেসবের বেশিরভাগই হয় সোনার নয় হীরের। প্রত্যেকদিন প্রার্থনার আগে আমরা ম-কে ঘিরে বসে হাঁ করে সোনার পেনসিলবক্স আর হীরের ওয়াটারবটলের গল্প শুনতাম আর দীর্ঘশ্বাস চেপে ভাবতাম আহারে ভগবান যদি আমাদের এরকম একখানা দিদিমা দিতেন।

তারপরই দুর্ঘটনাটা ঘটল। যখনকার কথা বলছি তখনও নব্বইয়ের দশক শুরু হয়নি, মফস্বলের ঘরে ঘরে টেলিফোন পৌঁছতে তখনও দেরি আছে। এমন সময় একদিন ম এসে খুব হাসিহাসি মুখে ঘোষণা করল, দুবাইয়ের দিদিমা একটা ঝকঝকে লাল রঙের ফোন পাঠিয়েছেন ওর জন্য। “তোরা সবাই নম্বরটা লিখে নে না, তোদের বাড়িতে যখন ফোন আসবে তখন যাতে আমাকে ফোন করতে পারিস।” আমরা সবাই যে যার খাতার লাইনটানা পাতা আর টু বি নটরাজ পেনসিল বাগিয়ে বসলাম। সবার কানে যাওয়ার মতো স্পষ্ট আর জোর গলায় ম থেমে থেমে বলল, “মাইনাস পয়েন্ট ওয়ান টু থ্রি ফোর ফাইভ সিক্স।”

এইবার যেটা ঘটল সেটা স্বীকার করতে আমার মাথা কাটা যাচ্ছে। নম্বরটুকিয়েদের মধ্যে আমিও ছিলাম এবং ম-এর কপালদোষে আমার বাবা মা দুজনেই টেলিফোন অফিসে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তার সপ্তাহখানেক আগেই আমাদের বাড়িতে একটি দশমণি ফোনের আগমন ঘটেছিল। সেটারও রঙ টুকটুকে লাল আর সেটারও নম্বর ছয়সংখ্যার। কিন্তু সে নম্বরের ত্রিসীমানায় মাইনাস কিংবা দশমিকের চিহ্নমাত্র নেই।

আমি বাঘের মতো লাফিয়ে পড়ে বললাম “ইয়ার্কি হচ্ছে? জানিস আমার বাবা মা টেলিফোনে চাকরি করে?” ম প্রতিরোধের প্রবল চেষ্টা করল কিন্তু এতদিন যারা দুবাইয়ের দিদিমার গল্প শুনে হিংসেয় জ্বলেপুড়ে মরছিল তারা সবাই হইহই করে আমার পক্ষ নিয়ে আমার থেকেও জোরে চেঁচিয়ে বলল, “জানিস কুন্তলার বাবা মা টেলিফোনে চাকরি করে?” এইরকম চেঁচামেচি ততক্ষণ চলল যতক্ষণ না একলা পড়ে যাওয়া ম-এর মুখটা কাঁদোকাঁদো হয়ে গেল, প্রার্থনায় যাওয়ার ঘণ্টি বেজে বেজে থেমে গেল আমরা কেউ শুনতেই পেলাম না, আর দিদিভাই এসে আমাদের সবাইকে ঝাড়া ১৫ মিনিট বেঞ্চের ওপর কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখলেন।

তারপর সারাজীবনে সরেস নিরেস অনেক মিথ্যুক দেখেছি। নিরেসেরা বলেছে তারা একবর্ণ না পড়েই কেমন গুচ্ছ গুচ্ছ নম্বর পেয়েছে, আর সরেসেরা বলেছে কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়াকালীন প্রেমিকাকে সল্টলেক স্টেডিয়ামে নিয়ে গিয়ে সে কেমন করে প্রোপোজ করেছিল তার গল্প। আবছায়া অন্ধকার স্টেডিয়ামের মাঝখানে মুখোমুখি দুজন। তারপর হঠাৎ এক এক করে স্টেডিয়ামের সবকটা ফ্লাডলাইট জ্বলে উঠতে শুরু করেছিল, আর সে নতজানু হয়ে বসে প্রেমিকার মুখের দিকে অনিমেখ তাকিয়ে জানতে চেয়েছিল, “আমার সঙ্গে প্রেম করবি?”

তবু এখনও, যখন যেখানেই ভালোজাতের মিথ্যের দেখা পাই আমার ম-এর কথা মনে পড়ে যায়। সেই ঘটনার পর আর কোনোদিন ম আমাদের দুবাইয়ের দিদিমার গল্প বলেনি। পায়ে ধরে সাধলেও বলেনি। এখন সে মেয়ে কোথায় কে জানে। নির্ঘাত সুখে সংসার করছে আর ছানাকে সকালবিকেল পাখিপড়া পড়াচ্ছে “মিথ্যেকথা বলা মহাপাপ।”

শুধু আমার দোষে।

August 30, 2012

ব্যক্তিগত ব্যাকরণ



সিনেমাগ্রাফঃ Old Hollywood by Jamie Beck 

ভালোবাসা বিশেষ্য
মা
হাসি
চা
বই
গান

ভালোলাগা সর্বনাম
আপনি
তুমি

সে
কেউ

ভালোলাগা অব্যয়
কিন্তু
যদি
তবু
বরঞ্চ
সুতরাং

ভালোলাগা বিশেষণ
ফুরফুরে
বিচ্ছু
সহজ
হাসিখুশি
অভিমানী

ভালোলাগা ক্রিয়াপদ
ঘুমোনো
গান গাওয়া
সাইকেল চালানো
ভুলে যাওয়া
কাতুকুতু দেওয়া (লোক বুঝে অফ কোর্স)

চেনেন নাকি?




August 29, 2012

ইটিং আউট


আমার ছোটবেলায় বাইরে খাওয়াটা একটা ব্যাপার ছিল। ইন ফ্যাক্ট, লায়েক হওয়ার আগে (অর্থাৎ কিনা কলেজে ঢোকার আগে) আমি ক'বার রেস্টোর‍্যান্টে খেতে গেছি সেটা গুনে বলে দেওয়া যায়। খুব সম্ভবত শূন্য বার। বিশ্বাস হচ্ছে না? আচ্ছা, খুব বেশি হলেও পাঁচবার। তার বেশি কক্ষনো নয়। তার কারণ এক, রিষড়ায় রেস্টোর‍্যান্ট বলতে তখনও চাউমিন আর এগরোলের গাড়ি বোঝাত; দুই, আমার বাবামা কেউই ঠিক রেস্টোর‍্যান্টে খাওয়া টাইপ নন। মায়ের তো চিরকালই পেট ভরলেই হল, বাবার মন ভরাতে হলে ক্যান্ডেলালোকিত হাক্কা চাউমিনের বদলে রাস্তার ধারের তেলচপচপে বেগুনিফুলুরি একশোগুণ বেশি এফেক্টিভ।

তাই বলে আমার শৈশবকে করুণা করবেন না যেন। চাউমিন শনিরবিবার সকালে মা বাড়িতেই বানাতেন আর সন্ধ্যেবেলা ট্যাংট্যাং বাজনা বাজিয়ে ইডলিদোসার গাড়ি আসত পাড়ায়। ঠাকুমার পেনশনের টাকা উড়িয়ে আমি নিয়মিত সেগুলো চেটেপুটে খেতাম। দোসাওয়ালার ব্যবসাবুদ্ধি প্রখর ছিল, রোজ আমাদের বাড়ির সামনেটায় এসে আস্তে আস্তে হাঁটত আর বেশি জোরে জোরে তাওয়া বাজাত।

কাজেই পাড়াগাঁয়ে থাকলেও ওরিয়েন্টাল আর দক্ষিণী কুইজিনের সঙ্গে আমার আলাপ বহুদিনের। প্রায় আপনাদের মতো শহুরে লোকজনের সমান সমান। শুধু যে জায়গাটায় আপনারা আমাকে হারিয়ে দেবেন, সেটা হচ্ছে ওই কালো দরজার আড়ালে টিমটিমে আলোজ্বালা আর গুনগুনে গান বাজানো ঝিংচ্যাক ঠাণ্ডা দোকানে বসে খাওয়ার জায়গাটা।

তাই লায়েক হওয়ার পর আমাকে সেই জায়গাটা পুষিয়ে নিতে হল। দোকান দেখলেই হল, দলবল মিলে চড়াও হতাম। আর দাবি করতাম একপ্লেট হট অ্যান্ড সাওয়ার স্যুপ ছ’টা বাটিতে ভাগ করে দিতে হবে। কিংবা একপ্লেট চাউমিন ন’টা প্লেটে। সবথেকে আশ্চর্যের কথা বেশিরভাগ দোকানে সেসব দাবি হাসিমুখে মেটানোও হত। যারা মেটাত না তাদের দোকানে আমরা আর কোনোদিন যেতাম না। উঠুক বিজনেস লাটে, দেখবি কেমন লাগে তখন।

এই করতে করতে আমাদের সবার মধ্যে এক বিরল প্রতিভার উন্মেষ ঘটল। কলেজে পড়াকালীন সব মানুষেরই বোধহয় ঘটে। কলকাতা শহরের কোন গলিতে সস্তার কোন খাবার দোকান আছে সে ব্যাপারে আমরা প্রত্যেকে একএকটি জলজ্যান্ত গুগল আর্থ হয়ে উঠলাম। কী সব গলি, আর সেসব গলিতে কী সব অনবদ্য খাবার দোকান। রাতের বেলা যেখানে যেতে অতি বড় সাহসীরও বুক কাঁপবে, দুপুরবেলা ক্লাস কেটে আমরা সেসব গলিঘুঁজি এক্সপ্লোর করে বেড়াতাম। আজ মোমো তো কাল বিরিয়ানি। পরশু জলের দরে প্লেটভর্তি কীসের মাংস কে জানে। কোনোদিন শরীরখারাপ হয়নি, অম্বল অজীর্ণ চোঁয়াঢেঁকুর ধারেকাছে ঘেঁষতে সাহস পায়নি। লৌহমানবের মতো হজমশক্তি ছিল তখন আমাদের সবার, আর কেট মসের মতো মেটাবলিজম।

সেসব সুখের সময় গেছে অনেকদিন হল। এখন ইথিওপিয়ান খেয়ে বেরিয়ে মনে হয়, বস কী বোরিং। কানের কাছে লাইভ পিয়্যানো শুনতে শুনতে ফ্রেঞ্চফুড ঠোকরাতে ঠোকরাতে বুঝতে পারি পেট তো দূর অস্ত, মনও ভরছে না। সপ্তাহান্তে কোথায় খেতে যাওয়া হবে ঠিক করতে বসে মেস্কিক্যান শুনলে এ কোঁকায় তো লেবানিজের নাম শুনলে ও গলায় দড়ি দেওয়ার ভঙ্গি করে।

পাস্তা এখন আমাদের কাছে পোস্তর থেকেও নিরেস, ব্যাসিল অরেগ্যানো দ্রুত থানকুনি আর গাঁদালপাতার জায়গা নিচ্ছে।

বাইরে খাওয়ার শখ আমার জন্মের মতো মিটে গেছে, এখন কেউ আসন পেতে বসিয়ে স্টিলের থালায় ডাল ভাত গরমগরম বেগুনভাজা যত্ন করে বেড়ে খাওয়ায় তো বেঁচে যাই। কিন্তু চাইলেই তো আর কেউ খাওয়াচ্ছে না। তাই আমরা বাপে খ্যাদানো মায়ে তাড়ানো ক’টি প্রাণ নিজেরাই নিজেদের শখ মেটাবো ঠিক করেছি। আগামীকাল রাতে আমাদের এখানে সেদ্ধভাত পার্টি। ধোঁয়া ওঠা ভাত, আলুসেদ্ধ, ডিমসেদ্ধ, সর্ষেরতেল কাঁচালঙ্কা ঘষা ডালসেদ্ধ আর ঝর্ণা ঘি-র একটা গোটা শিশি। ব্যস। থালা কোলে নিয়ে মেঝের ওপর গোল হয়ে বসব সবাই, ঝালের চোটে চোখ দিয়ে জল গড়াবে, বাঁ হাত দিয়ে ক্রমাগত সে জল মুছব আর একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসব খুব।

আমার আর তর সইছে না বিশ্বাস করুন।


August 28, 2012

দুই বোন


একজনের বয়স পাঁচ, আরেকজনের তিন। যার বয়স পাঁচ সে ছোটবোনের চুল কেটে দিয়েছে। নিজদায়িত্বে। বলাই বাহুল্য পরিণতি খুব একটা সুবিধের হয়নি। সপ্তাহকয়েক পর বোনেদের বাবা তাদের একটা ইন্টারভিউ নিয়েছেন। চুলকাটার ইতিহাস, উপকরণ, পদ্ধতি এবং কর্তন-পরবর্তী উপলব্ধি নিয়ে। শুনে দেখতে পারেন। আপনারা যদি আমার মতো হন, তাহলে একবার শুনে মন ভরবেনা গ্যারান্টি।


Dis or Dat: পাগলে কী না বলে




শিডিউল না স্কেজিউলঃ শিডিউল

লিফট না এলিভেটরঃ এলিভেটর

চান না স্নানঃ স্নান

গ্লাস না গেলাসঃ গেলাস

হল না হলঘরঃ হলঘর

ফোটোকপি না জেরক্সঃ জেরক্স

সয়াবিন না নিউট্রিলাঃ সয়াবিন

কিশমিশ না কিসমিসঃ কিশমিশ

পাড়ানো না মাড়ানোঃ পাড়ানো

ছাদ না ছাতঃ ছাদ

দারোয়ান না দরোয়ানঃ দারোয়ান

গেছিলাম না গিয়েছিলামঃ গিয়েছিলাম

এর’ম না এরকমঃ এরকম

পাজামা না পায়জামাঃ পায়জামা

চানাচুর না চ্যানাচুরঃ চানাচুর

আর্বাল না হার্বালঃ হার্বাল

বেনহুর না বেনহারঃ বেনহুর

বুফে না বাফেঃ বাফে

স্টিকিং প্লাস্টার না ব্যান্ডেডঃ ব্যান্ডেড

অ্যাকাকিত্ব না একাকিত্বঃ অ্যাকাকিত্ব

ডিকি না ট্রাঙ্কঃ ট্রাঙ্ক

ডাস্টবিন না ওয়েস্টপেপার বাস্কেটঃ ওয়েস্টপেপার বাস্কেট

সিনেমা না ছবিঃ সিনেমা

ফুটপাথ না সাইডওয়াকঃ ফুটপাথ

টয়লেট না রেস্টরুমঃ রেস্টরুম

ক্যাব না ট্যাক্সিঃ ট্যাক্সি

পেনড্রাইভ না ফ্ল্যাশড্রাইভঃ পেনড্রাইভ

সেলফোন না মোবাইলঃ মোবাইল

টমেটো না টম্যাটোঃ টমেটো

গোটি না ছাগলদাড়িঃ ছাগলদাড়ি

ওয়াও না ব্যাপকঃ ব্যাপক

রাবারব্যান্ড না গার্টারঃ গার্টার (যদিও আমার বাড়িশুদ্ধু লোক গার্ডার বলে।)

পিনকোড না জিপকোডঃ পিনকোড

রুলার না স্কেলঃ স্কেল

যোগব্যায়াম না ইয়োগাঃ যোগব্যায়াম

ভাতে না সেদ্ধঃ সেদ্ধ (যেটা ভাতের সাথে রান্না হয়। আলাদাভাবে সেদ্ধ করা জিনিস যেমন কিনা ডিম, এখানে বিবেচ্য নয়।)

ফোড়ন না সম্বারঃ সম্বার

কোলা না সোডাঃ সোডা

কোচিং না টিউশনঃ টিউশন

পিরিয়ড না ফুলস্টপঃ ফুলস্টপ

August 27, 2012

জানতেন?




                Avoid  horseplay or "kidding"; she may resent it. 
Thank you.

লেখা


কথা তো বলার জন্যেই-এ আজ “ফোটোজেনিক” প্রকাশিত হচ্ছে। লেখাটা অনেকদিন আগে অবান্তরে বেরিয়েছিল, কিন্তু রোমান হরফে। কাজেই আগে যারা পড়েছেন তাঁরা চোখের আরাম চাইলে আরেকবার পড়ে দেখতে পারেন।

মতামতের অপেক্ষায় থাকব, বলাই বাহুল্য।

বিজ্ঞানঃ সক্ষম না অক্ষম?



কেমন আছেন? আমি ভালো আছি। না থেকে উপায়ও ছিলনা। সপ্তাহান্তে বিস্তর ভালো ভালো ব্যাপার ঘটল। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে সাতসাতটি বছর পর দেখা, বাইরে অঝোর বৃষ্টি, ভেতরে তুমুল আড্ডা, সুগন্ধী পোলাও, কচি পাঁঠার ঝাল-ঝাল ঝোল, পেপটোবিসমল খেয়ে অকাতরে ঘুম।

হিংসে করবেন না। প্লাসে মাইনাসে মাইনাস করার জন্য এসপ্তাহে আমার গোটাতিনেক ডেডলাইন আছে, তার মধ্যে দুটো লাইনের আমি এখনও স্টার্টিং পয়েন্ট ছেড়েই বেরোতে পারিনি। সামনের ক’দিন কপালে উত্তেজনা লেখা আছে।

এখন পোস্ট লেখার জন্য যা-ই ভাবতে বসছি না কেন ঘুরেফিরে গত দু’দিনের টুকরোটুকরো ছবি ভেসে উঠছে মাথার ভেতর। আর আপনা থেকেই মুখটা হাসিহাসি হয়ে যাচ্ছে। এত কথা বুকের মধ্যে জমে ছিল কে জানত? জমা কথা জমা স্মৃতি হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে এল, চোখের সামনে কবেকার ভুলে যাওয়া লোকেদের মিছিল। “হ্যাঁরে, অমুক কোথায় আছে জানিস?” লোকেরও অভাব নেই, লোক নিয়ে চর্চারও না। পরচর্চা করতেই করতেই পেট ভরে গেল, পোলাওটা ভালো করে খেতেই পারলাম না।

ভালোজাতের আড্ডার মুশকিলটা হচ্ছে সেটার পুনরাবৃত্তি করা অসম্ভব। গুচ্ছ গুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা হল যেগুলো অবান্তরে লিখতে গিয়ে এখন মনে হচ্ছে ধুর এসব কী বোকা বোকা কথা। অথচ তখন এই বিষয়গুলোকে কী ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছিল, এই কথাগুলো নিয়েই হেসে কত গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম,  সোফা চাপড়ে গলা ফাটাচ্ছিলাম, কাপের পর কাপ চা ওড়াচ্ছিলাম।

যাই হোক, অনেক কথার মধ্যে একটা কথা হয়ত আপনাদের বলা যেতে পারে। আমাদের আমলের সব কীরকম ভালো ছিল সেই কথা উঠতে স্কুলের কথা উঠল, আর স্কুল থেকে বাংলা ক্লাসের কথা। তারপর মাধ্যমিকে কে কোন রচনাটা মুখস্থ করে গিয়েছিল সেই নিয়ে সবাই নস্ট্যালজিক হয়ে পড়ল। বন্ধু বলল ও নাকি চিরকালই ‘ভদ্রলোকের এক কথা’ নীতিতে বিশ্বাসী। ক্লাস সেভেন থেকে মাধ্যমিক, হাফ ইয়ারলি থেকে অ্যানুয়াল, একটাই রচনা মুখস্থ করে চালিয়ে গেছে ও, বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ?

সবাই স্বীকার করলাম, নম্বরের মুখ চেয়ে, দাঁড়িপাল্লায় মেপে এদিক ওদিক সমান করে যুক্তি সাজাতাম বটে, কিন্তু বিজ্ঞান অ্যাকচুয়ালি আশীর্বাদ। সে পরমাণু বোমা থাকলেও, না থাকলেও। কিন্তু এটাও সত্যি যে বিজ্ঞান আরেকটু নড়েচড়ে বসলেও আমাদের আপত্তি নেই। বিশেষ করে কিছু কিছু সমস্যা বড় বেশিদিন হল ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, এবার ঝটপট তার সমাধা না করতে পারলে বিজ্ঞানের আর মুখ দেখানো উচিত নয়।

সমীক্ষা চালিয়ে নিচের কয়েকটা সমস্যার বিষয়ে একমত হওয়া গেল।

এক, মশা। ক্ষুধা তৃষ্ণা যুদ্ধ দারিদ্র্য নিবৃত্তির জন্য যত ফান্ডিং ব্যয় হয়েছে তার সহস্রাংশও যদি মাদুর্গার এই প্রাণীটিকে বধের উদ্দেশে ব্যয়িত হত পৃথিবীর চেহারা আজ অন্যরকম হত। পৃথিবীর চেহারা না হলেও আমাকে অন্তত মায়ের হাতে যখনতখন চড়চাপড় খেতে হত না। “যাব্বাবা! মারলে কেন?!”, “ওমা তোকে মেরেছি নাকি, মশাটাকে মারলাম তো।”    

দুই, বিল্ট-ইন শীতাতপনিয়ন্ত্রণ। শরীরের ভেতর যদি একটা এসি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতাম আর ইচ্ছে মতো নব ঘুরিয়ে তার তাপমাত্রা বাড়াতে কমাতে পারতাম, হাওয়ার স্পিড কন্ট্রোল করতে পারতাম, কী ভালোই না হত। মহাত্মা গান্ধী রোডে শিকড় গেড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ২১৯-এর ভেতর সেদ্ধ হওয়ার সেই বিকেলগুলো সইতে হত না। কিংবা বরফঢাকা খাঁখাঁ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ভুরু কুঁচকে ভাবতে হতনা যে ভিজে সপসপে জুতোর ভেতর পায়ের আঙুলগুলো আদৌ আছে তো?

তিন নম্বরটা বান্টির ফরমায়েশ। এমন একটা মেশিন চাই ওর যেটা মাথায় পরলে সেটা থেকে ছোট ছোট দাঁড়ার মতো জিনিস বেরিয়ে এসে আপনাআপনি চুলে বিলি কেটে দেবে। অথবা লাইব্রেরিতে ঘুমিয়ে পড়লে কান মুলে তুলে দেবে। আমরা বললাম, “তার থেকে বলনা কেন এমন একটা মেশিন চাই তোর যেটা দরকার মতো বেহালা থেকে কাকিমাকে হুশ করে উড়িয়ে তোর কাছে নিয়ে আসবে আবার দরকার ফুরোলে হুশ করে রেখেও আসবে। যাতে তুই শান্তি করে ইউটিউব দেখতে পারিস।” বান্টি দাঁত বার করে বলল, “এক্স্যাক্টলি।”

ভেবে দেখলাম এরকম একটা মেশিন আমাদের সবারই চাই। আপনারও কি চাই না? 

আপনারা কী চান সায়েন্সের কাছ থেকে? প্রাণপণ চান অথচ পান না? আমি যেমন এখন আর কিচ্ছু চাইনা, শুধু একটা ডেডলাইন পেছোনোর মেশিন হলেই বর্তে যাই। গেলেও অবশ্য দিচ্ছে না কেউ। সিরিয়াসলি সায়েন্স, তোমার ওপর আমার এর থেকে বেশি আশা ছিল। 

August 26, 2012

সাপ্তাহিকী




ওপরের ছবিতে নিজের ল্যাবরেটরিতে সাধনারত নিকোলা টেসলা।

সারা বিশ্বের ক্লাসরুম।

বইয়ের বাগান।

নখের বাগান।

আমি চিরদিনই জানতাম মহিলাকে আমার পছন্দ।

আপনি কবে কী ভুলবেন, ভুলে যাওয়ার আগে মনে করে দেখে নিন।

জ্যাজসঙ্গীত। শিল্পীঃ মাইলস ডেভিস দরজা।

বিয়ে করতে কেমন লাগে? একেবারে ঘোড়ার মুখের খবর।

সবশেষে এসপ্তাহের গান। আমি সারাসপ্তাহ ধরে যেটা শুনছি সেটাই রইল আপনাদের জন্য। শুনুন, ডুবুন, আর মনে করে ভেসেও উঠুন কারণ সোমবার দেখা করতে হবে আমার সাথে। ঠিক এখানেই। টা টা।

August 24, 2012

স্বীকারোক্তি


স্বীকারোক্তির সময় এসেছে।

অবান্তরকে আমার সব সময় ভালোলাগে, এক শুক্রবার ছাড়া। কারণ ওই দিনটায় আমাকে সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট লিখতে হয়। সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট ক্রমেই আদ্যোপান্ত নিখুঁত ডেটের ‘কথা বললে থুতু ছিটকোনো’য় পরিণত হচ্ছে, বা গোয়েন্দাগল্পে উড়ে এসে আলটপকা জুড়ে বসা প্রেমের সাবপ্লটে।

দুটোই চরম অসুবিধেজনক। যারা জানেন, তাঁরা জানেন।

মোদ্দা কথা অবান্তরের বাকি সিরিজ (চেনেন নাকি, ডিস অর ড্যাট, কখনোসখনো থিংস আই অ্যাম অ্যাফ্রেড টু টেল ইউ) বা নন-সিরিজ পোস্ট লিখতে বসার আমার যেমন তর সয়না, সব কাজ সেরে কখন MS Word খুলে বসব ভেবে মনটা আনচান করে, সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট লেখার আগে সেরকমটা হয়না।

সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট লিখতে বসে আমার ক্ষণেক্ষণে জলতেষ্টা পায়, একের পর এক জরুরি ফোন করার কথা মনে পড়ে যায়, বারবার উঠে গিয়ে আয়নায় নিজের মুখ পর্যবেক্ষণ করতে ইচ্ছে করে, কপালের সামনে পাকাচুল আরও কখানা বাড়ল গুনতে ইচ্ছে করে ... এমনকি সিরিয়াল মোনোগ্যামিস্ট লেখা ঠেকিয়ে রাখার জন্য আমি পুরো বাড়ি ভ্যাকুয়াম করে এসেছি এ ঘটনাও ঘটেছে।

এক্ষুনি হাল ছাড়ছিনা অবশ্য আমি। “অ্যাগোনি আন্ট” হওয়ার সাধ আমার আজকের না, সেই খুকিবয়সে প্রথম সানন্দা হাতে পাওয়ার সময়কার। আর একদু’সপ্তাহ চেষ্টা করে দেখব তারপর এ কাঁটা হয় চিরকালের মত গিলব নয় ওগরাব। আপনাদের বলেকয়েই।

শুধু আজ আমাকে প্রেমের প্যাঁচাল পাড়তে বোলোনা প্লিজ, তোমাদের দুটি পায়ে পড়ি।

আজ অন্য কথা হোক বরং। এখানে এখন ভরা ভাদর চলছে তার কথা হতে পারে, বা আপনাদের সবার পুজোর শপিং কদ্দূর এগোল তার কথা। অথবা ডার্ক নাইট রাইজেস অবশেষে দেখে কীরকম মনখারাপ হয়ে গেল তার কথা।

কিংবা অনেকদিন আগে অবান্তরের কোনো একটা পোস্টে, কোনো এক পাঠকের রেখে যাওয়া কমেন্ট পড়ার পর থেকে যে কথাটা বলব বলব ভাবছি সে কথাটাও বলা যেতে পারে।

বেড়াতে যেতে ভালোবাসে না এরকম লোক অনেক আছে পৃথিবীতে। আমি ঠিক তাঁদের দলে পড়িনা, আবার পড়িও। বেড়াতে যাওয়া নিয়ে অনেক রকম প্যাকনা আছে আমার। এক, সঙ্গের লোককে পছন্দের হতে হবে। দুই, থাকার জায়গা (এবং বাথরুম) ভালো হতে হবে। থাকার জায়গা আগে থেকে ঠিক করা থাকলে সবথেকে ভালো হয়। তিন, বাড়াবাড়ি রকম শারীরিক পরিশ্রম চলবে না। নন্দাদেবীর বেসক্যাম্প হাঁকাতে হয় তোমরা হাঁকাওগে, আমি বরং দার্জিলিং-এর সমতল ম্যালে বসে হট চকোলেটে চুমুক দেব।

বিলাসের দিকে এত নজর থাকলে তো আর ভ্রমণবিলাসী হওয়া যায় না, কাজেই আমার আর সেটা হওয়া হবে না এ জন্মে। কিন্তু ভ্রমণবিলাসীদের সঙ্গে আমার একটা জায়গায় মিল আছে। সেটা হচ্ছে যে আমিও তাঁদের মতো ট্যুরিস্ট প্লেস ভয়ানক অপছন্দ করি। আন্তরিক ভাবে অপছন্দ করি। নিজেও ট্যুরিস্ট, কিন্তু বাকি ট্যুরিস্টদের দেখলে গা জ্বলে যায়। মনে হয় কী সব অগভীর অপদার্থের দল, হাঁইমাই করে কথা বলছে, ক্যামেরা নিয়ে লাফালাফি করছে, বাচ্চারা কাঁদছে, মেয়েরা কিনছে, ছেলেরা জ্ঞান দিচ্ছে, বুড়োরা কাশছে আর সাফার করছে কেবল আমার অমূল্য মেমোরি মেকিং।

কাজেই বেড়াতে যেতে হলে আমার এমন জায়গাই পছন্দ যেখানে ট্যুরিস্টদের ঝাঁক নেই। এই যেমন ধরুন দূরে হলে দিরাং, মায়াবতী, ল্যান্সডাউন; কাছে হলে শিমূলতলা, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, কুমারঢুবি।

কিন্তু যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করে সারাজীবনে আমার সবথেকে স্মরণীয় বেড়াতে যাওয়ার জায়গা কোনটা, তাহলে আমি বলব মাইথন।

কেন বলব সত্যি জানিনা। ক্লাস টু-এ পড়তাম। অর্ধেক কথা মনেই নেই। শুধু মনে আছে ট্রেনে করে একটা স্টেশনে নেমে একটা লঝঝড়ে ট্রেকারে চেপে মা বাবার মাঝখানে স্যান্ডউইচ হয়ে বসে যাচ্ছি। যাচ্ছি তো যাচ্ছিই। আর মনে আছে ধুলোর কথা। বাপ রে বাপ সে কী ধুলো। প্ল্যাটফর্মে ধুলো, রাস্তায় ধুলো, ট্রেকারের সিটে ধুলো, আমার জামায় ধুলো, মাথার চুলে ধুলো, ট্রেকারের চাকার হাওয়া লেগে বিশ্বচরাচর ধুলোয় ধুলোময়, আর সেই ধুলোর খানিকটা আমার মুখের ভেতর জিভের ওপর এসে ল্যান্ড করেছে।

আর মনে আছে অনন্ত ধুলোর শেষে আমাদের হোটেল। ডাঙা থেকে একটু দূরে ড্যামের দিগন্তজোড়া জলের মধ্যে একটা ছোট্ট ডাঙার ওপর একটা বাড়ি। বাড়ির নাম মজুমদার নিবাস।

“জলের মধ্যে হোটেল?! হ্যাঁ বাবা?”

ইমপ্রেসড হওয়ার সেই শুরু। তারপর কী দেখেছি, কী খেয়েছি, কী শুনেছি মনে নেই, কিন্তু সমস্ত কিছুই অত্যাশ্চর্য লেগেছিল সেটা স্পষ্ট মনে আছে। সাইটসিয়িং হয়েছিল কিনা মনে নেই। ড্যামের কাছেই কল্যাণেশ্বরীর মন্দির আছে শুনেছি অন্য মাইথন-ঘুরিয়েদের মুখ থেকে, আমরা সে মন্দির দেখতে গিয়েছিলাম কিনা সম্পূর্ণ ভুলে গেছি।

তবু এখনো আমার মাইথনের কথা মনে পড়ে। অফিসে, আড্ডায়, যনতখন। মজুমদার নিবাসের মার্বেল বিছোনো ঠাণ্ডা বারান্দা দিয়ে গোলাপি রঙের হাওয়াই চটি ফটফটিয়ে ছুটন্ত আমি-র কথা। পেছন থেকে মায়ের প্রশ্রয়মেশানো “আঃ সোনা ছোটেনা” ডাকের কথা। আর জল। যেদিকে তাকাও, যতদূরে তাকাও, জল আর জল। নিস্তব্ধ নিস্তরঙ্গ নিরুত্তাপ বোরিং জল। সারাদিন গালে হাত দিয়ে জলের দিকে তাকিয়ে সাধনায় বসে থাকো, জল তোমার জন্য নড়বেনা চড়বেনা খেল দেখাবেনা।

এক যদি রাত্তিরে বৃষ্টি না নামে। তখন অন্ধকার ঘরে মশারির ভেতর শুয়ে কান খাড়া করে জলের ওপর জলের ফোঁটার আওয়াজ শোনো। প্রতিটি ফোঁটার আওয়াজ আলাদা, খেয়াল করো। কোনোটা গম্ভীর, কোনোটা হাসিখুশি, কোনোটা খলবলে। মা বাবা বিচ্ছু-বাচ্চার হোল ফ্যামিলি ড্যামের পুলে সাঁতার কাটতে এসেছে, তাদের ফুর্তির হল্লা শোনো। শুনতে শুনতে কখন অগোচরে বৃষ্টির সঙ্গে প্রেম হয়ে যাবে। জন্মজন্মান্তরের মতো।

আমি জানিনা ওই প্রেমটা করিয়ে দেওয়ার জন্যই মাইথন আমার এত প্রিয় কিনা। জানার দরকারও নেই অবশ্য। যেটা দরকার আছে সেটা হচ্ছে মাইথনে আর জীবনে কোনোদিনও না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সে সিদ্ধান্তে অটল থাকা। কারণ গিয়ে নিশ্চিত দেখব জায়গাটা নোংরা, মাছি ভনভন, মজুমদার নিবাসের দেওয়ালের কোণে কোণে পানের পিক আর টেকনিক্যালি বাড়িটা পুরোটা ডাঙার ওপরেই। জলের মধ্যে নয়।

সে বড় মর্মান্তিক হবে।

আপনাদের আছে নাকি এমন কোনো জায়গা যেখানে আর জীবনে কোনোদিন ফিরে যেতে চাননা আপনি? নাকি ভালোলাগার জায়গায় একবার গিয়ে আপনার মন ভরে না? বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে? তাহলে সেরকম একটা জায়গার কথাই বলুন না হয়। এই আমি শুনব বলে বসলাম।

August 22, 2012

5 things


আমার ব্যাগে

টাকার পার্স
পেন
পেন ড্রাইভ
চাবি
চিরুনি

আমার টেবিলে
ঘড়ি
ক্যালেন্ডার
পেনস্ট্যান্ড
টর্চ
টেবিল ল্যাম্প

আমার ফ্রিজে
দুধ
ডিম
মাস্টার্ড
আপেল
বরফ

আমার To do লিস্টে
পড়াশোনা
রেওয়াজ
হাঁটা
যোগব্যায়াম
বাড়িতে ফোন

আমার গায়ে
চশমা
দুল
হাতঘড়ি
নিভিয়া টাচ অফ স্মুদনেস বডি ওয়াশ
নিভিয়া ন্যাচারাল লুক লিপ বাম

আমার মাথার ভেতর
অবান্তর
মা
অফিস
যে কোনো একটা গান (কখনো রশিদ, কখনো রিহানা)
প্রেম

আমার বিছানায়
খোলা ল্যাপটপ
মোবাইল
বালিশ
চানাচুরের শিশি উইথ চামচ
আমি

আর অবান্তরে আজ আপনাদের জন্য? বেশি কিছু নেই, খালি এই ভিডিওটা ছাড়া। আপনারা বসে বসে দেখুন, আমি চট করে একটা জরুরি কাজ সেরে আসি।



যদি এমন হত আহা

August 21, 2012

কী মিস কী মিস!


বাড়িতে না থাকলে যে কত কিছু মিস হয়ে যায়। বাকিগুলোর কথা জানিনা, যুধিষ্ঠির ওই একটা প্রশ্নের জবাব অন্তত ঠিক দিয়েছিলেন---প্রবাসীর থেকে বেশি দুঃখী এ জগতে কাউকে খুঁজে বার করা টাফ।

এক নম্বর তো বিয়েবাড়ি। প্রাণের বন্ধুদের দিদিদাদাদের সবকটা বিয়ে মিস হয়ে যাওয়ার পর থেকে এক এক করে প্রাণের বন্ধুদের বিয়ে মিস হওয়া শুরু হল। খাওয়া আর শাড়ি পরার সুযোগ হারানোর দুঃখের ওপর শাকের আঁটি বন্ধুদের রাগ। এলি না তো? দেখে নিলাম। যেন আমি ইচ্ছে করে যাইনি। কোনো মানে আছে? আমিও উল্টে মুখভারি করাতে মা বললেন, “সোনা ওদের ওপর কি এখন রাগতে আছে? মনে রাখবে বিয়ের ছ’মাস আগে থেকে ছ’মাস পর পর্যন্ত মানুষ নিজের মধ্যে নিজে থাকেনা।”

কাজেই রাগ করা গেলনা। অবশ্য এতদিন বাদে সে রাগ আমার আর নেইও। বিয়ে তো দূর অস্ত, বন্ধুদের ছেলেমেয়ের মুখেভাত পর্যন্ত মিস হয়ে গেছে আমার। এখন আমি ওদের ছেলের পৈতে আর মেয়ের বিয়ে টার্গেট করে বসে আছি। তখন গিয়ে একেবারে হাতে পায়ে ধরে মান ভাঙাব।

দু'নম্বর মিস হচ্ছে পুজোপার্বণ। দুর্গাপুজো নিয়ে আমার বিশেষ আফসোস নেই কারণ তখন বাড়ি গেলেই অভ্যেসের বশে অষ্টমীতে পাড়ায় অঞ্জলি দিতে যেতে হয় আর অঞ্জলি দিতে গেলেই লোক জিজ্ঞেস করে এত কালো হয়ে গেছিস কেন, এত চুল উঠে গেল কী করে, আর বিয়ে কবে করবি। কেউ কেউ আবার সাবধান করে, “যে রেটে কালো হচ্ছিস আর টাক পড়ছে, এই বেলা মানে মানে বিয়েটা না সারলে কিন্তু...”

বাড়ি এসে “কী অভদ্র অসভ্য আনকালচারড লোক সব” বলে হাত পা ছুঁড়লে মা বলেন, “আহা ওরা ভালো চায় বলেই বলে তো, আরও দেরি করলে এই কথা কটা বলারও লোক থাকবে না মনে রেখো। থেকো তখন ধোপানাপিত বন্ধ হয়ে।”

মোদ্দা কথা, পুজোয় বাড়ি যাওয়া মানেই একগাদা ড্রামা। জঘন্য টাইপের।  

কিন্তু দুর্গা ছাড়াও তো অন্য দেবদেবী আছেন। এই যেমন লক্ষ্মী সরস্বতী। শীতের সকালে হলুদবাটা মেখে কাঁপতে কাঁপতে স্নান, বাসন্তীরঙের শাড়ি আর সারাদিন পড়া ফাঁকি দেওয়াটেওয়া মিলিয়ে সরস্বতী পুজো তো আমার ফেভারিট, লক্ষ্মীও মন্দ না। সারাবাড়ি জুড়ে পায়ের পাতা আর ধানের ছড়া এঁকে, ঠাকুরঘরে চোখে-জল-আনা ধুনোর ধোঁয়ার মধ্যে বসে প্রাণপণে গাল ফুলিয়ে শাঁখে ফুঁ দাও। ফুঁ দেওয়া সারা হলে মুঠো ভরে মুড়কি আর নাড়ু খাও পা দুলিয়ে। লক্ষ্মীপুজোর একমাত্র মাইনাস পয়েন্ট হচ্ছে কদমা। কদমা না খেতে হলে লক্ষ্মী সরস্বতী দুটো পুজোই আমার কাছে সমান ভালো।

কিন্তু এখন শুনছি আরও কত সব ভালো ভালো ঠাকুরদেবতার পুজো হচ্ছে চারদিকে। কাল রাতে মাকে ফোন করে ঘ্যানঘ্যান করে মাথাব্যথা পেটব্যথার ব্যাখ্যান করছি, দেখি মা ওদিক থেকে হুহাঁ করে সারছেন। আমি ভয়ানক আহত হয়ে বললাম, “একটা তো মাত্তর মেয়ে, তার দিকেও কি একটু মনোযোগ দিতে নেই?” তাতে মা খুব লজ্জিত গলায় বললেন, “না আসলে টিভিতে খুঁটিপুজো-পরিক্রমা দেখাচ্ছে কিনা, তাই বারবার ওদিকে চোখ চলে যাচ্ছে।”

আমি আকাশ থেকে পড়ে বললাম, “কী পুজো?”

“খুঁটি খুঁটি।”

“কীসের খুঁটি!”

“আরে দুগগাপুজোর প্যান্ডেলের খুঁটি পুঁতেছে না, সেই খুঁটির পুজো হচ্ছে চারদিকে। জুন মালিয়ারা সব উদ্বোধন করতে গেছে।” মা নিজের অন্যমনস্কতা জাস্টিফাই করতে তারকাদের নেমড্রপ করতে শুরু করেন। 

আমি বাক্যহারা হয়ে ফোন নামিয়ে রেখে ব্যাপারটা তলিয়ে দেখতে বসি। না, মা ইয়ার্কি মারেননি। এই দেখুন প্রমাণ। 

India Khuti Pooja

শিকদারবাগান প্যান্ডেলের খুঁটি পুজোর উদ্বোধন করছেন জুন মালিয়া, লকেট চ্যাটার্জি। আরও কয়েকজনকে চিনতে পারছি অবশ্য আমি। লোপামুদ্রা, রূপঙ্কর।

সর্বনাশ, রূপঙ্করের বাঁ-পাশের ঝাঁকড়াচুলো লোকটার পাশে ওটা কে, অনিন্দ্য নাকি?!

দাঁড়ান একটু সামলে নি।

.........

হ্যাঁ যা বলছিলাম। খুঁটিপুজো একটা সিরিয়াস ব্যাপার এখন কলকাতায়। তেরোশো পার্বণের অন্যতম পার্বণ। এই দেখুন লকেট চ্যাটার্জি শিকদারবাগানের খুঁটিপুজো সেরে আবার কুমারটুলি পার্কের খুঁটিপুজো উদ্বোধন করতে গেছেন। অবশ্য কুমারটুলি পার্ক সেরে শিকদারবাগান গেছেন সেটাও হতে পারে।



যাই হোক, আমি মনস্থির করে ফেলেছি। পরের বার খুঁটিপুজো মিস হতে দিচ্ছি না কিছুতেই। আগেভাগে টিকিট কেটে রাখব। মাকে বলব শাড়ি কিনে ম্যাচিং ব্লাউজ বানিয়ে রাখতে। আর জাঙ্ক জুয়েলারি। আপনারাও চলুন না। দলবেঁধে খুঁটিপুজো হপিং-এ বেরোনো যাবে বেশ। ভীষণ মজা হবে। আর যদি কায়দা করে তারকাদের ভিড়ের ফাঁকফোঁকর দিয়ে হাত বাড়িয়ে খুঁটি ছুঁয়ে দিতে পারেন, আপনাদেরও ছবি বেরোবে এরকম সাইটে সাইটে, খবরের কাগজের পাতায় পাতায়।



কী যাবেন নাকি? চলুন চলুন প্লিইইইজ।

Dis or Dat




অর্জুন না কিকিরাঃ কিকিরা

ডেনিম না কর্ডঃ ডেনিম

লেপ না কম্বলঃ লেপ

সোয়েটার না চাদরঃ সোয়েটার

কলসী না কুঁজোঃ কুঁজো

ল্যাপটপ না ট্যাবলেটঃ ল্যাপটপ

পর্দা না ব্লাইন্ডসঃ পর্দা

ট্র্যাডিশনাল না ওপেন-বুকঃ ট্র্যাডিশনাল

স্পষ্টবাদী না মিষ্টভাষীঃ মিষ্টভাষী

উপমা (নোনতা সুজি) না চিঁড়ের পোলাওঃ চিঁড়ের পোলাও

হার্ডকভার না পেপারব্যাকঃ পেপারব্যাক

দক্ষিণেশ্বর না বেলুড়মঠঃ দক্ষিণেশ্বর

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল  না মিলেনিয়াম পার্কঃ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল  

কমেন্টস না পেজভিউসঃ কমেন্টস

সুমন না মহীনের ঘোড়াগুলিঃ সুমন

কৃষ্ণচূড়া না রাধাচূড়াঃ কৃষ্ণচূড়া

গদ্য না পদ্যঃ গদ্য

ভাবসম্প্রসারণ না সংক্ষিপ্তসারঃ সংক্ষিপ্তসার

দীঘা না পুরীঃ পুরী

কার্ডিও না ওয়েটসঃ কার্ডিও

ওয়ে ওয়ে না তু চিজ বড়ি হ্যায়ঃ তু চিজ বড়ি হ্যায়

শনি না রবিঃ শনি

বলা না শোনাঃ শোনা

ইন্টারনেট না টিভিঃ ইন্টারনেট

কড়া না কলিং বেলঃ কড়া

নুডলস না ফ্রায়েড রাইসঃ নুডলস

রুমাল না টিস্যুঃ রুমাল

শ্যামা না চিত্রাঙ্গদাঃ চিত্রাঙ্গদা

বুড়ো না কড়েঃ বুড়ো

উদিতনারায়ণ না কুমার শানুঃ কুমার শানু


August 20, 2012

হাত ঘোরালেই বর্ণমালা



The Entire Alphabet Created with Long Exposure Photos of Hand Waving

বাই দ্য ওয়ে, একটা গোলমাল আছে বর্ণমালায়। বলুন তো কী?


ভাবা যায়?



মাসখানেক আগে একবার হয়েছিল, পাত্তা দিইনি। গত সপ্তাহে আবার হল। রাতের দিকে অল্প অল্প শীত করে। সকালে ঘুম ভাঙার পর ঘাড় মাথা অসম্ভব ভারি লাগে, ঢোঁক গিলতে কষ্ট হয়, কান-নাক-গলা তিনটেকে যোগ করে যে রাস্তাটা গেছে মাথার ভেতর দিয়ে, সেটা জলবিছুটি লাগার মত জ্বলতে থাকে।

এই পর্যন্ত শুনে সোমা লাফিয়ে পড়ে বলল, কুন্তলা বেশি কায়দা না করে এইবেলা ডাক্তারের কাছে যা বলছি। বান্টি বলল, আহা এখনি ডাক্তার কীসের। আগে গার্গল করে দেখো, হয়ত নিরীহ ইনফেকশন। সোমা জ্বলন্ত চোখে বান্টির দিকে তাকিয়ে বলল, নিরীহ ইনফেকশন? তুই কি ডাক্তার? কী থেকে কী হয় জানিস তুই?

একটা ঝামেলা বাধে বাধে দেখে আমি বললাম, আহা তোমরা আমার কথাটা শোনো আগে। আমার সমস্যাটা এটা নয়।

“তবে কোনটা?”

“সমস্যাটা হল যে যে দুদিন এরকম হয়েছিল, দুদিনই আমার কোনো ডেডলাইন ছিল না, এমনকি পরেরদিনও, তার পরেরদিনও না, তার তার পরেরদিনও...”

বান্টি বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝেছি আগে বাঢ়ো।”

আমি বললাম, “ব্যাপারটা হচ্ছে যে দুদিনই আমার অফিস না গেলেও চলত, আমিও দুদিনই সকালে উঠে ডিসাইড করে ফেলেছিলাম যে ডুব মারব। কিন্তু যত ঘড়ি এগোতে লাগল আমার মনের জোর কমতে লাগল, সাড়ে সাতটা নাগাদ সেটা কমতে কমতে তলানিতে ঠেকল, আটটার সময় আমি আর থাকতে না পেরে দু’মিনিটে কাকের মতো ঝপঝপ স্নান সেরে, ভেজা চুলে, কোনোমতে মিসম্যাচ জামাপ্যান্ট অ্যাঁকাব্যাকা করে গলিয়ে ছুটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প’নে নটার মধ্যে অফিসের চেয়ারে বডি ফেলে হাঁসফাঁস করে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলাম।”

জোড়া জোড়া চোখ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

“ইয়ে, আমার মনে হচ্ছে আমার...মানে আমি বোধহয় অফিস-যাওয়া ব্যাপারটার প্রেমে পড়ে গেছি।”

জোড়া জোড়া চোখে কৌতূহলের বদলে অবিশ্বাস, অবিশ্বাসের বদলে যন্ত্রণা ফুটে উঠল। প্রতারিত হওয়ার যন্ত্রণা।

মিনিট দুয়েক পর একমাত্র বান্টি কথা বলল।

“ক্যাপিটালিজম শেষটায় ধরে ফেলল তো?”

সিরিয়াসলি। নিজের মনকে চোখ ঠারাবার অনেক চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত আমি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি যে অফিস যেতে আমার ভালো লাগে। কোথায় গেল দশটা-পাঁচটার প্রতি আমার সেই অসীম তাচ্ছিল্য, ডেস্কজবের প্রতি সেই অগাধ অনীহা, নিজেই নিজের মালিক হওয়ার সেই অদম্য আকাঙ্ক্ষা---আমি ভেবে পাই না।

সত্যি বলছি, এখন যদি কেউ আমাকে বলে এই চাকরিটা ছেড়ে উটের পিঠে চেপে মিশরের মরুভূমি এক্সপ্লোর (অল-এক্সপেন্স-পেড) করতে যাবে নাকি, আমি এককথায় হ্যাঁ বলতে পারবনা। মাথা চুলকে, "ভেবে দেখছি" বলে এড়িয়ে যাব।  

অবিশ্বাস্য।

আমি ভেবে দেখেছি আমার এই ১৮০ ডিগ্রি পালটি খাওয়ার রহস্যটা কী। মিশরই হোক কি রেনফরেস্টই হোক কি অ্যান্টার্কটিকা, আসল কথা তো পালানো? এই বাড়িটা, বিছানাটা, রান্নাঘরটা থেকে? অফিস আমাকে সেই পালানোর জায়গাটা অলরেডি করে দিয়েছে। পালানোও যায় আবার পথে পথে ঘুরতেও হয় না। একটা জায়গায় একটা চেয়ার টেবিলে আমার নাম লেখা আছে। সেখানে গিয়ে বসে থাকা যায় সারাদিন।

বুড়ো যে হয়েছি এটা তার আরও একটা প্রমাণ। অনির্দেশ্য অ্যাডভেঞ্চারের হাতছানির থেকে চেনা আশ্বাস অনেক বেশি প্রিয় লাগে এখন। অবস্থা এমন হয়েছে যে অফিস যাওয়ার চেনা রাস্তাটা, চেনা চেনা মোড়গুলো, চেনা সিগন্যালে আটকা পড়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশের গাড়ির বেগুনি-চুলো ড্রাইভারের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকা যতক্ষণ না সে আমার দিকে ভুরু কুঁচকে ফিরে তাকাচ্ছে---সব ভালোলাগছে আমার আজকাল।

তাছাড়া আমার ডেস্কটা তো আছেই। L-শেপড শক্তপোক্ত উডফিনিশ ডেস্ক। একগাদা কাগজপত্র, পেনস্ট্যান্ড, চায়ের কাপ, জলের গ্লাস রাখার পরেও, লাঞ্চের পর চট করে হেড ডাউন করার মতো অনেক জায়গা বাকি থাকে সেটায়। আমার মাথার পেছনের বড় জানালাটা দিয়ে অনেক গাছ আর গাছের ওপারে অনেক দূরে উঁচু উঁচু বাড়ি দেখা যায়। মনিটরের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে চোখে ব্যথা হয়ে গেলে আমি চেয়ারশুদ্ধু ঘুরে গিয়ে সেই বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। কোনটা কীসের বিল্ডিং সেটা চেনার খেলা খেলি নিজের সাথে আর তপ্ত আর্ল গ্রে-র কাপে চুমুক দিতে দিতে চেয়ারটা নিয়ে অল্প অল্প এদিক ওদিক দোল খাই।

কাজেই হ্যাঁ, আমার ইদানিং অফিস যেতে খুব ভালোলাগছে। ডেডলাইন না থাকলেও, থাকলেও। রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যাম না থাকলেও, থাকলেও। আর্ল গ্রে-টা না থাকলে অবশ্য কী হবে বলা যাচ্ছে না, কিন্তু সেটা যতদিন আছে ততদিন সে নিয়ে ভেবে লাভ নেই।

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.