September 29, 2012

সাপ্তাহিকী




ছেলের সঙ্গে পাবলো পিক্যাসো
ছবিঃ রবার্ট কাপা

I think everybody should like everybody.
এমন কথা আর কেই বা বলতে পারেন? অ্যান্ডি ওয়ারহল ছাড়া?

শাহরুখ খান বা প্রীতি জিন্টার মতো গালে টোল চাই? তবে এই যন্ত্রটা  জোগাড় করুন।

আহা এরকম একটা ঘুড্ডির সঙ্গে আমিও যদি উড়ে যেতে পারতাম।

যে চাকরিগুলো আপনি চাইলেও আর পাবেন না।

এসপ্তাহে আপনাদের জন্য রইল এই মধুর গানটি। কানুকে দিয়ে যেতে পারছি না, কিন্তু অবান্তরকে আপনাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে ক'দিনের জন্য ভাগলবা হচ্ছি। দেখা হবে সোম নয়, মঙ্গল নয়, বুধ নয়, সেই এক্কেবারে বৃহস্পতিবার। ততদিন ভালো হয়ে থাকবেন, বরফি এখনো না দেখে থাকলে দেখে ফেলবেন, আর অবান্তরকে মনে রাখবেন। টা টা। 


September 28, 2012

হারানো হিন্দি


পূর্বভারতের মানুষ হওয়ার একটা এক্সটারন্যালিটি হল হিন্দি ভাষার সঙ্গে সম্পর্কটা একটু গোলমেলে হয়ে যাওয়া। জেনেরালাইজেশনের ঝুঁকি নিয়েই বলছি উত্তরভারতের লোকেদের মতো ভাষাটার প্রতি অন্ধ আনুগত্য কিংবা দক্ষিণ ভারতীয়দের মতো বাড়াবাড়ি বৈরিতা কোনোটাই আমাদের থাকেনা। নিজের কথা বলতে পারি, আমার সঙ্গে রাষ্ট্রভাষার সম্পর্ক, যাকে বলে---কমপ্লিকেটেড। আমার ধারণা বেশিরভাগ বাঙালিরই তাই। অন্তত আমি যেসব বাঙালির মাঝখানে বড় হয়েছি তাদের দেখে আমার সে ধারণাটাই বদ্ধমূল হয়েছে।

হিন্দি ভাষার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ‘বুনিয়াদ’ দেখতে গিয়ে। আমার মা, যিনি টিভিকে সাক্ষাৎ শয়তানের অবতার বলে মনে করেন, যিনি শনিরবিবারের বাংলা সিনেমা তো দূরের কথা, টিভিতে রামায়ণ মহাভারত পর্যন্ত দেখতেন না, তিনিও বুনিয়াদ দেখতেন। আর তাঁর কোলে বসে আধাঘুমন্ত চোখে আমিও। অবশ্য বুনিয়াদ খায় না মাথায় দেয় এসব কিছু বোঝার ক্ষমতা আমার ছিলনা। বড়দের সঙ্গে বসে বড়দের মতো একটা কিছু করার গৌরব, সেটাই ছিল আমার বুনিয়াদ দেখার একমাত্র মোটিভেশন। ছোটবেলায় সবার দেখাদেখি আমি দুটো হিন্দি কথা শিখেছিলাম। এক অনেকক্ষণ লোডশেডিং চলার পর কারেন্ট এলে পাড়াশুদ্ধু সবাই চেঁচিয়ে “আ গয়া” বলত সেইটা, আর দু’নম্বর হল “প্যার”। আনন্দবাজারের দু’নম্বর পাতাতে দু’ইঞ্চি বাই দু’’ইঞ্চি বর্গক্ষেত্রের আকারে হিন্দি সিনেমার বিজ্ঞাপন বেরোত তখনো। বর্গক্ষেত্র জোড়া মিঠুন চক্রবর্তীর যন্ত্রণাবিদ্ধ মুখের ছবি আর সেই মুখের ওপর দিয়ে বড় বড় করে নাটকীয় ফন্টে লেখা “প্যার কে দো পল”। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে।

প্যার কে দো পল

হিন্দির সঙ্গে ভালো করে পরিচয় হল ক্লাস সেভেনে উঠে। তাও সেটা ঠিক হিন্দি নয়, দেবনাগরী। আমাদের পাড়াগেঁয়ে বালিকা বিদ্যালয়ে থার্ড ল্যাঙ্গোয়েজ হিসেবে একমাত্র সংস্কৃত শেখারই ব্যবস্থা ছিল। অনেক স্কুলে শুনেছি ফ্রেঞ্চ জার্মান স্প্যানিশ শেখায়। যাদের অতসব থাকে না তাদেরও অন্তত হিন্দি শেখার ব্যবস্থাটা থাকে। আমাদের তাও ছিলনা। আমাদের পোড়াকপালে খালি দুলে দুলে নর নরৌ নরাঃ আর নরম নরৌ নরাঃ। কিন্তু ওই করতে গিয়ে দেবনাগরী হরফটা শেখা হয়ে গিয়েছিল তাই এখনো সময় দিলে হিন্দি লেখা বানান করে পড়তে পারি। তবে হিন্দির এক দুই তিন চার সংখ্যাগুলো আবার হিব্রু হয়ে গেছে।

অবশ্য আমার থেকেও হিন্দির সঙ্গে অনেক বেশি জটিল সম্পর্ক আমার মায়ের। কবে কোথায় অফিস থেকে মা’কে রাষ্ট্রভাষার ট্রেনিং নেওয়ানো হয়েছিল নাকি, সেই থেকে মায়ের ধারণা হয়েছে তিনি হিন্দিটা জাস্ট ভালো জানেন। বিশেষ করে স্পোকেন হিন্দি। পথে ঘাটে যেখানেই হিন্দি বলার সুযোগ আসে মা ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটার সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েন না। যেমন কলকাতায় ট্যাক্সি ধরার সময়।

“রোককে রোককে।”

আমার মায়ের পাঁচ ফুট দু’ইঞ্চি সাতচল্লিশ কেজি কাঠামোর হাত নাড়ার দাপট দেখে হলুদ ট্যাক্সি ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে।

“কসবা যানা হ্যায় ভাইয়া?”

জানালা দিয়ে মুখ বার করে ট্যাক্সিওয়ালা, আমার চশমা খুলে নিলেও যাকে আমি দশ মাইল দূর থেকে বাঙালি বলে চিহ্নিত করতে পারব, ফচাৎ করে রাস্তায় একগাদা পানমশলার থুতু ফেলে মুখ খালি করে বলেন, “না দিদি যাবনা।”

মা ফোঁস করে ওঠেন, “কিউ? কিউ নেহি যায়েঙ্গে? আপলোগ অ্যায়সা করেঙ্গে তো হাম ক্যায়সে যায়েঙ্গে?”

আমি মায়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে প্রাণপণে ফিসফিসাই, “মা মা উনি বাঙালি।”

“তুই থাম” মায়ের তখন মাথা গরম হয়ে গেছে। “এই তোদের মতো মুখচোরাদের জন্যই আজ দেশের এই অবস্থা। সবাই সাপের পাঁচ পা দেখেছে।”

বুঝুন। ওই পরিস্থিতিতেও সুযোগ পেয়েই আমাকে বকুনি দিয়ে নেন মা। দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতিও নাকি আমার দোষ। আত্মসম্মানে ভয়ানক ঘা লাগে আমার। “যা পারো কর আমি আর এর মধ্যে নেই” ভাব নিয়ে আমি উল্টোদিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে দাঁড়িয়ে থাকি আর “যায়েঙ্গে, কিউ নেহি যায়েঙ্গে, পুলিশ ডাকেঙ্গে” শব্দগুলো গুলির মতো ছিটকে ছিটকে কানে আসতে থাকে।

পুলিশের নামে একটুও না ঘাবড়ে, কাঁচকলা দেখিয়ে মুখের ওপর একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অগত্যা ট্যাক্সির আশা ছেড়ে হাওড়া রথতলা মিনি-র খোঁজে বেরোতে হয় আমাদের। অলরেডি স্টার্ট দিয়ে দেওয়া একটা বাসের দিকে ছুটে যেতে যেতে মা চিৎকার করেন, “বাঁধকে বাঁধকে...”

পরে মাথা ঠাণ্ডা হলে আমি মা’কে জিজ্ঞাসা করেছি, “কেন মা? যতই হোক কলকাতাতেই তো আছ, হিন্দি না বললে তো কেউ হাতে মাথা কাটবে না তোমার?” মা অবিচল মুখে বালিশে ওয়াড় পরাতে পরাতে জবাব দেন, “তোদের তো আমার সবকিছুই অপছন্দ। কই আর কেউ তো কোনোদিন আমার হিন্দির খুঁত ধরেনি।”

ধরতে তাদের বয়েই গেছে। তারা কি তোমার রক্তের আত্মীয় যে তোমার ভুল ধরে বেড়াবে? দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলতাম আমি।

JNU যাওয়ার পর অটোওয়ালাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে করতে হিন্দিটা বেশ রপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এতটাই রপ্ত হয়েছিল যে ধাবায় বসে অবাঙালি বন্ধুদের সঙ্গে গপ্প করতে করতে তাদের পিঠ চাপড়ে “আরে ইয়ায়ায়ায়ার” পর্যন্ত বলতাম। এই বই ছুঁয়ে বলছি, ডিপার্টমেন্টে সেমিনার-টেমিনার হলে আমাকে সবসময় ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্টের দায়িত্বে রাখা হত। এয়ারপোর্ট থেকে বিখ্যাত লোকদের আনাটানার সময় ট্যাক্সিওয়ালাদের সঙ্গে দরাদরি করার জন্য একক্লাস বাঙালির মধ্যে আমার থেকে বেশি আর কারো ওপর ভরসাই করতে পারতেন না স্যারেরা।

সেটা আমার একটা গোপন গর্বের জায়গাও ছিল জানেন। ঝরঝরে হিন্দিতে ট্যাক্সিওয়ালাদের সঙ্গে দরাদরি করার সময় বেচারি মায়ের কথা মনে পড়ে মনটা নরম হয়ে আসত। আহারে, মা কী করেই বা ভালো হিন্দি বলবেন? বাংলা বলয়ের বাইরে তো বেরোনইনি কোনোদিন। মনে মনে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করতাম, মায়ের হিন্দি বলায় আর কোনোদিন বাধা দেব না। শখ মিটিয়ে হিন্দি বলবেন আমার মা।

কিন্তু ইদানিং টের পাচ্ছি যে হিন্দি শেখাটা ঠিক সাইকেল বা সাঁতার শেখার মতো ব্যাপার নয়। একবার শিখে ফেললাম আর জীবনের মতো সে বিদ্যাটা মগজের ভেতর সেঁধিয়ে গেল, সে আশায় গুড়ে বালি। এই গত ১৭ তারিখে, যেদিন বিশ্বকর্মা পুজো ছিল, এক গুজরাতি বেন-জি’কে খুব নস্ট্যালজিক হয়ে গল্প করতে করতে আমি বললাম, “ওয়েস্ট বেঙ্গল মে তো সবলোগ ইসদিন ঘুড্ডি উড়াতে হ্যায়।”

“ঘুড্ডি?” বেন-জির চোখমুখে কনফিউশন ফুটে ওঠে।

“হাঁ হাঁ ঘুড্ডি।” এতটাই সাহেব হয়েছেন যে ঘুড্ডি বুঝতে পারছেন না ভেবে মনে মনে খুব জাজ করে নিয়ে আমি হাত নেড়ে সুতো টানার অভিনয় করে দেখাই। “ঘুড্ডি মালুম নেহি?”

“ওওহহহহ, ইউ মিন পতংগ?”

সেই মুহূর্তে আমার মানসিক অবস্থাটা প্রকাশ করার মতো ভাষা নেই আমার। আপনাদের বুঝে নিতে হবে। অনেকটা ধরুন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া আর পায়ের তলার মেদিনী দুভাগ হয়ে ঢুকে যেতে চাওয়ার একটা কম্বিনেশন হবে।

ছি ছি ছি ছি। এই আমিই কিনা সেদিন CV আপডেট করতে গিয়ে হিন্দিতে অ্যামেজিং প্রফিশিয়েন্সি-র খোপে টিক মেরেছি।

জঘন্য।

সেই থেকে হৃত-হিন্দির শোকে কাতর হয়ে ভেবে চলেছি কেন এমনটা হল। ভেবে ভেবে একটাই সম্ভাবনা মাথায় আসছে। মায়ের অভিশাপ। যতবার রাস্তায় মায়ের হিন্দি শুনে হেসেছি, কেঁদেছি, লজ্জা পেয়েছি, ততবার মা আমাকে মনে মনে, জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে অভিশাপ দিয়েছেন। বলেছেন, “এখন যত হাসবি হেসে নে, সময় এলে দেখবি কেমন লাগে।”

এত নিষ্ঠুরও হয় মানুষে? আপনারাই বলুন?  

September 27, 2012

ঢাল তরোয়াল নেই? টি শার্ট তো আছে।


দুটো মগজ, দুশো বাইশটা টি শার্ট, উদ্ভট আইডিয়া আর সে আইডিয়াকে বাস্তবে রূপায়িত করার অসীম ধৈর্য। পরিণতি যে দেখার মতো হবে তাতে আপনার সন্দেহ ছিল নাকি? আমার তো ছিল না। 




September 26, 2012

ছবি দেখে ছায়াছবি, দেখুন তো চিনতে পারেন নাকি



আজ চলুন একটু অন্যরকম খেলা করা যাক। নিচে যে দশটা ছবি দেখতে পাচ্ছেন সেগুলো আসলে ছবি নয়, সিনেমার ক্লু। সবকটি ক্লু-ই সোজা, তার মধ্যে কয়েকটি তো আবার বাড়াবাড়ি রকমের সোজা। আপনাদের কাজ হচ্ছে ক্লু গুলো থেকে সিনেমা চেনা।

ছোটবেলার শিক্ষা মনে আছে নিশ্চয়? উত্তর লেখার সময় স্পষ্ট করে কত নম্বর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন সেটা লিখতে ভুলবেন না। ভুললেই ঘ্যাচাং করে নম্বর কাটব।

খেলায় টোকাটুকি এড়ানোর জন্য আমি আপাতত কমেন্ট অদৃশ্য রাখছি। যিনি সবার আগে জবাব দেবেন তাঁকে এক্সট্রা নম্বর দেওয়া হবে। অতএব আলসেমি না করে লেগে পড়ুন।

1.
 

2.

3.

4.

5.

6.

7.

8.

9.

10.

রেডি, স্টেডি (আমি যদিও অনেকদিন পর্যন্ত সেডি বলতাম), গো।


******


টিং টিং টিং খেলা শেষ!!!


আপনাদের অংশগ্রহণ দেখে আমি মুগ্ধ, শিহরিত, বিগলিত। ঠিক উত্তরগুলো জানাতে আর দেরি করব না কারণ আমি জানি আপনারা আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না। কিন্তু যে কথাটা ফলাফল ঘোষণার আগে বলতেই হয় সেটা একবার বলে নিই?

মনে রাখবেন হার-জিতটা কথা নয়, পার্টিসিপেশনটাই আসল। আপনারা যে সেটা করেছেন সেই জন্য আমি গর্বিত।

1.    মিলিয়ন ডলার বেবি
2.    সিক্সথ সেন্স
3.    র‍্যাম + বো = র‍্যাম্বো
4.    রিজারভয়ার ডগস
5.    নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
6.    দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস
7.    ওয়াল ই
8.    টুয়েলভ অ্যাংরি মেন
9.    স্কার্ফ + এস = স্কারফেস
10.  গ্রেপস অফ র‍্যাথ

এইবার নম্বরের পালা

অভিষেক, অপু---১০/১০
সুগত---৯+০.৫(প্রথম উত্তর)=৯.৫/১০
বিম্ববতী, পরমা, দীপ্তকীর্তি---৯/১০
দেবাশিস, সুনন্দ---৮/১০
তিন্নি, কুহেলি, সায়ক, SG---৭/১০
ঋতুপর্ণা---৬/১০
স্বাগতা---৫/১০
শম্পা, রিয়া---৪/১০
শ্রমণ---পার্টিসিপেশন, পার্টিসিপেশন, পার্টিসিপেশন।

September 25, 2012

Dis or Dat: চলচ্চিত্রচঞ্চরি



গুগল ইমেজেস থেকে

পথের পাঁচালী না অপরাজিতঃ অপরাজিত

উনিশে এপ্রিল না পারমিতার একদিনঃ উনিশে এপ্রিল

ভূতের ভবিষ্যৎ না বাইশে শ্রাবণঃ ভূতের ভবিষ্যৎ

হীরের আংটি না কাবুলিওয়ালাঃ কাবুলিওয়ালা

সপ্তপদী না উত্তরফাল্গুনীঃ উত্তরফাল্গুনী

বাওর্চি (বাবুর্চি) না গল্প হলেও সত্যিঃ গল্প হলেও সত্যি

কুছ কুছ হোতা হ্যায় না দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গেঃ দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে

থ্রি ইডিয়েটস না রংগ দে বসন্তিঃ রংগ দে বসন্তি

লগান না চক দে ইন্ডিয়াঃ লগান

ব্ল্যাক না বরফিঃ বরফি

গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর (এক এবং দুই) না গুলালঃ গুলাল

গোলমাল না যানে ভি দো ইয়ারোঃ যানে ভি দো ইয়ারো

সত্যা না কম্পানিঃ সত্যা

গুন্ডা না শোলেঃ শোলে

বর্ডার না গদরঃ বর্ডার

ফায়ার না 1947 আর্থঃ 1947 আর্থ

সিলসিলা না কভি কভিঃ সিলসিলা

আনন্দ না অভিমানঃ অভিমান

খামোশি না হাম দিল দে চুকে সনমঃ খামোশি

দ্য বিগ লেবোস্কি না নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেনঃ দ্য বিগ লেবোস্কি

ফিলাডেলফিয়া না ফরেস্ট গাম্পঃ ফরেস্ট গাম্প

ফাইন্ডিং নিমো না কুংফু পাণ্ডাঃ ফাইন্ডিং নিমো

টাইটানিক না জুরাসিক পার্কঃ জুরাসিক পার্ক

দ্য শিন্ডলার্স লিস্ট না শশাঙ্ক রিডেম্পশনঃ দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন

গ্ল্যাডিয়েটর না আ বিউটিফুল মাইন্ডঃ আ বিউটিফুল মাইন্ড

ফার্গো না ফাইটক্লাবঃ ফার্গো

দ্য ম্যাট্রিক্স না ইনসেপশনঃ দ্য ম্যাট্রিক্স

টুয়েলভ অ্যাংরি মেন না পাল্প ফিকশনঃ টুয়েলভ অ্যাংরি মেন

সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস না সাইকোঃ সাইকো

দ্য শাইনিং না দ্য রিং: দ্য রিং

আবিষ্কারের নেপথ্যে


জাড্য কাকে বলে? ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে প্রশ্নটার সঙ্গে প্রথম মোলাকাত হয় রিচার্ড ফেইনম্যানের। সেই প্রশ্নের পিছু ধাওয়া করতে করতে শেষমেষ নোবেল প্রাইজ। তবে নোবেলের থেকেও বড় প্রাপ্তি, মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারের পরিধি আরো একটু বিস্তৃত হওয়া। এরকম কত অকিঞ্চিৎকর প্রশ্ন মানবসভ্যতাকে কত লক্ষযোজন এগিয়ে দিয়েছে জানতে হলে নিচের ভিডিওটা অবশ্যই দেখুন। 



September 24, 2012

দুঃখের কথা



ডেথক্লক যতই ভয় দেখাক না কেন আমি একশো তিন বছর বাঁচব, আমি জানি আমার আয়ু মেরেকেটে তেষট্টি। আমার দিদিমা সাতান্ন বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় ভুগে মারা গিয়েছিলেন আর দাদু বাষট্টিতে। এর সঙ্গে ধরুন আমার ঠাকুরদার সত্তর। সবশুদ্ধু যোগ করে তিন দিয়ে ভাগ করুন। তেষট্টি হল কিনা?

সময়ের বেশি বেঁচে থাকাকে আমার বড় ভয়। মায়েরা ছোটবেলায় বাজেশিবপুরের যে বাড়িটায় ভাড়া থাকতেন তার পাশের বাড়িতে একটা বুড়ি থাকত শুনেছি। বুড়ির ছেলেমেয়ে সব বড় হয়ে, বুড়ো হয়ে, নিজেরাই ঠাকুমা-দাদু হয়ে গিয়েছিল তবু বুড়ির মরবার উপক্রম দেখা যাচ্ছিল না। সে সকালবেলা হলেই খুরখুরিয়ে বারান্দায় এসে বসে পাড়াশুদ্ধু লোকের হাঁড়ির খবরাখবর নিত, আর মাঝে মাঝে খবর নেওয়া থামিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুলে ইনিয়েবিনিয়ে বিলাপ করত, “ওরে নে রে, নে রে, নে রে।” তবু ভগবান তাকে নেওয়ার নাম করতেন না।

কী ভয়ানক ভাবুন। নিজেই নিজের মৃত্যুকামনা করার পর্যায়ে যাওয়ার আগে যেন সবাইকে কাঁচকলা দেখিয়ে কেটে পড়তে পারি ঠাকুর।

যাই হোক, আমার আন্দাজ যদি সত্যি হয় (যেন হয় যেন হয় যেন হয়) তাহলে আমি জীবনের প্রায় অর্ধেক পথ পেরিয়ে এসেছি বলা যেতে পারে। তেষট্টি বাই টু ইজুক্যালটু থাট্টিওয়ান অ্যান্ড হাফ। আমার এই অর্ধেকটা জীবনকে আবার যদি অর্ধেক করি, এবার আর বছরের নিরিখে নয়, অভিজ্ঞতার নিরিখে, তাহলে পঁচিশ বছর বয়সটাকে জলবিভাজিকা হিসেবে ধরতে হবে। আঠেরো নয়, একুশ নয়, পঁচিশ।

পঁচিশ কেন? বাইরে থেকে দেখলে বোঝা মুশকিল। পঁচিশের কুন্তলার জীবনে এমন কিছুই ঘটেনি যেটা চব্বিশে অলরেডি ঘটে যায়নি বা ছাব্বিশে আর ঘটবার আশা নেই। আমার চোখের পাওয়ার তখনি মাইনাস বারো, তখনি আমার গালে ব্রণর দাগ আজীবনের মতো খোদাই হয়ে গেছে। প্রথমবার প্রেমে পড়া, প্রথমবার প্রেম থেকে ছিটকে পড়া, সুমনের গান শোনা থেকে ম্যাক্রো টার্মপেপারে বি মাইনাস---জীবনের সবক’টা মাইলস্টোন আমি তখন অলরেডি ছুঁয়ে এসেছি। ছাব্বিশেও অনেক ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটবে বলে অপেক্ষা করা আছে। যেমন কিনা সুটকেসে প্রেশারকুকার ভরে সাগরপাড়ি।

তবু পঁচিশ দ্বীপের মতো মাথা তুলে জেগে আছে।

কেন কে জানে। হয়ত পঁচিশে আমি শেষবারের মতো আমার জীবনের লাগাম নিজের হাতে নিয়েছিলাম বলে। যা হচ্ছে হোকের স্রোতে গা না ভাসিয়ে উঠেপড়ে লেগে, আদানুন খেয়ে, যা চাই সেটা আদায় করে ছেড়েছিলাম বলে।

এই আদায় করে নেওয়াটাকে বড্ড মিস করছি আজকাল। স্বপ্ন দেখার জোর কমে আসছে বুকের ভেতর টের পাচ্ছি। কিছু একটা করার, কোথাও একটা পৌঁছনোর তাগিদ আগের মতো আর সকালবিকেল অবিরাম ঠ্যালা মারছে না। যেটুকু হল সেটুকু দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়ার একটা দায়সারা ভাব ক্রমশ পায়ের তলায় মাটি পাচ্ছে।

এসব কথা মা’কে ঘ্যানঘ্যান করে বলতে মা খুব খুশি হয়ে বললেন, “ভাগ্যিস! সারাজীবন ছুটে বেড়াতে হলে কী কেলেঙ্কারি হত বল দেখি সোনা?”

মায়ের মতে সব ঠিকঠাকই আছে নাকি। এরকমটাই নাকি হওয়ার কথা এখন। যা হয়নি ভালোর জন্যই হয়নি ভেবে শান্ত হয়ে বসার সময় নাকি এটাই।

“মানে! আর কিছু হবে না আমার বলছ!” আমার আর্তনাদ শুনে মায়ের দয়া হয়। “আহা হবেনা বললাম নাকি? সব হওয়া একরকম সেটাই বা কে বলল সোনা? একরকম করে যদি না হয়, অন্যরকম করে হবে তো।”

বোঝা গেছে। আমার নিজের কেরামতি শেষ, এবার অন্যের কেরামতিতে মুগ্ধ হবার পালা। সুপাত্রের সঙ্গে বিয়ে হবে, ছেলেপুলে হবে, তারা নাচবে গাইবে ফুরফুরে ইংরিজিতে কথা কইবে, সেই দেখে দেখে আমার বুক ফুলবে। নিজের না পাওয়ার অতৃপ্তিগুলো বাৎসল্যের এমন পুরু কম্বলের তলায় চাপা পড়বে যে সেগুলোকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না।

সে তবু একরকম হবে জানেন। এই যে সর্বক্ষণ কিছু হলনা কিছু হলনা কাঁটার খোঁচা, আবার ঝাড়াপাড়া দিয়ে উঠে না হওয়াটাকে হইয়ে নেওয়ার মুরোদের অভাব, এর থেকে অন্তত ঢের ভালো হবে। আমি এখন সেইরকম হওয়ার পথ চেয়েই বসে আছি। 

এই উইকএন্ডে আমি কী কী শিখলাম


চারুলতা, ১৯৬৪-তে যতটাই মোহময়ী, ২০১১তে ততটাই ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। যারা দেখেছেন তাঁরা অলরেডি জানেন, যারা দেখেননি তাঁরা জানবার চেষ্টাও করবেন না। আমার কথা বিশ্বাস করুন। ঠকবেন না।




·       একগ্লাস জলজিরা, এক বড় প্লেট পাপড়ি চাট, একখানা মেদুবড়া, আধখানা (মতান্তরে তিন-চতুর্থাংশ) পেপার দোসা, গব্যঘৃতে ভাজা মটর-কচৌরির আধখানা চেটেপুটে শেষ করার পরও যদি খিদে খিদে পায় তাহলে বুঝতে হবে সেটা চোখের খিদে। তখন আর এক প্লেট রাবড়ি অর্ডার করা মানে খাল কেটে কুমীরকে নেমন্তন্ন করে আনা। বা অম্বলকে।

ভালোবাসা মানে সিগারেট ছাড়ার প্রতিশ্রুতিও নয়, আর্চিস গ্যালারি তো নয়ই। ভালোবাসা মানে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দাঁত মেজে বাথরুম থেকে ফিরে দিনের প্রথম কাপ গরম চা-টা তৈরি পাওয়া। সঙ্গে জ্যাম মাখানো বিস্কুট।



গুগল ইমেজেস থেকে

ডেনজেল য়াশিংটন থাকা মানেই সিনেমা ভালো নয়। ‘থ্রিলার + ডেনজেল’ দেখে লাফিয়ে দ্য বোন কালেক্টর (1999) দেখতে বসে শেষে হাই তুলে তুলে কূল পাইনা। তবে আমাদেরও দোষ আছে। সিনেমাটায় অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আছেন দেখেও সাহস করা উচিত হয়নি।

আমি অ্যাকচুয়ালি খারাপ রাঁধি না। ডাল ভাত মাছের ঝোল ম্যানেজ করতে পারিনা তো কী হয়েছে, সারাসকাল ধরে কায়দার ব্রেকফাস্ট বানানোয় আমার কেরামতি দেখে কে। গতকাল আমি দেশীয় কায়দায় পানzaনেলা বানিয়েছিলাম। রেসিপি জানতে চান? খুব সোজা।

প্যানে দুচামচ তেল গরম করুন। টুকরো সসেজ অল্প ভাজাভাজা করে তুলে রাখুন। আবার একচামচ তেল দিন, ক্যালরি কমাতে চাইলে কড়াইয়ে লেগে থাকা তেল দিয়েই কাজ চালাতে পারেন। তেলে অল্প একটু রসুনথেঁতো দিয়ে সামান্য নেড়েচেড়েই পেঁয়াজ, গাজরের টুকরো দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন, গোলমরিচ, ইটালিয়ান সিজনিং (বাড়িতে থাকলে) দিন। খুব করে নাড়ুন।

আমাকে স্বীকার করতেই হবে আমি রান্নাটায় আলুর টুকরো, হলুদ আর কাঁচালঙ্কাও দিই। দিই কারণ আমি আলু ছাড়া কোনো রান্নার মানেই বুঝিনা। আলু না থাকলে খাব কী? আর হলুদ দিই কারণ ফ্যাকাশে রান্না আমার জঘন্য লাগে। কাঁচালঙ্কাও ওই একই ব্যাপার। যতই রেড চিলি ফ্লেকসের শিশি উপুড় করে দাওনা কেন, কাঁচালঙ্কা না দিলে কী যেন নেই কী যেন নেই অস্বস্তি হতে থাকে। বলাই বাহুল্য কোনো আত্মসম্মানওয়ালা ইতালিয়ান এটাকে তাঁদের দেশের রান্না বলে স্বীকার করবেন না। কিন্তু সত্যি বলছি, তাতে আমার বয়েই গেছে।

আলু, গাজর আর পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে টুকরো করা ক্যাপসিকাম আর টমেটো দিয়ে খুব করে নাড়ুন। সঙ্গে দু’স্লাইস পাউরুটি টুকরো করে কড়াইয়ে দিয়ে দিন। আগে ভেজে রাখা সসেজটাও এইবেলা দিয়ে দিতে ভুলবেন না। ভালো করে পুরো ব্যাপারটা মেশান। চাখুন। নুন ঝাল ঠিক না হলে ঠিক করুন। তারপর সুন্দর করে প্লেটে সাজিয়ে...দু’খানা ডিম ভাজুন। আমার গিনিপিগ সানি সাইড আপ খায়, আমি ওভার ইজি। তারপর প্লেটে ডিমভাজা আর পাউরুটি, সসেজ, আলু, গাজরের জিভে জল আনা ঘণ্ট সাজিয়ে নিয়ে সোজা টিভির সামনে বসে পড়ুন।

দেখবেন খেতে এত ভালো লাগছে যে চ্যানেল চেঞ্জ করার কথাও মনে থাকছে না। হাঁ করে টেলিশপিং চ্যানেলে জাপানি ভেজিটেবিল স্লাইসারের বিজ্ঞাপনটাই ক্রমাগত দেখে চলেছেন।

September 23, 2012

সাপ্তাহিকী



sylvia_plaths_great_gatsby
সিলভিয়া প্লাথের নিজের হাতে চিহ্নিত করা দ্য গ্রেট গ্যাটসবি-র একটি পাতা

কখনো ভেবে দেখেছেন, এ বি সি ডি-রা সব এল কোত্থেকে?

বলা যায়না, বাড়িতে টেবিলের অভাব হতেও তো পারে? সেইসব এমারজেন্সি পরিস্থিতিতে কাজে লাগবে।


And you silently tipped the ice-cube down his shirt. The ice-cube was cold. His body was hot. The cold ice-cube felt good inside his shirt. He didn’t feel hot. The sun began to beat down on the man, and the shirt, and the ice. The ice-cube began to melt. It was not a bad feeling. It was a tingly feeling.
আজ্ঞে না কসমোপলিটান পত্রিকার উদ্ধৃতি নয়, খোদ হেমিংওয়ের লেখা।

দেখুন তো, এর মধ্যে কোনোটা আপনার পাসওয়ার্ড কিনা। হলে পত্রপাঠ বদলে ফেলুন।

গুগল করতেও শিখতে লাগে।

এই মুহূর্তে আমার প্রিয়তম গান। শুনেই চলেছি, শুনেই চলেছি।

ভালো হয়ে থাকবেন। ডায়েটিং চুলোর দোরে দিয়ে পেটপুরে খাওয়াদাওয়া করবেন, নাহলে বিজলির তারের থেকেও পাতলা হয়ে গেলে আর দেখতে হচ্ছে না। সোমবার দেখা হবে। টা টা।

September 21, 2012

The Guernsey Literary and Potato Peel Pie Society


হয় আমার গল্পের বইয়ের বৃহস্পতি আপাতত তুঙ্গে যাচ্ছে, নয় আমি বুদ্ধি খাটিয়ে এমন সব বুদ্ধিমান লোকেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে রেখেছি যারা আমাকে একের পর এক অসাধারণ সব বইয়ের সন্ধান দিয়ে চলেছেন।

যেমন ধরুন The Guernsey Literary and Potato Peel Pie Society.


The Guernsey Literary and Potato Peel Pie Society আমার স্মরণযোগ্য অতীতের একমাত্র বই যেটা আমি এ’মলাট থেকে ও’মলাট পর্যন্ত একবারও মাথা না তুলে শেষ করেছি। নাওয়া, খাওয়া, ইন্টারনেট বিস্মৃত হয়ে। বং মম, এমন একখানা বই পড়ানোর জন্য আপনাকে মনের একেবারে ভেতর থেকে ধন্যবাদ। সত্যি।

আচ্ছা এবার বইটার কথায় আসা যাক। বইটায় কী কী আছে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধবিধ্বস্ত লন্ডন আছে, সেই লন্ডনের অলিতেগলিতে ঘোরা আমাদের সুন্দরী বুদ্ধিমতী নায়িকা আছেন যিনি নিউজপেপারে মজারু কলাম লিখে সদ্য খ্যাতির শীর্ষে উঠেছেন, নায়িকার পিছু ধাওয়া করা রহস্যময় অ্যামেরিকান কোটিপতি আছে, ‘কিট’ নামের একটা ভীষণ গম্ভীর চার বছরের মেয়ে আছে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে জার্মানদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ইংলিশ চ্যানেলের বুকে একটা ছোট্ট দ্বীপ আছে, যে দ্বীপে আবার একটা সাহিত্যসমিতিও আছে।

ভালো বই নিয়ে কথা বলতে শুরু করার বিপদ হচ্ছে থামা যায়না। এই যেমন আমার এখন আপনাদের হড়হড়িয়ে বলে দিতে ইচ্ছে করছে সেই সাহিত্যসমিতির রোমহর্ষক শুরুটা কী করে হয়েছিল, তার সদস্যরা কে কীরকম, তাঁদের মধ্যে কেউ ব্ল্যাক ম্যাজিকের চর্চা করেন কিনা।

আর আছে যুদ্ধের বিভীষিকা। হিটলারের “ডেথ বাই এক্সসশন”-এর ব্রিলিয়ান্ট ফন্দি। দিনের পর দিন খেতে না পাওয়া মানুষ, রোদে পুড়ে, ঠাণ্ডায় জমে, জার্মান সৈন্যদের জন্য বাঙ্কার বানানোর পাথর বইতে বইতে, মাইলের পর মাইল খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে মরে যাবে। নিজে নিজেই। তারপর তাদের দেহগুলো একজায়গায় ঢিবি করে আগুন জ্বালিয়ে দিলেই ব্যস। নিশ্চিহ্ন।

আর এই সর্বগ্রাসী নারকীয়তার মধ্যে জেগে আছে এলিজাবেথ, ক্রিশ্চিয়ান হেলম্যানের মতো ক’জন মানুষ। চারপাশের পশু হয়ে যাওয়া মানুষের সমুদ্রে খড়কুটোর মতো ভেসে আছে। শত চেষ্টাতেও যাদের মুছে ফেলা যায়নি। বইটা বন্ধ করার পর হৃৎপিণ্ড দোমড়ানো যুদ্ধের বর্ণনা ছাপিয়ে যাদের কথা আপনার মনে থেকে যাবে।

সেটাই জিত। এলিজাবেথের, পটেটো পিল পাই সোসাইটির আর এই বইয়ের লেখকের।

আপনারা সবাই যত তাড়াতাড়ি পারেন, আইনি বেআইনি পথে বইটা জোগাড় করে পড়ে ফেলুন। তারপর আপনারা যদি বলতে চান তখন বইটা নিয়ে কথা বলা যাবেখন। ততক্ষণ আমি যত কষ্টই হোক না কেন, মুখে লিউকোপ্লাস্টার সেঁটে বসে থাকব কথা দিচ্ছি।

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.