December 31, 2012

Assumptions





২০১২


বারো মাস, বাহান্ন সপ্তাহ, তিনশো পঁয়ষট্টি দিন কাটতে এত কম সময় লাগে কে জানত? এই সেদিন মাথাটাথা চুলকে বর্ষশেষের পোস্ট লিখলাম, আবার দেখছি আরেকটা সে রকম পোস্ট লেখার ঘণ্টা বেজে গেছে। অবশ্য তাড়াতাড়ি কেটেছে বাঁচা গেছে, আমার জীবনে অন্তত স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো ২০১২ কিছু করেনি। খালি এক বছর বয়স বাড়ানো ছাড়া।

বো-ও-ও-রিং।

কিন্তু সামনের বছরটা যাতে এ রকম না কাটে সে জন্য আমি অলরেডি আঁটঘাঁট বেঁধে রেখেছি। ২০১৩ যদি আমার জীবনে কিছু না ঘটায়, তবে আমি নিজে নিজেই ঘটাব। খুবসে খাবদাব, রান্না করব, টুপি মাথায় ক্যামেরা গলায় হিল্লিদিল্লি ঘুরব, তেড়ে গল্পের বই পড়ব, আর...আর...

...আর অফ কোর্স, প্রাণভরে অবান্তর লিখব।

আপনাদের আমি আগেও বলেছি---পরেও আরও অনেকবার বলতে পারি, এক কথা একশোবার ঘ্যানঘ্যান করে বলায় আমার ক্লান্তি নেই---আপনারা সত্যি জানেন না আপনারা আমার কী উপকার করেছেন। অবান্তরে আপনাদের নিত্য আসা যাওয়া, কথা বলা, হাসি ঠাট্টা, গল্পগাছা আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। বাঁচিয়ে রেখেছে। গঙ্গাফড়িঙের থেকেও চঞ্চল আমার মনোযোগকে আপনারা ঘাড় ধরে একজায়গায় বসিয়ে রেখেছেন, “ওরে বাবা কী বোরিং” বলে লাফ মেরে অন্য হবি-র সন্ধানে পালাতে দেননি।

এক দিন নয়, দু’দিন নয়, গত তিনটি বছর তিনটি মাস ধরে। সোজা কথা?

আপনারা না থাকলে আমাকে প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে রাস্তায় রাস্তায় সঙ্গের সন্ধানে হাপিত্যেশ করে ঘুরতে হত। একা ঘরে বসে মনিটরের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে খটাখট টাইপ করায় যে কত সুখ, আপনারা না থাকলে সে আমার অজানাই থেকে যেত।

প্রাণ থাকতে সে সুখ আমি জলাঞ্জলি দিচ্ছি না।

আপনাদের ২০১২ কেমন কাটল? যা যা আশা ছিল মনে সব মিটল? না কি বাকি রয়ে গেল কিছু কিছু? থাকলে চিন্তার কিছু নেই, সামনের বারো মাসে মিটিয়ে নেওয়া যাবে। সামনের বছর আপনাদের খুব ভালো কাটুক, অভিজ্ঞতার ঝুলি ফুলেফেঁপে উঠুক, অবান্তরের সঙ্গে সখ্য আরও নিবিড় হোক, এই কামনা করি।

হ্যাপি নিউ ইয়ার।




December 29, 2012

সাপ্তাহিকী



আলোকচিত্রীঃ হেনরি ম্যানুয়েল (১৮৭৪-১৯৪৭)


A line is a dot that went for a walk. 
                                           ---Paul Klee (1879-1940)


সেই সব অ্যালবানিয়ান মহিলারা, যারা আজীবন পুরুষের জীবনযাপন করার শপথ নিয়েছেন। 

বন্ধু যখন গাছ।


ব্রিটিশ হওয়ার বিড়ম্বনা। ১৫ নম্বরটা, ইয়ে, মানে, আমারও মনের কথা। 

আর কী। এ বছরের মতো সাপ্তাহিকী শেষ। শেষে ভালো কথা কিছু লিখব ভেবেছিলাম, কিন্তু তেইশ বছরের মেয়েটা মরে গেল, কাকলি ঘোষদস্তিদার বললেন পার্ক স্ট্রিটে গণধর্ষণ হয়নি আর আনিসুর রহমান জানতে চাইলেন মমতা ব্যানার্জির রেপড হওয়ার রেট কত।

ছিঃ।

December 26, 2012

Dis or Dat




উৎসঃ গুগল

মিকা সিং না দালের মেহেন্দিঃ দালের মেহেন্দি

লাইব্রেরি না বুকশপঃ লাইব্রেরি

চুনি না পান্নাঃ চুনি 

বুদ্ধিমত্তা না রসবোধঃ বুদ্ধিমত্তা

ইজি চেয়ার না সোফা কাম বেডঃ ইজি চেয়ার

থাপ্পড় না কানমলাঃ কানমলা

সসেজ না বেকনঃ সসেজ

জল রং না পেনসিল স্কেচঃ পেনসিল স্কেচ

ভূত না ভবিষ্যৎঃ ভবিষ্যৎ

রেগুলার না মিনারেলঃ রেগুলার

আইসকোল্ড না রুম টেম্পারেচারঃ রুম টেম্পারেচার

মাদার টেরেসা না মহাত্মা গান্ধীঃ মাদার টেরেসা

ক্যাশ না কার্ডঃ ক্যাশ

চাইনিজ না থাইঃ থাই

কেচাপ না মাস্টার্ডঃ মাস্টার্ড

লুডো না ব্যাগাটেলিঃ লুডো

ফর হিয়ার না টু গোঃ ফর হিয়ার 

কাজু না পেস্তাঃ পেস্তা

মিন্ট না চুয়িংগামঃ মিন্ট

ঝোলাগুড় না মেপল সিরাপঃ ঝোলাগুড়

ভিগ্যান না প্যালিওঃ কোনওটাই না, তবে দায়ে পড়লে প্যালিও।

কেক না কুকিঃ কেক

বিরিয়ানি না ঘি-ভাতঃ ঘি-ভাত

ব্রকোলি না ফুলকপিঃ ফুলকপি 

ডেন্টিস্ট না ই এন টিঃ ই এন টি

স্বাদ না গন্ধঃ গন্ধ

একতলা না টপ ফ্লোরঃ টপ ফ্লোর। অবশ্য লিফট থাকতে হবে।

ফ্রোজেন ইয়োগার্ট না সফট সার্ভ  আইসক্রিমঃ সফট সার্ভ আইসক্রিম

ফুল না বইঃ বই

উইথ স্ট্রিংস না উইদাউট স্ট্রিংসঃ উইথ স্ট্রিংস

নিরাপত্তার খাতিরে

December 25, 2012

পাড়াপড়শি


দিন ক্ষণ মাস বছর মনে নেই, একদিন সন্ধ্যেবেলা কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দরজা খুলে দেখি একজন ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। আমি চোখমুখ কুঁচকে বাগানের আধোঅন্ধকার থেকে তাঁকে আলাদা করার চেষ্টা করছি দেখে তিনি খুব নরম গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, “বড়রা কেউ বাড়িতে আছেন?”

আমি, ব্যাপারটা আমার ডিপার্টমেন্টের নয় বুঝে, পাততাড়ি গোটালাম। ঠাকুমা পরিস্থিতি হাতে নিলেন। একটু পরে মা-ও অফিস থেকে ফিরে এসে দেখি সামনের ঘরে বসে পড়লেন। চা বিস্কুট সহযোগে গল্প খুব জোর জমে উঠল। আমি পড়া থেকে মাঝে মাঝে উঠে এসে উঁকি মেরে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। দরজার আড়াল থেকে দেখে যেটুকু বুঝলাম ভদ্রলোক বয়স্ক। ষাট পঁয়ষট্টি তো হবেই। মাথায় পাতলা হয়ে আসা সাদা চুল, চোখে চশমা, গলার আওয়াজ শুনলেই মনে হয় ভালো লোক।

অতিথিবিদায় হলে জানা গেল ইনি আমাদের নবতম প্রতিবেশী। পাড়ার বড় মাঠটার একটা কোণা বিক্রি হয়ে গিয়ে যে বাড়িটা তৈরি হয়েছে সেটা নাকি এঁরই।

ও, ইনিই তবে আসামে থাকা সেই রহস্যজনক ব্যক্তি যিনি গত বছরখানেক ধরে আমাদের পাড়ায় খেলিয়ে বাড়ি বানাচ্ছেন। তাতে আমাদের মাঠের একটা অংশ বেহাত হয়ে যাওয়ার রাগও যেমন হয়েছিল, একটা নতুন খেলার জায়গা পাওয়ার আনন্দও তেমন হয়েছিল। নির্মীয়মাণ বাড়িতে খেলার মজা যে কী, যারা না খেলেছে জানে না। পর্যাপ্ত কোণাঘুঁজি, লম্বা লম্বা বাঁশ, পিলার, ঢালু সিঁড়ি, রেলিং ছাড়া প্রশস্ত ছাদ---খেলাধুলোর আদর্শ আবহাওয়া। দেদার খেলেছি। তারপর বাড়ি যখন পুরো বানানো হয়ে গেছে, মেঝেতে মার্বেল আর সিলিং-এ ফ্যান লেগে গেছে, তখন একদিন বৃষ্টির বিকেলে পুকিদিদির সঙ্গে ফাঁকা বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে কলিং বেল টিপে টিপে সবগুলো সুর শুনেওছি।

ভদ্রলোক চলে গেলে মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “লোকটা কী বলতে এসেছিল মা?” মা বললেন, “লোক আবার কী সোনা? ভদ্রলোক এ সপ্তাহে পাকাপাকি ভাবে আসাম থেকে চলে এলেন, তাই নতুন প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলাপ করছেন।”

আমি ভুরু কপালে তুলে চোখ ঘুরিয়ে বলেছিলাম, “কী অদ্ভুত রে বাবা, এ রকম আবার কেউ করে নাকি?”

মা বলেছিলেন, “এঁরা বয়স্ক লোক কিনা, পুরোনো দিনের আদবকায়দায় বিশ্বাস করেন। এর পর আর কেউ করবে না, চিন্তা কোরো না।”

করেও না। এ পাড়ায় এসেছি বেশ কিছুদিন হল। নেমপ্লেট দেখে দেখে সব বাড়িওয়ালার পদবীও জেনে ফেলেছি, সকালে বেরোবার সময় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের সবজি কেনার সময় আড়চোখে তাকিয়ে পদবীর সঙ্গে মুখচোখ মিলিয়েও নিয়েছি। আমিও ঘাড় ঘোরাইনি, তাঁরাও চোখ তোলেননি। মনে মনে খুশিই হয়েছি।

যাক বাবা, পাড়াটা সিভিলাইজড।

কিন্তু সিভিলাইজেশন তো উৎপাতবিহীন হয় না। এই সিভিলাইজেশনের মূর্তিমান উৎপাত আমার প্রতিবেশীর বুড়ো কুকুর। সাদা ঝুপোঝুপো লোমওয়ালা কুকুরটা সারাদিন গ্রিলের গেটে গা এলিয়ে বসে থাকত আর ফেরিওয়ালা দেখলেই হুঙ্কার ছাড়ত। ফেরিওয়ালা, কাবাড়ি, কুড়াওয়ালা আর আমাকে দেখলে। সকাল আর বিকেলে আমি যখন গুটিগুটি পায়ে হেঁটে হেঁটে ওই বাড়িটার সামনে দিয়ে পেরোতাম, শান্ত নিরিবিলি পাড়াটা ঘেউ ঘেউ চিৎকারে খান খান হয়ে যেত। আর আমি প্রত্যেকবার মনে মনে অসভ্য, অভদ্র, অশিক্ষিত কুকুরটার মুণ্ডপাত করতাম, ভাবতাম ধরণী দ্বিধা হলে বাঁচি।

তারপর মাসখানেক আগের এক শনিবার বেলা দশটা নাগাদ সাইকেলের ক্যারিয়ারে একটা বিরাট ডেকচি চাপিয়ে, “মাছ আছে মাছ...তাজা রুই ইলিশ পাবদা, জ্যান্ত কই শিঙি মৌরলা, নেবেন নাকি মাসিমা-আ-আ” চেঁচাতে চেঁচাতে একটা লোক হাজির হল। গোটা পাড়াটা জেগে উঠল যেন হঠাৎ। আশেপাশের বাড়ি থেকে মেসোমাসিমারা বেরিয়ে এলেন। কইমাছের গন্ধে গন্ধে আমিও না গিয়ে থাকতে পারলাম না। গিয়ে দেখি সবাই আলাপসালাপ করছেন, মাছওয়ালাকে বকাঝকা দিচ্ছেন। আমি যেতে সবার মনোযোগ আমার দিকে ঘুরে গেল।

“নতুন মনে হচ্ছে?”

“কোন জগতে থাকেন আপনি তারাদি? ডাক্তারবাবুদের দোতলায় লোক বদল হয়েছে দেখেননি?”

গর্বিত মুখে যিনি আমার দিকে তাকালেন তাঁর দরজায় রায়চৌধুরী লেখা, আমি বেশ কিছুদিন হল দেখেছি। আমি নার্ভাসমুখে হাসি। একে একে প্রশ্নবাণ শুরু হয়। কী কর? অফিস কোথায়? মা বাবা কোথায়? গুঁফো ছেলেটা কে? তোমার বয়ফ্রেন্ড?

আমি হাঁ করে থাকি। বুঝি আমিই শুধু তাঁদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করিনি, তাঁরাও করেছেন। তবে আমার দৌড় নেমপ্লেট পর্যন্ত গিয়ে থেমেছে, এঁরা অভিজ্ঞ গোয়েন্দা, আমার হাঁড়ির খবর বার করে ছেড়েছেন।

সেই থেকে পাড়ার মাসিমেসোদের সঙ্গে বেশ আলাপপরিচয় হয়ে গেছে আমার। আমি তাঁদের দেখে হাসি, তাঁরা কোন দোকানের সীতাভোগ ফ্রেশ সে বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দেন। কেবল ঝুপো কুকুরটা আমার ওপর সমস্ত উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। এখন সামনে দিয়ে গেলে ঘেউ ঘেউ তো দূরে থাক, চোখ ফিরিয়ে তাকায় না পর্যন্ত।

December 22, 2012

সাপ্তাহিকী




Men on The Moon 

Always remember that you are absolutely unique. Just like everyone else.
                                                                      ---Margaret Mead (1901-1978)


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের খেতে চাওয়া লাস্ট সাপার।



উদ্ধৃতিচিহ্ন কোথা থেকে এল জানতে চান?

শুনেছি পৃথিবীতে সবার একটা করে যমজ ভাই বা বোন থাকে? এই দেখুন এঁরা তাঁদের খুঁজে পেয়েছেন। 


আর কী? এ সপ্তাহের মতো এটুকুই। সোমবার দেখা হবে। আমি এই শনিরবিবারেই বড়দিন উদযাপন করব ভেবে রেখেছি। আপনারা? 

December 20, 2012

গুরুজি


রবিশংকরের খবরটা পেয়ে, চায়ে চুমুক দিতে দিতে সবে ভাবছি ব্যাপারটা ভারতীয় মার্গসংগীতের পক্ষে ঠিক কতখানি গুরুতর হল, তক্ষুনি মা ফোন করে বললেন, “সোনা, খারাপ খবর আছে।”

বললাম, “জানি জানি, রবিশংকর তো?”

মা বললেন, সে তো আছেই, তার ওপরেও আরেকটা খারাপ খবর আছে। খবরটা হচ্ছে যে পণ্ডিত মানস চক্রবর্তী মারা গেছেন।

ভারতীয় মার্গসংগীতের পক্ষে তো বটেই, এই খবরটা আমার নিজের পক্ষেও অত্যন্ত গুরুতর, কারণ পণ্ডিত মানস চক্রবর্তী ছিলেন আমার গুরুজি। আমার মোটামুটি দীর্ঘ শাস্ত্রীয় সংগীত শিক্ষার শেষ তিনটি বছরের মাস্টারমশাই।

গুরুজির কাছে সশরীরে পৌঁছতে পৌঁছতে আমার উনিশ বছর বয়স হয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু তাঁকে আমি প্রথম দেখেছিলাম আট বছর বয়সেই। যে বর্ষণক্লান্ত সন্ধ্যেয় মা বাবা আর আমি শ্রীরামপুরের অলিতে গলিতে একটা ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম, সেই সন্ধ্যেয়। মায়ের অফিসের শচীনকাকু পণ্ডিত মানস চক্রবর্তীর কাছে গান শিখতেন, তিনিই প্রথম বুদ্ধিটা দিয়েছিলেন।

“মেয়েকে ক্ল্যাসিকাল শেখাতে চান অর্চনাদি? আপনাদের বাড়ির কাছেই, শ্রীরামপুরে আমার গুরুভাই সঞ্জিৎ থাকে, যোগাযোগ করে দেখুন না

শুধু এই তথ্যটুকু সম্বল করে, আমাকে ট্যাঁকে গুঁজে, উনিশশো উননব্বই সালের জুলাই মাসের এক শনিবার বিকেলবেলা বাবা মা বেরিয়ে পড়লেন। কাজটা সহজ ছিল না, একে ঠিকানা জানা নেই, তায় বৃষ্টি। তবে আমার জনকজননীর ইচ্ছাশক্তি এবং স্ট্র্যাটেজি, দুটোই প্রভূত পরিমাণে ছিল। তাঁরা প্রথমেই মোটামুটি নামকরা গানের ইস্কুলগুলোয় গিয়ে গিয়ে হবু মাস্টারমশাইয়ের নাম জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। অচিরেই মেওয়া ফলল। ঘণ্টাখানেক ঘোরাঘুরির পর অবশেষে আমরা স্টেশনের কাছে একটা সরু গলিতে ততোধিক সরু একটা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে একটা ঘুপচি এককামরার ফ্ল্যাটে গিয়ে উপস্থিত হলাম। এ ঘরে যে গানবাজনা হয় সেটা আর বলে দেওয়ার দরকার ছিল না, খাটের ওপর শোয়ানো তানপুরা আর মেঝেতে হারমোনিয়ামই তার প্রমাণ দিচ্ছিল, কিন্তু সমস্ত সন্দেহের নিরসন করল ঘরের দেওয়ালে ঝোলানো সুরমণ্ডল হাতে পণ্ডিত মানস চক্রবর্তীর একটা বড় বাঁধানো ছবি।

তারপর শুরু হল সারেগামা, সারেগা রেগামা, ‘পিয়া কে নজরিয়া’, ‘বন বন ঢুঁড়ন যাউ’, ‘ক্যায়সে সুখ সোহে’ আর ‘তুম রব তুম সাহিব’-র এক অনন্ত মিছিল। মাঝে মাঝে মুখ পাল্টানোর মতো করে ‘ভরিয়া পরাণ শুনিতেছি গান’ আর ‘ঠুমক চলত রামচন্দ্র’। রবিবারের বিকেল-সন্ধ্যেগুলো গান, গানের স্কুলের আড্ডা, মাস্টারমশাইয়ের গমগমে গলার বকুনি, আর ক্লাস শেষে বেরিয়ে ঝুলোঝুলি করে মাকে নিমরাজি করিয়ে পথের পাশের ঝুপড়ি দোকান থেকে কিনে গরম গরম জিলিপি খাওয়ায় ভরে উঠল।

ভালো লাগত কিনা? কে জানে। তখন তো ভেবে দেখিনি। মা সকালবেলা টেনেটুনে ঘুম থেকে তুলে হারমোনিয়ামের সামনে বসিয়ে দিতেন, আমি ঘুমজড়ানো গলায় গান ধরতাম। গান থেকে তুলে বইয়ের সামনে বসাতেন, আমি দুলে দুলে পড়তাম। ভালোমন্দ বিচারের শক্তি বা সুযোগ ছিল কোথায়?

বেশ ক’বছর পর মাস্টারমশাই বললেন, চল্‌ এবার গুরুজির কাছে যাওয়ার সময় হয়েছে। একদিন সকালে তাঁর পিছু পিছু গুরুজির প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। পুরোনো ধাঁচের শক্তপোক্ত দোতলা নিরিবিলি বাড়ি। তার দেওয়াল এত মোটা যে একশো গজ দূরের বড় রাস্তার কোলাহল বাড়ির ভেতর ঢুকতে পারে না। একতলাতেই গানের ঘর। বাকি বাড়িটার থেকেও অন্তত তিনগুণ বেশি শান্ত। তখন শব্দটাই জানতাম না, এখন বুঝি মিনিম্যালিস্টিক কথাটা ওই রকম ঘরের জন্যই প্রযোজ্য। ঘরের কোণে দুতিনটে লম্বা বেঁটে তানপুরা দাঁড় করানো, তিনদিকের দেওয়াল ফাঁকা, শুধু একদিকের দেওয়ালে গুরুজির বাবা পণ্ডিত তারাপদ চক্রবর্তীর একটা বাঁধানো সাদাকালো ছবি টাঙানো। ছবিটার তলায় একটা ছোট তক্তপোষ। তক্তপোষের ওপর দুটো ছোট তাকিয়া আর একটা সুরমণ্ডল রাখা। বোঝাই যাচ্ছে গুরুজি ওখানে বসবেন। তক্তপোষের সামনের মেঝেতে মোটা কার্পেট বিছানো আছে। বোঝাই যাচ্ছে ওখানে আমরা বসব।

বেশিদিন ওই ঘরটায় যাওয়ার সুযোগ হয়নি আমার। সপ্তাহে একদিন করে, এই ধরুন, বছর তিনেক। তবু বুকের ভেতর দাগ রাখার জন্য সে অনেক সময়। গত দশ বছরের থোড় বড়ি খাড়া দিনরাত সকালবিকেল, ঘণ্ট পাকিয়ে সময়ের একটা পিণ্ডে পরিণত হয়েছে, কিন্তু গুরুজির বাড়ির ওই ক’টা সকালকে আমি এখনও স্পষ্ট আঙুল দিয়ে আলাদা করে চেনাতে পারি।

ওই ভারি পর্দা ঢাকা আবছায়া ঘরটায় বসে যখন গুরুজি মৃদু কণ্ঠে সা ধরতেন, আর সেই সুস্থিত সা-এর চারদিকে আমাদের অপটু অস্থির গলাগুলো ছুটোছুটি করে বেড়াত, শত চেষ্টাতেও গুরুজির সা-এর ত্রিসীমানায় পৌঁছতে পারত না, আর আমাদের নাকানিচোবানি খেতে দেখে গুরুজি মুচকি মুচকি হাসতেন, সেই সকালগুলো আমার এ পৃথিবীতে দেখা স্বর্গের সবথেকে কাছাকাছি জায়গা।

যে স্বর্গ থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে এসেছিলাম আমি। কে জানে কীসের আশায়। ভয়ে ভয়ে “JNU যাচ্ছি” খবরটা দেওয়ার পর গুরুজি কিছুই বলেননি। খালি মৃদু হেসে বলেছিলেন, “বোকা মেয়ে।”

শত সহস্র অ্যাক্সিয়ম, করোলারি, রিগ্রেশন ইকুয়েশন আর গিনি কোয়েফিশিয়েন্টের অকূল পাথার পেরিয়ে এসে আমি এতদিন পর বুঝেছি গুরুজি কোন বোকামির কথা বলেছিলেন। সেই স্বর্গটা আর কখনও তৈরি করতে পারিনি আমি আমার চারপাশে।

গুরুজির গাওয়া মেঘ রাগের আমার ভীষণ প্রিয় একটা গান ইউটিউবে আছে। সেটা এখানে তুলে দিলাম।




December 18, 2012

শীতের দুপুর আর দাদুর তক্তপোষ



আজ এখানের আকাশে ঝলমলে রোদ। হাওয়ায় ঠিক ততটুকুই শীতের কামড়, যতটুকু একটা রঙিন ফুলহাতা সোয়েটারে আটকানো যায়। আমি তার সঙ্গে নেহাত ফ্যাশন করব বলেই মায়ের হাতের বোনা একখানা নরম উলের মাফলার গলায় জড়িয়ে নিয়েছি। দিব্যি লাগছে। রাস্তার ধারে ডাঁই করা ময়লার ঢিবি, অটোওয়ালাদের অত্যাচার, মোটরসাইকেলের কান ফাটানো হর্ন, একটু হলেই পাড়িয়ে দেওয়া পথের ঠিক মাঝখানে থুতুর ডেলা---কিচ্ছু আমার মনমেজাজ বিতিকিচ্ছিরি করে দিতে পারছে না। 

অফিসের গেটের উলটোদিকটায় একটা লোক এক ঠ্যালাগাড়ি ঝকঝকে সবুজ অমরুত, যাকে আমরা পেয়ারা বলি, নিয়ে বসেছিল; আমি গিয়ে তাদের মধ্যে থেকে বেছেবুছে, টিপেটুপে একটা টাইট দেখে পেয়ারা তুলে বললাম, “ভাইসাব, কাটকে দিজিয়ে প্লিজ।” লোকটা একটা হাতলছাড়া ছুরি দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত পেয়ারাটা চারফালি করতে করতে মোটা গলায় জানতে চাইল, “মসালা লাগানা হ্যায়?”

আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, “অফ কোওওর্স।”

না হলে তো গোটা পেয়ারা কিনে বাড়ি নিয়ে গিয়ে, ভালো করে রানিং ওয়াটারে ধুয়ে, মুছে, টুকরো করে প্লেটে সাজিয়ে, টাটা টেবিল সল্ট লাগিয়ে লাগিয়ে খেলেই হয়। এই খোলা ড্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে আধোয়া পেয়ারা খাচ্ছিই তো ওই মশলাটার জন্য।

আমার মায়ের মতে, যেটা কিনা দুনিয়ার খারাপ আর অস্বাস্থ্যকর জিনিস দিয়ে বানানো হয়েছে। খেয়েছ কি কলেরা।

পেয়ারা খেতে খেতে, গুনগুনিয়ে গান ভাঁজতে ভাঁজতে অফিসে ঢোকার সময় হঠাৎ অনেক অনেক অনেক বছর আগের একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল। স্মৃতিটায় আমাদের বাড়ি, বাড়ির বাগান, বাগানের পেয়ারাগাছটা, আর আমার ঠাকুরদা আছেন। আর ঠাকুরদার থাকা মানে আমার বয়স চার বছরের কম। তবেই বুঝুন কতদিন আগের কথা বলছি।

আমার ঠাকুরদা রেলের সামান্য কেরানি ছিলেন, কিন্তু শুনেছি তাঁর অনেক রকম প্রতিভা ছিল। বরিশালের গ্রামে যাত্রা শুরু হওয়ার আগে যে কাড়ানাকাড়া বাজার ব্যাপার হত তাতে আমার দাদু স্টার বাঁশি-বাজিয়ে ছিলেন। দাদুর বাঁশি আমি শুনিনি, তবে ঠাকুমার ট্রাঙ্কে একটা চকচকে পেতলের বাঁশি এখনও রাখা আছে দেখেছি।

বাঁশি বাজানো ছাড়া আমার ঠাকুরদাকে আমি আর যে কাজগুলো পারতে দেখেছি সেটা হচ্ছে বাড়িশুদ্ধু লোককে ধমকে সিধে করে রাখতে, এলাকার একটিও ফুলচোরকে আমাদের বাগানের ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে না দিতে, আর পাড়াশুদ্ধু বাচ্চাদের লাই দিয়ে মাথায় তুলতে। আমার আবছা আবছা মনে আছে দাদু আমাকে, বুচিদিদিকে, পুকিদিদিকে, রাজুদাদাকে বিকেলবেলা স্বপনকাকুর মুদির দোকানের দিকে মিছিল করে নিয়ে চলেছেন, সেখানে গিয়ে সবাইকে ঠোঙায় করে চোখে জল আনা ঝাল চানাচুর কিনে দিচ্ছেন, সবাই নাক টানতে টানতে চোখ মুছতে মুছতে হুশহাস করে সেই চানাচুর খাচ্ছে আর আমি খাওয়াটাওয়া ভুলে দোকানের প্রায় মানুষ-সমান উঁচু দাঁড়িপাল্লার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছি।

তবে আমার মতে (ঠাকুমাও এব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত) আমার ঠাকুরদা সব থেকে ভালো পারতেন আরাম করতে। যখন ডিসেম্বর মাসের শেষ নাগাদ রিষড়ার বাড়িতে বেশ ঠাণ্ডা পড়ত তখন দাদু রোজ সকালে উঠে বাড়ির ভেতর থেকে একখানা তক্তপোষ টেনেহেঁচড়ে বাড়ির বাইরে বাগানে বার করে আনতেন। ছোটখাট মানুষ ছিলেন, কাজেই ব্যাপারটা শুনতে যতটা জটিল মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার থেকেও অনেক বেশি জটিল হত। বাগানের পেয়ারাগাছের তলায় সেই তক্তপোষ পাতা হত। তক্তপোষের ওপর লেপ তোষক বালিশ ইত্যাদিও ভেতর থেকে বয়ে বয়ে এনে রাখা হত।

তারপর দাদু দিনের কাজে লেগে যেতেন; বাজার যেতেন, বাগান দেখতেন, আগাছা পরিষ্কার করতেন, ঠাকুমার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। তক্তপোষ আর লেপতোষক ততক্ষণে রোদ খেয়ে খেয়ে গরম হত। তারপর স্নানটান খাওয়াটাওয়া সেরে, মুখে একখানা পান গুঁজে, তাঁর ইয়াব্বড়, কাঠের বেঁকানো হ্যান্ডেলওয়ালা প্রিয় ছাতাটি নিয়ে দাদু বাগানে এসে হাজির হতেন। তক্তপোষের সাইডে কায়দা করে ছাতাটাকে হেলান দিয়ে রেখে, সেই ছায়ায় মাথাটাকে প্লেস করে দাদু গরম তক্তপোষের ওপর, তপ্ত লেপের তলায়, উষ্ণ বালিশে মাথা রেখে ঘণ্টাখানেক আরাম করে ঘুমোতেন। আমাকেও মাঝে মাঝে সে লেপের তলায় শুতে হত মনে আছে। তবে দাদুর নাক ডাকার আওয়াজ পেলেই আমি লেপের তলা থেকে সুড়ুত করে বেরিয়ে বাগানে ঘোরাঘুরি করতাম।

রোদ যখন ছাতার ঢাল বেয়ে গড়িয়ে যেত, লেপতোষকের ওম ফুরিয়ে যেত, তখন দাদু গা ঝাড়া দিয়ে উঠে আবার খাটবিছানা ঠেলে ঠেলে বাড়ির ভেতর আনতেন। পরের দিন আবার পুরো ঘটনাটার পুনরাবৃত্তি ঘটত।

অতটুকু আরাম করার জন্য এতখানি পরিশ্রম আমি আমার ঠাকুরদা ছাড়া আর কাউকে করতে দেখিনি।

December 17, 2012

কুইজঃ ওপেনিং লাইন



“ইট ওয়াজ দ্য বেস্ট অফ টাইমস, ইট ওয়াজ দ্য ওয়ার্স্ট অফ টাইমস . .”

আজকের কুইজ ওপেনিং লাইন সংক্রান্ত হলেও ওপরের লাইনটা কুইজের অংশ নয়। অত বোকা পাননি আমাকে। অনেক খুঁজে পেতে খানদশেক মনে থাকার মতো ওপেনিং লাইন জোগাড় করেছি। তাদের কয়েকটা ওপরের লাইনটার মতো একেবারে জলের মতো সোজা নয়, আবার অনেকগুলো জলের থেকেও সোজা। দেখুন তো আপনারা লাইনগুলো পড়ে আসল গল্পগুলো চিনতে পারেন কিনা।

কমেন্টস অফ থাকবে পুরো সময়টাই। অর্থাৎ কিনা দিল্লিতে মঙ্গলবার দুপুর দুটো পর্যন্ত আর ব্রুকলিনে সোমবার রাত সাড়ে তিনটে পর্যন্ত। ততক্ষণের জন্য অল দ্য বেস্ট। 

*****

১. বেজায় গরম। 

২. সোমেন জানে, প্রেমের মূলেও আছে ভিটামিন।

৩. চাঁদনী থেকে ন'সিকে দিয়ে একটা শর্ট কিনে নিয়েছিলুম। 

৪. পাঁচুমামার প্যাঁকাটির মতন হাত ধরে টেনে ওকে ট্রেনে তুললাম। 

৫. একদিন বৈশাখের দ্বিপ্রহরে রৌদ্রেরও অন্ত ছিল না, উত্তাপেরও সীমা ছিল না।

৬. ও যে কখন চোখ খুলেছে ও জানে না। 

৭. সমস্ত দিন আপিসের হাড়ভাঙা খাটুনির পরে গড়ের মাঠে ফোর্টের কাছ ঘেঁষিয়া বসিয়া ছিলাম।

৮. Once when I was six years old I saw a magnificent picture in a book, called True Stories from Nature,  about the primeval forest. 

৯. Mr. and Mrs. Dursley, of number four, Privet Drive, were proud to say that they were perfectly normal, thank you very much. 

১০. If you really want to hear about it, the first thing you'll probably want to know is where I was born, and what my lousy childhood was like, and how my parents were occupied and all before they had me, and all that David Copperfield kind of crap, but I don't feel like going into it, if you want to know the truth. 


নিন শুরু করুন।

*****

খেলা শেষ। ঠিক উত্তরগুলো হচ্ছে

১. হ য ব র ল
২. যাও পাখি 
৩. দেশে বিদেশে
৪. পদীপিসির বর্মীবাক্স
৫. দেবদাস
৬. ফটিকচাঁদ
৭. আরণ্যক
৮. দ্য লিটল প্রিন্স
৯. হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসাসার'স স্টোন
১০. ক্যাচার ইন দ্য রাই

সবাইকে খেলায়  অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আর অভিনন্দন। 

December 13, 2012

দশটি প্রশ্ন


এই মুহূর্তে এত কিছু নিয়ে পোস্ট লেখা যায় যে কোনওটা নিয়েই লিখে উঠতে পারছি না। যে বিষয় যত কাছের হয় তাকে সাতশো শব্দে বেঁধেছেঁদে সাদা পাতায় নামানো তত কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় একমাত্র উপায় হচ্ছে, পরে হবে, বলে সেগুলোকে অন্তত ক’দিনের জন্য চোখের সামনে থেকে সরিয়ে রাখা।

কিন্তু বদলে আর একটা কিছু তো চাই? অবান্তরের জন্য, আমার জন্য আর আমার সঙ্গে আপনাদের কথোপকথনের সুতো অটুট রাখার জন্য?

কম পরিশ্রমে ব্লগপোস্ট নামানোর জন্য লিস্টের থেকে ভালো কিছু হয় না। থিংস আই লাভ, থিংস আই হেট, থিংস আই অ্যাম নট শিওর ইফ আই লাভ অর হেট-এই সব। কিন্তু সে সব লেখার মতোও জিনিস মাথায় এল না। তখন অগত্যা পুরো লিস্টই টুকে দেওয়া সাব্যস্ত করলাম।

আর আমার মতে টুকতে হলে ভালো জিনিসই টোকা ভালো। ইনসাইড দ্য অ্যাক্টর’স স্টুডিও বলে একটা অনুষ্ঠান হয়, দেখেছেন? কতকটা ওই ‘কফি উইথ করণ’-এর মতোই, তফাৎ শুধু করণের জায়গায় জেমস লিপটন আর শাহরুখ খানের জায়গায় অ্যান্থনি হপকিন্স।


উৎস গুগল ইমেজেস

সেই ইনসাইড অ্যাক্টর’স স্টুডিও-তে সাক্ষাৎকারের অন্তে প্রত্যেক অতিথিকে একটি করে মজাদার প্রশ্নপত্রের মুখোমুখি হতে হয়। এও অনেকটা ওই কফি উইথ করণ-এর র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ডের মতোই, কেবল বলিউডের ভেতরের কেচ্ছা না ঘেঁটে অতিথির মগজের ভেতরটা উঁকি মেরে দেখার উদ্দেশ্যটাই মুখ্য থাকে।

প্রসঙ্গে বলা উচিত, এই প্রশ্নপত্রের উৎস ইনসাইড দ্য অ্যাক্টর’স স্টুডিও নয়। জেমস লিপটন এটা টুকেছিলেন তাঁর রোল মডেল বার্নার্ড পিভো’র ‘বুইল... সেরেছে, দাঁড়ান ইংরিজিতে লিখি, ‘Bouillon de Culture’ থেকে। পিভোও নাকি আবার এ জিনিস টুকেছিলেন ফ্রেঞ্চ লেখক মার্সেল প্রুস্তের থেকে। যাই হোক, এই প্রশ্নপত্রকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি দেওয়ার কৃতিত্ব যদি কাউকে দিতে হয় তাহলে সেটা জেমসবাবুকেই দিতে হবে। ঠিক যেমন গুপিবাঘাকে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বের ভাগ ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে সঙ্গে নাতি সত্যজিৎকেও দিতেই হবে, ঠিক তেমনই।

অনেক কথা হল, এবার কাজে নামা যাক। 

*****

1. What is your favourite word?

মা।

2. What is your least favourite word?

হেজেমনি। মূল্যবোধ-ও প্রায় সমান খারাপ। 

3. What turns you on?

হাতের আঙুল। 

4. What turns you off?

বোকামো।

5. What sound do you love?

মাঝরাতে বৃষ্টির শব্দ।

6. What sound do you hate?

সিজলারের শব্দ, যা শুনে রেস্টোর‍্যান্টশুদ্ধু লোক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নেয় আমি কী অর্ডার করেছি। জঘন্য। 

7. What is your favourite curse word?

ইডিয়ট।

8. What profession other than yours would you like to attempt?

ন্যাশনাল জিওগ্র্যাফিকের ফোটোগ্র্যাফার। 

9. What profession would you not like to do?

সেলসপার্সন। 

10. If heaven exists, what would you like to hear God say when you arrive at the pearly gate?

"তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও, তোমাকে এক্ষুনি ফিরতে হবে।" 


*****

এবার আপনাদের উত্তরগুলো শোনার পালা। দেরি করবেন না, আমি এদিকে গালে হাত দিয়ে বসে আছি। 


December 12, 2012

Autobiography in Five Short Chapters




উৎসঃ ইন্টারনেট 


Chapter One
I walk down the street.
There is a deep hole in the sidewalk.
I fall in. 
I am lost....I am helpless.
It isn't my fault.
It takes forever to find a way out. 

Chapter Two
I walk down the street.
There is a deep hole in the sidewalk.
I pretend that I don't see it. 
I fall in again. 
I can't believe I am in this same place.
But, it isn't my fault. 
It still takes a long time to get out. 

Chapter Three
I walk down the same street.
There is a deep hole in the sidewalk.
I see it is there. 
I still fall in ... it's a habit ... but, my eyes are open. 
I know where i am.
It is my fault.
I get out immediately. 

Chapter Four
I walk down the same street. 
There is a deep hole in the sidewalk. 
I walk around it. 

Chapter Five
I walk down another street. 

December 11, 2012

শপথ #৫- মনের কথা মুখ ফুটে



বিকেলটা আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। সাড়ে চারটে নাগাদ উত্তরপাড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। পরনে খয়েরি টিউনিক, লাল ফিতে, কালো স্কুল-শু; কাঁধে খয়েরি রঙের ব্যাগ আর বৃহদাকৃতি একখানা মিল্টন কোম্পানির লালরঙের ওয়াটার বটল। সঙ্গে বড় কেউ নেই, কাজেই বোঝা যাচ্ছে বাবা মা আমাকে একা একা স্কুলে যাতায়াতের লায়েক মনে করেছেন।

অর্থাৎ কিনা আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি।

বড় কেউ নেই বলাটা অবশ্য ঠিক হল না। আমার সঙ্গে বড় কেউ নেই বটে কিন্তু আমাদের স্কুলের অনেক মেয়েই দূরের স্টেশন থেকে আসে; মা বা অন্য কেউ তাঁদের সঙ্গে করে নিয়ে আসেন নিয়ে যান। কাজেই একা পড়ার ব্যাপারই নেই।

সেদিন আমার সঙ্গী ছিল সুচরিতা আর সুচরিতার মা। সুচরিতা আমার থেকে এক ক্লাস নিচে পড়ে। বড় বড় চোখ, তেল চুকচুকে চুলে টেনে দুটো বিনুনি করা, দারুণ জোরে দৌড়য় আর চোখমুখ নেড়ে কবিতা আবৃত্তি করে। সুচরিতার মায়ের চেহারাতেও বিশেষত্ব কিছু নেই; ওই মায়েদের যেমন হয়, সেরকমই। তবে মাথার চুল ভয়ানক কোঁকড়া।

যারা একা একা যাতায়াত করত আর যাঁদের মা সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করতেন তাদের অভিজ্ঞতার মধ্যে একটাই বড় ফারাক ছিল। দু’দলই টিফিন পিরিয়ডে খেলার চোটে টিফিন খাওয়ার সময় পেত না। কিন্তু আমরা একাবোকারা বাড়ি যাওয়ার পথে ডাস্টবিনে বা বাড়ি ফিরে পেছনের জঙ্গলে সে টিফিনের সদ্‌গতি করার একটা সুযোগ পেতাম, মা-ওয়ালারা সেটা পেত না। মায়েরা হালকা চাঁটি সহযোগে তাদের সে টিফিন খাওয়াতে খাওয়াতে বাড়ি নিয়ে যেতেন।

সুচরিতার মা-ও সেদিন সুচরিতাকে বকেঝকে টিফিন খাওয়াচ্ছিলেন, আমি স্বাধীনতার চরম অপব্যবহার করে বড়দের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে ঝুঁকে ট্রেন আসছে কিনা দেখছিলাম, এমন সময় কাকিমা ডাক দিলেন।

“এই কুন্তলা, ভেতরে ঢুকে দাঁড়া। ট্রেন এলে আপনিই টের পাওয়া যাবে, অত উঁকিঝুঁকি মারতে হবে না।”

বলে তিনি আমাকে ভেতরে ঢুকে দাঁড়ানোর ইনসেনটিভ হিসেবেই বোধহয়, মেয়ের টিফিনবক্স থেকে একটা কী যেন বার করে আমার হাতে দিয়ে বললেন, “এটা খা।”

জিনিসটা হাতে নিয়ে দেখি, সেটা আমার দশ বছরের হাতের পাঞ্জা প্রায় ঢেকে ফেলা একটা বিরাট সন্দেশ। আমের ছাঁচে বানানো। তার পরেও যদি কারও সন্দেহ না যায় সে জন্যই বোধহয় সন্দেশের গায়ে ফ্লুরোসেন্ট সবুজ রং করা।

আমি মিনমিন করে “না না কাকিমা” বলার পর কাকিমা চোখ পাকিয়ে এমন একটা ভঙ্গি করলেন যে আমাকে আমটায়, থুড়ি, সন্দেশটায় কামড় বসাতেই হল।

এখন, আমার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে যদি আপনি মাত্র একটি জিনিস জানতে চান তবে সেটা হল, আমার ঘণ্ট পোষায় না। ঘণ্ট বলতে আমি পাঁচমেশালি তরকারি বা শুক্তোর কথা বলছি না, সেগুলো আমার খুব বেশি বেশিই পোষায়, আমি বলছি ফ্লেভারের ঘ্যাঁটের কথা। রাস্‌পবেরি ফ্লেভারড চা কিংবা লেমনগ্রাস ফ্লেভারড কফি, খাওয়া তো দূরের কথা, নাম শুনলেও আমার গা জ্বলে যায়। আইসক্রিমেও আমার পছন্দ ভ্যানিলা, বাটারস্কচ বা বড় জোর চকোলেট ফ্লেভার।

আমার সম্পর্কে আরও একটা জানার ব্যাপার হচ্ছে, ভালোলাগার জিনিস চিহ্নিত করতে---তা সে ব্লগ টেমপ্লেট থেকে শুরু করে বয়ফ্রেন্ড---আমার কালঘাম ছুটে যায় বটে কিন্তু আমার খারাপ-লাগাগুলো নিয়ে আমি নিঃসংশয় থাকি। জীবনে আধখানা কুল মুখে না দিয়েও আমি জানি যে কুল ব্যাপারটা আমার খেতে খুব খারাপ লাগবে, Q-র সিনেমার ত্রিসীমানায় না গিয়েও আমি জানি যে ও জিনিস আমার সহ্য হবে না।

কাজেই আমসন্দেশে কামড় বসানোর আগে ব্যাপারটার প্রাণঘাতিতা নিয়ে আমার কোনও সন্দেহই ছিল না। তবু আমি পুরো সন্দেশটা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেয়েছিলাম মনে আছে। খেতে গিয়ে কড়া নকল গন্ধে দমবন্ধ হয়ে আসছিল, নাড়িভুঁড়ি উল্টে বমি পেয়ে যাচ্ছিল, চোখ ফেটে কান্না এসে যাচ্ছিল---তবু আমি সন্দেশটা দশমিনিট ধরে, খুঁটে খুঁটে শেষ করেছিলাম।

নাটকীয় মনে হতে পারে, কিন্তু ওই দশ মিনিটের গর্ভযন্ত্রণা মনে পড়লে এখনও আমি শিউরে উঠি।

মা’কে বাড়িতে এসে কাঁদোকাঁদো মুখে ঘটনাটা বলতে মা চোখ কপালে তুলে বললেন, “বলবি তো, কাকিমা, আমি সন্দেশটা খাবনা। কাকিমা তো আর অন্তর্যামী নন যে তোমার পছন্দ-অপছন্দ জানবেন। খামোকা এত কষ্ট পাওয়ার কোনও মানে আছে, আহারে।”

সেই দশ বছরের কুন্তলা এই আর তিনদিন পর বত্রিশ বছরেরটি হবে, কিন্তু নিজের পছন্দ অপছন্দ জোর গলায় বলার সৎসাহস সে এখনও অর্জন করে উঠতে পারেনি।

আমি কিন্তু এখানে নিজেকে ভিকটিম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি না। ইন ফ্যাক্ট আমার এই বদস্বভাবটির ভিকটিম যদি কেউ হয়ে থাকেন তবে তাঁরা আমার নিকটজন। মা, বাবা, বন্ধুবান্ধব, বান্টি। ধরা যাক তাঁদের কোনও একটা কথা বা কাজ বা আচরণ আমার খারাপ লাগল। সে লাগতেই পারে, আমাকেও যে তাঁদের একশো শতাংশ ভালো লাগে এমন তো নয়। সে রকম লাগলেই বরং চিন্তার কথা। কিন্তু তাঁরা আমার থেকে অনেক বেশি সহজ সরল। সোজা কথায় নিজের চাহিদা বা অপছন্দের কথাটা বলতে পারেন। “সোনা দিনে মনে করে দু’বার ফোন করবে/ কুন্তলাদি অবান্তরে খবরদার আমার ছবি ছাপবে না” ইত্যাদি।

আমি এত খোলামেলা নই। আমি ভাবি নিজের চাওয়ার কথাটা খোলসা করে না বলাটাই বোধহয় ভদ্রতা; পোলাইটনেসের পরাকাষ্ঠা। তাই আমি চেপেচুপে থাকি। বুক ফাটে তবু মুখে কিছুতেই বলি না যে, “মা এত কথা তো সত্যিই আমার তোমার সঙ্গে কিছু বলার নেই” কিংবা “চা খেয়ে যে যার নিজের কাপ সিংকে নামিয়ে রেখে আসবে, ওটা আমার একার কাজ নয়।”

কিন্তু চেপে থাকা মানেই তো ভুলে থাকা নয়। নিয়মরক্ষা ফোন করতে করতে, চায়ের কাপ কুড়োতে কুড়োতে বুকের ভেতর রাগ জমতে থাকে। জমতে জমতে ক্রমে রাগের ভিসুভিয়াস তৈরি হয়। তারপর একদিন, কোনও একটা সামান্য কথায়, একটা তুচ্ছ ইঙ্গিতে সে ভিসুভিয়াস ফেটে পড়ে। লাভার মতো ভসভসিয়ে রাগ, দুঃখ, কান্না বেরোতে থাকে। আর তার সঙ্গে তুবড়ির মতো অভিযোগ। যা সত্যি, যা ন্যায্য তা তো বেরোয়ই, রাগের চোটে খানিক বানিয়ে বানিয়েও শুনিয়ে দিই।

সামনের লোকটা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। ফোনের ওপারে মায়ের স্তম্ভিত মুখটা আমি স্পষ্ট কল্পনা করতে পারি।

“হঠাৎ এত রাগ কীসে হল সোনা?”

হঠাৎ যে নয় সে কথা কে কাকে বোঝাবে। তবু নাক টানতে টানতে, চোখ মুছতে মুছতে বোঝাতেই হয়। তখন নিজের কাছে নিজেকেই এমন হাস্যকর লাগে যে কী বলব।

সবথেকে খারাপ যেটা হয়, রাগের অবশ্যম্ভাবী পরে আসে অপরাধবোধ। ইস কেন খারাপ ব্যবহার করলাম। কেন খারাপ কথা বললাম। প্রায়শ্চিত্ত করতে তখন আবার আমাকেই এক্সট্রা এক্সট্রা ফোন করতে হয়, ঝাঁপিয়ে পড়ে “না না আমি তুলছি” বলে সবার কাপ প্লেট কুড়োতে হয়। আর মনে মনে মাথা চুলকোতে হয়, এত চেঁচামেচি করে লাভটা কী হল?

কাজেই আমি ঠিক করেছি, এবার থেকে মনের কথা খুলে বলব। কোন জিনিসটা আমার ভালো লাগছে, কোনটা ভালো লাগছে না, সেটা সময় থাকতে থাকতে ঠাণ্ডা মাথায় প্রকাশ করব। তার মানে কী আর সব সত্যি কথা সবাইকে বলব? মোটেই না। বাড়ি গেলে ক-মেসো যখন কবিতার খাতা খুলে একের পর এক কবিতা শোনাবেন, তখন কি বলব যে “যথেষ্ট হয়েছে, এবার ছাড়ান দিন” না কি পটলাক পার্টিতে গিয়ে স্টার রাঁধুনির বিরিয়ানি চেখে বলব, “এতখানি ঘি আর অতগুলো কাজুবাদাম দিলে এ রকম বিরিয়ানি ক্লাস ফাইভের শিশুও রাঁধতে পারে।”

মনের কথা খুলে বলব বলেছি, লোকসমাজে নিজেকে পাগল প্রতিপন্ন করব তো বলিনি।

এটাই আমার ২০১৩-র পাঁচ নম্বর শপথ। দেখা যাক পারি কি না।

December 10, 2012

সিনেমাটা কী বলুন দেখি


আমার একজন চেনা লোক আছেন, যিনি সিনেমার থেকেও সিনেমার ট্রেলর দেখতে বেশি ভালোবাসেন। আমারও যে খারাপ লাগে তা নয়। একটা সিনেমার পয়সা দিয়ে ঢুকে অনেকগুলো সিনেমা চেখে দেখার মতোই ব্যাপারটা। তবে আমার ট্রেলরের থেকেও বেশি ভালো লাগে পোস্টার দেখতে। রংবেরঙের পোস্টার। ঝলমলে পোস্টার। নিচে বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমার বিখ্যাত কয়েকটি পোস্টারের ছবির অংশ দেওয়া হল। দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা।

নিয়ম একই। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে চব্বিশ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। অর্থাৎ কিনা এই কুইজের ফল বেরোবে ভারতে মঙ্গলবার দুপুর বারোটায় আর ইস্ট কোস্টে সোমবার রাত দেড়টায়। ততক্ষণ কমেন্ট অফ করা থাকবে।

ভীষণ সোজা প্রশ্নপত্র। অল দ্য বেস্ট।

১.

২.

৩.


৪.

৫.

৬.

৭.

৮.

৯.


১০.


*****

খেলা শেষ। সবাই খুব ভালো খেলেছেন। অনেকেই একশোয় একশো পেয়েছেন। তাঁদের এবং বাকিদেরও আমার তরফ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন রইল। আর এই রইল উত্তর। 

১. শিন্ডলার্স লিস্ট
২. জস
৩. দ্য সাঁইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস
৪. দ্য এক্সরসিস্ট
৫. অ্যামেরিকান বিউটি
৬. দ্য ইউসুয়াল সাসপেক্টস
৭. দ্য গডফাদার
৮. ফরেস্ট গাম্প
৯. ব্ল্যাক সোয়ান
১০. ফাইন্ডিং নিমো


December 09, 2012

শনি রবির ছবি















সাপ্তাহিকী



A visual history of Richard Nixon getting lazier

একটা দুর্দান্ত জিনিস আবিষ্কার করে উত্তেজিত হয়ে পড়েছি। রেডিও মিরচিতে "সানডে সাসপেন্স" বলে একটা অনুষ্ঠান হয় জানতেন? বাংলা সাহিত্যের রহস্যরোমাঞ্চ গল্প; সত্যজিৎ, হেমেন রায়, নীহার রঞ্জনের লেখা; সেখানে পাঠ করা হয়। দুর্দান্ত জিনিস। অসাধারণ জিনিস। কিছু দয়ালু প্রাণ সেগুলো ইউটিউবে আপলোড করেছেন। আমি গত বাহাত্তর ঘণ্টা একের পর এক গল্প শুনেই চলেছি শুনেই চলেছি আর মীরের অভিনয়ক্ষমতা দেখে চমৎকৃত হচ্ছি। আপনারাও শুনুন প্লিজ। ন্যূনতম পরিশ্রমে, এর থেকে বেশি বিনোদন, ভাবা যায় না। 

পরের বার চিজকেক ফ্যাক্টরি বা পিৎজা হাটে চেঁচিয়ে "হ্যাপি বার্থডে টু ইউ" গাইবার আগে, আশেপাশে পুলিশ আছে কিনা দেখে নেবেন। 

স্কুল কলেজের ছাঁদাবাঁধা অকাজের শিক্ষা তো অনেক হল, এবার কিছু কাজের জিনিস শিখে নিন। 

ভাবছি এই বুককেসটা কিনব। 

ভুল জানলে লজ্জা পাওয়ার তো কিছু নেই, ঠিক করে নিলেই হল। 

এ'রকম গান আজকাল আর লেখা হয় না কেন বলুন দেখি?

আজকের মিনি সাপ্তাহিকী এই পর্যন্তই। সোমবার দেখা হবে। প্রমিস।

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.