January 30, 2014

ঠিক সময় ভুল সময়



সিনেমা ফ্লপ হলেই পরিচালক কিংবা স্টারদের বলতে শুনেছি, আসলে সিনেমাটা সময়ের অনেক আগে বানানো হয়েছে কিনা, তাই কনসেপ্টটা কেউ বুঝতেই পারেনি। পঞ্চাশ বছর বাদে যখন সবার বুদ্ধিবৃত্তি বেড়ে যেমনটি চাই তেমন হবে, সবাই আর্টের ভালোমন্দ নিজেরাই বিচার করতে শিখবে, বোকা রিভিউয়ারদের মুখে ঝাল খাবে না, তখন এই সিনেমাটা দেখে সবাই মাথা নাড়বে আর বলবে, কী অপচয়, কী অপচয়। মান্ধাতার আমলের হাবলুদের বেনাবনে এমন আর্টের মুক্তো কি ছড়াতে আছে?

সিনেমার মতোই, ফ্লপ মানুষদেরও মনে হয়, 'আহা, আমাদের কেউ বুঝলো না।' বুঝলোই না যখন, মূল্যায়ন আর করবে কীভাবে। ভুল সময়ে জন্মেছি, এখন সারাজীবন ধরে দাও তার গুনাগার। অবশ্য সিনেমার সঙ্গে রক্তমাংসের মানুষের সব তো আর মেলে না, মেলা সম্ভবই না।  সিনেমা যেমন সব সময়েই সময়ের আগে বানানো হয়ে যায়, মানুষ মাঝে মাঝে ভুল করে ঠিক সময়ের পরেও জন্মে যায়।  জন্মাতাম আকবরের জমানায়, জহুরী জহর চিনে নবরত্নের সঙ্গে দশম রত্ন করে রাখতেন আমায় রাজসভায়। আমার প্রতিভার যোগ্য সমাদর হত। কিংবা লালদিঘির ধরে বসে ডিরোজিওর সঙ্গে ডিসকোর্স চালাতাম (এটা বান্টির ইচ্ছে।) সেসবের বদলে এখন কি না নটা - ছটা কিউবিকলে বসে কিবোর্ড পিষছি। জঘন্য।

আমার সর্বদা এইসব কথা মনে হয়।  আমার অবশ্য শুধু সময় নয়, জায়গাটাও ভুল বাছা হয়ে গেছে। আমার জন্মানো উচিত ছিল ভিক্টোরিয়ান আমলের ইংল্যান্ডে। অকৃতদার বুড়ি হয়ে একলা বাড়িতে ঘুরঘুর করতাম, সকালসন্ধ্যে চার্চে ঝাড়ু মারতাম, আর পড়শি বুড়িদের সঙ্গে দুনিয়ার লোকের নিন্দেমন্দ করে বেড়াতাম। আর হঠাৎ একদিন সকালে যখন চার্চের অল্টারের ওপর কোনও ভিকারের রক্তমাখা ডেডবডি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা যেত, তখন দুয়ে দুয়ে বাইশ করে, থানাপুলিশের আগেই বার করে ফেলতাম খুনি কে। পুলিশের লোকবল থাকতে পারে, আমার মতো মনুষ্যচরিত্র বিশ্লেষণের ক্ষমতা তো আর নেই।

আমার মনের কথা জানতে পেরেই, এই খেলাটা আবিষ্কার করেছেন কেউ।  আমার 'ঠিক সময়'টা কী সেটা বার করার খেলা। এরা অবশ্য আমার ভিক্টোরিয়ান আমলের ব্যাপারটা ধরতে পারেনি, বলছে আমি নাকি রোম্যান্টিক আর ক্ল্যাসিকাল, এই দুই যুগের মাঝামাঝি কোনও একটা সময়ের লোক। আহা, পুরোটা যে পারবে তেমন আশা করাই বাড়াবাড়ি। অন্তত এটা যে ধরতে পেরেছে যে আমি আর যাই হোক, এই অধৈর্য, অভদ্র, নিজের ঢাক নিজে পেটানো, নেটওয়ার্কিং যুগের লোক নই, সেই অনেক।

আপনারও কি নিজেকে এই সময়ে মিসফিট মনে হয়? তাহলে আপনিও খেলাটা খেলে দেখতে পারেন। উত্তরটা আমাকে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।  

Which decade do you actually belong in?


January 28, 2014

When I Was Your Age



by Shel Silverstein


My uncle said, “How do you get to school?”
I said, “By bus,” and my uncle smiled.
“When I was your age,” my uncle said,
“I walked it barefoot--seven miles.”

My uncle said, “How much weight can you tote?”
I said, “One bag of grain.” my uncle laughed.
“When I was your age,” my uncle said,
“I could drive a wagon--and lift a calf.”

My uncle said, “How many fights have you had?”
I said, “Two--and both times I got whipped.”
“When I was your age,” my uncle said,
“I fought every day--and was never licked.”

My uncle said, “How old are you?”
I said, “Nine and a half,” and then
My uncle puffed out his chest and said,
“When I was your age… I was ten.”

*****

বসে বসে কীসের অপেক্ষা করছেন? হুড়হুড় করে কুইজের উত্তর পড়তে শুরু করেছে তো। তাও আবার ঠিক উত্তর। শিগগিরি নিজের উত্তর লিখে ফেলুন, না হলে পস্তাবেন।  


কুইজঃ আমি কে?



আমি একজন মহারথী বাঙালি। আপনাদের আমাকে চিনতে পারা উচিত, না হলে আমি ভীষণ দুঃখ পাব। আমাকে ঠিক ঠিক চিনে আমার নাম কমেন্টে লিখুন। কমেন্ট কুন্তলা মডারেট করবে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য, যদিও চব্বিশ সেকেন্ডেই আপনাদের কাজ হয়ে যাবে আমি নিশ্চিত। আপনারা আমাকে ঠিক ঠিক চিনলেন কি না সেটা বোঝা যাবে ভারতে বুধবার সকাল সাড়ে নটায়, ইস্ট কোস্টে মঙ্গলবার রাত এগারোটায়।

অল দ্য বেস্ট।

*****

১। ইছামতীর তীরে জন্ম। সুবর্ণরেখার তীরে মৃত্যু। মাঝখানের জীবনে শিক্ষক থেকে সেক্রেটারি থেকে এস্টেট ম্যানেজার। দারিদ্র্য দেখেছি, সে দারিদ্র্য ছবির মতো লেখার পাতায় ফুটিয়ে তুলেছি। আর হেঁটেছি অনেক। আমার লেখা বিখ্যাততম গল্পের নায়কও আসলে সেই চলা।

২। চার বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে নেমেছিলাম, প্রথম হিরো হয়েছি চব্বিশ হওয়ার আগে, এখন চুয়ান্ন হতে চলল, তবু চুটিয়ে ব্যাট করে যাচ্ছি। আমার বাবা হিরো ছিলেন, আমি সুপারহিরো হয়েছি। লোকে আমাকে মহানায়ক বলল কি না তাতে আমার কিস্যু এসে যায় না, সময় প্রমাণ করে দেবে আমার মতো নায়ক টলিউড কমই পেয়েছে।

৩। আমার জন্মস্থান জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত পরিবার। আমি লিখেছি যত, আমাকে নিয়ে লেখা হয়েছে তার থেকে বেশি। আমার মতো প্রতিভা এই বাংলায় কমই জন্মেছে। সভাসমিতি, থিয়েটার, পত্রপত্রিকা---চতুর্দিকে আমার প্রতিভা অতি অল্পবয়সে ধাবিত হয়েছিল। বাবু বিদ্যাসাগর পর্যন্ত আমার প্রতিভা দেখে চমৎকৃত হয়েছিলেন। মহাকাব্য নিজে লিখিনি, কিন্তু বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। 

৪। পদ্মশ্রী পেয়েছিলাম একাত্তরে, পদ্মভূষণ দু’হাজার পাঁচে। আমার নামের সঙ্গে মিল আছে এশিয়ার সেরা গোয়েন্দার আর ডাকনামের মিল আছে এক বিখ্যাত কাল্পনিক রাঁধুনির সঙ্গে। আমার মতো গান অবশ্য দুজনের একজনও গাইতে পারে না।

৫। আমি জন্মেছিলাম সেলিব্রিটি বাবামায়ের ঘরে। কলকাতায় নয়, বহরমপুরে। বাবামা চিরদিন অন্ত্যজ, প্রান্তিক, ভুলে থাকা মানুষের কথা লিখেছেন, বলেছেন। আমার চরিত্ররাও মেনস্ট্রিম---সে অপবাদ কেউ দিতে পারবে না। আমার গল্পের হিরোরা সব হয় চিটিংবাজ জ্যোতিষী নয় উড়ন্ত অদ্ভুত মানুষ। তাদের কারও কারও নাম ‘ভাট’, তাই বলে আমার লেখা ভাট নয়।

৬। বরিশাল থেকে শিলং, শিলং থেকে কলকাতা। তারপর বম্বেও এসেছে। আজীবন মার্ক্সে বিশ্বাস করেছি, শেক্সপিয়ারেও। মেঘ, ঝড় ইত্যাদি ভীষণ গম্ভীর নামের সিনেমা পরিচালনা করেছি নিজে, আবার তিন-তিনবার ফিল্মফেয়ার বেস্ট কমেডিয়ানের পুরস্কারও পেয়েছি। উত্তমকুমারের চেহারা আমার থেকে ভালো হতে পারে, কিন্তু হিন্দি বা ইংরিজি উচ্চারণ, দুটোই আমার থেকে খারাপ ছিল।

৭। চল্লিশের পর লেখা শুরু করে লিখে গেছি তার পরের টানা চল্লিশ বছর। এই চল্লিশ বছরে একে একে পেয়েছি যথাক্রমে জগত্তারিণী মেডেল, সরোজিনী মেডেল, সাম্মানিক ডি. লিট., রবীন্দ্র পুরস্কার, আকাদেমি পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ। অবশ্য এসবের থেকে অনেক বড় পুরস্কার আমাকে দিয়ে গেছেন সৈয়দ মুজতবা আলি সাহেব। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনার সমস্ত পাণ্ডুলিপি যদি হারিয়ে যায় আমাকে বলবেন, আমি স্মৃতি থেকে সমস্ত লিখে দোব।’ তিনি আমার সম্পর্কে আরও বলেছিলেন, ‘আমি পৃথিবীর কোনো সাহিত্য আমার পড়া থেকে বড় একটা বাদ দিইনি। ___বাবু যে কোনো সাহিত্যে পদার্পণ করলে সে সাহিত্য ধন্য হত। একথা বলার অধিকার আমার আছে।’ নিজের মুখে নিজের কথা বলব না বলে আমি সারাজীবন সভাসমিতিসংবর্ধনা এড়িয়ে চলেছি। কিন্তু আজ একথা বলা আমার সাজে। আমি সার্থকনামা। বাংলা সাহিত্যে আমি সত্যিই অমর।

*****

উত্তর

উত্তর আমার আর দেওয়ার দরকার নেই, প্রায় সকলেই সবকটা উত্তর ঠিক দিয়েছেন, তবু প্রতিশ্রুতিমতো এই রইল

১. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
২. প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
৩. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
৪. মান্না দে 
৫. নবারুণ ভট্টাচার্য 
৬. উত্পল দত্ত 
৭. রাজশেখর বসু
    

January 27, 2014

বই-অবান্তর সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য




বইমেলা শুরু হচ্ছে ঊনত্রিশ তারিখ। অবশ্য ফিতে কাটা হবে আঠাশ তারিখই, কিন্তু মেলা বসবে ঊনত্রিশে জানুয়ারি থেকে নয়ই ফেব্রুয়ারি। অবান্তর বই কোথায় পাওয়া যাবে সে বিষয়ে আপনারা কেউ কেউ জানতে চেয়েছিলেন। সৃষ্টিসুখের স্টল নম্বর হবে ৪৬৫, যেটার অবস্থান হবে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের পাশে। সেখানে অবান্তর পাওয়া যাবে।

অনলাইন অবান্তর পাওয়া যাবে বইপত্র ডট কম (http://boipotro.com/) এবং আমাজনেও, তবে নির্দিষ্ট ইউ আর এল দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। ডাকযোগে যদি বই পেতে চান, আর যদি আরও কোনও প্রশ্ন থেকে থাকে, বেস্ট হবে রোহণকে ই-মেল করলে। রোহণের ই-মেল আইডি হল rohonkuddus@gmail.com


January 26, 2014

আত্মবিশ্বাস, অকল্যান্ড অ্যান্ড অল দ্যাট ক্র্যাপ




ঢোকার আগেই ঝটকা। বাংলার স্বাদ বাংলার রুটি? বাঙালি রুটি অবশ্য অবাঙালি তন্দুরি, নান কিংবা রুমালির থেকে এককোটিগুণ ভালো খেতে, তা বলে এতটা? তারপর বুঝলাম ওটা রুটি নয়, রুচি। বাংলার স্বাদ, বাংলার রুচি। অ্যান্টিক্লাইম্যাক্স আর কাকে বলে।

গত ছ’মাসে আমাদের যতগুলো সেলিব্রেশন বাদ পড়ে গেছে, এখন গুনে গুনে সেগুলো উশুল হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহান্তেই বাইরে খাওয়া। তাতে অবশ্য খারাপ লাগার কিছু নেই। লোকে রাঁধছে, আমি খাচ্ছি, খারাপ লাগবেই বা কেন?

সেদিন গিয়েছিলাম বাংলা খাবার খেতে। পাশের পাড়া অলকানন্দার সিটি অফ জয় নামের রেস্টোর‍্যান্টে। এ তল্লাটে সিটি অফ জয় নামে শাড়ির দোকান আছে, রোলের দোকান আছে, টেলরিং, ড্রাই ক্লিনিং, মুদির দোকানও খুলেছে দেখলাম সেদিন একটা। নামের কল্পনাশক্তির দৈন্য এঁরা পুষিয়েছেন রান্না দিয়ে। আগেও খেয়েছি একবার। তখন থেকেই আরেকবার আসার ইচ্ছে ছিল মনে।
  

সিটি অফ জয়ের সজ্জাটি বেশ। ছাদ থেকে ঝুলছে ছোট ছোট লণ্ঠন, তার গায়ের বাহারি কল্কার ফুটো দিয়ে আলো ছিটকোচ্ছে চারদিকে। দেওয়ালে সত্যজিৎ রায়, দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, মোটরবাইকের ওপর উত্তম-সুচিত্রা। চার কিংবা ছ’জনের বসার টেবিল।

কলকাতায় কী হয় জানি না, এখানকার বাংলা দোকানে খেতে গেলে একধরণের গাইডের দেখা পাওয়া যায়। বাংলা খাওয়া, বাংলা সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টির গাইড। কোনও একজন (বা একাধিক) অবাঙালি (বেশিরভাগ সময়েই অভারতীয়) সঙ্গীকে নিয়ে ফিশ ফ্রাই আর পাঁঠার ঝোল উইথ আলু খেতে খেতে বাংলার কুইজিন, কালচার নিয়ে জ্ঞানবিতরণ করেন এঁরা। সেদিনও নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। আমার সামনে (আর অর্চিষ্মানের পেছনে) বসেছিলেন গাইড আর তাঁর ছাত্র।
  

এবার একটা কথা বলে রাখা ভালো, আপনারা যদি ভাবেন যে আমরা খেতে গিয়ে খালি আড়ি পেতে অন্য টেবিলের কথা শুনি তাহলে খুব ভুল কিছু ভাববেন না। তার প্রধান কারণ হচ্ছে, গত চার বছর একে অপরের সঙ্গে অবিরাম বকবক করতে করতে আমাদের একে অপরকে ইমপ্রেস করার মতো সব কথা ফুরিয়ে গেছে। কবিতার লাইন শেষ, নাটকের সংলাপ শেষ, রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষ, এখন শুধু পড়ে আছে ‘আজ রাতে কী খাব আমরা?’ তাই আমাদের চুরি করে লোকের কথা শোনা ছাড়া গতি নেই। লোকের কথা শোনা আর সেখান থেকে নিজেদের কথার খোরাক জোগাড় করা।

তবে এই ক্ষেত্রে আড়ি পাততে আমাদের কানের ওপর বেশি বলপ্রয়োগ করতে হচ্ছিল না, গাইড ভদ্রলোকের গলা আপনিই রেস্টোর‍্যান্টের শান্ত হাওয়ায় গাঁকগাঁক করে ধ্বনিত হচ্ছিল। ‘কী হল ভাই, মাছভাজা হতে এত দেরি হচ্ছে কেন?’ ‘দে ইউজ বোনলেস ফিশ, সো ইউ’ল বি ফাইন’ ‘ভাই প্লেটটা চেঞ্জ কর, আর হ্যাঁ, দুটো আমপান্নাও নিয়ে এস। (সঙ্গীর দিকে ফিরে) হিয়ার দে রিয়েলি ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড দ্য কনসেপ্ট অফ প্যালেট ক্লিনসিং।’


আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গলার আওয়াজের জোরের একটা সহজসরল সম্পর্ক আছে। নাকের সঙ্গে দেমাকের মতো, পেটের সঙ্গে পেটে কথা না থাকার মতো। আমার দুটোর কোনটাই নেই। আত্মবিশ্বাস আর ভলিউম। ছোটবেলায় আমি গান গাইতে বসলে মাস্টারমশাই ঘোষণা করতেন, ‘এইবার কুন্তলা গাইবে, আমাদের সবার কানের এক্সারসাইজ হবে।’ বড় হয়েও অবস্থার যে খুব পরিবর্তন হয়েছে তেমন নয়, বিশেষ রকমের প্যাঁচালো পরিস্থিতিতে, অ্যাডভাইসর কিংবা কাস্টমস্‌ অফিসারের সামনে আমার কথা শুনতে হলে আপনাকে চেয়ারের একেবারে কানায় এগিয়ে এসে বসতে হবে। তবে যদি কিছু বোধগম্য হয়।

প্যালেট এবং প্লেট ক্লিনসিং হওয়ার পর মেন কোর্সে পোলাও, পাতুরি বাছার আগে আত্মবিশ্বাসী গাইড ছাত্রকে চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ডু ইউ ওয়ান্ট টু ইট ডাল অ্যান্ড অল দ্যাট ক্র্যাপ?’
  

এদিকে আমাদের অ্যাপেটাইজার এসে গেছে। কলকাতা ফিশ ব্যাটার ফ্রাই। সঙ্গে এসেছে ছোটছোট বাটিতে করে কেচাপ আর কাসুন্দি। লাল আর হলুদ। আমার ফেভারিট কালার কম্বিনেশন। বিয়ের কার্ডের কোণা থেকে গায়ের জার্সি---সবখানে এ জুটির জয়জয়কার।


বড় ভালো খেতে ছিল।

আমাদের নেক্সট কোর্সঃ কড়াইশুঁটির কচুরি আর আলুর দম।

ততক্ষণে ঘড়িতে দেড়টা বেজে গেছে, ঘরে ঘরে ঘুম ভেঙে বাঙালিদের লাঞ্চের সময় হয়েছে। রেস্টোর‍্যান্ট কানায় কানায় ভরে উঠল। আমাদের ঠিক পাশের টেবিলে চারজন এসে বসলেন, তখন বাধ্য হয়েই আমাদের অ্যাটেনশন তাঁদের দিকে ফেরাতে হল।

অ্যাটেনশন ঘোরানো মানে কিন্তু হাঁ করে তাকিয়ে দেখা নয়। চকিত চক্ষুপাতে আপাদমস্তক মেপে নেওয়াও নয়। অ্যাটেনশন ফেরানো মানে আক্ষরিক অর্থেই মনোযোগ দেওয়া। সেটা চোখ বুজেও দেওয়া যেতে পারে। কান আর মন খোলা রাখলেই হবে।

কানমন দিয়ে শুনে যা বোঝা গেল, পাশের টেবিলে মিট দ্য পেরেন্টস পালা চলছে। আগে লোকে রিকশা চেপে পাশে ঘটক আর হাতে রসগোল্লার হাঁড়ি নিয়ে পাত্রপাত্রী দেখতে যেত, এখন ঘটক বাদ, রিকশা বাদ, কেবল রসগোল্লার জায়গাটি কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

কবিরাজি ভেটকি, কাজুকিশমিশ পোলাও, কইমাছের কালিয়া, পার্শে বড়ি বেগুনের ঝোল, ডাকবাংলো চিকেন, রেলওয়ে মাটন, আমসত্ত্বখেজুর চাটনি আর চারপ্লেট গরম রসগোল্লা খেতে খেতে মেয়ের মাবাবা পাত্রের পরীক্ষা নিলেন। অবশ্য পাত্রের আত্মবিশ্বাস আকাশছোঁয়া, পরীক্ষায় তাকে ঘোল খাওয়ায় এমন মাবাবা পৃথিবীতে জন্মায়নি। আত্মবিশ্বাস বেশি, কাজেই আমরা সব পরিষ্কার শুনতে পেলাম। পাত্র অকল্যান্ডে থাকে, সেখানে নিজে কোর্মাকালিয়া হাত পুড়িয়ে রেঁধে খায়। দয়িতার মাস্টার্স শেষ হলেই বিয়ে করে অকল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে চাকরি খুঁজে দেবে। শুরুতে যা পাওয়া যায় সে চাকরি করতেই মেয়েটিকে রাজি থাকতে হবে, পরে বাছাবাছি। ‘আপনারা কিচ্ছু ভাববেন না।’

অকল্যান্ডের জামাইয়ের কথার ভারই আলাদা। মেয়ের বাবামা এবং মেয়ে ঝটিতি ঘাড় নাড়লেন। নিশ্চয় নিশ্চয়, বাছাবাছির প্রশ্নই নেই। আগে তো বিদেশের কূলে গিয়ে ভেড়া।


এবার কচুরি আর কষা মাংস। এ খাবারের সম্মান রাখতে পারে এমন কোনও কাঁটাচামচ আবিষ্কার হয়নি আজ পর্যন্ত, হাতের পাঁচটি আঙুল ছাড়া।

খুব খাওয়া হল। পাঁঠার মাংস অত নরম করেছে কী করে কে জানে, মুখের ভেতর গিয়ে একেবারে গলে যাচ্ছিল। আর মাংসের ঝোলের আলু। আহা। অমন স্বর্গীয় ব্যাপার কি আর কিছু আছে পৃথিবীতে? আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে মাংসের ঝোল আর আলুতেই হচ্ছে আসল মজা, মাংসটা এলেবেলে। উপরি।
  

খাওয়া শুরু করার আগে আমাদের গ্র্যান্ড প্ল্যান ছিল নলেনগুড়ের গরম সন্দেশ দিয়ে খাওয়া শেষ করা। কিন্তু মাটনের হাড় চিবোতে চিবোতেই টের পাওয়া গেল পেট অস্বাভাবিক রকম ভরে উঠেছে, নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া ক্রমেই কষ্টকর হয়ে উঠছে, সারাশরীরে বিষম আইঢাই ভাব। এরপর সন্দেশ খাওয়াটা হঠকারিতা হয়ে যাবে বুঝতে পেরে টাকা দিয়ে, মৌরি চিবিয়ে আমরা উঠে পড়লাম।

উঠে আসতে আসতে নজরে পড়ল দরজার পাশের টেবিলটায় ফড়িং-এর মতো দুটো ছেলেমেয়ে বসে আছে। ছেলেটার চুল কোঁকড়াকোঁকড়া, মেয়েটার চুল ঝাঁটার মতো সোজা---কপাল থেকে টেনে ঝুঁটি করে বাঁধা। দুজনের চোখেই চশমা, টেবিলের ওপর দুজোড়া অপরিণত হাত খুটখাট নুনমরিচদানি নিয়ে খেলছে, টেবিলের তলায় দুজোড়া অধৈর্য হাঁটু লাফাচ্ছে। আর সঙ্গে গড়িয়ে পড়া হাসি। কথায় কথায় খুকখুক, খিলখিল। আজ থেকে মাত্র বছরদশেক আগে আমিও যে অকারণে ক্ষণেক্ষণে হেসে গড়াতাম সেটা মনে পড়লেও অবাক লাগে।

ফড়িংদের টেবিলের পাশ দিয়ে আসতে আসতে হাসির চাপা দমক ছাপিয়ে ‘বোরিং কাপ্‌ল্‌’ শব্দদুটো কানে এল। রাস্তায় বেরিয়ে অর্চিষ্মানকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আমাদেরই বলল নাকি গো?’ অর্চিষ্মান বলল, ‘ওই বয়সে আমরা কী কী বলতাম মনে আছে? তাহলেই বুঝবে সেগুলোকে ইম্পরট্যানস দেওয়ার দরকার আছে কি নেই।’

আমার বুক থেকে একটা কাঁটা নেমে গেল। ঝলমলে রোদ্দুরে পিঠ সেঁকতে সেঁকতে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগালাম।


January 25, 2014

সাপ্তাহিকী





জন লেননের চুল ছাঁটা হচ্ছে। উৎস



পৃথিবীর সবথেকে ফোটোজেনিক ফোটোগ্রাফড জায়গাগুলো।


Did you have the most chaotic, most beautiful and most memorable childhood?

এ আর্টে আমার দক্ষতা সীমিত।



অ্যাডভেঞ্চার চাই? এখানে চলে যান।


আমার প্রিয় গান। আপনাদেরও কি?


January 24, 2014

চা-চার্ট



A Tea Chart I made to remember how to make a cup of tea for everyone who comes by the house. 
-navyvice

ওপরের চার্টটা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি নিচের চার্টটা বানিয়েছি। দেখুন তো, আপনার চায়ের পছন্দ দুই চার্টের কারও সঙ্গে মেলে কি না? নাকি আপনার অবস্থান একেবারে ইউনিক? 


ব্যক্তির নাম
দুধ?
দুধ দেওয়ার পর চায়ের রং?
চিনি?

চাই
চাই না
হালকা
মাঝারি
কড়া
চাই না
এক চামচ
দুই চামচ
তিন চামচ
আমি
দিনের প্রথম চা
বাকি সব চা

দিনের প্রথম চা

ü



অর্চিষ্মান
ü


ü



ü

বাবা
ü



ü

ü


মা
ü


ü


ü


ঠাকুমা
ü

ü





ü
মীরামাসি
ü

ü





ü
বিজলিদি
ü



ü


ü

বান্টি
ü

ü






ü



 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.