পনীরের বাজার
একটা জিনিস বুঝেছি এই বয়সে এসে। সবের বাজার আছে। সবের। যাদের মনে হচ্ছে বাজার নেই, মনে হয়ে দুঃখ হচ্ছে, গ্যারান্টি দিচ্ছি ভুল বাজারে আছেন। নিজেকে বদলাবেন না, মানে ইচ্ছে হলে বদলাতে পারেন আমি বলার কে, কিন্তু যদি শুধু বাজারের জন্য নিজেকে বদলানোর প্রয়োজন মনে করেন, থামুন। নিজে যেমন আছেন থাকুন। বাজার বদলান।
ব্র্যাকেটে বম্বে লেখা শিল্পীরা কলকাতায় এসে মান ও মানি নিয়ে চলে যাচ্ছেন বাবদে ক্ষোভদুঃখ প্রকাশ করে টাইমিং-এর গোলযোগে কলকাতার যে শিল্পী লিজেন্ডারি বিপদে পড়েছিলেন - একই ভুল করেছিলেন। কলকাতার শিল্পীদেরও বাজার আছে। কলকাতার বাইরে। যেমন দিল্লিতে। কলকাতার উচ্ছে থেকে শিল্প ডবল দামে ও আদরে বিক্রি হয়। পুজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী, কালীবাড়ির ভোটে কলকাতার শিল্পী, ব্যান্ডপার্টিরা আসেন। আমরা দৌড়ই। পৌষমেলায় মনোময় ভট্টাচার্য, ঋষি পাণ্ডা, জয়তী চক্রবর্তী এলেন। আমরা দৌড়লাম। দৌড়ের পুরোটাই কলকাতার খাতিরে না, এঁরা সবাই নিপুণ গাইয়ে ও দক্ষ পারফর্মার বলেও।
যেমন জয়তী চক্রবর্তী। জয়তী চক্রবর্তীর গান আমার পছন্দ। বাড়াবাড়ি রকম পছন্দ। কিন্তু গান পেরিয়েও জয়তীর প্রতি একটা প্যারাসোশ্যাল টান আমি পোষণ করি। মনে হয় জয়তী লোক ভালো। কোনও বেসিসই নেই মনে হওয়ার, তবু হয়। বছর তিন-চার আগে অ্যামেরিকায় বঙ্গ সম্মেলন নিয়ে গোল বেধেছিল, জয়তী প্রতিবাদ করেছিলেন। বঙ্গসম্মেলনের তরফের যুক্তি না শুনেই জয়তীর সবক'টি অভিযোগ বিশ্বাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। জয়তী জয়তী বলে, বঙ্গসম্মেলনের কর্তৃপক্ষকাটিং লোকজন সম্পর্কে আবছা আইডিয়া আছে বলেও। জয়তী সম্ভবতঃ কমিয়েই বলেছেন। আমাকে মিলিয়ন ডলার দিলেও ও সব লোকের ধার ঘেঁষব না। ।
*
রিষড়া গেলাম, বিজলীদি বাড়ি থেকে পনীর রেঁধে আনল। মুখে দিয়ে আহাবাহা করলাম। বিজলীদি বাবাকে বলল, দাদা দেখবেন নাকি এক পিস চেখে? বাবা হাতা দিয়ে পোস্ত নিতে নিতে বললেন, এক পিসের সঙ্গে একশো টাকা দিলেও না। ।
বিজলীদি হাসল। আমিও হাসলাম। দরকারের থেকে বেশ বেশিই। কিন্তু সে তো জানা কথা।।
পনীর আমারও ভালো লাগে না। বাঙালিরা ডালনায় যে ছানা দেয় সেটাও আমার ভালো লাগে না। ছানাফানা রসগোল্লাতেই ঠিক আছে। অর্চিষ্মান তরকারিতে ছানা খেয়ে নেয়, কিন্তু পনীর সহ্য করতে পারে না। রাজমা সরসো দা সাগ দিব্যি সইয়ে নিয়েছে (দিল্লির খাবার কীভাবে আমাদের ধীরে ধীরে পোষ মানাচ্ছে সে নিয়ে একটা পোস্ট লিখতেই হবে) কিন্তু পনীর পারেনি।
খারাপ লাগার প্রধান কারণ পনীরের অনমনীয়তা। বাইরে টক ঝাল নোনতা তেতো উমামি দিয়ে লটপট করে ফেলুন, কামড় দিয়েই ক্লিয়ার হয়ে যাবে ভেতরে পনীর শুধু পনীর এবং শুধুমাত্র পনীর হয়েই বিরাজ করছে। দ্বিতীয় কারণ ব্যাপারটার সর্বময়তা। এখানকার নর্থ ইন্ডিয়ান দোকানের মেনু এক পাতার হোক বা বত্রিশ পাতার, পড়ার পরিশ্রম করি না আমি। ভেজিটারিয়ান পদ যেটা পনীর নয় ওইটা আনুন, ভাইসাব। ওইটা, অবভিয়াসলি, মাশরুমের কিছু একটা।
এত সহজলভ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া কঠিং।
সেদিন দুটো সাঁইত্রিশে ব্লু টোকাই থেকে বেরিয়ে তিনটে সতেরোয় কাশ্মীর ভবন পৌঁছে দেখি ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তার ওপারে বিহার ভবন, ওড়িশা নিবাস। নিমের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ্দুর বরদলৈ মার্গ লেখা সবুজ বোর্ডে লুটোপুটি খাচ্ছে - কাজেই দেখা না গেলেও আসাম ভবন থাকতেই হবে কাছাকাছি।
অর্চিষ্মান যথারীতি বন্দুক আমার ঘাড়ে রাখল। তোমার যেখানে পছন্দ কুন্তলা, সেখানে যাব। বিহারে গেলেও হয়, আসামে গেলেও হয়, আবার পুরী গেলেও হয়। কতদিন যাইনি। বলে ওডিশা নিবাসের বোর্ডের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ফেলল।।
ভেবেছিলাম ওডিশা ভবনে মাটন থালি নেবে, কিন্তু আমাকে চমকে দিয়ে অর্চিষ্মান প্রন থালি নিল। আমি ডিলাক্স ভেজ। ভাত শাক আলুভাতে একটা শুকনো তরকারি (আলু শিম বা ওই গোছের কিছু) একটা ঝোল ( আলু ফুলকপি), সেমুইয়ের পায়েস। একটা পদ তো মিস করছিই, দুটোও হতে পারে। রাইট, পাঁপড়। একটা এখনও মনে পড়ছে না।
অর্চিষ্মানের অত বাহারের শাকসবজি ছিল না, ডাল তরকারি চিংড়ি। কিন্তু কিছু চিংড়ি, বস্। অর্চিষ্মান খাচ্ছে তো খাচ্ছেই, থালার ধারে চিংড়ির খোলসের পাহাড় হচ্ছে তো হচ্ছেই। অবশেষে চিংড়ি ফুরোল। কপালের ঘাম মুছে অর্চিষ্মান বলল, অনেকদিন পর এত ভালো খেলাম। তোমারটা ভালো ছিল কুন্তলা?
বললাম, ভালো তো ছিলই কিন্তু ভেজ থালি তাও আবার ডিলাক্সে পনীর মাশরুমকে পাত্তা না দেওয়ার জন্য এক্সট্রা মার্কস।
*
কোনও ভালো লাগা খারাপ লাগাই গাছ থেকে পড়ে না, কনটেক্সট ও কনডিশনিং-এর জলমাটি লাগে। জলমাটির বাঁধুনিতে তফাৎ হয়। এঁটেল বা বেলে। অ্যাসিডিক বা অ্যালকালাইন।
আমাদের পনীর-অপ্রীতির জমি বালিবালি, ফুসফুসে, নড়বড়ে। বাবার পনীরবিদ্বেষ নিশ্ছিদ্র, ঠাসবুনোট।বাবা পনীরের স্বাদ পছন্দ করেন না, যেমন গাজরের স্বাদও অপছন্দ করেন। গাজরের হালুয়া নিয়ে 'খান খান' করলে বাবা বলবেন না ভাই আমার পোষায় না। বলে খেল খতম করবেন। কত টাকা দিলে খাবেন, কত দিলে ভেবে দেখবেন, কত না দিলে খাবেন না - ও সবে যাবেন না।
পনীরের বেলা যাবেন। কারণ গাজর বাবার কাছে গাজর, পনীর পলিটিক্স। বাবার আর্থিক সামাজিক সাংস্কৃতিক আইডেন্টিটিতে আঘাত। পনীর প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে বাবার একটা ঘোষণা আছে, একটা ধিক্কার আছে, একটা চিৎকার আছে। বাঙালির পাতে পনীরের অবলীলায় ঢুকে পড়া ও গেঁড়ে বসা, বাবাকে ইমোশন্যাল করেছে। বাবার কাছে পনীর চিঁড়েচ্যাপ্টা একতাল ছানা নয়, বহিরাগত। পনীরের পেপার নেই। বা যে দেয় দিক, বাবা পনীরকে পেপার দিচ্ছেন না। একশো টাকা দিলেও না।
বন-এর মাথিয়াস বলেছিল ওর বাবা জীবনে ডিনারে পিৎজা খাননি। ততদিনে ডয়েশল্যান্ডের পাড়ায় পাড়ায় পিৎজার দোকান খুলে গেছে, বার্থডে পার্টির মেনুতে পিৎজা না থাকলে জার্মান বাচ্চারা সাতাশটা অলরেডি এক্সিস্টিং জার্মান গালি সন্ধি করে নতুন গালি বানিয়ে বাপমাকে পাড়ছে। মাথিয়াসের বাবা ঘাড় পাতেননি। গোটা পিতৃভূমি যখন পিৎজার সুনামিতে ভেসেছে, মাথিয়াসের বাবা শ্নিটজেল কুম্ভ তৈরি করে একা তা কামড়ে পড়ে আছেন।
মাথিয়াসের বাবার যা পিৎজা, আমার বাবার তাই পনীর।
*
ব্যাপারটা শুধু ঢুকে পড়াপড়ির নয়। টমেটোও বহিরাগত। উনিশশো তিরিশের আগে নাকি বাঙালিরা রান্নায় টমেটো দিত না। বা দিলেও ঠাকুরবাড়িটারির লেভেলে দিয়ে থাকবে, আমার পূর্বপুরুষরা বাজার থেকে শিওর টমেটো কিনতেন না, পূর্বনারীরা রাঁধতেন না। এখন টমেটোর বিরুদ্ধে স্বয়ং গর্গও গলা খুলবেন না।
আসলে ঢোকা ইমমেটেরিয়াল। কে ঢুকছে, আমার চোখের সামনে ঢুকছে কি না - এ সব ম্যাটার করে।
ভাষার কনটেক্সটে ঢুকে পড়া নিয়ে অর্পণের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বাংলাভাষায় ফার্সি, আরবি, চিনা, জাপানি, কোল, মুন্ডা আরও যত ভাষা আছে বিশ্বের, সব ঢুকে পড়েছে। ঢুকে পড়েছে কারণ ঢুকে পড়াই ভাষার নিয়ম। তাছাড়া শুধু বাংলার ভেতরেই সবাই ঢুকে পড়ছে তেমনও তো নয়, বাংলাও পড়শিদের ভাষাতে গটগটিয়ে ঢুকে পড়েছে। সবল প্রতিবেশীদের ভাষায় কম ঢুকছে, দুর্বল প্রতিবেশীদের বেশি।
এখানেও কোথায় ঢুকছি বা ঢুকতে পারছি জরুরি। সাঁওতালি ভাষায় বাংলার উপনিবেশ বিস্তার নিয়ে সেমিনারে ইন্টারেস্টেড নয় কেউ, অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে বি-এর লিস্টে 'বাবু' আছে খবর পেলে বাবুর মা পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপে সাত দিন আর কাউকে গুড মর্নিং গুড ইভনিং লিখতে দেবেন না, একা দাপাবেন।
আপাততঃ মাথাব্যথা দুটো ভাষাসংক্রান্ত। ইংরিজি আর হিন্দি। দুটোই ইন্দো ইউরোপিয়ান ভাষা, দুটোই বাঁ থেকে ডানে লেখাপড়া হয়, দুটোতেই দাঁড়ি ফুলস্টপ ছাড়া বাকি সব যতি কমন পড়ে, দুটোতেই সাবজেক্ট বাক্যের শুরুতে বসে - এই সব বাদ দিলে বাকি সব অমিল। বাঙালির কাছে একটা অ্যাসপিরেশন, একটা থ্রেট। থ্রেটের থেকেও খারাপ। এককালের বাংলা শিল্পসাহিত্যের কমেডি স্টেপল, এখন বাংলাকে উল্টেপালটে যা খুশি করে চলে যাচ্ছে। ইনশিওরেন্সের বিজ্ঞাপন সবার জীবনকে রঙ্গিয়ে দিচ্ছে, উল্লাসকে সহজ করে নিয়ে বলছে উলাস, আগেকে পরে পরেকে আগে করে দিচ্ছে।
কোনও মাই কা লাল হেসে দেখাক।
আমরা সময় নষ্ট না করে নরমতর মাটির খোঁজে বেরিয়েছি। হইচই-তে একেনবাবু সিরিজের সাম্প্রতিকতম গল্পের প্রেক্ষাপট পুরী। প্রতি এপিসোডের রানটাইমের অন্ততঃ পাঁচ মিনিট রাখা হয়েছে ভুলভাল ওডিয়া বলার কমিক রিলিফে। পঞ্চাশ বছর পর সাউথ ক্যালকাটার টিনএজাররা একে অপরকে 'কেমিতি আছন্তি' বলে ফিস্ট বাম্প দেবে যখন, কারা কারা হাসবে ভাবছি।
পঁয়তাল্লিশ বার 'বিকজ' দিয়ে বাক্য শুরু করুন, তেমন স্মার্ট হলে 'কজ' দিয়েও করতে পারেন, লোকে ঢোঁক পর্যন্ত গিলবে না। কেন-র পর কী বসিয়ে দম নিয়ে উঠতে পারবেন না, কলকাতা লিট মিটের মঞ্চ থেকে সেলিব্রিটি রেডিও জকি, সেলিব্রিটি কবি, সেলিব্রিটি ব্যান্ডমেম্বার আর বক্তৃতাবাজরা, 'আহ্, এখানে ইন্টেলেকচুয়াল কথা হচ্ছে দেখছেন না' বলে বকে দেবেন।
আমি ব্যতিক্রম নই। আমিও একই পদ। পাঁচ শব্দের বাংলা বাক্যে চারটে ইংরিজি শব্দ ব্যবহার না করে পারি না (চাইও না), এদিকে স্বীকৃতির জায়গায় মান্যতা দেখলে রাগ ধরে যায়। আমার অবশ্য সবেতেই রাগ ধরে যায়। সম্পূর্ণ বাংলা বাক্যের মধ্যে একটা করে বাট আর দুটো করে সো গোঁজে যারা, তাদের দেখলেও গা জ্বালা করে। কল্পনায় নানারকম প্রতিশোধমূলক পরিস্থিতি ভাঁজি। একটা ফেভারিট ফ্যান্টাসি হচ্ছে এত ঠোক্কর খেয়ে বাংলা বলতে হচ্ছে দেখে পডকাস্টার যদি দয়াপরবশ হয়ে ইন্টারভিউ ইংরিজিতে শিফট করেন? ইংরিজিতেই প্রশ্ন করতে থাকেন এবং করতেই থাকেন? বাংলায় ফেরত আসার কোনও উদ্যোগই না নেন?
কী হবে?
সবাই জানে কী হবে। এমন তোড়ে বাংলা বেরোবে যে বঙ্কিমদা পালানোর পথ পাবেন না।
(চলছে)
"এত সহজলভ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া কঠিন " darun❤️❤️
ReplyDeleteঠিক কি না?
Deleteঠিক ঠিক ঠিক!!
Deleteএকটা ডকুর কালার হচ্ছিল, প্রায় সারাদিন ধরে , তারই ফাঁকে পড়ে ফেললাম। মনটা ভালো হয়ে গেল । আমি চরম পনীরবিদ্বেষী । পৃথিবীর সব্বাই জানে আমি পনীর খাই না। জাস্ট " না" ।
ReplyDeleteআর অন্যদিকে বাংলাটুকুই নিয়ে বেঁচে আছি , নইলে এই রিল , প্রিওয়েডীং আর পডকাস্টের যুগে দেহত্যাগ করতে ইচ্ছে হয় ।
পডকাস্ট দেখি আমরা খুব। বাংলা স্ট্রিক্টলি। রুটিতরকারি নিয়ে গুছিয়ে বসে দেখি আর নিন্দে করি। অনেকে বলে না, অত খারাপ লাগে তো দেখ কেন, একসময় আমারও মাথায় ঢুকত না। এখন ঢোকে। হেট-ওয়াচ ইজ আ রিয়েল থিং।
Deleteহেট-ওয়াচ ই আসল স্বর্নখনি । নইলে ৯০ টু মিলিয়েনিয়ামের পরবর্তী বাংলা ছবি দেখবই বা কেন ! হইচই ও বেশ মজাদার ।পাড়ার পাঁচু আর টালিগঞ্জীয় মৎস্যকন্যাদের স্টার -হবার আপ্রাণ চেষ্টা মন দিয়ে দেখি ।
Deleteএই নিয়েই বেঁচে থাকা কুন্তলা !
আমার যদিও বাৎসরিক ভর ওঠে । একবার গ্রাফিক নভেল লিখলাম , তো একবার ফিচার ফিল্ম বানালাম। একবার কফি নিয়ে সারা পৃথিবী এক করলাম তো আর একবার ডাইনি নিয়ে ডকুমেন্টারি বানালাম।
হেট ওয়াচ আমার সাম্প্রতিক ক্রাশ ।
নাহ্, আপনি মাল্টিফ্যাসেটেড, সত্যি।
Deleteসহমত , বেচারা 'কেন কি' ইদানিং সফ্ট টার্গেট হয়ে গেছে, যে যেখানে পারছে গালাগালি দিচ্ছে।
ReplyDeleteআমার সবচেয়ে অপছন্দের বাংরেজি খিচুড়ির একটা :
" আমি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি থেকে বিলং করি" :(
আরো অসহ্য :
"তুমি কি সুন্দর লাগছো"
সর্ষে পোস্ট দিয়ে পনির কিন্তু অতটাও খারাপ না :)
একদম ঠিক, কাকলি। আসলে সবাই সবাইকে টুকছে তো, চারজন কেন কী-কে গালি দিয়েছে বলে বাকি সবাইও ওটাকেই গালি দিতে লেগেছে। নিজে থেকে হয়তো খেয়ালও করেনি। অন্য গোলমালগুওলোও চোখে পড়ছে না। অন্য কেউ, যাকে গুরু বলে মানে, গোলমাল বলে দাগিয়ে দিলেই লাফিয়ে পড়বে।
Deleteআমার নিজস্ব গাত্রদাহ হয় যখন কেউ বাড়িতে টেবিলে বসে পাঁচ আঙুলে ভাত চটকাতে চটকাতে বলে, মা শিঙি মাছের গ্রেভিটা একটু দাও তো।
টিভির ভেতর ঢুকে চড় মেরে আসতে ইচ্ছে করে। বলেই দিলাম।
আমার এক আত্মীয় পুরো সাউদি সিনেমার মত ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোসেসে মারা গেলেন।
ReplyDelete10th জানুয়ারী বাজার করে তিনতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠে পায়ে ব্যথা হল। 13th এ পা অসার হয়ে যায়, ডাক্তার দেখান। 17th MRI , বিরাট টিউমার আবিষ্কার। 23rd এ এম্বুলেন্সে শুয়ে কলকাতায় এলেন। 26th অপারেশন হল। অপারেশন সাকসেসফুল। বায়োপসি রিপোর্ট এলো স্টেজ ফোর লিম্ফোমা। এসব শুনেও হেসে হেসে বললেন " আমায় শুধু একটা হুইল চেয়ারে বসিয়ে দিক। ব্যাস, আমি দিব্যি থাকবো"।
কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হল। স্বাস কষ্ট, কিডনি খারাপ, সব অর্গান আরো খারাপ হল। ডাক্তার দুদিকে মাথা নেড়ে বললেন ফেরত নিয়ে যান। 11th ফেব্রুয়ারি আবার icu এম্বুলেন্সে শুয়ে জলপাইগুড়ি ফেরৎ গেলেন।
আবার নার্সিং হোম, আবার মেডিক্যাল কলেজ! তারপর সব মিলিয়ে চুয়ান্ন লক্ষ টাকা খরচ করে 15th ফেব্রুয়ারি মারা গেলেন।
এখন কদিন তাঁর শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিতদের খাওয়ানোর জন্য পনীর রাখা হবে কিনা এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছিল। কারণ উনি নিজে পনীর ও আলু খেতেন না! কিন্তু নিরামিষ খাবারে পনীর বা আলু না হলে তাহলে কি খাওয়ানো হবে?
পনীরের বাজার আছে... শ্রাদ্ধে!
প্রথমেই, এই রকম বিশ্বমানের একটা সিমিলি প্রয়োগের জন্য অভিনন্দন। কেয়া বাত। স্পিড তো বটেই, বাজেটও তো সাউথের সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া। কী কাণ্ড।
Deleteএই যে নিরামিষে পনীর ছাড়া কিছু খাওয়ানোর খুঁজে পাচ্ছে না বাঙালি, এটা আমার মাথায় ঢুকছে না। মাছমাংস ছাড়ার পর এই সেম ঝামেলা ফেস করছি। আমি বলছি আরে ধোঁকা আছে, আলুরদম আছে, ফুলকপির তরকারি আছে, পাঁচমিশেলি আছে - আমি স্বর্গের থেকেও ভালো খাচ্ছি, সবাই 'পনীরটা এদিকে আনো, পনীরটা এদিকে আনো' করে পাগল হয়ে যাচ্ছে। নেমন্তন্নবাড়িতে আরও ঝামেলা হচ্ছে, পয়সা প্রদর্শনের জন্য পনীরের সাইজ বড় রাখা। পারলে আড়াইশো গ্রামের প্যাকেট খুলে গোটা স্ল্যাবটাই ঝোলে চুবিয়ে নিয়ে আসে। তাতে যে পনীরের প্রাণঘাতিত্ব বাড়ছে বুঝছে না। একঘন্টা ধরে ইলাস্টিক ছানা, নুনচিনি ঝালটকহীন, চিবোও বসে বসে। পনীরকে প্যালেটেবল করার বেস্ট রাস্তা হচ্ছে ভুরজি করে ফেলা। তাতে আপত্তি থাকলে এক ইঞ্চি বাই এক ইঞ্চি কিউব। ব্যস। ওর থেকে বেশি হলে, শেষ।
আলুর ব্যাপারটা... টাফ। আলু ছাড়া লোকে জীবনের মধ্য দিয়ে হাঁটে কী করে আমি সিরিয়াসলি ভেবে পাই না। জৈনদের ওই কারণে আমি দূর থেকে স্যালুট করি।
এগুলোরও পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত শোনা যাচ্ছে। ফুলকপি এখন বিগত যৌবনা, তার সঙ্গে পোকার সহবাস। যতই ফুলকপির রসা বানানো হোক, কেউ খাবে না। অতএব বাদ। ধোঁকার ডালনা খেলে পেট ভার করত বাবার, তাই স্বর্গ থেকেও বাবা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারেন, ছেলের মন্তব্য। পাঁচমিশালি তরকারি এত উপাদেয় একটি পদ, কিন্তু অনুষ্ঠান বাড়িতে তার কদর নেই। সমস্ত মান সম্মান আটকে আছে পনীরে। আর আপনি যেমন লিখেছেন, পনীরের সাইজেও।
Deleteশেষমেশ কি কি মেন্যু হল আমি আর খবর নিই নি। কলকাতায় এসে গেছি।
দুরাত্মার ছলের... ইত্যাদি ইত্যাদি।
Deleteআরে...
ReplyDeleteখাবার দাবার আর তার রাজনীতি, মোক্ষম জায়গা একেবারে।
অদ্ভুত একটা বোকা বোকা জিনিস, পুরো সেইসব সিনেমার মতো, যেগুলো বাইরে জাঁক আর ভেতরে জাঙ্ক।
তাও পনিরের এত বাজারের কয়েকটা সোজা হিসেব আছে।
এক তো, যা খুশি একটা তেল মশলা ওয়ালা গ্রেভি বানিয়ে দিলেই চলে। বাঙালি হলে সর্ষে পোস্ত।
কিন্তু যদি ছানা বলেন ওই ডালনা, শীম হলে সর্ষে, পাঁচমিশালি হলে চচ্চড়ি। বেশিরভাগই ঘরোয়া ব্যাপার। তেল মশলার আতিশয্যে সাজানো যাবেনা। খুব কম দুএকটা অপশন আছে, ছোলে টোলে বাদ দিলে।
এবার সেসব অপশন আবার সব সময় পাওয়া যায়না। প্রবাসে আছি, শাক সবজির করুণ দশা এখানে। এঁচড় বলতে আধপাকা একটা গল্প পাওয়া যায়। একবার 'ডর কে আগে জিত' ভেবে ওর ই মধ্যে একটা কম হলুদ প্রায় সাদা গোছের কিনে এনে ছুরিতে তেল টেল মাখিয়ে কাটাকুটি করলাম, তখনই মনে হচ্ছিল কেসটা খাবো। তাও শেষ অবধি দেখে ছাড়ব ভেবে প্রেসার কুকারে দিলাম। তারপর ঘর জুড়ে কাঁঠালের গন্ধ ম-ম হয়ে গেলো।
ধোঁকা বানানোর কষ্টটাতো ছেড়েই দিলাম। হাতে রইলো আলুর দম। আমাদের একজন নিরামিষাশী বন্ধু আছে, তাকে নেমন্তন্ন করলে ওই ডালের বড়ার তরকারি, ফুলকপি এইসব দিয়েই চলে।
এবার শেষ পয়েন্ট। পনীর, যাকে বলে, বেশ ফরগিভিং। একটা ভালো পাঁচমিশালিই হোক, বা একটা ভালো ফুলকপির ডালনা, ভালো খেতে বানানো খুব সোজা নয়। হাতের তার লাগে। ছানার ডালনা করতে গিয়ে তো আমি ছড়িয়ে একশা করতাম, মিষ্টি হয়ে যেত, বড়া গুলো শক্ত হয়ে যায় এখনো। ফার্ন রোডের একটা কালি পড়া দেওয়াল ওয়ালা পুরোনো মিষ্টির দোকানে ছানার বড়া পাওয়া যায়, সেটা ছানা কম, ফুলুরি বেশি। কলকাতায় থাকতে শেষে সেখান থেকে ওই বড়া এনে মাঝে মধ্যে বানাতাম।
কিন্তু পনীর একটা যাহোক তাহোক সাদা হলুদ বা লাল গ্রেভি বানিয়ে দিলেই চলে। বা ওই সর্ষে পোস্ত দিয়ে ভাপিয়ে। প্রায় রেডিমেড ব্যাপার। মোদ্দা কথা বানানো সোজাসাপটা।
আমাদের রান্নাঘরে নর্থ ইন্ডিয়া এত বাড়াবাড়ি রকম রমরমিয়ে ঢুকে পড়ছে, আমারো মহা গা জ্বলে। কিন্তু কারণটা এখানে নানা প্রদেশের লোকজনের সাথে মিশে বুঝেছি।
সাটল সচরাচর জনপ্রিয় হয়না।
আর আর আর ই হিট হবে।
আমি নর্থ ইন্ডিয়ায় গটগটিয়ে ঢুকে পড়েছি, কাজেই নর্থ ইন্ডিয়ার আমার রান্নাঘরে রমরমিয়ে ঢুকে পড়ায় আমার আপত্তি নেই, বৈজয়ন্তী। আমার পনীর খেতে ভালো লাগে না। আমার পটলের দোরমা খেতে আরও খারাপ লাগে। কারণ খেতে খেতে সর্বক্ষণ মনে পড়ে যে এই পুরটা কেউ হাত দিয়ে চটকেছে, যাকে আমি তত ভালো চিনি না। বা বিউলির ডাল। যতবার খেয়েছি, খারাপ লেগেছে। আরও আছে। বাঙালির প্রিয় ফেনা ভাত। পান্তা ভাত। এবার বাড়ি গিয়ে গোটা সেদ্ধর মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ভালো লাগেনি।
Deleteআবার, হোস্টেলের মেসে জীবনে প্রথমবার কঢ়ি খেয়ে সেই যে মোহিত হয়েছি, এখনও মুগ্ধতা কাটেনি। রাজমা, ভীষণ ভালো লাগে।গোটা শীত জুড়ে সপ্তাহে দু'বার করে সর্ষে ষাক খেয়েছি, পাঞ্জাবী কায়দায়। কারণ, অতীব সুস্বাদু।
আই গেস, সবই শেষমেশ পার্সোন্যাল পছন্দ।
পনীরের গুণ তো আছে নিশ্চয়, না হলে এমনি এমনি খাদ্যাভাসে ঢোকে না। আপনি যেটা বললেন, বানাতে সোজা, সেটা তো একটা সাঙ্ঘাতিক প্লাস পয়েন্ট। অফিস যাওয়ার আগে কচুর লতি আর পনীর রাঁধার আইদার অর দিলে আমি প্রতিবার পনীর বাছব। যার আনঅ্যাকসেপ্টেবল লাগবে সে নিশ্চয় নিজে কিছু ব্যবস্থা করে নেবে, এই বিশ্বাস রেখে।
আরও একটা ব্যাপারে দ্বিমত হয়ে কমেন্ট শেষ করব। আমাদের কাছে বাঙালি খাবার সাটল। কারণ সর্ষের তেলের ঝাঁজ আমরা ঝাঁজ বলে চিনতে শিখিনি। বাঙালি খাবার যদি "অথেনটিক" উপায়ে ধারার সর্ষের তেলে রাঁধা হয় তাহলে অনভ্যস্ত কারও কাছে সে খাবারকে সাটল বলে প্রতিষ্ঠা করা খুবই অনাচার হবে।
আমার সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়।
Deleteনাহলে দ্বিমত না, আপনার সাথে একমত আমি। বাঙালি খাবার মাত্রই সাটল তো অবশ্যই না। আর সর্ষে আমার নিজেরও অতটা চলেনা। তেমন তেমন সর্ষের ঝাল, এমনকি পাতুরিও আমার ব্রহ্মতালু অবধি ঝাঁঝিয়ে দেয়।
আরেকটা ব্যাপারেও অত্যন্ত সহমত, সেটা হলো খাওয়াদাওয়া আর তার পছন্দ অপছন্দ মানুষের সবচেয়ে পার্সোনাল ব্যাপারগুলোর মধ্যে একটা।
কালিডাল, ছোলে, আমার বেশ প্রিয়, এবং কড়ি আর কার্ড রাইস আমার একেবারে ভালো লাগেনি।
তবে সব জিনিস পেঁয়াজ আদা রসুন টমেটো, নিদেনপক্ষে একগাদা মশলা দিয়ে গরগরে করে বানালে তবেই টেস্টি হবে। সে শাক সবজিই হোক, বা মাছ মুরগি, এমনকি ডালও..একই পদ্ধতি, এমনটাই বা কেন? আমার আসপাশে এমন লোকজন প্রচুর।
ওগুলোও ভালো। কিন্তু সাদামাটা খাবারে স্বাদ নেই, 'তোরা কীকরে যে খাস কে জানে?' সেরকম একটা উহ্য বক্তব্য ওয়ালা চাউনি, এটা খুব অদ্ভুত লাগে আমার। তাই ঝাল ঝাড়ছিলাম।
আলুপোস্ত কে ট্যারা চোখে দেখলে আমিও তার স্বাদ বোধ কে ট্যারা চোখে দেখতে বাধ্য।
খাওয়াদাওয়া আসলে প্রায় পুরোটাই কন্ডিশনিং বলে আমি বিশ্বাস করি। এবং সেই জন্য বাঙালি ফুড ব্লগার পডকাস্টে যখন থেমে থেমে, কেটে কেটে বলেন যে সারা পৃথিবীর খাবার খেয়ে এসে তিনি এ কথা ফেলুদাব্যোমকেশ ছুঁয়ে বলতে রাজি যে বাঙালি খাবার পৃথিবীর সেরা খাবার, আমার খুবই শক্ত লাগে।
Delete'তোরা কীকরে যে খাস কে জানে?' আমার খাবার সম্পর্কে এ সব বললে কেমন লাগে আমি জানি, তাই অন্যের খাবার সম্পর্কে এ ধরণের কথা বলা অ্যাভয়েড করি আরকি।
আচ্ছা, পনীর নিয়ে এত এত পর্যালোচনা করে পনীরকে তো মাথায় তুলে দেওয়া হল।
ReplyDelete"পনীর "লেখা দেখলেও বমি পাচ্ছে!!
হাহা, আপনার প্রতিক্রিয়া খুবই গেরিলা দেখছি, অভ্র।
Deleteআমি যদিও পনীর বেশ ভালো করে রান্না হলে খেয়ে নি, তবে আমার মা বাবা কিছুদিন আগে একটা বিয়েবাড়ি গিয়েছিল, সেখানে সব নিরামিষ আইটেম গুলো পনীর ছিল, স্টার্টারে পনীর পকোড়া, নান দিয়ে মটর পনীর, পোলাও দিয়ে পনীর বাটার মসালা , আমার এক মাসি খুবই অসুবিধায় পড়েছিল। কেমন বুদ্ধি সেই কেটারিং এবং বাড়ির লোকের কে জানে। ক্ষমার অযোগ্য।
ReplyDeleteবুদ্ধি জিনিসটা সুলভ নয়, ঊর্মি।
Deleteআপনি মেমোর লিখছেন ?? মানে ঢাউস বই টই এর পরিকল্পনা নেই?? নিজের গপ্পো , যা লিখছেন ব্লগে... অনেকক্ষণ ধরে পড়ব , অল্প অল্প করে...। এরকম প্ল্যান ট্যান নেই ??
ReplyDeleteসে রকম এখনও কিছু ভাবিনি, অভ্র। যা লেখার সাহস হয়েছে, তা তো এখানে লিখেই ফেলেছি মনে হয়। যেগুলো লেখার হয়নি, কোনওদিন সাহস হলে সেগুলো নিয়ে বই লেখা যেতে পারে।
Deleteতুলির পছন্দ.... আজকের কাগজে। এত খুশী বহুদিন হইনি। আপনার অনেক উন্নতি হোক।
ReplyDeleteআমার কেন মনে হচ্ছে নিচের কমেন্টটাও আপনারই, তাই একসঙ্গে উত্তর দিয়েছি। যদি তা না হয়, তাহলে নিচের যা যা লিখেছি সেই একই কথা আপনাকেও বলার।
Deleteআমার অনেক ভালোবাসা নেবেন।
পর পর অ্যানোনিমাস দুটোই আমার কমেন্ট। কাগজ খুলে দেখেই প্রথমটায় উত্তেজনা সামলাতে পারিনি। তৎক্ষণাৎ প্রথম মেসেজ। তারপর মনে হল আপনাকে ভালোবাসা জানানো হল না, তাই পরেরটা।
Deleteআজ আমার খুব ব্যস্ততা ঘেরা দিন গেল। আমার মেয়ের আজ জন্মদিন। আজ একুশে পা দিল! ভেবেছিলাম বানী বসুর একুশে পা উপহার দেব। কিন্তু ও বাংলায় অত সড়গড় না। মাঝেমাঝে বলে মা, আমি বাংলাটা শিখব, তারপর আবার খেই হারিয়ে ফেলে। । সে এখন আমার থেকে অনেক দূরে দিল্লীতে পড়ছে । এই প্রথম জন্মদিনে ও আমার কাছে নেই। সকালে মনটা একটু নড়বড়ে হয়ে ছিল। মনকে তাই অনেকগুলো কাজ দিলাম, ব্যস্ত থাকলে মন বিগড়ে যাওয়ার সময় পায় না।
এবারে আপনার উত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে লিখছি। অফকোর্স চয়েস আর পছন্দে দুটো ভিন্ন শব্দ ছাড়াও ভাব প্রকাশে তাদের মধ্যে বিস্তর আছে। আর কোনো মানুষকে নিজের জীবনের অ্যালাই হতে অ্যালাউ করা যায় কিনা তার চয়েস নিশ্চিতভাবে থাকা উচিৎ, এটা পছন্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। আমার খুব ভালো লেগেছে! আপনি প্রচুর পড়াশোনা করেন তো তাই লেখাগুলো পড়ে একটু হলেও মনটা প্রসারিত হয়। অনেক অনেক লিখবেন প্লিজ।
মেয়েকে আমার তরফ থেকে জন্মদিনের বিলম্বিত শুভেচ্ছা। মন খারাপ করবেন না, দিল্লি, লোকে যে যাই বলুক, ভালো জায়গা। আর মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আছে, দারুণ আছে। একুশ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে যারা থেকেছে জানে এ আনন্দ কী। জীবনভরের রসদ জোগাড় করছে।
Deleteআমার তো লিখতেই ভালো লাগে। আর কিছু করতে ভালো লাগে না। কাজেই লিখব। আপনারা পড়লে সে ভালোলাগা চতুর্গুণ হবে।
আপনি আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখকের একজন। ভালোবাসা নেবেন।
ReplyDeleteআমি এই কথাটা অনেকবার লিখি, কিন্তু যতবারই লিখি খাঁটি সত্যি লিখি। আপনার কমেন্টের মতো কমেন্ট পেলে আমার সারাদিন ঝলমলে হয়ে যায়।
Deleteআপনাকে বলি, গল্পটার নাম আমি দিয়েছিলাম 'তুলির চয়েস'। ওঁরা ওঁদের পলিসি অনুযায়ীই সেটা বাংলা করেছেন আমি জানি, কিন্ত চয়েস আর পছন্দ এক? বলুন? আমি এক পার্সেন্টও ক্ষোভ নিয়ে বলছি না কিন্তু। দশ দিন আগেও আজকের সম্ভাবনা আমার কল্পনার বাইরে ছিল, তাই গোটাটাই বিস্ময় ও ভালোলাগা আমার কাছে।
আমার অনেক ভালোলাগা ভালোবাসা নেবেন। আরও প্রিয়তর লেখক যেন হয়ে উঠতে পারি, সেটাই একমাত্র চাওয়া।
রিপ্লাইটা আগের কমেন্টে একসঙ্গে দিয়ে ফেললাম।
Deleteখুব ভালো থাকবেন।
অন্তরমহল সিনেমায় একটা দৃশ্য আছে, যেখানে জ্যাকি শ্রফ হিন্দিতে চিংড়ি মাছকে ঝিঙে (হিন্দি শব্দটা "ঝিঙ্গা") বলে শুনে, হিন্দি ভাষার প্রতি অবজ্ঞা করে হাসছেন। কেন জানি না, ওই দৃশ্যটা কখনো ভুলিনি। অচেনা বা অন্যরকম জিনিসের প্রতি গ্রহণযোগ্যতার অভাব এবং সেটাকে তুচ্ছ করার প্রবণতা থেকে যে মনের সংকীর্ণতাটা প্রকাশ পায়, মনে হয়েছিল যে ওই দৃশ্যে সেটা দারুণভাবে ফুটিয়ে ধরা হয়েছে জ্যাকি শ্রফের চরিত্রের মধ্যে। এই লেখার শেষটা পড়তে পড়তে ওই দৃশ্যটা আবার মনে পড়লো।
ReplyDeleteআগের রবিবার আপনার লেখা গল্পটি যে বেরিয়েছে, সেটা আগে খেয়াল করিনি। ওপরে কমেন্ট দেখে, রবিবারের কাগজ বের করে, পড়ে নিলাম। ভালো লাগলো।