Posts

কফি শপ ৫ঃ বন্ধুত্বের বেসিস

ব্লু টোকাইতে নিয়মিতদের একজন শরদ। উদয়পুরের লোক। চোখে রে ব্যান, কাঁধে মোকাবারা ব্যাকপ্যাক, পায়ে মহার্ঘ ও স্পটলেস জুতো। ব্র্যান্ডের নাম জানি না, তবে ব্র্যান্ডের তো বটেই । সানস্ক্রিন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোয় না, কবজিতে ল্যাপিস লাজুলির বিডস পেঁচিয়ে ঘোরে, ঘাড়-পেরোনো শ্যাম্পু করা চুল কখনও ঝুঁটি বাঁধে কখনও খোলা ছাড়ে। পাশে বসলে যে সুবাস ঝাপট মারে তা আমার অ্যামাজন থেকে চারশো নিরানব্বই টাকায় চার সেন্টের কম্বো প্যাক, সোম থেকে বৃহস্পতি বাঁ দিক থেকে ক্রমে ডানে গিয়ে শুক্রে আবার বাঁয়ে ফিরে মহানন্দে ফুস ফুস মেখে বেরোই - সে রকম প্যাক থেকে বেরোয়নি গ্যারান্টি। উইকডেজে প্যান্টের সঙ্গে শার্টের, শার্টের সঙ্গে জুতোর, জুতোর সঙ্গে জ্যাকেটের এসথেটিক নিবিড় (আমি এই মুহূর্তে হলুদ জামা, নীল জিন্স, লাল টিপ, কালো দুল পরে বসে আছি), শনিরবি ক্যাজুয়াল টি অথবা ঢিলেঢালা ফুলছাপ শার্ট। যা দেখে যেই না বলেছি বাহ্‌ বেশ তো, শরদ বলেছে, দিস ওয়ান? চিপ স্টাফ ফ্রম ব্যাংকক। একদিন ইস্তানবুল-এর পাতা উল্টোচ্ছিলাম বসে বসে, তাতে বলল একসময় নাকি ও টার্কির কফিশপে বসে কাজ করত, বলে ফোন খুলে আমাকে ওর টার্কির কফি শপের ছবি দেখাল। ব্র্যান্ড, বিট কয়েন, ব...

পনীরের বাজার

একটা জিনিস বুঝেছি এই বয়সে এসে। সবের বাজার আছে। সবের। যাদের মনে হচ্ছে বাজার নেই, মনে হয়ে দুঃখ হচ্ছে, গ্যারান্টি দিচ্ছি ভুল বাজারে আছেন। নিজেকে বদলাবেন না, মানে ইচ্ছে হলে বদলাতে পারেন আমি বলার কে, কিন্তু যদি শুধু বাজারের জন্য নিজেকে বদলানোর প্রয়োজন মনে করেন, থামুন। নিজে যেমন আছেন থাকুন। বাজার বদলান। ব্র্যাকেটে বম্বে লেখা শিল্পীরা কলকাতায় এসে মান ও মানি নিয়ে চলে যাচ্ছেন বাবদে ক্ষোভদুঃখ প্রকাশ করে টাইমিং-এর গোলযোগে কলকাতার যে শিল্পী লিজেন্ডারি বিপদে পড়েছিলেন - একই ভুল করেছিলেন। কলকাতার শিল্পীদেরও বাজার আছে। কলকাতার বাইরে। যেমন দিল্লিতে। কলকাতার উচ্ছে থেকে শিল্প ডবল দামে ও আদরে বিক্রি হয়। পুজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী, কালীবাড়ির ভোটে কলকাতার শিল্পী, ব্যান্ডপার্টিরা আসেন। আমরা দৌড়ই। পৌষমেলায় মনোময় ভট্টাচার্য, ঋষি পাণ্ডা, জয়তী চক্রবর্তী এলেন। আমরা দৌড়লাম। দৌড়ের পুরোটাই কলকাতার খাতিরে না, এঁরা সবাই নিপুণ গাইয়ে ও দক্ষ পারফর্মার বলেও। যেমন জয়তী চক্রবর্তী। জয়তী চক্রবর্তীর গান আমার পছন্দ। বাড়াবাড়ি রকম পছন্দ। কিন্তু গান পেরিয়েও জয়তীর প্রতি একটা প্যারাসোশ্যাল টান আমি পোষণ করি। মনে হয় জয়তী লোক ভালো। কোনও বেসি...

প্রুস্ত প্রশ্নমালা

বাজারে পাঁচশো রকম প্রুস্ত প্রশ্নমালা ঘুরছে। আরও পাঁচশো রকমফের। রকমফেরগুলো না হয় বুঝলাম, যাঁরা নিজেদের 'আদি' বা 'আমাদের কোনও শাখা নেই' দাবি করছেন, তাঁদেরও একে অপরের সঙ্গে প্রশ্ন মিলছে না। সে সব 'আদি' প্রশ্নমালার মধ্যে পছন্দসই একটা নিচে দিলাম। l. What is your idea of perfect happiness? খুব, খুব, খুব মন দিয়ে কিছু করা। সব কিছু, সব দিক, সবার থেকে মন গুটিয়ে একটি বিন্দুতে - সে ক্যালকুলাস হোক বা ক্যান্ডি ক্রাশ - সংহত করা। বেসিক্যালি, নিবিষ্টতা। নিমগ্নতা। 2. What is your greatest fear? মরে যাওয়ার সময় যদি মনে হয়, অন্যভাবে বাঁচলে হত? মাগো। 3. What is the trait you most deplore in yourself? শুরু করে শেষ না করতে পারা। 4. What is the trait you most deplore in others? অভদ্রতা। 5. Which living person do you most admire? অর্চিষ্মান মিত্র। 6. What is your greatest extravagance? ওয়ার্ক ফ্রম কফিশপ। দিনে তিনটে করে কফি কিনে খাওয়া। বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার। 7. What is your current state of mind? অর্চিষ্মানের দেওয়া একটা নীল রঙের ভীষণ সুন্দর জামা আর স্পেশাল অকেশনের একটা দুল প...

এখনও পড়িনি, পড়বঃ মার্সেল প্রুস্তের ইন সার্চ অফ লস্ট টাইম

Image
খারাপ বইয়ের তাৎপর্য মানুষের জীবনে অসীম। খারাপ যে কোনও কিছুর। খারাপ বই, খারাপ লেখা, খারাপ সিনেমা, খারাপ খাবার, খারাপ বন্ধু্‌, খারাপ প্রেমিক, খারাপ সময় - ভালো বই থেকে শুরু করে ভালো সময় খায় না মাথায় বোঝার একমাত্র পথ। ভালো বই চিনতে খারাপ বই পড়তেই হবে। বেছে ভালো বই পড়েন যাঁরা তাঁদের 'অমুক বইটা পড়ে দেখিস, ভালো' রেকোমেন্ডেশন আমি সিরিয়াসলি নিই না। উনি খারাপ বই না পড়ে ভালো বই চিনলেন কী করে বুঝে ফেললেই নেব। কিন্তু না পড়া বই? তারাও কি আমাদের জীবনে তাৎপর্য বহন করে? আমার তো মনে হয় করে। সব না পড়া বই করে না, বুককেসে যত বই পড়ে পড়ে ধুলো খাচ্ছে, ফোল্ডারে যে সব পি ডি এফ পাঁচ পাতার বেশি এগোয়নি, তাদের সবাই কি আর করছে? কিন্তু সোমেন যেই 'না পড়া বই নিয়ে একটা লেখা দিন, কুন্তলা' ফোনে বললেন - আমার উবার তখন বইমেলা থেকে বেরিয়ে উল্টোডাঙার জ্যামে ফেঁসে - এই বইটা মনে পড়ে গেল। মার্সেল প্রুস্তের সাত খণ্ডের 'ইন সার্চ অফ লস্ট টাইম', যার ফ্রেঞ্চ নাম ' À la recherche du temps perdu ' । যে বইটা আমি সেই কবে থেকে পড়ব বলে কোমর বাঁধছি অথচ ম্যানেজ করে উঠতে পারছি না। সবাই জানে 'ইন সার্চ অফ লস্ট...

হোয়াট আই লাইক অ্যাবাউট ডোমেস্টিসিটি

প্রসেনজিৎ যখন জানতে চাইল মেলায় যাব কি না,  সবে বাড়ি ঢুকে হিটারের সঙ্গে প্রায় বডি কনট্যাক্ট করে লেপের ভেতর ঢুকেছি। দিল্লির শীতের সেই দু’সপ্তাহ চলছিল যেখানে সবার সব কিছু জমে যাচ্ছে, রোদ উঠছে না, মনে হচ্ছে একটা ভেজা কুম্বলের স্ট্রেট জ্যাকেট কেউ পরিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে হাওয়ার তীরে হৃদপিণ্ড কঁকিয়ে উঠছে। আমি কোঁকাতে কোঁকাতেই আনন্দে লাফাচ্ছি, অর্চিষ্মান বলছে, মাগো এ যন্ত্রণা শেষ কর। প্রসেনজিৎকে বললাম, বাড়িতে আগুন লাগলে খবর দিয়ো ভেবে দেখব বেরোব কি না। নিজে লেপের ভেতর থেকে বেরোতে পারলে খবর দেব'খন, বলে আগের দিনের বেঁচে যাওয়া আলুভর্তা দিয়ে চারটে আলুপরোটা ভেজে, চার কাপ চা করে প্রসেনজিৎ চলে গেল। দু’কাপ অর্চিষ্মান এলে খাওয়া হবে, দু’কাপ পরোটা খেয়ে উঠে। ও আর পেয়ারাও কেটে রেখে গেল। প্রতি মাঝরাতের পেরি পেরি ফ্রাইজের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে কিছু করা যায় কি না ভাবছিলাম দু’জনেই। বয়স তো হচ্ছে। বলেছিলাম, সোজা তো। উইলপাওয়ার বাড়াও, কে এফ সি-কে জীবনের মতো ত্যাগ দাও, আলুভাজাকে বল ইটস নট ইউ ইটস মি। অর্চিষ্মান বলেছিল, কুন্তলা, এটাই হচ্ছে তোমার সমস্যা। চরমপন্থা। চারদিন নিজেকে চাবুক মারবে, পাঁচদিনের দিন আলুভাজা...

একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে

Image
এবারের কলকাতা বইমেলায় গুরুচণ্ডা৯ থেকে আমার একটা গল্প সংকলন বেরোচ্ছে। নাম ‘একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে’। বইটা এ’রকম দেখতে। প্রচ্ছদ করেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়। আগের বছরই কমফর্টেবলি বার করা যেত, এ বছরেও যে বেরোচ্ছে তাতে আমি নিজেকে নিয়ে ইমপ্রেসড। গল্পগুলো সব লেখা ছিল, ভেবেছিলাম টুকটাক সারিয়ে নিলেই হবে কিন্তু এত সময় ধরে সারানোর দরকার বোধহয় ছিল না। সময় যে কোনও প্রক্রিয়ার যেমন জরুরি উপকরণ তেমন দীর্ঘসুত্রিতার ছুতোও। একবার হাত থেকে বেরিয়ে গেলে আর যে কিছু করার থাকবে না সেই আতংকের কোপিং মেকানিজমও। এই বইটার ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ দ্বিতীয়টা। জাস্ট ছাড়তে পারছিলাম না। অথচ লেখা গালে পুরে বসে থাকার সঙ্গে লেখার মানের সম্পর্ক নেই। একটা প্যারাগ্রাফের দিকে তাকিয়ে একঘণ্টা ধ্যান করলে সেটার বানান দাঁড়ি কমা বাক্যগঠন আপনাআপনি ভালো হয়ে যায় না। একটা বাক্য পাঁচবার লিখলে পাঁচবারেরটা প্রথমবারেটার থেকে পাঁচগুণ বেটার হয় না। একটা পয়েন্টের পর সময় নেওয়া শুধু নষ্ট করার জন্য। কারণ সময় আর - পুরুষকারবাদীরা রেগে যাবেন জেনেও বলি - পরিশ্রম দিয়ে সাধ্যের সীমা অতিক্রম করা যায় না। * বইটাকে আমি ছোটগল্প সংকলন বলছি না, কারণ সব গল্প ছোট নয়। ছত্রিশশো শ...