Posts

একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে

Image
এবারের কলকাতা বইমেলায় গুরুচণ্ডা৯ থেকে আমার একটা গল্প সংকলন বেরোচ্ছে। নাম ‘একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে’। বইটা এ’রকম দেখতে। প্রচ্ছদ করেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়। আগের বছরই কমফর্টেবলি বার করা যেত, এ বছরেও যে বেরোচ্ছে তাতে আমি নিজেকে নিয়ে ইমপ্রেসড। গল্পগুলো সব লেখা ছিল, ভেবেছিলাম টুকটাক সারিয়ে নিলেই হবে কিন্তু এত সময় ধরে সারানোর দরকার বোধহয় ছিল না। সময় যে কোনও প্রক্রিয়ার যেমন জরুরি উপকরণ তেমন দীর্ঘসুত্রিতার ছুতোও। একবার হাত থেকে বেরিয়ে গেলে আর যে কিছু করার থাকবে না সেই আতংকের কোপিং মেকানিজমও। এই বইটার ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ দ্বিতীয়টা। জাস্ট ছাড়তে পারছিলাম না। অথচ লেখা গালে পুরে বসে থাকার সঙ্গে লেখার মানের সম্পর্ক নেই। একটা প্যারাগ্রাফের দিকে তাকিয়ে একঘণ্টা ধ্যান করলে সেটার বানান দাঁড়ি কমা বাক্যগঠন আপনাআপনি ভালো হয়ে যায় না। একটা বাক্য পাঁচবার লিখলে পাঁচবারেরটা প্রথমবারেটার থেকে পাঁচগুণ বেটার হয় না। একটা পয়েন্টের পর সময় নেওয়া শুধু নষ্ট করার জন্য। কারণ সময় আর - পুরুষকারবাদীরা রেগে যাবেন জেনেও বলি - পরিশ্রম দিয়ে সাধ্যের সীমা অতিক্রম করা যায় না। * বইটাকে আমি ছোটগল্প সংকলন বলছি না, কারণ সব গল্প ছোট নয়। ছত্রিশশো শ...

কফি শপ ৪ঃ রা

রা-এর সঙ্গে অধিকাংশ দিন কথা হয়। যেদিন হয় না, একে অপরকে হাত তুলে সংকেত দেওয়া হয় আমি তোমাকে দেখলাম, তোমার আমাকে দেখারও প্রাপ্তিস্বীকার করলাম। রা পাঞ্জাবী মেয়ে, যোগব্যায়ামের দিদিমণি। রেগুলার যোগসাধনার পরিণতি রা-কে দেখে বোঝা যায়। একটা জলজ্যান্ত ধ্যান যেন সাউথ দিল্লির ঢিকচিক ঢিকচিক ভাংড়ামিক্সের মধ্যে দিয়ে চলেছে। রা-এর কথা দাঁড়িকমাশুদ্ধু শুনতে হলে আমাকে রেগুলার গলা বাড়িয়ে মুণ্ডু প্রায় ধড় থেকে আলাদা করে ফেলতে হয়। জীবনের যাবতীয় প্রত্যাখ্যাত প্রেমের ইজাহারও আমি ওর থেকে বেশি ডেসিবেলে করেছি। রা-এর হাঁটা ওপর ওপর দেখলে নর্ম্যাল - এ পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুল, আবার ও পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুল। সবাই যে রকম হাঁটে। কারণ হিউম্যান অ্যানাটমি ওই রকম হাঁটার জন্যই উপযোগী। কিন্তু অ্যানাটমি তো বাঁশ খড় মাটি। একই বাঁশ খড় মাটি দিয়ে বাগবাজারও হচ্ছে, কলেজ স্কোয়ারও হচ্ছে। আমিও হয়েছি, দীপিকা পাড়ুকোনও হয়েছেন। তেমনি রা আর আমার হাঁটার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সিমিলার এবং সিমিলারিটির ওখানেই শেষ। দূর থেকে আমাকে আসতে দেখলে মনে হবে মফঃস্বলী মেলায় বেঁকেচুরে যাওয়া বেলুন মানুষ। প্রতি পদক্ষেপে চটি ছিটকে যাচ্ছে। শরীরের অণুপরমাণুরা কেন্দ্...

২০২৬ রেজলিউশন

তিন্নি নববর্ষের সকালে বসে বসে বোর হচ্ছিল। ফোন করে বলল, কুন্তলা তোর রেজলিউশনের লিস্ট দে, পড়ে চোখ ঘোরাই আর তাহলেই হয়েছে বলে নাকের ভেতর দিয়ে হাসি। তানানানা করছি দেখে বলল, না হয় ছোট দেখে লিস্টই দে। খেলিয়ে লেখ দাবি করলে, না ভাই আমার আঙুলে মশা কামড়েছে বলে কাটানো যায়, কিন্তু যে অলরেডি অল্প করে চাইছে তাকে ফেরানো শক্ত। কাজেই এই থাকল আমার রেজলিউশনের ছোট দেখে লিস্ট। ১। দু’হাজার ছাব্বিশে আমি দরকারের বেশি একটি কথা দাঁতের ফাঁক দিয়ে বার করব না। ২। দু’হাজার ছাব্বিশে আমি অ্যালার্ম দিয়ে দিনে পনেরো মিনিট ইউটিউব শর্টস দেখব, ষোল মিনিট হয়ে গেলেই নিজের পিঠে কাঁটার চাবুক সপাং সপাং মারব। ৩। দু’হাজার ছাব্বিশে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেব। যত না দু’হাজার ছাব্বিশ বলে তার থেকে বেশি পঁয়তাল্লিশ বলে। হাঁটাহুটি আমার ভালোই হয়, আমাকে কন্ট্রোল করতে হবে ডায়েট। আমি একটা অত্যাশ্চর্য পরিমাণ হাবিজাবি খাই। অর্চিষ্মান না থাকলে হিসেব নিয়ে দেখেছি, সারাদিন আমি তিন কাপ কফি, এক প্যাকেট ম্যাগি আর দুশো গ্রাম নাট ক্র্যাকার খেয়ে বসে থাকি। এ সব বন্ধ করব। পঁয়তাল্লিশে এইসব পেঁয়াজি করলে অচিরেই মূল্য চোকাতে হবে। ৪। দু’হাজার ছাব্বিশে কিছু লোক...

Why literature works

Any idea we express is just one of many we have within us. In daily life, of course, we choose to identify with, and endorse, and live by, and fight for certain of those ideas and dampen others that, nevertheless, we’re capable of imagining: vestigial traces of philosophies we embraced when young but have since rejected (hello, Ayn Rand), the strange voices in which we used to speak, ideas that we disagree with politically and that make us uncomfortable when we find traces of them within us. If you’re a pro-immigration person, are there anti-immigrant feelings down there inside you? Of course: that’s why you get so emotional when arguing for immigrants’ rights. You’re arguing against that latent part of yourself. When you get mad at a political opponent, it’s because he’s reminding you of a part of yourself with which you’re uncomfortable. You could, if forced, do a decent imitation of an anti-immigrant person. (Similarly, that angry anti-immigration advocate is railing against his inn...

সামবডি'জ আউট

Image
আমার আর অর্চিষ্মানের একটা ঐকমত্যের জায়গা হচ্ছে মানুষ লাফেবলি, পিটিফুলি ট্রান্সপারেন্ট। একটা লোকের সঙ্গে পনেরো মিনিট কথা বললে তার পনেরোটা ইনসিকিউরিটি ধরে ফেলা সম্ভব। আমরা ভাবছি চমৎকার ঢাকাঢুকি দিয়ে রেখেছি নিজেকে, আসলে উদোম ঘুরছি। তেমনি দুটো লোককে - যদি না তারা একেবারে অচেনা হয়, যদি দূরতম সম্পর্কের সুতো দিয়েও একে অপরের সঙ্গে গাঁথা থাকে - নিজেদের মধ্যে ইন্টারঅ্যাকট করতে বা পাশাপাশি চুপ করে বসে থাকতে দেখলেও প্রায় পুরো গল্পটা পড়ে ফেলা সম্ভব। আড়চোখে তাকাতে দেখলে তো হয়েই গেল। সবথেকে সহজপাঠ্য স্বামীস্ত্রীর সম্পর্ক। কারণ এই একটা সম্পর্কে নাতিশীতোষ্ণ বলে কিছু হয় না। হয় তুন্দ্রা, নয় থর। আঁচ গায়ে লাগবেই। অর্চিষ্মান বলবে, ভ্যাট। সব স্বামীস্ত্রীর মধ্যে অত আঁচটাচ থাকে না। প্লেন অভ্যেস। অ্যাপাথি? অনাগ্রহ? উদাসীনতা? রাইট। সেটা ধরা তো আরও সহজ। উদাসীনতা, প্রেম ও ঘৃণা দুইয়ের থেকেই তীব্র কাজেই প্রকটতর। * আমরা একটা বাংলা ভ্লগিং চ্যানেল দেখি মাঝে মাঝে। এই সব চ্যানেলে যা দেখায় - চিকেনমটন খাওয়া, শপিং মলে গিয়ে মশলার কৌটো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পছন্দ করা আর জরিদার বেসবল ক্যাপ উল্টো করে পরে ভি দেখিয়ে ডাকফেস। একটা পোষা পাগ...