Posts

এখনো, এই বেলা

কী করতে করতে, কোন পথে ঘুরতে ঘুরতে যে আবার, বারবার, এই কবিতায় পৌঁছনো। এখনও, এই বেলাতেও.... হৃদয়পুর শক্তি চট্টোপাধ্যায় তখনো ছিলো অন্ধকার, তখনো ছিলো বেলা, হৃদয়পুরে জটিলতার চলিতেছিল খেলা ডুবিয়াছিলো নদীর ধার আকাশে আধোলীন সুষমাময়ী চন্দ্রমার নয়ান ক্ষমাহীন কী কাজ তারে করিয়া পার যাহার ভ্রূকুটিতে সতর্কিত বন্ধদ্বার প্রহরা চারিভিতে কী কাজ তারে ডাকিয়া আর এখনো, এই বেলা হৃদয়পুরে জটিলতার ফুরালে ছেলেখেলা?

লেস

আগরওয়ালজির গুমটির পাশে দাঁড়িয়ে ব্রেক নিচ্ছিলাম। অর্চিষ্মানও ছিল। র এগোল। গাইজ, আই নিড অ্যাডভাইস। র-এর আবির্ভাব আকস্মিক কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়। অনেকদিন আগে আমাকে বলে রেখেছিল। ওর জীবনে নাকি একটা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে যেটা সমাধানের জন্য বুড়ো লোক দরকার। আমার ফ্রেন্ড সার্কেলে বুড়ো বলতে তোমার কথাই মনে পড়ল, কাজেই। এনি ডে এনি টাইম বলে টাইপে ফেরত গিয়েছিলাম। র-এর দ্বিধা নিয়ে দ্বন্দ্ব বোধ করিনি। পঁচিশ বছরের চলিয়েবলিয়ে ভালো দেখতে ছেলের জীবনে দ্বিধার বৈচিত্র্য থাকে না। র কনফার্ম করল। রিমেমবার, ওয়ান্স আই হিন্টেড ইউ ... রিমেমবার, রিমেমবার। র-এর জীবনে দুই রোম্যান্টিক সম্ভাবনার আগমন হয়েছে। একজন মনে করে জীবন একটা কিছু হয়ে ওঠার। নিজে হয়ে ওঠার এবং আশেপাশের লোককে হইয়ে ওঠানোর। র-কেও ক্রমাগত উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত করে। একদিন জিম বাদ পড়লে মোটিভেশনাল রিল পাঠায়। দ্বিতীয়জন মনে করে দুজনে মিলে মোটা হওয়াই ট্রু লাভ। র-এর দুজনকেই পছন্দ। র কনফিউজড বিয়ের জন্য কোন জন বেশি উপযোগী হবে। অভিজ্ঞ বিবাহিত হিসেবে আমাদের ভোট নিতে এসেছে। ব্যাপার শুনে আমাদের পিলে কতটা চমকাল, চমকানির কতটা প্রকাশ করলাম কতটা গিললাম, গিলে দুজনে মিলে কী কী উপদ...

বাড়িয়ে কমিয়ে

বাবার পনীরসংক্রান্ত স্ট্যান্সের অনমনীয়তা নিয়ে কথা হচ্ছিল। বাবার একশো টাকা দিলেও পনীর না খাওয়ার ঘোষণার ব্যাখ্যা দিতে আমি দাবি করছিলাম পনীরের প্রতি সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে বাবা ওই ভাবে কথাটা বলেছেন। সব সময় যে গভীর মনস্তাত্ত্বিক আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক কারণেই লোকে বাড়িয়েচাড়িয়ে বলে তেমন নয়। কিছু লোকের স্বভাবই রং চড়িয়ে বলা। যেমন আমার। চিরাগ দিল্লির সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অর্চিষ্মানকে বলছি - আরে আমি তো ঠিক সময়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম, অশোকা রোডে অটো আটকে আছে তো আমি কী করব - আমার মিথ্যে ঠিক এই স্টাইলের নয়। তার মানে এই নয় আমি স্টাইলের বাইরে মিথ্যে বলি না। তা-ও বলি, তবে আমার মিথ্যের মূল ভঙ্গিটা হচ্ছে সত্যের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতার পোঁচ মারা। আপনি কত শতাংশ জানি না, আমি পাঁচশো শতাংশ শিওর কাল সূর্য পূর্বদিকে উঠবে। পশ্চিমদিকে যে উঠবে না সে নিয়ে সাড়ে সাতশো শতাংশ। এক কোটি টাকা দিলেও আমি কাঁঠাল ছোঁব না। তিন কোটি দিলেও অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ সম্মেলনের কর্তৃপক্ষকাটিং লোকের সঙ্গে ঘেঁষব না। পাঁচ কোটি দিলেও রোদ্দুর রায়কে সিরিয়াসলি নেব না। এখন সারানো মুশকিল। অনেকদিনের রোগ। ক্লাস সেভেনে স...

কফি শপ ৫ঃ বন্ধুত্বের বেসিস

ব্লু টোকাইতে নিয়মিতদের একজন শরদ। উদয়পুরের লোক। চোখে রে ব্যান, কাঁধে মোকাবারা ব্যাকপ্যাক, পায়ে মহার্ঘ ও স্পটলেস জুতো। ব্র্যান্ডের নাম জানি না, তবে ব্র্যান্ডের তো বটেই । সানস্ক্রিন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোয় না, কবজিতে ল্যাপিস লাজুলির বিডস পেঁচিয়ে ঘোরে, ঘাড়-পেরোনো শ্যাম্পু করা চুল কখনও ঝুঁটি বাঁধে কখনও খোলা ছাড়ে। পাশে বসলে যে সুবাস ঝাপট মারে তা আমার অ্যামাজন থেকে চারশো নিরানব্বই টাকায় চার সেন্টের কম্বো প্যাক, সোম থেকে বৃহস্পতি বাঁ দিক থেকে ক্রমে ডানে গিয়ে শুক্রে আবার বাঁয়ে ফিরে মহানন্দে ফুস ফুস মেখে বেরোই - সে রকম প্যাক থেকে বেরোয়নি গ্যারান্টি। উইকডেজে প্যান্টের সঙ্গে শার্টের, শার্টের সঙ্গে জুতোর, জুতোর সঙ্গে জ্যাকেটের এসথেটিক নিবিড় (আমি এই মুহূর্তে হলুদ জামা, নীল জিন্স, লাল টিপ, কালো দুল পরে বসে আছি), শনিরবি ক্যাজুয়াল টি অথবা ঢিলেঢালা ফুলছাপ শার্ট। যা দেখে যেই না বলেছি বাহ্‌ বেশ তো, শরদ বলেছে, দিস ওয়ান? চিপ স্টাফ ফ্রম ব্যাংকক। একদিন ইস্তানবুল-এর পাতা উল্টোচ্ছিলাম বসে বসে, তাতে বলল একসময় নাকি ও টার্কির কফিশপে বসে কাজ করত, বলে ফোন খুলে আমাকে ওর টার্কির কফি শপের ছবি দেখাল। ব্র্যান্ড, বিট কয়েন, ব...

পনীরের বাজার

একটা জিনিস বুঝেছি এই বয়সে এসে। সবের বাজার আছে। সবের। যাদের মনে হচ্ছে বাজার নেই, মনে হয়ে দুঃখ হচ্ছে, গ্যারান্টি দিচ্ছি ভুল বাজারে আছেন। নিজেকে বদলাবেন না, মানে ইচ্ছে হলে বদলাতে পারেন আমি বলার কে, কিন্তু যদি শুধু বাজারের জন্য নিজেকে বদলানোর প্রয়োজন মনে করেন, থামুন। নিজে যেমন আছেন থাকুন। বাজার বদলান। ব্র্যাকেটে বম্বে লেখা শিল্পীরা কলকাতায় এসে মান ও মানি নিয়ে চলে যাচ্ছেন বাবদে ক্ষোভদুঃখ প্রকাশ করে টাইমিং-এর গোলযোগে কলকাতার যে শিল্পী লিজেন্ডারি বিপদে পড়েছিলেন - একই ভুল করেছিলেন। কলকাতার শিল্পীদেরও বাজার আছে। কলকাতার বাইরে। যেমন দিল্লিতে। কলকাতার উচ্ছে থেকে শিল্প ডবল দামে ও আদরে বিক্রি হয়। পুজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী, কালীবাড়ির ভোটে কলকাতার শিল্পী, ব্যান্ডপার্টিরা আসেন। আমরা দৌড়ই। পৌষমেলায় মনোময় ভট্টাচার্য, ঋষি পাণ্ডা, জয়তী চক্রবর্তী এলেন। আমরা দৌড়লাম। দৌড়ের পুরোটাই কলকাতার খাতিরে না, এঁরা সবাই নিপুণ গাইয়ে ও দক্ষ পারফর্মার বলেও। যেমন জয়তী চক্রবর্তী। জয়তী চক্রবর্তীর গান আমার পছন্দ। বাড়াবাড়ি রকম পছন্দ। কিন্তু গান পেরিয়েও জয়তীর প্রতি একটা প্যারাসোশ্যাল টান আমি পোষণ করি। মনে হয় জয়তী লোক ভালো। কোনও বেসি...