হোয়াট আই লাইক অ্যাবাউট ডোমেস্টিসিটি
প্রসেনজিৎ যখন জানতে চাইল মেলায় যাব কি না, সবে বাড়ি ঢুকে হিটারের সঙ্গে প্রায় বডি কনট্যাক্ট করে লেপের ভেতর ঢুকেছি। দিল্লির শীতের সেই দু’সপ্তাহ চলছিল যেখানে সবার সব কিছু জমে যাচ্ছে, রোদ উঠছে না, মনে হচ্ছে একটা ভেজা কুম্বলের স্ট্রেট জ্যাকেট কেউ পরিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে হাওয়ার তীরে হৃদপিণ্ড কঁকিয়ে উঠছে। আমি কোঁকাতে কোঁকাতেই আনন্দে লাফাচ্ছি, অর্চিষ্মান বলছে, মাগো এ যন্ত্রণা শেষ কর। প্রসেনজিৎকে বললাম, বাড়িতে আগুন লাগলে খবর দিয়ো ভেবে দেখব বেরোব কি না। নিজে লেপের ভেতর থেকে বেরোতে পারলে খবর দেব'খন, বলে আগের দিনের বেঁচে যাওয়া আলুভর্তা দিয়ে চারটে আলুপরোটা ভেজে, চার কাপ চা করে প্রসেনজিৎ চলে গেল। দু’কাপ অর্চিষ্মান এলে খাওয়া হবে, দু’কাপ পরোটা খেয়ে উঠে। ও আর পেয়ারাও কেটে রেখে গেল। প্রতি মাঝরাতের পেরি পেরি ফ্রাইজের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে কিছু করা যায় কি না ভাবছিলাম দু’জনেই। বয়স তো হচ্ছে। বলেছিলাম, সোজা তো। উইলপাওয়ার বাড়াও, কে এফ সি-কে জীবনের মতো ত্যাগ দাও, আলুভাজাকে বল ইটস নট ইউ ইটস মি। অর্চিষ্মান বলেছিল, কুন্তলা, এটাই হচ্ছে তোমার সমস্যা। চরমপন্থা। চারদিন নিজেকে চাবুক মারবে, পাঁচদিনের দিন আলুভাজা...