Posts

ডুমস্ক্রোলিং, কোডিং, চিটিং

কয়েকমাস আগে ইমেল করে একজন ঘোষণা করলেন যে তিনি আমার একটা উপকার করতে চান। সবিনয়ে জানালাম, অসংখ্য ধন্যবাদ, কিন্তু আমার উপকারটার দরকার নেই। তিনি উদারতার ইমোজি পাঠিয়ে বললেন, আহা, লজ্জার কিচ্ছু নেই, উপকারটা করতে তাঁর কোনও অসুবিধেই হবে না। বললাম, সে জানি কিন্তু আমার সত্যি উপকারটা লাগবে না। তখনকার মতো মুখ বুজলেও তিনদিন পর তিনি ফের হোয়াটসঅ্যাপে টুকি দিলেন। আমি যেন না ভাবি যে উনি উপকারের প্রস্তাব বিস্মৃত হয়েছেন। যখনই লাগবে যেন খবর দিই। অর্চিষ্মান বলবে, এই ক্রুশিয়াল মুহূর্তটাতেই তুমি ভুল করলে। মুখে বড়া দিয়ে বসে থেকে ভাবলে তোমার নীরবতাকে তিতিবিরক্তি (যথার্থ) বুঝে নিয়ে উল্টো পক্ষ ক্ষান্ত দেবে। সে উচ্চাশায় না ভুগে তুমি যদি, 'আরে না না সত্যি বলছি উপকারটা আমার লাগবে না। সব ভালো তো? অন গড ফাদার মাদার, সত্যিই লাগবে না। তারপর, সব ভালো তো?' বলে সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক কথোপকথনে লিপ্ত হতে তাহলেই যা ঘটেছে তা ঘটত না। যেটা ঘটল সেটা হচ্ছে সাতদিন পর আরেকটা মেল এল। আপনি যে কাজের কথাটা বলেছিলেন (লক্ষ করুন, উপকারটা কাজ হয়ে গেছে আর প্রস্তাবটার গতিমুখও গেছে ঘুরে) সেটা অনেক কষ্টে সেরে উঠতে পেরেছি

প্রতিদিন সারাদিন

Image
 

রোদ্দুরের কেরামতি

অল আউট আর আলুর থলে বাঁ কনুইয়ে ঝুলিয়ে, বাঁ হাতে ধরা কুরকুরের প্যাকেট থেকে ডান হাত দিয়ে কুরকুরে মুখে পুরতে পুরতে বাড়ির গলিটায় ঢুকলাম আর 'গাঙ্গুলি'জ' ফলক সাঁটা বাড়িটার চিলেকোঠার কোণায় ঠোক্কর খেয়ে বোগেনভিলিয়ার গোলাপিতে ফিল্টার হয়ে এককণা রোদ্দুর আমার চশমায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ধাঁধিয়ে দিল। পনেরো প্রজন্ম ধরে যারা আছেন তাঁদের হয় কি না জানি না, কিন্তু খেপে খেপে পনেরো বছর এই শহরে কাটানোর পরেও বছরের এই ক'টা দিন দিল্লি আমাকে চমকে দেয়। থমকে দেয়। বলে, 'কী হাবিজাবি ভেবে পথ চলছ, দেখ, বসন্ত এসে গেছে।' দিল্লির বসন্ত ভালো বলে যে দমদমের বসন্ত বাজে এমনটা বলছি না কিন্তু। দিল্লির কথা বলছি কারণ দিল্লিতে আসার আগে আমি বসন্তের মহিমা বুঝিনি। তখন বর্ষা বলতে অজ্ঞান। জানালায় বসা নির্ঝঞ্ঝাট বর্ষা, কালভার্টে কোমরজল (আক্ষরিক) বর্ষা, ব্যাঙডাকা বর্ষা, হ্যারিকেনের আলোয় কুয়োতলা দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া ঢোঁড়াসাপ বর্ষা। যে ফর্মে দেবেন, ছাতা ভুলে গেছি ভান করে আগাপাশতলা ভিজে নেব। বর্ষা ছাড়া আর সব ঋতু তখন আমার কাছে একই, গ্রীষ্মের রকমফের। উনিশবিশ। একটা অন্যায্য অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে দিল্লি, এ শহরে বর্ষা ন

খালি বয়ামের খেলা

বাস্তবের কুন্তলা আর আমার স্বপ্নের মিনিম্যালিস্ট কুন্তলার মধ্যে যদি দুর্লঙ্ঘ্য বাধা কেউ বা কারা থেকে থাকে তারা হল বয়াম। খালি বয়াম। ছোট বয়াম, বড় বয়াম। প্লাস্টিকের বয়াম, কাঁচের বয়াম। সরু গলা বয়াম, মোটা মুখ বয়াম। লাল ঢাকনা বয়াম, হলুদ ছিপি বয়াম। সে সব বয়ামের মধ্যে একটাই কমন ব্যাপার। তারা কেউ হোম সেন্টার জাতীয় দোকান থেকে - যেখানে পয়সা ফেললেই আপনার হাউসকে ইন্সটাগ্রামের হোম বানানোর প্রতিশ্রুতি থাকে আর সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তাক ভরে সারি সারি সুদৃশ্য অবিকল একে অপরের মতো দেখতে বয়াম সাজানো থাকে এবং যে বয়ামগুলো বাড়িতে যতগুলো লাগবে ততগুলো কিনতে গেলে পকেট চোট খায় (অন্ততঃ আমার খায়) - কিনে আনা নয়। তারা সকলেই অন্য কোনও সূত্রে বাড়িতে এসেছে। জ্যামের বয়াম। জেলির বয়াম। বাদামভাজার বয়াম। কফির বয়াম। বছরে একবার বিরিয়ানি খাওয়ার চালের বয়াম। তবে এই বয়ামগুলোও সময়ে সময়ে অপ্রতুল প্রমাণিত হয়। মুড়ি চিঁড়ে ছাতু মারি বিস্কুট রাখার জন্য আরেকটু বড় বয়াম বেটার। মুদির দোকানে যেগুলোতে ভিক্স আর পালস লজেন্স রাখা থাকে, সেই সাইজ আইডিয়াল। দিল্লিতে আমার একার প্রথম ভাড়াবাড়িতে প্রথম দিককার অতিথি ছিল রাহুল। বাকি দু'চ

মাত্র বেয়াল্লিশ

কাল তিন্নির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কারা কারা সব শহর বদল করছে। নিজের ইচ্ছেয় নয়, করোনা করাচ্ছে। এটা আগেও খেয়াল করেছি। যে অসুখটা লোককে কাজকর্ম মাথায় তুলে বাড়ির ভেতর সেঁধোতে বাধ্য করেছে সে-ই ভিটেমাটি চাঁটি করে লোককে পথে নামিয়েছে। সে নামা এখনও থামেনি। এখনও চলছে ঠিকানাবদলের প্রক্রিয়া। তিন্নি বলছিল, একজন বাড়ি যাচ্ছে, কলকাতা; যাওয়ার আগে সব আসবাবপত্র বিক্রি করে দিয়ে যাচ্ছে। চেনাশোনার মধ্যে, জলের দরে। ব্যবহৃত আসবাবপত্র, গ্যাজেট, অ্যাপ্লায়েন্স বিক্রি করার নানারকম ফোরাম হয়েছে আজকাল, সে সব ফোরামে কম্পিটিটিভ দামও পাওয়া যায় হয়তো কিন্তু তাড়া থাকলে ও সব হ্যাপায় ঢুকতে চায় না কেউ। নামমাত্র মূল্যে সব বিলিয়ে চলে যায়। টাকা তোলার থেকে ঝাড়া হাত পা হওয়াটাই তখন প্রায়োরিটি। ছ'হাজার টাকায় কাঠের ইয়াব্বড় খাট। দু'হাজার টাকায় কাঠের ইয়াব্বড় বুককেস। ভাবা যায়? দু'হাজার টাকায় কী পাওয়া যায় আজকাল? তিন্নির সঙ্গে আমি একমত, বিশেষ কিছু পাওয়ার আশা নেই। কোয়ালিটি বুককেস তো না-ই। কিন্তু টাকাপয়সার গল্প করতে বসার বিপদ হচ্ছে বিষয়টার কোনও নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। দু'হাজার টাকায় যেমন অনেক কিছু পাওয়া যায় না, তেমনি আবা

পাটিসাপটার প্রতিশোধ

নাকতলার মা পাটিসাপটা পাঠিয়েছেন। ওপরের প্রসেনজিৎ পাটিসাপটা আর পায়েস দিয়ে গেছে। মনে পড়ল মা নাড়ু পাঠাতেন। পাঠাতেন, সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন, গেলে ফেরার সময় প্যাক করে দিতেন বয়াম ভরে। সবার মতো আমারও মনে হয়, আমার মায়ের মতো নাড়ু কেউ বানাতে পারে না। মায়ের মিষ্টির হাত ভালো ছিল, পায়েস, নাড়ু, মালপো - খুব বেশি বানানোর সময় পেতেন না, কিন্তু যখনই বানাতেন আমি একবারে চারটে নাড়ু, তিনটে মালপো, আড়াইবাটি পায়েস খেয়ে ফেলতে পারতাম। ছোটবেলায় চিনির নাড়ুকে গুড়ের নাড়ুর থেকে বেশি গুরুত্ব দিতাম। যে বাড়িতে বিজয়ায় চিনির নাড়ু খেতে দিত, একটা সফট কর্নার জন্মাত তাঁদের প্রতি। এর আর আর কোনও কারণ ভেবে বার করতে পারছি না শুধু এইটা ছাড়া যে আমাদের বাড়িতে চিনির নাড়ু হত না। ওই একই কারণে বাসি পাউরুটিকে হাতে গরম আটার রুটির তুলনায় বেশি সম্মান দেখাতাম, ভাবতাম দোতলায় থাকার অনুভূতি নিশ্চয় স্বর্গে থাকার অনুভূতির কাছাকাছি, ট্রেনে হাওয়া খেতে খেতে স্কুলে যায় যত হতভাগ্যের দল, খুপচি ভ্যানগাড়িতে গাদাগাদি ঠাসাঠাসি হয়ে স্কুলে যেতে গেলে পূর্বজন্মের পুণ্য লাগে। এখন দল বদল করেছি। নাড়ু মাত্রেই ভালো, চিনি গুড় যারই হোক - অর্চিষ্মানের এই নন-পার্

চোদ্দ

ক্বচিৎকদাচিৎ, ন'মাসে ছ'মাসে, একজন দু'জন পাঠক বলেন অবান্তরের কুইজ ইত্যাদি ইন্টারঅ্যাক্টিভ বিভাগগুলো আবার চালু করতে। একদিক থেকে ব্লগ ব্যাপারটাই ইন্টারঅ্যাক্টিভ কারণ মন্তব্যের খোপ ইন্টারঅ্যাকশন করার জন্যই রাখা। তবে এটাও ঠিক আমি যে রকম ব্লগপোস্ট লিখি তাতে ইন্টারঅ্যাকশন শক্ত। আজ আমি তিনকাপ কফি খেলাম, এর উত্তরে কীই বা ইন্টারঅ্যাকশন সম্ভব? খেলে তো খেলে। আজ আমার সকালে উঠে মায়ের কথা মনে পড়ল। পড়ল তো পড়ল। সবারই পড়ে। যদি এমন একটা আলোচনায় নামতাম যে পার্টনার পেটালে কতদিনের মধ্যে সে পেটানির ব্যাপারটা রাষ্ট্র না করলে যাবজ্জীবন সে কথা মুখে আনার অধিকার ত্যাগ করতে হবে - পেটানি খেতে খেতে? খাওয়ার চব্বিশঘণ্টার মধ্যে? সাতদিন? একমাস? দেড়মাসের মধ্যে? - সম্ভবতঃ ইন্টারঅ্যাকশন হত। কারণ প্রথমতঃ প্রশ্নটার মাথামুণ্ডু আছে, দুই, সুনির্দিষ্ট উত্তর হয়, তিন এবং সবথেকে বড় কথা, লোকে বিষয়টা নিয়ে কেয়ার এবং মতামত দুই-ই পোষণ করে (করাই উচিত, কারণ বিষয়টা জরুরি।) আর মতামত পোষণ করলে তা প্রকাশ করতেও ইচ্ছে করে। মত মিললে ভালোই, না মিললে আরও ভালো। ইন্টারঅ্যাকশন আরও জমিয়ে হবে। আমি একবার এক পোস্টে মারাত্মক মৃদু করে শেষের