Posts

ভালো ভাড়াটে

সেদিন একটা অদ্ভুত জায়গায় একটা অদ্ভুত মেসেজ পেলাম। আমাকে কেউ মেসেজ করে না। সেই সত্যিটাকে আমি স্পিন করেছি এই বলে যে আমিই আসলে সব মেসেজের নাগালের বাইরে। করে, মেসেজ চালাচালির যাবতীয় রুট থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি। শুধু একটি ছাড়া। যেটা আপাত প্রফেশনাল এবং আদ্যন্ত ইউজলেস। চাকরি আর পদমর্যাদা দিয়ে একে অপরের দাম মাপামাপি ছাড়া ওখানে কেউ কাউকে ঘাঁটায় না। অন্তত সে রকমটাই আশ্বাস ছিল আগের সপ্তাহ পর্যন্ত। অথচ আগের সপ্তাহে সেই নিরাপদ মাধ্যমে যখন একটি মেসেজ এসে আমাকে ঘাঁটালো, মেসেজ এবং প্রেরকের পরিচয়জনিত বিস্ময় ঘাঁটিত হওয়ার বিরক্তিকে কয়েকগুণে ছাপিয়ে গেল। প্রেরক আমার এক পুরোনো বাড়িওয়ালা। সি আর পার্কেরই। অন্য ব্লকের। বাজারে মাঝেসাঝে দেখাও হয়। বা উপক্রম হয়। দুজনের মধ্যে একমাত্র আমার চশমা (তাও হাস্যকর রকমের হাই পাওয়ারের) থাকা সত্ত্বেও দশবারের মধ্যে ন’বারই আমি আগে ওঁকে দেখে ফেলে গলি বদলাতে সক্ষম হই। একবার দাদুর বিজনেস কনগ্লোমারেটের চাউমিন শাখার সামনে ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। চাউমিনের দোকানের সামনে অ্যালার্টনেস আগেও টাল খেয়েছে। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং কারণ দাদুর বিবিধ সম্ভারের সবকিছুরই আমি ভোক্তা, চপ থ

কুহকিনী

উইলিয়াম গে নামক একজন লেখকের একটি উপন্যাসের রিভিউ দেখছিলাম ইউটিউবে। উপন্যাসের নাম টুইলাইট, জঁরা সাদার্ন গথিক। এর বেশি কিছু জানি না, বলারও নেই, পড়িনি, সম্ভবতঃ পড়বও না। রিভিউয়ার ভদ্রলোকের বইটা অতটাও পছন্দ হয়নি। ওঁর সঙ্গে আমার পছন্দঅপছন্দ মেলে কাজেই ধরে নেওয়া যায় টুইলাইট আমারও অল্প পছন্দ হবে। অসুবিধে নেই। অল্প পছন্দের বই পড়ার এনার্জি, টেম্পারামেন্ট, সময় সবই আমার অল্পের বেশি আছে। নিয়ম করে এমন অনেক বই পড়ে থাকি যেগুলো সম্পর্কে অলরেডি আঁচ থাকে যে অত পছন্দও হবে না, এমনকি বমিও পেতে পারে। তবু টুইলাইট পড়ছি না। তবু উইলিয়াম গে-কে নিয়ে পোস্ট লিখতে বসেছি। ভুল বললাম। তিনদিন আগে পর্যন্ত উইলিয়াম গে-র নাম পর্যন্ত জানতাম না। এমনও না যে জানার আগ্রহে তিনদিনে গুগল ঢুঁড়ে ফেলেছি। এভিডেন্টলি, উইলিয়াম গে সম্পর্কেও আমি বিশেষ উৎসাহিত নই। তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য বাদে। গে লিখতে শুরু করেছিলেন পনেরো বছর বয়সে। গে-র প্রথম বই ছেপে বেরোয় সাতান্ন বছর বয়সে। মাঝের সময়টা গে কী করছিলেন? অলেখকরা যা করে। সংসার। সন্তানপালন। চাকরি। চাকরি বলতে কাঠের কাজ। কন্সট্রাকশন। দেওয়াল গাঁথা, রং করা। এই সমস্ত কাজকর্ম সেরে উইলিয়াম গে লেখায়

প্রথম। শেষ?

কোনও একটা কাজ করার সময় আমরা কি টের পাই যে এই কাজটা জীবনে শেষবারের মতো করছি? আর কখনও করব না, বা করার সুযোগ পাব না? টের পেলে কি ভালো হত? নাকি ভয়াবহ? নব্বই শতাংশ শিওর, মাকে করা কোন ফোনটা লাস্ট ছিল। বলাই বাহুল্য, করার সময় বুঝিনি যে এটাই লাস্ট। আমার অধিকাংশ পছন্দের লোকের (বা যাদের একসময় পছন্দ করতাম, বা ভেবেছিলাম যে এদের আমি পছন্দ করি) সঙ্গে, যাদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার চান্স প্রায় নেই, শেষবারের দেখা মনে করতে পারছি না। অথচ প্রথম দেখা, প্রথম শোনা, প্রথম ঠেকা, প্রথম শেখা -- জ্বলজ্বলে। প্রথম নিয়ে আমরা অবসেসড। সব আঁতিপাঁতি করে ডায়রিতে, স্ক্র্যাপবুকে, ক্যামেরায়, কিছু হাতের কাছে না থাকলে মনের মণিকোঠায়, জমিয়ে রেখেছি। ক্লিনিক্যাল স্মৃতিভ্রংশ না হলে ভুলব না। পুরোটাই অবসেশন নয়, প্রথমের একটা অ্যাডভান্টেজ আছে শেষের তুলনায়। ঘটনাটা ঘটার সময় বোঝা যায় যে এটা প্রথমবার ঘটছে, আগে কখনও ঘটেনি। যেমন গত কয়েকদিন ধরে ভুলতে পারছি না যে একটা ঘটনা প্রথমবার ঘটছে, তেরো বছরে। অবান্তরে লাস্ট পোস্ট লেখার এক মাস কেটে গেছে। নিরানব্বই শতাংশ শিওর, এ ঘটনা আগে ঘটেনি। কেন ঘটেছে সে নিয়ে আশি শতাংশ শিওর। বলার কথা ফুরিয়েছে। তবু

অ্যানি আর্নো

অ্যানি আর্নো নোবেল পাওয়ায় সেই জরাজীর্ণ বিতর্কের ল্যাজে আবার ক্ষীণ সাড়া। আত্মজৈবনিকতা কি সহি সাহিত্য? একজন মহিলা স্রেফ নিজের কামনাবাসনা, নিজের বাবামা, নিজের শৈশব নিয়ে হেজিয়ে নোবেল বাগিয়ে ফেলাতে অনেকেই বিচলিত। চমকাইনি। বউঠানের স্মৃতিকথা গ্রামভারি পত্রিকায় ছাপা হয়ে গেলে প্রাবন্ধিক দেওররা চিরকালই টাল খেয়ে যায়। বরাভয় দিতে এক লেখক নেমেছেন দেখলাম। চেখভ থেকে তলস্তয় থেকে সার্ত্রে থেকে শুরু করে রুশদি পর্যন্ত লেখকদের (মহাশ্বেতা, আশাপুর্ণার হয়ে তদবিরের ব্লাসফেমি বাদই দিলাম কিন্তু ভার্জিনিয়া উলফ, সিলভিয়া প্লাথ, আরসুলা কে এল গুইন-এর নামও - এমনকি নোবেলবঞ্চিত দের লিস্টেও - কখনও জায়গা পায় না) উদাহরণ দিয়ে দুধ কা দুধ, পানি কা পানি করেছেন। কই, এঁদের তো প্রাতঃস্মরণীয় হতে নোবেল লাগেনি? সার্ত্রে তো পেয়েও নোবেলের মুখে লাথি মেরে চলে এসেছিলেন। আর বছরবছর পাইকারি দরে যারা নোবেল পাচ্ছে (যেমন, এ বছরের প্রাপিকা) তাদের নামও আমরা জানি না। কেউ জানবে না কোনওদিন। নোবেল প্রুভস নাথিং। আর্নো নোবেল পেলেও চেখভ তো আর হচ্ছেন না, কাজেই চাপ নেবেন না। কেউ বললেন, যাই পড়ে দেখি যোগ্য কি না। কেউ নোবেল সত্ত্বেও আর্নোকে না পড়ে দে

ভুলে যাওয়া গানেরা যখন আলো জ্বালে

Image
গানটা লুপে শুনছি আর ভাবছি এত ভালো লাগছে কেন। কথা ক্লিশে, ভাবও। অবশ্য ফুল্‌লি কমিট করতে পারলে ক্লিশে চমৎকার উৎরে দেওয়া যায়, বারংবার দেখেছি। আরেকটা হতে পারে, ভালোলাগার পেছনে গানটার থেকে বেশি কৃতিত্ব গানটার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার সময়টার। "আমার" বলা ভুল হল কারণ ওই আমি থেকে এই আমি-তে এসে পৌঁছতে সাতটা জন্ম পার হয়ে গেছে মনে হয়। সেই প্রায় বিস্মৃত জন্মগুলোর কিছুই আর খারাপ লাগে না। লাগা সম্ভব নয়। যে কারণে অঞ্জন দত্তও লুপে শুনি আজকাল। বা চন্দ্রিলের যুক্তিটা কাজ করছে। হিট, ভালোলাগা গান মানেই বাজে কথা, ভালো সুর। গানটা কেমন লাগল জানাবেন। কেন লাগল জানালে তো আরও ভালো।

দিবসোপযোগী

আগের বছর পুজো খারাপ কেটেছিল। শপথ নিয়েছিলাম এবারের পুজো ভালো কাটানোর। বিধাতাপুরুষের অ্যাংগলটা মাথায় ছিল না। শীত গ্রীষ্ম পুজো শপথ নির্বিচারে অলক্ষে হাসাহাসিটা যে তিনি চালিয়ে যাবেন, কনসিডার করতে ভুলেছিলাম। পোস্টটা শুরু করার সময় যতখানি লাগছিল, এখন টের পাচ্ছি ততখানিও খারাপ কাটেনি পুজো। গান্ধীরূপী অসুর, বই বিক্রি বাবদে সেলিব্রিটি গ্রেপ্তার সম্পর্কে আপডেটেড থেকেছি। শাড়ি, পাঞ্জাবী, ঝুমকো, কোলাপুরি দেখেছি। খানচারেক মাতৃমূর্তি, চল্লিশটা ঝাড়লন্ঠন। চতুর্থীর ভোর চারটেয় 'তন কি জোয়ালা ঠান্ডি হো যা'র তাণ্ডবে কার কানে তালা, ম্যাডক্স স্কোয়্যারের অনতিদূরে দাঁড়িয়ে কার গলায় দলা - জেনেছি। ভার্চুয়ালি হলেও। বিধাতাপুরুষ বাগড়া দিতে পারেননি। একলা ঘরে ধুদ্ধুড়ে টিশার্ট পাজামা পরে বসিয়ে রেখে, লাঞ্চে পাউরুটি আর ডিনারে মাইক্রোওয়েভে ইন্সট্যান্ট নুডল খাইয়েই তাঁর কেরদানি ফুরিয়েছে। বিধাতাপুরুষ থাকবেন। পুজোও থাকবে। আমিও এক্ষুনি মাঠ ছাড়ছি না (হোপফুলি, এই বাক্যের শেষে গম্ভীর হয়ে থেকেছেন তিনি)। সামনের বছর কে হাসে দেখা যাক। আপনারা সবাই হেসেছেন খেলেছেন আশা করি। প্যান্ডেলে ঢোকার লাইনে দাঁড়িয়ে ঘেমেছেন। অথ

কাজের জিনিস

চেয়ারে বসে ল্যাপটপের ডালা খোলামাত্র ঠন্‌ন্‌ন্‌। চার সেকেন্ড আগে ল্যাপটপের পেছন ঘেঁষে ভর্তি চায়ের কাপটা রেখেছিলাম বটে। মাঝের ঘরের খাটে কিছু রাখলে - প্লাস্টিক, মাধ্যমিকের মার্কশিট, মুদির দোকানের ফর্দ - ফ্যান চলুক না চলুক, হাওয়া দিক না দিক, উড়ে গিয়ে খাট ও দেওয়ালের মধ্যবর্তী আধ মিলিমিটার ফোঁকর গলে পড়ে যেত। হাত ঢুকিয়ে উদ্ধার করা অসম্ভব, গুঁড়ি মেরে খাটের তলায় ঢুকতে হত। ট্রাংক। সুটকেস। অকেজো প্রেশার কুকার। জাস্ট সিটি বদলালেই চালু হয়ে যাবে বলে গত দশ বছর ধরে পুরোনো শাড়ি পেঁচিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একদা সবুজ ঢাকনা পরানো তারছেঁড়া তানপুরা। প্রেশার কুকারের সেম যুক্তিতে শুয়ে আছে। একটাই পজিটিভ, প্রত্যেকবার অপ্রত্যাশিত একটা কিছু প্রাপ্তি। মাধ্যমিকের মার্কশিটের সঙ্গে ফাউ চুলের ক্লিপ। হারিয়েছে যে সেটাই টের পাইনি। প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে একপিস সোনার দুল। নিজের পয়সায় কিনে মা নিজেই হারিয়েছিলেন, আরও একটা দোষ বেরিয়ে পড়ার ভয়ে হায়হায়টুকু পর্যন্ত প্রাণ খুলে করতে পারেননি। হৃতবস্তু, ফাউ এবং মাথায় ঝুলসহ বেরিয়ে এসে মা বলতেন, একটা জিনিস খেয়াল করেছিস সোনা? গোটা ঘটনাটার দ্বিতীয় এবং শেষ পজিটিভ ব্যাপারটা ছিল ভারতে