Posts

Showing posts from December, 2013

ছবিতে বারোমাস্যা

Image
জানুয়ারিঃ লুচি গোল হতে তখনও অনেক দেরি (এখনও অবশ্য), কিন্তু তাই বলে খেতে খারাপ হয়নি। তাছাড়া প্রত্যেকটা ফুটবলের মতো ফুলেছিল দেখে কী আনন্দ যে পেয়েছিলাম---এই বারোমাস বাদেও স্পষ্ট মনে পড়ছে। ফেব্রুয়ারিঃ বন্ধুরা ক’জন মিলে ব্যাডমিন্টন ডেট হয়েছিল। আমাকে পাঁচমিনিট খেলতে দেখে একমিনিট চুপ করে থেকে সবাই মিষ্টি করে বলল, ‘কুন্তলাদি, তুমি বরং ছবি তোল, আমরা খেলি।’ কী ভাগ্যিস বলল। ওরাও বাঁচল, আমিও। মার্চঃ এ বছরের মত শীত টা টা বাই বাই। ইজি-ধৌত হয়ে গরমজামারা সব সুটকেসে ঢোকার অপেক্ষা করছে। এপ্রিলঃ পয়লা বৈশাখের ভোজ। মেঃ মধুচন্দ্রিমা। শিলং-এ হোটেলের বারান্দায় কেষ্টঠাকুরের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আমি। জুনঃ সারাদিন ঘ্যানাপাড়া বৃষ্টি, মেঘ আর কুয়াশা। ডয়েশ সামারের নমুনা দেখে সত্যি বলছি গোড়ায় চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়েছিল। এই ছবিটা ফ্রাউ বার্শের বাড়ির বারান্দা থেকে তোলা। ওই দূরে আবছায়া দেখা যাচ্ছে বনের সবথেকে উঁচু বাড়ি পোস্ট টাওয়ারের চুড়ো আর চার্চ। জুলাইঃ কাল থেকে শুরু করে টানা একমাস দিনের আলো থাকা পর্যন্ত খেতে পারবে না ফাউজি আর মহম্মদ, আদর করে আমরা সবাই যাকে ‘মো’ বলে ডাকতাম। রামা

Best of 2013

Image
বেস্ট বইঃ লোকলজ্জা আর নিজের ইমেজ বাঁচানোর দায় যদি না থাকত তা হলে আমি ড্যানিয়েল স্টিলের লেখা যে কোনও বইয়ের নাম বলতাম। টক্সিক ব্যাচেলরস্ কিংবা ডেটিং গেম। কামিং আউট কিংবা আ গুড উওম্যান। যেমন নাম, তেমন গল্প। সোজাসাপটা। ভালো লোকেরা সব সাক্ষাৎ দেবশিশু, খারাপ লোকেরা সবাই টপ টু বটম বদের বাসা। প্রেম, এক্সট্রা ম্যারিট্যাল, হলিউড, ওয়াল স্ট্রিটে ছয়লাপ সব গল্পের লাস্ট সিনে ভালো লোকেদের সুন্দর দেখতে লোকজনের সঙ্গে বিয়ে হবে আর খারাপ লোকেরা নরকের চৌরাশিটা কুণ্ডে জ্বলেপুড়ে মরবে। দুঃখের বিষয় লোকলজ্জা আমার অসুবিধেজনক রকমের বেশি, আর তার থেকেও বেশি হচ্ছে নিজের ইমেজকে ধুয়ে মুছে চকচকে করে রাখার বাসনা। কাজেই আমি অনেক ভেবেচিন্তে দ্য লুমিনারিস্‌ -কে আমার ২০১৩য় পড়া বেস্ট বইয়ের শিরোপা দিলাম। দেওয়ালজোড়া ক্যানভাসে নিখুঁত ঝকঝকে ছবির মতো এলেনর কাটনের ঐতিহাসিক মহাগ্রন্থ আমার এ বছরে পড়া সেরা বই। বেস্ট (মিস্‌ হয়ে যাওয়া) সিনেমাঃ বছরের শেষে এসে অতিদুঃখের সঙ্গে আবিষ্কার করছি, ২০১৩য় রিলিজ হওয়া বাংলা, হিন্দি, ইংরিজি সিনেমার মধ্যে আমি দেখেছি মাত্র দুটো। গো গোয়া গন আর সত্যান্বেষী। এদের দুজনের মধ্যে কম্পিটিশন ক

সুখদুঃখ সেট্‌ল্‌মেন্ট

একেকটা লোক একেকসময় এমন একেকটা কথা বলে বসে, কথাগুলোর জন্যই লোকগুলোকে সারাজীবন মনে রেখে দিতে হয়। আমার এক সিনিয়র দাদা যেমন। দাদা ভয়ানক ধার্মিক ছিলেন, কাঁঠাল দেখলে আনন্দে অজ্ঞান হয়ে যেতেন, খেয়ে ওঠার পর জোয়ানের বদলে মুঠো মুঠো মৌরি চিবোতেন। সোজা কথায় আমার আর দাদার মধ্যে একতিল মিলও ছিল না। তবু যে দাদার কথা কোনওদিন ভুলতে পারিনি তার কারণ দাদার একটি বাণী। ‘দুঃখ ভাগ করার লোক অনেক পাবে কুন্তলা, আনন্দ শেয়ার করার লোক পাওয়াই শক্ত।’ আমি হাঁহাঁ করে উঠে দাদার ভুল ঠিক করে দিতে যেতেই দাদা মাথা নেড়ে গম্ভীর মুখে বলেছিলেন, ‘উঁহু, আমি ঠিকই বলেছি। পরে সময় পেলে ভেবে দেখো।’ পরে ভেবে দেখার অনেক সময় পেয়েছি এবং টের পেয়েছি দাদা কী সত্যি কথাটাই না বলেছিলেন। কাজেই অবান্তর বই হয়ে বেরনোর ভালো খবরটা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। অবান্তরে এসে, ই-মেল করে, যাঁরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।  ***** লোকে বলে নতুন জায়গার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াতেই আসল কেরামতি, নিজের বাড়িতে গুছিয়ে বসতে যে এত সময় লাগে কে জানত। খালি এই সাড়ে তিন হাত শরীর আর শরীরের পেছন পেছন বাইশ

এবার বইমেলায়

Image
অনেকদিন আগে পড়েছিলাম তাই কোথায় পড়েছিলাম মনে নেই। বাঙালির বইপ্রীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে চন্দ্রিল বলেছিলেন তাঁর ধন্দের কথা। বছর বছর পালে পালে বাঙালি বইমেলা যাচ্ছে, লাইন দিয়ে ফিশফ্রাই খাচ্ছে, ব্র্যান্ডেড জিনসের মায়া ত্যাগ করে ধুলো মাঠে থেবড়ে বসে পড়ে টুংটাং গিটার বাজিয়ে বেসুরো ব্যান্ডগান গাইছে। কেন? বই ভালোবাসে বলে? তাহলে তো কলেজ স্ট্রিট গেলেই হয়। সারাবছর খোলা থাকে, প্রবেশমূল্য লাগে না, সবথেকে বড় কথা বইয়ের দামে কমিশনও অনেক বেশি। বাঙালির বই ভালোবাসার সঙ্গে বাঙালির বইমেলা ভালোবাসার যদি সমানুপাতিক কোনও সম্পর্ক থাকত তাহলে সারাবছর কলেজ স্ট্রিটে আর “গাড়িঘোড়া চলতে হত না।” আমি অবশ্য এক্ষুনি হাতে গুনে বলে দিতে পারি আমি কেন যাই। মানে, কেন যেতাম। আমি যেতাম দেবসাহিত্য কুটীরের স্টলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেমেন্দ্রকুমার রায়ের বই আবার আগাগোড়া পড়ব বলে, আজকাল স্টলের দেওয়ালজোড়া সাদাকালো ভিন্টেজ ছবি দেখব বলে, আর ছবি দেখে বেরিয়ে হঠাৎ চিমা ওকোরিকে দেখে ফেলব বলেও। (এখনও কি বইমেলায় গেলে চিমাকে ঘিরে “গুরু গুরু” চেঁচিয়ে ওঠা ভিড় জমে যায়? নাকি চিমা নিশ্চিন্তে হেঁটেচলে মেলা দেখতে পারেন, কেউ তাঁকে চিনতেই পারে না যে ব

দিল্লি চলো

Image
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়ে গেছে, অফিসের ল্যাপটপ, লকারের চাবি প্রত্যর্পণ হয়ে গেছে, একে একে সবার গলা জড়িয়ে “ডোন্ট ফরগেট টু কিপ ইন টাচ” বলা হয়ে গেছে, ট্যাক্সি বুক করা হয়ে গেছে। সকাল সাড়ে আটটায় এসে আমাকে হোটেল থেকে তুলে হপ্টবানহফ পৌঁছে দেবে। টুথপেস্ট, হাওয়াই চটি, রাতের পাজামা---যেগুলো শেষমুহূর্তে ব্যাগে পোরা ছাড়া গতি নেই, এমন কয়েকটি আইটেম ছাড়া সুটকেস গোছানও একরকম শেষ। এই যাব যাব যাব, যাচ্ছি যাচ্ছি যাচ্ছি, এলাম এলাম এলাম করতে করতেই ফেরার পালা চলে এল। মিথ্যে বলব না, মাঝামাঝি নাগাদ বেশ একটু অধৈর্য লাগছিল, মনে হচ্ছিল এত দীর্ঘ ছ’মাস বোধহয় আগে কখনও কাটাইনি। এখন মনে হচ্ছে সময়টা হুশ্‌ করে ফুরিয়ে গেল। এই তো সেদিন, অর্চিষ্মানের সঙ্গে অটোয় চড়ে ঘুরে ঘুরে মেডিক্যাল চেক-আপ করাচ্ছিলাম---নাকের পরীক্ষা, কানের পরীক্ষা, দাঁতের পরীক্ষা, ফুসফুসের পরীক্ষা---বাস্‌রে বাস্‌, পরীক্ষার আর শেষ নেই। মেডিক্যাল চেকলিস্টের বহর দেখে মনে হচ্ছিল ইউরোপ নয়, ইউরেনাস সফরে যাচ্ছি বোধহয়। সব পরীক্ষা শেষ, এবার আমি গটগটিয়ে নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি। আমি কানাই হই কি আমার দাঁতে পোকাই থাক (নেই, অন গড ফাদার মাদার) সে দে

সাপ্তাহিকী

Image
উৎস Never allow someone to be your priority while allowing yourself to be their option.                                                                                                          ---Mark Twain  বড়দিনের সকাল। স্পিলবার্গ, কিউব্রিক, লার্স ভন ট্রায়ার, উডি অ্যালেন ও আরও মহারথী পরিচালকদের পার্সপেকটিভ থেকে। Irony -র এর থেকে মোক্ষম নমুনা জগতে আমি কমই দেখেছি। দোকান কর্তৃপক্ষ আমাকে ধমকালে টাকা ফেরৎ পাওয়ার কোনও ব্যবস্থা আছে নাকি---সেটাই আমার জিজ্ঞাস্য। Best Books of 2013. Why are apostrophes terrible to date? (সৌজন্যঃ সুগত) আপনি দাঁড়ি না কমা না সেমিকোলন না জিজ্ঞাসাচিহ্ন? অসম্ভব লজ্জা পেয়ে স্বীকার করছি, আমি মাঝে মাঝে হাইফেন হতে পারি। মনের বয়স মাপার খেলা পাঠিয়েছে অপরাজিতা। আমি খেলে খুবই হতাশ, কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম আমার মনের বয়স বাহাত্তর বেরবে, বেরিয়েছে ঠিক তার অর্ধেক, অর্থাৎ কিনা ছত্রিশ। জঘন্য। আপনার মনের বয়স কত? এ সপ্তাহের গানের কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ এই গানটার কথা মনে পড়ল। আপনাদেরও ভালো লাগবে আশা করি।

বড়দিনের বাজার

Image

ব্ল্যাংকেনহাইম

Image
টর্চ শুনে আমি সিরিয়াসলি ভেবেছি আমাদের বাড়িতে যে রকম ছিল, সে রকম। দু’ব্যাটারির, লালরঙের গায়ে কালো রঙের সুইচ। বুড়ো আঙুল দিয়ে সুইচ ঠেললে আলো জ্বলে, টানলে নিভে যায়। হাত দিয়ে আলোর মুখ চেপে ধরলে চার আঙুলের ফাঁক দিয়ে লাল আভা বেরিয়ে আসে, ঠিক যেন ঠাণ্ডা আগ্নেয়গিরি। লোডশেডিং-এ চিবুকের তলায় সে আলো জ্বালিয়ে হাসিমুখে সামনে গিয়ে দাঁড়ালে অতি সাহসী জ্যাঠতুতো দিদিরও হার্ট অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম হয়। ব্ল্যাংকেনহাইমে পৌঁছে দেখলাম এ টর্চ অন্য টর্চ। অ্যালফন্‌সের ই-মেলে লেখাই ছিল বন থেকে বাসে চেপে ব্ল্যাংকেনহাইম পৌঁছতে বিকেল চারটে বেজে যাবে, আর এ তল্লাটে আজকাল বিকেল চারটে মানে আসন্ন সন্ধ্যে। তাছাড়াও আইফেল পাহাড়র গায়ে গোঁজা ব্ল্যাংকেনহাইম দেখতে গেলে ছোটখাটো একটা হিল স্টেশনই বলা চলে, কাজেই ঠাণ্ডাও নাকি পড়বে বেশ। ই-মেলে স্পষ্ট বলা ছিল, ঠাণ্ডার মোকাবিলার দায়িত্ব যার যার নিজের, অন্ধকার মোকাবিলার জন্য কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে টর্চ সরবরাহ করা হইবেক। ড্রাইভারের আনাড়িপনার জন্য চারটের বদলে আমাদের পৌঁছতে বেজে গেল চারটে পনেরো, আর সেই পনেরো মিনিটের দুশ্চিন্তায় অ্যালফন্‌সের মাথার আরও অন্তত পনেরোখানা চুল স