Posts

Showing posts with the label বানানো গল্প

তুলির চয়েস

এই পোস্টটা মূলতঃ পাতা ভরানোর। অনেকদিন খালি পড়ে আছে। পৌষমেলার অন্তিম পর্ব লেখাও চলছে। আরও অনেক কিছু চলছে, কিছুই শেষ হচ্ছে না। নারীদিবসের পুণ্য অবকাশে আনন্দবাজারের রবিবাসরীয়-তে আমার একটা গল্প বেরিয়েছিল। গল্প চাওয়ার সময় আমাকে ওঁরা আটশো শব্দ আর সাত দিন বেঁধে দিয়েছিলেন। শব্দসংখ্যার ব্যাপারে জানি না, সময়সীমা কাজের জিনিস। না থাকলে কী হয় আমার জীবন তার প্রমাণ। গল্পটা ছাপার আগে ওঁরা সম্পাদনা করেছিলেন, করবেন জানতাম, কোথায় কোথায় করবেন সে সম্পর্কেও আভাস ছিল। লাইনে লাইনে এত ইংরিজি শব্দ অ্যালাউ করবেন না, আর ওই অপ্রাসঙ্গিক 'ফাক'ও কাটবেন।  তবু ওই সব শুদ্ধুই পাঠিয়েছিলাম। কারণ আমি শ্রমবিভাজনে বিশ্বাস করি। লেখকের কাজ লেখা, সম্পাদকের কাজ সম্পাদনা করা। আমার দ্বারা যদ্দুর হয় যা হয় আমি লিখব, তারপর সম্পাদক বুঝবেন  কী কাটবেন কী রাখবেন, আদৌ রাখবেন কি না। প্রকাশক বুঝবেন আদৌ প্রকাশ করবেন কি না। পাঠক বুঝবেন আদৌ পড়বেন কি না। এঁরা আমার লেখার এক লাইনও লিখে দেবেন সে আশা আমি করি না, কাজেই এঁদের কাজও এক কণাও আমি করে দেব না। অধিকাংশ বইয়ের শেষে ধন্যবাদজ্ঞাপনে দরাজ লেখকরা লেখেন - বই লেখা নাকি টিমওয়ার্ক। আমার বুক ধড়...

অ্যাবনর্ম্যাল গল্পপাঠ

Image
গুরুচণ্ডা৯-র ইউটিউব চ্যানেলে গল্পপাঠ সিরিজে আমার লেখা অ্যাবনর্ম্যাল গল্পটা পঠিত হয়েছে। পাঠ করেছেন সোহিনী সেনগুপ্ত।

একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে

Image
এবারের কলকাতা বইমেলায় গুরুচণ্ডা৯ থেকে আমার একটা গল্প সংকলন বেরোচ্ছে। নাম ‘একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে’। বইটা এ’রকম দেখতে। প্রচ্ছদ করেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়। আগের বছরই কমফর্টেবলি বার করা যেত, এ বছরেও যে বেরোচ্ছে তাতে আমি নিজেকে নিয়ে ইমপ্রেসড। গল্পগুলো সব লেখা ছিল, ভেবেছিলাম টুকটাক সারিয়ে নিলেই হবে কিন্তু এত সময় ধরে সারানোর দরকার বোধহয় ছিল না। সময় যে কোনও প্রক্রিয়ার যেমন জরুরি উপকরণ তেমন দীর্ঘসুত্রিতার ছুতোও। একবার হাত থেকে বেরিয়ে গেলে আর যে কিছু করার থাকবে না সেই আতংকের কোপিং মেকানিজমও। এই বইটার ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ দ্বিতীয়টা। জাস্ট ছাড়তে পারছিলাম না। অথচ লেখা গালে পুরে বসে থাকার সঙ্গে লেখার মানের সম্পর্ক নেই। একটা প্যারাগ্রাফের দিকে তাকিয়ে একঘণ্টা ধ্যান করলে সেটার বানান দাঁড়ি কমা বাক্যগঠন আপনাআপনি ভালো হয়ে যায় না। একটা বাক্য পাঁচবার লিখলে পাঁচবারেরটা প্রথমবারেটার থেকে পাঁচগুণ বেটার হয় না। একটা পয়েন্টের পর সময় নেওয়া শুধু নষ্ট করার জন্য। কারণ সময় আর - পুরুষকারবাদীরা রেগে যাবেন জেনেও বলি - পরিশ্রম দিয়ে সাধ্যের সীমা অতিক্রম করা যায় না। * বইটাকে আমি ছোটগল্প সংকলন বলছি না, কারণ সব গল্প ছোট নয়। ছত্রিশশো শ...

যারা যারা দায়ী

উঁচু করা মুখেদের ভিড়ঠাসা অডিটোরিয়াম। মঞ্চে সুমন দে, সঙ্গে আমি, ঘণ্টাখানেকের আলাপচারিতায়। সুমনের ঠোঁট নড়ছে, আপনার এই ইলাস্ট্রিয়াস সাহিত্যিক জীবনের জার্নি . . . নুয়ে পড়ছি, না না কী যে বলেন, কিছুই তো আসলে একা করে হয়ে ওঠে না, কত মানুষ হাত বাড়িয়ে দেয়, আমার এই জার্নির মোড়ে মোড়ে কত লোক দীপ জ্বেলে গেছেন তাদের মধ্যে যার কথা না বললেই নয় তেমন একজন হচ্ছে চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম আর সোমেন বসু। ঘুম ভেঙে গেল। বাঁ হাতের মুঠো খুলে ফোন, জয়পুর থেকে আনা হাতিছাপ বেডকাভারে ছেতরে আছে। তুলে চোখের এক মিলিমিটার দূরে এনে চেক করলাম। নাহ্‌, এখনও বেরোয়নি। একটা গল্প চার নম্বরে পাঠিয়েছিলাম বেশ কয়েকমাস। তারও অনেক মাস আগে থেকে গল্পটা লিখতে শুরু করেছি। যে কাজটা সবাই দু'ঘণ্টায় করে সেটা দু'বছর লাগানোর অসামান্য অভ্যেসে মাত্র কয়েক হাজার শব্দের এই গল্পটা আমি টেনে গেছি টেনে গেছি টেনে গেছি। মানুষের স্বভাবই হচ্ছে - অর্চিষ্মান বলছে, আবার মানুষকে টানাটানি কেন কুন্তলা - ঠিকাছে আমারই স্বভাব হচ্ছে, নিজে যত গড়িমসিই করি না কেন, কথা দিয়ে যত কথা ভাঙিই না কেন, বাকি সবাইকে সুপারসনিক স্পিডে কাজ করতে হবে। যবে গল্প ছাপানোর কথা ছিল তখনই ...

সোলমেট

দু'হাজার তেইশের অক্টোবরটক্টোবরে কৃত্তিবাসে গল্পটা বেরিয়েছিল। গল্প চাওয়ার সময় আমার জন্মদিন জানতে চেয়েছিলেন সম্পাদক। অবাক হয়েছিলাম, প্রকাশ করিনি। মানে অবাকত্বটা প্রকাশ করিনি, জন্মদিন সানন্দে করেছিলাম। সংখ্যা হাতে পাওয়ার পর দেখলাম, অনূর্ধ্ব পঁয়তাল্লিশ লেখকদের গল্পসংখ্যা। তখন বুঝলাম। আমার সন্দেহ আমার জন্যই সীমাটা চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ করতে হয়েছে। না হলে এই সব সীমাটিমা সাধারণত তিরিশ চল্লিশ জাতীয় মাইলস্টোনেই সেট করা হয়। একমাত্র এক্সেপশন অনূর্ধ্ব পঁচিশ। লজ্জাই হয়েছিল। সবেতে এত দেরি হয়ে যায় আমার। ছাপা হওয়ার ছ'মাস পর থেকে ভাবছি এবার গল্পটা অবান্তরে দিই, তাতেও দেরি। কিছু লেখা গত দু'বছর ধরে গলায় আটকে ছিল সেগুলো নিয়ে তানানানা করে অনেকটা সময় গেল। মন খারাপ তো আছেই। সারাদিন এত দুঃখ হলে শুধু ক্যান্ডি ক্রাশ খেলা ছাড়া আর কিছু করা যায় না।  ক্যান্ডি ক্রাশের লাইফ ফুরোলে, মন মোটামুটি মন্দের ভালো অবস্থায় পৌঁছলে, বাকি লেখাগুলো অবশেষে, অ ব শে ষে, ঘাড় থেকে নামলে এই গল্পটার গুগল ডকটা খুলি। এক লাইন পড়ি। দু'লাইন পড়ি। আস্তে করে উত্তরপূর্ব কোণের কাটা চিহ্নে কার্সার নিয়ে যাই। ক্লিক করি।  ক্লোজ কারেন্...

মেমেন্টো মোরিঃ শারদীয়া কৃত্তিবাস ১৪৩০

অন্যেরা উপন্যাস কেমন করে লেখেন তো জানি না, আমি কোনওদিন লিখলে কেমন করে লিখব সে নিয়ে একটা কপোলকল্পনা ছিল। অনেক ফেঁদেটেদে। সাড়ে বেয়াল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা পেঁয়াজরসুন দিয়ে কষিয়ে। যত মনের কথা উগরে, যত গায়ের ঝাল ঝেড়ে। তারপর মে মাস নাগাদ একদিন শৈলেন, প্রতিভাসের কৃত্তিবাসের শৈলেন সরকার, ফোন করে বললেন, উপন্যাস লেখেন? বললাম, রোজই ভাবি লিখব লিখব। শৈলেন বললেন, আর না ভেবে লিখে ফেলুন। অল্প লোভ আর অনেক ভয় হল। লোভ কারণ আমার কল্পনায় উপন্যাস লেখা একটা রোমহর্ষক ব্যাপার। ভয় কারণ এত কঠিং কাজ শিওর আমার দ্বারা হবে না। তারপর শৈলেন অ্যাকচুয়াল হাসির কথাটা বললেন। কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজারের একটা শারদীয়া উপন্যাস লিখতে হবে। আপনাকে সময় দেওয়া হবে দেড়মাস। অর্থাৎ কি না ছয় সপ্তাহ। জয়পুর ভ্রমণের একটা দু'হাজার শব্দের পর্ব নামাতে আমার লাগে সাতদিন। তাও ডাল কচুরি খেলাম না পেঁয়াজ কচুরি, কফি খেলাম না লস্যি, কোন অটোভাইসাব আমাকে কী দাগা দিলেন-এর ফিরিস্তি। যদি সেই স্পিডেও লিখি, আর যদি শব্দসীমার লোয়ার লিমিটও ধরি, কুড়ি হাজার শব্দ স্রেফ টাইপ করতেই আমার লেগে যাবে দশ সপ্তাহ। তারপর ধরুন গল্পে তো কুন্তলা সকালবেলা দু'নম্বর...

তুলোর পাখি

Image
বাংলালাইভ ডট কমে আমার একটা বড়গল্প বেরিয়েছে। লিংক নিচে রইল। পোস্টটা সাইজে বড্ড ছোট হয়ে যাচ্ছিল বলে ওঁদের সাইটে আমার গল্পের সঙ্গে দেওয়াটা ছবিটাই সেঁটে দিলাম। তুলোর পাখি

প্রজাপতি প্রিমিয়াম

একটা ঠিক মানুষকে যত শেখায়, একটা ভুল শেখায় তার থেকে অনেক বেশি। তাই বলে জীবনের মধ্য দিয়ে যেচে ভুল করতে করতে চলা যায় না। অন্তত কাম্য নয়। অথচ চললে শিখতাম হয়তো অনেক বেশি। বা শিখতাম না। ভুলের ওপর ভুলের পাহাড় জমিয়ে বসে থাকতাম, কিছুই না শিখে। আমার পক্ষে সবই সম্ভব। ছাত্রের টাইপের ওপরও শেখা না-শেখা নির্ভর করে। বুদ্ধিমানরা দেখেশুনেই অনেকটা শেখে। আমার শিখতে হলে হাত পোড়াতে হয়। অনেকে বলে ওতে নাকি শেখা কায়েমি হয়। হাতও যে পোড়ে? যে ভুলটা নিয়ে এত প্যাঁচাল, সেটার নাম 'প্রজাপতি প্রিমিয়াম'। গতবছরের অক্টোবর মাসের গোড়ার দিকে গুরুচন্ডা৯-তে বেরোনো একটা নভেলা। যে নভেলাটার কথা আমি কাউকে বলতে পারিনি।  কাউকে বলা মানে অবান্তরে বলা। আর কেই বা আমার কথা শুনবে বলে বসে আছে। বলতে পারিনি, কারণ বলার অবস্থায় ছিলাম না। লেখাটা অ্যাটাচ করে ঈপ্সিতাকে সেন্ড করার মুহূর্ত থেকে ভয়ানক মন খারাপ হয়েছিল। ভয়ানক। ভয়ানক। কারণ, গল্পটা আমার মনের মতো হয়নি।  অফ কোর্স, কোনও গল্পই মনের মতো হয় না। 'মনের মতো' অবস্থানটা শুধু মনের মধ্যেই সম্ভব। লেখা, চাকরি, প্রেম। বাস্তবের রোদহাওয়া গায়ে লাগা মাত্র সবাই, সবকিছু, হড়কাতে শুরু করে।...

পাকে পাকে বাঁধা

গত বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে, প্রতিভাস থেকে প্রকাশিত কৃত্তিবাস পত্রিকায় আমার একটা ছোটগল্প বেরিয়েছিল। ভদ্রস্থ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়েছে আশা করে জানতে চেয়েছিলাম গল্পটা এবার আমি আমার ব্লগে দিতে পারি কি না। অবশ্যই পারি জানতে পেয়ে গল্পটা অবান্তরে দিয়ে রাখলাম। পাকে পাকে বাঁধা কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায় ১ সবথেকে সহজ এবং সাফসুতরো হচ্ছে সায়ানাইড। খাবে, মরে যাবে। আর্সেনিক হলে কষ্ট বেশি। পেটব্যথা, খিঁচুনি, ডায়রিয়া। বমি করে করে ন্যাতা হয়ে যাবে, তখনও শরীর মোচড় দিয়ে দিয়ে নিশ্চিত করতে চাইবে যাতে বিষ ভেতরে না থেকে যায়। মোমের মতো চামড়া ফেটে ঘা বেরোবে। সারা শরীরে কালশিটে। এখনও তোমার সুবিধের কথা ভাবছি। আমার সুবিধে আর্সেনিকেই। আজকাল সুপারমার্কেটগুলোতে সব পাওয়া যায়। আমি ওদিক থেকে এঞ্জিন কুল্যান্ট তুলব, তুমি এদিক থেকে হারিসা আর অরগ্যানিক ডিম, ব্রাউন খোলের। ব্রাউন আর সাদা খোলের মধ্যে স্বাদ গন্ধ এমনকি নিউট্রিশন্যাল ভ্যালুরও কোনও তফাৎ নেই, বলার চেষ্টা করেছিলাম একবার। বাঁকা হেসেছিলে। দামের আছে। কিন্তু সায়ানাইডকে যতটা ইন্সট্যান্টেনিয়াস বলা হয়, ইন্টারনেট দাবি করছে ততটাও না। কারা যেন খেয়ে মরে যাওয়ার আ...