Posts

বিট্রেয়াল

কাল একটা গোটা আইসক্রিম খেলাম। কিড সাইজ নয়, লার্জ। ফুল ফ্যাট। উইথ রিয়েল সুগার। ভ্যানিলা, বাটারস্কচ, কেসরপিস্তা আর চকোলেটের বাইরে যে তিনটে গন্ধ আমার আইসক্রিমে আমি অ্যালাউ করি, তার মধ্যে একটা ফ্লেভারের। কফি। উইথ চকোলেট চিপস। গোটা খাওয়ার সময়টা জুড়ে আইসক্রিমটা গলে যায়নি। আবার ইটের মতো জমেও ছিল না। আইসক্রিম আর কাপের মাঝের ফাঁকটায় স্লাইটলি তেরছা করে চামচ ঢুকিয়ে অল্প গলা অংশটা চেঁছে নিচ্ছিলাম। আইসক্রিমের মসৃণ গা বেয়ে চামচ স্মুদলি বয়ে যাচ্ছিল। কিছু কিছু আইসক্রিমে যেমন দানাদানা বরফ জমে বন্ধুর হয়ে থাকে, তেমন নয়। আইসক্রিম ফুরোলে কাপের কোণ দোল খাওয়া কফি ফ্লেভার্ড চকোলেট ক্রিম চামচ দিয়ে যতটা সম্ভব উদ্ধার করে, কাপ মুখের ওপর উপুড় করে শেষ বিন্দুটার সদ্ব্যবহার করলাম। তারপর অপেক্ষা করলাম। কখন দুঃখ আসবে। ফাঁকা কাপের দিকে তাকাব।  অদৃশ্য, নন-এক্সিস্টেন্ট আইসক্রিমের ফোঁটা আবিষ্কার করার চেষ্টায় কাপের শরীরে চামচ চালিয়ে খরখর তুলব। লাস্ট বারের মতো চামচটা একবার চাটব। তারপর সত্যিটা মেনে নিয়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দেব। (শুধু বাক্সটা। চামচটা মেজে নিলে ধনেগুঁড়োর শিশিতে দিব্যি এঁটে যাবে। আপাতত ওই একটা মশলা

তখনও যা, এখনও তাই

কালই বাছাবাছি নিয়ে ভাবছিলাম। কেন এটা, কেন ওটা নয়। একেবারে আলটপকা ভাবনা নয়। কাজ ফেলে ক্যান্ডি ক্র্যাশ খেলছিলাম, কাজেই জীবনের চয়েস এবং চয়েসজনিত পরিণতি নিয়ে ভাবার উপযুক্ত সময় ছিল। ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে চালে ভুল হয়ে গেল, দান হেরে গেলাম, লাইফ ফুরিয়ে গেল। ওই মুহূর্তে কাজে ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত কিন্তু আমি বাছাবাছি বিষয়ে গুগল কী বলছে সেটা নেড়েঘেঁটে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঘুম থেকে উঠে থেকে লাফ দিয়ে খাট থেকে নামব না নেক্সট পঁয়তাল্লিশ মিনিট ইন্টারনেটে আড়ি পাতব? দাঁত মাজব নাকি নিজেকে বাঘের সঙ্গে তুলনা করে আড়াই মিনিট বাঁচাব? ক্যান্ডি ক্রাশ খেলব নাকি পড়তে বসব? নতুন পেজ নতুন উইন্ডোতে খুলব না নিউ ট্যাবে? আপডেট নাউ নাকি রিমাইন্ড মি লেটার? ট্রাই টুনাইট? ইন অ্যান আওয়ার? রিমাইন্ড মি টুমরো? - এইসব হিজিবিজি এবং গুরুত্বপূর্ণ মিলিয়েটিলিয়ে নাকি সারাদিনে আমরা গড়ে পঁয়ত্রিশ হাজার সিদ্ধান্ত নিই। ভাবুন সারাজীবনে কত হবে। তার থেকেও সাংঘাতিক হচ্ছে যে এই প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত আমাদের একটি বিকল্প থেকে অন্য বিকল্পে সরিয়ে নিয়ে যায়, যেগুলো জুড়তে জুড়তে আমাদের জীবনের ফাইন্যাল চেহারাটা তৈরি হয়। যে বিকল্পগু

পোয়্যারোর শতবর্ষে

Image
অক্টোবরে দুটো জিনিসের শতবার্ষিকী ছিল। একটা জন্মদিন। একটা আত্মপ্রকাশ। উনিশশো কুড়ির অক্টোবরে জন্ম নিয়েছিলেন এরক্যুল পোয়্যারো, আর বহু  রিজেকশন পার হয়ে প্রথম উপন্যাস 'দ্য মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার অ্যাট স্টাইলস' সহকারে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আগাথা ক্রিস্টি। আমার পক্ষে প্রথমটার থেকে দ্বিতীয় উপলক্ষ্যটা উদযাপন করা বেশি স্বাভাবিক। আফটার অল, আগাথা ক্রিস্টি আমার প্রিয়তম লেখক আর পোয়্যারো প্রিয় গোয়েন্দার লিস্টে প্রথম তিনেও আসবেন না। টিভিতে ডেভিড সুশে আর রেডিওতে জন মোফ্যাট না থাকলে পোয়্যারোকে ও লিস্টে খুঁজে পাওয়া যেত কি না সন্দেহ। তবু জন্মদিনটা উদযাপন করছি, কারণ পোয়্যারো আমার ঘরের লোক। আমার মনের ভেতর গোয়েন্দাগল্পের যে পার্মানেন্ট ঘরখানা আছে, যে ঘরের জানালার ওপাশে সর্বদাই সন্ধে নয়তো মেঘলা দিন, মাঝে মাঝে ছিটে, মাঝে মাঝে ঝমঝম, গ্যাঙর গ্যাং গ্যাঙর গ্যাং। জানালা ঘেঁষে খাট, চেয়ার হলে এমন বড়সড় যাতে পা মুড়ে বসা যায়। হাতের কাছে কাপভর্তি চা, মন্ত্রবলে কখনও ঠাণ্ডা হয় না। ত্রিসীমানায় জনমানুষ নেই, খালি আমি আর বত্রিশ ক্যালিবারের বন্দুক, চকচকে ছোরা, ডিজিটালিসের খালি শিশি, ঠোঁট গড়িয়ে একফোঁটা রক্ত আর দৃষ

অটবী ও জারুল

Image
আমার একটা আফসোস যে স্টিফেন কিং- এর 'অন রাইটিং' বা অ্যান ল্যামটের 'বার্ড বাই বার্ড'-এর মতো লেখা নিয়ে লেখা, বা লেখাকে ঘিরে আত্মজীবনী বাংলা ভাষায় কেউ লিখলেন না কেন। লীলা মজুমদার যদি বলে যেতেন ওইরকম মায়া কী করে সৃষ্টি করা যায়, নীললোহিত যদি লিখে রেখে যেতেন কী করে দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে নিয়ে একটা সাধারণ মানুষ/দৃশ্য/গল্পকে অসাধারণ করে তোলা যায়, শীর্ষেন্দু যদি এখনও লিখে রেখে যান রোজকার হরেদরে ভাষা ব্যবহার করে ওই রকম নাব্য গাম্ভীর্য কী করে বুনে চলা যায় - বাংলার লেখককুল এবং বাংলা ভাষা, সম্পদশালী হত। কেউ কেউ বলবেন, কচু হত। ও সব কি আর শেখানো যায়? একজন বিদেশের এম এফ এ জাতীয় প্রোগ্রামে লেখা শেখানো হয় শুনে মুখ বেঁকিয়ে বলেছিলেন, কই আমাদের বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, মানিককে তো ওই সব কোর্স করে লেখা শিখতে হয়নি, যত্তসব। অনেক লোকে এখনও বিশ্বাস করেন, সাহিত্যকর্ম, বগল বাজাতে পারা বা কান নাচাতে পারার মতো একধরণের ক্ষমতা, যা নিয়ে জন্মাতে হয়। টিপস দিয়ে শেখানো যায় না। বোঝাই যাচ্ছে, আমি তাদের দলে পড়ি না। কারণ আমি অসুবিধেজনকরকম আশাবাদী। যদিও চল্লিশ বছর বয়স হল, আমি এখনও বিখ্যাত হওয়ার আশা ছাড়িনি, উ

একটি ছোট্ট বিপ্লবের গল্প

ঘটে যাওয়ার এক সেকেন্ড আগে পর্যন্ত ঘটনাটা যে ঘটতে পারে কেউ কল্পনা করেনি। ঘটে যাওয়ার পরের মিনিমাম মিনিটতিনেক জনতার মুখেচোখে অবিশ্বাস লেপে ছিল। কত হবে তখন, রাত সাড়ে ন'টা? ঘাম, ক্লান্তি, সিঁদুর মাখামাখি মুখ, চুল, মাথা। ধোঁয়ায় চোখ জ্বলছে, ধুনোর গন্ধে লাংস বলছে, ছেড়ে দে। ঢাকিকে সরিয়ে দিয়ে, পাড়ার সুন্দর যুবকের আঙুল দায়িত্ব নিয়েছে ঢাকের কাঠির। সারা বছর দাঁড়িপাল্লায় চানাচুর আর বেসন মাপা আঙুল যে অত সুন্দর, খেয়ালই হয় না। উল্টে যাওয়া ধুনুচির আগুন উড়ে উড়ে পড়ছে, চেঁচিয়ে উঠছে জনতা, দৌড়ে গিয়ে গনগনে নারকেলের ছোবড়া সরিয়ে দিচ্ছে সাবধানীর দল, টলমল খালি পা ওর ওপরেই এসে পড়বে যে কোনও সময়। পড়লে তেমন কিছু যাবে আসবে না, কারণ বিকেলের সিদ্ধি এতক্ষণে ব্রেনের ভেতর সাম্রাজ্য ফেঁদে বসেছে। বিচক্ষণ আড়চোখ হাতঘড়ির দিকে, এবার শেষ কর সব। রাত হয়ে যাচ্ছে। বারণে তেমন জোর নেই। থামলেই সব শেষ। কাল সূর্য উঠবে কি না কেউ বলতে পারে না, এক বছর বাদে কে কোথায় থাকে না থাকে, মা দুর্গাও জানেন না। নাচ ফের পিক আপ নিয়েছে এমন সময় ভিড়ের ভেতর থেকে কে যেন ছিটকে বেরিয়ে এল। কেউ চিনতে পারল, অধিকাংশই পারল না। যারা পারল তারা রুদ্ধশ্বা

ফাদার ব্রাউনঃ টগবগ শারদ সংখ্যা ১৪২৭

Image
G K Chesterton -এর The Blast of the Book টগবগ কিশোর পত্রিকার জন্য অনুবাদ করেছিলাম সম্ভবতঃ প্রায় বছর দুয়েক আগে। কিছুদিন বাদে ধৈর্য হারিয়ে গল্প অবান্তরে ছাপিয়ে দিয়েছিলাম, কাজেই আপনাদের অনেকেরই পড়া থাকবে। এ বারের টগবগ শারদীয়া সংখ্যা ১৪২৭ সে অনুবাদ প্রকাশ পেয়েছে, 'ফাদার ব্রাউন ও অভিশপ্ত বই' নামে। গল্পটি ফাদার ব্রাউনের বাকি ৫৩টি ছোটগল্পের মতোই কমবেশি, সাসপেনশন অফ বিলিফ-কে একটা বাড়াবাড়ি উচ্চতায় নিয়ে যেতে হয়, তেমন রক্তারক্তি মারমার কাটকাট থাকে না, দর্শন ও মানবচরিত বিশ্লেষণ সহকারে রহস্যের যবনিকা পতন ঘটে। চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ফাদার ব্রাউন সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি পেশায় রোম্যান ক্যাথলিক পাদরি, সময়ে সময়ে রহস্যের সমাধান করে থাকেন, গোয়েন্দা অগোয়েন্দা মিলিয়ে বিশ্বসাহিত্যে ওঁর মতো লাইকেবল চরিত্র খুব বেশি পাওয়া যাবে না। গল্পটা অনুবাদ করতে ভালো লেগেছিল। এক, গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একখানা বই। বই নিয়ে লেখা বই/গল্পদের প্রতি আমার পক্ষপাতিত্ব আছে। দুই, গল্পটা একাধারে রহস্যজনক এবং মজাদার; যে কম্বিনেশনটা চট করে দেখা যায় না। তিন, ফাদার ব্রাউনকে বাদ দিলে তিন চরিত্রওয়ালা গল্পের বাকি দুই চ

প্রেমহীন পুজো

আমি এ বছর নীল আকাশ দেখিনি, সাদা মেঘ দেখিনি, শিউলিফুল দেখিনি, কাশফুলও দেখিনি। কাশফুল জীবনে কমই দেখেছি, ক্বচিৎকদাচিৎ ট্রেনের কামরার জানালা দিয়ে। ময়লামতো ঝাড়ুর মতো দেখতে, সিনেমার দুধসাদা কাশফুলের মতো নয়। বেরসিকেরা বলবেন, সত্যি হলে তবে তো দেখবে। দুধের মতো কাশফুল, দিঘির মতো আকাশ, তুলোর মতো মেঘ - সব পাখি পড়ে পড়ে আমাদের কল্পনায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যালেন্ডারে সেপ্টেম্বরের সতেরো তারিখ পেরোলে যে নাক যে পুজো পুজো গন্ধ পায়, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলা শুনলে গলার ভেতর যে দলা পাকায় সে সবও আসলে তৈরি করা আবেগ, সোশ্যাল কন্সট্রাক্টস। আমি বলছি না। কারণ আমি বেরসিক নই। কারণ আমার গলার ভেতর সত্যি সত্যি দলা পাকায়। বিশেষ করে মামাতো বোন যখন দিদি দূরে আছে শুনতে পাবে কি না পাবে না ভেবে হোইয়াটসঅ্যাপে মহালয়ার ফাইল আপলোড করে পাঠায় তখন তো পাকায়ই। কিন্তু এটা মানতে হবে, পুজোর টেল-টেল সাইন হিসেবে আকাশ, মেঘ, কাশফুলের থেকে ঢের বেশি কার্যকরী বাঁশ, ত্রিপল, মূর্তি, মাইকের ত্রাহি গান। জুতোর অ্যাড, শাড়ির অ্যাড, ডিসটেম্পারের অ্যাড, নারকেল তেলের অ্যাড। সেগুলোও আমাদের কল্পনার পুজো গড়ায় মোক্ষম অবদান রাখে। সে সব অ্যাডে