February 10, 2016

এ মাসের বই (২)/ জানুয়ারি ২০১৬



Go set a Watchman/ Harper Lee


প্রথমেই বলি, এই বইটির ডিসেম্বর মাসের বইয়ের তালিকায় জায়গা পাওয়া উচিত ছিল, কারণ আমি বইটা পড়েছিলাম ডিসেম্বরের একেবারে শুরুতে। কেন সেই তালিকায় জায়গা পায়নি তার মুখ্য কারণ আমার আলস্য। ডিসেম্বরের বইয়ের তালিকা লিখতে এত দেরি করেছিলাম যে যখন ছাপছি, তখন আমার  ওই পোস্টটার পেছনে আর একবিন্দু পরিশ্রম খরচ করার কথা ভাবলেও কান্না পাচ্ছে।

গৌণ কারণটা হচ্ছে বইটা সম্পর্কে কী লিখব ভেবেও একটু  ব্যোমকে গিয়েছিলাম। তথ্যের তো অভাব নেই। যারা বাসরিক লিস্ট অনুসরণ করেন তাঁরা জানেন, এই বইটি দুহাজার পনেরোর সর্বাধিক বিক্রীত এবং সর্বাধিক আলোচিত বইয়ের সব লিস্টের একেবারে শুরুর দিকে জায়গা পেয়েছে। পাওয়াই স্বাভাবিক। সকলে যখন ধরেই নিয়েছে যে হার্পার লি একটিমাত্র উপন্যাস লিখে নিজের লেখকজীবনের সমাপ্তি টানবেন, তখন খবর এল  তাঁর আরেকটি উপন্যাস প্রকাশিত হতে চলেছে, যার নাম গো সেট আ ওয়াচম্যান। পঞ্চান্ন বছর পর প্রকাশিত হলেও আসলে গো সেট আ ওয়াচম্যান লেখা হয়েছিল টু কিল আ মকিংবার্ড-এর আগে। আবার ঘটনাপ্রবাহের দিক থেকে দেখতে গেলে গো সেট আ ওয়াচম্যান ঘটছে টু কিল আ মকিংবার্ড-এর পর। ছোট্ট স্কাউট বড় হয়ে গেছে, অ্যাটিকাস ফিঞ্চ বুড়ো হয়ে গেছে, স্কাউটের দাদা জেমস অকালে মারা গেছে অনেক বছর হল, আর ডিল? সেও আছে, তবে স্কাউটের সঙ্গে তার যোগাযোগ ক্ষীণ। (এখানে একটা ইন্টারেস্টিং ট্রিভিয়া দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না। ডিল-এর চরিত্র লি সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু ট্রুম্যান কাপোটি-র মতো করে।)

আমি খুব আশা করেছিলামবুর‍্যাডলিকেও আবার দেখতে পাব, কিন্তু গো সেট আ ওয়াচম্যানে বু নেই।

তাহলে গো সেট আ ওয়াচম্যান-এ কী আছে? ছাব্বিশ বছরের জিন লুইস ফিঞ্চ আছে। সে এখন নিউ ইয়র্ক সিটি-তে থাকে। তার বাড়িতে (মেকোম্ব, অ্যালাব্যামা) আছে বাতে প্রায় পঙ্গু বাবা অ্যাটিকাস, বিধবা পিসি আলেকজান্দ্রা। আর ঠিক বাড়িতে না থাকলেও ফিঞ্চ পরিবারের সঙ্গে প্রায় মিলেমিশে আছে হেনরিহ্যাঙ্কক্লিন্টন। মেকোম্ব-এর সকলে এবং হেনরি নিজেও জানে জিন লুইসকে একদিন সে বিয়ে করবে, সে বিশ্বাস জিনের সামনে খোলাখুলি উচ্চারণ করতেও তার বিলকুল বাধে না, কিন্তু জিন এখনও নিজের মনের ভেতর থেকে সাড়া পায়নি।

গল্পের ক্রাইসিস কী? স্কাউট (জিন লুইসকে স্কাউট ছাড়া আর কোনও নামে ডাকা আমার পক্ষে অসম্ভব) বাড়ি ফিরছে, কিন্তু যে বাড়ি ছেড়ে সে গিয়েছিল, সে বাড়ি আর আগের মতো আছে কি? বিশেষত অ্যাটিকাস ফিঞ্চ? যাকে স্কাউট নিজের জীবনের ধ্রুবতারা বলে মেনে এসেছে? হাতেকলমে পরীক্ষার সুযোগ এসে যায়। কালো মানুষদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে পরিস্থতি টালমাটালই ছিল, এমন সময় একটিনিগ্রোছেলে একজন মাতাল, শ্বেতাঙ্গ পথচারীকে চাপা দিয়ে মারে। আগুনে ঘি পড়ে। আর সেই গোলযোগের মধ্যে অ্যাটিকাস ফিঞ্চের আদর্শগত অবস্থান দেখে জিন লুইস স্তম্ভিত হয়ে যায়। খোলাখুলি সে অ্যাটিকাসের প্রতি, অ্যাটিকাসের আদর্শ আর রাজনীতির প্রতি বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

গো সেট আ ওয়াচম্যান আমার কেমন লেগেছে সেটা এক কথায় আমি বলতে চাই না। কারণ সেই লাগাটার অধিকাংশটাইটু কিল আ মকিংবার্ডআমার কেমন লেগেছিল তার সাপেক্ষে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাগজ যে বইয়ের সম্পর্কে লিখেছিল “No one ever forgets the book.”

গো সেট আ ওয়াচম্যান পড়তে পড়তে প্রধান যে ব্যাপারটা আমাকে ভাবাচ্ছিল সেটা হচ্ছে নোঙরের অভাব। একটার পর একটা ছবি চোখের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে, কিন্তু কোনওটা মনের ভেতর গেঁথে যাচ্ছে না। হার্পার লি-র এডিটরেরও নাকি সেরকমই হয়েছিল। তিনি লি-কে বলেছিলেন, এত ছবির মধ্যে থেকে একটা যে কোনও ছবি বেছে নাও। তারপর সেটাকে ঘিরে গল্প বোনো। এডিটরবাবুর এটাও চোখ এড়ায়নি যে বইয়ের যে সব অংশে জিন লুইস ছোটবেলার কথা বলছে, সে সব অংশ বাকিটুকুর তুলনায় অনেক বেশি উজ্জ্বল আর জীবন্ত।

হার্পার লি এডিটরের পরামর্শ নিলেন। গো সেট আ ওয়াচম্যান-এ একটা ছোট ঘটনার উল্লেখ ছিল, স্কাউটের ছোটবেলায় একটি শ্বেতাঙ্গ মেয়েকে ধর্ষণের মিথ্যে অভিযোগে একজন কালো ছেলের বিচার হয়। অ্যাটিকাস ফিঞ্চ ছেলেটির হয়ে কেস লড়েন। সেই ঘটনা লি-র গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল। জিন লুইসের বদলে প্রধান দর্শকের ভূমিকা অধিকার করল স্কাউট। জিন লুইসের পরিণত, অভিজ্ঞ দৃষ্টি যেখানে অনেক কিছু একসঙ্গে এবং আবছাভাবে দেখছিল, স্কাউটের স্থিত দৃষ্টি শুধু সেইটুকুই দেখল যেটুকু দেখার। যেটুকু জরুরি।

বলাই বাহুল্য, গো সেট আ ওয়াচম্যান মুক্তি পাওয়ার পর যত কথা বইটাকে নিয়ে হয়েছে, তার থেকে বেশি কথা হয়েছে টু কিল আ মকিংবার্ড-কে নিয়ে কারণ ... “No one ever forgets the book.” অ্যাটিকাস ফিঞ্চ সত্যিই দেবতা ছিলেন কিনা সে সন্দেহটা আমার মাথায় না এলেও অনেকের মাথাতেই এসেছিল। সেটা জেনে যেটুকু মন খারাপ হয়েছিল সেটা কেটে গেল এই পরের খবরটা পেয়ে। মোস্ট ইনস্পায়ারিং ফিকশনাল ক্যারেকটারের দৌড়ে ফার্স্ট হয়েছেন অ্যাটিকাস ফিঞ্চ। হ্যারি পটারকে হারিয়ে।  


The Bloody Chamber and Other Stories/ Angela Carter



জানুয়ারি মাসে যে আমি মোটে দু’খানা ইংরিজি বই পড়ে উঠতে পারলাম তার কারণ হচ্ছে দু’খানা বইই দাঁতভাঙা। রূপকথার আধুনিক পুনর্কথন ইংরিজি ভাষায় বেশ জনপ্রিয় সাহিত্যের বিষয়। অ্যাঞ্জেলা কার্টারের ব্লাডি চেম্বার অ্যান্ড আদার স্টোরিস তাদের মধ্যে প্রায় শুরুর দিকের পথিকৃৎ কাজ। ব্লাডি চেম্বারস-এ দশটি ছোট গল্প আছে। কোন কোন রূপকথা অবলম্বনে সেগুলো লেখা হয়েছে সে বিষয়ে প্রথমে বলে নিই। বইয়ের প্রথম এবং সবথেকে বড় গল্প ব্লাডি চেম্বার লেখা হয়েছে ‘ব্লু বিয়ার্ড’ গল্পের ছায়ায়। এর পরের দুটি গল্প ‘দ্য কোর্টশিপ অফ মিঃ লিয়ন’ আর ‘দ্য টাইগারস ব্রাইড’ দুটিই লেখা হয়েছে আমাদের সবার চেনা গল্প ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ অবলম্বনে। এর পরের ‘পুস ইন বুটস’ গল্প ওই একই নামের রূপকথার অনুসরণে, ‘দ্য আর্ল কিং’-এর অনুপ্রেরণা রূপকথার চরিত্র আর্ল কিং। তার পরের গল্প ‘দ্য স্নো চাইল্ড’, নাম শুনেই মূল গল্পটা কী হতে পারে আন্দাজ করতে পারছেন, আমার আপনার সবার পড়া ‘স্নো হোয়াইট’। ‘দ্য লেডি অফ দ্য হাউস অফ লাভ’-এর অনুপ্রেরণা ‘ভ্যামপায়ারেলা’, আর তার পরের ‘দ্য ওয়্যারউলফ’, ‘দ্য কম্পানি অফ উলভ্‌স্‌’ আর ‘উলফ্‌-অ্যালিস’, বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য রেড রাইডিং হুড’ অবলম্বনে লেখা।

উনিশশো ঊনসত্তর সালে ব্লাডি চেম্বার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে সাড়া পড়ে যায়। একে তো সবক’টি গল্পই বলা হয়েছে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কিন্তু তার থেকেও সাংঘাতিক ব্যাপার হচ্ছে গল্পে হিংসা আর যৌনতার খোলামেলা উপস্থিতি। পৃথিবীর যে কোনও ভাষার রূপকথায় যে দুটি জিনিস মুড়িমুড়কির মতো মেলে। রাজা রানীকে হেঁটোয় কাঁটা মাথায় কাঁটা দিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেললেন, এই ব্যাপারটা ছোটরা যত সহজে হজম করে ফেলতে পারে, বড় হয়ে সেটা করতে একটু অসুবিধে হয় বইকি। তাছাড়াও সেক্সের কথা ভুললে চলবে না। রাজার ছেলে হয় না, ঋষি এসে রানীদের বর দিলেন আর তাঁদের সব চাঁদের মতো রাজকুমার আর ফুলের মতো রাজকন্যে জন্মালো, এতেও বিস্তর গোলমাল। রূপকথা জিনিসটা আমরা যতখানি ভেবেছিলাম তার থেকেও অনেক বেশি পুরোনো। কাজেই রূপকথায় যে মানুষের আদিমতম দুটি প্রবৃত্তির গল্প বলা হবে তাতে আশ্চর্য কী? তাছাড়া গল্পগুলো শুরুতে খুব সম্ভবত ছোটদের জন্য লেখা হয়ওনি। পরে ছোটদের উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অদলবদল করা হয়েছে।

যদিও ভায়োলেন্স আর যৌনতাই ব্লাডি চেম্বারস অ্যান্ড আদার স্টোরিস এর মূল সুর নয়। অ্যাঞ্জেলা কার্টার নিজে কী বলেছেন দেখা যাক। "My intention was not to do 'versions' or, as the American edition of the book said, horribly, 'adult' fairy tales, but to extract the latent content from the traditional stories and to use it as the beginnings of new stories ...  and the latent content is violently sexual."

এবার আমার কেন শক্ত লেগেছে সেই কথাটা একটু বলি। শক্ত লাগার প্রধান কারণ ভাষা। অ্যাঞ্জেলা কার্টার একজন কবি। তাঁর লেখা গদ্য, অন্তত এই বইটির গদ্য অসম্ভব কাব্যিক, ব্যঞ্জনাময়, বর্ণনাবহুল এবং আলংকারিক। (এই বাক্যটা আমি যে ভাষায় লিখলাম, অ্যাঞ্জেলা কার্টারের পুরো বইটাই প্রায় সে ভাষায় লেখা।) তাছাড়া কার্টারের বাক্যগঠন, শব্দের ব্যবহার, যতিচিহ্নের প্রয়োগ, কোনওটাই আমার চেনা নয়। কাজেই শুরুর দিকে আমাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। দু’নম্বর অসুবিধের ব্যাপারটা হচ্ছে গল্পের লয়। কার্টারের গল্পগুলোর অনুপ্রেরণা রূপকথা হলেও রূপকথার সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর গল্পগুলোর বেজায় অমিল। রূপকথার অন্যতম আকর্ষণ তার অ্যাকশনে, গতিতে, থ্রিলে, চরিত্রের ভিড়ে। রাক্ষসখোক্কস, রাজকন্যা রাজপুত্র, সুয়োরানী দুয়োরানীর ব্যাঙ্গমাব্যাঙ্গমী। এই রাজা রানীকে শূলে চড়াচ্ছেন, এই রাক্ষস রাজকুমারকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলছে, এই রাজকন্যা ঘুম থেকে জাগছেন। সে তুলনায় অ্যাঞ্জেলা কার্টারের গল্প অসম্ভব মন্থর। গল্পের ভেতরের গল্প ধরতে গিয়ে মাত্র দুটি কি তিনটি চরিত্রের ওপর মনঃসংযোগ করেছেন লেখক। ব্লাডি চেম্বার গল্পের মেয়ে যখন ট্রেনে করে জানালায় শিকে মুখ চেপে ধরে স্বামীর ঘরে চলেছেন, সামনের বার্থ থেকে তাঁর বিরাট ক্ষমতাশালী, বিরাট বড়লোক স্বামীর শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ আসছে, আর নতুন বউয়ের বুকের ভেতর কত অনুভূতি, আনন্দ, উত্তেজনা, উদ্বেগ, বাইরের নেমে আসা সন্ধ্যের আকাশের রঙের সঙ্গে মিলেমিশে যাচ্ছে . . .  সেই লম্বা লম্বা বর্ণনার সমুদ্রে পড়ে আমার চোখ কেবলই দৌড় মেরে শব্দ, বাক্য এমনকি গোটা গোটা অনুচ্ছেদ পেরিয়ে এগোতে চাইছিল, তাকে আবার বকেঝকে ফিরিয়ে আনতে আমার যে কত সময় লেগেছে তার ইয়ত্তা নেই।

তবু সে কষ্টটা যে করেছি তার জন্য আমার আফসোস নেই। এক তো কঠিং বই পড়ার অভ্যেস করা দরকার, দুই অ্যাঞ্জেলা কার্টার রিটোল্ড রূপকথার জগতে একজন ধ্রুবতারা, তাঁর লেখা না পড়ার থেকে পড়া সবসময়েই ভালো। তাছাড়া পড়তে পড়তে যখন ভাষাটা সয়ে গেছে, তখন সত্যি করে গল্পগুলোয় ডুব দিতেও পেরেছি।


How To Be Both/ Ali Smith


জানুয়ারির দু’নম্বর দাঁতভাঙা বই অ্যালি স্মিথ-এর হাউ টু বি বোথ। বইয়ের দুটি অংশ। এক অংশের বক্তা হচ্ছেন মধ্যযুগের চিত্রশিল্পী ফ্রাঞ্চেসকো দেল কোসা। আর দ্বিতীয় অংশের মুখ্য চরিত্র হচ্ছে আমাদের সমসাময়িক পৃথিবীর ষোল বছরের জর্জ। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সত্যিই ফ্রাঞ্চেসকো দেল কোসা নামে একজন শিল্পী ছিলেন। ইতালির ফেরারা শহরের লাগোয়া প্রাসাদের দেওয়ালে যিনি ফ্রেসকো এঁকেছিলেন। শুনেছি প্রকাশকের তরফ থেকে দুভাবে বইটা ছাপা হয়েছে। কিছু বইয়ে প্রথমে আছে জর্জের গল্প, কিছু বইয়ের প্রথমে ফ্রাঞ্চেসকোর জবানি। আমার কাছে যে বইটা আছে সেটা শুরু হচ্ছে ফ্রাঞ্চেসকোর জবানি দিয়ে। আমার নিজের ওই অংশটা পড়তে বেশি ভালো লেগেছে। আবার আমি অন্য কয়েকজন পাঠকের অভিজ্ঞতা পড়েছি, যারা উল্টো বইটা পড়েছেন। যাঁরা যাঁরা জর্জের কথা আগে পড়েছেন তাঁদের সবারই নাকি জর্জের অংশটা বেশি ভালো লেগেছে।

আমার বইটা কেমন লেগেছে সেটা বলার আগে বরং বইয়ের একেবারে গোড়ার কয়েকটা লাইন তুলে দিই। এটা হচ্ছে সেই দৃশ্যের বর্ণনা যেখানে ফ্রাঞ্চেসকো দেল কোসা টাইমমেশিনে চড়ে, আকাশবাতাস নদী নালা ছিঁড়েখুঁড়ে আধুনিক পৃথিবীতে এসে হাজির হয়েছে। সে আবির্ভাবের অনুভূতি কেমন?

Ho this is a mighty twisting thing fast as a/fish being pulled by its mouth on a hook/if a fish could be fished through a/6 foot thick wall made of bricks or an/arrow if an arrow could fly in a leisurely/curl like the coil of a snail or a/ star with a tail if the star was shot/upwards past maggots and worms and/the bones and the rockwork as fast/coming up as the fast coming down/ of the horses in the story of/ the chariot of the sun when the/ bold boy drove them though/his father told him not to and/he did anyway and couldn’t hold them/he was too small too weak they nosedived/crashed to the ground killed the crowds/of folk and a fieldful of sheep beneath/and now me falling upward at the rate of 40 horses dear God old/Fathermother please spread extempore/wherever I’m meant to be hitting/whatever your target(begging your/pardon)(urgent)a flock of the nice/soft fleecy just to cushion(ow)what the/just caught my(what)on a(ouch)/dodged a (whew) (biff)/(bash) (ow)/(mercy)….

বাঁধনছাড়া শব্দ আর বাক্যের তোড়ে নাকানিচোবানি খেতে খেতে প্রথম পাঁচপাতা পেরোনোর পর ফ্রাঞ্চেসকোর মতো আমারও মুখ থেকে “মার্সি” বেরিয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারি মাসে অন্তত গল্পের বই পড়ার ক্ষেত্রে আমার অধ্যবসায় চ্যাম্পিয়ন। আমি আবার ফিরে গিয়ে প্রথম থেকে পড়তে শুরু করলাম। আর ফ্রাঞ্চেসকোর সঙ্গে সঙ্গে এসে পৌঁছলাম ইংল্যান্ডের এক মিউজিয়ামের একটি বিশেষ ঘরের একটি বিশেষ দেওয়ালের সামনে। যে দেওয়াল জুড়ে আলো করে আছে ফ্রাঞ্চেসকোরই আঁকা সেন্ট ভিনসেন্ট ফেরারা-র ছবি।

হাউ টু বি বোথ-এর মোদ্দা কথাটা লুকোনো আছে বইয়ের নামের মধ্যেই। কী করে একইসঙ্গে ভূত আর ভবিষ্যৎ এক বন্ধনীতে ধরতে হয়, কী করে একই ফ্রেসকোর ফ্রেমে ন্যায় অন্যায়কে মূর্ত করতে হয়, কী করে মা হারানোর বেদনার একই সঙ্গে বুকের মধ্যে লালন করতে হয় শিল্পের মানে বোঝার আনন্দ। আর সবথেকে বড় কথা কী করে একই দেহে, একই মনে ধারণ করা যায় প্রকৃতি ও পুরুষকে। মায়ের সঙ্গে ইতালির এক প্রাসাদের ফ্রেসকো দেখতে গিয়েছিল জর্জ। স্কুল কামাই করে। ফ্রেসকো তো নয়...“It resembles a giant comic strip. Except it’s also like art.” মানুষ, ঘোড়া, ঘোড়ার মতো দেখতে মানুষ, আকাশ, সেনা, পাকি, ফুল, নদীর তীর, বাঁদর, শিশুর ভিড়ে গিজগিজে ফ্রেসকোর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে জর্জের চোখে ধাঁধা লেগে যায়। আর তখনই ওর চোখে পড়ে...

“… on the other side of the woman floating above the goat, there’s a young man or a young woman, could be either, dressed in beautiful rich clothes and holding an arrow or a stick and a gold hoop thing, like everything’s nothing but a charming game.

Male or female? She says to her mother who’s standing under these figures.

I don’t know, her mother says.”

ফ্রাঞ্চেসকোও যে আসলে কী, বা কে, সেটা কেউ বুঝতে পারেনি। অবশ্য যাতে না বোঝে সে জন্য ফ্রাঞ্চেসকোর বাবা অনেক সাবধানতা নিয়েছিলেন। প্রতিদিন সকালে ওর সর্বাঙ্গ ব্যাণ্ডেজ দিয়ে বেঁধে, দাদাদের পোশাক পরিয়ে নিজের সঙ্গে কাজে নিয়ে বেরোতেন। দেখাতেন কী করে প্রাসাদের দেওয়াল বানাতে হয়, কী করে রং মেশাতে হয়। দাদাদেরও সে সব কাজ শিখিয়েছিলেন বাবা, কিন্তু দাদারা ফ্রাঞ্চেসকোর মতো ভালো ছাত্র ছিল না। তবু ফ্রাঞ্চেসকোর নিজেরও কি ভুল হয়নি? মিউজিয়ামে এসে যে কিশোরটিকে সে রোজ নিজের ছবির সামনে ধ্যানস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছে সে যে আসলে মেয়ে সেটা তো নিজে ফ্রাঞ্চেসকা হয়েও ফ্রাঞ্চেসকো ধরতে পারেনি।

অ্যালি স্মিথের লেখা আমার পক্ষে যথেষ্টই জটিল, তবে তাঁর লেখার ফাঁকে ফাঁকে রসবোধের স্রোত আমার ভালো লেগেছে। দুই অংশেই আছে এ জিনিস, তবে আমার বেশি পছন্দ হয়েছে ফ্রাঞ্চেসকোর অংশে লেখকের রসবোধ। জর্জের পিছু নিয়ে মিউজিয়ামের বাইরে বেরিয়ে এসে অবাক হয়ে গেছে ফ্রাঞ্চেসকো। চারপাশের কিছুই তার চেনা লাগছে না। অথচ জায়গাটা দেখতে পৃথিবীর মতোই। What kind of a world, though, that has no horses? ফ্রাঞ্চেসকো অবশেষে সিদ্ধান্তে আসে, সে যে জায়গায় এসেছে সেটা একটা হর্সলেস পারগেটোরিয়াম। “… this place is full of people who have eyes and choose to see nothing, who all talk into their hands as the peripatate and all carry these votives, some the size of a hand, some the size of a face or a whole head, dedicated to saints perhaps or holy folk, and they look or talk to or pray to these tablets or icons all the while by holding them next to their heads or stroking them with fingers and staring only at them, signifying they must be heavy in their despairs to be so consistently looking away from their world and so devoted to their icons.

February 06, 2016

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে



বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ আমাদের প্রত্যক্ষদর্শী মিলনমেলার মাঠে ঢুকলেন। কত নম্বর গেট দিয়ে? সেরেছে। ওই যেটা দিয়ে ঢুকেই ডান দিকে একটা বড় নীল রঙের জলের ড্রাম রাখা আর বাঁদিকে বাঁশ বার করা কয়েকটা ফাঁকা ফাঁকা ত্রিপলের ছাউনি। প্রত্যক্ষদর্শী নিজের পিঠ চাপড়ে দিলেন। ভালোই হয়েছে দুপুরবেলা এসে। ভিড় শুরু হওয়ার আগে ঘুরে, কয়েকটা বই ট্যাঁকে পুরে পালানো যাবে। কিন্তু বিধি বাম। খালি ত্রিপলগুলো পেরিয়ে বাঁ দিকে বাঁক নিতেই  মানুষ, ধুলো, বই, প্যান্ডেল, মাইক, জলের বোতল, এগরোলের গন্ধওয়ালা ভিড় তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।

প্রত্যক্ষদর্শী নিজেকে দমে যেতে দিলেন না। মেলায় যদি ভিড় না হয় তাহলে সেটা আবার মেলা কীসের? সুনীল গাঙ্গুলীর একটা কথা মনে পড়ে গেল তাঁর। বইমেলায় বেনফিশের দোকান থাকা উচিত কি উচিত না সে প্রশ্ন নিয়ে কেউ একজন সুনীলের কাছে গিয়েছিল। সুনীল বলেছিলেন, অবশ্যই থাকা উচিত। শুধু বেনফিশ কেন, নাগরদোলাও থাকা উচিত।  জিনিসটার নাম মেলা দেওয়া হয়েছে যখন। 

কথাটা মনে পড়ে প্রত্যক্ষদর্শীর মেজাজ ফুরফুরে হয়ে গেল। ভিড়ের মধ্য দিয়ে তিনি হেঁটে চললেন। ভ্রাম্যমান কবিতার দোকান, ফুড কোর্ট, গিল্ড প্যাভেলিয়ন, লিটল ম্যাগাজিনের তাঁবু। তাঁবুর জায়গাটা দ্রুত পা চালিয়ে পেরিয়ে এলেন প্রত্যক্ষদর্শী। এক্ষুনি বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা এসে ধরবে। আমাদের পত্রিকাটা দেখুন। নিতে হবে না, জাস্ট দেখুন। প্রত্যক্ষদর্শী নরম মনের মানুষ। যদিও দেখতেই বলা হয়েছে, তবু দেখে ফেরৎ দিতে খারাপ লাগে। কিনে নেওয়া যায়, কিন্তু বাড়িতে রাখার জায়গা নেই। লেখাগুলো পদস্থ হলে তবু একটা কথা ছিল। গিল্ড প্যাভেলিয়নের সামনে একটা জটলা চোখে পড়ল। জটলার মধ্যে একজন মানুষ বিশেষ করে চোখে পড়লেন। তিনি যদিও জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে তিনি জটলার অংশ নন। তাঁকে ঘিরে জটলা। প্রত্যক্ষদর্শী একবার থেমে ভালো করে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন। নাঃ, চেনা নয়। নতুন যুগের তারকা।

হঠাৎ ঠাণ্ডায় গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল প্রত্যক্ষদর্শীর।  পশ্চিমের সারির স্টলগুলোর ওপারে সূর্য নেমে গেছে। এবার যা কেনার কিনে বাড়ি ফেরা যাক। নিজের জন্য তেমন কিছু কেনার নেই। গোটা চারেক চেনা বাচ্চা আছে, তাদের জন্য কয়েকটা বই কিনবেন প্রত্যক্ষদর্শী। এতক্ষণ উদ্দেশ্যহীন হাঁটছিলেন, এবার দোকানের নাম খেয়াল করে চলতে শুরু করলেন।

একটু এগোতেই চোখে পড়ল। রঙিন প্যান্ডেলের মাথায় চেনা ছাঁদের অক্ষরে চেনা নাম। উঁচু চৌকাঠ পেরিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ভেতরে ঢুকলেন। চারদিকে টানা টেবিলে, দেওয়ালের র‍্যাকে, ধুলোধূসরিত সবুজ কার্পেটের ওপর দ্বীপের মতো ছোট ছোট সাজানো টেবিলে বই। পঞ্চতন্ত্র, রাশিয়ান রূপকথা, মনীষীদের জীবনী, রামায়ণ মহাভারত, হাঁদাভোঁদা।

প্রত্যক্ষদর্শী খুশি হলেন। এগিয়ে গেলেন বইয়ের দিকে। নাড়তেচাড়তে হঠাৎ একটা বইয়ের দিকে নজর পড়ল। কথাসরিৎ সাগর। বছর তিরিশ আগে এই বইটা তিনি কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন না? বইমেলা থেকেই কি? উঁহু। কলেজ স্ট্রিট থেকেই হবে। তখন বইমেলার অত চল হয়নি। আর তাছাড়া কলেজ স্ট্রিটে কমিশনও বেশি। বইটার দিকে সবে হাত বাড়িয়েছেন তিনি, এমন সময় একটা আচমকা ধাক্কায় তাঁর ভারসাম্য টলে গেল। টেবিলের কোণ ধরে কোনওমতে নিজেকে সামলে নিলেন প্রত্যক্ষদর্শী।

সাত আট বছরের একটা বাচ্চা ছেলে। বেশ জোরে দৌড়ে এসে টেবিলের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এসেই বই ঘাঁটতে শুরু করেছে, সাজানো বইগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী বিরক্ত হলেন। দুষ্টু বাচ্চা কোনওদিনই  তাঁর ধাতে সয় না। ছেলেটার থেকে দূরত্ব সামান্য বাড়াতে যাবেন এমন সময় একটা হাত এসে বাচ্চাটার কাঁধের ওপর পড়ল। খয়েরি রঙের চকচকে নেলপালিশ উদ্বেগে কাঁপছে।

বাবু! কতবার বলেছি সঙ্গে সঙ্গে থাকবে?”

অল্পবয়সী মহিলা। ঠোঁটে নখের সঙ্গে মেলানো রং, চোখে সানগ্লাস। এক হাতে বাবুকে সামলে অন্য হাত দিয়ে সানগ্লাসটা মাথার ওপর ঠেলে দিলেন। ফাঁপানো চুলে বাদামি হাইলাইট।

বাবু একটা বই মায়ের দিকে তুলে ধরল।

এটা কিনে দাও।

এই সময় দৃশ্যে একজন পুরুষের আবির্ভাব ঘটল।  এঁর চেহারা মহিলার মতো চকচকে নয়।  লম্বায় সাড়ে পাঁচ ফুটের কম, মাথার চুল প্রায় ফাঁকা, উইকএন্ডের বিয়ারের বদভ্যেস টি শার্ট ঠেলে বেরিয়ে এসেছে। হাঁটু আর গোড়ালির মাঝামাঝি এসে শেষ হয়েছে খাকি রঙের প্যান্ট। প্যান্টের পকেটে আলতো করে গোঁজা মোটা বেঁটে আঙুলে রুপোয় বাঁধানো পাথরের আংটি। একটা, দুটো। ওহ্‌, তিনটে! নিশ্চয় বিশ্বাস করে না। প্রিয়জনের উপরোধে ধারণ করেছে। লাভ না হতে পারে, ক্ষতি তো নেই।

এটা তুমি বুঝবে না, বাবু। এটা বাংলায় লেখা।”  মহিলা বললেন।

বুঝতে পারব, কিনে দাও না।

খয়েরি রঙের আঙুলগুলো বাবুর হাত থেকে বইটা নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে দিল। যেখানে ছিল ঠিক সেখানে নয়, একটু পাশে, তেরছা হয়ে পড়ল বইটা। আরেকটা বাংলায় লেখা বইয়ের ওপর। কাউন্টারের ওপাশে দাঁড়ানো ভদ্রলোক ঘটনাটা দেখলেন, কিন্তু বইটা তুলে নিয়ে ঠিক জায়গায় রাখার কোনও উদ্যোগ দেখালেন না।

বিয়ার ভুঁড়ি এগিয়ে এল। স্বামীস্ত্রীর চেহারায় কোনও মিলই নেই। মনের কিংবা শরীরের মিল আছে কি না সেটা প্রত্যক্ষদর্শীর পক্ষে বোঝা অসম্ভব। কিন্তু যেটা বোঝা সম্ভব, এবং যেটা তিনি বুঝতেও পারলেন সেটা হচ্ছে বাবুকে মানুষ করার ব্যাপারে এঁদের বোঝাপড়া মসৃণ। ব্যাড কপ যখন সুবিধে করতে পারবে না, তখন গুড কপ সিনে ঢুকবে।

বাবা বাবুর মাথায় হাত রেখে বললেন, “পাশের দোকানে চল, ওখানে ইংরিজি বই আছে। কিনে দেব।

না, আমার এটাই চাই।বাবু নির্ঘাত এক সন্তান।

ওখানে গিয়ে তোমরা কিছু দেবে না। আমি জানি। এটা কিনে দাও, আমি বুঝতে পারব।মায়ের হাত গলে দ্রুত শরীর বেঁকিয়ে টেবিল থেকে বইটা আবার তুলে নিল বাবু।

গুড কপ ব্যাড কপের দিকে তাকালেন। দৃষ্টিতে হাত তুলে দেওয়ার ভঙ্গি। ব্যাড কপ এগিয়ে এলেন। বাবুর হাত থেকে  বইটা কেড়ে নিয়ে এবার বেশ জোরের সঙ্গে টেবিলের ওপর ছুঁড়ে দিলেন তিনি কাউন্টারের ওপারের ভদ্রলোক একটা বিকট হাঁ করে হাই তুললেন। পান খাওয়া দাঁতগুলো স্পষ্ট দেখা  গেল। প্রত্যক্ষদর্শী চোখ ফিরিয়ে নিলেন। নোংরা দাঁত তিনি সহ্য করতে পারেন না।

বাবুর কাঁধে চেপে বসা নেলপালিশে এখন উদ্বেগের বদলে নিয়ন্ত্রণ। বাবু যতই তৎপর হোক না কেন আর পালাতে পারবে না। চোরপুলিশের টিম দোকান থেকে বেরিয়ে গেল। কোথায় গেল? প্রত্যক্ষদর্শী দোকানের ভেতরেই রয়ে গেলেন, কাজেই তিনি দেখতে পেলেন না। দোকানের বাইরেই রুপোলি কাগজের একটা এঁটো প্লেট পড়ে ছিল। গোড়ালি-ফাটানো হাওয়ায় সেটা উড়তে উড়তে ওদের পেছন পেছন গেল। হয়তো দেখতে যে বাবুর বাবামা বাবুকে দেওয়া কথা রাখলেন কি না। বাংলা বইয়ের দোকান থেকে বেরিয়ে বাবুর বোধগম্য ভাষার বইয়ের দোকানে ঢুকলেন কি না।

হয়তো ঢুকলেন। ইন ফ্যাক্ট, আমি নিশ্চিত ঢুকলেন। কারণ বই যে বাচ্চার বিকাশের পক্ষে জরুরি এই খবরটা বাবুর বাবামা জানেন না এটা হতে পারে না। না হলে তারা বাবুকে নিয়ে এতদূর ঠেঙিয়ে বইমেলা দেখাতে আসতেন না। তাঁরা শুনেছেন, বই শিশুর বিকাশের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। বইয়ের পাতার ওপর সারি সারি কালো কালো যে শব্দগুলো শুয়ে থাকে সেগুলো নাকি পড়ার সময় শিশুর চোখ দিয়ে শরীরের ভেতর ঢুকে পড়ে। রক্তের সঙ্গে সঙ্গে ছোটে। চুলের ডগা থেকে পায়ের নখে, ব্রেন থেকে বুকে, পেটে পিঠে, লিভারে কিডনিতে পুষ্টি যোগায়। ইনফরমেশন। নলেজ। মার্কস।

আর সেজন্যই তাঁরা এত সচেতন। বই নিয়ে, বইয়ের ভাষা নিয়ে। ভালো ভালো বই বেছে দেবেন তাঁরা বাবুর জন্য। তাঁদের প্রেশাস বেবির জন্য। শক্তিশালী বই। শক্তিশালী ভাষার বই। যে ভাষার শব্দরা বাবুকে তাগদ জোগাবে। বাবুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে বাবুকে স্ট্রং, স্ট্রংগার, স্ট্রংগেস্ট বানাবে। দুনিয়ার যত শালারা বাবুর ভালো দেখতে পারে না, বাবুর উন্নতি দেখে যাদের চোখ টাটায়, চান্স পেলেই বাবুকে লেঙ্গি মারার জন্য যারা ঘাপটি মেরে বসে আছে স্কুল, কলেজে, ম্যানেজমেন্টের স্কুলের দরজা আটকে, চাকরির ইন্টারভিউর প্যানেলে কোট টাই বেঁধে, শক্তিশালী শব্দের ঢাল তরোয়াল নিয়ে তাদের সঙ্গে সঙ্গে যুঝতে যুঝতে জীবনের পথে এগিয়ে যাবে বাবু। স্ট্রং, সাকসেসফুল। যেগুলো বাবুর মাবাবা কোনওদিন হতে পারেননি।

অন্তত স্বপ্ন দেখতে তো ক্ষতি নেই।

     
 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.