July 27, 2016

ফাঁকির রুটিন



জমানো কাগজ ঘাঁটতে বসলে প্রায়ই একেকটা খোলা পাতা বেরিয়ে পড়ে, যেগুলোর দিকে ভালো করে না তাকিয়েই আমি বাজে কাগজের ঝুড়িতে চালান করি। কারণ ওই একনিমেষেই আমি দেখে নিয়েছি পাতাগুলোয় খোপ খোপ কাটা। আমি জানি ওই খোপের বাঁদিকের কলামে ওপর থেকে নিচে সাতটা খোপে লেখা আছে সাতটা দিনের নাম আর সবার ওপরের রোয়ে লেখা আছে সকাল চারটে থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সময়, বিভিন্ন মাপে ভাগ করা। পাতার বাকি খোপগুলোয় অফিস, গান, অবান্তর, গান, হাঁটা, রান্না, বেড়ানো ইত্যাদি শব্দ সেজেগুজে বসে আছে। আমারই অপেক্ষায়। 

রুটিন বানানোর রোগটা আমার এই সেদিন পর্যন্ত ছিল। দু’ঘণ্টা লিখব, একঘণ্টা হাঁটব, একঘণ্টা গাইব, আটঘণ্টা কাজ করব - কাজের সময় বসে বসে এইসব ভাবতে, নিত্যনতুন ভাবে চব্বিশঘণ্টাকে কাটাছেঁড়া কী যে ভালো লাগত।

যতদিন না মেনে নিলাম যে রুটিন মেনে চলা আমার পক্ষে অসম্ভব। কেন অসম্ভব সেটা বুঝতে লেগে গেল আরও অনেক সময়। অসম্ভব, কারণ আমি গোটা ঘটনাটাকে অ্যাপ্রোচ করছিলাম ভুল দিক থেকে। রুটিন তখনই কাজে লাগে যখন তা রুটিন পালনকারীর ধাত বুঝে বানানো হয়। কাজ আমার ধাতে নেই, কাজেই কাজের রুটিন আমার চলবে না। আমার দিনটাকে সাজাতে হবে অন্যভাবে, আমার ধাতের কথা মাথায় রেখে।

আমার পক্ষে আদর্শ রুটিন হবে যা ফাঁকি বা ফাঁককে ঘিরে বানানো হয়েছে। এই সহজ কথাটা আমি বুঝলাম এই সেদিন। যেদিন আবিষ্কার করলাম অজ্ঞাতেই আমার জীবনটা একটা রুটিনবাঁধা পথে চলতে শুরু করেছে। আর সে রুটিনটা দাঁড়িয়ে আছে আমার সারাটা দিনের কয়েকটা ফাঁকের কাঁধে ভর দিয়ে। বাড়িতে থাকার সময়টা পুরোটাই ফাঁকি, তাই সেগুলো বাদ দিলাম। সোম থেকে শুক্র প্রতিদিন অফিসে কাটানোর যে প্রাণঘাতী ন’ঘণ্টা, তার বুনিয়াদ যে ক’টা ফাঁক বা ফাঁকি, তাদের কথা রইল এই পোস্টে। 

বোনাস ফাঁকিঃ প্রথমেই বলে নিই অফিসে পৌঁছনোর পরের আধঘণ্টার কথা। এই সময়টাকে অবশ্য আমি ফাঁকি বলতে রাজি নই। এর মধ্যে পনেরো মিনিট যায় বোতলে জল ভরতে, চায়ের জোগাড় করতে, মাকে ফোন করে পৌঁছসংবাদ দিতে, অর্চিষ্মানের পৌঁছসংবাদ নিতে। বাকি পনেরো মিনিট আমি তৈরি হই আসন্ন যুদ্ধের জন্য। 

দিনের প্রথম বৈধ ব্রেকটা আমি নিই বেলা এগারোটা নাগাদ। এ সময় আমার পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরে, চোখ ব্যথা করে, মন খারাপ লাগে। বেশি কাজ করে ফেলার লক্ষণ সর্বাঙ্গে ফুটে বেরোয়। তাছাড়া একটা কী খাই কী খাই ভাব হয়। আমি ফোন আর পার্সটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। আমাদের অফিসের পেছনে একটা ছোট কিয়স্ক আছে, সেদিকে হাঁটি। একজোড়া মাঝবয়সী ভদ্রলোক ভদ্রমহিলা কিয়স্কটা চালান। কিয়স্কে চা, সিগারেট, ম্যাগি পাওয়া যায়। বাইরে জালির তালাবন্ধ বাক্সে কুরকুরে আর বিংগো টেড়েমেড়ে, কিয়স্ক থেকে তেঁতুল গাছের ডাল পর্যন্ত টাঙানো দড়িতে হলদিরামের বেগুনি হলুদ প্যাকেট নমকিনের প্যাকেট। কিয়স্কের ভেতরের ফ্রিজে মাদার ডেয়ারির দই, তড়কা লস্যি, কোল্ড ড্রিংকসের ছোট ছোট কাচের বোতল আর সামনে কাচের হট বক্সে শিঙাড়া, ব্রেড পকোড়া। তেঁতুল গাছের গোড়ায় কাত করে দাঁড় করানো স্কুটারের চাকার কাছে থাবায় মাথা রেখে শুয়ে থাকে একটা কালো কুকুর, যার মাথা আর শরীরটা নেড়ি কিন্তু লেজখানা বাজখাঁই ঝালরের মতো। 

আমি গত প্রায় দু’বছর ধরে ওই একই সময়ে ওই কিয়স্কে যাই। হয় শিঙাড়া নয় নাট ক্র্যাকারের পাঁচ টাকার প্যাকেট কিনি। নাট ক্র্যাকার কিনলে ঝামেলা নেই, শিঙাড়া কিনলে ভদ্রলোকের সঙ্গে একটা কথোপকথন চালাতে হয়। আমি শিঙাড়াটা প্যাক করে দিতে বলি। ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করেন প্লেট এবং টমেটো সসের পাউচও প্যাক করতে হবে কি না। আমি দুটোতেই না বলি। অবিকল এই কথোপকথনটা গত দু’বছর ধরে চলছে। আমি প্রথমটা ভাবতাম ভদ্রলোক আমাকে অপছন্দ করেন তাই আমার সঙ্গে অপরিচয়ের দূরত্বটা একইঞ্চিও কমাতে রাজি নন। কিন্তু এখন সন্দেহ হয় ঘটনাটা শর্ট টার্ম মেমোরি লস-এরও হতে পারে। 

আমার দিনের দ্বিতীয় রুটিনমাফিক ফাঁক হচ্ছে লাঞ্চ। অফিসের বেশিরভাগ লোকই বাড়ি থেকে খাবার আনে। কেউ কেউ কাছাকাছি রেস্টোর‍্যান্টে খেতে যায়। কয়েকজন বাইরে থেকে অর্ডার করে। আর হাতে গোনা কয়েকজন যায় অফিসের ক্যান্টিনে। ক্যান্টিনটা আমাদের অফিসের নয়। আমাদের অফিসের পাশাপাশি আরও অনেক অফিস আছে ও তল্লাটে। তাদের সবার কথা মাথায় রেখে ক্যান্টিন বানানো হয়েছে। শসা, আচার, ডাল, একটা সবজি, ভাত, রুটি এবং একটি মিষ্টি পদ পঁয়ত্রিশ টাকায় পাওয়া যায়। আমি ওখানেই খাই। আমার ধারণা ছিল সবাই ওখানেই খায়। ইন ফ্যাক্ট, কেন কেউ ওখানে ছাড়া আর কোথাও খাবে সেটাই আমার ধারণায় ছিল না। কিন্তু দেখলাম ঘটনাটা সত্যি নয়। যাঁদের খরচ করার মতো পয়সা আছে তাঁরা প্রায় কেউই ক্যান্টিনে খান না। দেড়শো টাকার মাঞ্চুরিয়ান কিংবা আড়াইশো টাকার সুপ + স্যালাড বোনানজা অফার অ্যাভেল করেন।

ক্যান্টিনের খাবার না খাওয়ার অবশ্য গোটা দুই যুক্তি আছেও। অনেকেরই শুধু নিরামিষ খাবারে অসুবিধে হয়। অনেকের বোরিং লাগে। রোজ রোজ সেই ডাল তরকারি। এই অভিযোগটা সত্যি। বৈচিত্র্যের সন্ধানে থাকলে ক্যান্টিনের খাবার হতাশ করবে। আমার আবার ওই একঘেয়েমিটাই পছন্দ। নানারকম থাকলেই বাছতে হয়। মাথা খাটাতে হয়। আমার দিনের হাতে গোনা হক্কের ফাঁকিতে আমি সে পরিশ্রমটুকু করতে রাজি নই। 

তিন নম্বর এবং শেষ বিরামটা আমি নিই সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে। ওই সময়টা আবার চায়ের প্রয়োজন পড়ে। এই চা-টা আমি অফিসে খাই না। সকালের কিয়স্কেও না। এই ব্রেকে আমি যাই অফিসের অন্যদিকের খাঁটি রাস্তার চায়ের দোকানে। পাঁচিলের গা ঘেঁষে খেলিয়ে বানানো। মাথার ওপর ত্রিপলের ছাউনি। দোকানের পেছনদিকে পাতা চাদর বালিশ দেখে বোঝা যায় সাময়িক রাত্রিবাসের ব্যবস্থা আছে। চাদরের সামনে বাবু হয়ে বসে চা বানান হয় মা, নয় ছেলে, নয় ছেলের বউ। সম্পর্কগুলো আমি চেহারা আর বয়স দেখে আন্দাজ করেছি। একটা কাঠের সেকেলে সুটকেসের ভেতর প্লাস্টিকের প্যাকেটে বিস্কুট রাখা থাকে। পুরীর খাজার মতো দেখতে কিন্তু খাজার থেকে অনেক হালকা একরকমের নোনতা বিস্কুট, যাকে বলে ফেন আর মোটা মোটা মঠ্‌ঠি। একটা খেলে পরের দু'ঘণ্টা আর খাবার চিন্তা মাথায় আসবে না। আমি নিই একখানা 'ফিকি' চা আর খিদে বুঝে কোনওদিন ফেন, কোনওদিন মঠ্‌ঠি। এ দোকানের লোকজন আমার সঙ্গে রীতিমত কথাবার্তা বলেন। লোকজন মানে শাশুড়ি। আমি একদিন হাজিরা কামাই দিলে শাশুড়ি রীতিমত অভিযোগ জানান। ছেলে মুখচোখে ফ্রেন্ডলি ভঙ্গি জাগিয়ে রাখেন কিন্তু দরকারের বাইরে কথা বলেন না। ছেলের বউ তিনজনের মধ্যে সবথেকে গম্ভীর। চিবুক পর্যন্ত টানা ঘোমটার আড়ালে তার মুখ আমি কোনওদিন দেখিনি, কিন্তু গলা শুনেছি। পার্সোনালিটি টইটম্বুর। তবে বোধহয় আমি ওঁর গুডবুকে আছি। আমার দিকে চায়ের কাগজের কাপ এগিয়ে দেওয়ার আগে উনি সর্বদা আরেকটা প্লাস্টিকের কাপের ভেতর সেটাকে রেখে তবেই দেন। পাছে আমার আঙুলে ছ্যাঁকা লাগে। আমি খেয়াল করে দেখেছি আর কোনও খদ্দেরের ভাগ্যে এ ট্রিটমেন্ট জোটে না।

সারাদিনে আর কোনও কাজ হোক না হোক, এই ফাঁকের রুটিনে আমার একদিনও ফাঁকি পড়ে না। জীবনে একটা রুটিন অবশেষে মানতে পেরে কী যে গর্ব হয়। 


July 25, 2016

চারের তিন



রিষড়ার বাড়ির বিছানায় যিনি শুয়ে আছেন, তিনি থাকলে ছবিটা সম্পূর্ণ হত। নেই যখন তখন এই দিয়েই কাজ চালাতে হবে।

  

July 23, 2016

ল্যাংড়া আম, কেক আর সাপ্তাহিকী



এই সাপ্তাহিকীটা অবান্তরে মুখ দেখানোর কাছাকাছি সময়েই যদি আপনার চোখে পড়ে তাহলে খুব সম্ভবত তখন আমি আর অর্চিষ্মান আমার বাবামার সঙ্গে বসে চা, জ্যাম/মাখনটোস্ট, সসেজ, হাফ ফ্রাই আর হ্যাশ ব্রাউন খাচ্ছি। রিষড়া বাজারে নাকি অভূতপূর্ব ল্যাংড়া আমের ফলন হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হয় কি না সন্দেহ। মাবাবার বোঁচকার মধ্যে জোরজার করে তাদের দুয়েকপিস যদি উঠেই পড়ে তাহলে মাবাবা তাদের না বলতে পারবেন না। সে রকম হলে হ্যাশ ব্রাউন আর সসেজের মাঝে কাঁটায় গেঁথে ল্যাংড়া আমও মুখে পোরা হচ্ছে টুকটাক।

আপনি যদি আরেকটু দেরি করে ফেলেন তাহলে ততক্ষণে আমরা রাষ্ট্রপতি ভবন পৌঁছে গেছি। ডানহাতে আধার কার্ড আর বাঁহাতে মোবাইলে আসা “ইয়োর রিকোয়েস্ট ফর আর বি ভিজিট উইথ রেজিস্ট্রেশন নাম্বার অমুক ইজ অ্যাপ্রুভড” নোটিফিকেশন মেলে ধরে লাইন দিয়েছি। ভবন ঘুরে যাওয়া হবে হেইলি রোডে বঙ্গভবনের পাশের অগ্রসেন কি বাউলি দেখতে।

আপনারা যদি তারও পরে সাপ্তাহিকীতে আসেন তাহলে ধরে নিতে পারেন আমরা আছি খান মার্কেটে। এমনিতে তো যা-ই ভালো খাই, ভালো দেখি, মনে হয় বাবামাকে খাওয়াব, বাবামাকে দেখাব। কিন্তু ডিসিশন টাইম ঘনিয়ে এলে বোঝা যায় ব্যাপারটা অত সোজা না। ওঁদের পক্ষে জাপানি সাশিমি যদি টু এক্সোটিক হয়ে যায়, মজনু কা টিলার টিবেটান টিংমো টু গ্রাঞ্জ? ষোলো বছর বয়সে ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ পড়ে মা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলেন। ইস এত ভালো বই, কিন্তু মা (আমার দিদিমা) বুঝবে না। আমাদেরও হয়েছে সেইরকম দশা। বাবামা যদি জীবনটাকে আরেকটু বেশি বুঝতেন, এই আমাদের মতো, পৃথিবীটার প্রতি আরেকটু এক্সপোজার যদি বাবামার থাকত, যেমন আমাদের আছে, তাহলেই এত মাথা ঘামাতে হত না।

একবার মনে হয়েছিল ধুর এত না ভেবে চাইনিজ দোকানে যাই। কিন্তু চাইনিজ তো ইচ্ছে হলেই বাপি রোল সেন্টার থেকে বাবা প্যাক করিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। অনেক ভেবে আমরা ঠিক করলাম চেনা আর উদ্ভটের স্কেলে পার্সি খাবারটা মাবাবার পক্ষে পারফেক্ট হবে। আমাদের বাড়ির অপেক্ষাকৃত কাছে 'রুস্তম কি ভোনু' ছিল, সেখানের খাবারদাবারও চমৎকার, কিন্তু সোডাবটলওপেনারওয়ালা অনেক বেশি গমগমে।

আপনি যদি আরও দেরি করে সাপ্তাহিকীতে উঁকি মারেন তাহলে কখন আছি কোথায় আছি সে সব নিশ্চিত করে বলা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে কী আর অন্যরকম হবে। হলে নিচের বিষয়গুলোরই বিন্যাসসমাহার। 

ইলিশ, আম, বেড়ানো, গল্প, ঘুম, চা, মায়ের হাতে বানানো কেক, জানালার পর্দা খোলা এবং টানা নিয়ে মতবিরোধ (প্রকাশ্য নয়। প্রকাশ্য মতবিরোধ আমাদের সিলেবাসে নেই), চা, বেড়ানো, ঘুম, গল্প, লুচি, সেমাইয়ের পায়েস, হলুদ এবং সাদা আলো নিয়ে মতবিরোধ (অপ্রকাশ্য), গল্প, ঘুম, ঠাকুমাকে ফোন…ইত্যাদি ইত্যাদি। 

*****

এবার এ সপ্তাহের ইন্টারনেট।


There is no art without laziness. 
                                                                      -Mladen Stilinović


ইতিহাস

বৈকাল হ্রদের তীরে ব্রোঞ্জ যুগের মানুষের পাঁচহাজার বছর পুরোনো কংকাল। এখনও দুজন দুজনের হাত ছাড়েনি।

বিজ্ঞান


সমকাল

অফিস যাওয়ার পথে আমস্টারডামের লোকেরা কী খেলেন? উঁহু, পোকেমন গো নয়। এ খেলতে যন্ত্র লাগে না। 

ছবি


জানি লোকে আমাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলবে কিন্তু সূর্যকে পৃথিবী থেকে দেখতে যত সুন্দর লাগে তত আর কোথাও থেকে লাগে না। 

ভিডিও


লিস্ট

আধুনিক যুগের দশটি ভার্চুর কোন কোনটি আপনার আছে?

কুইজ/খেলা

রাজা বললেন, চোখ খুলে প্রথম যে শব্দ দেখবেন সেটাই গায়ে ট্যাটু করে নেবেন। আমি সে রকম কোনও দাবি করছি না কারণ গায়ে H O P E এঁকে ঘুরলে লোকে হিপি বলবে। 

জানালার দিকে মুখ ফেরানো লেখার টেবিল বাছামাত্র জানি আমাকে এরা এই দলে ফেলবে। You are part of the Transcendentalist movement along with writers Henry David Thoreau, Ralph Waldo Emerson, Louisa May Alcott, and Walt Whitman. The poetry and philosophy of this 19th-century American movement was concerned with self-reliance, independence from modern technology. One of the transcendentalists' core beliefs was in the inherent goodness of both people and nature, in opposition to ideas of man as inherently sinful, or "fallen," and nature as something to be conquered.


July 20, 2016

শিম টুর, পাহাড়গঞ্জ



লেফট টার্ন ফ্রি নেহি হ্যায়। গভীর খেদের সঙ্গে জানালেন ভাইসাব। ভাইসাব সি আর পার্কের সবগুলো লাইট ভাঙতে ভাঙতে গেছেন, আর সি পি-র সবগুলো লাইটে দাঁড়াতে দাঁড়াতে। ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে দুর্দান্ত অটোওয়ালাদেরও সামলে চলতে হয়। সিগন্যাল হল আর আমরাও বাঁয়ে বেঁকে পঞ্চকুইয়া রোডে এসে পড়লাম।

কনট প্লেস আর পঞ্চকুইয়া রোডের মধ্যে তফাৎ মোটে একটা লেফট টার্নের, কিন্তু সন্ধ্যের চেহারায় তফাৎটা সকাল দশটার এসপ্ল্যানেডের সঙ্গে রাত আটটার রিষড়ার বাড়ির সামনের রাস্তার মতো। এই সাদা থামওয়ালা প্রাসাদের গা-ঝলসানো আলো, এই ফ্লাইওভার চেরা অন্ধকার রাস্তা। ফ্লাইওভারের তলা দিয়ে ওপাশের উঁচু ফ্ল্যাটের জানালায় ম্লান আলো। টিউবলাইট মোছা হয়নি অনেক দিন। আমরা যেমন বিকেলে দাদুর চপ খেতে যাই, এসব বাড়ির লোকেরা তেমনি কনট প্লেসে মর্নিং ওয়াকে যায়। অথচ জানালার সাইজ আর আলোর ভোল্টেজ থেকেই স্পষ্ট এগুলো সরকারি ফ্ল্যাট। কী যে ভালো লাগে আমার এসব জায়গায় সরকারি ফ্ল্যাট দেখতে। সি পি-তে, জোড়বাগে। পয়সার সঙ্গে রিয়েল এস্টেট লোকেশনের সরল সম্পর্কটাকে পেঁচিয়ে দেওয়ার স্পর্ধা যদি কারও থাকে তাহলে সে শুধু সরকারি আবাসনের।

ফ্লাইওভারের তলা দিয়ে ডানদিক নিয়ে ঢুকে পড়লাম রামদোয়ারা রোডে, আর তক্ষুনি পঞ্চকুইয়া রোডের সঙ্গে তফাৎটা হয়ে গেল তিনখানা বড়বাজারের যোগফল আর আমাদের পাড়ার পুকুরঘাটের।

আমরা যাচ্ছি পাহাড়গঞ্জের কোরিয়ান রেস্টোর‍্যান্ট শিম টুর-এ। দিল্লিতে যে ক’টা কোরিয়ান খাবারের দোকান আছে তার মধ্যে শিম টুর রেটিং-এর বিচারে রীতিমত ওপর দিকে, দামের বিচারে বেশ তলার দিকে কাজেই আমাদের মতে পারফেক্ট।

জি পি এস না দেখে শিম টুর-এ পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব। জি পি এস দেখেও বেশ শক্ত। মেন বাজার রোড থেকে ডানদিকে ঘুরে মুশতাক রাই খান্না মার্গ পর্যন্ত অসুবিধে হবে না। ওপচানো ভ্যাট, দুর্গন্ধ, ভাঙাচোরা রাস্তা, নাম কা ওয়াস্তে আলো। পাহাড়গঞ্জের আর পাঁচটা গলির মতোই। কিন্তু তারপর যে জায়গাটায় গিয়ে ন্যাভিগেশন বলবে, নাউ টেক রাইট, তখন আপনি থমকাতে বাধ্য। ঠিকানা অনুযায়ী এটার নাম টুটি গলি, কিন্তু এ তো গলি নয়, এ তো দুটো ভাঙাচোরা বাড়ির দেওয়ালের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা। কোণের পানের দোকান থেকে একজন আপনাদের দিকে নজর রাখবেন। মনে মনে গুনবেন, এক দো তিন চার পাঁচ… দশে পৌঁছনোর অনেক আগেই আপনি এগিয়ে যাবেন তাঁর দিকে আর জানতে চাইবেন, ভাইসাব ইয়ে নভরং হোটেল কেয়া…

শিম টুর এই নভরং হোটেলেরই দোতলায়।

সিধে যাকে রাইট।

টুটি গলিতে পা দিয়ে আপনি বুঝবেন বেসিক্যালি ওটা একটা বাথরুম। চারপাশ থেকে অ্যামোনিয়া এবং আরও যা যা দেহনিঃসৃত অ্যাসিড, ক্ষার, ক্ষারকমিশ্রিত হাওয়া আকাচা মাফলারের মতো আপনার নাকমুখ পেঁচিয়ে ধরবে। দশ পা গিয়ে গলি টুটে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়েছে, নাকের জ্বলুনি আর সহ্য করা যাচ্ছে না, হাতের জি পি এস দপদপাচ্ছে, ইউ হ্যাভ অ্যারাইভড! কিন্তু কোথায়? কোথায় নভরং? কোথায় শিম টুর?

এমন সময় আরেকজন। আধময়লা শ্যাওলা সবুজ টি শার্ট, টাকমাথা, সামান্য ভুঁড়ি। হাত দুলিয়ে ডানদিকের অন্ধকার থেকে আলোয় বেরিয়ে এলেন। আপনাদের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ফ্রেন্ডলি হাসি দেখে আপনি ভাবছেন এঁকেই পাকড়ানো যাক, নভরং কাঁহা হ্যায়, এমন সময় উনি অবান্তর প্রশ্নের পারম্পর্য ভেঙেচুরে মোদ্দা কথায় গিয়ে পড়বেন।

কোরিয়ান খানা হ্যায়? উধার।

ডানদিকে দু’পা হেঁটে একটা বাড়ির মাথায় লেখা নভরং হোটেল। রিসেপশনের কাউন্টারের ওপর উল্টোনো নীলকমলের ভাঙা চেয়ার বুঝিয়ে দিচ্ছে আপাতত বন্ধ। আর তারই মধ্যে দেওয়ালের গায়ে ভীষণ, ভীষণ আবছা অক্ষরে লেখা শিম টুর। পাশে কয়েকটা সরলরেখার কাটাকুটি আর একটা তীরচিহ্ন। এবার সত্যিকারের সারি সারি বাথরুমের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে একটা সিঁড়ি, সিঁড়ির গায়ে লাল হলুদ নীল সবুজ উজ্জ্বল রঙে আঁকা ঢোলা শার্ট আর সারং পরা হাসিমুখ প্রাচ্য মানুষমানুষী নাচের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। দোতলায় উঠে ডানদিকে এয়ারকন্ডিশনড বসার জায়গা, বাঁদিকে ওপেন রেস্টোর‍্যান্ট।


এখন দিল্লির সন্ধ্যেবেলায় এসিতে বসার কোনও কারণ নেই। ওপেন রেস্টোর‍্যান্টে ঢুকে চোখ জুড়িয়ে গেল। পরিষ্কার, আলো ঝলমলে। গাছ, ছবি, বইয়ের আলমারি দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। দেওয়ালে হাতে আঁকা ভারতের ম্যাপ। সব রাজ্যের নাম ইংরিজি এবং কোরিয়ানে লেখা।


বিভিন্ন রাজ্যের সীমানার ভেতর উল্লেখযোগ্য জিনিসপত্রর ছবি আঁকা আছে, যেমন ওডিশায় রথ, বিহারে বুদ্ধদেবের মুখ। পশ্চিমবঙ্গে চার্চ আর যিশুখ্রিস্ট দেখে আমার প্রথমেই মাথায় এল ব্যান্ডেল চার্চ। তারপর মনে পড়ল কলকাতাতেও আছে বটে খানকয়েক চার্চ। কলকাতা রিষড়া বাদে আরও অনেক জায়গাতেই নিশ্চয় আছে। কোন চার্চের কথা মনে করে এই ছবিটা আঁকা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে আপনার?


শিম টুর-এর মেনুর বিখ্যাততম আইটেম নিঃসন্দেহে সাম কিয়াপ সল বা কোরিয়ান বার বি কিউ। ব্যাপারটা অত্যন্ত সরল, আগুনে সেঁকা পর্ক, কিন্তু আয়োজন চমৎকার। বাঁ থেকে ডানে যথাক্রমে কাঁচা পর্ক, লেটুস, পিকলড শসা (ওপরের বড় প্লেট), এগরোল, মাঝের চারটে ছোট ছোট খোপে কোরিয়ান লাল সস (এটার নাম পরিবেশক তিনবার বলার পর আর জিজ্ঞাসা করিনি), কাঁচা রসুন, কাঁচা লংকা, আর একরকমের নুনের মিশ্রণ। আর কিমচি। আর স্টিলের চপস্টিক। খুবই ইকো ফ্রেন্ডলি। আর সবার পর এল রান্নার সবথেকে জরুরি উপকরণ। উনুন। উনুনের নিচে একটা ফানেলের মতো করা আছে সেখান থেকে ফ্যাট গড়িয়ে সোজা কাগজের কাপে পড়বে। 


রান্নাটা যে টেবিলেই হবে সেটা আমরা জানতাম। এমন কিছু হাতিঘোড়া ব্যাপার নয় হয়তো, কিন্তু আমরা রান্না করার মুডে ছিলাম না। ভদ্রলোক বললেন তিনি সাহায্য করবেন।


প্রথম ব্যাচে প্লেটে একটা একটা করে পর্কের টুকরো পড়ল। আমরা কাঁপা কাঁপা চপস্টিক দিয়ে সেগুলো তুলে লাল সসে চুবিয়ে মুখে পুরলাম। সদ্য পোড়ানো মাংস খেতে খারাপ লাগার কোনও কারণ নেই, লাগলও না। কিন্তু ভদ্রলোক দেখলাম রান্না থামিয়ে দিলেন। হাতের চপস্টিক নামিয়ে রেখে উনুনের আঁচ কমালেন। তারপর একখানা লেটুস হাতে নিয়ে তার ওপর একখানা রান্না হওয়া মাংসের টুকরো, তার ওপর লাল সস, আর তিনখানা রসুন রাখলেন। তারপর গোটা ব্যাপারটা মুড়ে একজনের হাতে তুলে দিলেন।

বললেন, একবার মে খা লিজিয়ে।


আমার সন্দেহ ছিল রসুনটাকে নিয়ে। আমার বাবাকে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কাঁচা রসুন খেতে দেখছি আমি গত তিরিশ বছর ধরে, আমাকেও যে মাঝে মাঝে ওই অত্যাচার সহ্য করতে হয়নি তা নয়। কিন্তু তা বলে তিনচারটে কাঁচা রসুন একসঙ্গে চিবিয়ে খাওয়াটা একটু বাড়াবাড়ি। আমি বাকিটুকু ভদ্রলোকের দেখাদিখি করে রসুন তিনটের জায়গায় একটা নিলাম। তারপর লেটুস পাতার পানে খিলি বানিয়ে মুখে পুরে দিলাম।


অমনি সেঁকা পর্কের তাপ, লেটুসের কচকচে ঠাণ্ডা, কোরিয়ান লাল সসের টক মিষ্টি মদের গন্ধ আর কাঁচালংকা আর রসুনের ঝাঁজ মিলিয়ে মিশিয়ে যে ম্যাজিকটা ওপর ঘটল জিভের ওপর, কোনও পর্কের, সে যত ভালো কোয়ালিটিরই হোক না কেন, সাধ্য ছিল না একা হাতে সেটা করার।

শিম টুর-এ কোরিয়ান বার বি কিউ-র নিয়ম হচ্ছে এটা একবারে দু’প্লেট অর্ডার করতে হয়। স্কেল ইকনমির ব্যাপার থাকে বোধহয়। একবারে শুধু এক প্লেট রান্না করা বোধহয় জ্বালানি ইত্যাদির জন্য অপটিমাম নয়। যাই হোক, তিনজনে মিলে দু’প্লেট মাংস সাবাড় করতে আমাদের কোনও কষ্টই হল না। বরং ঠিক হল সেফটির জন্য আরও কিছু খেয়ে নেওয়া যাক। এখন পেটে জায়গা নেই ঠিকই কিন্তু তা বলে পরেও থাকবে না এমন তো কেউ বলেনি। মাঝরাতে খিদেয় ঘুম ভেঙে গেলে সর্বনাশ।


শিম টুর-এর মেনুতে বাকি মেন ডিশ বেশিরভাগই ভাতের সঙ্গে আসে। আর ভাত খাওয়ার ইচ্ছে আমাদের ছিল না। সুশি নেওয়া যেত। কিন্তু শিম টুর-এর সুশি নিরামিষ। সেটাও ইচ্ছে ছিল না। শেষমেশ আমরা অর্ডার করলাম সিফুড প্যানকেক। প্যানকেক কাটার জন্য এল একটা জাঁদরেল কাঁচি আর ডুবিয়ে খাওয়ার জন্য সয়া সস। আমি লোভে পড়ে বড় একটুকরো নিলাম বটে কিন্তু শুরু করেই বুঝলাম আমার দ্বারা আর হবে না। পেটের ভেতর পর্করা আরাম করে হাত পা ছড়িয়ে বসেছে। আর কাউকে জায়গা দিতে নারাজ। কাজেই স্কুইডগুলো প্যানকেক থেকে তুলে তুলে খেয়ে নিলাম।

তিনজনে খেতে শিম টুর-এ আমাদের খরচ পড়ল এগারোশো পঁচানব্বই। এই দামে এত ভালো এক্সোটিক খাবার দিল্লিতে পাওয়া শক্ত। তাছাড়া এক্সোটিক লোকেশনের দামও তো ধরতে হবে? শিম টুর শুধু খাওয়া নয়, শিম টুর হছে দিল্লির বুকে একখানা ছোটখাটো কোরিয়ান অ্যাডভেঞ্চার। আপনাদের সে অ্যাডভেঞ্চারে রুচি থাকলে যেতে পারেন।

*****

The Shim Tur
3 F, Navrang Guest House, Tooti Galli, Main Bazaar, Paharganj, New Delhi
+91 9810386717





July 18, 2016

অন্যজন



দিদিমণির ভাণ্ডারে বিবিধ রতন। ফ্যাকাশে সাদাকালো ছবি, কোণা দুমড়োনো পোস্টকার্ড। পুরোনো চিঠি সববাড়িতেই থাকে, কিন্তু দিদিমণির ভাঁড়ারের চিঠিগুলো স্পেশাল। কারণ তাঁর কাছে এমন কিছু চিঠি আছে যাদের লেখকদের দিদিমণি ছাড়াও বাংলাদেশের আরও অনেকে চেনেন। অচিন্ত্য সেনগুপ্ত, প্রমথ বিশী। এই দ্বিতীয়জনের সঙ্গে দিদিমণির ছাত্রশিক্ষকের সম্পর্ক ছিল। পরীক্ষায় কাজে লাগতে পারে ভেবে মাস্টারমশাইয়ের লেখা একখানা বই কেনার জন্য দিদিমণি তৈরি হচ্ছেন জেনে মাস্টারমশাই বললেন, কেনার দরকার নেই, আমিই এক কপি দেব’খন। বই নিয়ে দিদিমণি বাড়ি ফিরে দেখেন তার প্রথম পাতায় লেখা “শ্রীমতি … কে বইখানি না-পড়ার জন্য দেওয়া হইল।”

তবে বিখ্যাত লোকেদের সঙ্গে সঙ্গে অবিখ্যাত লোকদেরও দিদিমণি চিনতেন। না চিনলেই ভয়ের কথা। তাঁরাও দেদার চিঠি লিখেছেন দিদিমণিকে। বিখ্যাত অবিখ্যাত সকলের পোস্টকার্ডেরই কমন পয়েন্ট হল তারা সকলেই ফ্যাকাশে হয়ে এসেছে, সকলেরই বাংলা ভাষার ওপর দখল, হাতের লেখা ও রসবোধ চমৎকার। কয়েকটা, বিশেষ করে বাড়ির লোকের পাঠানো পোস্টকার্ডে জায়গা কথার তুলনায় কম পড়েছে, তখন ফন্ট সাইজ কমিয়ে “স্নেহের” ওপরের আর আশীর্বাদক-এর নিচের শূন্যস্থান পূরণ করতে হয়েছে। 

চিঠির মতোই মজার হচ্ছে ছবি। দিদিমণি খাটের ওপর আধশোয়া হয়ে ছেলের পড়ার তত্ত্বাবধানে, দিদিমণি সানগ্লাস পরে, দিদিমণি টেনিস খেলার পোশাকে। আমরা মুগ্ধ হয়ে দিদিমণির ছবি দেখি আর দিদিমণি নিজের দিকে দেখিয়ে বলেন, “সবাই ভাবে আমি বোধহয় এমনি হয়েই জন্মেছি। এখন বিশ্বাস হল?” 

এর পরের ছবিটায় একটা ছাদ (কিংবা বারান্দাও হতে পারে)। একসারি লোক চেয়ারে বসা, তাদের পেছনে একসারি দাঁড়িয়ে, আর সামনে বাবু হয়ে বসেছে আরেক সারি। চেয়ারে যাঁরা বসে আছেন তাঁদের আমি কোনওদিন দেখিনি, নাম জানি না। বেশিরভাগ সময়ে এঁদের নামের প্রসঙ্গটাই ওঠে না, দাদু, ঠাকুমা, দিদিমাতেই কাজ চলে যায়। তাঁদের কেউ কেউ আশি ছুঁতে চলেছেন, অথচ মাথার চুল কুচকুচে কালো। পেছনর সারিতে দাঁড়ানো কাউকেও আমি দেখিনি, কিন্তু আমাকে যারা এঁদের চিনিয়েছেন তাঁরা এঁদের ভালো করে চেনেন, কাছ থেকে দেখেছেন। এঁদের বিদ্যাবুদ্ধি, রসবোধের সঙ্গে গল্পের মাধ্যমে আমার জানাচেনা আছে। এঁদেরই মধ্যে কোনও একজন আমার শাশুড়ি মা’কে সন্ধ্যেবেলা ভূতের ভয়ে খুব জোরে দৌড়ে বাড়ি ঢুকতে দেখে অবাক হয়েছিলেন। “তোমার কি ধারণা, ভূত তোমার থেকে আস্তে দৌড়োয়?”   

ইন্টারেস্টিং হচ্ছে সামনের সারির লোকজন। ছাদের মেঝেতে হাফপ্যান্ট কিংবা ফ্রক পরে যাঁরা বাবু হয়ে বসে আছেন। যাঁদের কারওরই চুল কানের লতি ছাড়ায়নি, ক্যামেরা দেখলেই হাসতে হবে এমন বোকা যুক্তিতে যাঁদের কেউই তখনও বিশ্বাস করেন না। 

এঁরা ইন্টারেস্টিং কারণ দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বাড়িয়ে, চুলদাড়ি পাকিয়ে, চশমা পরিয়ে, অভিজ্ঞতার প্রলেপ মাখিয়ে চেনামুখে পরিণত করার খেলাটা আমার পক্ষে একমাত্র এঁদের সঙ্গেই খেলা সম্ভব। কাউকে কাউকে পারি, কাউকে কাউকে পারি না। ঠিক উত্তর জেনে হাঁ হয়ে থাকি। আমার দেখা অন্যতম গম্ভীর ভদ্রলোকের ওইরকম বেলবটম প্যান্ট আর ওইরকম চোয়াল ছোঁয়া জুলপি?

কিন্তু একজনকে চিনতে আমার কক্ষনও ভুল হয় না। কোলে চাপা ছবি থেকে শুরু করে চন্দনের সাজ, ফ্রক থেকে শুরু করে শাড়ি। গোড়ার দিকে আমার চোখ পড়ার আগেই কেউ একজন ছবির একজায়গায় আঙুল রেখে বলত, “আর এটা কে বল দেখি?” এখন সেটারও দরকার হয় না। মাকে আমি দেখলেই চিনে ফেলতে পারি। 

*****

সুমিতামামি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, মাকে নিয়ে আমি কখনও অবান্তরে লিখিনি কেন। মা তো লেখার মতোই ব্যাপার। মামির সঙ্গে আমি একমত। একেবারে যে লিখিনি তা নয়, মায়ের ভুলো মনের গল্প লিখেছি, (যাঁরা মিস করে গিয়েছিলেন তাঁদের জন্য আবার বলছি। মা একদিন ছাদে কাপড় মেলতে গিয়ে রোদের ঠেলায় নিচে নেমে এসে গগলস পরে আবার ছাদে গিয়েছিলেন। এবং নেমে এসে বলেছিলেন, কী যে হয়, এই ঝাঁ ঝাঁ রোদ, আবার এই মেঘলা করে এসেছে। কাপড়গুলো দিয়ে এলাম, এক্ষুনি আবার তুলতে যেতে হবে নির্ঘাত।) মায়ের ছাদের বাগানের ছবি দেখিয়েছি, (মায়ের বাগান কেজো ও অকেজোর অতি বিরল সঙ্গম, এ রেলিং-এ পাতিলেবু, ও রেলিং-এ পিটুনিয়া), একবার মাকে “হেল্প” করতে গিয়ে কারিগাছের বদলে অন্য গাছের পাতা ছিঁড়েখুঁড়ে দেওয়ার গল্পও লিখেছি। কিন্তু ওই পর্যন্তই। নিজের মাকে নিয়ে যেমন অবান্তরে আদিখ্যেতার শেষ রাখিনি, অর্চিষ্মানের মা’কে নিয়ে সেরকম করিনি কখনও।

কেন করিনি সেটা আপনারা সকলেই নিশ্চয় আন্দাজ করেছেন, নাকতলার মা-ও করেছিলেন। বিয়ের পরের দিনতিনেক ওঁকে ‘মা’ আর বাবাকে ‘বাবা’ বলতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছিলাম, কেবলই ‘কাকিমা’ আর ‘কাকু’ বেরিয়ে পড়ছিল। মা বলেছিলেন, “তুমি আমাদের যা ইচ্ছে তাই ডাকবে কুন্তলা। মা তো একজনই হন। সে ডাকে সবাইকে ডাকবেই বা কেন?” 

নাকতলার মা আমার নিজের মা নন। তাই তাঁকে নিয়ে অবান্তরে লেখার আগে অনেকবার ভাবি। নিজের মাকে নিয়ে লেখার আগে ভাবি না। নিজের আজকালপরশু হাঁটকে পোস্ট লেখার রসদ না পেলে মায়ের জীবন হাঁটকাই। তাঁর অনুমতির ধার না ধেরে তাঁরই ছোটবেলা বড়বেলা থেকে গল্প চুরি করে অবান্তরে ছেপে দিই। এ কথা জানা সত্ত্বেও যে পাবলিক ব্লগে ব্যক্তিগত হাঁড়ির খবর ছাপানো মায়ের ভয়ানক অপছন্দের। কী আর হবে। মা রাগ করবেন। বকবেন। দু’দিন খালি কাজের কথাটুকু বলে ফোন নামিয়ে রাখবেন। তারপর? চারদিনের দিন তো আবার ঘুরেফিরে আমার কাছেই আসতে হবে। সারাজীবনের মতো দুজনের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন ভগবান, আমাকে ছেড়ে মা পালানোর রাস্তা বন্ধ।

নাকতলার মায়ের প্রতি আমার সে কনফিডেন্স নেই, কারণ উনি, আফটার অল, আমার নিজের মা নন। উনি বলতেই পারেন, তোমার কাজ নেই তুমি ব্লগ লিখবে লেখ, আমাকে নিয়ে টানাটানি কেন? কিন্তু তিন বছর কেটে গেছে, তাছাড়া আগের পোস্টগুলোতে মাকে নিয়ে অল্পস্বল্প লেখাতে মা কিছু আপত্তি জানাননি, কাজেই আমার সাহস বেড়ে গেছে। 

নাকতলার মা’কে নিয়ে লেখার দু’নম্বর সমস্যাটা হচ্ছে মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয়ের অপ্রতুলতা। তিনটে বছর আর কতটুকু, তাও ফোনের ওপার থেকে? আরও অসুবিধের ব্যাপারটা হচ্ছে মা আমার জীবনে এসেছেন সামাজিক সম্পর্কের প্যাকেটমোড়া হয়ে। আমার শাশুড়ি, অর্চিষ্মান-তিন্নির মা, এটাই আমার কাছে মায়ের প্রধান পরিচয়। এই সম্পর্কগুলোর বাইরের যে মা, যাঁর প্রমাণ আছে দোতলার ঘরের শোকেসে ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া উপহারে, মায়ের সঙ্গে এখনও জড়িয়ে থাকা পুরোনো ছাত্রদের গল্পে, তাঁদের মেয়েদের মাকে দেওয়া হাতের লেখার হোমটাস্কের পাতায়, দিদিমণির পুরোনো পোস্টকার্ডে, তাঁর সম্পর্কে আমার কোনও আইডিয়াই নেই। নাকতলার বাড়ির বাইরের সেই মা, যিনি কারও মা নন, স্ত্রী নন, শাশুড়ি নন, যিনি নিজেই নিজের, সেই মা’কে কখনও দেখিনি আমি, দেখার চান্সও নেই। 

কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? কাউকে সামাজিক সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে দেখা? আমার নিজের মাকেই কি ‘মা’ কথাটার বাইরে গিয়ে কখনও দেখেছি আমি? তাঁর বাকি সব পরিচয়ই কি সেই এক অক্ষরের ব্ল্যাকহোলে ডুবে মরেনি? তাছাড়া বাইরের দুনিয়াটাও তো ঊর্ধ্বস্তন, অধস্তন, শিক্ষক, ছাত্র, মাইনে, স্ট্যাটাস, আরও নানারকম সম্পর্ক ও সংজ্ঞার জ্বরে জর্জরিত? সেখানেই বা আসল লোকটাকে খুঁজে পাওয়ার আশা করছি কী করে আমি?

করছি না। শুধু আফসোস করছি মায়ের জীবনের ওই ভীষণ ব্যস্ত, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর গল্প আমার হাত ফসকে পালিয়েছে বলে। সেগুলো জোড়া দিয়ে দিয়ে মায়ের যে ছবিটা হত, সেটা নিখুঁত না হতে পারে, এখনকার ছবির থেকে স্পষ্ট তো হত।  

কিন্তু যা নেই তা নিয়ে আফসোস থাকা বোকামো। গত তিন বছরে গল্প করে বলার মতো ঘটনা হয়তো খুব বেশি জমেনি, কিন্তু ক্বচিৎকদাচিৎ মুখোমুখি আর বাকিটুকু শ্রবণের মধ্য দিয়ে যেটুকু জমেছে সেটাও যথেষ্ট। আর কে বলল গল্প হতে গেলে ঘটনা লাগে? ইদানীং তো আমার এও মনে হতে শুরু করেছে, ভালো হতে গেলে গল্পে হয়তো ঘটনা লাগেই না। সকালবিকেলের কথোপকথন, চলাফেরার মধ্যে থেকে যে একটা সুর স্পষ্ট হয়, সেটা ঘটনার থেকে অনেক বেশি এফেক্টিভ। অনেক বেশি চমকপ্রদ। 

চমকের সবথেকে বড় বিষয় হচ্ছে পরনিন্দাপরচর্চা ছাড়া একটা লোক থাকে কী করে। মৌলবাদী কিংবা সলমান খানের নিন্দে না করে অনেকেই থাকতে পারে, তা বলে পাড়াপ্রতিবেশীর? আত্মীয়স্বজনের? আমি নিজে পরচর্চার ভক্ত। যার চর্চা করলাম তার কোনও ক্ষতি হল না, আমার মন খানিকটা হালকা হল। ফুলপ্রুফ প্যারেটো ইমপ্রুভমেন্ট। নাকতলার মাকে আমি কখনও নিজের জন্য ওই আরামটুকু খুঁজে নিতে দেখিনি। আমরা কারও প্রতি নিন্দের তুফান তুললে বরং মা চুপ করে থেকেছেন, তারপর সেই লোকটির একটা ভালো দিকের কথা বলেছেন। 

পরচর্চা করা লোক আমি একেবারে দেখিনি বলব না, কাউকে কাউকে দেখেছি। তবে তাঁরা কেন অন্যকে নিয়ে কথা বলেন না তার একটা কারণ হতে পারে নিজেকে নিয়ে কথা বলতে গিয়েই তাঁদের সব সময় ফুরিয়ে যায়। মা সেই দলেও পড়েন না। ’আমি' বা ‘আমার’ দিয়ে মা সারাদিনে ক’টা বাক্য শুরু করেন সেটা আমার ধারণা সহজেই গুনে ফেলা যাবে। 

আমরা অনেকসময় গল্প করতে করতে দেখি মা আমাদের হাতের নাগালেই আছেন, কিন্তু আবার নেইও। পরীক্ষা নেওয়ার মতো করে হঠাৎ যদি তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বল/বলুন দেখি এতক্ষণ কীসের কথা হচ্ছিল? তাহলেই মা ধরা পড়ে যাবেন। বেরিয়ে পড়বে যে মা আসলে এতক্ষণ আমাদের তত্ত্বালোচনা কিচ্ছু শোনেননি। অনেক সময় আমাদের অনুপস্থিতিতে তোলা মায়ের ছবি দেখি। অনেক লোকের সঙ্গে গ্রুপফোটোতে মা। আমরা বলাবলি করি, মা কিন্তু নেই, দেখেছ/দেখেছিস? এতদিন আমি ভাবতাম মায়ের এত ভুলোমন কি না, তাই বোধহয় মা মাঝে মাঝে ভুলে যান যে তাঁর চারপাশে এই মুহূর্তে কিছু একটা চলছে। ইদানীং সন্দেহ হচ্ছে আসলে তা নয়, আসল কথা হচ্ছে আমরা যেহেতু সবসময়েই অন্যকে কিংবা নিজেকে নিয়ে কথা বলি আর মা যেহেতু ও দুটোর একটাতেও ইন্টারেস্টেড নন, তিনি বোরড হয়ে অন্য কথা ভাবতে শুরু করে দেন।

মোদ্দা কথা হচ্ছে মায়ের সঙ্গে ভীষণ আরাম করে, হাত পা ছড়িয়ে থাকা যায়, কোথাও খোঁচা লাগে না, অস্বস্তি হয় না। ঠাকুমা বলেন, পিতৃমুখী মেয়েরা সুখী হয় আর মাতৃমুখী ছেলেরা। আর মায়ের মতো স্বভাব যে সব ছেলেদের? তাদের সম্পর্কে শাস্ত্রে কিছু লেখেনি। সে না লিখুক, আমি জানি। সে সব ছেলের মায়েরা যদি আমাদের মায়ের মতো হন, তাহলে তাদের রুমমেটরাও ভয়ানক সুখী। 


July 16, 2016

এ সপ্তাহে + সাপ্তাহিকী



গত সপ্তাহে আমরা তিনটে সিনেমা দেখলাম। হলে গিয়ে দেখলাম 'সিক্রেট লাইফ অফ পেটস'। দিল্লিতে পপকর্ন আর কোল্ডড্রিংকস সহ দুজনে সিনেমা দেখলে পকেট আর বিবেক দুটোর ওপরেই মারাত্মক চাপ পড়ে।  রবিবার সকালের শোয়ের দাম তবু মানুষের মতো। তাই আমরা বেশিরভাগ সময়েই রবিবার সকালের শোয়ে সিনেমা দেখতে যাই। ন'টার শো ধরতে সাড়ে আটটায় বেরোতে হয়। প্রায় অফিস যাওয়ার মতোই দাঁড়ায় ব্যাপারটা। বাড়িওয়ালার মুখোমুখি পড়ে গেলে অকওয়ার্ড। তাই আমরা বেরোনোর আগে ক্যাটস আই দিয়ে ভালো করে পরীক্ষা করে বাজার খালি দেখে তবেই চটি হাতে করে গুটিগুটি সিঁড়ি দিয়ে নামি বেরোই। কখনও কখনও এত সতর্কতা মাঠে মারা যায়।  হঠাৎ তিনতলা থেকে তিনি নেমে আসেন। কিংবা একতলা থেকে উঠে। “একী আজ আবার কোথায় চললে?” “এই সিনেমায়।” তাঁর মুখে আলো জ্বলে ওঠে। হাতে ধরা ফোন দেখিয়ে তিনি বলেন, "সুলতান? মিন্টিরাও দেখছে আজ, ইন ফ্যাক্ট এখনই। ওদের ওখানেও (ডে মইন) রিলিজ করেছে তো।" আমরা সত্যিটা স্বীকার করি। সুলতান দেখছি না আমরা, আমরা দেখতে যাচ্ছি কুকুরবেড়ালের কার্টুন।

"কী ছেলেমানুষি!" প্রশ্রয়ের হাসি হাসেন তিনি। ছদ্ম বকুনি দেন। "দেখবে না, চারদিক থেকে বাচ্চাকাচ্চা চ্যাঁভ্যাঁ করবে।” হলে পৌঁছে আমাদেরও চোখ কপালে উঠল। পালে পালে শিশু। "পাপা পাপা" চিৎকারসহ কোলে চড়ে পাপাদের কলার টেনে পপকর্নের দিকে নির্দেশ করছে। আমরা শঙ্কিত মুখে থ্রি ডি চশমার লাইনে দাঁড়ালাম। একেবারে প্রথমে। পেছনে পিল পিল করে লোক আসছে। পপকর্নের বালতি বুকে আঁকড়ে, অর্ধেক খই তকতকে মেঝেতে ছড়াতে ছড়াতে শিশুর দল পাপাদের কোলে চেপে উল্টোদিকের 'সুলতান'-এর অডিটোরিয়ামে ঢুকে গেল। 'সিক্রেট লাইফ অফ পেটস' দেখল গোটা দুই বাচ্চা, গোটা দশেক মাঝবয়সী আর গোটা চারেক সিনিয়র সিটিজেন।

আমাদের খুব ভালো লেগেছে সি লা অ পে। মিষ্টি কুকুর, কুচুটে বেড়াল, বদমাশ খরগোশ, বিবেক জাগ্রত হওয়া খুনে ঈগল, ধপধপে সাদা তুলোর মতো লোমওয়ালা অ্যাংরি ইয়ং নায়িকা। খারাপ লাগার কোনও কারণ নেই।

দুই আর তিন নম্বর সিনেমাটা দেখলাম বাড়িতে বসে। দ্বিতীয়টার নাম 'দ্য উইচ'। অনেক দিন দেখার ইচ্ছে ছিল। একটি ধর্মপ্রাণ পরিবারের জঙ্গলের ধারে বসতি পাতার পর নানারকম অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার গল্প। হরর ঘরানার সিনেমা বটে, কিন্তু ধুমধাম আওয়াজ করে চমকে দেওয়া নেই, আর মাথার সব চুল মুখের সামনে ঝুলিয়ে দিয়ে ভয় দেখানোও না। সাধারণ দেখতে লোকজন, সাধারণ ঘটনাবলী, ধর্মের নামে পাগলামি, মাঝে মাঝে অন্ধকারের ভেতর আবছায়া কিছু অদ্ভুত দৃশ্য, একটা মারাত্মক অস্বস্তির সৃষ্টি করে। 

তিন নম্বরটা আজ দুপুরেই দেখলাম। 'ডায়াল এম ফর মার্ডার'। আগে দেখা, তবু একইরকম ভালো লাগল। 

*****

গত সপ্তাহে দিল্লিতে বৃষ্টি হল। "বৃষ্টি হোক হোক" বলি বটে, কিন্তু মনে থাকে না যে বৃষ্টির জন্য আমরা তৈরি থাকলেও দিল্লি শহরটা তৈরি নয়। শহরের নর্দমা, সিগন্যাল ব্যবস্থা, কর্তৃপক্ষ, কেউ না। বৃহস্পতিবার রাস্তায় এমন জল জমল, যে একঘণ্টার রাস্তা পেরোতে অর্চিষ্মানের লাগল আড়াই ঘণ্টার ওপর, তাও শেষের দু' কিলোমিটার ট্যাক্সি থেকে নেমে হাঁটল বলে। আমার আবার এই সময়েই অফিসে অশ্বমেধ যজ্ঞ শুরু হয়েছে। সে সব সেরে জ্যাম পেরিয়ে যখন বাড়ি পৌঁছলাম, ততক্ষণে দিল্লির দোকানপাট বন্ধ হতে শুরু করেছে। 

তবু আমি বৃষ্টির পক্ষে। আজ সকাল ছ’টাতেও যখন বারান্দার চিকের ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকে এল না, তখন আমার সন্দেহ হল। আমি কান থেকে গান খুললাম। কানের সন্দেহটা নিরসন হল। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতে চোখের সন্দেহও ঘুচে গেল। জাত বর্ষা নেমেছে। বাড়ির মতো। বেশ কিছুক্ষণ থাকবে। মাটি ভিজতে না ভিজতে পালাবে না। সারাদিনই চলল। বিকেলেও মেঘে ছেয়ে ছিল আকাশ। এখন চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে। 




****

এবার এ সপ্তাহের ইন্টারনেট।


লেখাপত্র

Regardless of what country you live in, and what stage of life you might be at, having kids makes you significantly less happy compared to people who don’t have kids. It’s called the parenting happiness gap.

ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে শান্তি করে ভাত খেতে পারছেন না? এই চালাকিটা করে দেখতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন এভাবে নাকি ভাতের প্রায় অর্ধেক ক্যালরি কাউন্ট কমিয়ে ফেলা যায়।

ভালোবাসার গল্পচরিত্রের দৌড়ে হ্যারি পটারকে হারিয়ে দিয়েছেন একজন। সত্যি বলতে কি, তাঁকে আমিও হ্যারির থেকে বেশি ভালোবাসি।

মুখ ফসকে যা বেরোয় তা যে আসলে মনেরই কথা সে নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। ফ্রয়েডের বেশিরভাগ দাবিই ভুল প্রমাণ হয়েছে, কিন্তু ফ্রয়েডিয়ান স্লিপ নিয়ে এখনও বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছেন না।

পাখি হতে অনেকের ইচ্ছে করে শুনেছি। তা বলে ছাগল হতে?


ভিডিও

চল্লিশ বছরের জন্মদিনে আমি এরকম কিছু একটা করব ভেবেছি।





ছবি



অডিও

বিবিসি রেডিও ফোর-এ চলছে ক্রাইম ফেস্টিভ্যাল। এ মাসে চারটি ছোট অপরাধমূলক ছোটগল্প (তিরিশ মিনিট করে) পড়ে শোনানো হবে। এ সপ্তাহের গল্প অ্যান ক্লিভস-এর। এঁর কথা অবান্তরে আগেও হয়েছে। আপনাদের ইচ্ছে হলে শুনতে পারেন।




 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.