Posts

Showing posts with the label ঘোরাঘুরি

ম্যাকলিওডগঞ্জ ২/২

ম্যাক্সিমাস মল থেকে ম্যাকলিওডগঞ্জ বাস স্টপ গাড়িতে তিরিশ মিনিট। ব্যক্তিগত ট্যাক্সিতে আটশো থেকে হাজার টাকা, ভাগাভাগি জিপে মাথাপিছু পঁচিশ। মলের সামনে তিনজন ট্যাক্সি ভাইসাবকে হেসে এড়িয়ে বারো পা এগিয়ে মোড় ঘুরে জিপ স্ট্যান্ড। একটা বড় স্থানীয় লোকের গ্রুপ অপেক্ষা করছিল, একটা খালি জিপ আসামাত্র ভর্তি হয়ে গেল। দুঃখী মুখে দাঁড়িয়ে আছি, ড্রাইভারজি বললেন, দো লোগ হো? উদগ্রীব ঘাড় নাড়লাম। ভদ্রলোক মাঝের সিট থেকে একটা সরুমতো ছেলেকে সামনের সিটে ডেকে নিলেন। তার জায়গায় আমরা উঠে পড়লাম। পাছে দরজা খুলে পড়ে যাই, অর্চিষ্মান আমার গলা জাপটে থাকল। আমি রাস্তার কংক্রিটে, নিচু পাঁচিলে, ঝোপে ঝাড়ে, পাইন গাছের গুঁড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছোটা গাড়ির ছায়ায় নজর রেখে চললাম। জামাকাপড়ের ব্যাগ গাড়ির ছাদে ছুঁড়ে উঠেছি, বাঁধাছাঁদা নেই, পড়লে ছায়া দেখে টের পাব আশা করি। জায়গার মতো হোটেল বাছাতেও বৈচিত্র্যের অ্যাটেম্পট নিইনি আমি। ম্যাকলিওডগঞ্জ যতবার গেছি হয় সরকারি ভাগসু-ত থেকেছি নয় ভাগসুর উল্টোদিকে প্রাইভেট পেমা থাং-এ। একবার বুকিং ছাড়া এসে কোনওটাতেই জায়গা না পেয়ে মেন মার্কেটে একটা রেস্টোর‍্যান্টের ওপরের গেস্ট হাউসে থাকতে হয়েছিল, কারওরই পোষায়নি। ভ...

ম্যাকলিওডগঞ্জ ১/২

একবার আই এস বি টি পৌছনোর পথে জ্যামে দেড়ঘণ্টা ফেঁসে ভয় ধরে গেছে, সাড়ে দশটার বাস ধরতে সাড়ে ন’টায় পৌঁছে গেলাম। চল্লিশ বা একচল্লিশ বা বেয়াল্লিশ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে বাস ছাড়বে। অর্চিষ্মান লাইভ ট্র্যাকিং করছে। বাসটা নাকি একজায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, এগোচ্ছে না। স্বাভাবিক। আমরা আগে পৌঁছেছি কাজেই বাস দেরি করবে। এটাই জগতের নিয়ম আর জগত বেনিয়মে চলে না। অর্চিষ্মান হেউ বলে কোথায় চলে গেল। আমি বসে থাকলাম। চারপাশে ভারতবর্ষ ঢেউ খেলছে। অর্চিষ্মান এসে বলল, বাসটা এইইই জাস্ট ওখানে দাঁড়িয়ে আছে, হ্যাঁ হ্যাঁ কম্পাউন্ডের ভেতর। বলে আবার চলে গেল। আমি বসে আছি। ভারতবর্ষ ফুলছে ফাঁপছে হাসছে দৌড়চ্ছে সিট খুঁজছে ঘাম মুছছে বাঁদর বাচ্চার পিঠে গদাম করে মারছে। এক মহিলা গাইড আত্মবিশ্বাসী গলায় ফোন কানে লোক জোগাড় করছেন। ক্যান ইউ সি মি আই অ্যাম ওয়েভিং মাই হ্যান্ডস। মহিলা আমার থেকেও বেঁটে। এই কুরুক্ষেত্র পানিপথ অঞ্চলে উনি ফুল স্ট্রেচ হাত তুললে অর্ধেক জনসংখ্যার কান পর্যন্ত পৌঁছবে না। অর্চিষ্মান আসছে। বাসটা এতক্ষণ যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে খবর দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের বাসটা বাদ দিয়ে অন্য বাসেরা আসছে যাচ্ছে। একটা বলতে ...

বান্ধবগড় ২ঃ জঙ্গল জঙ্গল পতা চলা হ্যায়

এমন কোথাও থাকতে পারবে যেখানে বাজার বলতে বড় রাস্তার এদিকে একটা গন্নে কা জুসের ঠেলা, ওদিকে ফালুদার, হাবিব খানের চিকেন এবং (অ্যান্ড নয়) মাটন সেন্টার আর বান্ধবগড় রয়্যাল স্টেশনারি স্টোরস? রয়্যাল ইজ ওপেন টু ইন্টারপ্রিটেশন। চারটে দোকানই ছ’টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিস শুনেছি এমন কোনও প্রশ্ন করে না যার উত্তর পুলিসের অলরেডি জানা নেই। যদি পুলিস আপনাকে জিজ্ঞাসা করে কাল রাত দশটা চার থেকে দশটা সাতের মধ্যে কোথায় ছিলেন, তাহলে শিওর হতে পারেন যে নামধাম কন্ট্যাক্ট নম্বর এমব্রয়ডারি করা যে রুমালটা সকাল থেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না, সেটা ডেডবডির পাশে ড্যাবড্যাব করে পড়ে ছিল। সিসিটিভি খারাপ ছিল তো কী হয়েছে, পাশের বাড়ির ফুড ব্লগার ভন্টু মাকে ঘামিয়ে ঠাকুরবাড়ির টেংরি রাঁধিয়ে, সে টেংরিতে কামড় বসানোর সময় ক্যামেরার কোণায় আপনাকে স্পষ্ট দেখা গেছে। ভিকটিম দুই হাত তুলে পড়ে যাওয়ার ভঙ্গি করছে আর আপনি ছোরা নিয়ে বাঘের মতো লাফিয়ে পড়ছেন। ভিকটিম ফ্রেমের বাইরে চলে গেছে কিন্তু আপনি আছেন। আপনার ছোরাও। নামছে আর উঠছে। আবার নামছে। নিজের ফিংগার প্রিন্টটিন্ট শুদ্ধু ছোরা (বেরোনোর সময় তাড়াহুড়োয় গ্লাভস খুঁজে পাননি সে দায় পুলিসের না...

বান্ধবগড় ১ঃ ও উমরিয়া, ও ও উমরিয়া

Image
আগের পোস্টের 'চলবে' স্থগিত রেখে নতুন একটা 'চলবে' চালাব। এটা শেষ হলে ওই ব্যাখ্যানে ফেরত যাওয়া যাবে। ঝকঝকে প্ল্যাটফর্ম। সদ্য রং করা রেলিং, চাল, পাঁচিল। পাঁচিলে রংচঙে ছবি। তাঁর। হাঁটছেন। হাই তুলছেন। হাঁ করছেন। চোখ বুজে ঘাপটি মারছেন। চোখ খুলে ঘাড় ঘুরিয়ে চোখে সোজা চোখ রাখছেন। থাবা তুলছেন। দাঁত খিঁচোচ্ছেন। লাফ মারছেন। স্টেশনমাস্টারের ঘরের সামনে খড় বাঁশ বা ওই রকম কিছু সাসটেনেবল মেটেরিয়াল দিয়েও তাঁরই মূর্তি। আয়তনে আমাদের হুলোর বেশি বড় না কিন্তু তেজের লিগ আলাদা। স্টেশন কম্পাউন্ডের বাইরে বোর্ডে ভেজা বেড়াল রাজনীতিক জোড়হাতে ভোটভিক্ষা চাইছেন, পার্টিপ্রতীকে তাঁর চোখ জ্বলজ্বলাচ্ছে, তিনি হুংকার দিচ্ছেন। গোলচক্করের ব্রোঞ্জ বীরপুরুষ - ছোট প্লাকে নাম পড়ার আগেই অটো সাঁ - হাতে খাটো তরবারি নিয়ে আর যেখানেই যান, তাঁর মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন না গ্যারান্টি। গোলচক্কর পেরিয়ে পঞ্চাশ মিটার এগিয়ে যে দুজন বাইকারোহী অটোতে ধাক্কা মারতে মারতেও কাটিয়ে গেলেন - তাঁদের হলুদ ইউনিফর্মের পিঠেও তাঁরই কালো পাঞ্জার কিউট ধাপ্পা। তিনি সর্বব্যাপী। সর্বময়। সর্বগ্রাসী। যেদিকে ঘাড় ঘোরাই, ঘাড়ে লাফিয়ে পড়তে রেডি হচ্ছেন...