Posts

Showing posts from 2026

গান শুনতে গিয়ে

পৌষমেলার শেষদিনে ছিলেন জয়তী চক্রবর্তী। জয়তীর গান আমার খুবই পছন্দ। জয়তীকেও আমার পছন্দ। জয়তীর ইন্টারভিউ হলে আমি হাঁ করে শুনি এবং নতুন করে সিদ্ধান্তে পৌঁছই, নাহ্‌ মহিলা সত্যিই পছন্দসই। আমার ধারণা জয়তীর গান আমার এমনিতে যত পছন্দ হওয়ার কথা তার থেকে বেশি পছন্দ জয়তীকে আমার পছন্দ বলে। সবই যে পলিটিক্যাল অ্যাদ্দিনে সবাই জেনে গেছে, আমি টের পাচ্ছি সবই কী সাংঘাতিক পরিমাণ পার্সোন্যালও। অর্চিষ্মান বলল, স্পিক ফর ইয়োরসেলফ, কুন্তলা। সবাই (গৌরবে বহুবচন ব্যবহারের বদভ্যেস আছে অর্চিষ্মানের, এখানে সবাই মানে ওকে ধরতে হবে) তোমার মতো ব্যক্তিগত অনুভূতির ক্রীতদাস নয়। হতে পারে। হওয়াই উচিত। যারা ইমপার্সোন্যালি পৃথিবীর মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন তাদের আমি হিংসে করি, কারণ তাঁরাই ঠিক আমি ভুল, কিন্তু কিছু কিছু ভুল ঠিক করার জন্য পঁয়তাল্লিশ টু লেট। আমার বিশ্বদর্শনের বেসিস মূলতঃ ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগত অনুভূতি অতিক্রম করতে আমার দম বেরিয়ে যায়। তা বলে কি সবটাই ব্যক্তিগত? আমি যদি জয়তীকে দু'চক্ষে দেখতেও না পারতাম তবু আমাকে মেনে নিতেই হত জয়তী একজন দরের গায়ক। আমার পছন্দঅপছন্দ নিরপেক্ষে। জয়তীর গলায় প্রথমবার 'নিবিড় অমা তিমির...

অ্যাবনর্ম্যাল গল্পপাঠ

Image
গুরুচণ্ডা৯-র ইউটিউব চ্যানেলে গল্পপাঠ সিরিজে আমার লেখা অ্যাবনর্ম্যাল গল্পটা পঠিত হয়েছে। পাঠ করেছেন সোহিনী সেনগুপ্ত।

ম্যাকলিওডগঞ্জ ২/২

ম্যাক্সিমাস মল থেকে ম্যাকলিওডগঞ্জ বাস স্টপ গাড়িতে তিরিশ মিনিট। ব্যক্তিগত ট্যাক্সিতে আটশো থেকে হাজার টাকা, ভাগাভাগি জিপে মাথাপিছু পঁচিশ। মলের সামনে তিনজন ট্যাক্সি ভাইসাবকে হেসে এড়িয়ে বারো পা এগিয়ে মোড় ঘুরে জিপ স্ট্যান্ড। একটা বড় স্থানীয় লোকের গ্রুপ অপেক্ষা করছিল, একটা খালি জিপ আসামাত্র ভর্তি হয়ে গেল। দুঃখী মুখে দাঁড়িয়ে আছি, ড্রাইভারজি বললেন, দো লোগ হো? উদগ্রীব ঘাড় নাড়লাম। ভদ্রলোক মাঝের সিট থেকে একটা সরুমতো ছেলেকে সামনের সিটে ডেকে নিলেন। তার জায়গায় আমরা উঠে পড়লাম। পাছে দরজা খুলে পড়ে যাই, অর্চিষ্মান আমার গলা জাপটে থাকল। আমি রাস্তার কংক্রিটে, নিচু পাঁচিলে, ঝোপে ঝাড়ে, পাইন গাছের গুঁড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছোটা গাড়ির ছায়ায় নজর রেখে চললাম। জামাকাপড়ের ব্যাগ গাড়ির ছাদে ছুঁড়ে উঠেছি, বাঁধাছাঁদা নেই, পড়লে ছায়া দেখে টের পাব আশা করি। জায়গার মতো হোটেল বাছাতেও বৈচিত্র্যের অ্যাটেম্পট নিইনি আমি। ম্যাকলিওডগঞ্জ যতবার গেছি হয় সরকারি ভাগসু-ত থেকেছি নয় ভাগসুর উল্টোদিকে প্রাইভেট পেমা থাং-এ। একবার বুকিং ছাড়া এসে কোনওটাতেই জায়গা না পেয়ে মেন মার্কেটে একটা রেস্টোর‍্যান্টের ওপরের গেস্ট হাউসে থাকতে হয়েছিল, কারওরই পোষায়নি। ভ...

ম্যাকলিওডগঞ্জ ১/২

একবার আই এস বি টি পৌছনোর পথে জ্যামে দেড়ঘণ্টা ফেঁসে ভয় ধরে গেছে, সাড়ে দশটার বাস ধরতে সাড়ে ন’টায় পৌঁছে গেলাম। চল্লিশ বা একচল্লিশ বা বেয়াল্লিশ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে বাস ছাড়বে। অর্চিষ্মান লাইভ ট্র্যাকিং করছে। বাসটা নাকি একজায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, এগোচ্ছে না। স্বাভাবিক। আমরা আগে পৌঁছেছি কাজেই বাস দেরি করবে। এটাই জগতের নিয়ম আর জগত বেনিয়মে চলে না। অর্চিষ্মান হেউ বলে কোথায় চলে গেল। আমি বসে থাকলাম। চারপাশে ভারতবর্ষ ঢেউ খেলছে। অর্চিষ্মান এসে বলল, বাসটা এইইই জাস্ট ওখানে দাঁড়িয়ে আছে, হ্যাঁ হ্যাঁ কম্পাউন্ডের ভেতর। বলে আবার চলে গেল। আমি বসে আছি। ভারতবর্ষ ফুলছে ফাঁপছে হাসছে দৌড়চ্ছে সিট খুঁজছে ঘাম মুছছে বাঁদর বাচ্চার পিঠে গদাম করে মারছে। এক মহিলা গাইড আত্মবিশ্বাসী গলায় ফোন কানে লোক জোগাড় করছেন। ক্যান ইউ সি মি আই অ্যাম ওয়েভিং মাই হ্যান্ডস। মহিলা আমার থেকেও বেঁটে। এই কুরুক্ষেত্র পানিপথ অঞ্চলে উনি ফুল স্ট্রেচ হাত তুললে অর্ধেক জনসংখ্যার কান পর্যন্ত পৌঁছবে না। অর্চিষ্মান আসছে। বাসটা এতক্ষণ যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে খবর দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের বাসটা বাদ দিয়ে অন্য বাসেরা আসছে যাচ্ছে। একটা বলতে ...

এখনো, এই বেলা

কী করতে করতে, কোন পথে ঘুরতে ঘুরতে যে আবার, বারবার, এই কবিতায় পৌঁছনো। এখনও, এই বেলাতেও.... হৃদয়পুর শক্তি চট্টোপাধ্যায় তখনো ছিলো অন্ধকার, তখনো ছিলো বেলা, হৃদয়পুরে জটিলতার চলিতেছিল খেলা ডুবিয়াছিলো নদীর ধার আকাশে আধোলীন সুষমাময়ী চন্দ্রমার নয়ান ক্ষমাহীন কী কাজ তারে করিয়া পার যাহার ভ্রূকুটিতে সতর্কিত বন্ধদ্বার প্রহরা চারিভিতে কী কাজ তারে ডাকিয়া আর এখনো, এই বেলা হৃদয়পুরে জটিলতার ফুরালে ছেলেখেলা?

লেস

আগরওয়ালজির গুমটির পাশে দাঁড়িয়ে ব্রেক নিচ্ছিলাম। অর্চিষ্মানও ছিল। র এগোল। গাইজ, আই নিড অ্যাডভাইস। র-এর আবির্ভাব আকস্মিক কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়। অনেকদিন আগে আমাকে বলে রেখেছিল। ওর জীবনে নাকি একটা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে যেটা সমাধানের জন্য বুড়ো লোক দরকার। আমার ফ্রেন্ড সার্কেলে বুড়ো বলতে তোমার কথাই মনে পড়ল, কাজেই। এনি ডে এনি টাইম বলে টাইপে ফেরত গিয়েছিলাম। র-এর দ্বিধা নিয়ে দ্বন্দ্ব বোধ করিনি। পঁচিশ বছরের চলিয়েবলিয়ে ভালো দেখতে ছেলের জীবনে দ্বিধার বৈচিত্র্য থাকে না। র কনফার্ম করল। রিমেমবার, ওয়ান্স আই হিন্টেড ইউ ... রিমেমবার, রিমেমবার। র-এর জীবনে দুই রোম্যান্টিক সম্ভাবনার আগমন হয়েছে। একজন মনে করে জীবন একটা কিছু হয়ে ওঠার। নিজে হয়ে ওঠার এবং আশেপাশের লোককে হইয়ে ওঠানোর। র-কেও ক্রমাগত উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত করে। একদিন জিম বাদ পড়লে মোটিভেশনাল রিল পাঠায়। দ্বিতীয়জন মনে করে দুজনে মিলে মোটা হওয়াই ট্রু লাভ। র-এর দুজনকেই পছন্দ। র কনফিউজড বিয়ের জন্য কোন জন বেশি উপযোগী হবে। অভিজ্ঞ বিবাহিত হিসেবে আমাদের ভোট নিতে এসেছে। ব্যাপার শুনে আমাদের পিলে কতটা চমকাল, চমকানির কতটা প্রকাশ করলাম কতটা গিললাম, গিলে দুজনে মিলে কী কী উপদ...

বাড়িয়ে কমিয়ে

বাবার পনীরসংক্রান্ত স্ট্যান্সের অনমনীয়তা নিয়ে কথা হচ্ছিল। বাবার একশো টাকা দিলেও পনীর না খাওয়ার ঘোষণার ব্যাখ্যা দিতে আমি দাবি করছিলাম পনীরের প্রতি সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে বাবা ওই ভাবে কথাটা বলেছেন। সব সময় যে গভীর মনস্তাত্ত্বিক আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক কারণেই লোকে বাড়িয়েচাড়িয়ে বলে তেমন নয়। কিছু লোকের স্বভাবই রং চড়িয়ে বলা। যেমন আমার। চিরাগ দিল্লির সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অর্চিষ্মানকে বলছি - আরে আমি তো ঠিক সময়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম, অশোকা রোডে অটো আটকে আছে তো আমি কী করব - আমার মিথ্যে ঠিক এই স্টাইলের নয়। তার মানে এই নয় আমি স্টাইলের বাইরে মিথ্যে বলি না। তা-ও বলি, তবে আমার মিথ্যের মূল ভঙ্গিটা হচ্ছে সত্যের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতার পোঁচ মারা। আপনি কত শতাংশ জানি না, আমি পাঁচশো শতাংশ শিওর কাল সূর্য পূর্বদিকে উঠবে। পশ্চিমদিকে যে উঠবে না সে নিয়ে সাড়ে সাতশো শতাংশ। এক কোটি টাকা দিলেও আমি কাঁঠাল ছোঁব না। তিন কোটি দিলেও অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ সম্মেলনের কর্তৃপক্ষকাটিং লোকের সঙ্গে ঘেঁষব না। পাঁচ কোটি দিলেও রোদ্দুর রায়কে সিরিয়াসলি নেব না। এখন সারানো মুশকিল। অনেকদিনের রোগ। ক্লাস সেভেনে স...