March 20, 2017

নিষিদ্ধ নগরী





তিয়েনামেন স্কোয়্যার ইস্ট ষ্টেশনে নেমে এদিকওদিক দাঁড়িয়ে থাকা উর্দিদের সামনে গিয়ে “গুগং” বলতে তারা সাদা গ্লাভস পরা আঙুল উঁচিয়ে যেদিকটা দেখিয়ে দিল এসক্যালেটর চেপে সেদিকে বেরিয়ে দেখি কাতারে কাতারে লোক। কথাটা সত্যি তাহলে। হোটেলের দরজায় একজন সহায়ক উর্দি দাঁড়িয়ে থাকেন। ভয়ানক বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি গুগং যেতে চাই শুনে ভুরু কুঁচকে বলেছিলেন, "আজ যাবে? আজ তো ন্যাশনাল কংগ্রেসের শেষ দিন, ওদিকটাতে মারাত্মক ভিড়। সব রাস্তাঘাট বন্ধ। আরও তো তিনদিন আছ, তখন যেও’খন।"

পরের তিনদিন আমার যে কী হবে সেটা ভাবতেও আমার হৃৎকম্প হচ্ছিল তাই সেদিনই গেলাম। গিয়ে দেখি ওই ভিড়। ফুটপাথে সারি সারি গাছের গোড়ায় বাঁধানো বেদী, তারই একটার ওপর চড়ে আরেকজন উর্দি মুখে চোঙা লাগিয়ে মাতৃভাষায় কী সব বলছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা করলাম যে লাইনে দাঁড়ালে কতক্ষণ লাগবে। তিনি দু’টো আঙুল তুলে দেখালেন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি দু’ঘণ্টা না দু’দিন, এমন সময় পাশ থেকে একজন বলল, “মে আই হেল্প ইউ?”

প্রশ্নকর্তার নাম শি ল। কাজের সুবিধের জন্য শি ল নিজের নাম বদলে টম রেখে নিয়েছে। শি ল জানাল আমি যদি ওকে গাইড হিসেবে নিয়োগ করি তাহলে ও আমাকে লাইন এড়িয়ে সিক্রেট রাস্তা দিয়ে নিষিদ্ধ নগরীতে ঢুকতে সাহায্য করবে, দু’ঘণ্টা আমার সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে নগরীর ইতিহাসভূগোলবিজ্ঞান সব বুঝিয়ে দেবে। পরিবর্তে ও নেবে মাত্র _ ইউয়ান। আমাকে সবাই বলে দিয়েছিলেন চিনের সিস্টেম অনেকটা আমাদের হাতিবাগানের সঙ্গে মেলে। অর্থাৎ যে যা দাম বলবে, আমি ঠিক অর্ধেক দাম থেকে দরাদরি শুরু করব। 

অর্ধেক দাম বলার সাহস আমার হাতিবাগানেই হয় না, চিন তো দূর অস্ত। বুক বেঁধে একটা অংক বললাম, তাতে শি ল হাসল। বলল ও নাকি আমাকে যথেষ্ট কমসম করেই বলেছে। কারণ আমি অ্যামেরিকান নই। অ্যামেরিকান হলে ওর পারিশ্রমিক হয়ে যেত আমার কাছে যা চেয়েছে তার দ্বিগুণ।

অ্যামেরিকান না হওয়ার এতদিনে একটা সুবিধে পাওয়া গেল ভেবে আমি রাজি হয়ে গেলাম। শি ল আমাকে মিনিট সাতেক হাঁটিয়ে একটা খাঁ খাঁ দরজা দিয়ে নিষিদ্ধ নগরীর ভেতর ঢুকিয়ে দিল। তারপর দৌড়ে গিয়ে নিজেই আমার জন্য টিকিট কিনে আনল। তারপর আমরা সিকিউরিটি পেরিয়ে নগরীর মূল অংশে ঢুকে পড়লাম। সিকিউরিটির খুব কড়াকড়ি দেখলাম। ব্যাগ তো চেক করলই, থাবড়ে থাবড়ে সারা গা ভালো করে পরীক্ষা করল। শি ল বলল, "ওরা কী খুঁজছে বল তো?" আমি বোকার মতো বললাম, "বন্দুক? নাকি বোমা?" শি ল বলল, "উঁহু, ওরা দেখছে তুমি লাইটার কিংবা দেশলাই নিয়ে ঢুকছ কি না।"

*****


চোদ্দশো ছয় থেকে উনিশশো কুড়ি, মিং আর চিং রাজাদের মিলিত শাসনকালের পাঁচশো বছরে এই প্রাসাদ যতবার ধ্বংস হয়েছে, তার অধিকাংশই অগ্নিকাণ্ডে। কারণ প্রাসাদের খানিকটা মার্বেল আর খানিকটা পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি হলেও একটা বিরাট অংশ কাঠের। দক্ষিণ পূর্ব চিনের জঙ্গলে প্রায় তিরিশ ফুট উঁচু উঁচু এক বিশেষ গাছের গোটা গোটা গুঁড়ি এনে বানানো হয়েছিল প্রাসাদের থাম। কাঠের ওপর আরও কী কী সব জিনিস, একেবারে শেষে লাল রঙের লাক্ষার পরত। কাঠের বলেই এদের আগুনের ভয় চিরদিনের। বাহাত্তর হেক্টরের (অনেকে বলেন এই নিষিদ্ধ নগরীই পৃথিবীর সবথেকে বড় প্রাসাদ) প্রাসাদ জুড়ে ছড়িয়েছিটিয়ে রাখা প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড সোনালি গামলায় জল ভরা, আগুন লাগলে যাতে নেভানো যায়। গামলার গায়ের সোনারং এখনও দেখা যায়। সে দেখে আপনি যদি গামলাকে সোনার ভেবে বসেন তাহলে দুঃখ পাবেন না, মনে মনে সান্ত্বনা পান এই ভেবে যে সম্রাটও সেই একই ভুল করেছিলেন। সম্রাটের ভুল করার অবশ্য কারণও ছিল। তিনি সোনার গামলার অর্ডারই দিয়েছিলেন।

কোনও মানে হয়? প্রাসাদের গায়ে সোনার ড্র্যাগন আঁকার তবু না হয় একটা মানে বার করলেও করা যেতে পারে, ও রকম রাজকীয় একখানা প্রাণী বলে কথা, কিন্তু তার গায়ে আগুন লাগলে সোনার গামলা থেকে জল ঢালাটা সিম্পলি বাড়াবাড়ি। আমার তো তাই মনে হয়। আমি জানি আপনাদেরও মনে হচ্ছে। যে কোনও সুস্থ লোকেরই মনে হবে। কারিগরও আপাদমস্তক সুস্থ মানুষ, খেটেখুটে খায়, তারও এক্স্যাক্টলি এই কথাটাই মনে হল। রাজবাড়ি থেকে অর্ডার নিয়ে ফেরার পথে যতই ভাবল ততই সোনার গামলার কুযুক্তিটা তার কাছে প্রকট হয়ে উঠতে লাগল। তারপর বাড়ি ফিরে চ্যালাচামুণ্ডা নিয়ে কারিগর যখন সত্যি সত্যি গামলা বানাতে শুরু করল ততক্ষণে রাজা সম্পূর্ণ আউট অফ সাইট, আর সেই সঙ্গে মাইন্ড থেকে ভয়ও উধাও। কারিগর সবক’টা গামলা বানালো তামা আর লোহা দিয়ে, ইতি গজ-র মতো করে কেজি আড়াই সোনা তার সঙ্গে মিশিয়ে দিল। রাজা ধরতেই পারলেন না। রাজা হয়তো ততদিনে গামলার কথা ভুলেই মেরে দিয়েছেন, হয়তো তিনি তখন সাত হাজার পানের পিকদানির অর্ডার দিচ্ছেন, খাঁটি হাতির দাঁতের।

অনেকদিন পর সোনার দর যখন বেড়ে গেছে অনেক সম্রাটের আমলের তুলনায়, তখন কিছু বুদ্ধিমান লোক, ছুরি দিয়ে চেঁছে চেঁছে যতখানি পেরেছিল সোনা তুলে নিয়ে গিয়েছিল গামলার গা থেকে।

 *****


আরেক সম্রাটের নাকি সম্রাজ্ঞী ছিল একজন, আর রক্ষিতা ছিল তিন হাজার। 

শি ল বলল, "ভাবতে পার?"

আমি ঘাড় নাড়লাম। তিন হাজারের যুক্তিটা আমার মাথায় ঢোকেনি। স্মৃতিশক্তি যদি মারাত্মক ভালোও হয় তবুও তো পাঁচশো জনের পর সবার নাকচোখমুখহাত সব অবিকল একইরকম লাগবে। তাহলে অতগুলো মানুষকে বসিয়ে খাওয়ানোর মানে কী? ভারি অদ্ভুত। 

শি ল বলল, "না না আমি সে অদ্ভুতের কথা বলছি না। আমি তোমাকে অবাক হতে বলছি অন্য একটা কথা ভেবে। সম্রাটের তো কাজকর্ম ছিল, বসে বসে রক্ষিতাদের সঙ্গে সময় কাটালে তো চলত না। দেশ চালাতে হত। তাহলে এত রক্ষিতা সম্রাট জোগাড় করলেন কীভাবে, তাঁর নিজের তো সময় ছিল না।"

আমি বললাম, "সত্যি, কী করে করলেন?" 

শি ল ভুরু নাচিয়ে বলল, "অ্যাডভাইসর ছিল। রক্ষিতা নির্বাচনের। সুপ্রিম হারমনি প্রাসাদের সামনের মাঠে রক্ষিতা নির্বাচনের কমপিটিশন হত। হাজার হাজার মেয়ে। অ্যাডভাইসররা ভিড়ের মধ্যে থেকে সর্বলক্ষণযুক্ত মেয়ে বেছে রাজার হারেমের জন্য নির্বাচন করতেন।"

চমৎকার ব্যবস্থা, মানতেই হবে। শি ল বলল, "কিন্তু সব অ্যাডভাইসররা তো ধোয়া তুলসিপাতা হয় না। বিশেষ করে এক চিং রাজার সময় নাকি রাজার রক্ষিতা-অ্যাডভাইসর মাঞ্চুরিয়ান ছিলেন, তাই তিনি বা তাঁরা হারেমে কেবল মাঞ্চুরিয়ান মেয়েদেরই সিলেক্ট করতেন। আর তারা সকলেই খেঁদিপেঁচি হত।" আমি বললাম, "কেন মাঞ্চুরিয়ান মেয়েদের মধ্যে সুন্দরী ছিল না বুঝি?" তখন শি ল হেসে বলল, "অ্যাডভাইসর পাজি হলে কী হবে, তাঁর মাথায় বুদ্ধি ছিল। একগাদা খেঁদিপেঁচির মধ্যে একজন সুন্দরীকে ঢোকালে যা মারামারি বাধবে, সে সামলাবে কে? রাজার তো সময় নেই, তাঁকে তো আফটার অল দেশ চালাতে হবে।" 

******


আরেকজন সম্রাট খুব খেতে পারতেন। চারটে শুয়োর, চল্লিশটা পাঁঠা, চারশোটা মুরগি ইত্যাদিপ্রভৃতি। তবে আমার মতো রাজার সর্বক্ষণ মুখ চলত না, তিনি খেতেন দিনে মোটে দু’বার। সকাল সাতটা থেকে ন’টার মধ্যে একবার, আবার বিকেলে আরেকবার। রাতে খিদে পেলে ফলটল দুধটুধ দিয়ে চালিয়ে নিতেন। রোজ তাঁর জন্য দু’শো পদ রান্না হত। সকালে দু’শো, বিকেলে দু’শো। শত শত শেফ ছিল, তারা পালা করে রাঁধত, পাছে এক হাতের স্বাদ রাজার মুখ মেরে দেয়। রান্না হওয়ার পর রুপোর ছুঁচ খাবারে ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হত, বিষ থাকলে রং বদলাবে। 

*****

আরেকজন সম্রাট ছিলেন অল্পবয়সী। তাঁর মন্ত্রী তাঁর ওপর খুব ছড়ি ঘোরাতেন। বলতেন, "তোমাকে কিছু করতে হবে না, তুমি তো অপদার্থ, তুমি বসে থাক, সাম্রাজ্য আমি চালাচ্ছি।" সেনাবাহিনী মন্ত্রীর কবজায় ছিল তাই তরুণ সম্রাট বেশি ট্যাঁ ফো করতে পারতেন না। বাচ্চা হলেও সম্রাটের মাথায় বুদ্ধি ছিল। একটা জিনিস তিনি ওই অল্পবয়সেই বুঝেছিলেন, আপনাকে কে কী ভাবল সেটা যে ভাবছে তার সমস্যা। আপনার নয়। কেউ যদি আপনাকে বোকা বা দুর্বল ভাবে, ভেবে আনন্দ পায়, তাহলে লাফিয়েঝাঁপিয়ে সে ভাবনাটাকে সংশোধন করার দরকার নেই। বরং সেটাই ভেবে যেতে দিলে সুবিধে আছে। আমাদের তরুণ সম্রাটও তাই করলেন। মদেমোচ্ছবে ডুবে থাকার ভঙ্গি করতে লাগলেন। আর একটা হবি তাঁর ছিল, ন্যাওটা কিছু ছেলেপুলে নিয়ে কুস্তির আসর জমানো। মন্ত্রী নিজে পালোয়ান ছিলেন, তিনি রাজার খেয়াল দেখে হাসতেন। রাজা বলতেন, "আরে ওরা পোলাপান, আপনার নখের ময়লার যুগ্যি নয়, ছাড়ান দেন।" 

তারপর একদিন সম্রাট মন্ত্রীকে নেমন্তন্ন করলেন। তাঁর পোলাপানের খেলাখেলা কুস্তির আসর দেখে যাওয়ার জন্য, আর যদি রুচিতে কুলোয়, তাহলে দু’চারটে টিপসও দেবেন, পোলাপান বর্তে যাবে। মন্ত্রী এলেন। সম্রাটের ছেলেরা লেংটি পরে গায়ে তেল মেখে চারদিকে দাঁড়িয়ে আছে। মন্ত্রী মুখোমুখি বসেছেন, চা খাওয়া চলছে, জুঁইফুলের সুবাস ভুরভুর করে ঘর ছেয়ে ফেলেছে, এমন সময় কী একটা কথা বলতে গিয়ে রাজার হাত থেকে ফাইন চায়নার কাপ হাত কেঁপে মাটিতে পড়ে গেল। মন্ত্রী রিফ্লেক্সে কাপ সামলাতে নিচু হলেন, আর অমনি চ্যালারা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বন্দী করে ফেলল। তারপর মন্ত্রী জেলে, রাজা সিংহাসনে। 

*****


নগরীর প্রধান তিনটে হল দেখলাম, হল অফ সুপ্রিম হারমনি, হল অফ সেন্ট্রাল হারমনি আর হল অফ প্রিসার্ভিং হারমনি, তিনটেতেই চকচকে বাহারি মাথায় ছাতা ধরা তিনটে সিংহাসন রাখা। সবাই পদমর্যাদায় সমান নয়। সবথেকে সেরা আর উঁচু সিংহাসনটা রাখা আছে হল অফ সুপ্রিম হারমনিতে। তার মাথার ওপর ঝুলে আছে বাজখাঁই লোহার বল আর সেই বলের ওপর দাঁত খিঁচিয়ে বসে আছে একখানা ড্রাগন, ঠিক যেন মাইলি সাইরাস। সিংহাসনের অধিকারী নয় এমন কেউ সিংহাসনে বসলেই ড্রাগনের হাত খসে ওই রেকিং বল সে দুরাচারীর মাথায় পাকা তালের মতো খসে পড়বে। (ওপরের ছবিটা সে সিংহাসনের নয়। অন্য সিংহাসনের।)

আপাদমস্তক সোনায় মোড়া জমকালো সেই সিংহাসনে মিং চিং সকলেই চড়েছেন। মাঝখানে নাকি এক ওয়ারলর্ড এসেছিলেন, মোটে একশো দিনের জন্য, তাঁর এই সিংহাসন পছন্দ হয়নি। সত্যি বলতে কি ব্যাপারটা পছন্দ হওয়ার মতোও নয়। বিদঘুটে সোনালি রং, তারপর কাঠের সিঁড়ি বেয়ে অতখানি ওঠা, অ্যাক্রোফোবিয়া থাকলে কেলেংকারি, কানে খাটো হলে নিচে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীসান্ত্রী কে কী বলছেন কিছুই বোঝা যাবে না। তার ওপর মাথার ওপর ওই হাঁ করা ড্র্যাগন আর লোহার বল। ওয়ারলর্ড সিংহাসন হঠিয়ে নিজের জন্য মিনিম্যালিস্টিক সোফার অর্ডার দিলেন। দুঃখের বিষয়, একশো দিন পরেই তিনি সোফাচ্যুত হলেন। পরের রাজা এসে আবার সিংহাসন খুঁজে বার করে তাতে চড়লেন।

সিংহাসন খুঁজে বার করা অবশ্য সহজে হয়নি। কারণ প্রাসাদে ঘর একটাদুটো ছিল না।  

নিষিদ্ধ নগরীতে মোট ক'খানা ঘর ছিল? বোরিং হিসেবে বলে ন'হাজার ন'শো নিরানব্বইটা। আর ইন্টারেস্টিং হিসেবে বলে, প্রাসাদের কোনও ঘরে এক নবজাতক জন্মালে তাকে প্রতি রাতে যদি এক এক ঘরে ঘুমোতে দেওয়া হয়, তবে সবক’টা ঘরে ঘুমোনোর পালা শেষ হতে হতে সে নবজাতক সাতাশ বছরের যুবক হয়ে যাবে।

*****
এ সব সত্যি? 

মিথ্যে কী করে বলি রুকুবাবু? শি ল গাইড যে এ সব বলে গেছেন। এখন শি ল-কে বিশ্বাস করা কতখানি সমীচীন সে আমি জানি না। এ সব গল্পের কোনও প্রমাণ আমার কাছে নেই। এ সব সম্রাটদের কে মিং বংশের, কে চিং বংশের, তামার গামলায় সত্যি সত্যি আড়াই কেজি সোনা ছিল কি না, রাজার তিন হাজার রক্ষিতা ছিল কি না, নাকি আড়াই হাজারকে বদলোকে বাড়িয়েচাড়িয়ে তিন হাজার করে বাজারে ছেড়েছে, সে সব আমি জানি না। গুগল করে সন্দেহভঞ্জনের চেষ্টা করতে পারতাম, করিনি। কারণ ঠিকভুল ধরা আমার কম্ম নয়, আর সত্যি বলতে কি ধরে হবেই বা কী? সত্যি হলেও গল্পগুলো ভালো, মিথ্যে হলেও ভালো। ভুলে যাওয়ার আগে সে গল্প আপনাদের শুনিয়ে দিলাম। আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল, আপনাদের কেমন লাগল জানাবেন।





30 comments:

  1. Replies
    1. ধন্যবাদ, শিবেন্দু।

      Delete
  2. Amar bor eyi ko din ageyi China theke phirlo ... obossho onno sohor. Nishiddho sohor er golpo gulo khub bhalo laglo.

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, শর্মিলা। কোন শহরে গিয়েছিলেন তোমার বর?

      Delete
  3. মিথ্যে কী করে বলি রুকুবাবু? সেই তো - শি ল তো কোন মুনিঋষির থেকে কম নন। দারুন লাগলো নিষিদ্ধ নগরী। চীনের এই জায়গাটা যাওয়ার একটা সাধ আমার বহুদিনের। আপাতত তোমার বর্ণনায় দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালাম। আর সেই বিশাল বড় পাঁচিলটাও দেখলে নাকি?

    ReplyDelete
    Replies
    1. না গো আবির। পাঁচিল দেখতে যেতে লাগে বেজিং থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টাখানেক। অত সময় ছিল না। আমার সহকর্মীদের কেউ কেউ প্লেন থেকে দেখেছে বলল (আমার প্লেন না, অন্য প্লেন।)

      Delete
  4. khub bhalo laglo golpo gulo.. ekhono porjonto amar chena shona karur kache eikhane jabar golpo sunini.. oi cinemata mone pore gelo.. 7 yrs in Tibet.

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, ঊর্মি। আমি এই সিনেমাটা দেখিনি। হাতে পেলে দেখব।

      Delete
  5. Amar to khub bhalo laglo. Bishesh kore ghumono diye ghor gonar hiseb ta.

    ReplyDelete
    Replies
    1. হাহা, থ্যাংক ইউ, কুহেলি। আমারও ওই হিসেবটা খুব ভালো লেগেছে। তাই লাস্টে লিখেছি।

      Delete
  6. darun laglo, sob rajader galpoi besh :-).

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, ইচ্ছাডানা।

      Delete
  7. Daroon laglo porey.

    Tobe sobcheye bhalo laglo Ruku babur line ta. Udbuddho hoye Joy Baba Felunath pore fellam onekdin baadey.

    ReplyDelete
    Replies
    1. হাহা, থ্যাংক ইউ, বিম্ববতী। আমিও ভাবছি আজ রুটি খেতে খেতে জয় বাবা ফেলুনাথ দেখব।

      Delete
  8. amar to darun laglo , ekta boktoby ache , tumi to darun sahosi , ochena lokke guide hisebe biswas kore nile :O

    ReplyDelete
    Replies
    1. শি ল-র মুখখানা দেখলে বুঝতে, প্রদীপ্ত, ভয় যদি পাওয়ার হয় তাহলে ওরই আমাকে পাওয়ার কথা। তবে আমার সঙ্গে লোক ছিল, তাদের গল্প থেকে বাদ দিয়েছি।

      Delete
    2. achha :) -PB

      Delete
  9. Darun laglo beranor golpo. Sob theke bhalo laglo tomar represent kora. Anekdin por abantor er dekha peye bhari bhalo laglo. Bratati.

    ReplyDelete
    Replies
    1. এতদিন বাদে তোমাদের দেখা পেয়ে আমারও ভীষণ ভালো লাগছে, ব্রততী। গল্প ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।

      Delete
  10. NAh ek soptaho tomake miss korata sude asole pushiye dile nishiddho nogorir golpo bole. :) khub bhalo laglo.

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, চুপকথা। আমিও তোমাদের মিস করছিলাম খুব।

      Delete
  11. Khubi bhalo laglo lekhata pore :-) Beranor golpo ar apnar borna milemishe advut sundor resh rekhe gelo.

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ, সায়ন।

      Delete
  12. Darun laglo pore..'Red Cliff' bole ekta khub famous movie achhe. Tate bodhoi oi apraptoboyosko somrater kotha dekhano hoyechhe...

    BTW..You've a very cool job :) Takes you to lot of places :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. কুল! আমার জব? দাঁড়াও একটু কেঁদে নিই, রণদীপ। তারপর বাকি কমেন্ট লিখছি।

      রেড ক্লিফ আমি দেখিনি, তবে দ্য লাস্ট এম্পারার বলে একটা সিনেমা খাপচা খাপচা দেখেছিলাম, সেখানে ওই শেষ খোকা রাজা 'পুয়ি'র গল্প দেখিয়েছিল মনে আছে। ফরবিডেন সিটির গল্প পড়তে তোমার ভালো লেগেছে শুনে আমারও খুব ভালো লাগল। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  13. Beijing opurbo shohor!! Ami giyechhilam Beijing Olympics er 4 bochhor age. Tokhon ora purono Beijing ke dhongsho kore notun, modern Beijing banachhe. 1 mash chhilam. Besh bhalo kore dekhechhilam. Apnar kolyane ar ekbar kota kotha mone pode gelo. Lamasery mondir-er bishal, ek kathher Buddha murti, Summer palace-er lake-e nouka bihar, Ming rajader bhugorbho-stho kobor, Temple of Heaven, aro koto ki. Eto koreo amar Hutong dekha hoy ni, ar ekhon Hutong achhe ki na, tao jani na. Tokhoni ora onekgulo Hutong dhongsho kore dichhilo. Eta chhada giyechhilam ekta bishesh dokane Peking Duck khete. Shekhane naki shob President ar PM ra jaan oi dish ta khete. Shekhane giye dekhi bohu Rashtroprodhaner chhobi achhe. Rajiv Gandhir chhobi dekhe khub anondo hoyechhilo, sheishonge note korechhilam je oi chhobi ta thhik toilet-er baire!!!

    Jaakge, bhalo laglo lekha pode. Shujog hole ar ektu kichhu likhun na Beijing bhromoner opor.

    iti
    Shuteertho

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ থ্যাংক ইউ, সুতীর্থ। আরে আপনি আমার থেকে অনেক ভালো করে বেজিং দেখেছেন, আমি আর গল্প বলব কী। আমি খালি ওই একদিন ফরবিডেন সিটিতে গেলাম, বাকি সর্বক্ষণ ঘরের ভেতর গোমড়ামুখে বসে রইলাম। তবে বেজিং যে মারাত্মক ঝাঁ চকচকে সে নিয়ে সন্দেহ নেই। হুতোং টুতোং আর না থাকাই স্বাভাবিক। আমার অবশ্য এ ব্যাপারে মিক্সড ফিলিংস। বেজিং কেমন আধুনিক হয়ে উঠেছে দেখে শুরুতে দিল্লির জন্য একটু করুণা হচ্ছিল। তারপর খেয়াল করলাম রাস্তাঘাটে একটাও কুকুরবেড়াল গরিব লোক নেই। সব তাড়িয়ে ছেড়েছে। দিল্লিতে নেমে পরদিন সকালে বইমেলা যাওয়ার পথে দেখলাম প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড ব্যক্তিত্বপূর্ণ ষাঁড় আর গরু ফ্লাইওভারের নিচে ছায়ায় বসে জাবর কাটছে। কোনটা ভালো কে জানে।

      খাওয়াদাওয়াটা একটা রেভেলেশন বটে। চাইনিজ খাবার যে একটুও চাইনিজ খাবারের মতো খেতে নয়, এটাতে চমকে গেছি। কী ভালো বেগুন রাঁধে ওরা। আর ঝাল ঝাল পদ্মের ডাঁটা। ইস, মনে পড়েই জিভে জল এসে যাচ্ছে।

      Delete
  14. khub bhalo ekta brhman kahini porlam,tumi paro boss alada yopic e alada mood lekhar..opurbo

    darun lekha

    prosenjit

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, প্রসেনজিৎ। তোমাদের প্রশংসা সবসময় মন ভালো করে দেয়।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.