Posts

Showing posts from January, 2026

একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে

Image
এবারের কলকাতা বইমেলায় গুরুচণ্ডা৯ থেকে আমার একটা গল্প সংকলন বেরোচ্ছে। নাম ‘একা মেয়ে বেঁকা মেয়ে’। বইটা এ’রকম দেখতে। প্রচ্ছদ করেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়। আগের বছরই কমফর্টেবলি বার করা যেত, এ বছরেও যে বেরোচ্ছে তাতে আমি নিজেকে নিয়ে ইমপ্রেসড। গল্পগুলো সব লেখা ছিল, ভেবেছিলাম টুকটাক সারিয়ে নিলেই হবে কিন্তু এত সময় ধরে সারানোর দরকার বোধহয় ছিল না। সময় যে কোনও প্রক্রিয়ার যেমন জরুরি উপকরণ তেমন দীর্ঘসুত্রিতার ছুতোও। একবার হাত থেকে বেরিয়ে গেলে আর যে কিছু করার থাকবে না সেই আতংকের কোপিং মেকানিজমও। এই বইটার ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ দ্বিতীয়টা। জাস্ট ছাড়তে পারছিলাম না। অথচ লেখা গালে পুরে বসে থাকার সঙ্গে লেখার মানের সম্পর্ক নেই। একটা প্যারাগ্রাফের দিকে তাকিয়ে একঘণ্টা ধ্যান করলে সেটার বানান দাঁড়ি কমা বাক্যগঠন আপনাআপনি ভালো হয়ে যায় না। একটা বাক্য পাঁচবার লিখলে পাঁচবারেরটা প্রথমবারেটার থেকে পাঁচগুণ বেটার হয় না। একটা পয়েন্টের পর সময় নেওয়া শুধু নষ্ট করার জন্য। কারণ সময় আর - পুরুষকারবাদীরা রেগে যাবেন জেনেও বলি - পরিশ্রম দিয়ে সাধ্যের সীমা অতিক্রম করা যায় না। * বইটাকে আমি ছোটগল্প সংকলন বলছি না, কারণ সব গল্প ছোট নয়। ছত্রিশশো শ...

কফি শপ ৪ঃ রা

রা-এর সঙ্গে অধিকাংশ দিন কথা হয়। যেদিন হয় না, একে অপরকে হাত তুলে সংকেত দেওয়া হয় আমি তোমাকে দেখলাম, তোমার আমাকে দেখারও প্রাপ্তিস্বীকার করলাম। রা পাঞ্জাবী মেয়ে, যোগব্যায়ামের দিদিমণি। রেগুলার যোগসাধনার পরিণতি রা-কে দেখে বোঝা যায়। একটা জলজ্যান্ত ধ্যান যেন সাউথ দিল্লির ঢিকচিক ঢিকচিক ভাংড়ামিক্সের মধ্যে দিয়ে চলেছে। রা-এর কথা দাঁড়িকমাশুদ্ধু শুনতে হলে আমাকে রেগুলার গলা বাড়িয়ে মুণ্ডু প্রায় ধড় থেকে আলাদা করে ফেলতে হয়। জীবনের যাবতীয় প্রত্যাখ্যাত প্রেমের ইজাহারও আমি ওর থেকে বেশি ডেসিবেলে করেছি। রা-এর হাঁটা ওপর ওপর দেখলে নর্ম্যাল - এ পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুল, আবার ও পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুল। সবাই যে রকম হাঁটে। কারণ হিউম্যান অ্যানাটমি ওই রকম হাঁটার জন্যই উপযোগী। কিন্তু অ্যানাটমি তো বাঁশ খড় মাটি। একই বাঁশ খড় মাটি দিয়ে বাগবাজারও হচ্ছে, কলেজ স্কোয়ারও হচ্ছে। আমিও হয়েছি, দীপিকা পাড়ুকোনও হয়েছেন। তেমনি রা আর আমার হাঁটার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সিমিলার এবং সিমিলারিটির ওখানেই শেষ। দূর থেকে আমাকে আসতে দেখলে মনে হবে মফঃস্বলী মেলায় বেঁকেচুরে যাওয়া বেলুন মানুষ। প্রতি পদক্ষেপে চটি ছিটকে যাচ্ছে। শরীরের অণুপরমাণুরা কেন্দ্...

২০২৬ রেজলিউশন

তিন্নি নববর্ষের সকালে বসে বসে বোর হচ্ছিল। ফোন করে বলল, কুন্তলা তোর রেজলিউশনের লিস্ট দে, পড়ে চোখ ঘোরাই আর তাহলেই হয়েছে বলে নাকের ভেতর দিয়ে হাসি। তানানানা করছি দেখে বলল, না হয় ছোট দেখে লিস্টই দে। খেলিয়ে লেখ দাবি করলে, না ভাই আমার আঙুলে মশা কামড়েছে বলে কাটানো যায়, কিন্তু যে অলরেডি অল্প করে চাইছে তাকে ফেরানো শক্ত। কাজেই এই থাকল আমার রেজলিউশনের ছোট দেখে লিস্ট। ১। দু’হাজার ছাব্বিশে আমি দরকারের বেশি একটি কথা দাঁতের ফাঁক দিয়ে বার করব না। ২। দু’হাজার ছাব্বিশে আমি অ্যালার্ম দিয়ে দিনে পনেরো মিনিট ইউটিউব শর্টস দেখব, ষোল মিনিট হয়ে গেলেই নিজের পিঠে কাঁটার চাবুক সপাং সপাং মারব। ৩। দু’হাজার ছাব্বিশে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেব। যত না দু’হাজার ছাব্বিশ বলে তার থেকে বেশি পঁয়তাল্লিশ বলে। হাঁটাহুটি আমার ভালোই হয়, আমাকে কন্ট্রোল করতে হবে ডায়েট। আমি একটা অত্যাশ্চর্য পরিমাণ হাবিজাবি খাই। অর্চিষ্মান না থাকলে হিসেব নিয়ে দেখেছি, সারাদিন আমি তিন কাপ কফি, এক প্যাকেট ম্যাগি আর দুশো গ্রাম নাট ক্র্যাকার খেয়ে বসে থাকি। এ সব বন্ধ করব। পঁয়তাল্লিশে এইসব পেঁয়াজি করলে অচিরেই মূল্য চোকাতে হবে। ৪। দু’হাজার ছাব্বিশে কিছু লোক...