January 26, 2020

চারটে বই




My sister the serial killer/ Oyinkan Braithwaite





“Two packets of pocket tissue, one 30-centiliter bottle of water, one first aid kit, one packet of wipes, one wallet, one tube of hand cream, one lip balm, one phone, one tampon, one rape whistle. Basically, the essentials for every woman.”

বইটা ভয়ানক সাড়া জাগিয়েছিল। আমার সঙ্গে মত মেলে এমন কিছু রিভিউয়ার বইটিকে দারুণ বলেছিলেন আবার কিছুজন বলেছিলেন ওভারহাইপড। মানুষের চরিত্র, অন্তত আমার চরিত্র হচ্ছে অনেক পজিটিভের মধ্যেও নেগেটিভটাকেই মনে গেঁথে নেওয়া, কাজেই আমি বইটা জোগাড় করে পড়ার বেশি চেষ্টাচরিত্র করিনি।

কিন্তু বছরের শেষে প্রায় সব 'টপ বুকস অফ ২০১৯' লিস্টে যখন মাই সিস্টার, দ্য সিরিয়াল কিলার-এর নাম বেরোলো, আর সংযম প্র্যাকটিস করা গেল না। 

'মাই সিস্টার, দ্য সিরিয়াল কিলার' উপন্যাসের অন্যতম মূল বিষয় নামেই বলে দেওয়া হয়েছে। দুই বোন। ছোটজন একেকটা করে প্রেম করে এবং প্রেমিকদের খুন করে। গল্প যখন শুরু হচ্ছে তখন সে সম্ভবত তৃতীয় খুনটা করেছে। প্রতিটা খুন করার পর যে গল্পটা ছোটবোন দেয় সেটা হচ্ছে গোটা ব্যাপারটাই ঘটেছে আত্মরক্ষার্থে। আমার কোনও দোষই নেই। আমি না মারলে ও আমাকে মেরে ফেলত। বলা বাহুল্য, অকুস্থলে এ দাবির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। আত্মরক্ষার সেইদিনই প্রয়োজন পড়বে আগে থেকে বুঝে বোন হাতব্যাগে আধহাত লম্বা চকচকে ধারালো ছুরি নিয়ে ঘুরছিল কেন, এই সব প্রশ্ন বোনের মতে শুধু অবান্তরই নয়, সরাসরি ভিক্টিম ব্লেমিং। অবশেষে দিদি এই সব প্রশ্ন করা বন্ধ করেন। তিনি মুখ বুজে তাঁর কাজ করে যান। অর্থাৎ, খুন হওয়ার পর বোনের ফোন পেয়ে দৌড়ে গিয়ে বডি ডিজপোজাল, ক্রাইমসিন পরিষ্কার ইত্যাদি। হাসপাতালে নার্সের চাকরি করার সুবাদে দিদি ব্লাড এবং বডি নাড়াচাড়ায় দক্ষ। খুন পরবর্তী বোনকে সামলানোর দায়িত্বও দিদিরই। যেমন ধরা যাক, খুন হওয়ার দিনকয়েক পর সবাই ধরে নিয়েছে যে ডাকাতি চলাকালীন বাড়িতে ঢুকে পড়ে কিংবা মাফিয়ার চক্করে লোকটা মারা গেছে, অর্থাৎ ছোটবোনকে কেউ সন্দেহ করেনি, উল্টে খুব সমবেদনাটেদনা জানাচ্ছে, তখন ছোট বোন ইন্সটাগ্র্যামে কোনও একটা ফান অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চলেছে। দিদিকে তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে বলতে হচ্ছে , ওরে এক্ষুনি এত আনন্দ দেখাস না, একটু ক'দিন মুখ কাঁদো কাঁদো করে ঘোর।

বুঝতেই পারছেন ছোটবোন সাইকোপ্যাথ। ম্যানিপুলেটিভ। আত্মসর্বস্ব। স্বার্থপর। সমাজে বাস করার অযোগ্য।  

কিন্তু একই সঙ্গে সে চোখে পড়ার মতো সুন্দরী। অসামান্য তার সেক্স অ্যাপিল।

আপনি ভাবছেন গল্পের স্ট্রাকচারেই তো গোলমাল। সিরিয়াল কিলিং-এর মতো তুরুপের তাস লেখক প্রথম অ্যাকটেই দেখিয়ে ফেললেন, এর পর এর থেকেও বড় ক্রাইসিস জোগাড় করবেন কী করে? যা বাকি গল্পটাকে টেনে নিয়ে যাবে?

যদি আপনি সত্যিই এই প্রশ্ন করে থাকেন তাহলে আমি বলব আপনি নেহাতই দুধের শিশু। অবশ্যই সিরিয়াল কিলিং—এর থেকে গুরুতর ক্রাইসিস আছে। পৃথিবীর সব ক্রাইসিসের থেকে যা বড় ক্রাইসিস। প্রেম। সিরিয়াল কিলার ছোটবোনের স্বরূপ প্রকাশ হতে না হতে গল্পে প্রেমের আগমন হয়। বড় বোনটি প্রেমে পড়েন। পড়েন অতি লাগসই পুরুষের। যে হাসপাতাল/নার্সিংহোমে বড়বোন কাজ করেন, প্রেমিক (প্রেমিক বলা উচিত হবে না, কারণ বড় বোন তাঁর কাছে মনের ভাব ব্যক্ত করে উঠতে পারেননি তখনও) সেখানকার ডাক্তার। সুশিক্ষিত, সমবেদনাপূর্ণ, মানুষের মতো মানুষ, যাবতীয় বদভ্যেসমুক্ত, যুবক এবং সুপুরুষ। সৎ পাত্র। বড় বোন ততদিনে বিয়ের বয়স পার করে ফেলেছে, তার বর জোটার আশা সবাই ছাড়ান দিয়েছে, কিন্তু বড় বোনের মনে আশার ফুল ফোটে। না ফোটার কোনও কারণ নেই। বড় বোন নিজের কাজে দক্ষ, নিয়মনিষ্ঠ, ভালো মানুষ (অবশ্য ছোট বোনকে খুন করে পার পাইয়ে দেওয়াটা ভালো মানুষের লক্ষণ বলে মনে না হতে পারে কিন্তু ব্যাপারটার মধ্যে যে একটা নরম মনের পরিচয় পাওয়া যায় সেটা মানতে হবে)।

সামান্য রূপহীনতার বেড়া পার করে যদি একজন বুদ্ধিমান মানুষ যদি এই সব গুণের খোঁজ না পান, তবে কে পাবেন?

বড়বোনের দুর্বলতার আঁচ পেয়ে সম্ভাব্য জামাইবাবুকে যাচাই করে দেখতে ছোটবোন  হাসপাতালে আসে। ছোটবোনের চরিত্রের যদি কিছুমাত্র আঁচ পাঠক এর মধ্যে পেয়ে থাকলে তিনি নিশ্চিত থাকবেন এই ঘুরতে আসা নিষ্পাপ নয়।

পরবর্তী ঘটনাক্রম কল্পনা না করতে পারলে আপনার ক্ষুর দু’খানা একটু এগোবেন, প্লিজ।

ডাক্তারবাবু প্রেমে (বা কামে) পপাত চ হন, ছোটবোন তাঁকে প্রেমিক হিসেবে স্বীকার করে। বড়বোনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শুধু তো প্রেমিক হাতছাড়ার দাগা নয়, ডাক্তারের কপালে কী নাচছে সেটাও তো সে জানে।

মাই সিস্টার, দ্য সিরিয়াল কিলার-এর সবথেকে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে দুই বোনের সম্পর্ক। ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের দুই মেরুতে দুজনের বাস। অথচ দুজনে কেউ কারও শত্রু নয়।

অনেকে বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে হালকাচালের মনে হলেও, মাই সিস্টার আসলে একটুও হালকা নয়। বিটুইন দ্য লাইনস পড়ার, বোঝার জিনিস এ বইতে ভরপুর আছে। যেমন, ছোটবোন কেন ও রকম। বড় বোন কেন ছোটবোনকে প্রশ্রয় দেয় ইত্যাদি। আমার সঙ্গে অনেকের মত না মিলতে পারে, কিন্তু যে মুহূর্তে মাই সিস্টার ওই ব্যাকস্টোরি এবং বিটুইন দ্য লাইনসে আঙুল ডোবায়, বা অন্য কথায়, সিরিয়াস হতে শুরু করে সেই মুহূর্তেই উপন্যাসটি আমার কাছে তার সিরিয়াসনেস হারায়। অসামান্য অশ্রদ্ধায় শুরু হওয়া গল্পটি, তার নিয়মভাঙা চরিত্রদের অসাধারণত্বের কারণে গোড়াতে যে আমাকে টেনে রাখতে (মন্ত্রমুগ্ধ কথাটা লাগসই হবে না, কিন্তু এফেক্টটা কাছাকাছি) পেরেছিল, মাঝপথ থেকে ঢিলে হতে শুরু করে।

গভীরতায় আমার আপত্তি নেই (অন্তত আশা করছি নেই), কিন্তু মাই সিস্টার যেটা করে, সেটা হচ্ছে মাঝপথে গিয়ে সে তার চাল বদলায়। টোন বা টোনের ধারাবাহিকতা ব্যাপারটা যে গল্পের কী গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটার সামান্যতম হেরফের যে পাঠের আরাম কতখানি ব্যাহত করতে পারে, মাই সিস্টার, আমার মতে তার সেরা উদাহরণ।

ব্রেথওয়েটের একটি ইন্টারভিউ শুনেছিলাম অথবা পড়েছিলাম, মনে নেই, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে বহুদিন ধরে গভীর, অর্থপূর্ণ ডেবিউ নভেল লেখার চেষ্টা করে ক্ষান্ত দিয়ে তিনি অবশেষে "সামথিং ফান" লিখে খেলখতম করতে চেয়েছিলেন। সে উদ্দেশ্যে তিনি একশোয় নিরানব্বই পেয়ে সফল। প্রথমার্ধের ভাষা, আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন ভাষা কম, ম্যাজিক বেশি। ধারালো শব্দওয়ালা ছোট ছোট বাক্য আপনাকে এমন উড়িয়ে নিয়ে যাবে আপনি থামার চান্স পাবেন না। ভারি কিছু আলোচনা করার ভঙ্গির অনুপস্থিতি, আমার মতো পাঠকদের মারাত্মক সুবিধে করে দেয়। আরও যেটা আমার পছন্দের সেটা হচ্ছে গল্পটা আগাপাশতলা আনলাইকেবল চরিত্রদের নিয়ে লেখা। পড়ে দেখতে পারেন।





Girl, Woman, Other/ Bernardine Evaristo





বিবিসি নিউজের একজন পরিবেশক অন্য একটি সাহিত্য পুরস্কারের ভাগাভাগি জয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে দু'হাজার উনিশের বুকার প্রাইজ মার্গারেট অ্যাটউড "অ্যান্ড অ্যানাদার অথর"-এর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার উপমা টেনেছিলেন, ছিছিক্কার পড়েছিল।

এভারিস্টো টুইট করেছিলেন - The @BBC described me yesterday as 'another author' apropos @TheBookerPrizes 2019. How quickly & casually they have removed my name from history - the first black woman to win it. This is what we've always been up against, folks. 

নিজের কৃতিত্ব নিজেই আন্ডারলাইন করার অস্বস্তিটা বাদ দিলে (যদিও এটা কেন করা জরুরি তার সপক্ষে অনেক যুক্তি আছে এবং সেগুলো নেহাত অযৌক্তিক নয়, তবু) এভারিস্টোর রাগের কারণ আমি বুঝি। যেটা বুঝি না, সেটা হচ্ছে বুকার দিতে গিয়ে 'গার্ল, উওম্যান, আদার'-এর সঙ্গে 'টেস্টামেন্ট'-এর ল্যাজা বাঁধার দরকার কী ছিল। আমি 'টেস্টামেন্ট' এখনও পড়ে উঠতে পারিনি। ভেবেছিলাম পড়ে দুটো বইয়ের একসঙ্গে রিভিউ লিখব, তারপর সময়ে টান পড়ে গেল (উৎসাহও বোধ করছিলাম না বিশেষ, যদিও টেস্টামেন্ট আমি পড়বই, পড়েই ছাড়ব), তারপর মনে হল আমিও ঠিক ওই কাণ্ডটাই করছি। বার্নার্ডিন এভারিস্টোর উপন্যাসকে মার্গারেট অ্যাটউডের উপন্যাসের পাশাপাশি রেখে তুলনা করাটা ততখানিই অদ্ভুত হবে যতখানি এভারিস্টোর সঙ্গে অ্যাটউডকে জুড়ে প্রাইজ দেওয়ায়। যদি ধরে নিই টেস্টামেন্ট সত্যিই বুকার পাওয়ার যোগ্য তাহলে সেটাকে একলা প্রাইজ দিলেই হত। বা আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, না দিলেও কোনও ক্ষতি হত না। প্রাইজ বা স্বীকৃতি যা-ই বলুন, অ্যাটউডের তো আর কম পড়েনি।

যাই হোক, গল্পে আসি। ‘গার্ল, উওম্যান, আদার’ বারোজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার বয়ানে, বারো পরিচ্ছেদের উপন্যাস। জন্ম, কর্ম, ধর্ম, লিঙ্গপরিচিতি, অর্থ, চরিত্র, নীতিবোধ, বিশ্বাস, পোশাক-পছন্দ, খাদ্যাভ্যাস, প্রিভিলেজ প্রতিটি প্যারামিটারে বারোজন একে অপরের থেকে আলাদা। আকাশাপাতাল আলাদা। আইডেন্টিটি পলিটিক্সের যে অন্তর্নিহিত বিপদ, স্থূল পরিচিতির নিচের নানা স্তর, সংগ্রাম, অনুভূতি, উপলব্ধির ওপর একটা প্রকাণ্ড ইস্ত্রি চালিয়ে দেওয়া, সেই বিপদের বিরুদ্ধে এই উপন্যাস একটা জোরালো সওয়াল। সংখ্যাগুরুদের নিয়ে সাহিত্য, সিনেমা, শিল্প সৃষ্টি হচ্ছে বহুদিন, তাদের খোলস ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে, নানা দিক থেকে নানা রূপ দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু মূলধারার সাহিত্যে মেন রোল যারা খুব বেশিদিন পাচ্ছে না, তাদেরকে একটা মোটা ছাতার নিচে ফেলে দেওয়ার মধ্যে অবিচার আছে। ইদানীং অবশ্য প্রান্তিক প্রোটাগনিস্টের সংখ্যা বাড়ছে, পাঠকের/দর্শকের তাঁদের রকমফেরও দেখার সুযোগ ঘটছে, কিন্তু গার্ল, ওম্যান, আদার-এর কৃতিত্ব হচ্ছে একই গল্পের ভেতর বড় ছাতার নিচে চাপা পড়ে যাওয়া বারোটি স্বতন্ত্র স্বরকে একই সঙ্গে তুলে ধরা।

সবক’টি স্বর আমার সমান ইন্টারেস্টিং লাগেনি, লাগার কথাও নয়। লেখার জাদুতেও হতে পারে, আবার চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের কারণেও হতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে সংগ্রাম করে মই বেয়ে অন্য একটা জীবনে উঠে যাওয়ার গল্পের থেকে বহুদিন মূলধারার বাইরে থেকে স্ট্রাগল করে অবশেষে সাফল্য পাওয়া বিপ্লবী নাট্য পরিচালক, যিনি তার সহ-স্ট্রাগলারদের ঈর্ষার পাত্র হচ্ছেন তার গল্প পড়তে বেশি ইন্টারেস্টিং লেগেছে। কারণ দুটোর মধ্যে একটা গল্প আমরা বেশি পড়েছি। অভিনবত্বও একটা কারণ নিশ্চয়। গতে বাঁধা নারীপুরুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন পড়ে পড়ে মাথা ধরে গেছে, কিন্তু কেউ যদি এসে একখানা লেসবিয়ান দাম্পত্যের গল্প শোনাতে বসে এবং গল্প শুনতে শুনতে আমরা আবিষ্কার করি সেই সম্পর্কেও একই রকম অধিকারবোধ, এবং অ্যাবিউজের ছড়াছড়ি, হবে নাই বা কেন কারণ সমকামী বা বিসমকামী, আসলে সবাই মানুষ আর সবাই বদের বাসা, তবু যেন কোথাও নতুন গল্প শুনছি মনে হয়।

গার্ল, উওম্যান, আদার-এর প্রতিটি চরিত্রই শিকার এবং শিকারী, আদর্শবাদী এবং সুযোগ বুঝে সুবিধেবাদী। এদের একজনের প্রতিও আপনি কোনও একটি একলা অনুভূতি / আবেগ অনুভব করতে পারবেন না। 

বার্নারডাইন এভারিস্টোর ভাষার প্রশংসা অনেকেই করেছেন। বইটি স্ট্রিম অফ কনশাসনেস ভঙ্গিতে লেখা। বাক্যের শুরু বা শেষ চিহ্নিত করা নেই। আমি যে নিজে ওঁর ভাষাটার মারাত্মক মর্যাদা করতে পেরেছি সেটা বলব না। আমার মনে হয়েছে গল্পটা যদি অন্য রকম ভাষাতেও লেখা হত তাতেও কি খুব তফাৎ হত? জানি না। অনেক সময় একেকটা গল্পের সঙ্গে গল্প বলার ভাষাটা এমন অপরিহার্য ভাবে, এমন অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে থাকে যে দুটোকে আলাদা করা যায় না। ওই গল্পটা অন্য কোনও ভাষায় বলা হলে ব্যাপারটা কেমন হত কল্পনা করতে অসুবিধে হয়। আইমিয়ার ম্যাকব্রাইড-এর প্রথম উপন্যাস 'আ গার্ল ইজ আ হাফ ফর্মড থিং'-এর কথা উদাহরণ হিসেবে মনে পড়ছে। তবে আমার পড়া বইয়ের নিরানব্বই শতাংশ গতে বাঁধা ভাষায় লেখা; আমি তাতেই বেশি স্বচ্ছন্দ কাজেই ভাষা নিয়ে আমার পক্ষে বেশি আলোচনায় না যাওয়াই ভালো।

'গার্ল, উওম্যান, আদার' নিঃসন্দেহে পড়ে দেখার মতো বই। 



Disappearing Earth/ Julia Phillips



এই বইটিকে গুডরিডস-এ দু'হাজার উনিশের সেরা থ্রিলার এবং মিস্ট্রি ডেবিউ ঘরানায় ফেলা হয়েছিল, কিন্তু সে সিদ্ধান্তটা এতই বেখাপ্পা, যে থ্রিলার/মিস্ট্রি পড়ুয়ারা মাথা চুলকোবেন। ইদানীং থ্রিলার এবং মিস্ট্রি ঘরানায় একটা স্পষ্ট বদল আমি খেয়াল করেছি, ব্যাপারটা ধাঁধা এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ক’বছর আগের ‘ডোমেস্টিক নোয়ার’ ইত্যাদি থেকে সরে এসেছে। গত ক'মাস্যা বেশ কয়েকটা বেশ ভালো “থ্রিলার” পড়লাম, যেখানে থ্রিল, সাসপেন্স, ইত্যাদির বদলে সিংহভাগ মানবিক ড্রামা। কেবল, সেই ড্রামার কেন্দ্রে আছে একটি ক্রাইম।

ডিস্যাপিয়ারিং আর্থ-এর কেন্দ্রের অপরাধটি হচ্ছে কামচাটকার প্রত্যন্ত সমুদ্রতট থেকে দুটি ছোট মেয়ের অপহৃত হওয়া। সেই অপহরণ সমাধানের জন্য থানাপুলিস আছে কিন্তু একেবারেই নেপথ্যে, ফোরফ্রন্টে আছে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে সব মানুষকে প্রভাবিত করেছে তারা।

তাদের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল মাদার প্রতিপালিত একটি সদ্য কিশোরী থেকে একই সঙ্গে দুটো প্রেমে পড়া যুবতী, সংসার থেকে পালাতে চাওয়া মাঝবয়সী মহিলা, ছোট শহর থেকে দূরে চলে গিয়ে ফিরে এসেও ফিরতে না পারা মানুষ, কামচাটকার স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের সংগ্রাম ইত্যাদি নানা স্বর।

ডিস্যাপিয়ারিং আর্থ-এর নৈসর্গিক বর্ণনা অনবদ্য। কামচাটকার জনহীন সমুদ্রতট, ছোট শহর, বসতি একেবারে জ্বলজ্বল করে ওঠে ফিলিপসের ভাষায়। জুলিয়া ফিলিপস বলেছেন, “Disappearing Earth was inspired by Russia and written in America.”  এই বিষয়ে অবশ্য তাঁকে জায়গা এবং সংস্কৃতির এক্সোটিফিকেশনের অভিযোগ সইতে হয়েছে।

আমি সাধারণত এইরকম ড্রামা আর ক্রাইমের হাঁসজারুপনা পছন্দ করি না। কিন্তু ডিস্যাপিয়ারিং আর্থ আমার ভালো লেগেছে। সেই চিরকেলে যুক্তি। ঠুমক চলত রামচন্দ্র হারমোনিয়াম বাজিয়ে আমিও গেয়েছি, লতা মঙ্গেশকরও গেয়েছেন, পালুস্করও গেয়েছেন। কী লেখা হচ্ছে তার থেকে ঢের বড় কথা হচ্ছে কে লিখছে। জুলিয়া ফিলিপস লিখতে পারেন। সার্থক লিটারেরি সাহিত্যের জন্য জরুরি চরিত্রচিত্রণের দক্ষতা তাঁর সহজাত। আবার উপন্যাসের শেষ, এই ধরুন আট ভাগের দুই ভাগ, যখন গল্প সুতো গুটিয়ে ক্লাইম্যাক্সের দিকে  কোনও সার্থক থ্রিলারের মতোই আপনি পাতার পর পাতা উল্টে যাওয়া থেকে নিজেকে থামাতে পারবেন না। লাঞ্চটাইম শেষ হয়ে গেলেও, কে দেখল, কে জাজ করল চুলোয় দিয়ে আপনাকে গল্প শেষ করতে হবে। 

জুলিয়া ফিলিপস লিটারেরি ড্রামা যেমন লিখতে পারেন, থ্রিল এবং সাসপেন্সও সমান ভালো জাগাতে পারেন। কোনওটার শাক দিয়ে কোনওটার মাছ ঢাকার তাঁর দরকার নেই।

সব মিলিয়ে মচৎকার। ওঁর পরের বইটা আমি নিশ্চিত পড়ছি, আপনারাও পড়ে দেখতে পারেন।


Olive, again/ Elizabeth Strout



দু’হাজার উনিশের আমার একেবারে শেষের দিকে পড়া বই 'অলিভ, এগেইন'। এবং প্রত্যাশিত ভাবেই দু’হাজার উনিশের সেরা বইগুলোর মধ্যে একটা। অলিভের সঙ্গে পাঠকদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। লিটারেরি সাহিত্যের ধারায় এটা কিন্তু একটা বলার মতো ব্যাপার। গোয়েন্দা নন, স্পাই নন, ইয়ং অ্যাডাল্ট নভেলের ম্যাজিক্যাল হিরোইন নন, ঘোর লিটারেরি ঘরানার একটি আনলাইকেবল চরিত্র অলিভ কিটরিজ। তবু অলিভ পাঠকের ফেভারিট। চরিত্রচিত্রণের জোর একেই বলে।

অলিভ, এগেইন-এ অলিভ কিটরিজ প্রত্যাশিতভাবেই অনেক বয়স্ক। এই দ্বিতীয় বইতে অলিভের জীবনে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। অলিভের প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছেলে, পুত্রবধূ, নাতিনাতনির সম্পর্কের রং বদল। এর মধ্যে আরও নানা চরিত্র আসে। চিরকালই আশপাশের জগতের সঙ্গে অলিভের সম্পর্ক দুর্গম ছিল, তাঁর বড়সড় চেহারা এবং খরখরে স্বভাব নিয়ে অলিভ কাঁটার মতো জেগে থাকতেন। কিন্তু এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জেনারেশন গ্যাপের বাড়তি বোঝা। চারপাশ বদলাচ্ছে, সিরিয়ান কলোনি তৈরি হয়েছে পাড়ার বাইরেই। 

কোন বইটা বেশি ভালো? অলিভ কিটরিজ না অলিভ, এগেইন? এই প্রশ্নের কোনও মানে হয় না, কিন্তু প্রশ্নটা উঠেই যায়। দুটো বইয়ের মধ্যে চরিত্রগত অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রথম বইটায় অলিভ ছিলেন সুতোর মতো। একেকটা চ্যাপ্টারের একেকটা চরিত্রকে গেঁথে গেঁথে গেছেন। অলিভ, এগেইন একদিক থেকে দেখতে গেলে ঠিক তার উল্টো। এখানে অলিভের গল্পটাই মূল নদী, বাকিরা তাঁকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া। 

কিন্তু স্ট্রাউটের অলিভকে কেন্দ্রে রাখার সিদ্ধান্তের আমি সাপোর্টার। সম্ভবত অলিভকে নিয়ে আর গল্প আমরা পাব না। তাই এই অসামান্য চরিত্রটিকে যত গভীর ভাবে, যত কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়, ততই ভালো। সে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য স্ট্রাউটের কাছে আমি ধন্যবাদার্হ।

স্ট্রাউটের লেখা যারা পড়েছেন জানেন, তাঁর লেখা একেবারে জীবনের মতোই। কত ঘটনাই ঘটে, জন্ম, মৃত্যু, বিচ্ছেদ, কিন্তু কোনও ঘটনাই আসলে মরণবাঁচন নয়। কোনও চরিত্রের কোনও পরিণতিই পাঠকের মনে কোনও মেলোড্রামার সৃষ্টি করবে না। বড়জোর চোখের কোলে একটি ফোঁটা জল হয়ে এসে থমকাবে।

“But it was almost over, after all, her life. It swelled behind her like a sardine fishing net, all sorts of useless seaweed and broken bits of shells and the tiny, shining fish—all those hundreds of students she had taught, the girls and boys in high school she had passed in the corridor when she was a high school girl herself (many—most—would be dead by now), the billion streaks of emotion she’d had as she’d looked at sunrises, sunsets, the different hands of waitresses who had placed before her cups of coffee— All of it gone, or about to go.”

'অলিভ, এগেইন' নিশ্চয়, নিশ্চয়, নিশ্চয় করে পড়বেন।



27 comments:

  1. Prothom boi ta khub interesting laglo.. Nischoi porbo... ei weekend e onek 'To read/watch' list complete korlam... Magpie murders, Knives out ..

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে, দুটোই তো আমার ভালো লেগেছিল। ম্যাগপাই মার্ডারস আর নাইভস আউট। তোমার কেমন লাগল?

      Delete
    2. Khub bhalo legechhe...amio Knives Out dekhte dekhte khali bhule jachhilam je eta English countryside noi..

      Delete
    3. হাহা, আমারও তাই হয়েছিল।

      Delete
    4. Knives Out bhalo laglo na :-(

      Book reviews gulo besh laglo. Prothom ta portei hocche. Olive Kitteridge amar o besh bhalo legechilo, Olive Again ta checkout korte hochche.
      Ami ei eto dine Handmaid's Tale sesh korlam. Amader book club er Feb er boi "When Life gives you Lululemons", oita last summer ei ekta flight e porechilam. Tomar oi genre ta bodhoy bhalo lagena, amar besh lage. Lianne Moriarty r boi chilo Jan book club er jonyo, porecho ki ?

      BongMom

      Delete
    5. 2019 e amar pora(not published) aro kota boi khub bhalo legeche, nishchoy porecho -- Educated, The Wife, Little Fires Everywhere, Americanah. Ami onek delay te pori jodio.
      BM

      Delete
    6. বং মম, এ মা নাইভস আউট ভালো লাগেনি? মাই সিস্টার আর অলিভ এগেইন পড়বেন, বাকি দুটো বইও পড়ে দেখতে পারেন, আফসোস করবেন না মনে হয়। লুলুলেমন বইটার নাম আমি শুনেছি, কিন্তু পড়িনি। ভালো না লাগার বিষয় নয়, আসলে আমার এই ঘরানার গল্প বিশেষ পড়াই হয়নি।

      আপনি বুকক্লাবের মেম্বার জেনে দারুণ ইম্প্রেসড হলাম। এটা ভালো ক্লাব। আমি লিয়ান মরিয়ার্টির নামই শুনিনি আগে, আপনি বললেন এইবার খুঁজে দেখব।

      বাকি বইগুলোর মধ্যে এডুকেটেড আর অ্যামেরিকানা পড়েছি। লিটল ফায়ারস এভরিহোয়্যার জমিয়ে রেখেছি বহুদিন ধরে, আপনার কমেন্ট পেয়ে পড়া শুরু করলাম, (এটা তো বোধহয় সিনেমা না ওয়েবসিরিজ কী একটা হচ্ছে নাকি অন্য কোনও বইয়ের সঙ্গে গুলোচ্ছি?), দ্য ওয়াইফ পড়িনি। ভালো করলেন রেকমেন্ড করে, পড়ব। থ্যাংক ইউ।

      Delete
    7. এই রে, লিয়ান মরিয়ার্টি সার্চ করে দেখলাম। বিগ লিটল লাইজের লেখক। আমার বইটা না মোটে পোষায়নি। মানে মাঝপথে গিয়ে ছাড়ান দিয়েছি। কাজেই লেখকের নাম মনে রাখিনি।

      Delete
    8. LOl! oi jonyo bollam amar mone hoy tomar oi genre ta bhalo lagena. Amar besh laage but por por noy, like Americanah r por ekta Lianne Moriarty darun laage. Little Fires er webseries ta jani na, tobe Big Little Lies er jonyo HBO subscription ta nebo kobe theke bhabchi :-p
      Ekhon Chitra Banerjee'r Forest of Enchantment ta shuru korlam, besh sundor lagche.

      Delete
  2. ব‌ই গুলো সম্পর্কে জানতে পেরে ভালো লাগলো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, নালক। আপনারাও ভালো কিছু পড়লে (বা দেখলে, বা খেলে, বা বেড়ালে) আমাকে জানাবেন কিন্তু। যাতে আমার মিস না হয়।

      Delete
  3. Bah, ei to.
    Ei post tar jonyei bose chhilam Poyla tarikh theke.
    Ektao pora nei, kaajei britha bakyo byay na kore.....
    :) :) :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আর বলবেন না, বই নিয়ে লিখতে গেলেই যত আলসেমি চেপে বসে। আসলে এই পোস্টগুলো তো ঠিক মনের মাধুরী উগরে দিলে চলে না, কাজেই আজ লিখছি কাল ছাপছি করতে করতে মাস কাবার। যাই হোক, অবশেষে নামল। তাও পাঁচটা বই নিয়ে লিখব ঠিক ছিল পরশু পর্যন্ত। তারপর বুঝলাম একটা না বাদ দিলে জানুয়ারি থাকতে থাকতে আর বইয়ের পোস্ট বেরোবে না। কাজেই পাঁচ থেকে চার।


      আপনি কিছু পড়লেন নাকি? জানাবেন। বাই দ্য ওয়ে, মিতিনমাসি দেখেছেন? এই মিস করার মনখারাপটা আর যাচ্ছেই না। ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার কবে হবে কে জানে।

      Delete
    2. Mitinmashi dekha hoyni Kuntala, amio World Premiere er opekkhay acchi :)
      Notun pora boiyer modhye, Chigozie Obioma'r An Orchestra for Minorities porlam. Besh bhalo laglo, kintu tao kothay jeno thik tripti pelam na :)
      Purono boi porechhi kichhu - Srimati Cafe, Lalbai, Baro ghor ek uThhon, ar ekhon Midnight's Children er re-reading cholchhe.

      Delete
    3. রি রিডিং আমিও করব ভাবি, করে আর ওঠা হয় না। আপনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হলাম।

      Delete
  4. আসল বই থেকেও বেশি ভালো লাগে তোমার রিভিউ পড়তে| কিছুদিন আগে অলিভ এর নতুন বইটি কিনে রেখেছি আর তুমি যে পড়ছিলে সেটাও দেখেছি, কিন্তু বই পড়া অনেক কমে গেছে, তাই পড়া হয়নি| এবারে পড়তে হবে| প্রত্যেকটা বই ইন্টারেষ্টিং| শেষের বইটা Broadchurch সিরিজ এর কথা মনে পড়ালো|

    ReplyDelete
  5. শেষের আগের বইটা বলতে চেয়েছি |

    ReplyDelete
    Replies
    1. হাহা, থ্যাংক ইউ, অমিতা। আমার অলিভ কিটরিজ পড়ার অনুপ্রেরণা সম্ভবত আপনার থেকেই এসেছিল। এ সোনার খনির সন্ধান দেওয়ার জন্য থ্যাংক ইউ।

      ঠিকই ধরেছেন, ডিস্যাপিয়ারিং আর্থ-এ একটু ব্রডচার্চ ব্রডচার্চ গন্ধ আছে বটে। তবে ডেরিভেটিভ নয় বলেই আমার ধারণা। অলিভ, এগেইন কেমন লাগল জানাবেন।

      Delete
  6. আরে না না, আমি কি তোমাকে অনুপ্রেরণা দিতে পারি? আমি শুধু খুব খুশি হয়েছিলাম যে তোমার অলিভ আমার মতোই ভালো লেগেছে আর আমি তোমাকে HBO miniseries টা দেখতে বলেছিলাম| Frances McDormand দুর্দান্ত যদিও বইয়ের ফিজিক্যাল ডেসক্রিপশন এর সাথে মেলেনা, মানে ওই রকম মোটাসোটা নয় আর কি|
    প্রত্যেকবার কমেন্ট করার আগে ওয়েবপেজ হিস্ট্রি ক্লিয়ার করতে হচ্ছে !

    ReplyDelete
    Replies
    1. ইস, সরি অমিতা। আমি সত্যি সরি এবং কৃতজ্ঞও যে এত ঝামেলা সয়েও আপনারা কমেন্ট করেন। থ্যাংক ইউ। হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়ল এইচ বি ও-র মিনিসিরিজ। আমি আপনার সঙ্গে একমত, ম্যাকডরম্যান্ডের আকৃতিটা একেবারেই অলিভ কিটরিজের সঙ্গে মেলে না, কিন্তু আবার কেন যেন মনে হয় প্রকৃতিতে দুজনেই একই রকম অহবেন। ওইরকমই সোশ্যালি অকওয়ার্ড, নো-ননসেন্স, পষ্ট কথায় কষ্ট নেই ভঙ্গি। তাই না? আমার তো মনে হয়, অলিভ কিটরিজের রোলে ম্যাকডরম্যান্ডের কাস্টিং দুর্দান্ত। কোথায় একটা পডকাস্ট শুনছিলাম, স্ট্রাউটও সে রকমই বললেন মনে হল।

      Delete
  7. তোমার জন্যে একটা দারুণ উপহার আছে। টপ করে
    লিঙ্কটাতে ক্লিক করে দাও http://golpoolposwolpo.blogspot.com/?m=1

    ReplyDelete
    Replies
    1. http://golpoolposwolpo.blogspot.com/2020/02/blog-post.html?m=1

      Delete
    2. আরে চেনা লেখকের বই যে! থ্যাংক ইউ।

      Delete
    3. Tomar duto boi e amar kache ache, eita jodio amar bandhobi kine dilo, nijeo ekta neache se.. Eibar lekhikar soi holei solokola purno hobe..

      Delete
    4. গুড গুড। বান্ধবীকে আমার তরফ থেকে থ্যাংক ইউ।

      Delete
    5. Bandhobio tomar niyomito pathika, tai se tomar thanks etokkhone jene geche..

      Delete
    6. হাহা, তাহলে তো ভালোই।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.