তিনটে রোদ্দুরের দিন



দরজা খুলেই নাকি কাকিমা বলে উঠেছিলেন, এই তো অর্চিষ্মানকাকু এসে গেছে।

বাক্যের শেষের স্মাইলিটা ধন্দ দিল। ভিডিও চ্যাটে তবু বোঝা যায়, সে ক্যামেরায় যতই ধুলো লেগে থাকুক না কেন; ফোনেও চলনসই, কিন্তু চ্যাটের ফন্টে একটা লোকের দুঃখ ফুটছে না হতাশা, হলদে হাসিতেই বা কতখানি অশ্রু বা আনন্দ, বোঝা মুশকিল।

সাধারণত কাকুটাকু শুনলে রাগ হওয়ারই কথা। আমার হয় না, কারণ সেই যে ক্লাস নাইনে স্কুল থেকে ফেরার পথে উত্তরপাড়া প্ল্যাটফর্মে ট্রেনে উঠছিলাম, লেডিস পর্যন্ত যাওয়ার টাইম ছিল না জেনারেলেই উঠতে হয়েছিল কারণ ওই ট্রেনটা গেলে ঝাড়া পঁচিশ মিনিটের গ্যাপ, আর একটা চিমড়ে মার্কা লোক দৌড়ে এসে, ‘বৌদি সাইড দিন!’ আর্তনাদে প্রায় ছিটকে ফেলে ট্রেনে উঠে গিয়েছিল সেই থেকে শুরু। তারপর যখন কপালের সামনের চুলগুলো পাকতে শুরু করল, অর্থাৎ যখন ঊনত্রিশ, তার পর থেকে আন্টি ছাড়া কেউ কখনও কিছু ডাকেনি।

দুঃখ হত। ইউনিভার্সিটির পরে আলাপ হওয়া আর কোনও প্রাপ্তবয়স্ককে যে সম্পর্কসূচক সম্বোধন করিনি (দেখছিলেন, মিথ্যাচার হচ্ছিল। বিয়ে সূত্রে প্রাপ্ত সম্পর্কগুলোকে সম্পর্ক দিয়েই ডেকেছি, সেখানে ফার্স্ট নেম চালাতে স্মার্টনেসে কুলোয়নি), স্রেফ নাম ধরে চালিয়েছি তার পেছনে এই কুমতলব কাজ করেছে যে উল্টোদিকের লোকটিও হয়তো আমাকে নাম ধরে ডাকার কার্ডিন্যাল সিনটি ঘটিয়ে ফেলবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে ফন্দি অসফল হয়েছে।

এখন আর দুঃখ হয় না। অন গড ফাদার মাদার। হোয়াটস ইন আ সম্বোধন?

কিন্তু আমার ধারণা ছিল অর্চিষ্মান এখনও সে নির্বিকল্পতায় পৌঁছয়নি। কাজেই কাকিমার উল্লাসবোধক উচ্চারণের পর স্মাইলিটা দুঃখের বলে ধরেই নিতাম যদি না আরও জোরালো একটা ধন্দ দেখা দিত।

কার কাকু? র-কে ঝাড়া হাতপা পিছুটানহীন বলেই তো জানি, তার বাড়িতে অর্চিষ্মানের ভাইপো/ভাইঝি হওয়ার ক্যান্ডিডেট এল কোথা থেকে?

উত্তরটা জেনে দুটো ধন্দই কেটে গেল। মানুষের বাচ্চা না থাকলেও র এখন একাধিক বেড়ালের বাচ্চার মালিক। কাচের গুলির মতো চোখ আর পশমের কম্বলের মতো স্পর্শওয়ালা বিল্লি, যারা সময়বিশেষে গম্ভীর এবং খেলার সঙ্গী পেলে উচ্ছল।

ওদের আন্টি হতে পারলে আমিও বর্তে যেতাম।



বুককেসে একটা বই খুঁজে পেয়েছে অর্চিষ্মান, যার প্রথম পাতায় লেখা ‘কুন্তলাকে অর্চিষ্মান’।

আবার ধন্দ। ‘অর্চিষ্মানকে কুন্তলা’ , ‘কুন্তলাকে অর্চিষ্মান’, ‘সোনাকে মা’ ইত্যাদি লেখা বই গুচ্ছ আছে বাড়িতে। 

বইখানা সম্পর্কে আরও খোঁজ নিলাম। জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর গল্পের বই। সেটাও অপ্রত্যাশিত কিছু না। অর্চিষ্মানের প্রিয় লেখকের বই যে আমাদের বাড়িতে থাকবে, আমাকে যে সে বই অর্চিষ্মান উপহার দেবে, সেটাই স্বাভাবিক।

তারপর লেখাটুকুর নিচের সনতারিখটা অর্চিষ্মান পড়ে শোনাল। গুনে দেখলাম ও তখন সাতাশের খোকা, আমি বত্রিশের খুকি। আমাদের অতীত অপ্রতুল, ভবিষ্যৎ অনন্ত। প্রেমের স্রোত একবিন্দু পলিও জমতে দিচ্ছে না, এ জন্ম তো তুশ্চু, জগৎসংসারকে কাঁচকলা দেখিয়ে স্রেফ অক্সিজেন আর অর্চিষ্মানকে সম্বল করে নেক্সট সাতাত্তর জন্ম কাটিয়ে দেওয়া যাবে সে বাবদে সংশয়ের কণামাত্র জাগছে না। ঝলমলে রোদ্দুর ছায়া পড়তে অ্যালাউ করছে না বাহিরেঅন্দরে। সে রোদ্দুরের এমন মহিমা, এত যুগ পেরিয়ে এসে ঠিকরে চোখ করকরিয়ে দিল।

 

স-এর গলাটা বারবার কাটছিল। শহরের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল, নেটওয়ার্ক খারাপ।

স আমার, চেয়ার ধরে বসুন, পঁয়ত্রিশ বছরের পুরোনো বন্ধু। ক্লাস টু’তে ওকে আমি প্রথম দেখি। তার পরের আট-ন’বছর রোজ দেখি। রোজ শুনি। ক্লাসে, মাঠে, ফোনে। তারপর দীর্ঘ অদর্শন, দীর্ঘ যোগাযোগহীনতা, ছেঁড়া ছেঁড়া ছোঁয়াছুঁয়ির পর গত কয়েক মাস যাবত আমরা আবার একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি এবং উপলব্ধি করেছি, ওর মাপের একটা ফোকর তৈরি হয়ে ছিল আমার ভেতরে, ওর মধ্যেও হয়তো রেডি হয়ে ছিল অবিকল আমার মাপমতো একটা খোপ, যে খোপে আমরা খাপে খাপে  ফিট করে গেছি।

কাজের কথা ছিল না, কেমন আছি কী করছি জানতে ফোন করেছিল। ও ভালো আছে, বুঝতে পারলাম গলার স্বরে। কারণটাও জানা গেল; হঠাৎ-বেড়াতে যাচ্ছে ওরা সপ্তাহান্তে ইলোরা, দৌলতাবাদ। কথায় কথায় কী একটা হাসির কথা হল, হো হো হেসে উঠল স, আর আমি চুপ করে ওর হাসিটা শুনলাম। আর  স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমরা হাসছি, হেসে গড়িয়ে পড়ছি।  চোখ বন্ধ করে, পেট চেপে ধরে, উল্টে পড়ছি ঘাসের ওপর, ইউনিফর্ম ময়লা হয়ে যাচ্ছে, ঘাসের গন্ধ লেগে যাচ্ছে সারা শরীরে, কোথা থেকে যে হাসিটা শুরু হয়েছি ভুলে গেছি, প্রথম হাসির ফুলকিটা কে ধরিয়েছিল মনে নেই, ম্যাটারও করে না, খালি এক হাসি থেকে আরেক হাসিতে গড়িয়ে যাচ্ছি এবং হাসিয়ের দল বাড়ছে, তারাও কি জানে কেন হাসছে, মনে হয় না, চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছে, হেঁচকি উঠছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে, একটা দুর্যোগ ঘটে যেতে পারে, কিন্তু  থামতে পারছি না।

এবং রোদ উঠছে। মাঠ ভাসছে। হলুদ বাড়ির বুকে ফুলের ঝাড় রানিরং আগুনের মতো জ্বলছে, বাড়ির ছাদে, নীল আকাশের গায়ে ঝকঝক করছে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা 'তমসো মা জ্যোতির্গময়'-র আশ্বাস ও আশীর্বাদ।


*


যখন ছোট ছিলাম-এর বৃষ্টির গল্পটা মনে আছে? বৃষ্টির মধ্য দিয়ে হাঁটার গল্পও হতে পারে। একদিন প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সকলে ভিজে গোবর হয়ে এসেছে। স্যার ক্লাসে ঢুকেছেন। খটখটে শুকনো। "আপনার নিশ্চয় ছাতা ছিল, স্যার," চ্যালেঞ্জের উত্তরে সজোরে মাথা নাড়ছেন। মোটেই ছিল না। যত জোরেই পড়ুক না কেন বৃষ্টির প্রতিটি বর্শার মধ্যে সামান্য ফাঁক থেকেই যায়। সেই ফাঁকগুলোর মধ্য দিয়ে গলে বেরিয়ে আসার কৌশল যদি কেউ জানে স্যারের মতো, তাহলেই কেল্লা ফতে। যত বৃষ্টিই পড়ুক, ভেজাতে পারবে না।

সত্যজিৎ লিখছেন, পরে বৃষ্টির মধ্যে অনেকবার এঁকেবেঁকে হাঁটার চেষ্টা করেছি, একবারও না ভিজে থাকিনি। 

আজকাল বেশিরভাগ সময়েই বৃষ্টি পড়ে। বুকের, মাথার ভেতরটা স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। পচা পাতার ভ্যাপসা গন্ধ। কোন দুঃখে বৃষ্টি ভালোলাগে বলেছিলাম,  শোধ তুলছে। একমুহূর্ত দম নিতে দিচ্ছে না, অবিরাম আছড়ে পড়ছে ধারালো তীরের মতো। কোনওদিন যে রোদ উঠত ভুলিয়ে ছেড়েছে, আবার কখনও যে উঠবে সে সম্ভাবনা ঝাড়েবংশে নিকেশ না করে থামবে না।

মাঝে মাঝে হয়তো সে সংকল্পে টান পড়ে, বা বৃষ্টি আনমনা হয়, বা আরও সাঙ্ঘাতিক, নবলব্ধ প্রতিহিংসায় আছড়ে পড়ার আগে দম নিতে থামে, তখন ফাঁকফোঁকর দিয়ে একটুখানি রোদ এসে পড়ে চশমায়। কাল যেমন পড়ল। একটা না, দুটো না, তিনতিনটে রোদ্দুর।

আর আমার আপনাদের কথা মনে পড়ল। সর্বদাই পড়ে। কিন্তু ভিজে জবজবে হয়ে, শীতে কাঁপতে কাঁপতে, শ্রান্তিতে ঘামতে ঘামতে আপনাদের কাছে আসতে ইচ্ছে করে না। কেন করে না জানি না। নাজেহাল অবস্থায় আরও বেশি বেশি করে আসা উচিত, কারণ আপনাদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ বজায় রাখাটা আমার ভালো থাকার অব্যর্থ টোটকা, তবু কী যে হয়। মনে হয় ফুরফুরে না হয়ে আপনাদের সঙ্গে দেখা করব না। সব দুঃখের কথাই লিখেছি আপনাদের কাছে, তবু দুঃখের মধ্যে আসতে ইচ্ছে করে না। অবান্তরকে ফুরফুরে রাখতে ইচ্ছে করে।

তাই অনেকদিন পর বুকের মধ্যে যখন তিনতিনটে ফুরফুরে রোদ উঠল, মনে হল এইবেলা চট করে দেখা করে আসি। এই রোদ নিভে যাবে। বৃষ্টি নামবে। মেঘ ছাইবে। আর আমি এখন স্কুলে পড়ি না, কাজেই রোদ্দুরময় দিনগুলোতে লাফিয়ে লাফিয়ে পা ফেলে জীবনের মধ্যে দিয়ে পালানো যে যাবে না সে জানি। বৃষ্টি নাগাল পাবেই, ভিজিয়ে চুবড়ি করবেই।

কিন্তু আজ রোদ উঠেছে। সে মহার্ঘ রোদ্দুর মেখে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এলাম। আমার রোদ্দুর আপনাদেরও হোক। ভালো থাকবেন, ভালোবাসবেন।

(ওহ, আর কাউকে বই উপহার দিলে অবশ্য অবশ্য অবশ্য করে নামধাম আর সনতারিখটা লিখে দেবেন। দয়া করে অধমের এই কথাটুকু ফেলবেন না। অনেকবছর পর রোদ্দুর উঠবে দেখবেন কেমন।)

Comments

  1. khub khub bhalo thakben.. onek onek mithe roddur e aapnar potyekti din bhore uthuk..

    class 9 e "boudi side din" ta poRe phikphik kore haslam onekkhon.. aamio erokom e.. bahudin dhorei aunty shunchi.. emonki last 8-10 bochore aamake 40+ mohilarao oneke aunty bole dekechen.. :)

    khub bhalo thakben..

    Indrani

    ReplyDelete
    Replies
    1. হাহাহা, ওই মহিলাদের আসলে ভীষণ ভাইঝি/বোনঝি হওয়ার ইচ্ছে। আপনি যে সেই আশা পূর্ণ করতে পারছেন সে জন্য নিজের পিঠ চাপড়ে দিন, ইন্দ্রাণী।

      আপনিও ভালো থাকবেন। কালীপুজোয় ফুলঝুরি জ্বালালেন নাকি?

      Delete
  2. আমি তো দিম্মা অব্দি হয়ে গিয়েছি ওই মহানুভবদের বদান্যতায়। এই যে পোস্টটা পড়ছি, এক মূর্তিমান কোলের মধ্যে ঘুমোচ্ছেন। উনি ওভাবেই কোলে চড়ে শোবার জায়গা অব্দি যাবেন। আর আমার এই সুন্দর ফিগারের বদৌলতে আমিও বৌদি, কাকিমা, আন্টি এসব হামেশাই শুনে থাকি। একেক সময় বেজায় ইচ্ছে হয় বলি যে দাদাটিকে একবার চোখের দেখা দেখাও তো চাঁদ, নয়ন সার্থক করি।

    ReplyDelete
    Replies
    1. হাহা, এই ডাকগুলোর মোটিভেশন বোঝা শক্ত, শাল্মলী। কালোর দিকে আগে নজর দিলে অপমান করার মোটিভেশন স্পষ্ট। বয়স হওয়াটা আসলে পৃথিবীতে বাতিল হওয়ার সমর্থক। ফাজিল ছেলেরা দেখবে, কাউকে অপমান করতে হলে "দাদু" বলে ডাকে। মহিলাদেরও সেম। দুটো ঘটনা মনে পড়ল। এক, বেড়াতে গিয়ে আলাপ হওয়া একজন লোক মুচকি হেসে আমাকে বলেছিলেন, আমাকে নাকি অর্চিষ্মানের মায়ের মতো দেখতে লাগে। ভেবেছিলেন, মারাত্মক আঘাতে চুরমার হয়ে যাব বোধহয়। ওটা প্লেন আঘাত করতে চাওয়া। আরেকবার একটা রাস্তার পাগল, আন্টি বলে ডেকে উঠে "সরি সরি, আপ তো দিদি হো," বলে ফ্যাচ ফ্যাচ করে হেসেছিল। পাজামার দড়ি
      যে ভালো করে বাঁধতে জানে না, সেও জানে যে মহিলাদের আন্টি বলে ডাকলে অপমান করা যায়।

      সদর্থক মোটিভেশন হল সম্মান প্রদর্শনের। আমাদের সমাজসংস্কারে নাম ধরে ডাকা ভালো চোখে দেখা হয় না। শহুরে সেটিং এ রকমসকম কিছু কিছু বদলাচ্ছে, কিন্তু অল্প।

      আরেকটা মোটিভেশনের ব্যাপারে শুনেছিলাম, সেটা বলে এই মহাভারত কমেন্ট শেষ করব। একজন বলেছিলেন, সম্পর্ক মৌখিক পাতানো হলেও, মানুষের আচরণবিধি নিয়ন্ত্ৰণ করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, "ধর কোনও
      মেয়ে যদি কোনও পুরুষকে কাকু বলে ডাকে, তাহলে সেই পুরুষটি কি আর মেয়েটির সঙ্গে বেচাল করতে পারবে?"

      আমি উত্তর দিতে পারিনি। হাঁ করে ছিলাম। এখনও মনে পড়লে থাকি।

      Delete
  3. আমার না ওই স্কুল বালিকা বয়েসে খুব অভ্যেস ছিলো লোকজনকে কাকু বলা, মানে অচেনা অজানা পুরুষদের ওভাবেই সম্বোধন করতে অভ্যস্ত ছিলাম। কলেজে পড়তে পাশের এক পেনের দোকানের ছেলেটিকে কাকু ডেকে খুব জোরে ধমক খেয়েছিলাম। তারপর থেকে বয়স নির্বিশেষে সবাই দাদা। তবে হ্যাঁ, আমি ওই বৌদি, আন্টি ইত্যাদি ডাক খানিক অপমানের বা বলা ভালো উপহাসের ছলেই। তাছাড়া আমার অতিরিক্ত ওজনের জন্যও আমাকে কাকিমা, বৌদি বলা যায়, কারণ মোটাসোটা চেহারা তো ওঁদেরই হয়, বাকি মেয়েরা সব ক্যাটরিনা কাইফের তুতো বোনের মত ফিগার নিয়ে থাকে।

    ReplyDelete
  4. ভারী চমৎকার রোদ্দুরের পোষ্ট। আরো অনেক অনেক এরকম রোদ্দুর উঠুক। আমারও দীর্ঘদিন ভিতরটা ভেজা খড়ের মত হয়েছিল। তারপর বেড়াতে বেড়িয়ে ছিলাম। হিমাচলের সবুজ সাদা কম্বো, দৌড় লাগানো নদী, আর অজস্র নুড়ি পাথরের মত অকিঞ্চিকর জিনিস যা আলাদা করে মেনশন করা যাবে না হয়ত, কিন্তু তারাই আমার ভেজা খড় শুকিয়েছে খানিক। তোমারও এমন অনেক রোদ ,বৃষ্টিকে দূরে রাখুক।

    ReplyDelete
    Replies
    1. সুন্দর করে বললে, প্রদীপ্ত। বেড়াতে গেলে সত্যিই হেল্প হত হয়তো। তোমার ভেজা খড় খানিক হলেও শুকিয়েছে জেনে খুশি হলাম।

      Delete
  5. Ajkal apnar beshir bhag lekha-i mon bhalo ar kharap eksathe kore dey. Ageo majhesajhe hoto, kintu ajkal lekha gulo bodhoy aro ektu beshi mon-er bhitor theke ashe, ar pathok-pathika der mon-e beshi daag kete jay.

    Ektu personal katha bolchi, uchit na hole bolben, delete kore debo. Prothom jokhon apnar blog porte shuru korechilam, tokhon satyi bolchi ektu hingshe hoto apnar ghoraghuri, khaoa-daoa sankranto post gulo pore, abar porteo khub bhalo lagto. :)

    Kintu goto du bochhore apni jebhabe apnar vulnerability (lagshoi bangla protishobdo jana nei) Abantor-e mele dhorechen, nijer ajantei Abantor ar Apni - dui er sathei ekatmota toiri hoye geche.

    Apnar ei post niye beshi ar ki bolbo. Goto bochhor Canada te move korei jokhon Covid-er mukhe porlam, jokhon adur ar sudur dui bhobishyot-i gholate mone lagchilo, tokhon barir kacher ekta chotto park-e Gwendolyn MacEwen nam-e ekjon Canadian poet-er ei line gulo bhari mon-e dhorechilo ar mone roye jabe sara jibon. Tai apnake dilam (agei pora na thakle)

    “But it is never over;
    nothing ends until we want it to.
    Look, in shattered midnights,
    On black ice under silver trees,
    We are still dancing, dancing.”

    ― Gwendolyn MacEwen, Afterworlds

    ReplyDelete
    Replies
    1. We are still dancing, dancing. আহা, কেমন সুন্দর কথা শোনালেন, শমীক। আগে পড়া ছিল না। কৃতজ্ঞতা জানবেন।

      কিছু ডিলিট করতে হবে না। আপনি তো আমার মন ভালো করে দিলেন। আমি দাবি করি না যে অবান্তর আমার আয়না। কিন্তু অবান্তর এমন একটা জায়গাও যেখানে আমার তেমন কিছু লুকোছাপার নেই। তথ্য চেপে যেতে পারি, মনের ভাব চাপতে পারব না। শুধু পারব না নয়, উন্মুক্ত করতে চাইব। এর সঙ্গে সততাটততা গ্র্যান্ড বিষয়ের সম্পর্ক নেই, সৌভাগ্যের আছে। আপনাদের মত পাঠকরা ছিলেন বলে আমি এই বিলাসিতার জায়গাটা তৈরি করতে পেরেছি।

      আমিও অবান্তরের এবং আপনাদের সবার সঙ্গে একাত্ম বোধ করি। কখনও মনে হয় না অদেখা, অজানা কিছু লোকের উদ্দেশ্যে কয়েকটা শব্দ লিখে চলেছি। মনে হয় আপনাদের সবাইকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি এবং আপনাদের সামনে বসে গল্প করতেও আমার সমান ভালো লাগবে। (এটা দ্বিচারিতা মনে হতে পারে কারণ অবান্তরের কোনও পাঠকের সঙ্গে আজ পর্যন্ত বসে গল্প করিনি, করতেও চাই না, কারণ তাঁদের হতাশ করার রিস্ক নেওয়ার প্রশ্নই নেই, কিন্তু কী বলছি বুঝতে পারছেন আশা করি 😀)

      ভালো লাগল খুব আপনার লেখা পড়ে। ভালো থাকবেন।

      Delete
  6. তারিখ সন দেওয়া বই হাতে পেলে সত্যি মনে হয় বই তো পেলাম ই আর তার সাথে একটা সময় এর দেখা ও পেলাম । আর সেই সন তারিখ আর এক দু লাইন লেখা স্মৃতি জাগানিয়া রোদ্দুর হয়ে উঠতে পারে।
    অনেক অনেক রোদ্দুর পাঠালাম। এক্কেবারে ঝলমলে ওয়ালা। :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. নিলাম রোদ্দুর। একটা ভুল হয়ে গেছে বিরাট, তোকে সনতারিখ লিখে একটাও বই দিইনি কোনওদিন। অচিরেই এ ভুলের প্রায়শ্চিত্ত ঘটবে।

      Delete
  7. Amar mayer masi amai rajkahni diyechilo son tarikh like.songe lekha chilo ektu boro hoyw porbe.tokhon amar choy bochor boyes.Masi nei ,mao nei kintu boi ta ache.ki ar bolbo aajkal chele sei boi pore ...sob kichui sesh hoi ba hoito hoyna ..abhik

    ReplyDelete
    Replies
    1. সেই, বাকি সব ব্যাপারের মতোই শেষ হওয়া না হওয়াটাও সম্ভবত দেখার ওপর নির্ভর করে, তাই না। কিন্তু আপনাদের বাড়ির রাজকাহিনীর গল্পটা নিশ্চিতভাবেই চলছে, এটা চমৎকার ব্যাপার, অভীক। খুব ভালো লাগল আপনি গল্পটা আমাদের বললেন, তাই। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  8. ``আর কি রোদ্দুর যে উঠত
    আলোই যেন ঈশ্বর
    দিনের মধ্যে catch ধরেছি
    দশটা সূর্যোদয়"
    https://www.youtube.com/watch?v=SBUJQ5YwjtY

    ভালো থাকবেন, আর বিশেষ কিছু বলার থাকে না, এইরকম লেখা পড়ার পর 😊

    ReplyDelete
    Replies
    1. দ্যোতনা, আপনি বুঝবেন, সে রোদ্দুরের স্মরণসভা লিখতে কেমন লাগে। আপনিও ভালো থাকবেন। তাহলে আমিও ভালো থাকব। মন থেকে বললাম।

      Delete
    2. ও, আরেকটা কথা, এই গানটা আমার প্রিয়তম সাতটা গানের একটা। শোনালেন, ভারি ভালো লাগল। 🤗

      Delete
    3. Thank you,কুন্তলা... On a lighter note, এই যে আপনি বলতে পারলেন সাতটা প্রিয়তম গানের একটা -- এতটা  clarity থাকা কিন্তু বিশাল ব্যাপার 😊 আমি বড়োজোর বলতে পারি আমার এটা খুব প্রিয়  😊  


      আর একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলি -- আমার অনেকদিন ধরেই মনে হতো স্মৃতি কিছুটা পাঁকিয়ে ফেলা কাগজের মতন, উপরের এক অংশ আর নিচের অংশ একসাথে দেখা যায়... স্মৃতির কোনো দায় নেই টাইম ফ্রেম মানার, এই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সোজা পৌঁছে যেতে পারে আরেক রাস্তায়.... কতকটা collage-এর মতন.... হয়তো ঠিক বোঝাতে পারছিনা (খুবই বাজে ভাবে লিখলাম), আশা করি আপনি বুঝবেন... আপনার অনেক লেখায় সেটা পেয়েছি... 
      সেদিন Udham Singh-এর একটা রিভিউ শুনছিলাম, তাতে reviewer বললেন সুজিত সরকার Greta Gerwig-এর মতন treat করেছেন, তক্ষুনি মনে হল -- সত্যিই তো -- Greta  তো exactly ওটাই করেছেন Little Women-এ (আমার খুব প্রিয় ওনার directionএর টা) এই realizationটায় ঠিক কি লাগলো বলতে পারবো না, অনেক কিছু লাগলো একসাথে...

      Delete
    4. হাহা, সাতটা একটু বেশি স্পেসিফিক হয়ে গেছে, মানছি। কিন্তু কী বলুন তো, ভালোলাগাটা একটু দাগিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, আর দাগাতে গেলে স্পেসিফিসিটি কাজে দেয়।

      আপনি বাজে ভাবে লিখলেন? আমি আরও বাজে ভাবে লিখব - স্মৃতি রেগুলারলি কান মাথা গুলিয়ে ফেলে, এর কান টানতে বললে ওর মুন্ডু হাতে এনে দেয়।

      কিন্তু আপনি ঠিকই বলেছেন। এই যে টলোমলো চলাচল, এ গলি ও গলি ঢুকে পড়া স্থানকালপাত্রের বালাই না রেখে, স্মৃতির এই দোষ বিলক্ষণ আছে এবং এই দোষের জন্যই স্মৃতি আমার প্রিয়। বয়স হওয়ার একটা উপযোগিতা টের পাই আজকাল। গলি বেড়েছে, কাজেই স্মৃতি গোলাচ্ছে আরও বেশি।

      আপনার লাস্ট প্যারাগ্রাফের কোনও বিষয়ের সঙ্গেই আমার মোলাকাত নেই, বা হয়নি, কাজেই ওই আলোচনায় মৌন রইলাম। ভারি ভালো লাগল কথা বলে, যেমন সর্বদাই লাগে।

      Delete
  9. K. , khub bhalo theko aar eirokom jholmole post likhe roddur choriye dao :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. এটা কি আমি যাকে ভাবছি সেই? সে ছাড়া আর কেউ তো আমাকে 'কে' বলে ডাকেনি কখনও অবান্তরে।

      থ্যাংক ইউ। দেখা যাক, রোদ্দুরের সহযোগিতা মেলে কি না।

      Delete
    2. hyan hyan, shei :)

      Delete
    3. হাহা, এমনকি অর্চিষ্মানও চিনতে পেরেছে তোমাকে, তোমার 'কে' ডাক শুনে, শম্পা। তবেই বোঝ।

      Delete
  10. Lekha ta pore besh bhalo laglo. Aapni bhalo thakben. Aaajkal ektu aniyomito hoye porechhi Abantor e. Tabe mone hoi kodin por abar niyomito hoye jabo.

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে, সুস্মিতা, আমি নিজে কি অনিয়মিত হয়ে পড়েছি দেখছেন তো। কাজেই চিন্তা করবেন না। সব ঠিক চলছে আশা করি।

      Delete

Post a Comment