নভেম্বর


আমাদের ওদিকে চিরকালই হিংসার ঐতিহ্য জ্বলজ্বলে। রিষড়ার জাগ্রততম ভগবান সিদ্ধেশ্বরী কালীঠাকুর, যার থানে নিয়মিত মুণ্ডু কাটা পড়ত। রিষড়ার বিখ্যাততম বাসিন্দা রঘু ডাকাত। ব্রাত্য বসুর সিনেমা 'হুব্বা' মুক্তি পেয়েছে, এবার রঘুবাবুর জনপ্রিয়তা কমতে পারে। হুব্বা শ্যামলও, এখনও যদি কেউ না জেনে থাকেন, আমাদের পাড়ার লোক। শ্বশুরবাড়ির পাড়ার গুণ্ডার সিনেমা দেখার জন্য অর্চিষ্মান পাগল হয়ে উঠেছে। এদিকে 'হুব্বা' দিল্লিতে এখনও রিলিজ করেনি, করবে কি না বোঝা যাচ্ছে না। ওয়ার্স্ট কেসে হইচইতে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার দেখতে হবে। যেখানেই দেখি না কেন অবান্তরে প্রতিক্রিয়া দেব। উইথ ব্যক্তিগত অ্যানেকডোট। যার খোঁজ ব্রাত্য বসুর রিসার্চারদের পক্ষে পাওয়া অসম্ভব।

রঘু, হুব্বা দুজনেই গত হয়েছেন, পাড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নতুন সিন্ডিকেট। দাপটের আঁচ পেলাম বাড়ি গিয়ে। আমার আর মায়ের শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানের পাশেই একটা এস-হুক থেকে ঝুলছে মায়ের পুরোনো শাড়ি দিয়ে বানানো প্রকাণ্ড পুঁটলি। আগের বছর তিনটে পাকা কাঁঠাল চুরি হয়ে যাওয়ার শোক বাবা কাটাতে পারেননি। এ বছর কলার একটা কাঁদি মোটামুটি কাঁচকলা স্টেজে যাওয়া মাত্র কেটে এনে ঘরের ভেতর সিলিং থেকে ঝুলিয়ে পাকানোর ফন্দি এঁটেছেন। সফলও হয়েছেন। আমি থাকতে থাকতেই কলা পেকে গিয়েছিল। নামিয়ে খাওয়া হল। বাবা বললেন, একেবারে খাঁটি অরগ্যানিক, সোনা। বাজারে পাবি না। খেলাম গোটা দুয়েক। সত্যি, খুবই মিষ্টি।

সিন্ডিকেটের সাম্প্রতিকতম অ্যাটাকটাও ঘটল আমি থাকতে থাকতেই। দিল্লিতেই থাকি বা রিষড়াতে, আমার ঘুম ভাঙার সময় সাধারণতঃ চারপাশ অন্ধকার এবং নিস্তব্ধ থাকে। দিল্লিতে ভদ্রতার ধার ধারি না, রিষড়াতে ভীষণ পা টিপে টিপে, অন্ধকারে মোবাইলের টর্চ জ্বেলে দাঁতে কামড়ে ধরে তার আলোয় দরজাটরজা গ্রিলটিল খুলি। এত সার্কাসের কোনও দরকারই নেই। ভেতরের বাথরুমে গেলেই হয়।  আবার হয়ও না। হয় না যে তাতে মানুষের চরিত্র (বা হয়তো আমার চরিত্রই) প্রকাশ পায়। ছোটবেলায় ভাবখানা ছিল আমাদের বাড়িতে যে বাথরুম "অ্যাটাচড" না সেটাই মরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ। এখন টোটাল পালটি খেয়েছি। বাথরুমের মতো একটা বিকট জিনিস ঘাড়ের ওপর নিয়ে না বসে থাকতে পারাটা থাকাটা প্রিভিলেজ বলে গণ্য করি। কাজেই ভোর চারটের সময় ওই রকম কসরত করে দরজার খিল আর গ্রিলের তালা খুলতে গিয়ে অবধারিত ধুমধাম করে ফেলি। ভণ্ডের মতো "সরি সরি" বলি আর শ্যামলী ভদ্রলোকের মতো আশ্বাস দেয়। সোনা, অত আস্তে করতে হবে না, আমি জেগে আছি।

সেদিন আমি সবার ঘুম ভাঙানোর আগেই সবাই আমার ঘুম ভাঙালো। শুয়ে শুয়েই কনফিউজড হলাম। বাইরে এখনও তো তেমন আলো দেখা যাচ্ছে না অথচ প্রচুর লোকের গলা শোনা যাচ্ছে। শৈশবের একটা ট্রমা খাঁচা খুলল। ডাকাত পড়েছে নির্ঘাত কারও বাড়িতে। আমাদের বাড়িতেই নাকি কে জানে। অবশ্য আমাদের বাড়িতে কিছু নেওয়ার নেই। কলার কাঁদিটা গাছে থাকলে তবুও না হয়।

রাস্তায় কে যেন অট্টহাস্য করছে। বুচিদিদি। ডাকাত পড়লে এত হাসতে পারত না মনে হয়। মশারি থেকে বেরোলাম। জানালা আধইঞ্চি ফাঁক করে চোখ ঠেকালাম। রাস্তায় বেরোনোর অবস্থায় নেই প্রথমতঃ, তাছাড়া ঘুম থেকে উঠেই এত লৌকিকতার মধ্যে পড়লে রিকভারিতে সারাদিন লেগে যাবে। বাবা রাস্তায়, শ্যামলী রাস্তায়, বুচিদিদিদের গোটা বাড়ি রাস্তায়, ঠাকুরকাকু রাস্তায়, রত্নাকাকিমা রাস্তায়, বুবুন, বুবুনের বউ সবাই রাস্তায়। যা বুঝলাম, বুবুনদের কলাগাছ থেকে মোচা লুঠ হয়ে গেছে। এবং ঘটনাটা ঘটেছে বেশ অনেকক্ষণ আগেই। জমায়েত ভাঙছে। অর্থাৎ ঘটনাটা ঘটেছে শেষরাতে। শেষরাতে টের পাওয়া গেল কী করে? ঠাকুমা থাকলে তাও না হয় বুঝতাম।

ততক্ষণে শ্যামলী ঘরে চলে এসেছে। আমাকে দেখে বলল, আরে যা কাণ্ড হল সোনা। বললাম, কী করে টের পাওয়া গেল? শ্যামলী বলল, গঙ্গারাম চেঁচাল। গঙ্গারামের বাবামা আন্দামান থেকে এসেছিলেন কুড়ি বছর আগে, বুবুনদের পাশের বাড়িটা কিনে। আমাদের পাড়ার টাইমেলাইনে কুড়ি বছরের নাগরিকত্ব ইজ নাথিং। তার ওপর ওঁরা তেমন মিশুকেও না। কাজেই গঙ্গারামের আসল নাম কেউ জানত না, আন্দামানবাড়ির ছেলে বলেই কাজ চালাত। বছরখানেক আগে বাড়ি গিয়ে প্রথমবার সবাইকে ছেলেটিকে "গঙ্গারাম" সম্বোধন করতে শুনে অবাক হই। ওর নাম গঙ্গারাম বুঝি? এতদিনে জানা গেল? তাতে শ্যামলী খুব হেসেছিল। বলল, ছেলেটা নাকি সন্ধেবেলা কী একটা সিরিয়াল দেখে যাতে চিৎকার করে "গঙ্গারাআআআআম" গান হয়। তাই শ্যামলী ওর নাম রেখেছে গঙ্গারাম। শ্যামলীর দেখাদিখি বাকিরাও ওকে আজকাল গঙ্গারাম বলে উল্লেখ করছে।

বেলা হতে রত্নাকাকিমার হাঁকডাক শুনে বাবা বেরোলেন। ফিরলেন বিজয়ীর ভঙ্গিতে ইয়ালম্বা থোড় নিয়ে। কলাগাছ যেহেতু ওষধি গাছ একবার ফল হওয়ার পর তার আর কোনও কার্যকারিতা নেই। উল্টে যাতায়াতের পথে যতবার চোখ পড়বে যন্ত্রণা হবে। উপড়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের। তাই কাকিমারা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোটি কোটি থোড় বেরিয়েছে। সেগুলো বিতরণ করছেন। বাবা বললেন, দেখলি সোনা, ভাবছিলাম আজ তরকারি কিছু নেই, বাজারে যেতে হবে। কেমন জুটে গেল। আমাকে আজ বাজার যেতে হবে না বলেই বুবুনদের মোচা চুরি হয়েছে। থোড় থোড় পে লিখ্‌খা হ্যায় খানেওয়ালে কা নাম।

যে সাইজের থোড়, দু'দিন ধরে খাওয়া হল। মুগডালে দেওয়া হল। আলু দিয়ে ভাজাভাজা করা হল। আরও কত কিছু কত রকম করে যে রান্না হয় বাড়িতে। দুপুর যত এগোয়, টেবিলে বাটির লাইন লেগে যায়। ঢাকনা তুলে তুলে দেখি। মা থাকলে বকতেন। একেবারে খাওয়ার সময় যা দেওয়া হবে খাবে সোনা। তুলে তুলে দেখবে না। মাও নেই, আমার সহবতও লোপ পেয়েছে। শুধু তুলে দেখি না, ফিংগার ফুড যেমন হিঞ্চে শাকের বড়া, ডালের বড়া, শিউলি পাতার বড়া ইত্যাদি দেখলে একটা তুলে খেয়েও ফেলি। বকুনির বদলে বিজলীদি, মীরামাসি, শ্যামলী যে যখন থাকে বাটি নিয়ে দৌড়ে আসে। বাটিতে নিয়ে খাও সোনা, বলে একটার বদলে চারটে বড়া বাটিতে তুলে দেয়।

একদিন ছোট বাটিটার ঢাকনা তুলে দেখি ঘন সবুজ রঙের পেস্ট মতো কী একটা। আশপাশ ফাঁকা দেখে তর্জনীর ডগায় নিয়ে জিভে ছোঁয়ালাম। ধনেপাতা বাটা। সাধারণ খাবার, কিন্তু আমার কাছে নয়। এমন নয় যে দিল্লির ভাড়াবাড়িতে ধনেপাতা আসে না কিংবা বেটে খাওয়ার জন্য মিক্সি নেই। ধনেপাতাও আছে মিক্সিও আছে, যেটা নেই তা হল আমার উদ্যোগ। প্রসেনজিৎ "কী হবে?" জিজ্ঞাসা করলে পাঁচ সেকেন্ড সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে বলি, আলুভাজা। আলুভাজা ছাড়াও যে কিছু রান্না হয় আমাদের বাড়িতে তার কৃতিত্ব অর্চিষ্মানের। মেনু তৈরিতেও অর্চিষ্মান আমার থেকে বেটার। নানারকম ভেবে বার করে। আজ পোস্তবাটা, কাল খিচুড়ি, পরশু চাউমিন। হয়তো এটাও সারভাইভ্যালের তাগিদ। না হলে ওকে রোজ আলুভাজা দিয়েই সারতে হত।

শাক থেকে শুরু করে ডাল তরকারি হয়ে টক দই সবই ছিল। আমি ধনেপাতাবাটা দিয়েই অর্ধেক ভাত খেয়ে ফেললাম। অন্ততঃ পাঁচবার বললাম, বাবা কী ভালো লাগছে খেতে। সেই থেকে বাবা রোজ ধনেপাতা আনিয়ে বাটালেন। একদিন কচুবাটা হল, একদিন খারকোল পাতা বাটা, একদিন পোস্তবাটা। কিন্তু ধনেপাতাবাটা রোজ হল।

একদিন খেতে বসে বললাম, আচ্ছা বাবা ছোটবেলায় আরেকরকম বাটা হত মনে আছে? আমাদা বাটা? আমাদা বানানটা এভাবে লিখলাম কারণ অনেকদিন পর্যন্ত আমার মাথাতেই আসেনি যে আমাদা বলে কোনও বস্তু নেই, ব্যাপারটা আম ও আদার সন্ধি। বা হয়তো সন্ধিও নয়। হয়তো দুটো সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ। আম আদা। যেমন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ।

বললাম, যদিও খুঁজিনি, সি আর পার্কে নির্ঘাত পাওয়া যায় না। রিষড়া বাজারে পাওয়া যায় গো?

বাবা আর বিজলীদি দৃষ্টি বিনিময় করল। বিজলীদি বলল, দাদা দা'টা কোথায়? বাবা বললেন, সিঁড়ির তলায় দেখ তো। সেদিনই তো ধার দেওয়া হল। আমি মাথা নিচু রেখে পাতের ভাত নাড়াচাড়া করলাম। সামান্য আমাদা বাটা খেতে চাওয়ার পরিণতি এত দূর? বিজলীদি ধীরেসুস্থে সিঁড়ির তলার দিকে এগোল। বাবার তর সইছে না। টেবিলে বসেই চেঁচাচ্ছেন, পেলে? বিজলী? পেলে? বিজলীদি বলল, হ্যাঁ দাদা। কোনও কারণে বিজলীদির গলাটা সিঁড়ির তলা থেকে আসছে না। বাগানের দিক থেকে আসছে। আমাদের খাওয়া শেষ। বাবা বললেন, চ' একটা জিনিস দেখবি সোনা? এখন যা বলবে করব বাবা। বাগানের দিকে হাঁটছি বাবার পেছন পেছন। ঈশান কোণের নারকেল আর ডুমুর গাছটার মাঝের জমিতে ফোয়ারার মতো কয়েকটা পাতা, শুকিয়ে উঠেছে। বিজলীদি উবু হয়ে বসে কোপ মারছে। দৌড়ে গেলাম। ওড়নাটা দিয়ে জোরে জোরে হাওয়া করতে লাগলাম। ওখানটায় যা মশা, ইজিলি উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

পরদিন সব ভাত ধনেপাতাবাটা আর আমাদাবাটা দিয়েই খেয়ে নিয়েছিলাম। বিজলীদি নানারকম সাধছিল। ডাল নাও সোনা? আলুরদম? মোচা? বাবা বললেন, ওর যা পছন্দ তাই খেতে দাও। এ সব পায় না। বিজলীদি বলল, কেন তোমাদের ছেলেটা কী যেন নাম, ও পারে না? আমি বললাম, না না প্রসেনজিতের দোষ না। যা বলি সব করে দেয়। পোস্ত বাটে তো মিক্সিতে। বাবা মাথা নাড়লেন। ধুস, মিক্সিতে এ সব হয় নাকি। শিলনোড়া লাগে। যদি বলিস ওদিকে যাওয়ার সময় নিয়ে যেতে পারি, ট্রেনে অসুবিধে হবে না। বাবাকে নিরস্ত করলাম। অত পরিশ্রম করতে হবে না। আমি জোগাড় করে নেব।

দোনামনা হয়েছিল। এই সব স্পেশালিটি অ্যাপ্লায়েন্সেসের কি সত্যি দরকার আছে? বাড়ি পরিষ্কারের একটা থিওরি শুনেছি, যে জিনিসটা গত ছ'মাস ব্যবহার হয়নি নিশ্চিত থাকা যায় নেক্সট ছ'বছরও সেটার দরকার পড়বে না। যাকে ছ'মাস মনে পড়েনি তাকে চিরজীবনের মতো ভুলে যাওয়াই ভালো। অর্চিষ্মান আর আমার শিলনোড়াবিহীন সংসারের বয়স বারো হতে চলল, তার আগে আমার একলার রান্নাঘরেও শিলনোড়া ছিল না কখনও। হয়তো কেনাই সার হবে। কতদিনই বা আর বাঁচব। তারপর মনে হল বেশিদিন বাঁচব না বলেই শিলনোড়ার শখটা মিটিয়ে ফেলা দরকার। দাদুর দোকানের উল্টোদিকে সিঁড়ির নিচে একজন এ ধরনের যন্ত্রপাতি নিয়ে বসেন। ওঁর টেবিলে নারকেলকুরুনি, ডালঘুঁটুনি সব দেখেছি, শিলনোড়া মনে পড়ছে না। অ্যামাজন থেকেই অর্ডার করব ভাবলাম। কিন্তু অধিকাংশেরই মাপটাপ ঠিক করে লেখা নেই। পাছে খেলনাবাটি এসে উপস্থিত হয় কিংবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিলনোড়া সেই ভয়ে প্রসেনজিৎকেই বললাম। প্রসেনজিৎ অ্যামাজনকে অন্তর থেকে অবিশ্বাস করে। তার থেকেও কম বিশ্বাস করে আমাকে। বলল, তুমি আবার এ সব কিনতে যেয়ো না। কী আনতে কী নিয়ে আসবে। আমি গোবিন্দপুরী থেকে ভালো দেখে এনে দেব।

প্রতীক্ষায় আছি। একটা কিছু ঘটবে জীবনে অবশেষে। অর্চিষ্মানকে হুমকি দিয়েছি, এবার থেকে বাজারে যা দেখব কিনে এনে বেটে খেয়ে ফেলব। অর্চিষ্মান বাংলাদেশ গিয়ে গিয়ে বাটাপ্রেমিক হয়ে উঠেছে। বলছে, একদিন চিংড়িবাটা খাব। দারুণ খেতে। তুমি সেদিন কালোজিরে বাটা করিয়ো। সেটাও খারাপ না।

মাঝে আরেকবার সংশয় জেগেছিল। যেদিন অর্চিষ্মানকে সেই বেড়ালের ভিডিওটা পাঠালাম। যে ভিডিওটায় একজন একটা আনারস মাঝখান থেকে আড়াআড়ি কেটে, ওপরের অংশের ভেতরটা কুরিয়ে ফেলে দিয়ে সেটাকে একটা হেলমেটের আকার দিয়ে পোষা বেড়ালের মাথায় পরিয়েছেন। আনারসের পাতাগুলো মুকুটের পালকের মতো জেগে আছে। এত সুন্দর ভিডিও। দুটো টিক পড়ে গেছে অর্থাৎ অর্চিষ্মান দেখেছে। অথচ কোনও রিঅ্যাকশন নেই। রিপ্লাই তো ছেড়েই দিলাম। অর্চিষ্মানের আশায় বসে থেকে থেকে বাঁ দিকের কনট্যাক্ট লিস্ট বেয়ে উঠলাম নামলাম। যাকেই খোঁচাই না কেন, কমবেশি ফলভোগের সম্ভাবনা। শেষটা তিন্নিকে লিখলাম, তোর বাড়িতে শিলনোড়া আছে? তিন্নি উত্তর দিল, শিলনোড়া, বঁটি, বড় ছুরি রাখি না বাড়িতে। কখন কার ওপর রাগ হয়ে যায়।

তিন্নির উত্তরটা ভাবালো। বছরদুয়েক আগে একটা বাড়াবাড়ির পর আমি সম্পূর্ণভাবে অহিংস হয়ে ওঠার কিরে কেটেছি। ডায়েটিং করলে যেমন চিপস না কেনাই ভালো, মদ ছাড়লে যেমন বারে না যাওয়াই ভালো, হিংসার পথ একবার ছেড়ে আবার যেচে বাড়িতে শিলনোড়া ঢোকানোটা অবিমৃষ্যকারিতা হবে না তো? প্রসেনজিৎকে বারণ করে দেব?

করিনি। মহাত্মা গান্ধী মনে এলেন। চারপাশে অস্ত্রশস্ত্র সাজিয়ে বসে থাকলেই যাচাই হবে, সত্যি সত্যি অহিংস হয়ে উঠতে পেরেছি কি না।


Comments

  1. Tarpor? Se jinish elo? Posto bata holo? Kauke chhure marle?

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে প্রসেনজিৎও আমাকে ভরসা করতে পারছে না বোধহয়, আজ আনছি কাল আনছি করে ঘোরাচ্ছে। এলেই প্রথমে কচু বেটে উদ্বোধন করাব, তারপর পোস্ত।

      ছোঁড়াটোড়া ছেড়ে দিয়েছি। এই বয়সে অত উত্তেজনা পোষায় না।

      Delete
  2. মনে আছে, ধনেপাতাবাটা বেশ লাগতো। তবে শেষ কবে খেয়েছি সেটা আর মনে নেই।

    অ্যামাজন থেকে শিলনোড়া অর্ডার করার কথাটা ভেবে হেসে ফেললাম। জানি হাসার কারণ নেই, "there are some things money can't buy"টা বাদ দিলে, মোটামুটি বাকি সবকিছুই পাওয়া যায় অ্যামাজনে, আর আমিও কিনি, কিন্তু তবুও অভিনব লাগলো বেশ।

    "তিন্নি উত্তর দিল, শিলনোড়া, বঁটি, বড় ছুরি রাখি না বাড়িতে। কখন কার ওপর রাগ হয়ে যায়।" - দারুন এটা!

    ReplyDelete
    Replies
    1. রাজর্ষি, সেদিন একটা স্কিট দেখছিলাম ইউটিউব শর্টে, একজন বলছে, এক গ্লাস পানিও এবার জোম্যাটো থেকে আনাতে হবে মনে হচ্ছে। আমাদের অবস্থা প্রায় সে রকমই। জঘন্য। ভাবার চেষ্টা করলাম অ্যামাজন থেকে সবথেকে অদ্ভুত কী কিনেছি, সে রকম কিছু মনে পড়ল না। অবশ্য আমার বাবামা শুনলে বলতেন যা যা কিনেছি সবই অদ্ভুত হয়েছে, কিন্তু সে তো পার্স্পেকটিভ।

      তিন্নি লোকটাই দারুণ। ওর অধিকাংশ মন্তব্য নিয়েই গল্প লেখা যায়।

      Delete
  3. আপনার লেখা আমি অনেক বছর ধরে পরি। সামরানের দিল্লি বইমেলাতে আপনার ছবিও দেখেছিলাম। খুব ভালো লাগে আপনার লেখা। আপনার মা'কে মিস করি লেখায়। একবার বাংলাদেশের সিলেটে এসে ঘুরে যান।
    সুরঞ্জনা মায়া

    ReplyDelete
    Replies
    1. সুরঞ্জনা, কী যে ভালো লাগল। বাংলাদেশ যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি, অর্চিষ্মান এতবার যায়, আমার আর যাওয়া হয় না। এ বছর একটা সিরিয়াস অ্যাটেম্পট নিতেই হবে। সিলেট তো শুনেছি খুব সুন্দর, আর খাওয়াও তেমনি ভালো। বাংলাদেশ গেলে নিশ্চয় ভ্রমণসূচিতে রাখার চেষ্টা করব।

      ভালো থাকবেন।

      Delete

Post a Comment