February 05, 2020

শেষের পাঁচ মিনিট



পৃথিবীতে দু’রকম লোক হয়। যারা বাড়ি থেকে বেরোনোর আগের পাঁচ মিনিট মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে আর যারা পারে না। 

আমার মা দ্বিতীয় দলের লোক ছিলেন। 

অফিস বেরোনোর আগের পাঁচ মিনিট; পাঁচ কেন, গোটা সকালটাই মা হন্যে হয়ে দৌড়তেন। অবশ্য মায়ের দৌড়ের কারণ ছিল। মা না দৌড়ে, ধীরে সুস্থে হেঁটে গড়িয়ে চললে দুটো ঘটনা ঘটতে পারত। হয় মাকে অফিস যেতে হত না। নয় আমরা কেউ স্কুল কলেজ অফিস পৌঁছতে পারতাম না। না খেয়ে মরাও আশ্চর্যের ছিল না। 

ভেবে দেখলে ব্যাপারটা খুবই ভয়ের, কিন্তু কেউই ভয় পেত না কারণ সবাই জানত এ জিনিস ঘটার চান্স নেই। কারণ মা দৌড়বেন। মা দৌড়তেন। এবং বাকি সবাই শুয়ে বসে হাই তুলে চা কোথায়, কাগজ কোথায়, কেন সেটা পরিপাটি ভাঁজ করা নেই, ভাঁজহীনতার পেছনে দোষী কে, এই সব তদন্ত, জেরা, প্রমাণ জোগাড় করত। বাদী বিবাদী সাক্ষীসাবুদ জোগাড় হয়ে যখন 'ঠিক পেপার ভাঁজ না করতে পারার জন্যই যে এ বাড়ির কারও কিছু হবে না' রায় ঘোষণা হচ্ছে তখন আমার মা নিজের এবং সবার বিছানা তুলে, চা করে লোককে খাইয়ে এবং নিজে খেয়ে, পাঁচ পদ রান্না করে, দরজায় দুধ এলে সেটা নিয়ে এসে জ্বাল দিয়ে, টিফিন বানিয়ে অন্যেরটা গুছিয়ে এবং নিজে নিয়ে, সবাইকে খাবার বেড়ে, সবার খাওয়া শেষ হয়ে থালা তুলে টেবিল মুছে, নিজে নাকেমুখে গুঁজে, রবিকাকুর হর্নের তাড়ায় স্পিড বাড়িয়ে, এক হাতে ব্যাগ, অন্য মুঠোয় ঘড়ি আংটি আঁকড়ে বাড়ি থেকে ছুটে বেরোতেন।

আর আমি গোটা ব্যাপারটার অন্যায্যতায় ধিকিধিকি জ্বলতাম।

না জ্বলে মাকে সাহায্য করতে পারতাম। করলে লোককে পোক ভাবার যে বিষবৃক্ষটা সেই তবে থেকে শিকড় গাড়তে শুরু করেছে তার বাড় বন্ধ করা যেত। তাছাড়া মায়ের দৌড়ে আমারও তো কম অবদান ছিল না। আমার মুখের সামনেও মাকে কমপ্ল্যানের গ্লাস ধরতে হত, আমার চুলেও ঝুঁটি বেঁধে লাল ফিতের ফুল ফুটিয়ে দিতে হত, নাইন টেনে শাড়ি পরিয়ে দিতে হত। ওই দৌড়ের মধ্যে।

আমি সে সব আমার জন্মগত অধিকার বলে হজম করে উল্টে মাকে ভিকটিম ব্লেমিং করতাম। 

কেন তুমি চুপ করে সব সহ্য কর? কেন তুমি কাউকে নিজের কাজ নিজে করতে বল না? কেন তুমি লাই দিয়ে সবাইকে মাথায় তোল? বিশেষ করে যাদের বিবেক আর চক্ষুলজ্জা বলে কিছু নেই?

মা বলতেন, সোনা, ও জিনিস বলে গজানো যায় না। হয় থাকে, নয় থাকে না। তাছাড়া আমি দৌড়ই আমার স্বভাব দৌড়নো বলে। আমি না রাঁধলে কি লোকে না খেয়ে থাকবে? কিছু না কিছু একটা উপায় হয়েই যাবে। আমি করি আমার নিজের জন্যই। যে যা করে সব নিজের জন্যই করে। 

মায়ের কোনও কাজে লাগিনি, তাড়ার সময় মায়ের হাতের কাছে একটা কুটোও এগিয়ে দিইনি ভেবে সেদিন খুব দুঃখ হচ্ছিল। তারপর যখন দুঃখটা বিলাসিতা থেকে সিরিয়াস গ্লানির দিকে এগোচ্ছে মগজ তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বলল, আহা, যেন দিতে মা অ্যালাউ করতেন। হাঁ হাঁ করে উঠে বইখাতায় ফেরত পাঠাতেন না বুঝি? দিদিমা যেমন পাঠাতেন? 

পড়া ফাঁকি দেওয়ার অছিলায়, "মা, রান্না শিখুম" বলে মায়েরা রান্নাঘরে গেলে দিদিমা নাকি খুন্তি তুলে তাড়া করতেন। বলতেন, রামোঃ, রান্না আবার শিখতে লাগে নাকি? খিদে পেলে আপসে রেঁধে ফেলা যায়। বরং পড়তে লাগে, যাতে চাকরি করে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়ানো যায়। যাতে তাঁর জীবনের মতো মায়েদের গোটা জীবনটা উনুনের ধোঁয়ায় উবে না যায়। মেয়েরা চাকরি পাওয়ার পরেও দিদিমার আতংক জাগ্রত ছিল। যে ক'টা মেয়ের বিয়ে বেঁচে থাকতে দিয়েছিলেন, বিদায়ের আগে কিরে কাটিয়ে নিয়েছিলেন যেন বিয়ের পর তারা চাকরি না ছাড়ে। 

নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম, মাও হয়তো তাই বলতেন। জানি না, কারণ পড়া ফাঁকি দিতে হলে আমি জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতাম তবু মাকে সাহায্য করতে যেতাম না। গেলে হয়তো মা বলতেন, যথেষ্ট হয়েছে, মাথা খাও, পড়তে বস।

মা পড়তে বসতে বাধ্য করতেন বলে নাকি সময় বদলেছে বলে জানি না, মায়ের সকাল আর আমার সকালের আকৃতিপ্রকৃতিতে কোনও মিল নেই। গোটা সকালটা ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোলেও কেউ কিছু বলতে আসবে না। আমি সকালে উঠি শরীরের ঘড়ি সেট হয়ে গেছে বলে আর রাতে অত তাড়াতাড়ি ঘুমোতে গেলে সকালে ওর পরে আর মটকা মেরে শুয়ে থাকা যায় না বলে।

তাই আমি সকাল সকাল উঠে ব্যাজার মুখে টাইপ করার ভঙ্গি করি, গল্পের বই পড়ি, ইন্টারনেটে আড়ি পেতে পি এন পি সি-র খোরাক জোগাড় করি। গীতাদি রান্না করে দেন, রীতা ঘর ঝেড়েমুছে দেয়, আমি লাস্ট মোমেন্টে নিজেকে কোনওমতে উত্তোলিত করে বাড়ির বাইরে বার করে দুনিয়াকে ধন্য করি।

লাস্ট মোমেন্ট মানে লাস্ট মোমেন্ট।

কারণ অর্চিষ্মান, আমার থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে উঠে, দাঁত মেজে, চা খেয়ে, আরও যা যা দরকারি কাজ সেরে, যখন জামা প্যান্ট পরে জ্যাকেটের জিপ টানে, আমি তখন ওইটুকু ঘরের ভেতর টিফিন বাক্স, চিরুনি, চুলের ক্লিপ, চশমা হারিয়ে ফেলে ধৃতরাষ্ট্রের মতো দৌড়ে বেড়াই আর খাটের কোণায় কালকে খাওয়া ঠোক্করের ওপর আবার ঠোক্কর খেতে খেতে অর্চিষ্মানকে হুমকি দিই, খবরদার আমার আগে বেরিয়ে যাবে না কিন্তু।

অর্চিষ্মান মাথা নাড়ে। কোনও মানে হয়? আমার সঙ্গে বেরোনোর দরকার কী তোমার। তুমি যাবে সাড়ে চার কিলোমিটার, আমি যাব সাড়ে দশ কিলোমিটার। 

মনে হতে পারে কথাটায় যুক্তি আছে। এত হুজ্জোত করে একসঙ্গে বেরোনোর দরকার কি? আলাদা আলাদা অফিসেই যখন যাব। তাছাড়া আমার অফিসের রিলোকেশনের পর দুজনের পুলও কমন পড়ার চান্স নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা দুজনেই কড়া। অর্চিষ্মান মুখে যাই বলুক না কেন, আমি জানি ও-ও এ বিষয়ে আমার সঙ্গে একমত। আগে বেরোতে আমাদের কারওরই আপত্তি নেই, পরে বেরোতে দুজনেই নারাজ।

একা একা যুদ্ধে যেতে, তাও আবার যে যুদ্ধে নাকানিচোবানি গ্যারান্টিড, কার ভালো লাগে বলুন।

অর্চিষ্মান দয়ালু বিপক্ষের মতো আমাকে সাহায্য করে। আমার এদিকওদিক ছুঁড়ে ফেলা জামাকাপড় গুছোয়, আগের উবার রাইডের পেমেন্ট করে নতুন রাইড বুক করে দেয়। আমি অবশেষে চিরুনি আবিষ্কার করে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে কাকুতিমিনতি চালাই। আর তিরিশ সেকেন্ড দাঁড়াও, প্লিজ। তাছাড়া তোমার সঙ্গে চা খেতে খেতে গল্প করতে গিয়েই তো আমার দেরি হয়ে গেল, বল? 

এখন আর সে দোষটাও দেওয়ার উপায় নেই। অর্চিষ্মান পগারপার। নো গল্প, নো পি এন পি সি, নো প্যানিক। ঘড়ির দিকে তাকালাম। কত সময়। কাজ খুঁজতে বেরোলাম।

বেরোলাম জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি বলেই। মার্চ পড়লেই সব খোঁজাখুঁজি বন্ধ হবে। ততদিনে নতুন বছরের গায়ে মাসদুয়েকের ধুলো জমবে, নিজের প্রতি উচ্চাশা কমে কমে অকর্মণ্যতা জাস্টিফাই করার জায়গায় এসে ঠেকবে।

কিন্তু এখনও দুহাজার কুড়ি চকচকে রয়েছে, কাজেই কাজ খুঁজতে হচ্ছে। বেশি খুঁজতে হল না, কাজের মতো কাজ হাতের কাছেই রয়েছে। স্বাস্থ্যচর্চা। 

আমাদের ভাড়াবাড়ির পাশেই একটা জিম খুলেছে বেশ ক'বছর হল, নাম রেখেছে হার্ডকোর। ভালো চলে মনে হয়, সকালসন্ধে প্রচুর লোক ঢোকে বেরোয়। যাতায়াতের পথে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে গলা এদিকওদিক বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করেছি, কিছু পাইনি। সিঁড়িটা বেঁকে বেসমেন্টে নেমে গেছে, আজুবা যা ঘটার ওইখানেই ঘটে। গত্যন্তর না দেখে অর্চিষ্মান আমার মাথায় টুপি পরানোর চেষ্টা করেছিল। তুমি প্লিজ হার্ডকোর-এ ভর্তি হও তারপর আমাকে এসে কারা যায়, কী গল্প করে, কী ব্যায়াম করে, সব বিলা বিলা করে বল।

টুপি পরিনি, বলাই বাহুল্য। অতই যদি কৌতূহল নিজে ভর্তি হও গে। 

দুজনের কারও ভর্তি হওয়া হয়নি। এমন নয় যে শরীরচর্চার আমাদের দরকার নেই, বা সে দরকার আমরা টের পাই না। লিফট বন্ধ থাকলে তিনতলা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে যখন হৃদপিণ্ড হাতে চলে আসে তখন প্রত্যেকবার শপথ নিই যে আর না।

বাড়ির সামনে মস্ত পার্ক। শিফট করার আগে কত স্বপ্ন দেখেছিলাম সকাল বিকেল দৌড়ে সিক্স প্যাক বানিয়ে ফেলব, এখন বিকেলবেলা দু'নম্বর মার্কেট থেকে ফেরার পথে মাঠের মধ্যে দিয়ে শর্টকাট নিই, যাতে বেগুনি গরম থাকতে থাকতে বাড়ি পৌঁছনো যায়। 

বুঝে গেছি, যা করার এই চার দেওয়ালের মধ্যে করতে হবে। তাই করি। হাত পা ঘাড় কোমর বেঁকাই, একখান লাফদড়ি কিনে এনেছি, ধুপধাপ লাফাই। ভাগ্যিস নিচের তলায় কেউ থাকে না। হাঁফ ছাড়তে ছাড়তে ঘড়ির দিকে তাকাই, কথা না বললে কত সময় বাঁচে দেখে চমৎকৃত হই। এইবার রেডি হতে শুরু করলে ধীরেসুস্থে বেরোনো যাবে।

কিন্তু আমি রেডি হতে শুরু করি না। বদলে যেটা করি সেটার কোনও ব্যাখ্যা নেই। 

ভিডিও কলে অর্চিষ্মানকে পাকড়াও করি।

অর্চিষ্মান বলে, অফিস যাবে না? আমি বলি, আজ সব কাজ বিফোর টাইম শেষ হয়ে গেছে। তাই ভাবলাম তোমার সঙ্গে গল্প করি। বলে দুজনে দুদিকের জমিয়ে রাখা নিন্দেমন্দ উজাড় করে দিই। নিন্দেমন্দ জিনিসটা চায়ের মতো। সকালবিকেল চর্চা না করলে দুর্বল লাগে। 

হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ চলে গিয়ে বিশ্বাস হয় না। এ কী? এটা ঘড়ি না ঘোড়া?

হুড়মুড়িয়ে চ্যাটের ঝাঁপ ফেলি। কী কাণ্ড, দেখেছ, তোমার সঙ্গে গল্প করতে গিয়ে আজকেও আমার দেরি হয়ে গেল। যত্তসব। টা টা বাই বাই, আবার যেন দেখা পাই। 

পড়িমরি রেডি হই, রোজ বুক করার মিনিমাম সাত মিনিট পর ভাইসাব আসেন। আজ  একজন মেলা গ্রাউন্ডের পাঁচিলের কোণায় ঘাপটি মেরে ছিলেন, বুকিং শেষ হওয়ারও আগে, “ইয়োর ড্রাইভার ইজ অ্যারাইভিং সুন।” এদিকে আমার ওষুধ খাওয়া হয়নি, টিফিনবাক্স পোরা হয়নি, মুখে অ্যালোভেরা মাখা হয়নি। এর মধ্যে একটা মিস হলেও অসুবিধে নেই কিন্তু গিজার হিটার বন্ধ আছে কি না দেখতে হবে, গ্যাসের নবেও আরেকবার হাত না বোলালে শান্তি নেই। তারপর দরজায় চাবি ঘুরিয়ে অর্ধেক সিঁড়ি নেমে আবার ফেরত গিয়ে দরজায় ধাক্কা মেরে পরীক্ষা তো আছেই। আমার দেরি হয়ে গেছে বলে আমার কনফিডেন্স তো আর দায়ী নয়।

অবশেষে পিঠে ব্যাকপ্যাক, কাঁধে ঝোলা, বাঁহাতে মোজা, চাবি, ডানহাতে ফোন, ইয়ারফোন নিয়ে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে  আসি। ফোন বাজতে শুরু করে, উবার কলিং। ফোন না ধরে ( ধরলেই হার স্বীকার)  প্রবল বেগে হাত মাথার ওপর নাড়াই, যতক্ষণ না ভাইসাব আমার ধেয়ে আসা মূর্তি দেখেন এবং ফোন কাটেন।

সুপ্রভাত বিনিময়ের পর গাড়ি চলতে শুরু করে। লটবহর নিয়ে এলিয়ে পড়া আমার মুখ থেকে একটা ডাকই বেরোয়, মা, মাগো।

আপনি কি বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে দৌড়ে মরেন, নাকি শান্ত হয়ে বেরোন?



10 comments:

  1. LOL!! Beronor aage doure mori na thik i kintu ghum theke uthei mone hoy dourote hobe. Oitatei atonko hoy.

    Ami to ar Kakima r moton shokal e ranna kori na, shudhu nijer cha. Lunch kora thake, pack kori keu ekjon. Tarpor tara dite thaki, ore naam re, kha re, tupi ta por re. Tobe tenara dujon besh independent tai beshi tara laagena.

    Du-teen maashe ami jeta kori, seita kakima der generation nischoy korto na. Seita holo, je din tay ami jani barite ar keu thakbe na, sedin ami tuk kore ekta chhuti niy. Kakuke boli na. Shokal theke huto pati kori, nijeo kind of toiri hoi as if office jachi. Tarpor shobbai jei ta-ta bye-bye kore 7:30 AM e beriye gelo, ami duddar kore abar comforter muri diye, ipad niye ghumiye pori. Tarpor besh 8:30 AM e uthe cha ta khai ar ki anondo pai ki bolbo :-D

    Bong Mom

    ReplyDelete
    Replies
    1. আপনার এই ফাঁকা বাড়িতে ছুটি নেওয়ার আইডিয়াটা দারুণ, বং মম। জেনারেশনের কথা বলতে পারব না, মায়ের কথা বলতে পারি, ছুটি নিয়ে মায়ের কিছু সুবিধে হত না, কারণ বাড়ি কখনওই ফাঁকা থাকত না। বরং মাকে ওইরকম ঊর্ধ্বশ্বাসে রিকশায় উঠে বসে হাঁফ ছাড়তে দেখেছি। নেক্সট দশ ঘণ্টার জন্য ছুটি, চাইলেও কেউ মায়ের টিকি ছুঁতে পারবে না।

      আমি অবশ্য আপনার কায়দাটা শিখে রাখলাম। সুযোগ পেলেই অ্যাপ্লাই করব। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  2. আমার বেরনোর আগের ৫ মিনিট কমে গিয়ে ২ মিনিট হয়ে যায় মনে হয়... এমনকি বেড়াতে যাওয়ার দু'দিন আগে ব্যাগ গুছিয়ে রাখলেও সেই ৫ মিনিট জলের বোতল, ডকুমেন্ট চেক, ঘরের চাবি, পকেট ভেসলিন এই করে দৌড়নো হবেই ... কি ভাল লাগছে , এটাও আমি একা নই ... :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আগে কত কী কাজ সেরে রাখলাম, সেটা ইমমেটেরিয়াল, বল ঊর্মি? লাস্টে দৌড়তে হবেই। হাই ফাইভ।

      Delete
  3. আমার সকালের রুটিনটা যদি দেখেন, তাহলে দেখবেন আমি আরাম করে কাজ করছি। ইউটিউবে ভিডিও দেখছি, আপকামিং সিনেমার দেখা ট্রেলারগুলো আরেকবার করে দেখছি, গল্পের বই নিয়ে বসে আছি, আর মাঝে মাঝে কফির কাপে হালকা করে একটা চুমুক দিচ্ছি। এখনও তো ঢের সময় আছে, লাইফ ইস গুড।
    তারপর হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে আর ঢের সময় নেই। ইন ফ্যাক্ট, যথেষ্ট সময়ও নেই। দৌড়ে দৌড়ে কোনওমতে জামাকাপড় পরা সেরে চাবি নিয়ে দৌড়ে বেরোলাম। জুতোটা লাস্টে পরতে হয়, কারণ নাহলে সারা বাড়ি নোংরা হবে। গোছা থেকে ঠিক চাবিটা খুঁজে নিয়ে ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাতে হাতড়ে হাতড়ে দরজাটায় তালা  দিলাম। তারপর ড্রাইভওয়ে'র শেষ মাথায় এসে বুঝলাম ফোন আনিনি, তখন আবার ঠান্ডায় চাবি খোলা, জুতো পরেই সারা বাড়ি খুঁজে খুঁজে ফোনটা বের করা, করে আবার ছোটা। ভাগ্যে ক্যাম্পাসে থাকি তাই, নাহলে যে কি হত কেজানে।
    আপনার " নিন্দেমন্দ জিনিসটা চায়ের মতো। সকালবিকেল চর্চা না করলে দুর্বল লাগে। " লাইনটা মোক্ষম। ওটার জন্য হাই ফাইভ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমি তো আপনার সকালের বর্ণনাটার জন্যও হাই ফাইভ দেব, সুগত। ওই যে প্রথমবার ঘটা করে জুতো লাস্টে পরা এবং দ্বিতীয়বার জুতোশুদ্ধু সারা বাড়ি - পুরো কুম্ভমেলা কেস।

      Delete
  4. Hehe amar o sokale somoy kom pore. tobe seta ghumonor jonya. Ami ekdom sesh muhurto obdhi bichhanay dhuke thaki ar tarporei shuru hoy hurmur dour, train miss hoye jabe.

    ReplyDelete
    Replies
    1. এটা অর্চিষ্মানের সঙ্গে মিলেছে। ও-ও লাস্ট মোমেন্টে উঠে "স্যাট করে" বেরোনোর পক্ষপাতী।

      Delete
  5. আমিও দৌড় পাবলিক। ল্যাদ খেয়ে খেয়ে শেষ মুহূর্তে ছুট লাগাই। লেখাটা যথারীতি চমৎকা।

    ReplyDelete
    Replies
    1. দৌড়ে হাই ফাইভ, প্রদীপ্ত।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.