মাঝবছরের বই



এ যাবত ক'টা বই পড়েছেনঃ গুডরিডস দাবি করছে মোটে ১৪টা। আমার ধারণা আমি তার বেশি পড়েছি। পড়ে, গুডরিডসকে জানাতে ভুলেছি। কাজেই ১৪ই সই। এ বছরের ৫০ টা বই পড়ার অভীষ্ট পূরণে আমি ১১টা বই বিহাইন্ড শেডিউল। বুঝুন অবস্থা। তবে পিক আপ নিয়েছি। গোঁজামিলও দেব কিছু। রি-রিড গুনব। এই যেমন সিম্পল প্যাশন আবার পড়ব এবং গুনব। হুলিয়ে বাংলা বই পড়ব। ছোট ছোট উপন্যাস। মাপে, মানে নয়। এই যেমন বিমল করের খড়কুটো আবার পড়লাম এবং গুনলাম। কাল রাতে সন্দীপনের 'রুবি কখন আসবে' পড়লাম। নবারুণের লুব্ধক পড়েছি, গুনেছি। শক্তির কুয়োতলা পড়ছি। মোটে আটাত্তর পাতার বই। আজকালের মধ্যে নামাব। মোদ্দা কথা, আগের বছরের চ্যালেঞ্জ হেরেছি, এ বছর যেন তেন প্রকারেণ জিতব।

এ যাবত পড়া ২০২২-এর সেরা বইঃ চট করে উত্তরটা দিচ্ছি না, কারণ এখনও এমন কিছু (নতুন) পড়িনি যা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। যা পড়েছি তার মধ্যে সেরা বেছে বলতে পারি, কিন্তু সে নাতিশীতোষ্ণ সেরা হবে। কাজেই উত্তরটা তুলে রাখছি, বছরের শেষে দেব।

সবথেকে চমকপ্রদ পাঠঃ বিমল করের খড়কুটো। কাফ লাভ-এর আখ্যান সাড়ে একচল্লিশের বুক এমন মুচড়ে দিতে পারে, বিশ্বাস করতাম না। গল্পটা নিখুঁত বলব না, কিন্তু শেষ করার পর যে অনুভূতিখানা ছেয়ে থাকে অনেকক্ষণ ধরে, অনেক ভেবে সিদ্ধান্তে এসেছি, ওই ফিলিংখানাই পাঠঅভিজ্ঞতার সেরা প্রাপ্তি।

সবথেকে বড় লেটডাউনঃ মুনলাইট মার্ডারস। অ্যান্থনি হরোউইটজ-এর ম্যাগপাই মার্ডারস পড়ে উল্টে গেছিলাম। দ্বিতীয়বার পড়ে অবশ্য মাথা চুলকোনোর কিছু মুহূর্ত উঠে এসেছিল, কিন্তু তাতে প্রথম প্রতিক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করা অন্যায়। অ্যাটিকাস পুন্ড এবং সুসান রাইল্যান্ড জুটির দ্বিতীয় উপন্যাস মুনলাইট মার্ডারস পড়ে আমি হতাশ। বিস্তারে পরে বলব। শুধু এটুকুই বলছি, একই গল্প বারংবার লিখে যাওয়ার ব্যামো অনেকের আছে। হরোউইটজ আরও অনেক কিছু লিখেছেন, প্রচুর সিরিজ, টিভি চিত্রনাট্য, কাজেই বৈচিত্র্যের দিকে নজর তাঁকে নিশ্চয় রাখতে হয়েছে। কিন্তু এই সিরিজে ভদ্রলোক  বৈচিত্র্য বাবদে ডাহা ফেল।

দ্বিতীয় লেটডাউন যে বইটা সেটা এখনও চলছে। একদিক থেকে লেটডাউন বলা যাবে না, কারণ বইটার নাম, গান কোনওটাই আগে শুনিনি, কাজেই প্রত্যাশা কিছু ছিল না যে লেটডাউন বোধ করব। বাড়িতে দেখলাম, তুলে পড়তে শুরু করলাম। করা মাত্র প্রত্যাশা ধাঁইধাঁই করে বাড়তে শুরু করল। বইটির নাম থ্রি ব্যাগস ফুল, লেখক লিওনি সোয়্যান। আইরিশ কান্ট্রিসাইডে মার্ডার মিস্ট্রি যেখানে গোয়েন্দা একপাল ভেড়া। মূল তদন্তকারী ভেড়ার নাম মিস মেপল। এই সব মিলিয়েটিলিয়ে দিব্যি চলছিল। গল্প এক তৃতীয়াংশ এগোনোর পর ঢিকোতে শুরু করল। আপাতত মাঝপথে আছি এবং অনেক ধাক্কাতেও আর এগোচ্ছে না। অগত্যা পেছন থেকে পড়া শুরু করেছি। দেখা যাক শেষরক্ষা হয় কি না। হলে প্রতিক্রিয়া বিশদে জানাব।

প্রিয়তম নতুন লেখকঃ নতুনদের মাত দিয়েছেন পুরোনোরা। কাজেই নতুন করে পাওয়া পুরোনো লেখকদের নাম বলি। বিমল কর। জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী। বছরের শেষে এ উত্তর বদলাতে পারে।

যে বই হাসিয়েছে/আনন্দ দিয়েছেঃ খড়কুটো, কোপেনহেগেন ট্রিলজি। দ্বিতীয় বইটি নিয়ে বিস্তারে লিখব শিগগিরি।

যে বই কাঁদিয়েছেঃ খড়কুটো

যে বই কাঁদিয়েছে ২ঃ আগের বছর দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের নরকসংকেত পড়ে পিলে চমকে গিয়েছিল। এটা যে ঘটতে পারে তার আন্দাজ ছিল না বলব না, তবে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করিনি। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি ভালো চেনার জন্য বাজেদের হাড়ে হাড়ে চেনা ম্যান্ডেটরি। তাছাড়া টাইমপাসের জন্য সবই চলে। সায়ন্তনী পুততুন্ডের গোয়েন্দা অধিরাজ সিরিজের নাম শুনছি বেশ কয়েক বছর ধরে। পড়ব পড়ব করে দুটো পড়লাম। প্রথম, 'সর্বনাশিনী'। যা পড়লাম সেটা রিয়েল কি না বুঝতে 'চুপি চুপি আসছে' নামের আরও একটি বইও পড়তে হল সেম সিরিজের। এখনও ট্রমা কাটেনি, এটুকু বলতে পারি।

Comments

  1. Jyotirindra nandy amar onyotomo priyo lekhok, chotogolper ekjon jadukor.. parle puro chotogolpo somogro sesh kore phelun Kunatala di. Uponyas kom-e porechi. Mirar dupur ar baro ghor ek uthon porte paren.

    Seshe je dujoner nam likhlen, tader ekjoner ekta ebook download korechilam. pore pile chomke gechilo. Jaundice je hoynio, e amar soubhagyo

    ReplyDelete
    Replies
    1. তুমি যে ক'টা বইয়ের নাম বললে, সবগুলোই বাই চান্স পড়া, ঋতম। হ্যাঁ, শেষ দুজন কঠিন।

      Delete

Post a Comment