মিরিক ঘুরে বাড়ি


(ছবির সমস্ত কেরামতি অর্চিষ্মানের)


তাড়াহুড়োয় একটা জায়গার কথা লিখতেই ভুলে গেছি। কালিম্পং টু দার্জিলিং রুটে লামাহাট্টা। রাস্তা থেকে দেখলে ভয় লাগে। লালনীলহলুদ রেলিং, গাছ ঘিরে অরণ্যদেবের গাছবাড়ির মতো কাঠামো যেখানে সাতজনের বেশি একসঙ্গে না ওঠার সাবধানবাণী গাছের গায়েই গজাল মেরে গোঁজা, ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটের ভেতর ও বাইরে দোমড়ানো কুরকুরের প্যাকেট।


কিন্তু ভয় জয় করতে হবে। খাড়া পাহাড় ধরে যেই না উঠে যাবেন, সভ্যতার চিহ্ন সব খসে যাবে। পড়ে থাকবেন আপনি, জঙ্গল আর কুয়াশা। মানুষও। বাবা, দিদি, ভাইয়ের ছোট্ট দলের হাঁসফাঁস, ভাইয়ের প্রতি দিদির “ঝামেলা করবি তো ঠেলে ফেলে দেব” হুমকি। কোমরে হাত দিয়ে আধুনিক প্রতাপাদিত্য পাথরের ওপর দাঁড়িয়েছেন, পাঁচ সঙ্গী পাঁচটা ফোনে তাঁর ছবি তুলছেন। এ পৃথিবীতে বন্ধুভাগ্য নিয়ে কেউ কেউ আসে বটে।

গন্তব্যে একটি পুণ্য জলাশয়।



বৃষ্টি নামল দার্জিলিং পৌঁছতে না পৌঁছতে। কেভেন্টারসের দিকে হাঁটছি, আর ম্যাক্স তিরিশ পা, ফোঁটা বড় হতে শুরু করল। হোটেল পেছনে পঞ্চাশ পা। বয়স আরেকটু কম হলে সামনের দিকে দৌড়তাম। এখন দৌড়ে পিছু ফিরলাম। ব্যাগ থেকে ছাতা বার করে আনতে।

বৃষ্টিতে ছাদে বসা সম্ভব নয়, কিন্তু ঘরের ভেতর একটা টেবিল তখনও খালি। কেভেন্টারসে আমার অপশন কমে গেছে। হট চকোলেট আর চিজ টোস্ট স্যান্ডউইচ। অর্ডার নিতে নিতে ভদ্রলোক রান্নাঘরের দিকে তাকালেন। কারেন্ট গেছে, জেনারেটর না চললে টোস্ট করা যাবে না, নর্ম্যাল স্যান্ডউইচ খেতে হবে। খাবারের ব্যাপারে তেমন চুল চিরি না, যে কয়েকটা বিষয়ে চিরি তার মধ্যে সেঁকা পাউরুটি বনাম না-সেঁকা পাউরুটি পড়ে।

ভদ্রলোক রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই কারেন্ট চলে এল।

বৃষ্টি তখনও পড়ছে। নিচে সফটির ভিড়। বুদ্ধিমানরা নিচ্ছিল হয় চকোলেট নয় ভ্যানিলা, বেশি বুদ্ধিমানরা দুটোর মিক্স। একবার লোভ হল, তারপর চোখে পড়ল বাইরে ছাতা মেলে মহিলারা বসেছেন, সামনে ভুট্টা সেঁকার আয়োজন। লেবু মশলা ? অফ কোর্স। না হলে ভুট্টা খেয়ে লাভ কী? প্রবাসে কর্ন অন দা কব খাওয়ার প্রথম স্মৃতি মনে পড়ল। দেখতে শুনতে দু’নম্বরের সামনে ঠেলার ভুট্টার মতোই। মাখনজরজর ভুট্টার নরম, প্রায় ক্যাতকেতে দানায় কামড় দিয়ে যে অনুভূতিটা হয়েছিল, ঠোঙার শেষ বাদামটা পচা বেরোলেও অত হতাশ লাগে না।


শহরে ঢোকার পথে টয় ট্রেন দেখে থেকে ইচ্ছে ঘাই মারছে। পূরণের প্রব্যাবিলিটি কম, কারণ শেষ ট্রেন ছাড়ার টাইম প্রায় হয় হয়। তবু স্টেশনের দিকে এগোলাম। সোজা পথেও যাওয়া যায়, কিন্তু ঘুরপথে অলরেডি পা বাড়িয়ে ফেলেছি। দোকানের সামনে গুলতানিরত ভদ্রলোকদের জিজ্ঞাসা করে হাঁটতে থাকি। ভ্যাপসানো ভ্যাটের টোকো গন্ধে ভরপুর গলি। এঁকেবেঁকে নেমে দার্জিলিং স্টেশন চোখে পড়ে।


স্টেশনের পথে হাঁটতে হাঁটতে লাস্ট ট্রেন চলে গেলেও অসুবিধে নেই মুখে বলা একরকম আর স্টেশনে পৌঁছে লাস্ট ট্রেন সত্যি সত্যি চলে যাওয়ার খবর পাওয়া আরেকরকম। প্রথমটা বেঞ্চিতে লোক বসে থাকতে দেখে আশা জেগেছিল। তবে কি ট্রেন দেরি করছে? নাহলে খামোকা এঁরা? তারপর বুঝলাম এঁরা সেই সিক্রেটটা বুঝে ফেলেছেন। ট্রেন না ধরার থাকলেও ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে বসে থাকার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। হাওড়া শেয়ালদা নিউ দিল্লির মতো বাঘা স্টেশনে হয়তো হয় না, রিষড়া জাতীয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত গজল্লা বসে।  প্ল্যাটফর্মের বাঁধাধরা বেঞ্চিতে বসে বাঁধাধরা দলের মেম্বাররা রাজাউজির মারেন। বিকেলের পর বিকেল। বছরের পর বছর। চা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। কেন, আগে বুঝিনি। সেদিন দার্জিলিং-এর প্ল্যাটফর্মে বসে ক্লিয়ার হল।

স্টেশনটা বাকি শহরের তুলনায় পরিচ্ছন্ন। ছোট্ট রেললাইন, তার ওপারে ফুটপাথ। বোর্ডে লেখা প্লিজ ইউজ ফুটপাথ। একটা ট্রেনের সম্পর্কে কত অশ্রদ্ধা থাকলে তার যাওয়ার লাইনের ঘাড়ের ওপর দিয়ে ফুটপাথ বানানো যায় এবং গলবস্ত্রে অনুরোধ করা যায় যে দয়া করে লাইনে হাঁটবেন না। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটুন।


লাইন, ফুটপাথের ওপারে আকাশটা ঝপ করে নিচে লাফ দিয়েছে। খুব ছড়ানো আকাশের সামনে বসার সুযোগ তো হয় না, ভালো লাগছিল বেশ। প্রকৃতির অনেক কাছে থাকলে আরও একটা ভালো ব্যাপার ঘটে। মানুষের ওপর সর্বদা খিঁচড়ে থাকা মনটা অল্প অল্প প্রসন্ন হতে শুরু করে। আহারে, পোলাপান। কত তুচ্ছ, কত অকিঞ্চিৎকর। তবু তো বেঁচে আছে সুখেদুঃখে জাপটেলেপটে। যে কারণে পুরীর নিঃসঙ্গ তট থেকে হাঁটতে হাঁটতে স্বর্গদ্বারের আলোর দিকে হাঁটি। অন্ধকার সমুদ্রের গর্জনের দিকে পিঠ ফিরিয়ে লেবু চা খেতে খেতে মানুষ দেখি।

দার্জিলিং-এর স্টেশনেও তাই হল। আকাশটাকাশ, অস্তরাগটস্তরাগ থেকে চোখ নেমে এল সামনে দিয়ে ব্যস্তসমস্ত হাঁটুরেদের দিকে। সকলেই একদিকে যাচ্ছে কেন? কিছু আছে বুঝি? পিছু পিছু গিয়ে দেখার এনার্জি নেই। কুকুর দেখি। ব্যস্ত কুকুর, কুঁড়ে কুকুর, আলাপী কুকুর, গ্রামভারি কুকুর। কিছু না করলেও এনাফ বিনোদন। বাচ্চাদের মতোই। গম্ভীর মুখে ইস্কুলে যাচ্ছে ঝুঁটি বেঁধে, দেখলেই অট্টহাসি পেয়ে যায়।

আকাশের শো শেষ হলে জিন্স ঝেড়ে উঠে পড়ি। ফেরার পথে বেণী’স ক্যাফেতে বিরতি। খিদে নেই। বাকি বিকেলটুকু উশুল করা। বেণী’স ক্যাফে পুরোনো দোকান, ছোলে ভাটুরে থেকে চাট থেকে চিপস থেকে সামোসা থেকে দোসা, সব পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন বেশি। চা সিঙাড়া নিয়ে বসে ভাটুরে ভাজা দেখলাম। কেমন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গরম তেলে ফেলছে। মেসমেরাইজিং। তেল থেকে তোলার পর অবশ্য ঠিক দিল্লির ভাটুরের মতো দেখতে হচ্ছিল না। তাতে কিছু যায় আসে না। খেতে নিশ্চয় একই রকম ভালো।

সন্ধে নামল। হোটেলে এসে টিভি খুললাম। আশা ছিল লক্ষ্মীকাকিমার প্রেশার কুকার জয়ের মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকব, ছাতার মাথা চ্যানেলটাই খুঁজে পাওয়া গেল না। কোনও বাংলা চ্যানেলই নেই। শেষমেশ হিন্দি ডাব করা দক্ষিণী সিনেমার চ্যানেল চালিয়ে অপসংস্কৃতির হদ্দমুদ্দ করতে হল। সাউন্ড কমিয়ে রাখাতে গ্লেনারিজের গুঞ্জন কানে আসছিল। রাতে ওখানেই যাব। মেনু দেখে রেখেছি। ভেজটেবল অ গ্রাতাঁ অর্ডার করব। খুশি মনে সেই যে ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুম ভাঙল যখন মোবাইল জানাল রাত দুটো সতেরো বাজে। গ্লেনারিজের গুনগুন বহুক্ষণ নিভেছে।

যাওয়া হয়েছিল গ্লেনারিজে, পরদিন সকালে ব্রেকফাস্টে। বাসি চকোলেট ট্রুফল আর শুকনো জাপানি চিজকেক খেতে খেতে কুয়াশা সরিয়ে এক মুহূর্তের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা ঝিকিয়ে উঠেছিল। চায়ে চুমুক দিতে দিতে কয়েক মুহূর্তের চরিতার্থতা।

রাস্তায় ঘুরলাম খানিকক্ষণ। একেনবাবুর শুটিং-এর জায়গাটা চিনতে পারলাম, দার্জিলিং জমজমাট আরও টাটকা, সে রাস্তাটা তো আরওই বেশি চিনতে পারলাম। একটা চত্বর মতো জায়গায় বাঁশটাশ খাটানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যর্থনার জন্য বোধহয়।

বাগডোগরা থেকে প্লেন বিকেল তিনটে পঞ্চাশে, এদিকে সবাই বলে চলেছে এক্ষুনি বেরিয়ে যান এক্ষুনি বেরিয়ে যান, সি এম আসছেন, কখন কোন রাস্তা বন্ধ করে দেবে কেউ জানে না। একজন আবার বললেন “আপনাদের সি এম”।  সবাই বুদ্ধি দিল মিরিকের রাস্তা দিয়ে যেতে। ও রাস্তা বন্ধ হওয়ার চান্স কম। গাড়ি ঠিক করলাম। ন’টার একমিনিট দেরি করব না নাকখত দিয়ে, ন’টা তিনের মধ্যে তিনটে  মিসড কল সামলে, ন’টা চারে গাড়ির সামনে পৌঁছলাম। এই একঘণ্টার মধ্যে ড্রাইভার বদলে গেছে। আগেরজন বাংলা বলতেন না, ইনি বলেন। নিউ জলপাইগুড়ির লোক। গাড়িতে তোলার দশমিনিটের মধ্যে জিজ্ঞাসা করলেন, কোথাকার বলেন দেখি? আদতে পশ্চিমবঙ্গ আপাতত দিল্লি বলতে না বলতে স্টিয়ারিং-এ চাপড় দিলেন। তাই বলেন, কলকাতার নন। কলকাতার লোক দ্যাখলেই চিনতে পারি। কোনও ছাপই নাই আপনার মধ্যে কলকাতার।

এবম্বিধ উত্তেজনায় আমার মনের ভাব কী হওয়া দরকার ভাবতে ভাবতে গাড়ি মিরিকের রাস্তায় পড়ল। মানেভঞ্জন হয়ে সান্দাকফু যাওয়ার রাস্তাও ওটাই। বেশি দেখিনি, যেটুকু দেখেছি, অত সুন্দর রাস্তা জীবনে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। মিরিক ছাড়া আর কিছুই দেখব না বলাতে ড্রাইভারবাবু মাথা চাপড়াতে লাগলেন। এ রাস্তায় কতশত পয়েন্ট। একেকটা থেকে তো নেপাল পর্যন্ত দেখা যায়। ওঁকে বললাম না, কিন্তু আমাকে  টানছিল যা দেখা যাচ্ছিল না। যা ওই ঘন গাছের  -  ঘাড় প্রায় সমকোণে না বেঁকালে যাদের মাথা দেখা যায় না -  প্রাচীরের গোপনে ঘাপটি মেরে রইল। ধরা দিল না। মিনিট পাঁচেকের জন্য গাড়ি থামিয়ে নামলাম। ভেজা শ্যাওলার শৈত্য চুল, নখ, রোমকূপ বেয়ে চেতনায় ঢুকে পড়ে যাবতীয় গোলযোগ স্তব্ধ করে দিল।


কুয়াশায় পৃথিবী ডুবে গেছে। ওয়াইপার ঘুরছে। অরিজিৎ সিং কাতরাচ্ছেন। কুয়াশার চাদরের ফুটো দিয়ে উঁকি মারছে গোপালধারা টি এস্টেটের দিগন্তছোঁয়া সবুজ। রাস্তার রেলিং-এ অল্প কয়েকরকম সবজি, আচারের বোতল। এখানকার স্কোয়াশের দাম কম, নেবেন নাকি দিল্লির জন্য? ছোট ছোট গোল গোল লাল লংকা, ধ্বকে নাকি ভূত জোলাকিয়ার ছোট ভাই। মিরিক লেকের সোজা রাস্তা বন্ধ। যেতে গেলে আধঘণ্টার ডিটুর। যতক্ষণ জানতাম না মিরিক দেখা হবে অভাব অনুভব করছিলাম না। এখন প্রাপ্য কেড়ে নেওয়ার ফিলিং হচ্ছে। একটু পরে পার্কিং লটে ঢুকতে ঢুকতে ড্রাইভারবাবু বললেন, মন খারাপ কইরা লাভ নাই। দ্যাখেন কেমন নিয়া আইলাম।


মিরিক লেক। টুরিস্ট পয়েন্ট। ঘোড়া চড়া, মোমো খাওয়া, লেকের ধারে অবশ্যম্ভাবী প্রেম। ব্রিজ পেরিয়ে  জঙ্গলের দিকে যাচ্ছি, দুটো বাচ্চা মেয়ে হঠাৎ নাচতে শুরু করল। রীতিমতো কোরিওগ্রাফড নাচ। হাঁ হতে হতে দেখি তিন নম্বরের হাতে ক্যামেরা। টিকটক ভিডিও হচ্ছে। আমিও উঠে গেলাম নাকি কে জানে। লেকঘেঁষা জঙ্গুলে রাস্তার শেষে I ❤️ MIRIK. এক দিদির ঠেলার ওপর প্লাস্টিকভর্তি ফুচকা। খেলাম এক প্লেট। ভালো বেশ।

লাঞ্চের জন্য আর থামার মানে হয় না। ‘এখানে অনেকে গরু খায়, এ দিদিরা ও সব খায় না’ ফিসফিসিয়ে একটা দোকানে ঢুকিয়ে দিলেন ড্রাইভারবাবু। ভেজ মোমো চাইছি দেখে বিট্রেড মুখ করলেন। কিসুই তো টেস্ট পাইবেন না। আমিও দুঃখী মুখ করাতে আমার হয়ে ভেজ থুকপা অর্ডার করে দিলেন। ভেজ মোমোর থেকে নাকি বেশি টেস্টি। অন্তে চা খেয়ে মিরিক ছাড়লাম।

আর থামিনি কোথাও। প্লেন মিস হয়নি। সন্ধের মুখে প্রিপেড ট্যাক্সির জানালায় বসে দিল্লির রোদজ্বলা কংক্রিটের দিকে তাকিয়ে বারো ঘণ্টারও কম পুরোনো জঙ্গলের রাস্তাটা কল্পনা করতে গিয়েও করলাম না।

বদলে সেই অমোঘ প্রশ্নটাকে আসতে দিলাম। গোটা জার্নিটা অন্যরকম ভাবে কি প্ল্যান করা যেত?

যেত। কালিম্পং-এ আরেকটা দিন বেশি থেকে দার্জিলিং-এ সকাল সকাল পৌঁছনো যেত। টয় ট্রেনের জানালায় বসে ঢিকিসঢিকিস ঘুরে শহরে ফিরে কুংগা রেস্টোর‍্যান্টে তিব্বতি লাঞ্চ  খাওয়া যেত। সবথেকে বড় কথা ওই রাস্তাটায় আরও বেশিক্ষণ থামা যেত। পয়েন্ট দেখার জন্য নয়। স্রেফ বাহন থেকে নেমে জঙ্গলে ঢুকে চুপটি করে বসে থাকতাম। ওই প্রাচীন, মহান জঙ্গলের গহনে তুচ্ছ সুখদুঃখ বিসর্জন দিয়ে আসতাম।

আবার নাও যেত। যা হয়েছে, যেমন হয়েছে, ভুলভ্রান্তি, আশ না মেটা - এই হয়তো ভালো। ওই পথে যে আমার যাওয়ার কথা ছিল না, আচম্বিতে চলে গেছি, সেটাই হয়তো পথটার সবথেকে বড় প্লাস পয়েন্ট। রাখার হলে সেটাই হয়তো ওই পথটাকে দেদীপ্যমান করে রাখবে।



Comments

  1. মন খারাপ, মন খারাপ, মন খারাপ.... একেন বাবু আর ফেলুদায় দার্জিলিং দেখেছি কদিন ধরে, মনে হচ্ছে এক ছুট্টে চলে যাই, আমার মন খারাপ হলেই পাহাড় যেতে ইচ্ছে করে, ঘোরাঘুরি না, এক কাপ চা হাতে বসে থাকবো, মানুষজন দেখবো, একটু হাঁটবো একা একা, এইইই... রোজ একবার করে টিকিট দেখছি আর ভাবছি আর তো মোটে সাড়ে তিন মাস, তারপরেই যাবো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. মনখারাপের কোনও ব্যাপার নেই, শাল্মলী। দার্জিলিং, কালিম্পং, কাঞ্চনজঙ্ঘা কেউ পালাচ্ছে না। সময় করে গেলেই হাজিরা দেবে।

      Delete
  2. Berano furiye ele kemon monkharap lage, tai na? Apnar lekhay sei resh aachhe. Pratibarei je jaygai jai na keno, mone mone boli "abar asibo fire". Onyorakambhabe beranoror muhurto dekha seo hoy boiki mone mone. Ei jaaygay ami apnar anusari. Shudhu veg momo shune amar obsthao tothoibocho :(

    Beranor anando thakuk agami dingulo jure, abar beranor plan hok.. 15 August to Long Weekends :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. Chhobi diyechhen dekhe khub khub anando holo kintu :) Amio chinte parlam Darjeeling Jomjomater "point" :-D

      Delete
    2. হাহা, হ্যাঁ, ওই পয়েন্টগুলো চেনা। আপনার সঙ্গে এই জায়গাটায় মিলেছে, সায়ন। আমার তো একেকটা জায়গাকে একেকটা মানুষের মতো লাগে। দেখা হল, ভালো লাগল, চলে আসার সময় বললাম আবার দেখা হবে, এটা জেনেই যে হবে না।

      Delete
  3. আমরা একবার শুধু মিরিক আর জোড়পোখরি ঘুরতে গেছিলাম, সবাই একি শুধু মিরিক কেউ যায় এরকম বলেছিল, ওই রাস্তায় মেঘ কুয়াশা আর পাইন এর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এত ভালো লেগেছিল, তোমার ছবিগুলো দেখে আমার ই অ্যালবাম মনে হচ্ছে :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. রাস্তাটা একঘর, ঊর্মি। বল?

      Delete
  4. মিরিকের রাস্তাটা বড় সুন্দর৷ কিন্তু আমার আবায়ার গা গোলানোর ব্যারাম আছে, ওই রাস্তায় দুবার গেছি দুবারই বড় কষ্ট পেয়েছি৷
    এবারের বেড়ানোয় কি কিছু মিসিং হয়েছে? অন্য জায়গা গুলো ঘুরে আসার পর যেমন পরিতৃপ্তি থাকে এবারেটায় কম লাগলো যেন। কিংবা আমারই মনের ভুল।
    ছবি গুলো খুব ভালো হয়েছে।
    -প্রদীপ্ত

    ReplyDelete
    Replies
    1. বমি খুবই কষ্টের ব্যাপার। আমার মাঝে মাঝে হয়, এবার হয়নি। বাঁচা গেছে। ছবির থ্যাংক ইউটা অর্চিষ্মানের হয়ে বলে দিলাম। এবারের বেড়ানোয় দুটো জিনিস ঘটে থাকতে পারে। এক, বয়স হয়ে গেছে তাই এমনিই পরিতৃপ্তির স্টক বাড়ন্ত, যত ভালো জায়গাই ঘুরি না কেন অত ভালো আর লাগবে না। দুই, তৃপ্তিটাকে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারিনি।

      Delete
    2. না না লেখা চমৎকার হয়েছে। ঘোরাও খুব ভালোই হয়েছে নিশ্চিয়ই। পরের বেড়ানোর গল্প আসবে আবার কবে?
      -প্রদীপ্ত

      Delete
    3. দেখি আবার কবে বেরোনোর সুযোগ হয়।

      Delete
  5. গাছের ছবি গুলোয় বেশ 'হেথা যত আদিম মহাদ্রুম ' ব‍্যাপার আছে। লেখাও ভালো লেগেছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ, নালক। গাছগুলোকে সামনাসামনি দেখেও ওই ফিলিংটাই হচ্ছিল। গা ছমছমে ব্যাপার। ড্রাইভারসাহেবও সে রকমই বললেন। বললেন, কেন যে 'রাজ' (ভাট পরিবারের ভৌতিক সিনেমা) সিরিজের শুটিং উটিতে করে, এখানে ভূত আরও বেশি থাকার সম্ভাবনা।

      Delete
  6. Ekbaar eshob jayega te o jete hobe. Tomar lekha diye beriye elam. Thank you Kuntala :-)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে থ্যাংক ইউ আবার কীসের শর্মিলা। ঘুরে এসো। তবে আমার মতো কম সময় নিয়ে যেয়ো না। ভালো লাগবে মনে হয়।

      Delete
  7. Ki asadharon sab chhobi...aar lekha to oboshyoi.

    ReplyDelete
    Replies
    1. ছবির প্রশংসা যথাস্থানে পৌঁছে দেব। আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমারও খুব ভালো লাগল, সুস্মিতা। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  8. borhsakale kokhono darjeeling ar kurseong jaowar icche ache. Konodin jaowa hoyni. shunechi borhshay paharer rup naki opurbo

    ReplyDelete
    Replies
    1. ঠিক ঠিক, ঋতম। কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্ভবত দেখা যাবে না, কিন্তু আমার মতে বাকি যা দেখা যাবে (বা না যাওয়াও) পুষিয়ে দেবে। ঘুরে এসো।

      Delete

Post a Comment