November 30, 2012

চেনেন নাকি?



শুনেছি মানুষের চেহারায় নাকি দুটো জিনিস ইম্পরট্যান্ট। চোখ আর হাসি। সবার আলাদা, সবার অন্যরকম। কারও পটলচেরা, কারও গোল গোল, কারও ঘুমঘুম, কারও ভুবনমোহিনী, কারও কান এঁটো করা। যতরকমের লোক ততরকমের তাকানো, ততরকমের হাসি।

তাই যদি হবে তাহলে চোখ আর হাসি দেখেই লোক চিনতে পারা উচিত, তাই তো? সেটা আপনারা পারেন কিনা তারই পরীক্ষা নেব আমি আজ। বলুন দেখি এঁরা কারা?

1.

2.

3.

4.
 

5.

6.

7.

8.

9.

10.

পরীক্ষার সময় এখন থেকে কলকাতায় শনিবার সন্ধ্যে ছ’টা আর নিউ ইয়র্কে শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ততক্ষণ আমি কমেন্ট অফ করে রাখছি, যাতে আপনারা টোকাটুকি না করতে পারেন।  

অল দ্য বেস্ট


*****

কুইজের ফলাফল।

1. অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন
2. স্বামী বিবেকানন্দ
3. মাদার টেরেসা
4. অমিতাভ বচ্চন
5. ইন্দিরা গান্ধী
6. মাধুরী দীক্ষিত
7. জ্যাক নিকলসন 
8.শচীন তেন্ডুলকর
9. বাপ্পি লাহিড়ী
10. গোবিন্দা 

সবাই ভীষণ ভীষণ ভালো খেলেছেন। অজস্র অভিনন্দন। 

November 29, 2012

Dis or Dat: টেলিভীষণ




রামায়ণ না মহাভারতঃ মহাভারত

মাস্টারমাইন্ড ইন্ডিয়া না জেওপার্ডিঃ মাস্টারমাইন্ড ইন্ডিয়া। শুধু সিদ্ধার্থ বাসুর জন্য। 

চন্দ্রকান্তা না শক্তিমানঃ শক্তিমান 

দ্য ওয়ার্ল্ড দিস উইক না নিউজ উইকঃ দ্য ওয়ার্ল্ড দিস উইক

কফি উইথ করণ না রাদেভু উইথ সিমি গারেওয়ালঃ কফি উইথ করণ

ফ্লপ শো না অফিস অফিসঃ অফিস অফিস

মুঙ্গেরিলাল কি হাসিন সপনে না ওয়াগলে কি দুনিয়াঃ ওয়াগলে কি দুনিয়া। অঞ্জন শ্রীবাস্তব আর ভারতী আচরেকরকে টিভিতে দেখলে আমি আর আমার বাড়ির লোকেরা এখনও ওঁদের মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ওয়াগলে বলে ডাকি।

তমস না বুনিয়াদঃ তমস

হাম পাঁচ না জবান সামহাল কেঃ জবান সামহাল কে

মীরাক্কেল না দাদাগিরিঃ দাদাগিরি। দুটোই খারাপ, তবে আমি কম খারাপটাকে বাছলাম।

সুরভি না ভারত এক খোঁজঃ সুরভি

চিত্রহার না সুপারহিট মুকাবলাঃ চিত্রহার। আমার মায়ের কাছে দুটোই অপসংস্কৃতি ছিল কাজেই আমার কোনটাই দেখার পারমিশন ছিল না। আমি ভেবে দেখার চেষ্টা করলাম মায়ের মতে কোনটা কম অপসংস্কৃতি হত। বাবা সায়গলের চেহারাটা মনে পড়তেই উত্তরটা বেরিয়ে গেল। 

ফৌজি না করমচাঁদঃ ফৌজি। তখন শাহরুখ খানের চেহারাটা সত্যি সত্যি ইমপ্রেসিভ ছিল কিন্তু। 

হাউ আই মেট ইয়োর মাদার না দ্য বিগ ব্যাং থিওরিঃ হাউ আই মেট ইয়োর মাদার। শেলডন ভালো কিন্তু নিল প্যাট্রিক হ্যারিস আরও ভালো। 

ফ্রেন্ডস না সাইনফিল্ডঃ সাইনফিল্ড

জননী না জন্মভূমিঃ জন্মভূমি। জননী স্রেফ কান্নাকাটির আধিক্যের জন্য হেরে গেল, নাহলে আমার ওটাও ইক্যুয়ালি ফ্যাসিনেটিং লাগত।

মালগুডি ডেস না জাংগল বুকঃ মালগুডি ডেস

সি আই ডি না ল অ্যান্ড অর্ডারঃ সি আই ডি। গোলি সিনে মে লাগি হ্যায় মতলব কিসি নে সামনে সে গোলি চালায়ি হ্যায়। এমন অভূতপূর্ব যুক্তিজাল বিছনো দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় বলুন?

ব্যোমকেশ বক্সী না তহকিকাতঃ ব্যোমকেশ বক্সী

অলৌকিক না আহটঃ আহট। আমি খেয়াল করে দেখেছি সিনেমা-টিভিতে পরিষ্কার বাংলা ভাষায় কথা বলা ভূতপ্রেত কিংবা অতৃপ্ত আত্মা-টাত্মা দেখলে আমার একটুও ভয় তো লাগেই না, উল্টে ভীষণ জোরে হাসি পেয়ে যায়। আপনাদেরও হয় এ রকম?

কৌন বনেগা কড়োরপতি না বোর্নভিটা কুইজ কনটেস্টঃ কৌন বনেগা কড়োরপতি

লেট শো উইথ ডেভিড লেটারম্যান না দ্য ডেইলি শো উইথ জন স্টুয়ার্টঃ দ্য ডেইলি শো উইথ জন স্টুয়ার্ট 

ঘোষ অ্যান্ড কোং না এবং ঋতুপর্ণঃ এবং ঋতুপর্ণ

রোজগেরে গিন্নি না দিদি নং ওয়ানঃ রোজগেরে গিন্নি। আমার অলটাইম ফেভারিট গেম শো। ওই যে বাজারের ফর্দ মনে রাখার খেলাটা হয়, কী শক্ত বাবা।

বুগি উগি না ঝলক দিখলা যাঃ বুগি উগি। আমি একসময় মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখতাম। মায়ের শাসন যে ঢিলে হয়ে এসেছিল এটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

ভিক্রম আউর বেতাল না রাজা আউর র‍্যাঞ্চোঃ রাজা আউর র‍্যাঞ্চো। সিরিয়ালটার একটাই সমস্যা ছিল যে আমি মাঝে মাঝেই গুলিয়ে ফেলতাম কে রাজা আর কে র‍্যাঞ্চো।

মিলে সুর মেরা তুমহারা না মা তুঝে সেলামঃ মিলে সুর মেরা তুমহারা। যতবার দেখাত রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করে থাকতাম।  হাতির পিঠের মাহুতের গাওয়া শেষ হলেই একটা দিগন্ত ছোঁয়া নদীতে স্লো মোশনে দাঁড় বাইবে একজন রোগা মাঝি। তারপরেই রবীন্দ্রসদন স্টেশনে রাজার মতো এনট্রি নেবে বাঙালির সাত রাজার ধন মেট্রোরেল। রেলের দরজা খুলে একে একে নামবেন অমলাশঙ্কর, সুচিত্রা মিত্র, পরিতোষ সেন, ওই যে সুনীল! আনন্দশঙ্কর, এই রে ইনি যেন কে? এই তো অরুণলাল, ডালমিয়া, পি কে ব্যানার্জি...

*****

এই গানটার কথা মনে পড়ে সব কী রকম সব গুলিয়ে গেল জানেন। পর পর তিনবার ইউটিউবে শুনলাম আর গলার কাছটা কী রকম ব্যথাব্যথা আর চোখটা স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেল। বলা নেই কওয়া নেই। সাধে কি আমার নস্ট্যালজিয়া জঘন্য লাগে।

And This Is The Key To Understanding The World





রাজকাহিনী


‘যখন ছোট ছিলাম’ আমার অসম্ভব প্রিয় লেখা। এত প্রিয় যে আমি লেখাটার অসংখ্য লাইন, এমনকি ছোট সাইজের আস্ত প্যারাগ্রাফও মুখস্থ বলতে পারি। লেখাটা শেষ কবে পড়েছি মনে না থাকা সত্ত্বেও। কিন্তু গোটা লেখার মধ্যে আমাকে সবথেকে ছুঁয়ে যায় শেষের প্যারাগ্রাফের একটা লাইন।

লাইনও বলতে পারেন, ফিলসফিও বলতে পারেন।

সেই লাইনটায় সত্যজিৎ রায় বলছেন যে, যে সব জায়গার সঙ্গে ভালো লাগা স্মৃতি জড়িয়ে থাকে আসল মজা হচ্ছে বসে বসে সেই স্মৃতিগুলোর জাবর কাটায়। সেই সব জায়গায় সশরীরে গিয়ে পড়ে স্মৃতি ফিরে পেতে বা মিলিয়ে নিতে চাইলে বিপদের সম্ভাবনা আছে।

আমি ব্যাপারটাকে সম্পূর্ণ ভাবে, সর্বান্তকরণে সমর্থন করি। না করলে যে কী ভোগান্তি হয় সে বিষয়ে আমার ফার্স্টহ্যান্ড অভিজ্ঞতা আছে। জীবনে একবারই আমি স্কুলের রি-ইউনিয়নে গিয়েছিলাম। গিয়ে একে অপরকে দেখে হুইসিলের মতো তীক্ষ্ণ চিৎকার করে খুশি প্রকাশ করে, কে কী করছে, প্রেম করছে কিনা, করলে বিয়ে কবে করছে এইসব আলাপচারিতা আধঘণ্টার মধ্যে শেষ করে বাকি সময়টা খালি ঘড়ি দেখা আর ভাবা, খাবারটা কখন দেবে। তারপর অ-ব-শে-ষে খাবার এলে প্যাকেট খুলে ঠাণ্ডা চিলি চিকেন আর আধসেদ্ধ আলুনি বিরিয়ানি খেতে খেতে চড়া চাঁদার কথা মনে পড়ে আফসোস আর আফসোসখাওয়ার পর রোগামোটা মহিলাদের কোমরে আঁচল গুঁজে ছোটাছুটি করে মিউজিক্যাল চেয়ার।

প্রাণঘাতী সেই যে কোনমতে প্রাণ হাতে নিয়ে পালিয়েছিলাম আর ওমুখো হইনি। পাগল?

সেইজন্যই যারা “কী সুন্দর পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে খুঁজে বার করা যায়” বলে ফেসবুকের সাফাই গান তাঁদের দেখে আমার বিস্ময় বাধা মানে না। সত্যি সত্যি এত ভালো লাগে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে? তারা আপনার বয়ফ্রেন্ডের থেকে একশোগুণ বড়লোক আর হাজারগুণ ভালো দেখতে পাত্র খুঁজে বিয়ে করেছে সেটা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো অষ্টপ্রহর নিজেকে মনে করাতে? পাটুলির দেড় কামরার ঘুপচি ফ্ল্যাটে বসে বসে পাটায়ার হনিমুনের লাখখানেক ছবি দেখতে?

অবশ্য সবাই তো আমার মতো হিংসুটি আর ছোট মন নন, হয়তো সত্যিই লাগে। আমার যে লাগে না সেটা নিশ্চয় আপনারা সবাই এতক্ষণে বুঝে গেছেন আর ভাবছেন কী বেহায়া মহিলা রে বাবা। নিজের হিংসুটিপনার কথা আবার গলা বাড়িয়ে বলছে।

সে আপনারা আমাকে যা খুশি ভাবতে পারেন কিন্তু আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যা পুরোনো তাকে অতীতে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। স্কুলের বন্ধুদের মুকুটমণিপুরে তোলা ঝাপসা গ্রুপছবিতেই বেস্ট লাগে, পুরোনো প্রেমের কথা নতুন প্রেমিকের সঙ্গে ঝালমুড়ি খেতে খেতে চকিতে মনে পড়লেই সবথেকে বেশি মায়া জাগে, পুরোনো চিঠির বান্ডিল বুককেসের অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে আড়াল থেকে বাড়ির পেছনের জঙ্গলেই সবথেকে বেশি নিরাপদ।

ঠিক তেমনই শৈশবের গরমের ছুটির দুপুর একনিঃশ্বাসে কাবার করা বইকেও বড় বয়সে ফিরিয়ে আনা উচিত নয়। রুশদেশের উপকথা পড়ে এ কথা প্রথম মনে হয়েছিল, নীহাররঞ্জনের কিরীটী সে মনে হওয়ায় জোরে জোরে হাওয়া দিয়েছিল। রাজকাহিনী সন্দেহের শেষ আগাছাটুকুও উপড়ে ফেলল।

রাজকাহিনী বলতেই এতদিন আমার আবছা আবছা মনে পড়ত রাজারাজড়া, শিলাদিত্য বাপ্পাদিত্য, বিরাট বিরাট পাথরের কেল্লা আর পূর্ণিমার আলোয় ভেসে যাওয়া কেল্লার ছাদের ছবির মতো বর্ণনা। বহুদিন পর বইটা হাতে আসায় কী খুশি হয়েছিলাম জানেন। ছোট্ট নতুন বইটা যাতে কোণা দুমড়ে, পাতা মুচড়ে পুরোনো না যায় সেই ভয়ে যত্ন করে প্লাস্টিকে মুড়ে ব্যাগে পুরে অফিসে নিয়ে গেলাম। সলিটেয়ার না খেলে, ইউটিউব না দেখে, এমনকি অবান্তর পর্যন্ত না লিখে ঘাড় গুঁজে শেষ করলাম।

কিন্ত কোথায় সেই বীর রাজা আর নির্ভীক রাণী আর একনিষ্ঠ মন্ত্রীসান্ত্রীরা, কোথায় চিতোরের বনে বনে ঘুরে হরিণ মারা অকুতোভয় রাজপুত্রের দল, কোথায় কী। আমার শৈশবের নিষ্পাপ মন আর ভালোমন্দ, উচিত-অনুচিতের ধার না ধারা, নন-জাজমেন্টাল দৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তারাও কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। পাতার পর পাতা উল্টে গেলাম---সিংহাসনলোভী, ভ্রাতৃহন্তা, অরণ্যচারী ভীলদের রাজত্ব ছলেবলেকৌশলে কেড়ে নিয়ে বনের পশুর মতো নির্বিচারে তাদের গ্রাম-কে-গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করা, অশিক্ষিত দর্পী একদল রাজার বংশানুক্রমিক অত্যাচারের লীলাখেলার বেশি আর কিছুই চোখে পড়ল না। হ্যাঁ চাঁদনিরাতের রুদ্ধশ্বাস বর্ণনা ক্কচিৎকদাচিৎ আছে বটে কিন্তু বাকি পাতাগুলোর রক্তলীলা আর ষড়যন্ত্রের বিষকটাহে পড়ে তারা বুদবুদের মতো নিমেষে মিলিয়ে গেল, মনের ভেতর দাগই কাটতে পারল না।

সত্যি বলছি, শেষ পাতায় বীর পৃথ্বীরাজ---যিনি রাজত্ব দখলের জন্য বড়দা রানা সঙ্গের একটা চোখ তলোয়ার দিয়ে খুঁচিয়ে কানা করে দিয়েছিলেন, আর আরেক ভাই জয়মল আর খুড়ো সুরজমলকে ঠেঙিয়ে রাজ্যছাড়া করেছিলেন---যখন খবর পেলেন যে রানা সঙ্গ মরেননি, রাজ্যের বাইরে ঘাপটি মেরে বসে একটি দুটি করে অনুচর প্রজা জোটাচ্ছেন; খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সে কাঁটা নির্মূল করার জন্য যুদ্ধযাত্রা করলেন; কিন্তু ভগ্নিপতির দেওয়া সেঁকোবিষ মাখানো লাড্ডু খেয়ে মাঝপথে ঘোড়ার পিঠে বসেই যখন তাঁর প্রাণ বেরোলো, তখন করুণরসের থেকেও “বাঁচা গেল, হাড় জুড়োলো” গোছের অনুভূতিই আমার মনে বেশি জেগেছিল।

আর রাণী রাজকন্যাদের কথা তো যত কম বলা যায় ততই ভালো। আজকালকার সমাজে ফেমিনিজমের বাড়বাড়ন্ত দেখে আপনার গা জ্বলে যেতে পারে কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজপুত রাণীমা আর রাজদুহিতাদের, বর, ছেলে আর ভাইয়ের জন্য প্রাণ দিতে দেখে; ভীলকুমারীদের বনে শিকার করতে আসা রাজপুত রানাদের পুত্রসন্তানের জননী হতে দেখে; তারপর প্রমাণ হিসেবে রাজার দেওয়া একটিমাত্র অঙ্গুরীয় নিয়ে কোলের ছেলেকে রাজসিংহাসনের ভাগ দিতে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে দেখেও যদি আপনার মনের ভেতর কোথাও অস্বস্তি না হয়; তাহলে আপনি ভগবান। সবের ওপর শাকের আঁটির মতো সতীদাহ তো আছেই। কেল্লার বাইরে রানারা যখন মোগলপাঠানদের কাছে হেরে ভূত হতেন (যেটা এমন কিছু বিরল ব্যাপারও ছিল না, এক দুই প্রজন্ম পরপরই নিয়ম করে ঘটত) তখন রাজপুত কুলগরিমা রক্ষার দায় কেমন আপসে কেল্লার ভেতরে রাণীদের ঘাড়েই এসে পড়ত, আর তাঁরা কী রকম দলে দলে বিমুগ্ধ প্রজাদের সমবেত “জয় মহাসতীর জয়” চিৎকারের মধ্যে দিয়ে হাসিমুখে হেঁটে হেঁটে জ্বলন্ত চিতায় ঢুকে যেতেন; সেই সব জায়গাগুলো পড়ে সত্যি বলছি আমার হাত পা পেটের মধ্যে সেঁধিয়ে যাচ্ছিল।            

রাজকাহিনী পড়ে একটাই উপকার হল জানেন। আমার অনেকদিনের পুরোনো সেই রিয়েলাইজেশনটা নতুন করে আবার হল। এ জন্মে যদি ছিটেফোঁটা পুণ্যও জমে ভগবান, আশীর্বাদ কোর পরের সাতজন্ম ধরে যেন মধ্যবিত্ত বাবামায়ের ছাপোষা ঘরে জন্ম নিয়ে, দুলে দুলে পড়া মুখস্থ করে, কোনমতে চারটি পাশ দিয়ে, চাকরি জুটিয়ে, নিজে হাতে দুপয়সা কামাতে পারি।

রাজরাণী? যেন প্রাণ থাকতে না হতে হয়।

November 28, 2012

Only 5%



ইলাসট্রেটরঃ Christopher Niemann


November 27, 2012

শপথ #৪-যেটুকু না হলেই নয়


কী থেকে যে কী হয় বলা শক্ত। এই যেমন আজ যে চার নম্বর শপথের কথাটা বলতে যাচ্ছি, সেটা কালকের আগে পর্যন্ত আমার মাথাতেই ছিল না। একেবারেই ছিল না বলাটা ভুল হবে, দোকান থেকে অকারণ শপিংটপিং করে ফেরার পর, কিংবা পার্সেলে পোরা নতুন বই ডেলিভারি এলে বিষয়টা ভাবাত, কিন্তু ওই পর্যন্তই। সেটা যে নিজেই একখানা গোটা রেসলিউশন হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে সেটা আমি সত্যি বলছি বুঝতেই পারিনি।

ক্যামেরা কিনে আনার পর বুঝে গেলাম। হাড়ে হাড়ে। গর্বিত মুখে এ কাঁধে ক্যামেরার ব্যাগ ও কাঁধে ট্রাইপড ঝুলিয়ে বিশ্বজয়ীর মতো গটগটিয়ে ঘরে ঢুকে দেখি...

আমার বাড়িতে ক্যামেরাটা রাখার জায়গা নেই।

সিরিয়াসলি। অন গড ফাদার মাদার।

আহা নেই মানে কি একেবারে নেইইইইই? বান্টির মতো করে রাখলে অফ কোর্স আছে। দরজায় দাঁড়িয়ে হাতের ম্যাগাজিন, মাথার টুপি, পিঠের ব্যাগ, পায়ের জুতো---হরির লুটের মতো চারদিকে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলাটাকে যদি আপনি রাখা বলেন তাহলে আমার বাড়িতে এখনও গড়ের মাঠের সমান জায়গা আছে। কিন্তু আমার মা যেটাকে রাখা বলেন---পেনটা পেনদানিতে, বইটা বুককেসে, জামাটা হ্যাঙারে, হ্যাঙারটা কাবার্ডে, জুতোটা বাক্সে---তাহলে আমার বাড়িতে কুটোটি রাখারও জায়গা নেই।

২০১৩র রেসলিউশনের লিস্টে আমার চার নম্বর আইটেম হচ্ছে, বাড়িতে কাজের জিনিসের জন্য জায়গা বার করা। আর এই রেসলিউশনের করোলারি হচ্ছে, বাড়ি থেকে অকাজের জিনিস টান মেরে বিদায় করা।

অন্যান্য রেসলিউশনের থেকে এই রেসলিউশনটা অপেক্ষাকৃত সোজা কারণ আমার বাড়িতে অকাজের জিনিস বেশি নেই। টুংটাং উইন্ডচাইম, কারুকার্যময় কাগজের লণ্ঠন, DYI বিডসের পর্দা, ছোট বড় গণেশমামার কালেকশন, বিষণ্ণ বুদ্ধমূর্তি, মূর্তির সামনে অ্যাঁকাবেঁকা হ্যান্ডমেড মৃৎপ্রদীপ, প্রদীপের পাশে টেরাকোটার ফুলদানিতে ফ্রেশ ফ্লাওয়ারস---কিস্যু না। যাঁদের বাড়িতে এসব থাকে তাঁদের আমি ভয়ানক শ্রদ্ধা করি। আমার তো খাটবিছানা টেবিলচেয়ার থেকে ধুলো ঝেড়ে রাখতেই দিন কাবার হয়ে যায়, এর ওপর ভিন্টেজ হ্যারিকেনের ধুলো ঝাড়তে হলেই হয়েছিল আরকি।

এসব নেই বটে, কিন্তু তা বলে আমার বাড়িতে অকাজের জিনিস একেবারে নেইও বলা যাবে না। বরং বলা যেতে পারে অকাজের জিনিসের চরিত্রটা একটু ভিন্ন। ইন ফ্যাক্ট একদিক থেকে দেখলে জিনিসগুলো ভয়ানক কাজের। যেমন ধরুন ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের রিসিটআপনি কী করেন? গোল্লা পাকিয়ে ডাস্টবিনে টিপ করে ছুঁড়ে ফেলে দেন? আমি প্রাণে ধরে ফেলতে পারিনা। ফেলতে গেলেই মনে পড়ে বাজারের ফর্দ লেখার জন্য রিসিটগুলো একেবারে পারফেক্ট সাইজের। তখন আমি ওগুলো যত্ন করে ভাঁজ করে ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রাখিআর এই যে ছবিতে একগাদা পেন দেখছেন, একবার সময় করে রিফিল ভরে উঠতে পারলে ওরাও ভয়ঙ্কর কাজের জিনিস। পেনগুলোর ঠিক ডানপাশ ঘেঁষে একটা হলদে রঙের টর্চ আছে যেটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না, ওটারও একই গল্প। বছরখানেক ধরে ব্যাটারি ভরব ভরব করেও ভরা হচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে কি জিনিসটা ফ্যালনা, বলুন?



কিছুই যে ফ্যালনা নয়, নিজের মনকে এই ঠুলি পরাতে পরাতে আমার বাড়িটা ক্রমশ একটা গুদামখানায় পরিণত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ জিনিস আমি যক্ষের মতো বুকে আগলে ধরে বসে আছি, পাছে কখনও কাজে লাগে এই আশায়। এই আশায় আশায় আমার বাড়িতে পিৎজা ডেলিভারির সঙ্গে আসা ন্যাপকিনের পাহাড় জমেছে, ব্যাগের ভেতর রিফিল ছাড়া পেন আর বাতিল হওয়া ফ্ল্যাশ ড্রাইভের গন্ধমাদন উঁচু হয়ে উঠেছে।

এরকমটা যে হবে সেটা আন্দাজ করা অ্যাকচুয়ালি কঠিন ছিল না। ডি এন এ-র প্যাঁচে প্যাঁচে
এ রোগের অমোঘ পূর্বাভাষ স্পষ্ট লেখা ছিল। কিন্তু বাবা হোর্ডার বলেই যে আমাকে হোর্ডার হতে হবে তার তো কোনও মানে নেই। কই বাবার মতো ভালো টেবিল টেনিস তো খেলতে পারিনি কিংবা আনকোরা শহরে পা দেওয়ার একবেলার মধ্যে হোটেলের এক মাইলের ব্যাসার্ধের ভেতরের অলিগলির ব্লু প্রিন্ট মাথার ভেতর অবিকল তুলে আনার কেরামতিও দেখাতে পারিনি।

গুণের ভাগ যদি নাই পাই তাহলে দোষের ভাগটা বাবামায়ের ঘাড়ে অম্লানবদনে চাপাই কী করে বলুন তো?

কাজেই নতুন বছরে জঞ্জাল সাফাই আমার ব্রত। যে সব অকারণ অর্থহীন বোঝা জমেছে টেবিলের ওপর, ব্যাগের ভাঁজে আর আলমারির খাঁজে, সে সব সরিয়ে হালকা আমাকে হতেই হবে। কে বলতে পারে, হয়ত বাইরের হাতে ধরা, চোখে দেখা জঞ্জাল সরাতে সরাতেই মাথার ভেতরের অদৃশ্য আবর্জনাগুলোও একে একে সাফ হয়ে যাবে? তখন কী ভালোটাই না হবে বলুন দেখি।

November 26, 2012

সাধু সাবধান



এ সপ্তাহে সাপ্তাহিকী কেন ছাপা হয়নি সেটা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না? যদিও মডেলটডেল সব আগে থেকেই ঠিক করা ছিল তবুও পায়ে জুতো গলানোর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কনসাল্ট চলল। পুরো দোষটা নিজের ঘাড়ে চাপাতে পারতাম কিন্তু চাপাচ্ছি না। ক্যামেরা কোম্পানি একখানা মডেল বার করেছে কি করেনি, লাখে লাখে লোক তার রিভিউ লিখতে লেগে গেছে। স্যাম্পল ভিডিও, স্যাম্পল অডিও, সব তুলে তুলে ইউটিউবে আপলোড করেছে। সে স্যাম্পলের ভুলভুলাইয়ায় পড়ে প্রাণ বেরোয় আর কি।

যাই হোক, রিসার্চের কানাগলি থেকে বেরিয়ে অবশেষে আউটপুটের ফল ফলেছে। আমি এখন একখানা ডি এস এল আর-এর জলজ্যান্ত মালিক। ফাইন্যালি। তার ওপর এক ধাক্কায় অনেকটা পয়সা খরচ হলে যা হয়, বেশ খুশি খুশি লাগছে জানেন। একে হালকা পকেট তায় আনকোরা একখানা খেলনা। আপাতত মহা ফুর্তিতে আছি।

আপনারা যারা ক্যামেরা কেনো কেনো বলে আমার উৎসাহে তা দিচ্ছিলেন আর যারা উৎসাহ দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের সবার উদ্দেশ্যে আমার একটাই কথা বলার আছে। যে গরুর বাঁধন আপনারা নিজে হাতে দায়িত্ব নিয়ে খুলেছেন, এবার সে গরুর গুঁতো সামলানোর দায়িত্বও আপনাদেরই। অলরেডি আমার ফোল্ডারে খানসত্তর ছবি আর চারখানা ভিডিও জমেছে। যদি ভেবে থাকেন তার সবগুলো আমি খালি ঘরে একাবোকা বসে বসে দেখব আর মোহিত হব, তাহলে আপনারা আমাকে কিছুই চেনেননি। সে সবের কিছু নমুনা আপনাদের কপালেও নাচছে। সাবধান হন।

কী ঘটতে চলেছে তার একটা স্যাম্পল এখনই দেখিয়ে দিই। এই দেখুন ওপরের ছবিটার আরেকটা ভার্সান। ওটা কী রকম বোরিং মার্কা লাগছিল তাই আমি বুদ্ধি খাটিয়ে কনুইটা একটুখানি তুলে আরেকটা ছবি তুললাম। এই বার ছবিটা আমার বেশ পছন্দ হচ্ছে। আপনাদের?




November 23, 2012

আমার থ্যাংকসগিভিং



ঠিক দুক্কুরবেলা যখন অফিসে বসে বসে পেটমোটা টার্কি আর লেইমার্কা আলুসেদ্ধর ছবির পর ছবি দেখতে দেখতে সেকেন্ড হ্যান্ড কার্বোহাইড্রেট ওভারডোসে চিবুক প্রায় বুকে নেমে এসেছে তক্ষুনি ব্রেনওয়েভটা খেলল। আমাকে এবছর কেউ থ্যাংকস দিতে ডাকেনি---সে ডাকেনি বাঁচা গেছে, অন্য লোকের মুখ দেখলেই রাগ ধরে যায় আমার আজকাল---কাজেই আমার সন্ধ্যেটা ভূতুড়ে বাড়ির মতো খাঁ খাঁ খালি পড়েছিল। চরিত্রে অতৃপ্তি থাকলে যা হয়, সেটাও আবার আমার পছন্দ হচ্ছিল না। নিজের ওপর কেমন মায়া মায়া হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল কেন আমারই পছন্দসই কোনও বন্ধু নেই, কেন আমারই একাবোকা থাকতে হয়, কেন আমাকেই হাত পুড়িয়ে রোজ রাতে ম্যাগি খেতে হয়।

যদিও তপ্ত, ধোঁয়া ওঠা, অল্প ঝোল ঝোল ম্যাগি খেতে আমার দুর্দান্ত লাগে এবং ভালোবাসার জিনিসটা আরাম করে খাওয়ার সময় যে আশপাশ থেকে একগাদা লোক “এটা দাও, সেটা দাও, এই চ্যানেলটা বিশ্রী ওই চ্যানেলটা ঘোরাও” ঘ্যানঘেনিয়ে হাড় জ্বালায় না, সে জন্য আমি রোজ আমার কপালকে থ্যাংকস দিই। তবুও।

আসলে তো ব্যাপারটা একাদোকার নয়, ব্যাপারটা হল হরমোনের। যখন মগজে সেরোটোনিনের সাপ্লাইয়ে টান পড়ে তখন সব সুখই অসুখ মনে হয়। তখন বিশ্বচরাচর তোমার শত্রু, তুমি একা ভিকটিম। তখন কেবল সিলিঙের দিকে মুখ তুলে খুঁৎখুঁতিয়ে কেঁদে কেঁদে বলতে ইচ্ছে করে, “কেন আমার সঙ্গেই এসব হয় ভগবান, কেন কেন কেন?”

সে এক ভয়ানক ব্যাপার।

জল সেদিকেই গড়াচ্ছে দেখে আমি তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি নিজের হাতে নিলাম। তেড়েফুঁড়ে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করার পরে মোটে চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তবুও দিনের মতো কাজকর্ম সরিয়ে রাখতে হল। ফাইলটাইল সরিয়ে ডেস্কের ওপর জায়গা করে খাতা পেনসিল নিয়ে বসলাম। আমার নিজস্ব থ্যাংকসগিভিং পার্টির আয়োজন করতে।

আমার বস্‌, আজ নয়, কাল নয়, রোজ রোজই আমি দিবস।

নিজের জন্য পার্টি আয়োজন করার সুবিধাও আছে, অসুবিধাও আছে বিস্তর। প্রথম অসুবিধা হচ্ছে মেনু ঠিক করা। বাইরের লোককে নেমন্তন্ন করলে তো জনে জনে ফোন তুলে জিজ্ঞাসা করতে হয় না, “ওগো আপনারা কী খাবেন গো, হ্যাঁগো আপনাদের কারও কি ধনেপাতা খেলে সাবান খাচ্ছি মনে হয় গো, আচ্ছা আপনারা কি কেউ সন্তোষী মা করছেন বলে শুক্কুরবারে নিরামিষ খাচ্ছেন, নাকি রেটে মুটোচ্ছেন বলে প্যালিও ধরেছেন?” তখন কেবল এক হাঁড়ি যেমনতেমন বিরিয়ানি আর এক গঙ্গা পাঁঠার ঝোল রেঁধে দিয়েই খালাস। শেষ পাতে ফ্রিজার খুলে যে যত চাও কেসর পিস্তা। খেলে ভালো, না খেলে আরও ভালো। লেফটওভার দিয়ে সারা সপ্তাহের টিফিনের ব্যবস্থা পাকা।

নিজের মনের সঙ্গে এত সোজাসাপটা হওয়া যায় না। কী খাবে জিজ্ঞাসা করলে সে খানিকক্ষণ পেনসিল চিবোয়, এদিক ওদিক তাকিয়ে মাথা চুলকোয়, যেন সিঁড়িভাঙ্গা সরল অঙ্ক কষতে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগ্রহণে সাহায্য করার জন্য আপনি যদি বলেন, “চাইনিজ কেমন হবে?” অমনি চেঁচিয়ে ওঠে, “সেকি কালকেই চিলি গারলিক নুডলস অর্ডার করা হয়েছিল তো! এরই মধ্যে ভুলে গেলে নাকি!”

“তাহলে পিৎজা? উইথ এক্সট্রা হ্যালেপিনো?” ছোট বাচ্চাকে লোভ দেখানোর মতো আপনি বলবেন।

জবাবে মন শুধু একবার ঠোঁট ছ্যাতরাবে।

“তাহলে ইথিওপিয়ান মাংসের ঝোল? মালয়েশিয়ান মোগলাই পরোটা? লেবানিজ শিক কাবাব?”

উদাস চোখে মন চুপ করে থাকবে। আলতো একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলবে, “বলে দাও কিছু একটা, আমার তো সবেতেই চলে যায়।”

আমার সব সহ্য হয়, এই শহিদ-শহিদ হাবভাবটা ছাড়া। আমি দড়াম করে খাতা বন্ধ করে দিয়ে বললাম, “অলরাইট। আজ রাতে আমি নিজেই রান্না করব। গরম ভাত, দই দিয়ে মুরগির ঝোল আর ঘি কিশমিশ দিয়ে সুজির পায়েস।”

মন লাফিয়ে উঠে বলল, “আমিও হেল্প করব প্লিইইইইজ, কী মজা কী মজা...”

হয়ে গেল প্ল্যানিং। অফিস থেকে ফেরার পথে দরকারি জিনিসপত্র কিনে নিয়ে এলাম। বেশি কিছু কেনার ছিল না, কেবল কিশমিশ, ফুল ফ্যাট দুধ আর দই ছাড়া। আপনাদের এই বেলা বলে রাখি, আগেভাগে না বলে হঠাৎ এসে পড়লে কিশমিশ-টিশমিশ আমার বাড়িতে পাবেন না। চানাচুর ভুজিয়াও না। ও সবের যত বড় প্যাকেটই কিনি না কেন, একদিনে শেষ হয়ে যায়। দইটাও না কিনলে হত, কিন্তু ফ্রিজের ভেতরের দইটার এক্সপায়ারি ডেট নিয়ে কনফিডেন্স পেলাম না। দুধও বাড়িতে ছিল, কিন্তু টু পার্সেন্ট। থ্যাংকসগিভিং-এর সন্ধ্যায় ফ্যাকাশে পায়েস খেতে মন চাইল না।

তারপর আর কী, বাড়ি এসে মাংসটা দইটই দিয়ে মেখে ম্যারিনেট করতে বসিয়ে দিলাম। ভালো করে এক কাপ চা বানিয়ে তাতে চুমুক দিতে দিতে উনুনে দুধ চাপালাম। হাফ সসপ্যান দুধ, ধৈর্য ধরে নাড়তে নাড়তে সিকি সসপ্যান হল। রং ফিকে সাদা থেকে ফিকে ঘিয়ে হল, সসপ্যানের গায়ে সরের পাতলা স্তর জমল। হাত বলল, অনেক হয়েছে এবার থামো; মন বলল, না না আরেকটু হোক। শেষপর্যন্ত হাত যখন একেবারে বেঁকে বসল, তখন কড়াইয়ে একখাবলা ঝর্ণা ঘি দিয়ে আমি সুজি আর কিশমিশ ঢেলে দিলাম। আবার নাড়ো নাড়ো নাড়ো, যতক্ষণ না ঘিয়ে ভাজা সুজির গন্ধ নাকে ঝাপটা মারে। তারপর গরম দুধ সাবধানে ঢেলে দাও সুজির ওপর। গরম ধোঁয়া পাকিয়ে উঠে চশমার কাঁচ আবছা করে দিল, আঙুলের নখের ভেতর ঢুকে নরম চামড়া পুড়িয়েই দিল প্রায়, মন লাফিয়ে উঠে হাততালি দিয়ে বলল, “দারুণ হবে মনে হচ্ছে, কী বল?” তারপর সেই ফুটন্ত সাদা লাভায় গুনে গুনে চার চামচ চিনি দিয়ে নেড়ে, আগে থেকে থেঁতো করে রাখা এলাচের গুঁড়ো ছড়িয়ে আমি গ্যাস বন্ধ করে দিলাম।

ওয়ান আইটেম ডাউন। ইন ফ্যাক্ট সবথেকে ঝামেলার আইটেমটাই।

লোকে যাই বলুক না কেন, মাছমাংস রান্নায় কোনও কেরামতি নেই। ওর থেকে দুধ জ্বাল দেওয়াও শক্ত। সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকো, সে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে পারি না মুখ করে দুধ ঘাপটি মেরে বসে থাকবে। কোথাও কোনও চাঞ্চল্য নেই, একটি বুদবুদও না। কিন্তু তাকে ছেড়ে একটি সেকেন্ডের জন্য অন্য ঘরে যান, জল খেতে বা চুল আঁচড়াতে, অমনি দুধ উথলে পড়ে সারা রান্নাঘর একাকার।

এই দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে এতবার ঘটেছে যে আমি আজকাল দুধ বসিয়ে গ্যাসের সামনেই তাঁবু খাটিয়ে বসে পড়ি। কতক্ষণে হবি হ’। আমার কোনও তাড়া নেই।

যাই হোক এত কথার পেছনে আসল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে এইটা বলা যে মাংসটা বিনা ঝামেলায় হয়ে গেল। আমি মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে খুন্তি খেলালাম, খোঁচা মেরে আলু নরম হয়েছে কিনা দেখলাম, নুনঝাল চাখলাম---ব্যস হয়ে গেল রান্না।

তারপর প্রেশারকুকারের ভাতে দুটো সিটি মারতে আর কতক্ষণ।

এই ছিল আমার থ্যাংকসগিভিং। খুব ভালো কেটেছে জানেন। আমি আর আমার বাঁদর মন, দুজনে মিলে একটা সন্ধ্যে নিরিবিলিতে দারুণ আনন্দে কাটিয়েছি। মাঝখানে বান্টি একবার ফোন করে সাতকাহন করে কার বাড়িতে শুকনো টার্কি চিবিয়ে থ্যাংকসগিভিং উদযাপন করছে সে গল্প দিতে এসেছিল, আমি "ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব" বলে ফোন কেটে দিয়েছি। ভালো করেছি না?

November 21, 2012

ঘুঘু তো দেখেছেন; পায়রাও দেখেছেন কী?


আমি মথ আর প্রজাপতির তফাতটা জানতাম। প্রজাপতির পাখা সুন্দর, তাই সে সেটা কাউকে দেখাতে চায় না, মুড়ে বসে। মথের পাতার অত বাহার নেই, তাই তার অত রেখেঢেকে বসার বালাইও নেই। ঘুঘু আর পায়রা দেখেও একটাকে আরেকটার থেকে আলাদা করতে পারব। কিন্তু কেন্নোর প্রকারভেদ নিয়ে আমার কোনও জ্ঞানই নেই। কাছ থেকে ভালো করে দেখিনি বলেই বোধহয়। কেন্নোকে বসে বসে পরীক্ষা করার থেকে রে রে করে পোস্টকার্ড নিয়ে তেড়ে গিয়ে তাকে তুলে জানালার বাইরে ফেলাতেই আমার বেশি উৎসাহ ছিল।

আপনারা জানতেন এ সব? না জানলে নিচের চার্টটা দেখে রাখুন, কাজে দেবে। জানলেও আবার দেখুন, রংচঙে ছবি দেখতে খারাপ লাগবে না।


শপথ # ৩-থোড়া ফাইটওয়া করো জী



তিন নম্বর শপথের কথাটা লিখতে একদিন দেরি হয়ে গেল। ঠিকই আছে, কারণ তিন নম্বর শপথটাও একদিক থেকে দেখতে গেলে দেরি নিয়েই।

ইদানীং আমার সময়টা বিশেষ ভালো যাচ্ছে না। শরীরগতিক ঠিকই আছে, মনেরও খারাপ থাকার কোনও কারণ ঘটেনি, তবুও খারাপ আছি। আড্ডায় বসে হঠাৎ হঠাৎ চুপ মেরে যাচ্ছি, অফিসের জানালা দিয়ে বাইরে আকাশের দিকে তাকিয়ে শূন্যতায় চোখ আটকে যাচ্ছে, সবথেকে অবিশ্বাস্য যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে অবান্তরেও আমার আর মন বসছে না। রোজ এসে একবার করে চোখ বোলাচ্ছি, কী লেখা যায় ভাবছি, নেটে ঘুরে ঘুরে চোরাই মাল খুঁজছি, কিন্তু সবই ওপর ওপর। ভাসা ভাসা।

কেন বলুন দেখি?

গ্রহনক্ষত্রের ঘাড়ে দায়টা চাপাতে পারতাম কিন্তু পারছি না। কারণ আমি জানি আমার কী হয়েছে। কাজের অভাব। মানে কাজ আছে যথেষ্টই কিন্তু কাজের ইচ্ছে অন্তর্হিত হয়েছে। দুপাশ দিয়ে ল্যাম্পপোস্টের মতো হুশ হুশ করে ডেডলাইন বেরিয়ে যাচ্ছে, আমি জানালায় বসে বসে অম্লানবদনে দেখছি আর হাওয়া খাচ্ছি।

চরম ফাঁকিবাজির মহামারী লেগেছে আমার জীবনে।

অনেক সেলফ হেল্প গুরুরা শুনেছি বলেন, প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর একটা উপায় হচ্ছে কম কাজ করা। টু ডু লিস্টে কাজ যত কম, কাজ না হওয়ার সম্ভাবনাও ততই কম। যুক্তি আছে। কিন্তু যুক্তি দিয়ে কেই বা কবে বড়লোক হয়েছে? আমার আগাপাশতলা অযৌক্তিক জীবনে আমি এ নিয়মের ব্যত্যয়ই বেশি দেখেছি। পরীক্ষার মাঝে ছুটি যত বেশি, পড়া তত কম। জানালার পাশে ফাঁকা সিট যত বেশি, গা এলিয়ে বসে হাওয়া খাওয়ার শান্তি তত কম। কে জানে ওপাশের জানালাটার ভিউ বেটার কিনা। ছুটি যত বেশি, ছুটির মজা তত কম। স্বাধীনতা যত অগাধ, স্বাধীনতার স্বাদ তত বিস্বাদ।  

ডিমিনিশিং মার্জিন্যাল ইউটিলিটি। সেই কবেকার থিওরি, এখনও সমান কাজের।

যাই হোক। থিওরি-টিওরি থাক। প্র্যাকটিকাল জীবনের সমস্যা শত থিওরি দিয়েও সমাধান করা যায় না। তার জন্য চাই স্ট্র্যাটেজি আর স্ট্র্যাটেজির সফল প্রয়োগ। আর স্ট্র্যাটেজি ফাঁদতে চাই মগজ। একটার জায়গায় দুটো হলে ভালো।

ফোন তুলে বান্টিকে বললাম, “ইউটিউব, সলিটেয়ার, দিবাস্বপ্ন---যা করেই সময় নষ্ট করছিস না কেন, সব ফেলে রেখে চলে আয় এক্ষুনি। আভি। ইসি ওয়ক্ত। নয়তো দেখবি মজা।”

বান্টি এসে সব শুনেটুনে বলল, “দেখো কুন্তলাদি, সব সমস্যাটার মতো তোমার সমস্যাটারও দুটো সমাধান আছে।”

“কী কী?”

“প্রথম উপায়টা হচ্ছে লাইফ থেকে এক্সপেক্টেশন কমিয়ে দেওয়া। এক্সপেক্টেশন থাকলেই তার পেছনে কাঠখড় পোড়াতে হবে, পোড়াতে গেলেই খাটতে হবে, খাটতে গেলেই ইউটিউব দেখতে ইচ্ছে করবে, ইউটিউব দেখলেই কাঠখড় পোড়ানো হবে না, অপরাধবোধ হবে, এক্সপেক্টেশন অপূর্ণ থাকবে, তাতে মন খারাপ হবে, ডিপ্রেশন আসবে, ডিপ্রেশনে আরও ইউটিউব, আরও কাজ কম, আরও অপরাধবোধ...”

আমি লাফিয়ে উঠে বললাম, “এক্স্যাক্টলি! আমার তো এক্স্যাক্টলি এটাই হয়!”

বান্টি স্মাগ লুক দিয়ে বলল, “হতেই হবে। আমার সব জানা আছে। এক্সপেক্টেশন না থাকলে সমস্যাও নেই। বাংলার অ্যাগাথা ক্রিস্টি হওয়ার দায়টাই যদি না থাকে তোমার তাহলে তো উপন্যাস লেখারও দায় থাকবে না, লেখা হচ্ছে না বলে গিল্টের আগুনে ভাজা ভাজা হওয়াও থাকবে না। সিম্পল।”

আমি গোঁজ হয়ে থাকি। এই সমাধানটা মনে ধরে না আমার। এক্সপেক্টেশনহীন জীবন কেমন হবে, হলেও পাতে দেওয়ার মতো হবে কি না, কল্পনাই করে উঠতে পারি না। লেখক হওয়ার সাধ কি আমার আজকের? সেই ক্লাস থ্রি-র বাংলা ক্লাসে “বড় হয়ে কী হতে চাও” রচনায় ধ্যাবড়া হাতের লেখায় যত্ন করে “লেখিকা” লিখেছিলাম, সে চাওয়ার সুতো কেটে আকাশে উড়িয়ে দাও বললেই কি দেওয়া যায়? 

আপনারাই বলুন?

বান্টি পা নাচাতে নাচাতে আমার মুখের ভাবভঙ্গি লক্ষ করে। বলে, “এটা পছন্দ না হলে আরেকটাও উপায় আছে অবশ্য।”

“কী?” আমি অনেক চেষ্টা করেও গলায় উৎসাহ ফোটাতে পারি না।

“স্বপ্নের ঘাড় ধরে, টুঁটি টিপে, বাস্তবের ঘোল খাইয়ে নেওয়া। হবে না বললেই হল? তুমি তো আর অ্যান্টার্কটিকা যেতে চাইছ না যে ফিটনেসে আটকে যাবে, কিংবা সিনেমার হিরোইনও হতে চাইছ না যে চেহারায় কুলোবে না।”

বান্টির স্পষ্টভাষে অভিভূত হয়ে আমি সজোরে ঘাড় নাড়ি।

“বিশ্বাস কর চাইছি না। উপন্যাসও যদি না হয় না হোক। আমি চাই শুধু রোজকার কাজগুলো ঠিক করে করতে, ডেডলাইন মেটাতে, রোজ রাতে মাথার ভেতর একগাদা দুশ্চিন্তা আর ঘাড়ের কাছে টানটান নার্ভের জট নিয়ে না ঘুমোতে যেতে।”

বান্টি হাত ঝেড়ে উঠে পড়ে।

“হয়ে যাবে, নো চিন্তা ডু ফুর্তি। দুটো জিনিস মনে রেখো। এক, আজকের কাজটা আজকেরই কাজ, কালকের নয়। দুই, ফাঁকি দেওয়ার কনসিকোয়েন্স আছে। এক্ষুনি টের পাচ্ছ না। পরে পাবে। পাবেই। মিস করা ডেডলাইনের পাহাড়ে একদিন চাপা পড়ে দমবন্ধ হয়ে মরবে। কাজেই যথেষ্ট ভয় পাও আর লেগে পড়...অবশ্য যদি না এক্সপেক্টেশন গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দিয়ে পায়ের ওপর পা তুলে জীবন কাটানোর ডিসিশন নাও।”

বলে হাওয়া হয়ে যায় বান্টি।

আমি দরজা বন্ধ করে এসে বসে বসে ভাবি। এক্সপেক্টেশন হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়ার সাহস আমার নেই। এত দিনের, এত কষ্টের তিলে তিলে জড়ো করা এক্সপেক্টেশন---শুধু তো আমার নয়, আমার বাবার, মায়ের, পূর্বপুরুষের, প্রতিবেশীর, বন্ধুর---হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেই তো গেল। মা ফলেষু কদাচন গীতার পাতাতেই ভালো লাগে, বাস্তব জগতে কি ওরকম হয় আদৌ, নাকি হওয়ার দরকার আছে? কোথাও কোনও আশা না থাকলে কি রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে কেউ? পেরেছে কি কখনও?

তার থেকে লেগে পড়ে কাজ করার রাস্তাটাই ভালো। কাজ না করার কারণও তো নেই আমার। বুঝদার বস, দয়ালু অ্যাডভাইসর। সকলেই হাসিমুখে হেল্প করার জন্য রেডি হয়ে আছে, কেবল আমার নড়েচড়ে বসবার অপেক্ষা। আর তো আছেই অবান্তর আর আছেন আপনারা, ব্লগোস্ফিয়ারের বেস্ট সেট অফ পাঠকবৃন্দ। কাজের ফাঁকে ফাঁকে দেদার আড্ডা মারার জন্য, মনের কথা বলে হালকা হওয়ার জন্য।

কাজেই আমি ঠিক করেছি কাজ করব। আদা নুন খেয়ে, মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন করে। ২০১৩ থেকে নয়, আজ থেকেই। উচ্চাশাগুলোকে তো ছাড়ছিই না, বরং সেগুলোর আগুনে ঘি ঢালার তোড়জোড় করছি। যাতে তারা দপদপিয়ে জ্বলে উঠে ইউটউব আর সলিটেয়ারের মরণফাঁদ পুড়িয়ে আমাকে বার করে আনতে পারে।

সেদিনের ব্রেনস্টর্মিং-এর পর বান্টি একটা গান পাঠিয়েছে আমায়। গানটা আমারও খুব প্রিয়, তবে আগে এত মন দিয়ে শুনিনি। বিশেষ করে এই চারটে লাইন।

যো ভি রংগওয়া হ্যায় উসে
সেট রাইটওয়া করো জী
নাহি লুজিয়ে জী হোপ
থোড়া ফাইটওয়া করো জী, থোড়া ফাইটওয়া করো জী...

ফাইটওয়া দেওয়াই সাব্যস্ত করলাম। ঠিক করলাম না? 

November 19, 2012

জেনারেল নলেজ কেন নলেজ নয়



উৎস ন্যাশনাল জিওগ্র্যাফিক ওয়েবসাইট

"You can know the name of a bird in all the languages of the world, but when you're finished, you'll know absolutely nothing about the bird . . . So let's look at the bird and see what it's doing-that's what counts. I learned very early the difference between knowing the name of something and knowing something."

                                                                            ---Richard Feynman

November 18, 2012

ছোট্ট একটা পুরোনো খবর


আপনাদের সঙ্গে এত কথা বলি যে কোন কথাটা বলা হয়ে গেছে আর কোন কথাটা হয়নি সেটাই মনে থাকেনা। এই যেমন দেখুন আমার মনে পড়ছে না আমি আপনাদের বলেছি কি না যে আমার একটা নতুন ল্যাপটপ হয়েছে। ইয়েস সার, আমি এখন দু’দুখানা সোনি ভায়ো-র মালিক। একটা ময়লামতো আরেকটা ঝিং চ্যাক নতুন। একটার ওজন বিশ মণ তো আরেকটার সাড়ে উনিশ। একটার কি-বোর্ডের খাঁজে খাঁজে চানাচুর আর বিস্কুটের গুঁড়োর ঢিবি, আরেকটার কি-বোর্ড এখনও ফটফটে ফরসা।

সোনি ছাড়াও অনেক ব্র্যান্ড নেড়েঘেঁটে দেখলাম জানেন, কিন্তু সাড়ে চার বছর একসঙ্গে থাকলে প্রেমিকের ওপর পর্যন্ত মায়া পড়ে, ল্যাপটপ ব্র্যান্ড তো কোন ছার। কিছুতেই সোনি ভায়ো ছাড়া অন্য কিছু কিনতে পারলাম না।

তবু শুধু ভায়ো কিনব ঠিক করেই কি রক্ষা আছে? ওপরের লেখাটাই যা শুধু এক, ভেতরে তো একেবারে হরেকরকমবা ব্যাপার। কেউ Z, কেউ E, কেউ বেসিক তো কেউ প্রিমিয়াম, কারো Core i5 তো কারো Core i7. স্পেসিফিকেশন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে ঘামিয়ে রাতের ঘুম মাটি করছি দেখে বান্টি বলল, “লিখবে তো ওয়ার্ড ফাইল খুলে বাংলা, ওসব খুঁটিনাটি জেনে তোমার লাভ নেই কুন্তলাদি।” কথাটায় যুক্তি আছে। কাজেই আমি আর না ভেবে যা হোক একখানা কিনেই আনলাম।

আপাতত নতুন ল্যাপটপকে নিজের প্রাণের থেকেও বেশি যত্নে রেখেছি। মিনিটে মিনিটে মলমলের টুকরো দিয়ে মুছছি, ফুঁ দিয়ে অদৃশ্য ধুলো ওড়াচ্ছি, আধখানা বিস্কুট খেতে হলেও খাট থেকে নেমে দরজার আড়ালে গিয়ে চুপিচুপি আলতো করে কামড় দিচ্ছি যাতে গুঁড়ো উড়ে গিয়ে কম্পিউটারের গায়ে না পড়ে। আমার পুরোনো ল্যাপটপটা খাটের এককোণে বসে টেরিয়ে টেরিয়ে সব দেখছে। কী ভাবছে কী জানি। হয়তো হিংসেয় জ্বলেপুড়ে মরছে। কিংবা মুচকি হেসে নিজের মনে বলছে, “যেতে দাও না তিনমাস, তারপর দেখব কত থাকে।”

November 17, 2012

সাপ্তাহিকী



কড়া এ.সি. থেকে বেরোনোর পরের পাঁচ মিনিট আমাকে যে রকম দেখতে লাগে।

সে রকম আরও ছবি দেখতে হলে এখানে ক্লিক করুন। 


The true New Yorker secretly believes that people living anywhere else have to be, in some sense, kidding. 
                                                                                               ---John Updike

পরিবর্তনের শুরু?

ফেলে যাওয়া সুটকেস।

আত্মহত্যার প্ল্যান থাকলে এই রাস্তাগুলো ভেবে দেখতে পারেন।

Determination.

সাইকেলে চড়ে বসে প্যাডেলে চাপ দিলেই হল? নিয়মকানুন মানতে হবে না?

এ সপ্তাহে রইল আমার মায়ের প্রিয় সিনেমার প্রিয় গান। শুনে দেখুন তো কেমন লাগে।

আর কী? ভালো হয়ে থাকবেন। ঠাণ্ডা পড়ে গেছে কিন্তু, অকারণ সাহসিকতা দেখাতে গিয়ে মাফলার না পেঁচিয়ে বিছানা নেবেন না। সোমবার দেখা হবে। টা টা।

November 16, 2012

লাইব্রেরি কেন ভালো

পাঁচের পোস্ট


5 Things I Hate 

স্ট্যান্ড আপ কমেডি
হিন্দি ডাবিং-এ ইংরিজি সিনেমা
চিউয়িং গাম
ওপরচালাকি
মাতলামি

5 Things I Strongly Dislike

ফিউশন মার্গসঙ্গীত
মাউন্টেন ডিউ-র বিজ্ঞাপন
সম্বোধন হিসেবে "ব্রো/ডুড"-এর ব্যবহার। বিশেষ করে ভেতো বাঙালিদের মধ্যে।
ট্যালেন্ট হান্ট টিভি শো
নস্ট্যালজিয়া

5 Things I Dislike

ম্যাকাডেমিয়া নাটস
পাশের ঘর থেকে আসা টিভির আওয়াজ
প্রৌঢ়/প্রৌঢ়া বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যুৎসাহী অংশগ্রহণ
কবিতা আবৃত্তি
মৌরি

5 Things I Like

হাফ সোয়েটার
শব্দজব্দ
শনিবারের সকাল
দোলনা
ক্যাডবেরি

5 Things I Strongly Like 

ফাঁকিবাজি
চশমা
লুচি
লুডো
খাটে শুয়ে শুয়ে অন্যকে কাজ করতে দেখা

5 Things I Love 

এগরোল
গরমের ছুটি
অন্ধকার ঘরে টেবিলল্যাম্পের হলুদ গোল আলো
ছাদ + মাদুর + আকাশ + তারা + মা (+ মশার কামড়)
অবান্তর ও তার পাঠকপাঠিকাবৃন্দ

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.