February 16, 2015

স্কুলের গল্প



মূল গল্পঃ A School Story
লেখকঃ M. R. James


সিগারেট খাওয়ার ঘরে বসে দুজনের মধ্যে গল্প চলছিল। স্কুলজীবনের গল্প। প্রথমজন বললেন, “আমাদের স্কুলের পাথরের সিঁড়ির ওপর একটা ভৌতিক পায়ের ছাপ ছিল। ভয় পাওয়ার মতো কিছু নয়, জুতোর আদলের একটা ছাপ, সামনেটা চৌকো মতো। যদ্দূর মনে পড়ে সিঁড়িটা পাথরের ছিল। সেটা নিয়ে কোনওদিন কোনও ভূতের গল্প শুনিনি। অদ্ভুত কিন্তু। এখন মাঝে মাঝে ভাবি, দাগটা নিয়ে কেউ কোনও ভূতের গল্প বানায়নি কেন।”

“ওই বয়সের ছেলেদের মতিগতি বোঝা শক্ত। ওদের গল্পের নিজস্ব যুক্তিকারণ আছে। বাই দ্য ওয়ে, এটা কিন্তু তোমার জন্য একটা ভালো বিষয় হতে পারে, “দ্য ফোকলোর অফ স্কুললাইফ।”

“তা হতে পারে, কিন্তু মালমশলা বেশি জুটবে বলে মনে হয় না। ভূতের গল্পের চালচলন জন্মমৃত্যু বিবর্তন নিয়ে যদি গবেষণা কর, দেখবে বেশিরভাগই  বইয়ের গল্প নিয়ে একটু এদিকসেদিক করে চালিয়ে দেওয়া।”

“আজকাল নির্ঘাত দ্য স্ট্র্যান্ড আর পিয়ারসনের বইগুলো থেকে বেশি টোকাটুকি হয়।”

“তা তো বটেই। আমাদের সময় এ সব গল্প ছিল না। আমাদের সময়ে কোন গল্পগুলো বেশি চলত বল তো? দাঁড়াও ভাবি। একটা তো ছিল সেই ভূতের বাড়ির গল্প, যার একটা ঘরে সাহসী লোকজন রাত কাটাতে যেত, এবং যারাই যেত তাদেরই পরদিন ভোরবেলা ঘরের কোণে জবুথবু অবস্থায় পাওয়া যেত। “আমি দেখেছি! আমি দেখেছি!” বলতে বলতেই তারা মরে যেত।”

“এই বাড়িটা বার্কলে স্কোয়্যারে ছিল না?”

“খুব সম্ভবত। তার পর ধর সেই লোকটা, যে রাতের বেলা প্যাসেজে একটা শব্দ শুনে দরজা খুলে দেখত একটা লোক চারপায়ে হামাগুড়ি দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে, আর তার চোখদুটো কোটর থেকে বেরিয়ে গালের কাছে দুলছে। আর যেন কী – হ্যাঁ হ্যাঁ, সেই ঘরের গল্পটা যেটাতে একটা লোক মরে পড়ে থাকত। মৃতদেহের কপালে থাকত একটা ঘোড়ার ক্ষুরের চিহ্ন। সেই একই চিহ্ন থাকত খাটের তলার মেঝেতেও, ভগবানই জানেন কেন। তাছাড়াও এক মহিলার গল্প ছিল, তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে শুতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মশারির ভেতর থেকে সরু মিহি গলায় কেউ বলে উঠত, “ব্যস, আজ রাতের মতো আমরা বন্দী হয়ে গেলাম। কোনও গল্পটারই কোনও ব্যখ্যা ছিল না। এগুলো এখনও চলছে কি না কে জানে।”

“খুব চলছে। শুধু চলছে না, দেখ গিয়ে বইপত্র ম্যাগাজিনটিন থেকে মালমশলা জোগাড় করে আরও ফুলেফেঁপে উঠেছে। আচ্ছা তুমি কোনও স্কুলের কোনও সত্যিকারের ভূতের গল্প শুনেছেন? আমি তো শুনিনি। এমনকি শুনেছে এমন কাউকে দেখিওনি।”

“তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি শুনেছ?”

“জানি না। কিন্তু একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। প্রায় তিরিশ বছর আগে আমার স্কুলে ঘটেছিল। ঘটনাটার কোনও ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে।

যে স্কুলটার কথা বলছি সেটা ছিল লন্ডনের কাছে। বেশ বড় আর পুরোনো স্কুলবাড়ি, সাদা রঙের, চারদিকে মাঠ দিয়ে ঘেরা। বাগানে বড় বড় সেডার গাছ। টেমসের তীরে যে ধরণের বাগান হয়, তোমার দেখা আছে নিশ্চয়। বুড়ো এমস গাছওয়ালা তিনচারটে মাঠ ছিল আমাদের খেলার জন্য। জায়গাটা বেশ সুন্দর ছিল। তবে তখন আমরা অত বুঝতাম না।”

আঠেরোশো সত্তর সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ আমি স্কুলে ভর্তি হলাম। আমার সঙ্গে যে সব ছেলে ভর্তি হয়েছিল তাদের একজনের সঙ্গে আমার খুব ভাব হয়ে গেল। পাহাড়ি ছেলে, নাম ম্যাকলিওড। ছেলেটি কোনও দিক থেকেই অসাধারণ কিছু ছিল না, পড়া বা খেলা কোনওটাতেই সে চোখে পড়ার মতো কিছু করেনি কখনও, কিন্তু তাও সে আমার খুব পছন্দের ছিল। আমাদের স্কুলটা বেশ বড় ছিল। প্রায় একশো কুড়িতিরিশ জনের মতো ছাত্র। তাদের দেখাশোনার জন্য বেশ কয়েকজন মাস্টার লাগত। সে সব মাস্টাররাও ঘনঘন বদলাতেন।

এক টার্মে, সম্ভবত সেটা আমার তৃতীয় বা চতুর্থ টার্ম হবে, স্কুলে এক নতুন মাস্টার এল। নাম স্যাম্পসন। লম্বাচওড়া, ফর্সা মুখে কালো দাড়ি। স্যাম্পসনকে ছাত্রেরা বেশ পছন্দই করত। লোকটা অনেক জায়গা ঘুরেছে, সে সব জায়গার নানারকম মজার গল্প ছিল ঝুলিতে। স্যাম্পসনের নেকনজরে পড়ার জন্য ছেলেদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতার ভাব লেগে থাকত। এতদিন হয়ে গেল, আমার এখনও মনে আছে, স্যাম্পসনের ঘড়ির চেন থেকে একটা সোনার কয়েন ঝুলত। একদিন সেটার দিকে আমার চোখ পড়াতে স্যাম্পসন আমাকে জিনিসটা দেখতে দিয়েছিল। এখন মনে হয়, জিনিসটা বাইজ্যানটাইনের সোনার কয়েন গোছের কিছু একটা ছিল। সাইজে এই আমাদের কয়েনের মতোই হবে, কি তার থেকে একটু ছোট। একদিকে একজন সম্রাটের ছবি, অন্যদিকটা ব্যবহারে ব্যবহারে ক্ষয়ে মসৃণ হয়ে গেছে। এই মসৃণ দিকটায় স্যাম্পসন, খানিকটা গায়ের জোরেই, ট্যাঁরাব্যাঁকা অক্ষরে নিজের নামের আদ্যক্ষর খোদাই করে রেখেছিল - জি ডবলিউ এস। আর একটা তারিখ - চব্বিশে জুলাই আঠেরোশো পঁয়ষট্টি। কয়েনটা এই এতদিন পরেও স্পষ্ট চোখে ভাসছে। স্যাম্পসন বলেছিল জিনিসটা ও কনস্ট্যানটিনোপল থেকে কিনেছে।

ওয়েল, প্রথম যে অদ্ভুত ঘটনাটা ঘটল সেটা হল এইরকম। স্যাম্পসন আমাদের ল্যাটিন গ্রামার পড়াত। ওর পড়ানোর পদ্ধতি বেশ ভালো ছিল। যেটা শেখানো হচ্ছে সেটা দিয়ে বাক্যরচনা করতে দিয়ে ও বিষয়টা স্পষ্ট করে বোঝাতো। অফ কোর্স, এতে ভুলভাল বাক্য লিখে দুষ্টু ছেলেদের দুষ্টুমি করার সুযোগও থাকত, কিন্তু স্যাম্পসন এতই কড়া ধাঁচের শিক্ষক ছিল যে তার সঙ্গে ও ধরণের কিছু রসিকতা করার কথা আমাদের মাথাতেও আসত না।

যাই হোক, যে দিনের কথা বলছি, সেদিন স্যাম্পসন আমাদের ‘মেমিনি’ অর্থা স্মরণ শব্দের রূপ শেখাচ্ছিল। নির্দেশ ছিল, স্মরণ, স্মৃতি, মনে রাখা ইত্যাদি দিয়ে আমাদের একটা করে বাক্যরচনা করতে হবে। সাধারণ বাক্য। এই যেমন আমার বাবাকে আমার মনে আছে, বা বইটার কথা আমার মনে আছে, এই সব। ক্লাসের অনেক ছেলেই অবশ্য কায়দা করে “আমার সবথেকে স্মরণীয় বই’ ইত্যাদি লিখছিল, কিন্তু ম্যাকলিওডকে - যে ছেলেটির কথা বলছিলাম তোমাকে - দেখে বোঝা যাচ্ছিল ও আরও প্যাঁচালো কিছু লেখার জন্য মাথা ঘামাচ্ছে। আমরা বাকিরা কোনওক্রমে বাক্যরচনা শেষ করে ছাড়া পাওয়ার তালে ছিলাম তাই কেউ কেউ তাড়া দিয়ে বেঞ্চের তলা দিয়ে ওকে লাথিটাথি মারছিল। আমি ম্যাকলিওডের পাশেই বসেছিলাম। আমি ওকে খোঁচা দিয়ে তাড়াতাড়ি লেখা শেষ করতে বললাম। কিন্তু ও যেন আমার কথা শুনতেই পেল না। ওর খাতার দিকে তাকিয়ে দেখলাম কিছুই লেখেনি। এবার আমি বেশ জোরে খোঁচা দিলাম আর ক্লাসশুদ্ধু সবাইকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য ম্যাকলিওডকে কড়া ধমক দিলাম। তাতে কাজ দিল মনে হল। হঠা ঘুম থেকে জেগে ওঠার মতো করে ধড়মড় করে উঠে ম্যাকলিওড খসখস করে কাগজে দু’লাইন কী সব লিখল, তারপর খাতা নিয়ে দৌড়ল। ততক্ষণে ক্লাসশুদ্ধু সকলের খাতা জমা পড়ে গিয়েছিল, আর স্যাম্পসন বাকি ছেলেদের, যারা “আমার প্রাতঃস্মরণীয় পিতা” গোছের বাক্য লিখেছিল, তাদের বেশ নরমগরম শোনাচ্ছিল, কাজেই ম্যাকলিওডের খাতা দেখাতে দেখাতে বারোটা বেজে গেল আর ম্যাকলিওডকে খাতা দেখানোর জন্য বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হল। খাতা দেখিয়ে যখন ফিরল ম্যাকলিওড, তখন ওর মুখ দেখে আমার মনে হল কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে।

“কী হল? কত পেলে?”


প্রশ্নের উত্তরে ম্যাকলিওড বলল, “তেমন কিছু হয়নি, তবে মনে হচ্ছে স্যাম্পসন আমার ওপর চটে গেছে।“

“কেন? খারাপ কিছু লিখেছিলে নাকি?”

“সে রকম তো কিছু লিখিনি, মানে আমার তো মনে হচ্ছে না। এই দেখ – চারটে গাছের ফাঁকের ভেতর সেই কুয়োটার কথা মনে পড়ে?

“এ আবার কী?” আমি বললাম, “এসব কী লিখেছ? এর মানে কী?”

“সেটাই আশ্চর্যের” বলল ম্যাকলিওড। “আমিও জানি না এর মানে কী। শুধু জানি এই বাক্যটাই মাথায় এল আর আমি লিখে ফেললাম। লেখার আগে খালি একটা ধোঁয়াধোঁয়া, আবছা ছবিও আমার মাথায় এসেছিল। চারটে গাছ, ওই যে ওই গাছগুলো, আহা, বল না, সেই কালো কালো গুঁড়ি, লাল রঙের কুলের মতো ফল?”

“মাউন্টেন অ্যাশেস ট্রি?”

“না না, মনে পড়েছে, দাঁড়াও দাঁড়াও, ইউস, ইউ ট্রি।”

“যাই হোক, স্যাম্পসন কী বলল?”

“সেটাই তো অদ্ভুত। বাক্যটা পড়ে টেবিল থেকে উঠে গিয়ে ম্যান্টেলপিসের কাছে পেছন ফিরে অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর আমার দিকে না ফিরেই খুব শান্ত ঠাণ্ডা গলায় জিজ্ঞাসা করল, “এই বাক্যটার মানে কী?” আমার যা মনে হল আমি বললাম, কিন্তু গাছটার নাম কিছুতেই মনে পড়ছিল না। তারপর স্যাম্পসন জানতে চাইল কেন আমি এই বাক্যটা লিখেছি। বানিয়ে বানিয়ে যা তা একটা কিছু বললাম। তারপর স্যাম্পসন আমি এই স্কুলে কদ্দিন হল এসেছি, আমার বাড়ি কোথায় এইসব জিজ্ঞাসা করতে লাগল, তারপর আমি চলে এলাম। স্যাম্পসনকে দেখে মনে হচ্ছিল ওর খুব শরীর খারাপ লাগছে।”

এরপর আর এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের আর কোনও কথা হল না। পরদিন ম্যাকলিওড বেচারা ঠাণ্ডা লেগে জ্বরে পড়ল, সাত দিন আর স্কুলে আসতে পারল না। মাসখানেক নির্বিঘ্নে কাটল। ম্যাকলিওড যেমন বলেছিল যে ওর লেখা বাক্যটা পড়ে স্যাম্পসন বেশ বিচলিত হয়েছে, সেটা সত্যি হলেও স্যাম্পসনের হাবেভাবে প্রকাশ পেল না। এখন আমি নিশ্চিত যে স্যাম্পসনের অতীত জীবনে একটা কিছু সন্দেহজনক ব্যাপার ছিল, কিন্তু সেই ছেলেবয়সে আমাদের অত কথা মাথায় আসেনি।

আরও একটা ঘটনা ঘটেছিল এই রকম। এক দিন কন্ডিশনাল সেন্টেন্সের ক্লাস হচ্ছিল। আমাদের বলা হয়েছিল একটা কন্ডিশনাল বাক্যের উদাহরণ লিখতে। আমরা ঠিক ভুল যা পারলাম লিখলাম, তারপর নিজেদের খাতা নিয়ে লাইন দিলাম, স্যাম্পসন খাতা পরীক্ষা করতে লাগল। হঠা দেখি  স্যাম্পসন খাতা ছেড়ে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়িয়েছে। ওর গলা দিয়ে কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ বেরোচ্ছে। তারপর স্যাম্পসন টেবিলের পাশের খোলা দরজা দিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল। আমরা দুয়েকমিনিট হাঁ করে বসে রইলাম। তারপর আমি আর কয়েকজন উঠে স্যাম্পসনের টেবিলে রাখা কাগজগুলো দেখতে গেলাম।

টেবিলের ওপর সবথেকে ওপরের খাতাটা ছিল লাল কালিতে লেখা। ওই কালি আমাদের ক্লাসের কোনও ছেলের নয়, এমনকি হাতের লেখাটাও না। ক্লাসশুদ্ধু সবাই হলফ করে বলল, ও খাতা তাদের নয়। আমার হঠা কী মনে হল আমি খাতাগুলো গুনে দেখলাম। টেবিলের ওপর সতেরোটা খাতা আছে, আর ক্লাসে ছেলে আছে মোটে ষোলোজন। আমি এক্সট্রা খাতাখানা চুপিচুপি নিয়ে নিলাম। আমার ধারণা এখনও সে খাতাখানা আমার কাছে আছে। তুমি নিশ্চয় জানতে চাইবে খাতাটায় কী লেখা ছিল। খুবই সোজাসরল কয়েকটা কথা, সাদাসাপটা।

তুমি যদি আমার কাছে না আস, আমি তোমার কাছে আসব।

“আমাকে খাতাখানা দেখাতে পারো?” বাধা দিয়ে বললেন শ্রোতা।

“সে পারি, কিন্তু আরও একটা অদ্ভুত ব্যাপার হল। সেদিন বিকেলেই যখন আমি আমার লকার থেকে খাতাখানা বার করলাম – সেটা যে সেই সতেরো নম্বর খাতাটাই ছিল তাতে কোনও সন্দেহ নেই, কারণ সেটায় একটা আঙুলের ছাপ ছিল যেটা আমি আগেই দেখে রেখেছিলাম – কিন্তু তখন তাতে কোনও লেখার চিহ্নমাত্র ছিল না। আমি খাতাখানা তবু আমার কাছেই রেখে দিয়েছিলাম এবং সেদিন থেকে কোনও বিশেষ কালিতে লেখাটা হয়েছে কি না ইত্যাদি নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা করে বার করার চেষ্টা করেছি, কোনও ফল পাইনি।

আধঘণ্টা পর স্যাম্পসন আবার ক্লাসে ফিরে এল। পা টিপে টিপে টেবিলের কাছে এসে ওপরের খাতাখানার দিকে তাকিয়ে দেখল। ওর মুখ দেখে মনে হচ্ছিল ও একটা স্বপ্নের মধ্যে আছে। স্যাম্পসন কোনও প্রশ্ন করল না। খুব শরীর খারাপ লাগছে বলে আমাদের ছুটি দিয়ে দিল।

পরদিন স্যাম্পসন আবার স্কুলে এল, অন্যান্যদিনের মতোই। আর সেদিন রাতেই আমার গল্পের তৃতীয় আর শেষ ঘটনাটা ঘটল।

আমি আর ম্যাকলিওড যে ডরমিটরিতে থাকতাম সেটা ছিল মূল স্কুলবাড়ির সঙ্গে এল অক্ষরের হাতার মতো লাগানো। স্যাম্পসনের ঘর ছিল মূল বাড়ির একতলায়। সেটা ছিল উজ্জ্বল পূর্ণিমার রাত্রি। ঠিক ক’টার সময় জানি না, রাত একটা থেকে দুটোর মাঝখানে হবে, হঠা একটা ঝাঁকুনিতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম ম্যাকলিওড আমাকে ধরে ঝাঁকাচ্ছে, মুখচোখ উদভ্রান্ত।

“এস, এস, দেখবে এস, স্যাম্পসনের ঘরের জানালা দিয়ে চোর ঢুকছে!”

আমি কোনওমতে কথা বলার অবস্থায় পৌঁছে বললাম, “তাহলে সবাইকে জাগাচ্ছ না কেন?”

“না না, আমি নিশ্চিত নই লোকটা কে, চেঁচামেচি কোরো না, এসে দেখ।”

আমি জানালার কাছে এসে বাইরে উঁকি দিয়ে কাউকেই দেখতে পেলাম না। ওই মাঝরাতে ঘুম ভাঙানোয় আমার যথেষ্টই রাগ ধরেছিল এবং ম্যাকলিওডকে গালিগালাজ করলেও কিছু অন্যায় হত না, কিন্তু আমার কেন যেন মনে হতে লাগল, কোথাও একটা গোলমাল আছে। আর সে গোলমালটার মুখে যে আমি একা পড়িনি, ম্যাকলিওড যে আমার সঙ্গে আছে, সে জন্য আমি নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতে লাগলাম। আমি ম্যাকলিওডকে জিজ্ঞাসা করলাম ও ঠিক কী দেখেছে বা শুনেছে।

“আমি কিছুই শুনিনি, কিন্তু তোমাকে ডাকার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে আমি এমনিই একবার এই জানালার বাইরে তাকিয়েছিলাম, তাকাতেই দেখলাম একটা লোক স্যাম্পসনের জানালার বাইরে উবু হয়ে বসে ঘরের ভেতর দিকে তাকিয়ে আছে। আর হাতছানির দিয়ে ডাকার ভঙ্গি করছে।”

“কী রকম লোক?”

“তা বলতে পারব না, তবে একটা কথা বলতে পারি, লোকটা একেবারে হাড্ডিসার, আর দেখে মনে হচ্ছিল তার সার গা যেন ভিজে চুপচুপে হয়ে রয়েছে, আর আর” এইবার ম্যাকলিওডের গলা নেমে প্রায় ফিসফিসানিতে পরিণত হল। ঘরের চারিদিকে তাকিয়ে নিয়ে ম্যাকলিওড বলল, “আমি নিশ্চিত নই লোকটা আদৌ জ্যান্ত কি না।”

আমরা আরও কিছুক্ষণ ফিসফিসিয়ে কথা বললাম, তারপর গুঁড়ি মেরে বিছানায় ফিরে এলাম। আমার ধারণা আমরা খানিকটা ঘুমিয়েছিলাম, কিন্তু পরদিন ঘুম থেকে উঠে অসম্ভব ক্লান্ত লাগছিল।

স্যাম্পসনকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। আর কখনও তার সম্পর্কে কোনও খবর পাওয়াও যায়নি। এখন যখন ভাবি, আমার গোটা ঘটনাটার মধ্যে সবথেকে অবাক লাগে এই ব্যাপারটা যে আমি বা ম্যাকলিওড যা দেখেছিলাম তা কখনও কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে বলিনি। বলাই বাহুল্য আমাদের কোনও প্রশ্নও করা হয়নি, কিন্তু যদি করাও হত, আমার বিশ্বাস আমরা কোনও উত্তর দিতে পারতাম না। মনে হয় যেন বিষয়টা নিয়ে কথা বলা বা আলোচনা করার ক্ষমতা আমাদের লোপ পেয়েছিল।

"ব্যস, এই হচ্ছে আমার গল্প,” বক্তা বললেন। “স্কুলসংক্রান্ত এই একটা ভৌতিক গল্পই আমার জানা আছে, তাও গল্পে ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে আমি নিঃসন্দেহ নই।”

সাধারণত এ ধরণের গল্পের পরিশেষ বলে কিছু থাকে না, কিন্তু এই গল্পটার একটা আছে, কাজেই সেটার উল্লেখ করতেই হবে। গল্পটা যদিও দুজনের মধ্যে হচ্ছিল, সেই ঘরে গল্পের একাধিক শ্রোতা ছিলেন। সে রকম একজন শ্রোতা, সেই বছরেরই শেষ দিকে, আয়ারল্যান্ডের একটা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

সন্ধ্যেবেলা তাঁর গৃহস্বামী স্মোকিং রুমের ড্রয়ারভর্তি খুঁটিনাটি জিনিস ঘাঁটতে গিয়ে হঠা একটা ছোট বাক্স হাতে তুলে নিয়ে বলে উঠলেন, “এই যে, তুমি তো পুরোনো জিনিসপত্রের সম্বন্ধে জানটান, বল তো এটা কী?” শ্রোতাটি বাক্সটি খুললেন এবং দেখলেন বাক্সের ভেতর একটা সরু সোনার চেনে একটা জিনিস আটকানো আছে। তিনি চশমা খুলে জিনিসটাকে চোখের আরও ভালো করে পরীক্ষা করলেন।

“এর ইতিহাসটা কী?”

“ইতিহাস খুবই অদ্ভুত।” বললেন গৃহস্বামী।

“বাগানের ইউ গাছের ঝোপটা দেখেছ তো? বছরখানেক আগে আমরা ওই ঝোপের ভেতরের কুয়োটা পরিষ্কার করাতে গিয়ে কী পেলাম বলতে পার?”

অতিথির গলা সামান্য কেঁপে গেল।  

“একটা দেহ?”

“একটা নয় হে, দু'দুটো মৃতদেহ।”

“দুটো! কী সাংঘাতিক! ওখানে এল কী করে? এই জিনিসটা কি দেহগুলোর সঙ্গেই ছিল নাকি?”

“একটা মৃতদেহর জামাকাপড়ের সঙ্গে ছিল। বিশ্রী ব্যাপার। একটা মৃতদেহ আর একটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ছিল। নির্ঘাত তিরিশ কিংবা আরও বেশি বছর ধরে ছিল, অন্তত আমরা এখানে আসার আগে থেকে তো বটেই। বুঝতেই পারছ, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কুয়োটা বুজিয়ে ফেলেছিসোনার কয়েনটায় কী লেখা আছে কিছু বুঝতে পারছ নাকি?”

“পারছি।” আলোর কাছে কয়েনটাকে তুলে ধরে খুব কষ্ট করে থেমে থেমে পড়লেন অতিথি। “জি ডাবলিউ এস, চব্বিশে জুলাই, আঠেরোশো পঁয়ষট্টি।”

         

40 comments:

  1. আমি যে ইংরেজি ভূতের গল্পের খুব ভক্ত তা নয়, তবে এম আর জেমস-এর অনেক গল্প পড়েই বেশ একটু গা ছম ছম করে। এটাও সেইরকম। অনুবাদ খুবই ভালো হয়েছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ, সুগত।

      Delete
  2. বেশ গা ছমছমে গল্প কিন্তু। রাতের বেলা জমিয়ে বলতে পারলে সুন্দরী মহিলাদের ভয় দেখানো যাবে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমার অনেকদিন আগের একটা ব্যথার জায়গা পাড়িয়ে দিলেন, দেবাশিস। দাঁড়ান, খোলসা করে বলি। আমার এককালে ভূতের গল্পবলিয়ে হিসেবে বেশ নাম ছিল। মানে, ছোটবেলায় মামাবাড়িতে গেলে ভাইবোনেরা কারেন্ট থাকা সত্ত্বেও লাইট নিভিয়ে "সোনাদিদি, ভূতের গল্প বল" বলে ঝোলাঝুলি করত। এ বিষয়ে ট্যালেন্ট আছে বুঝতে পেরে আমিও চর্চা চালিয়ে যাই এবং বড়বয়সেও আমার ভূতের গল্পবলিয়ে হিসেবে খ্যাতি অব্যাহত থাকে। গোলযোগটা বাধে প্রাকযৌবনে পৌঁছে (ওই বয়সটাই অবশ্য গোলযোগের)। আমি এমন এক জায়গায় পড়তে যাই যেখানে ফাঁকা জায়গার অভাব নেই। রাতের বেলা সেসব জায়গায় গেলে অতি বড় অবিশ্বাসীরও বুক ছমছম করবে। বলাই বাহুল্য, সে সব জায়গায় রাতের বেলা আমরা দল বেঁধে ঘোরাঘুরি করতাম এবং ভূতের গল্প বলার ভলান্টিয়ারদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। বলিয়েরা সকলেই ছিলেন পুরুষ, আর আপনি যেমন বললেন, সুন্দরী মহিলারা সেসব অতি অখাদ্য, পাতে দেওয়ার অযোগ্য করে বলা গল্পেই একেবারে কেঁপেকুঁপে সারা হতেন এবং বলিয়েকে স্নেহমিশ্রিত চড়চাপাটি, চিমটি, কপট ক্রোধ ইত্যাদিতে একেবারে ভাসিয়ে নিয়ে যেতেন। আবহাওয়ায় বেশ একটা প্রেমপ্রেম ওম ছড়িয়ে পড়ত।

      দেখেশুনে আমার মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। আমিও তো ভূতের গল্প বলতে পারি! এই অপোগণ্ডগুলোর থেকে অন্তত একশোগুণ ভালো করে পারি। তাহলে আমি যদি ভূতের গল্প বলি তবে ওই চশমাপরা, অংক পারা ছেলেটা,(আমি কেন লম্বা ফর্সা ফ্ল্যাট-স্টমাক ছেলেদের ফেলে রেখে রোগা কালো অংকপারা ছেলেদের দিকেই ঝুঁকতাম সেটাও অবশ্য একটা লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মগজধোলাইয়ের উদাহরণ, কিন্তু ওসবে এখন যাওয়ার দরকার নেই) যে নোট চাইতে এলে আমি মাথার মধ্যে আড়াইখানা ডিগবাজি খাই, সেও তবে ভয় পেয়ে তার হাড়জিরজিরে কুড়ি ইঞ্চি বুকে আমাকে জাপটে ধরবে?

      যেমন প্ল্যান তেমন কাজ। পরের রাতে আলতুফালতু গল্পবলাবলি এবং নকল ভয়পাওয়াপাওয়ি সারা হলে আমি গলা খাঁকারি দিয়ে আমার গল্প শুরু করলাম। বুঝতে পারলাম ওষুধ ধরছে, সুন্দরী মহিলা এবং রোগা পুরুষ দু’দলের বুকেই ভয় গুঁড়ি মেরে ঢুকছে, মুখেচোখে তার চিহ্ন নির্ভুল ফুটে উঠছে। আমি উৎসাহিত হয়ে আমার গল্পে আরও দরদ ঢেলে দিলাম। আমার গলা উত্তেজনায় কাঁপতে লাগল, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আমার মাইনাস বারো চশমার আড়ালে চোখ জ্বলতে লাগল। ক্লাইম্যাক্সের আগে গিয়ে আমি সামান্য থামলাম, নিঃশ্বাস নিলাম, ঢোঁক গিললাম। এতেও যদি কাজ না হয় তা হলে আর কিছু বলার নেই।

      কাজ দিল। ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে “মাগোওওওও” চেঁচিয়ে উঠে কুড়ি ইঞ্চি বুকওয়ালা কালো ছেলে আর সুন্দরী মেয়ে ছুটে গিয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরল।
      যাকগে, পুরোনো কথা ভেবে আর দুঃখ করে লাভ নেই। আপনার সঙ্গে আমি একমত, গল্পটা বেশ গা ছমছমে। ভালো করে বলতে পারলে কাজে দেবে।

      Delete
    2. হে হে। সত্যি, আমাদের দেশে প্রতিভার কদর নেই।

      Delete
    3. Madam, sei golpo ta ekhane ekbar likhun!
      -Ramyani.

      Delete
    4. haha...eta durdanto...tinni

      Delete
    5. রম্যাণি, লিখে লাভ নেই। কেউ ভয় পাবে না। পেলেও আমার তাতে কোনও লাভ হবে না।

      তিন্নি, দুর্দান্ত তো হবেই, আমার দুঃখের গল্প যে।

      Delete
    6. This comment has been removed by the author.

      Delete
    7. Tomar ei bhooter golpo bolar golpo niyei akta darun post hoye jete pare.
      Ei bhoot er golpo/cinema shune/dekhe michimichi bhoy peye japte dhorar acting e ami expert chilam ak kale. Bohu cheler akisathe ego boost korechi ebong matha kheyechi. Vableo ki je hasi paye. :D

      Delete
    8. ওহ, তুমিও সেই সুন্দরীদের একজন, কুহেলি।

      Delete
  3. 8th paragraph: "আচ্ছা তুমি কোনও স্কুলের কোনও সত্যিকারের ভূতের গল্প শুনেছেন?" eta ki typo?
    -Ramyani.

    ReplyDelete
    Replies
    1. না রম্যাণি, ওটা অনুবাদকারকের অক্ষমতা।

      Delete
    2. তুমি - আপনি টাও ? :O

      Delete
    3. হাহা, ওটা তো বটেই। অনুবাদকারকের মনোযোগ/ নিষ্ঠার অক্ষমতা। ঠিক করে দিচ্ছি। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  4. anek din par abantor-er paay...r eshei ekta gola ekebare...

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ঈঊ, দেবশ্রী ।ওয়েলকাম ব্যাক।

      Delete
  5. Tobe kina ami rohsyo golpo bhalobashi! Rohsyo ta ektu clear hole bhalo hoto!

    ReplyDelete
    Replies
    1. স্যাম্পসন অতীতে কী পাপ করেছিল সেই রহস্যটা তো, রুণা? সেটা সত্যিই ক্লিয়ার হলে ভালো হত, কিন্তু হয়নি যখন তখন আমি ধরে নিয়েছি নিশ্চয় সব পাপের সেরা পাপ, অর্থাৎ মানুষ খুনটুন করেছিল। কুয়োয় ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল কাউকে, সে ভূত হয়ে এসে ঘর থেকে স্যাম্পসনকে তুলে কুয়োয় নিয়ে গেছে।

      Delete
  6. Onubad kora galpo besh ga chhom chhome... ar comment e lekha adha galpotio chomotkar :-) ..

    ReplyDelete
    Replies
    1. হাহা, ইচ্ছাডানা, আরে আমিও দেবাশিসকে উত্তর লিখতে লিখতে ভাবছিলাম, সাইজের দিক থেকে দেখতে গেলে এটাকে আর একটা পোস্ট বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।

      Delete
  7. ভাবানুবাদ করুন না please। আয়ারল্যান্ড কে পাটনায়, ল্যাটিন গ্রামার এর বদলে হিন্দি গ্রামার, ঈউ গাছের ঝোপের বদলে ফণীমনসার ঝোপ । লেখায় আপনার নিজস্বতা বাড়বে, আর গল্পও জমে যাবে। আমি মূল গল্পটাও পড়লাম। তারপর এই সাজেশন। :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আপনার প্রস্তাবটা খুবই আকর্ষণীয়, চন্দ্রচূড়। কিন্তু সেটা করলে লেখকের প্রতি অবিচার হবে না? মানে উনি প্লট মাথা খাটিয়ে বার করলেন, আর আমি আমার বলার সুবিধের জন্য সেটাকে অদলেবদলে নেব, বিবেক কামড়াবে। আমারও খুব লোভ হয় ইউ ট্রি-কে ফণীমনসা বলে চালাতে, কিন্তু অতিকষ্টে সামলে নিই।

      Delete
    2. আর অনুবাদ করছেন, মূল লেখকের নাম, গল্পের নাম তো দিয়েইছেন। চাই কি একটা লিংক ও দিয়ে দিন। কিন্তু পাঠকের প্রতিও তো সুবিচার হওয়া দরকার। ইউ ট্রি কেমন দেখতে কল্পনা করতেও যে কষ্ট হয়। ভেবে দেখুন, একটা ভোটও নিতে পারেন। :)

      Delete
    3. Likho diyo omuk golper chhaya abolombone!

      Delete
    4. এই ছায়া অবলম্বনে নিয়ে একটা মজার কহা মনে পড়ে গেল, রুণা। আমার চেনা একজন একটু নিন্দুক টাইপের মানুষ ছিলেন, তিনি কারও বাড়িতে নেমন্তন্ন খেয়ে এসেই নিন্দে করতে বসে যেতেন। পাতুরি খেলে বলতেন, ওটা তো ভেটকি মাছের ছায়া অবলম্বনে বানানো হয়েছিল, অর্থাৎ কি না মাছের সাইজ প্রায় চোখে দেখা যায় না, এই হচ্ছে তাঁর অভিযোগ।

      Delete
  8. Ar na. Egulo vor dupure office ei porte hobe. rat birete esob pore eka eka ghumote jawa mushkil er.

    ReplyDelete
    Replies
    1. যাঃ, অর্ণব, এটা বিশ্বাস করতে পারলাম না। মূল গল্পটা পড়ে যদি বা ভয় পাওয়ার কিছু থাকে, এই পোস্টটা পড়ে ভয় পাওয়ার কোনওই কারণ নেই।

      Delete
  9. bhabanubad idea ta kintu kharap na seriously... mul golpota porini tobe onubad ta darun laglo..ebar mul ta pore felte hobe :)

    ReplyDelete
  10. Jemon Leela Majumdar bolechhen, vut, bagh ar chor er golpo sobche beshi chole, serom e hoyechhe. Ar sotti onekdin voypaoano vuter golpo porini. ar engreji porte gele na kamon jani sorogoro lage na... banglay jeta ase. motasota galvari boi porte pari, kintu balisher pashe debar jonno eksho vuter bakso gochher boi ajkal durlov hoye porchhe. jodi eta chaliye jan, ekkale besh valo sonkolone dnarabe kintu...

    ReplyDelete
    Replies
    1. বাংলা বই আর বালিশের সম্পর্কে যেটা বললে, হীরক, একেবারে একশোটা হাই ফাইভ। আরাম করতে হলে বাংলা বই, বাংলা সিনেমা, বাংলাা রিয়েলিটি শো। কোনও কথা নেই।

      Delete
  11. darun kuntala :) - tinni

    ReplyDelete
    Replies
    1. ডাংকে, তিন্নি।

      Delete
  12. Darun golpo. Darun onubad. Abar bolchi, tumi Manik babu'r manaskonya na hoye jao na. Onake planchate e deke Abantor er link dite hobe. Khubi khushi hoben nirghat. Accha ei author er bhoot er golper kichu boi er nam suggest korbe please.

    ReplyDelete
    Replies
    1. এই রে আমিও তো বেশি পড়িনি, কুহেলি। তুমি নেটে সার্চ করে দেখে নাও, প্লিজ। অনুবাদ ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।

      Delete
  13. চমৎকার অনুবাদ...বেশ একটা গা-ছমছমে অনুভূতি হল।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ, ধন্যবাদ, প্রত্যুষা।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.