February 19, 2015

ভালো হওয়ার বাতিক



পারফেকশনিস্ট কথাটা আমরা আজকাল যাকেতাকে বর্ণনা করতে ব্যবহার করি বটে, কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে পৃথিবীর খুব কম লোকের জন্যই এই বিশেষণটা খাটে। আমি আমার চৌত্রিশ বছরের জীবনে দু’জন পারফেকশনিস্ট দেখিনি। একজনকে দেখেছি, ঘটনাচক্রে তিনি আমার দূরসম্পর্কের মামা

মামা ছাত্র হিসেবে পারফেক্ট ছিলেন (নার্সারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছিলেন), চাকরিতে পারফেক্ট ছিলেন (কেরানি অবস্থা থেকে শুরু করে টপে পৌঁছেছিলেন), চেহারায় পারফেক্ট ছিলেন (নাকচোখমুখের মাপজোকের পারফেক্টনেসের কথা হচ্ছে না, ভগবান যা দিয়েছেন সেটাকে সাজিয়েগুছিয়ে পালিশ করে রাখার কথা হচ্ছে। সে কাজটাতে মামা পারফেক্ট ছিলেন। ইস্তিরি ছাড়া জামায় আর না-আঁচড়ানো চুলে আমি তাঁকে কোনওদিন দেখেছি বলে মনে পড়ে না) এমন কি রোগী হিসেবেও মেজমামা পারফেক্ট। চল্লিশ বছর বয়সে রক্তে শর্করা ধরা পড়ার পর সেই যে মামা মিষ্টি, নুন, চপকাটলেট, চাউমিনবিরিয়ানি ছাড়লেন আর কোনওদিন মুখে তোলেননি। মামির মুখে শুনেছি মামার ডাক্তারবাবুও নাকি স্বীকার করেছিলেন তাঁর কেরিয়ারে তিনি এমন পারফেক্ট রোগী আর দেখেননি। ডাক্তারবাবুর নিজের ডায়াবেটিস ছিল, কিন্তু তিনি নিজেও নিজের রেস্ট্রিকশন অমন মানতে পারতেন না মামা যেমন পারতেন। প্রতিবার চেকআপের পর ডাক্তারবাবু মামাকে বলতেন, “আপনার মতো উইল পাওয়ার যদি আমার থাকত মশাই।”

মামির গল্প শেষ হলে মামা মুখ খুলতেন (মামা কখনও কারও কথার মাঝে কথা বলতেন না, পারফেক্ট শ্রোতা) “উঁহু, ইউ শুড অলওয়েজ স্পিক দ্য ট্রুথ, সুরভি। জীবনে আমি একবার রেস্ট্রিকশন ভেঙেছিলাম। ব-এর পাকা কথার দিনটা মনে নেই?”

ব হল মামামামির একমাত্র মেয়ে। জানা গেল, ব-এর পাকা কথার দিন হবু বেয়াইবাড়িতে প্লেটে করে যে রাশি রাশি মিষ্টি সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল তার থেকে একটি রসগোল্লা তুলে খেয়েছিলেন আমার মামা। শুনে তো আমাদের মুখ হাঁ, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির মুখ চেয়ে সংযমের এত বড় সাধনায় কি না ছাই দেওয়া? পিতৃতন্ত্রের কাছে আমাদের পারফেক্ট মামার কি না এত বড় পরাজয়? মামা বললেন, “এর সঙ্গে পিতৃতন্ত্রের কোনও সম্পর্কই নেই। ওঁরা তখনও জানতেন না যে আমার ডায়াবেটিস। আর গিয়েই আমি আমার নিজের অসুখের কথা পেড়ে বসতে চাইনি। ওঁরা অনেক আয়োজন করেছিলেন, তার কিছুই আমার চলে না বললে সেটা চরম ইনকনসিডারেশন হত। ওঁরা বিব্রত হতেন। অন্য কোনও বাড়িতে গেলে এত কথা আমি ভাবতাম না, কিন্তু ওঁদের সঙ্গে আমাদের সারাজীবনের সম্পর্ক স্থাপিত হতে চলেছিল। তাই আমি আমার নিয়ম ভেঙে একটি রসগোল্লা খেয়েছিলাম। তারপর যতবার গেছি, বিয়ের আগে বা পরে, কোনওবারই কোনও নিয়ম ভাঙিনি। সেই প্রথম সেই শেষ। বিশ বছরে একটি রসগোল্লা।”

বেয়াই হিসেবে যিনি এমন পারফেক্ট, বাবা হিসেবেও যে তিনি পারফেক্ট হবেন তাতে আর আশ্চর্য কী? ব-কে মানুষ করার ক্ষেত্রেও মামা চরম পারফেকশনের পরিচয় রেখেছেন, অন্তত এখন ব-কে দেখে সেটা অবিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। ছোটবেলায় ব-এর সব বন্ধু যখন পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ গান ছবি আঁকা যোগব্যায়াম আরও না জানি কতশত বিদ্যে শিখতে ছুটেছিল তখন মামা ব-কে শুধুমাত্র নাচ শেখার ক্লাসে ভর্তি করিয়েছিলেন। একাধারে শরীর ও ললিতকলা চর্চা। সকলে ভেবেছিল এখানেও বোধহয় মামা সন্তানের ওপর চাপ না সৃষ্টি করার চরম কনসিডারেশনের পরিচয় রাখলেন কিন্তু আসল কারণটা একদিন ব আমাকে বলে ফেলেছিল। পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়লে ব যাতে পড়া ছেড়ে উঠে নাচ প্র্যাকটিস করে ঘুম তাড়িয়ে আবার পড়াশোনায় ফেরৎ আসতে পারে – এই ছিল মামার পারফেক্ট প্ল্যান।

শুনে আমার মামার ওপর ভক্তি একলাফে চারগুণ হয়ে গেল। আমি ভাবলাম পারফেক্ট মামার থেকে কিছু পেরেন্টিং টিপস নিয়ে আমার ইমপারফেক্ট মাকে দিই, যদি কাজে লাগে। মামাকে নিজে মুখে গিয়ে ‘টিপস দাও’ বলার সাহস আমার ছিল না, ভরসা ছিল ব। ব নিজের পারফেক্ট বাবাকে নিয়ে খুবই গর্বিত ছিল। বাবার ন্যায়বিচার, উদারতা, মুক্তমনস্কতা ইত্যাদি নিয়ে তার জাঁক ছিল দেখার মতো। একদিন আমাকে বুক ফুলিয়ে ব বলল, “অ্যাস আ ফাদার হি ইস প্রিটি কুল। নট লাইক আদার স্টুপিড ফাদার্স। যা সব গল্প শুনি বন্ধুদের বাবার, বাসরে। হ্যান করবে না, ত্যান করবে না। আমার বাবার প্রিন্সিপল হচ্ছে, পড়াশুনোটা ঠিক করে তারপর যা ইচ্ছে করতে পার। দ্যাটস্‌ ইট। সিম্পল।”

মামার সিম্পল প্রিন্সিপল শুনে আমি লাফিয়ে উঠলাম। আমার মা এই নীতিতে চললে আমার যে আখেরে দারুণ লাভ হতে পারে এ সম্ভাবনা আমার মাথায় বিদ্যুৎচমকের মতো খেলে গেল। মাকে গিয়ে বললাম, “আচ্ছা মা, আমি যদি পড়াশুনোটা ঠিক মতো করি তাহলে তুমি আমাকে যা ইচ্ছে করতে দেবে?” প্রশ্নের উত্তর যে ইতিবাচকই হবে এ নিয়ে আমার কোনও সন্দেহই ছিল না। পারফেক্ট মামার পারফেক্ট প্রিন্সিপল বলে কথা।

আমার মা কড়াইয়ে খুন্তি নাড়ছিলেন, থামিয়ে আমার দিকে তাকালেন। মায়ের মুখ দেখে মনে হচ্ছিল এমন আশ্চর্য কথা তিনি জীবনে শোনেননি। আমার প্রস্তাবের আকস্মিকতায় তাঁর কথা বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড পর মায়ের বাক্যস্ফূর্তি হল।

“যা ইচ্ছে! যা ইচ্ছে আমি তোমাকে কখনওই করতে দেব না। সে তুমি পড়াশুনো কর আর না-ই কর। যা ইচ্ছে! যা ইচ্ছে কি একটা করার মতো জিনিস হল? হায় ভগবান! এসব ধ্যানধারণা কে তোমার মাথায় ঢোকাচ্ছে সোনা?”

আমার মা বিশ্বাস করেন যে ‘যা ইচ্ছে’ করার অধিকার মানুষের কিছুতেই জন্মায় না। অনেক পড়াশোনা করে ফেললেও না, লাখ লাখ টাকা রোজগার করে ফেললেও না, অস্কার নোবেল ফিল্ডস ম্যাগসেসে বাগিয়ে ফেললেও না। করার মতো কাজ মানুষের আগে থেকেই নির্দিষ্ট আছে, সেগুলোকে বাংলায় কর্তব্য বলে। সে সব কর্তব্য করতে ইচ্ছে হোক না হোক, সেগুলোই মানুষের করা উচিত। কারও যদি এমন কিছু করতে ইচ্ছে হয় যেটা তাঁর কর্তব্যের পরিপন্থী, তাহলে সে ইচ্ছে পত্রপাঠ দমন করা উচিত, সে তিনি যতই তালেবর হোন না কেন।

ধ্যানধারণার উৎসটা আমি আর মা-র কাছে ফাঁস করলাম না। ল্যাজ গুটিয়ে ফিরে এলাম। হোমওয়ার্ক শেষ করে আরাম করে বসে সুপারহিট মুকাবলা দেখার আশায় ঠাণ্ডা জল পড়ে গেল।

তখন মায়ের ওপর খুবই রাগ হয়েছিল, মনে হয়েছিল ‘মা’ হিসেবে মা চরম ইমপারফেক্ট, কিন্তু পরে সে ভুল ভেঙেছে। বুঝেছি এই কথাগুলো স্রেফ কথাইসব সাবজেক্টে একশোয় একশো পেয়ে এসে যদি ব বাবাকে প্রস্তাব দিত, “এই দেখ আমি ঠিক করে পড়াশোনা করেছি, কাজেই এবার আমি পাশের বাড়ির ওই ছেলেটার সঙ্গে প্রেম করব, ওই যে, যে ছেলেটার বাঁ কানে দুল আর হাইলাইট করা চুলে ঝুঁটি বাঁধা” তাহলেই আমার পারফেক্ট মামার পারফেক্ট প্রিন্সিপলের দৌড় বোঝা যেত। আকাশ থেকে পড়ে তিনি বলতেন, যা ইচ্ছে বলতে উনি ভেবেছিলেন ব আবার পড়তে বসতেই চাইবে বুঝি, কিংবা আবার নাচ প্র্যাকটিস করতে। এ সব ছাড়া আর কী-ই বা করার ইচ্ছে হতে পারে একটা চোদ্দ বছরের মেয়ের?

সেই সবে শুরু, তার পরেও বিস্তর এ ধরণের প্রিন্সিপলের মুখোমুখি হয়েছি, দেখতেশুনতে যেগুলো চমৎকার কিন্তু কাজের বেলায় ফাঁপা। কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন শুনেছিলাম যারা ‘ডায়ন্যামিক’, অর্থাৎ কি না রাত জেগে আড্ডা মারে আর গাঁজা খায় তারাই নাকি পরীক্ষায় সব থেকে বেশি নম্বর এবং পরীক্ষা শেষে সবথেকে বেশি মাইনের চাকরি পায়। এ নীতির সপক্ষে আমি একটিও উদাহরণ দেখিনি, কিন্তু এর ফাঁদে পা দিয়ে অন্তত শ’খানেক ছেলেমেয়েকে গোল্লায় যেতে দেখেছি।

এ রকম আরও বিস্তর নীতিকথার উদাহরণ আছে আমাদের চারদিকে। যে সয় সে রয়, ওয়ার্ডস অ্যান্ড আইডিয়াস ক্যান চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ধরণের কথাগুলোর পেছনের উদ্দেশ্যগুলোতে আজকাল আমি খুব অসততার গন্ধ পাই। যারা এগুলো বলে বেড়ান, তাঁরা নিজেরা সত্যি সত্যি এ সবে বিশ্বাস করেন কি না সে নিয়ে আমার সন্দেহ কিছুতেই যায় না।

এই ধরনের রকম আর একটা বহুলপ্রচলিত কিন্তু অসৎ নীতিকথা হচ্ছে “ভালো করে করতে পারলে সব কাজই ভালো।”

মোটেই না। ভালো করে করতে পারি বলেই নিজের ঢাক নিজে পেটানোটা ভালো কাজ হয়ে যায় না, কিংবা মুখ হাঁ করে চিবোনোটা। এই নীতির অসারতার সবথেকে ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় এ এক্স এন চ্যানেলের ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ অনুষ্ঠানটা দেখলে। সেখানে যারা আসেন সকলেই কোনও একটা কাজ দারুণ ভালো করে করতে পারেন। শুধু ভালো নয়, সারা বিশ্বের সবার থেকে ভালো করে করতে পারেন। সেদিন যেমন এক ভদ্রলোক এসে জানালেন যে পৃথিবীতে তিনিই সবথেকে দ্রুত টয়লেট প্লাঞ্জার ছুঁড়তে পারেন। তাও আবার তাক করে। যেমন বলা তেমনি কাজ। কয়েকজন হাট্টাকাট্টা জোয়ান এসে লাইন দিয়ে পিঠ টান করে দাঁড়িয়ে পড়ল। ভদ্রলোক প্লাঞ্জার ছুঁড়তে শুরু করলেন। ভৌতবিজ্ঞানের সূত্র মেনে সেগুলো স্যাট স্যাট করে জোয়ানদের ফর্সা পিঠে গিয়ে সেঁটে যেতে লাগল। কিছুক্ষণ পর সঞ্চালিকা চেঁচিয়ে উঠলেন, টাইম ইজ আপ, ভদ্রলোক থেমে গেলেন, জোয়ানরা পিঠ আলগা করতেই সেঁটে থাকা প্লাঞ্জারেরা খসে পড়ে গেল। ফর্সা পিঠে স্পষ্ট হয়ে উঠল প্লাঞ্জারের আঘাতের গোল লাল দাগ।

পরীক্ষক এসে স্টপওয়াচ দেখে, প্লাঞ্জার গুনে জানালেন, মিনিটে পনেরোটি প্লাঞ্জার ছুঁড়ে (এবং সেগুলো দিয়ে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করে) ভদ্রলোক জগতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ল। ভদ্রলোক আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

অফিস থেকে ফিরে ক্রিমক্র্যাকার বিস্কুট দিয়ে চা খেতে খেতে আমি পুরো ঘটনাটা দেখলাম। এই কাজটা পৃথিবীর সবার থেকে বেশি ভালো করে করেও যে তিনি যে একটা কাজের মতো কাজ করেছেন এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না।

মায়ের কথা মনে পড়ল। এখনকার আমির থেকে বেশি বড় ছিলেন না মা, যখন তিনি বলেছিলেন কাজ পৃথিবীতে অনেক থাকলেও কর্তব্য আছে সামান্যই। কর্তব্যের বাইরের কাজগুলো ভালো করেই কর কি খারাপ করে তাতে কিছু যায় আসে না।

এখন আমি মায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত, কিন্তু এই ঐক্যমত্যে পৌঁছতে আমার অনেক সময় লেগে গেছে। যেটা বুঝতে একটুও সময় লাগেনি সেটা হচ্ছে যে কাজগুলোতে ভালো হলে সকলে ভালো বলে সেগুলোতে আমি ভালো নই। কিন্তু তখনও আমি বিশ্বাস করতাম ভালো হওয়াটাই হল কথা, কীসে ভালো হলাম সেটা কথা নয়। তাই আমি আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করে যেতে লাগলাম। বিশেষ করে যে সব কাজে ছোটবেলা থেকেই আমার প্রতিশ্রুতি বোঝা গিয়েছিল। আলস্য, দীর্ঘসূত্রিতা, কর্মবিমুখতা ইত্যাদি। অচিরেই আমি এ সবে এত ভালো হয়ে গেলাম যে আর ভালো হওয়ার জায়গাই রইল না। সবথেকে দুঃখের ব্যাপারটা হল যে আমি এত ভালো হওয়া সত্ত্বেও কেউ আমাকে কোনওরকম মেডেল তো দূরের কথা, পিঠ চাপড়ে দিতেও এল না।

ব্যাপারস্যাপার দেখে আমার ভালো হওয়ার ইচ্ছেটাতেই কেমন মরচে পড়ে গেল। আরও দুয়েকটা কাজ আমি অন্যদের থেকে ভালো পারতাম, যেমন বেশি করে ঝাল খেতে আর সময় দিয়ে সময় রাখতে, কিন্তু সে সব নিয়ে মনে মনে গর্ব অনুভব করার অসারতাটা টের পেয়ে গেলাম। তাছাড়াও উপলব্ধি করলাম এই সব কাজে ভালো হয়ে আমার লাভ কিছুই হয়নি, উল্টে বরং ক্ষতিই হয়েছে বিস্তর।

এই যেমন সময় রাখার ব্যাপারটাই ধরা যাক। এর জন্য কম হেনস্থা হতে হয়নি আমাকে। সেই ছোটবেলা থেকেই। আমার এখনও মনে আছে, র-সু-ন সন্ধ্যা শুরু হওয়ার কথা থাকত ছ’টায়। পুজোয় পাওয়া বেস্ট জামাটা পরে, অফিসফেরতা নিউমার্কেট ঢুঁড়ে মায়ের কিনে আনা সাটিনের ফিতে ঝুঁটিতে বেঁধে ছ’টা বাজতে পাঁচে পৌঁছে দেখতাম কেউ আসেনি। উঁহু, মাইকম্যানও না। খালি কতগুলো কুকুর হাঁ করে আমার সাটিনের ফিতের দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবখানা, “আজ কিছু আছেটাছে নাকি?” সোয়া ছ’টা নাগাদ কেউ একটা এসে মণ্ডপ ঝাঁট দিত, মাঠে ত্রিপল পাতত, তিনটে চেয়ার জোগাড় করে আনত। চেয়ারের ওপর তিন মনীষী চড়তেন, তাঁদের গলায় মালা চড়ত। মাইক আসত সাড়ে ছ’টায়, হাতে একগাদা কাগজের তাড়া নিয়ে নতুন পাঞ্জাবীতে সেন্ট মেখে অ-কাকু আসতেন প’নে সাতটায়, ছ’টা পঞ্চাশে “অবিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু”র হুমকি আরম্ভ হত। বলাই বাহুল্য, তাতে কোনও কাজ দিত না।

সাতটা পাঁচেও মাঠে পাঁচটিও লোক হয়নি দেখে বাঙালির পাংচুয়ালিটি নিয়ে গভীর খেদ প্রকাশ করে অবশষে অ-কাকু একটা হেস্তনেস্ত করার সিদ্ধান্ত নিতেন। আমার দিকে চোখ পড়াতেই জ্যাকপট। “এই তো, সোনামণি আছে! আয় তো সোনা, গান শুরু কর তো, তবে যদি টনক নড়ে।” আমি হারমোনিয়ামের বেলো টানতাম, মাইক কঁকিয়ে উঠত আর অবশেষে বাড়িতে বাড়িতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হত। এই রে, হুমকি ফাঁকা নয়, ফাংশান সত্যি সত্যি শুরু হয়ে গেছে। বাবামা ব্যস্ত হয়ে নবজাতকের কাছে অঙ্গীকারের জায়গাটার গলাকাঁপুনিটা বাবাইকে দিয়ে শেষবারের মতো পালিশ করাতেন, মিন্টির একসপ্তাহ আগে ন্যাড়া হওয়া মাথায় রজনীগন্ধার মালা পেঁচানো শুরু হত, সে এসে ‘দারুণ অগ্নিবাণে’র সঙ্গে নাচবে। নাচ শেষ হলে কানায় কানায় ভরা ত্রিপল থেকে চটাপট হাততালির শব্দ উঠবে, মিন্টি ফোকলা দাঁতে হাসবে, মিন্টির মাবাবা দাদুঠাকুমা জেঠুজেঠি কাকুকাকিমা পিসিপিসেমশাই সকলের ছাতি ফুলে দ্বিগুণ হবে।

আমার মিহি গলার ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’-এর কপালে খালি তিনটি রুগ্ন সারমেয়র লাঙ্গুল আন্দোলন।

তবু আমার শিক্ষা হয়নি। কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়েও আমি যেখানে যখন যাওয়ার কথা সেখানে তখন ঘড়ি ধরে পৌঁছেছি। বাকিরা চল্লিশ মিনিট বাদে এসে আমার কোঁচকানো ভুরু দেখে অবাক হয়েছে। “সে কী, ইন্ডিয়ায় জন্মাবি, ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম মানবি না, আর দোষ দিবি আমাদের?” অথবা ছুটতে ছুটতে এসে বলেছে, “আরে কাজই ফুরোয় না, বস ছাড়লে তো”, যেন আমার কোনও কাজ নেই, আমার বস আমাকে ত্যাজ্য করেছেন, বলেছেন, “যা ইচ্ছে তাই কর গিয়ে, আমাকে জ্বালিও না।”

রোজকার এই সব অশ্রদ্ধাঅপমান গায়ে মাখি না-মাখি, অবচেতনে তো তারা ঠিকই ছাপ রেখে যায়। কোথাও একটা বীতরাগ জন্ম নিতে থাকে। কী হবে সময়ে গিয়ে? কী হবে সবার আগে পৌঁছে? আমাকে না হয় না-ই ভালো ভাবল, কিন্তু আমি যে কাজটা করি, সেই কাজটাকেই যখন কেউ ভালো মনে করে না তখন কী হবে সেটা করে?

আমারও তেমনই কিছু হয়েছিল নিশ্চয়। যে আমি অনায়াসে প্রতিদিন অফিসে সবার আগে পৌঁছতাম, সেই আমি নিয়ম করে তৃতীয় চতুর্থ এমনকী পঞ্চম স্থান অধিকার করতে লাগলাম। বিন্দুমাত্র দুঃখও হচ্ছিল না। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে মরে মরে টাইমে অফিস পৌঁছনোর থেকে যে চা খাওয়ার আরামটা পুরো উশুল করা ভালো।

তাছাড়াও আর একটা কারণ ছিল অবশ্য। আবহাওয়া। গত কয়েক মাস ধরে লেপের ভেতর থেকে বেরিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চোখ দেখত ভোর, জানালার বাইরে তাকিয়ে মন বলত, “কী কাণ্ড, এ যে মাঝরাত।“ ওই পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি তৈরি হওয়ার জন্য নিজেকে উদ্বুদ্ধ করাও কঠিন। দেরি হওয়ার সেটাও একটা কারণ বটে।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি পালটেছে। দিনের চার প্রহরে সকাল বলে যে একটা প্রহর আছে সেটা আবার টের পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এ সুখ ক্ষণস্থায়ী। মার্চের শেষ আসতে না আসতেই ঘুম থেকে উঠে দেখব সকাল আবার হাওয়া, বাতাস ভরদুপুরের মতো তেতে রয়েছে।

তাই আমরা এই মাসখানেকের সকালের সুখটুকু চেটেপুটে নিচ্ছি। ঘুম থেকে ওঠার সময় এগিয়েছে, চা খাওয়ার সময়ও এগিয়েছে। এই সব করতে গিয়ে আপসে অফিসে এগিয়ে এসেছে অফিসে বেরোনোর সময়ও।

সেটা যে ঘটেছে আমি খেয়ালই করিনি। গতকাল পা দিয়েই যখন অফিসটাকে অস্বাভাবিক রকমের শান্ত লাগল, এক সেকেন্ডের জন্য বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠেছিল, শিবরাত্তিরের ছুটি দিয়েছে নাকি? তারপরই মনে পড়ে গেল। ছুটি নয়, অফিস খোলাই আছে। এখনও কেউ আসেনি। আমিই ফার্স্ট।

বহুদিন বাদে ফাঁকা অফিসটাকে দেখে আমার মনের মধ্যে যে কেমন অনুভূতি হল সে আমি আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। চেয়ার টেবিল সব পরীক্ষা শুরুর আগে শান্ত পরীক্ষার্থীর মতো বসে আছে, ফুলদানিতে ঝকঝক করছে মালির সদ্য বদলে দিয়ে যাওয়া টাটকা ফুল। ঠিক যেন একটা ছবি, তার মধ্যে আমি হেঁটে হেঁটে ঢুকে পড়েছি। ব্যাগ রেখে গান ভাঁজতে ভাঁজতে খবরের কাগজের খোঁজে বেরোলাম। কমন রিডিং এরিয়ায় পাট পাট করে রাখা খবরের কাগজ। যেটা খুশি সেটা নিতে পারি। গত কয়েকমাসে এ সুখ থেকেও আমি নিজেকে সেধে সেধে বঞ্চিত করে রেখেছিলাম। যখন আসতাম ততক্ষণে খবরের কাগজ সব হাওয়া, দেখতে হলে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ছবি দেখ বসে বসে। সময় নিয়ে বেছেবুছে একখানা কাগজ বগলে নিয়ে চায়ের খোঁজে প্যান্ট্রির দিকে গেলাম।

প্যান্ট্রিতে ঢুকেও চোখ জুড়িয়ে গেল। ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা ধপধপে সাদা কাপপ্লেট সারি সারি সাজানো। টি ব্যাগের স্টক কানায় কানায় ভরা। একটা হলুদ রঙের লেমন টি-র প্যাকেট তুলে ছিঁড়ে কাপে ফেললাম। কেটলিতে জল ভরে সুইচ অন করলাম। জল ফুটতে লাগল। আমি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। চারদিক ঝকঝক করছে। লে মেরিডিয়ানের কাঁচে ছিটকোচ্ছে বসন্তের রোদ। গাঢ় নীল আকাশের নিচে ঘন সবুজের বন দেখতে দেখতে সবে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাবছি, দিনের ওয়ার্ম আপটা তো ভালোই হল, এবার কাজটা কেমন হয় দেখা যাক, এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে . . .

“ওহ!”

পেছন ফিরে দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে। মেয়েটাকে আগেও দেখেছি। নতুন রিক্রুট। মুখ দেখ বোঝা গেল সে এ সময় আমাকে এখানে আশা করেনি। খুবই অবাক হয়ে জানতে চাইল হঠাৎ আমি এত আগে এসেছি কেন। বুঝলাম, গোটা অফিসটা এ সময় নিজের দখলে রাখতে অভ্যস্ত এ মেয়ে, আমার এসে পড়াটাকে ভালো চোখে নিতে পারেনি। মেয়েটি বেশ ভদ্রসভ্য যদিও। ওর রাজ্যপাটে আমি এসে পড়েছি দেখেও বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতে লাগল। কী সুন্দর ওয়েদার, স্যাডলি বেশিদিন থাকবে না ইত্যাদি প্রভৃতি নিয়ে কথাবার্তা চালাতে লাগল। অবশেষে জল ফুটে গেল, আমরা চা নিয়ে বাই বাই, সি ইউ টি ইউ বলে নিজের নিজের রাস্তায় হাঁটা দিলাম। যাওয়ার আগে আমি কোথায় থাকি, সেখান থেকে আসতে কতক্ষণ লাগে ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করে গেল মেয়েটা। আমি আর ভাঙলাম না যে এটাই আমার টাইম, ওর ছায়াও যখন এ অফিসে পড়েনি তখনও আমি এই সময় এসে ফাঁকা অফিসে ঘুরে বেড়াতাম। বললাম, “এই এসে পড়লাম আর কি।” বুঝতে পারলাম, কাল থেকে ও আরও আগে আসবে। ও এখনও এই অকারণ খেলাটায় ভালো হওয়ার চেষ্টা করছে। সবার থেকে ভালো। কেন জানি না আমার মন ভালো হয়ে গেল।


33 comments:

  1. মন ভালো হওয়াটাই বড় কথা। তোমার লেখা পড়ে আমাদেরও মন ভালো হয়ে গেল। একটা পাঁচালীর মত একটানা রুদ্ধশ্বাসে পড়ে ফেললাম। নিজের বাড়ি, ছোটবেলা, হাফপ্যান্ট পড়ে রবিঠাকুর আবৃত্তি - স-অ-ব ঘুরে এলাম। ধন্যবাদ দি, এইরকম একটা লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে, আবির যে! তোমাকে অনেকদিন বাদে দেখে খুব ভালো লাগল। সব ভালো চলছে আশা করি? লেখাটা তোমার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  2. Replies
    1. থ্যাংক ইউ, ভট্টা।

      Delete
  3. bah bah bah....amar o mon bhalo hoye galo.

    ReplyDelete
    Replies
    1. তোমার কমেন্ট পড়ে আমারও হল রাখী। হাই ফাইভ।

      Delete
  4. darun..satti khub bhalo laglo :) tinni

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ, তিন্নি।

      Delete
  5. Ei re.,... Jara bhalo hoy, perfect hoy, kono kichuute first hoy (poriksha hok Ba Ofc asa) tader je amar bhari durer manush mone hoy :(

    ReplyDelete
    Replies
    1. আহা রে, ফার্স্ট হয় বলে কি মানুষ না? এ ব্যাপারে গীতার কথা আমার মনে ধরে। সমত্বদৃষ্টি। যে ফার্স্ট হচ্ছে, সে যা কিছুতেই হোক না কেন, তাকেও নিজের সমান ভেবে কাছে টেনে নিন, প্লিজ। দূরে ঠেলে রাখবেন না।

      Delete
  6. Ei somoi e asa niye amar baje problem. Ajkal oti okhaddo cinema gulo jar sathe dekhte jete hoi tini thaken jadavpur e, ar somoi er kono mother-sister nei. ami ajkal ruby thekei tara dite thaki sulekha chole esechi bole. Eto kore tar matro 5 min late howar bondobosto kora geche.

    ReplyDelete
    Replies
    1. এই! এই রাস্তাটা আমি এখন চিনি! রুবি থেকে সুলেখা। সুলেখা মানে সুলেখা কালির বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাটার স্টপটার কথা বলছ তো, অর্ণব? তোমার ট্রিকটা ভালো। চালিয়ে যাও।

      Delete
  7. এই সময় রাখার ব্যাপারে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন আমার দাদু। সাধারনত কারুর বাড়ি নেমন্তন্ন থাকলে দাদু যখন সময় তখনই যেত, আর গিয়ে দেখত যে তারা মোটেই প্রস্তুত হয়নি। আমারও এই রোগটা খুব বেশিমাত্রায় ছিল, কিন্তু চারিদিক থেকে ঘা খেয়ে খেয়ে আস্তে আস্তে একটু "টোন ডাউন" করেছি। এখন আমি একটু দেরীতে যাওয়া মানুষদের দলে।

    আপনার অফিসে সকালে যাওয়ার বর্ণনা শুনে আমার যেটা মনে পড়ে গেল সেটা অবশ্য অফিসের স্মৃতি নয়, স্কুলের স্মৃতি। ঐরকম সকালে, যখন সবে ঘরে ঝাঁট পড়েছে, তখন আমি গিয়ে ক্লাসে ঢুকতাম। আমাদের প্রাচীন স্কুল বিল্ডিঙ্গের মোটা মোটা দেওয়ালের উঁচু উঁচু জানালা গুলো তখন অল্প ফাঁক করা, আর সেই ফাঁক দিয়ে তখন প্রথম সূর্যের রশ্মিরা সরল রেখায় প্রবেশ করে ক্লাসের মেঝেতে আর চেয়ার-টেবিলে আঁকিবুকি কেটেছে। সদ্য ঘুম ভাঙ্গা কিছু ধুলিকণা সেই সূর্যের আলোর রেখাগুলোর মধ্যে উড়ে বেড়াচ্ছে। সেই অবস্থায় আমি গিয়ে ঢুকতাম। যে সীটে ইচ্ছে বসা যেত, বাইরে গিয়ে মাঠে ছোটাছুটি করা যেত, এমন কি হোমওয়ার্ক বাকি থাকলে সেটাও শেষ করে নেওয়া যেত। অন্তত আধ ঘন্টা ডিস্টার্ব করার কেউ থাকতনা।

    ReplyDelete
    Replies
    1. এটা একটা দারুণ ফিলিং, সুগত। যার না হয়েছে সে বুঝবে না। আর আপনি বর্ণনাটা দিয়েওছেন খুব সুন্দর। থ্যাংক ইউ।

      আমিও টোন ডাঊন করেছি আজকাল। লোক হাসিয়ে আর লাভ নেই।

      Delete
  8. খুব ভালো গো লেখাটা .. সত্যি মন ভালো করা .... অফিস এর মর্নিং শিফট গুলোতে আমিও এমন গোছানো প্যান্ট্রী পেতাম মনে পড়ে গেল। .. আমি একসময় খুব টাইম ধরে যাতায়াত করতাম। .. কিন্তু এখন কার সাথে দেখা করা বা যাওয়া সে কেমন দেরী করে সেসব আগে থেকে জেনে তারপর সেই অনুযায়ী যাই ... :) একবার আমার এক বন্ধু নৈহাটি থেকে শিয়ালদা ৪০ মিনিটে আসছি আসছি করে ২ ঘন্টা পরে এসেছিল ..... তারপর থেকে ওকে আমরা ১ টায় দেখা করার হলে ১১ টা টাইম বলি ... অফিস টা আমার একসময় শিফট ছিল ২-১১ টা ... ১২ টায় গেলেও সেই ১১ টার আগে বেরোতে পারতামনা.. তাই ইচ্ছে করে ২ টোর পর ঢুকতাম। .. সেই থেকে লেটুস হয়ে গেছি ...

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমরা সকলেই টোন ডাউন করেছি দেখা যাচ্ছে, ঊর্মি।

      Delete
  9. বিষয়টাকে পার্ফেক্টলি উপভোগ করার জন্য হান্ড্রেড পার্সেন্ট পার্ফেক্ট লেখা পেলাম।
    তোমার মা, আমার বাবা প্রভৃতি আগেকার দিনের মা-বাবারা জানি কেমন একটা। নিজেরাও করেছে, আমাদেরকেও কর্তব্যের পুঁটুলি না বানালে শান্তি নেই। যতই কষ্ট হোক না কেন, কর্তব্য সমাপনের গর্বে উদ্‌ভাসিত।
    আর বাকিটা? বড় হয়ে ওঠার দিনগুলির কথা চকিতে ভেসে গেল মনের আকাশ দিয়ে। যখন তখন গান কর্‌, কবিতা বল্‌, এমনকি ইংরাজি ট্রান্সলেশন, ইডিয়ামের অর্থ, সংস্কৃত শব্দরূপ ধাতুরূপ বলা -- কী অত্যাচারের দিনগুলি, চোখের জলে থৈ থৈ করা সময়টা উজ্বল হাসি গায়ে জড়িয়ে আজ আমার সামনে দিয়ে হাত নাড়তে নাড়তে চলে গেল। ধন্যবাদ কুন্তলা।

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ থ্যাংক ইউ, মালবিকা। এমন পারফেক্ট কমেন্ট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

      Delete
  10. না না, সময় মেনে চলা খুব বড় গুণ, অন্তত আমি তাই মনে করি। ধরুন আপনি দিল্লি থেকে কলকাতা যাচ্ছেন, প্লেনে। এয়ারপোর্টে গিয়ে শুনতে পেলেন যে পাইলট আসতে দেরি করছে বলে প্লেন ছাড়তে দেরি হবে। তখনও কি বলবেন, যে সময় মেনে চলাটা বাড়াবাড়ি এবং অদরকারি?

    ReplyDelete
    Replies
    1. এদিকে আপনি লেট করে গিয়ে দেখুন, পাইলট বাবাজী আপনাকে ছেড়ে দিব্যি হাঁটা দেবেন। তখন আর উল্টো দিকের কথাটা মনে থাকবে না।

      আমিও আপনার সঙ্গে একমত, দেবাশিস। সময় মেনে চলাটা খুবই দরকারি। সে জন্যই তো চলার চেষ্টা করি।

      Delete
  11. "কাজ পৃথিবীতে অনেক থাকলেও কর্তব্য আছে সামান্যই। কর্তব্যের বাইরের কাজগুলো ভালো করেই কর কি খারাপ করে তাতে কিছু যায় আসে না।".............অসাধারন লেখা। ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে আমাকে আবার ধন্যবাদ কীসের। আমারই তো ধন্যবাদ জানানোর কথা। অবান্তরে স্বাগত, প্রসূর্য়্য।

      Delete
  12. darun laglo... chhotobelata porchhi ar hese gorachhi... ar nijer chhotobelar onek kotha mone pore jachhe... :-) ar lekhar seshtao mon bhalo kora ...

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবয়াদ ধন্যবাদ, ইচ্ছাডানা।

      Delete
  13. Parents der tulona kakhono kora uchit noy, more so sei half-pantulun/skirt pora'r boyeshe.

    Tobe onara, beshir bhag Maa-era (antoto amar Khoka-bela theke mone ache, the eternal bela-birombona of life) kintu probhuto drishtanto sthapon korte bindu-matro kuntha bodh korten na. "Dekh, dekhe shekh....." akkhore akkhore palon korte giye aaj kopal chawrra (more due to follicular recession than structural engineering) ebong cylindrical vision er maduli niye ghurchi.

    Buddhadev Guha likhe geshlen na: "Sobar Baba-rai jodi first-second hoten, tahole third-fourth-er dol gelen kothay?"

    Aalo royeche apna'r shobde. Aaro aalo chhoran.

    Let there be light. :) For evermore.

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমার মায়ের অফিসে একজন স-দি চাকরি করতেন, তিনি যেদিন বাড়ি ফিরে ছেলেকে অন্যদিনের থেকে বেশি বকতেন, ছেলে বলত, "আজ আবার অফিসের কার ছেলে ফার্স্ট হল?"

      প্রশংসার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি অবান্তর আরও অনেকদিন আপনার মনোরঞ্জন করবে। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  14. chhotobelar golpo ta pore khub haslam. sob ma der eki golpo, "ja-khushi-tai" sunlei antke othen. emon ki ami ekhon amar meyeke (je kina 3.5 yrs bole "ja-ichhe-tai" thik describe korte parena) same kothai boli, o bargain korte chay je daycare e lunch khele bari giye 4 cupcakes khabe, bojho thyala, ami aantke uthe na na ota kora jayna bole uthi!! - Bratati.
    Achchha tomader office e erom drishtanto nei jekhane ekjon wait kore thake je last e berobe, seta tar ager lok-er 1 minute por holeo cholbe? !! amar e bishoye besh kichu experience achhe, likhte ichhe korchhe, kintu r likhlam na :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. কী জানি ব্রততী, ওই লাস্টে বেরোনোর লড়াইটা আমার চাক্ষুষ করার সুযোগ হয়নি, যেন কোনওদিন না হয় এই আমার কামনা। আমার মোটো এ ব্যাপারে অ্যামেরিকার মতো। ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট।

      তোমার মেয়ের বারগেন করার ক্ষমতা দেখে আমি মুগ্ধ।

      Delete
  15. Ami konodin e somoymoto cholte parini... ekhono somoymoto JRF er form fillup korte vule jai.. hoyto du-tin mas bade bade mone pore... beshirvag somoy e akta nyalakhyapa vaab thake nijer moddhe. Kintu kano jani na mone hoy eto mene cholle nijer sathe compromise kora hoye jay, kajer quality pore jay... kono kono din, jokhon prochur kaj kori, ami diner bela dept e jaio na.. pore kotha shunte hoy ... kintu ki korbo? Lekhata amake khub inspire korechhe .. kintu ei tug-of -war er folta konodin e thik bujhe uthte parlam na. Majhe modhdhe mone hoy I'm not matured enough

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে হীরক, সব্বার কাজ করার ধরণ আলাদা। দোষগুণের বিচারও। যে যার নিজের বিচারের দোষগুণ নিয়ে নিজের জীবন বানায়। না বানালেও কিছু এসে যায় না। কাজেই তোমার যদি তোমার মতো থাকতে ইচ্ছে করে তাহলে তাই থাক, খবরদার লোকের কথা শুনে নিজেকে বদলিও না।

      Delete
  16. Superhit mukabla dekhata amar chotobelateo besh 'ja icche tai' kichu akta korar porjaye porto. Amader joint family te Uptron(?) er akta yaa boro kather shutter tana sada kalo tv chilo jate ami ar amar tuto bhai bon ra Hindi cinemar gan dekhbo bole bose thaktam. Cartoon dekhte badha chilo na. Even sondhebela gota bari aksathe bose Jonmobhumi dekhao daily routine chilo. But tai bole Hindi cinemar gan?! Amar thakuma US secret service agent er moto dedication diye tv agle rakhten pache amra 'bador nach' dekhe gollaye jai. Haha. Irrelevant golpo bollam.
    Lekhata khub bhalo hoyeche Kuntala di.

    ReplyDelete
    Replies
    1. ইররেলেভ্যান্ট তো নয়ই, দারুণ ভালো গল্প বললে, কুহেলি। "বাঁদর নাচ" কথাটা কিন্তু চমৎকার। অবশ্য ঠাকুমাদের সব কথাই চমৎকার। জন্মভূমি দেখার লাইন আমাদের বাড়িতেও পড়ত। আমার ঠাকুমা, নিজের বাড়ির গরুর দুধ বিক্রি করতে আসতেন একজন পিসি, এরা সবাই মিলে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে দেখতেন।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.