March 31, 2019

মার্চ মাসের বই/১



I Spy with My Little Eye/ Humphry House



“The evening traffic was out on Central Avenue. South-going football cars were cheating one another in the stream, an on the pavements many people more, hurrying to the match with umbrellas and periscopes, had to swerve and dodge to gain position among the rest, who merely wanted to be cool. The bulls navigated from island hydrant, from hydrant to dustbin, sharing with men desire for pleasure and safety, tired of a day’s obstructing traffic, indolently cheered with hopes of food. Master-bulls might spend the day beneath a Chowringhee electrician’s fan, but for these their cover was the selfish sky, and they began to prowl when its vigilance relaxed. As these went down everything moved quicker. The policeman at Bowbazar crossing had been reinforced; and two of them signalled to each other across the chaos. 

I had walked from College Street past the Hospitals; from the hopeless spiral muddle made by Bentinck past disease and beggary - lepers for pice, nurses for taxi-rides - ; food for someone else’s thought. The Bowbazar trams were packed - I must walk still further - packed to bursting, so that men who clung to the rails resented everyone inside and feared everyone without. …. Now as I got hot with walking and my shirt stuck between the shoulder-blades and prickly-heat began along my arms, dodging coolies and pie-dogs, I saw the sign “Phear lane” - a narrow baffling street, full of gambling and carpentry and fake antiques,  thet leads to the Nanking Restaurant and bitter Chinese sauce.

The trans were not so full now: I  waited opposite the Post Office; the clock was lit up. Four rows of men sitting in white punjabis turned the Black Hole Corner and then the tram’s head-lamp lit the grass between the lines. I moved my weight from leg to leg: a fat man drew up alongside snuffing after his wife’s sondesh in Bhowanipur. The tram stopped and I followed him in. I had to take a Ladies’ seat, and being European I felt like a clergyman. I grounded my bag, lit a cigarette, looked out of the window and tried to be a man. In the Square crowds of men were sitting on seats: the pavement had nothing to offer. It was very bright inside; the punjabis glowed, a face-cream woman simpered over the driver’s head, a despatch-case on the floor belonged to Rabindra Narayan Bose, B.A., Insurance Agent. The fan blew ash on my trousers. I had a staring-match with a child who was kneeling backward on his seat, and stared him into sitting down again. My eye moved to the man on the seat in front of me. He was reading the Shambazar Samachar football page. Mohan Bagan had won again: the Customs had lost. There was a heading “Bare Feet v. Boots,” but I couldn’t see what it said. 

কলকাতা শহরের ওপরের চেহারাটা যিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর নাম হামফ্রি হাউস। হামফ্রি হাউস ইংল্যান্ডে জন্মেছিলেন উনিশশো আটে, মারা গিয়েছিলেন উনিশশো পঞ্চান্নয়, অকালেই বলা চলে। ভারতবর্ষে এসেছিলেন উনিশশো ছত্রিশ সালে, প্রেসিডেন্সি কলেজের ইংরিজির শিক্ষক হয়ে। কিন্তু কলেজ পরিচালনা এবং বুদ্ধিজীবী মহলের ওপর সরকারি ছড়ি ঘোরানোয় বীতশ্রদ্ধ হয়ে প্রেসিডেন্সি ত্যাগ করে রিপন কলেজে, এখন যার নাম সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, জয়েন করেন। কলকাতা তথা ভারতে হাউস ছিলেন মোটে দু’বছর, উনিশশো আটত্রিশে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। কিন্তু ভারতবর্ষে কাটানো এই দুটি বছর তাঁর চেতনায় জেগে থাকে। 

তার অনেক কারণ থাকতে পারে। এক, হাউস যখন কলকাতায় এসেছিলেন, ভারতীয় রাজনীতির পক্ষে সময়টা ইন্টারেস্টিং ছিল। দুই, কলকাতায় তাঁর আলাপ হয়েছিল একটি অসামান্য আড্ডার দলের সঙ্গে, দলের নাম 'পরিচয়'। পরিচয় ছিল আসলে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচালনায় উনিশশো একত্রিশ থেকে উনিশ তেতাল্লিশ পর্যন্ত প্রকাশিত হওয়া একটি সাহিত্য পত্রিকা। পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি নক্ষত্রসমাবেশ গড়ে ওঠে যার নিয়মিত আড্ডা বসত উত্তর কলাকাতার দত্তবাড়িতে। মাঝেমাঝে পত্রিকার অন্য কর্ণধার প্রবোধ বাগচীর বালিগঞ্জের বাড়িতেও আড্ডা জমত। আসতেন সত্যেন বোস, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখার্জি, হুমায়ুন কবীর, হারীতকৃষ্ণ দেব, বিষ্ণু দে, স্টেটসম্যান পত্রিকার লিন্ডসে এমারসন ও তস্য পত্নী মৃণালিনী। এ ছাড়াও বিবিধ সাহেব ও বাঙালির নিয়মিত যাতায়াত ছিল পরিচয়ের আড্ডায়। সরোজিনী নাইডু পর্যন্ত পরিচয়ের সভ্যপরিচিতি শুনে চোখ কপালে তুলেছিলেনঃ নির্ঘাত দাঁতভাঙা বিষয় ছাড়া আড্ডায় কথা বলা যায় না? তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল ব্যাপারটা নাকি মোটেই সে রকম নয়; আবহাওয়া , রাজনীতি, ফুটবল, কবিতা, ঠাণ্ডাগরম, ঝি বেটির পালানো, সব নিয়েই আলোচনা অ্যালাউড। 

আর এই সব কথা বলতে পারা নিয়েই সন্দেহের শুরু। সব কথাই যদি বলা যায় তাহলে সিডিশাস কথাবার্তা বলতেই বা আপত্তি কী? “মস্কো এজেন্ট” এর খোঁজে খোচর ঢোকানো হয়েছিল পরিচয়ের আড্ডায়। তারাই হামফ্রি হাউসকে স্পাই হিসেবে সন্দেহ করেছিল। হাস্যকর ব্যাপারটা হচ্ছে, স্পাই হওয়ার জন্য দরকারি গুণাবলী ভরপুর ওয়ালা আরও আড্ডাবাজেরা পরিচয়-এর দলে ছিলেন, এবং একজন ছিলেন সত্যি সত্যি ব্রিটিশবিরোধী গুপ্তচর। যথারীতি তাদের ছেড়ে দিয়ে হামফ্রি হাউসকে স্পাই হিসেবে চিহ্নিত করা পুলিসের ক্ষমতার দৈন্যকেই প্রকাশ করে, যার হাস্যকরতা আই স্পাই-এর ছত্রে ছত্রে তুলে ধরেছেন হামফ্রি হাউস।

হামফ্রি হাউস হরেদরে সাহেব ছিলেন না। আলিপুরের সাহেবপাড়ায় থাকার বদলে তিনি কলেজ হোস্টেলে থাকতেন। চোখকান তাঁর খোলা ছিল কাজেই চারদিকে কী ঘটছে নজর না করে উপায় ছিল না। সে দৃষ্টি ঔপনিবেশিকতায় আচ্ছন্ন ছিল না। কলকাতা শহরের নোংরা, দুর্গন্ধও যেমন তিনি দেখেছিলেন। ভালো মাইনে আর ক্ষমতার লোভে ব্রাইট ইয়ং ইংলিশম্যান দের ভারতবর্ষে পাড়ি দেওয়া এবং এখানে এসে সব লিবারেলিজম এবং আইডিয়ালের শ্রাদ্ধ এবং শেষমেশ ভারতবিদ্বেষের গোষ্পদে ডুবে মরার জীবনবৃত্তও মিস করেননি।

“Ten years ago he was an unhandy, liberal-minded man. … The future held his liberalism’s death, a large car, a thousand rupees a month saved, itch of inquisitiveness, gloating over secret documents by a policeman’s lamplight. 
…..

I thought about the stages of such men’s decay; the records of their letters if they could be filed and read in series; the tale of weakened, failed, broken friendships; the decline of taste and interest in things; greying or thinning hair, beery or ascetic-cynical lips, their money and their comfort. The street ends in three Temples of Decay - Lalbazar Police Station, St. Andrew’s Church (Padre Mac, beer-drinker and novelist: “The trouble I always find with the Indian is his fundamental dishonesty”) and Writers’ Buildings.”

'আই স্পাই উইথ মাই লিটল আই', পঁচিশ পাতার একটি স্যাটায়ারিক্যাল বই, এতই সংক্ষিপ্ত যে তাকে প্যামফ্লেট বলাই যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তৎকালীন সময়সমাজের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিচার করলে এর তাৎপর্য পুঁচকে নয়। হাউসের ইংল্যান্ডের বন্ধুবান্ধবেরা পর্যন্ত 'আই স্পাই' পড়ে শিহরিত হয়েছিলেন। প্যামফ্লেটটিকে “odd and frightening” “wildly paranoiac”, “anti-england in India” ইত্যাদি শিরোপা দিয়েছিলেন। যদিও শহরের নাগরিক সুযোগসুবিধে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ধ্বসে যাওয়া, উল্টোদিকে পুলিসি শাসনের ক্রমাগত বৃদ্ধির আবহাওয়ায় এই ছোট্ট বইটির বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিকে কলকাতার মিডিয়া দু’হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানিয়েছিল। সাতই নভেম্বর উনিশশো সাঁইত্রিশে যুগান্তর-এর (পেপার কাটিং-এর ছবি থেকে বোঝা যাচ্ছে, শহরের সংস্করণ ২১ কার্ত্তিক রবিবার এবং মফঃস্বল সংস্করণ ২৩শে কার্ত্তিক মঙ্গলবার) এই “আধুনিক শ্লেষ-পুস্তক”খানির সদর্থক রিভিউ ছেপেছিল।

উনিশশো সাঁইত্রিশে ভারতী ভবন থেকে হামফ্রি হাউসের ‘আই স্পাই উইথ মাই লিটল আই’ প্রথম প্রকাশিত হয়। দু’হাজার আঠেরোয় যাদবপুর ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে আবার নবকলেবরে প্রকাশিত হয়েছে ‘আই স্পাই’। পঁচিশপাতার মূল টেক্সটটির সঙ্গে আরও আছে সেই সময়ের কলকাতার ছবি, তৎকালীন হামফ্রি হাউসের বিখ্যাত বাঙালি বন্ধুদের (পরিচয়ের লেটারহেডে সুধীন্দ্রনাথের লেখা চিঠি, কবিতা-র লেটারহেডে বুদ্ধদেব বসুর চিঠি) বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিভিউর কাটিং-এর ছবই ইত্যাদি। 

মুখবন্ধ এবং টীকাটিপ্পনী দিয়ে এই চমৎকার নতুন প্রকাশনটিকে বেঁধেছেন যাদবপুর বিশ্ববিধ্যালয়ের ইংরিজি বিভাগের অধ্যাপক সজনী মুখার্জি এবং গবেষক ছাত্র সুজান মুখার্জি। কলকাতা লিটারেরি মিটেই সম্ভবতঃ একটি সেশনে তাঁরা বলেছেন যে ইন্ট্রোডাকশনের পরিমাণ একটু বেশিই হয়ে গেছে, কিন্তু আমার মতো  হামফ্রি হাউসের নামও না শোনা পাঠকের পক্ষে এই বিশদ ভূমিকা গোটা ব্যাপারটাকে স্থান, কাল, পাত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ফেলতে সবিশেষ সাহায্য করে। 


১। Human Acts/ Han Kang


“Is it true that human beings are fundamentally cruel? Is the experience of cruelty the only thing we share as a species? Is the dignity that we cling to nothing but self-delusion, masking from ourselves the single truth: that each one of us is capable of being reduced to an insect, a ravening beast, a lump of meat? To be degraded, slaughtered - is this the essential of humankind, one which history has confirmed as inevitable?” 

বই পড়ার দিক থেকে দেখলে দু'হাজার আঠেরোর আমার খুব একটা সুবিধের কাটেনি আগেও বলেছি। গুনতির দিক থেকে বই কম পড়েছি সেটা একটা আফসোস কিন্তু তার থেকেও জোরালো আফসোস হচ্ছে যে দু'হাজার আঠেরোয় আমি এমন একটাও বই পড়িনি যা আমার চেতনায় দগদগ করছে। 

হ্যান ক্যাং-এর কোরিয়ানে লেখা আর ডেবরা স্মিথ-এর ইংরিজিতে অনুবাদ করা 'হিউম্যান অ্যাকটস' আমি পড়তে শুরু করেছিলাম দু'হাজার আঠেরোতেই, করেই থেমেও গিয়েছিলাম। যদি শেষ করতাম তাহলে দু'হাজার আঠেরো আমার ভালোলাগা বই-শূন্য কাটত না। তবে দের আয়ে, দুরস্ত আয়ে। দু'হাজার উনিশের প্রথম পাদ অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই আমি হিউম্যান অ্যাক্টস শুরু করে শেষ করেছি, কাজেই বই পড়ার দিক থেকে অন্তত দু'হাজার আঠেরোর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে না গ্যারান্টি। এ বছরের শেষে আমার প্রিয় বইয়ের লিস্টে দশটা, পাঁচটা কিংবা তিনটে বইও যদি থাকে, হিউম্যান অ্যাক্টস তার মধ্যে থাকবে ।

হ্যান ক্যাং আর ডেবরা স্মিথের যুগলবন্দীতে আরও একটা বই আমি পড়েছি, অবান্তরে লিখেওছি তাকে নিয়ে। দ্য ভেজিটারিয়ান। সে বই নিয়ে শোরগোল অনেক বেশি হয়েছিল। আমার ভালোও লেগেছিল বইটা। কিন্তু দুটো বই পড়ার পর আমি হিউম্যান অ্যাক্টসকে বেশি কাছের মনে করছি। তার একটা প্রধান কারণ হতে পারে, ভেজিটারিয়ান-এও পুরুষনারীর বৈষম্য আর মানসিক অসুখের প্রতি তাচ্ছিল্য ইত্যাদি মানবসভ্যতার যত গুরুতর অসুখ নিয়ে লেখা কিন্তু সে বইতে সবটাই লেখক দেখেছেন একটি (বা কয়েকটি) ব্যক্তিমানুষের সমস্যা হিসেবে । 

উল্টোদিকে, হিউম্যান অ্যাক্টস-এর পটভূমির ব্যপ্তি আরেকটু বিস্তৃত। একটা গোটা শহর। গোটা সমাজ। হিউম্যান অ্যাক্টসের ঘটনাবলীর ভিত্তি হল উনিশশো আশির গোয়াংজু শহরের ছাত্র আন্দোলন। বিশদে আপনারা সে বিষয়ে পড়ে নিতে পারেন, ইন্টারনেটে অনেক তথ্য ও আলোচনা আছে। মূল ঘটনাপ্রবাহ খানিকটা এই রকম। উনিশশো ঊনআশিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক রাষ্ট্রপতি পার্ক চুং-হি র হত্যার পর আঠেরো বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অন্ত হয় কিন্তু তারপর যা শুরু হয় তা হল মাৎস্যান্যায়। উনিশশো আশির শুরু থেকে গণতন্ত্রের দাবিতে সারা দক্ষিণ কোরিয়াতেই ছাত্র আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। রাষ্ট্রের শক্তিপ্রয়োগও চলতে থাকে অবিরাম। আঠেরোই মে গোয়াংজু শহরের চোনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গেটের সামনে ছাত্রজমায়েত হয়, মিলিটারি নামে, আরও ছাত্রও জড়ো হয়, আরও মিলিটারি। তারপর শুরু হয় যুদ্ধ। অসম, বলাই বাহুল্য। সাতাশ তারিখের মধ্যে সব যুদ্ধ শেষ। গোয়াংজুতে শ্মশানের স্তব্ধতা। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব কেউ জানে না। দুশো থেকে দু’হাজার যা খুশি হতে পারে।

ভেজিটারিয়ানের মতোই, হ্যান ক্যাং, সাউথ কোরিয়ার রাজনীতি ও সমাজে ওই পাঁচদিনের প্রভাব দেখিয়েছেন কয়েকটি চরিত্রের চোখ দিয়ে। উনিশশো আশি থেকে শুরু করে, উনিশশো পঁচাশি, নব্বই, দুহাজার দুই, দশ - এই কয়েকটি বছরের বিন্দুতে, ভিন্ন কয়েকটি চরিত্রের চোখ দিয়ে হ্যান ক্যাং ওই পাঁচদিনের ঘটনা এবং তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখিয়েছেন। সে চরিত্রদের মধ্যে শবদেহের পর্বতের তলায় চাপা পড়া মৃতদেহের শরীর থেকে সদ্য বিচ্যুত হওয়া আত্মাও যেমন আছে, চোখের সামনে বন্ধুকে রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে বুকে গুলি বিঁধে মরে যেতে দেখা বন্ধুও আছে, গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়া কিশোরও আছে, তার মা আছেন, আবার এমন মানুষও আছে যারা রাস্তায় নামেনি, স্লোগান দেয়নি, গুলির সামনে বুক পাতেনি। খালি ক্রমাগত জমে উঠতে থাকা মৃতদেহদের ক্ষত থেকে রক্ত পুঁজ পরিষ্কার করে, অর্ধেক উড়ে যাওয়া খুলির ঘিলু যথাসম্ভব পরিষ্কার করে, সম্মান ও সতর্কতায় তাদের সারি সারি শুইয়ে রেখেছে। না খেয়ে না ঘুমিয়ে পাহারায় থেকেছে, কেউ যদি খুঁজতে আসে যাতে তাদের হাতে যতটুকু বাকি আছে তুলে দেওয়া যায়।

হিউম্যান অ্যাক্টসের মূল সম্পদ হ্যান ক্যাং-এর ভাষা বলতে পারতাম (আর ডেবরা স্মিথের সার্থক অনুবাদের), কিন্তু আমাকে বলতেই হচ্ছে হিউম্যান অ্যাকটস-এর মূল সম্পদ হ্যান ক্যাং-এর অবিশ্বাস্যরকম সংবেদনশীল মন আর মানুষের প্রতিটি দুর্বলতা, শক্তি, অনুভূতির প্রতি নাগাল। অমানুষিক অত্যাচারের দৃশ্য হ্যান ক্যাং যতখানি দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেন, ঘুমন্ত ভাইয়ের মুখের দিকে দিদির একমুহূর্ত তাকিয়ে থাকার দৃশ্যেও পাঠকের চোখে ততখানি কাঁচ বিঁধিয়ে দিতে পারেন। এ শুধু ভাষা দিয়ে হয় না, ভাবও লাগে।

হিউম্যান অ্যাক্টস-এর থিম যদি বলতে বলেন তাহলে আমি বলব হিউম্যানিটির সংজ্ঞা খোঁজা। মানুষের হিংস্রতার মাত্রার সীমাপরিসীমা নিয়ে লেখকের বিস্ময়ের কোটেশন দিয়ে লেখা শুরু করেছি, কিন্তু আরেকরকম হিউম্যানিটির বর্ণনাও লেখক দিয়েছেন এই বইতেই। সেটাও বলে রাখি।

“The day I stood shoulder to shoulder with hundreds of thousands of my fellow civilians, staring down the barrels of the soldiers' guns, the day the bodies of those first two slaughtered were placed in a handcart and pushed at the head of the column, I was startled to discover an absence in side myself: the absence of fear. I remember feeling that it was all right to die; I felt the blood of a hundred thousand hearts surging together into one enormous artery, fresh and clean...the sublime enormity of a single heart, pulsing blood through that vessel and into my own. I dared to feel a part of it.” 


12 comments:

  1. তোমার থেকে সব সময়ই ভালো ভালো গল্পের সন্ধান পাই সেটার জন্য থাঙ্কু। আমি দুটো বই কিনলাম, নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা ও নরক সংকেত। প্রথমটা শেষ আর দ্বিতীয়টা চলছে। একটু ঢিমে তালে বই পড়ি তাই সময় লাগে। তোমার কি পড়া এই দুটো? আর হ্যাঁ ব্লগ নিয়ে লেখাটা পড়ে অল্প একটু দুঃখ টাইপ হয়েছিল নিজে অনেক দেরিতে শুরু করার জন্য। তারপরে ভাবলাম আমি সবেতেই লেটুস, সেটাই আমার স্বভাব। এই বয়সে স্বভাবের বাইরে যাওয়া আমার মত ল্যাদ মানুষের পোষাবে না। আর জানি তুমিও লেখা ছাড়তে পারবেনা। অতএব এইটা ভাবতেই মনটা এখন ফুরফুরে।
    -প্রিয়াংকা

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, প্রিয়াঙ্কা। আমার নাস্তিক পণ্ডিত আছে, শুরু করে রেখে দিয়েছি। নরক সংকেতের নাম শুনেছি। তোমার বইদুটো কেমন লাগল জানিয়ো।

      Delete
  2. Bah.
    Ei bibhag ta suru howate er beshi r kichhu bolte chaina, ebare jeno bondho na hoy. :)
    Alochyo boiduto besh interesting. Dwitiyo tar naam ami sunechhi bote, tobe pora hoyni. In fact, The Vegetarian o pora hoyni, tobe ichhe acche dutoi porar.:)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আর বন্ধ হবে না, অরিজিত। মানে আমি চেষ্টা করব না বন্ধ করার। আপনি বললেন বলেই হল অনেকটা। আমি নিজেকে যথেষ্ট গুঁতো দিয়ে উঠতে পারছিলাম না। হ্যান ক্যাং পড়ে দেখতে পারেন। ভালো লাগবে মনে হয়। না লাগলেও বিশেষ অসুবিধে হবে না, কারণ বইগুলো ছোট ছোট।

      Delete
  3. গোয়াংজু ঘটনা নিয়ে গতবছর একটি সুন্দর ছবি দেখেছিলাম, A Taxi driver (সত্য ঘটনা অবলম্বনে) . সং কাং হো অভিনীত এই ছবিতে উনি এক ট্যাক্সিচালকের অভিনয় করেন যিনি এক জার্মান সাংবাদিককে গোয়াংজুতে নিয়ে যান একটু টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে, কিন্তু কে জানত ফেরা হবে কি হবে না।

    ReplyDelete
    Replies
    1. গোয়াংজুর ঘটনা নিয়ে অনেক গল্প কবিতা উপন্যাস হয়েছে, রাকেশ। আপনি যে সিনেমাটির উল্লেখ করলেন সেটা সুযোগ হলেই দেখব। থ্যাংক ইউ।

      Delete
  4. Lincoln in the Bardo boita kemon laglo ektu janaben Kuntala.
    Boita ami ekbar hate niye nerechere dekhechhilam, narration style ta besh adbhut legechhilo, pora hoyni obosso.

    ReplyDelete
    Replies
    1. নিশ্চয়। পরের মাসের বইয়ের কিস্তির প্রথমেই থাকবে।

      Delete
  5. মার্চ মাসের বই/2 kobe asbe? :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. সরি সরি, দেরি হচ্ছে একটু। আসলে যে বইটার রিভিউ লিখব পার্ট টু-তে (লেফট হ্যান্ড অফ ডার্কনেস) সেটা আমার একাধারে ভালো এবং কঠিং লেগেছে। তাই গড়িমসি করছি আরকি। ভাবছি উইকএনডে ট্যাকল করব।

      Delete
    2. Samay niyei likhun. :) Khub bhalo legechhe apnar lekha.

      Delete
    3. থ্যাংক ইউ, সায়ন।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.