June 06, 2018

দুটো বই



The Adivasi Will Not Dance/ Hansda Sowvendra Shekhar


উৎস গুগল ইমেজেস

হাঁসদা সৌভেন্দ্র শেখরের প্রথম উপন্যাস The Mysterious Ailment of Rupi Baskey দু'হাজার চোদ্দ সালে হিন্দু লিট্যারেরি প্রাইজের জন্য মনোনীত হওয়ার সময় বই বা বইয়ের লেখকের নাম আমার নজরে আসেনি। বইটি দু'হাজার পনেরোতে সাহিত্য আকাদেমির যুবা পুরস্কার জেতার সময়েও না। দু'হাজার দুই থেকে দু'হাজার পনেরো পর্যন্ত লেখা দশটা ছোটগল্পের সংকলন  The Adivasi Will Not Dance' যখন বেরোলো এবং দু'হাজার ষোল সালের হিন্দু লিটারেরি প্রাইজের জন্য মনোনীত হল, তখনও আমার কানে লেখক বা বই বা লেখক, কারও নাম আসেনি। 

আমার কানে খবর এল যখন সাঁওতাল সম্প্রদায়, বিশেষ করে সাঁওতাল নারীদের অবমাননাকর আলোয় প্রতিভাত করার জন্য বইটি ঝাড়খণ্ড সরকার (বিরোধী দলের সমর্থন সহ) ব্যান করল এবং হাঁসদা সৌভেন্দ্র শেখরকে তাঁর মেডিক্যাল অফিসারের চাকরি থেকে সাসপেন্ড করে শো কজ ধরাল। ধর্ষণদৃশ্যের এমন নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন লেখক যে পড়ে মনে হচ্ছে তিনি নিজেই ধর্ষণ করছেন গোছের মন্তব্যও শোনা গেল।

এই বাজারে নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য ব্যক্ত করার সাহস দেখানোর জন্যই লেখককে স্যালুট জানাতে হয়, কিন্তু বইটি পড়ার পর আমার মনে হয়েছে ভদ্রলোক সাহিত্যিক গুণের কারণেও স্যালুট দাবি করতে পারেন। 

এইখানে একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার, সাহিত্যগুণ বলতে পাঠ্যক্রমে আমাদের যা বোঝানো হয়, আমরা বুঝি এবং অন্যকে বোঝাই, এই বইটি সেই রকম সাহিত্যগুণ আপাদমস্তক বর্জিত। এ বইতে চাঁদনি রাতে মহুল বনের বর্ণনা নেই, সাঁওতাল নরনারীদের কষ্টিপাথরে কোঁদা শরীরের বর্ণনা নেই, দূর থেকে ভেসে আসা মাদলের ধ্বনি নেই।

কারণ এখানে ওই সব ধ্বনি শব্দ গন্ধ বর্ণনা করার শহুরে ভাষাটাই নেই। যা দিয়ে আমরা আদিবাসী তরুণতরুণীর ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস মেপে থাকি সেই শহুরে দৃষ্টিটাও না। এই বইয়ের এক এবং একমাত্র কণ্ঠ, দৃষ্টি আদিবাসীর, বিশেষ করে কয়লাখনি অঞ্চলের সাঁওতাল জনজাতির মানুষের।  

বাকিরাও আছে, যেমন সহৃদয় প্রগতিশীল বাড়িওয়ালা, যিনি বিশ্বাস করেন সব সাঁওতাল খারাপ না কিন্তু সাবধান করেন তাঁর বাড়িতে যেন মাছমাংস রান্না না হয়, আর উপদেশ দেন পদবী চেপে যেতে। কী দরকার যেচে ঝামেলা ডেকে। গল্পে পুলিশ আছে, দালাল আছে, রাজনীতিবিদ আছে, বীরভূমের মাটির ছেলে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত আছেন। তারা অত্যাচার করছে, সুযোগ নিচ্ছে, পেটের ভাত কেড়ে নিচ্ছে বা সহমর্মিতা প্রকাশের ছলে ক্রমাগত অপমান করে চলেছে, কিন্তু এ সবই করছে সাইড লাইন থেকে। বইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ঐতিহাসিকভাবে নিপীড়িত একটি প্রাচীন জনজাতি। হাঁসদা সৌভেন্দ্র শেখর যাঁদের প্রতিনিধি।

প্রথমেই যেটা বলার, সেটা হচ্ছে হাঁসদা সৌভেন্দ্র শেখরের ভাষার সোজাসাপটা চলন। ধর্ষণ, খুন, মৃত্যু, গণপিটুনি, আন্দোলন, ট্রেকারের ঠেলাঠেলি ভিড়, মধ্যবিত্ত ড্রয়িংরুমের নিরাপদ কথোপকথন সবই তিনি চরম আবেগহীনতায়, অকপট এবং সপাট ভাষায় লিখে গেছেন। কোনও নারকীয়তাকে, অসহায়তাকে ভাষার অলঙ্কারের আড়ালে লুকোননি। November Is the Month of Migrations - (যে গল্পটি পড়ে সাঁওতাল রমণীর অবমাননা নিয়ে সবার ঘুম ছুটে গিয়েছিল) নামের সংক্ষিপ্ত গল্পটি পড়তে পড়তে আপনি টের পাবেন অনেকক্ষণ আপনার নিঃশ্বাস পড়ছে না, বুকের ভেতর ভারি হয়ে উঠছে, গল্প শেষ করার পর 'বাপ রে' কিংবা 'মাগো' বলে আপনি খানিকক্ষণ থমকে থাকবেন, সব মিলিয়ে চরম অস্বস্তিতে ভুগবেন, ভোগাই উচিত, কারণ যা ঘটছে সেটা স্বস্তিদায়ক নয়। সে ঘটনা বইয়ের পাতায় পড়ে 'নেক্সট ছুটিতে সাঁওতাল পরগণার দিকটা এক্সপ্লোর করে আসি চল,' জাতীয় অনুভূতি জাগলেই চিন্তার ব্যাপার হত। 

দ্বিতীয় ভালোলাগার ব্যাপার হচ্ছে সৌভেন্দ্রর চরিত্ররা। বাসো ঝি, পানমুনি ঝি, সোনা, সুলোচনা - মধ্যবিত্ত গৃহবধূ থেকে বেশ্যা, দিনমজুর থেকে শিল্পী, সকলেই সৌভেন্দ্রর কলমে সমান জ্যান্ত। 

আমার বরং সে তুলনায় কমজোরি লেগেছে গল্পের প্লট। গল্প ধরে ধরে আলোচনা করতে যাব না, যে কোনও ছোটগল্প সংকলনের প্রতি তাহলে অবিচার করা হয়। এ বইয়ের গল্পগুলির রচনাকাল প্রায় তেরো বছর ধরে ছড়ানো, সেই সময় জুড়ে লেখকের হাতের তার বদলায়নি এ তো হতে পারে না। কিছু কিছু গল্পের প্লট সামান্য সেকেলে এবং প্রেডিক্টেবল লেগেছে। শেষ গল্পটি, যার নামে বইয়ের নাম, সেখানে প্লট বিশেষ নেইই, বরং দীর্ঘ গল্পটিতে প্রধান চরিত্র মঙ্গল মুর্মু, যে একসময় চাষি ছিল কারণ তার জমি ছিল, এখন জমি নেই তাই সে বাবুদের গান শুনিয়ে নাচ দেখিয়ে বেড়ায়, সেই মঙ্গলের বয়ান এবং স্মৃতিচারণায় লেখক একটি জনজাতির ক্রমশ লুণ্ঠিত হয়ে যাওয়ার ইতিহাস লিখে গেছেন।

"It is this coal, sir, which is gobbling up us bit by bit. There is a blackness - deep, indelible - all along the Koyla Road. The trees and shrubs in our village bear black leaves. Our ochre earth has become black. The stones, the rocks, the sand, all black. The tiles on the roofs of our huts have lost their fire-burnt red. The vines and flowers and peacocks. We Santhals draw on the outer walls of our houses are black. Our children - dark-skinned as they are - are forever covered with fine black dust. When they cry, and tears stream down their faces, it seems as if a river is cutting across a drought-stricken land. Only our eyes burn red, like embers. Our children hardly go to school. But everyone - whether they attend school or not - remains on the alert, day and night, for ways to steal coal and for ways to sell it."

আমার তাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই, কারণ এই সংকলনটি শুধু গল্পের বই নয়, একটি প্রাচীন এবং প্রান্তিক জনজাতির এক সাহসী প্রতিনিধির প্রতিবাদ। 

*****

The Good Daughter/ Karin Slaughter


উৎস গুগল ইমেজেস


“I’d follow her anywhere.” জিলিয়ান ফ্লিনের মতো লেখক যখন সমসাময়িক আরেকজন রহস্যরোমাঞ্চ লেখক সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন, তখন উদ্দিষ্ট লেখককে বেশিদিন অগ্রাহ্য করা উচিত নয় ভেবে আমি ক্যারিন স্লটারের সাম্প্রতিকতম উপন্যাসটি কিনে ফেললাম কিন্ডলে। কারিন স্লটারের নাম শুনেছি আমি অনেকদিন, কিন্তু উদ্যোগ করে পড়িনি। দ্য গুড ডটার-এর সুবিধে হচ্ছে এটি স্ট্যান্ড অ্যালোন উপন্যাস, কাজেই ভালোখারাপ যাই হোক অল্পের ওপর দিয়ে যাবে।

দুই বোন, পনেরো বছরের স্যাম এবং তেরো বছরের চার্লি। তাদের বাবা রাস্টি কুইন, জর্জিয়া রাজ্যের একজন আইনজীবী। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ সাউথ, আইনজীবী বাবা এবং ছোট মেয়েটেয়ে শুনে অন্য কোনও বইয়ের কথা মনে পড়লে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ ক্যারিন স্লটার বলেছেন যে হার্পার লি-র মৃত্যুর পর প্রকাশিত 'গো সেট দ্য ওয়াচম্যান' (যা 'টু কিল আ মকিং বার্ড'-এর সিকোয়েল বলে খ্যাত, যদিও লেখা হয়েছিল আগে) পড়ার পর রাস্টি কুইনের চরিত্র সৃষ্টির কথা তাঁর মাথায় আসে। অ্যাটিক্যাস ফিঞ্চ, অন্তত টু কিল আ মকিং বার্ড-এর অ্যাটিক্যাস ফিঞ্চ প্রায় সন্ত, ন্যায়নিষ্ঠ, সাম্যবাদী, মানবদরদী এবং সর্বোপরি, সর্বদাই ঠিকের দিকে। দ্য গুড ডটারের রাস্টি কুইন আবার সর্বদাই লোকাল যত চোর গুণ্ডা খুনে রেপিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করে বেড়ান। এরা সত্যি না মিথ্যে অপরাধী তা তাঁকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করে না। তিনি বিশ্বাস করেন, অতি বড় দুষ্কৃতীদেরও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার আছে, এবং যেহেতু কেউ সে সহায়তা দিতে রাজি নয়, রাস্টি কুইন সেটা দিচ্ছেন। চার্লিও আইনজীবী, চার্লির ভাষায় তাঁর বাবা এই ভাবে আইন এবং আইনের অপর পক্ষের মধ্যে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখার চেষ্টা করেন, ব্যস।

গল্পের শুরু হয় উনিশশো উননব্বই সালে, ক'দিন আগেই রাস্টি কুইনের বাড়িতে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে গেছে, তাই রাস্টি, রাস্টির স্ত্রী গামা, দুই মেয়ে চার্লি এবং স্যাম একটি ঝুরঝুরে ফার্মবাড়িতে উঠে এসেছে। যে দিনের ঘটনা দেখানো হচ্ছে সেদিন একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যাপারটা বইয়ের শুরুতেই ঘটেছে কাজেই বলে দিলে স্পয়লার হবে না। দু'জন মুখোশ পরা আততায়ী ফার্ম হাউসে ঢুকে স্যাম এবং চার্লির সামনে তাদের মাকে খুন করে এবং চার্লি এবং স্যামের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায়।

এর পর গল্প চলে আসে বর্তমানে, আঠাশ বছর পর। চার্লি বড় হয়ে বাবার সঙ্গে ওকালতির কাজ করছে, স্যাম নিউ ইয়র্কে। সেও উকিল এবং বাবা ও বোনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। একটি স্কুল শুটিং-এর ঘটনায় আকস্মিকভাবে জড়িয়ে পড়ে চার্লি। একটি আঠেরো বছরের মেয়ে গ্রেপ্তার হয়। সকলেই দেখেছে তাকে বন্দুক নিয়ে গুলি চালাতে। গুলিতে প্রিন্সিপ্যাল এবং একটি আট বছরের বাচ্চা মেয়ে মারা গেছে। স্বাভাবিক ভাবেই, রাস্টি ও চার্লি মেয়েটির হয়ে মামলা লড়ার দায়িত্ব নেয়। খবর পেয়ে স্যামও আসে। 

এই বার রহস্য সমাধান শুরু হয়। স্কুল শুটিং-এর ঘটনা তো আছেই, এর মধ্যে উনিশশো ঊননব্বইয়ে ঘটা সেই অকথ্য ঘটনার প্রেতাত্মাও মাথা তুলতে শুরু করেছে। এই দুই রহস্যের তদন্ত শুরু হয়, এবং তার সঙ্গে সঙ্গে কুইন পরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে।

ক্যারিন স্লটার কেন জনপ্রিয়, সেটায় কোনও রহস্য নেই। মহিলা গল্প বলতে পারেন। পাঁচশো পেরোনো পাতার বই যেন নাকে দড়ি দিয়ে পাঠককে টেনে নিয়ে যান। লাঞ্চে অবান্তর লেখা বাদ দিয়ে বই শেষ করতে হয়। টাইট, সুসম্পাদিত গল্প, তাছাড়া স্ট্রাকচার নিয়ে খেলা আছে। সাধারণত এই সব খেলা খেলতে গেলে বাঁধুনি ঢিলে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ক্যারিন স্লটার এবং তাঁর এডিটরের কৌশলী দক্ষতায় সেটা হয়নি। উনিশশো ঊননব্বই সালের ঘটনাটা একবার চার্লি, একবার স্যাম এবং আরও একবার চার্লির বয়ানে বইয়ের শুরুতে, মাঝে এবং অন্তে তিনবার বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবারে নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার হয়েছে।

তবু যে আমি দ্য গুড ডটারকে পাঁচে মোটে তিন দিয়েছি, তার কারণ নিম্নরূপ। এক, অত্যন্ত সুসম্পাদিত হলেও বইটি আরও একটু ছাঁটাকাটা যেত বলে আমার বিশ্বাস। স্লটার এত রকম রহস্য এনে জোগাড় করেছেন যে সেগুলো সমাধান করতে তো জায়গা লেগেছেই, তাছাড়া কুইন পরিবারের অন্তর্লীন ড্রামা বোঝানোর জন্য স্লটার দরকারের বেশি জায়গা নিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। ওই অংশগুলো চরিত্র ফোটাতে সাহায্য করেছে কিন্তু ভালো লেখকের কেরামতি সেখানেই, অল্প কথায় কাজ সারা। এটাও আমার ব্যক্তিগত মত, বলাই বাহুল্য। দ্বিতীয়ত, অ্যামেরিকান জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে, টিভি সিনেমায় এবং সাহিত্যই বা পেছনে পড়ে থাকে কেন, চরিত্ররা সবাই হড়বড় করে মাইলখানেক লম্বা উইট, সারক্যাজম এবং আপাদমস্তক চাতুর্যমণ্ডিত সংলাপ বলতে থাকেন। এই বইতেও তা আছে। আমি অবশ্য আশা করেছিলাম আরও বেশি থাকবে। স্লটার আমাকে খানিকটা চমকেই দিয়েছেন, এ বিষয়ে সংযম দেখিয়ে। 

আরও একটা বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যেটা হল অপ্রাসঙ্গিক ভায়োলেন্স। আমার সে বিষয়ে খুব কিছু বলার নেই। চুম্বনদৃশ্যের ডিফেন্সে চন্দ্রিল বলেছেন, সিনেমায় প্রাসঙ্গিক চুমু ভূভারতে কেউ দেখাতে পারবে না, ভায়োলেন্সের ব্যাপারেও আমার তাই মত। খুব বেশি শিউরে ওঠা হলে এই বইয়ের কিছু কিছু অংশ আপনার পড়তে অসুবিধে হবে, কিন্তু আমিও ভায়োলেন্স ভালোবাসি না, আমার বিশেষ অসুবিধে হয়নি।  

আর তিন নম্বর, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয় তাই সবার শেষে বলছি, দ্য গুড ডটারের রহস্যের দিকটা বিশেষ জোরালো নয়।  যে সব ক্লু দেওয়া আছে, তাতে গোড়ার দিকেই দুটো ক্রাইমেরই টুইস্ট/সমাধান আঁচ করে ফেলা কিছু শক্ত ব্যাপার নয়। তা সত্ত্বেও যে বাকি বইটা পড়ার জন্য স্লটার পাঠককে বেঁধে রাখতে পারেন, সেটা বরং তাঁর দক্ষতাই প্রমাণ করে।

বরং আঠাশ বছর আগেকার রাতের ঘটনা দুই বোনের বয়ানে তিনবার বলতে গিয়ে ওই মারামারি কাটাকাটি রক্তারক্তির দৃশ্যগুলো স্লটার তিনবার রিপিট করেছেন, কাজেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ম্যানিপুলেশনের। সেই অভিযোগটা বরং ধোপে টিকলেও টিকতে পারে বলে আমার মনে হয়েছে। 

সব মিলিয়ে দ্য গুড ডটার আমার ভালোই লেগেছে।



12 comments:

  1. The good daughter amar list e ache. But prothom boi ta not my cup of tea. Jeebone depression er emnii sesh nei.

    ReplyDelete
    Replies
    1. তা ঠিক, কুহেলি।

      Delete
  2. আচ্ছা, আপনি আপনার পুরানো লেখাগুলো পড়েন?

    ReplyDelete
  3. Prothom boi tar proti boro akorshon bodh korchhi. Aapnar review er ei jaigatar jonyoi aaro akorshito hochchi.
    কারণ এখানে ওই সব ধ্বনি শব্দ গন্ধ বর্ণনা করার শহুরে ভাষাটাই নেই। যা দিয়ে আমরা আদিবাসী তরুণতরুণীর ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস মেপে থাকি সেই শহুরে দৃষ্টিটাও না। এই বইয়ের এক এবং একমাত্র কণ্ঠ, দৃষ্টি আদিবাসী, বিশেষ করে কয়লাখনি অঞ্চলের সাঁওতাল জনজাতির মানুষের।

    Tai shohure kothokotar baire giye jader jibon tader lekhoni te porte parle bhalo hoi.

    ReplyDelete
    Replies
    1. একদম, সুস্মিতা। আমরা, বা আমি বলাই উচিত হবে, সবসময় কারও হয়ে অন্য কারও বলে দেওয়া গল্পসিনেমাই পড়েছি দেখেছি। খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সুযোগ হলে বইটা পড়ে দেখতে পারেন।

      Delete
  4. প্রথম বইটার কথা শুনেছিলাম, তবে পাঠপ্রতিক্রিয়া আপনার কাছ থেকেই পেলাম। মনে হচ্ছে বইটা পড়তে হবে এবার। :)
    দ্বিতীয় বইইয়ের কথাও বেশ ভাল লাগল।

    ReplyDelete
    Replies
    1. প্রথম বইটা আমার খুবই ভালো লেগেছে, অরিজিত। দ্বিতীয়টাও মন্দ না।

      Delete
  5. Onekdin dhore ei post er opekkhay chhilam. Duti boier review-i khub bhalo laglo. Pratham boita porar agroho bariye dilen. Porte hobe.

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ, সায়ন। অনেকদিন ধরে আমিও বইয়ের পোস্ট লেখার অপেক্ষায় ছিলাম। পড়া কম হচ্ছিল, যাও বা হচ্ছিল, সে সব নিয়ে রিভিউ লেখা যায় না।

      সৌভন্দ্র শেখরের বইটা পড়ে দেখতে পারেন, আমার বেশ রিমার্কেবল লেগেছে।

      Delete
  6. প্রথম ব‌ই আর তার লেখকের কথা পড়ে আশান্বিত হলাম।রাঢ় ভূমি তে অনেক কাল কাটানোর সময়ে বারবার মনে হত যে মূলবাসীদের জীবনের কথা যদি তাঁদের মাঝখানের কেউ বলতে পারেন, আর এটাও প্রশ্ন জাগত যে শিল্প বিপ্লব আসলে মানুষের ভাল করেছে না খারাপ? এই ব‌ই সম্পর্কে জানানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. থ্যাংক ইউ, নালক।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.