অরুণাচল ২ঃ নিজে নিজে, একা একা
একগাদা দোসামোসা খেয়ে উঠেছি, এদিকে সিটবেল্ট সাইন নিভতেই গলা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছি কখন ট্রলি দেখা যায়। মনে করার চেষ্টা করছি, কী কী বুক করা হয়েছিল টিকিটের সঙ্গে। মনে পড়েছে। অর্চিষ্মান চিকেন কাঠি রোল। আমি ম্যাজিক উপমা। বাটির ঢাকনা খুলে গরম জল ঢেলে চট করে ঢাকনা দিয়ে বিড়বিড় মন্ত্র পড়ে বাটিবন্ধন সেরে দিদিমণি সে মন্ত্রঃপূত বাটি আমাকে সোপর্দ করবেন, শত কৌতূহলেও যেন পাঁচ মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগে ঢাকনা না খুলি, খুললেই রাজপুত্রের বদলে বাঁদর, নাকের বদলে নরুন, উপমার বদলে ভুষি। জীবনের দীর্ঘতম পাঁচ মিনিটে পনেরোবার ঘড়ি দেখে ফাইন্যালি যখন ঢাকনা তুলব, বাটির মধ্যে ম্যাজিকের মতো উপমা আবির্ভূত হবে।
মাইন্ড ওভার ম্যাজিক উপমা করতে ল্যাপটপ খাটালাম। অর্চিষ্মান অলরেডি খাটিয়ে ফেলেছে। বেশিক্ষণ অভিনয় করতে হল না, ট্রলি দেখা গেল। আমার থেকেও স্পিডে ল্যাপটপ গুটিয়ে কোলে নামিয়েছে অর্চিষ্মান। ট্রে ঝেড়েটেড়ে সোজা হয়ে বসেছে।
একঘণ্টা লেটে ডিব্রুগড়ে নামলাম। বিমানবন্দরের বাইরে গার্জেন গণ্ডারের পাশে শিশু গণ্ডারের ভাস্কর্য। এয়ারপ্লেন মোড অফ করা মাত্র অর্চিষ্মানের ফোনে বান ডেকেছে। আমিও ফোন কানে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু আমার ফোনের উল্টোদিকে ড্রাইভার নিমা লামা। নাকি নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টা আগে এসে বসে আছেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাদের তুলে নেবেন। আমার টেনশন হচ্ছে। যদি আমি গাড়ি দেখতে না পাই, যদি গাড়ি আমাকে দেখতে না পায়। গোটা এয়ারপোর্টে সব মিলিয়ে পঁয়ত্রিশজন লোক পঁচিশটা গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এদের মধ্যে যদি সঠিক তীরচিহ্ন টানতে না পারি, তাহলে কলেজ লাইফ থেকে রাস্তাঘাটে হিতৈষীরা যে পরামর্শ দিয়ে আসছেন - দিদি আপনাদের বাড়ি থেকে বেরোনো উচিত না - সত্যি। সত্যিই আমার বাড়ি থেকে বেরোনো উচিত না।
তবু আমি টেনশনে জরজর হতে থাকলাম এবং টেনশন হওয়ার কোনও কারণ না থাকা সত্ত্বেও যে টেনশন হচ্ছে সেই টেনশনে আরও টেনসড হয়ে যেতে লাগলাম। আমার এক প্রফেসর, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেথডলজি পড়াতেন, সোমবার গ্রিনল্যান্ড শুক্রবার তাসমানিয়ায় লেকচার দিতেন, ছুটি পেলে বিশ্বের দুর্গমতম মনাস্টেরিতে ঘুরে ঘুরে - যে সব মনাস্টেরিতে পৌঁছেতে সাত দিন পাহাড় চড়তে হয় - শ্বাসপ্রশ্বাস ধীরে নেওয়া ও ছাড়ার অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশ নিতেন। এই সব করে মহিলা এত বেশি শান্ত হয়ে গেছিলেন যে অস্বস্তিজনক। করিডরের ও প্রান্ত থেকে হেঁটে আসতে দেখলে ভ্রম হত ভেসে আসছেন। মাথার একটি চুল, চোখের একটি পলক, শরীরের একটি পেশী অনুমতিব্যতীত নড়ত না। লেকচার ছাড়া ওঁর এমনি কথা শুনতে গেলে আমাকে শরীর অল্প অ্যাংগলে ঘুরিয়ে যে কোনও একটা কান ওঁর মুখের দিকে তাক করে দাঁড়াতে হত। সে রকম এক কথোপকথনের সময় তিনি বলেছিলেন, বুঝলে কুন্তলা, লোকে বড় বড় ট্র্যাজেডিতে মরে না, খুচুরমুচুর স্ট্রেসে মরে। আমার ধারণা, ধারণা নয় বিশ্বাস, আমিও তাতেই মরব। ব্লিংকিট ভাইসাব একদিন ওয়ান টু মেনি টাইম পাশের গলিতে ঢুকে পড়বেন, বাড়ির লোকেশন দিনের আলোর থেকেও স্পষ্ট করে ম্যাপে দেখানো সত্ত্বেও, আর আমার প্রাণবায়ু সি আর পার্কের আকাশেবাতাসে মিশে যাবে।
আরও একটা কথা আছে। যে লোকটার গোটা জীবন দড়ি ছিঁড়ে ল্যাগব্যাগিয়ে ছুট লাগিয়েছে, সে লোকটার গাড়ির পিক আপের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ নিয়ে এই লেভেলে চুলচেরাচিরি কৌতূহলোদ্দীপক না? হয়তো নয়। হয়তো বাকি জীবনটা হাত থেকে বেরিয়ে গেছে বলেই বেচারা অক্ষাং...
উইন্ডস্ক্রিনের ওপাশ থেকে যে অচেনা ভদ্রলোক হাসি হাসি মুখে হাত নাড়ছেন নির্ঘাত শ্রীযুক্ত নিমা লামা। আমরা আমাদের ব্যাকপ্যাক আর লাল ক্যারি অন সুটকেস নিয়ে উঠে পড়লাম। টোকেন জমা দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে নিমাজি চিতার স্পিড তুললেন। এ সব দিকের ব্যাপারস্যাপার রাজস্থানের দিকের মতো। সবই দূরে দূরে। কালই আমাদের যেখানে যাওয়ার, ভিডিও ইত্যাদিতে দেখেছি, এগারো বা বারো ঘণ্টা লাগবে নাকি। আজ প্র্যাকটিস রান হিসেবে আমরা জাস্ট আসাম পেরিয়ে অরুণাচলে ঢুকব। রোয়িং নামের শহরে রাত্রিবাস। এখন বেলা তিনটে, অদ্ভুত কিছু না ঘটলে সাতটার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া উচিত। আসামে পা দেওয়ামাত্র আমার ব্রেনে একটা কিছু হয়। কী হয়, কেন হয় শিওর নই। আসাম সুন্দর, অসহ্য সুন্দর, আগে ভাবতাম সেই কারণেই হবে। কিন্তু ইদানীং সন্দেহ হয় কারণ সৌন্দর্য ওভারেটেড। এবং সুলভ। যেদিকে তাকাচ্ছি, সুন্দরে সুন্দরে ছয়লাপ। কফি শপে, সিগারেটের দোকানে, চলন্ত এস ইউ ভি-র জানালায়। সুন্দরের ভিড়ে রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছে না, আধঘণ্টা লেটে পৌঁছলে সিট পাওয়া যাচ্ছে না। একটা পাতে দেওয়ার মতো কুচ্ছিত পাই তো মন ভরে দেখি।
দু’পাশে চাবাগান শুরু হল। খাটো চা গাছেদের মধ্যে মাঝারি উচ্চতার মাসল মাসহীন গাছেরা স্মাগমুখে দাঁড়িয়ে আছে। চুলের জট জীবনে আগেও অনেক ছাড়িয়েছি, পরেও ছাড়ানোর অনেক টাইম পাওয়া যাবে, আপাততঃ কাঁচ নামিয়ে জানালা দিয়ে মনকে বার করে দিয়েছি। মন একএকটা মুখ, এক একটা কথা, একএকটা মুহূর্তের বুড়ি ছুঁয়ে ঘুড়ির মতো উড়তে উড়তে চলেছে। অর্চিষ্মানের খিদে পেয়েছে। সেটা বলেনি কিন্তু আধঘণ্টার মধ্যে দু’বার জিজ্ঞাসা করে ফেলেছে আমার খিদে পেয়েছে কি না। আমি বলছি আমার পায়নি তোমার পেয়েছে? অমনি মাথা নেড়ে না বলছে। যেন আমার খিদে না পেলে ওর খিদে পাওয়ার নিয়ম নেই।
চা বাগান শেষ হয়ে দু;পাশে মাঠ উন্মুক্ত হল। অমনি মন উড়ে গৌরীপুর মাঠের ওপর পৌঁছে গেছে। এখান থেকে অনেক দূর, সেই ধুবরি। শুধু দূরত্ব না, কুড়ি বছরের বেশি সময় অতিক্রম করেছে। বিকেল শেষ, সন্ধে শুরু। ছেলেরা ফুটবল গুটিয়ে বাড়ি ফিরছে। মা রাস্তা ছেড়ে মাঠে নেমেছেন। মাঠ কোণাকুণি পেরোলে শর্টকাট হয়। লং-ও হতে পারে, মাঠের প্রান্তে একটা বট বা অশ্বত্থ গাছ আছে, মা আমাকে ফোনে বলেছেন গাছটার কথা। হয়তো রোজ অফিসফেরতা গাছটার সঙ্গে একবার দেখা করে যান। মা আমার দিকেই এগোচ্ছেন, আকাশের দিকে তাকালেই আমাকে দেখতে পাবেন, না তুললে পাবেন না। সে চান্স না নিয়ে আমি নিজেই মা বলে ডেকে উঠতে পারি, সাত বছরের ওপর মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি, কিন্তু ডাকছি না, চুপচাপ ভেসে আছি। মায়ের সঙ্গে আরও অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছি। বিরাট মাঠ, বিরাট বট, বিরাট ব্রহ্মপুত্র। তার মাঝে আমার পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি, সাতচল্লিশ কেজির মা অকুতোভয় হেঁটে চলেছেন। একটুও বেমানান লাগছেন না। বাড়ি পৌঁছে হাত পা ধোবেন, এক কাপ চা বানিয়ে বসবেন, বাড়িওয়ালার বাচ্চারা হয়তো হোমওয়ার্ক দেখাতে আসবে। তারপর রান্না করবেন, কী রান্না করবেন কে জানে, খুব ফাঁদবেন না শিওর, সম্ভবতঃ সেদ্ধভাত। বা আরও কমে সারবেন, দুধ জ্বাল দিয়ে চিঁড়েফিড়ে দিয়ে খেয়ে সেরে পড়তে বসে যাবেন। আমি মায়ের জায়গায় থাকলে আমিও এক্স্যাক্টলি তাই করতাম। মা তো তবু দুধ জ্বাল দিয়েছেন, আমি ইলেক্ট্রিক কেটলিতে জল গরম করে ম্যাগি খেয়ে খেলখতম করতাম।
চা বাগান চিরে সরু পথ হাইওয়েতে মিশেছে। বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত মানুষ। বারমুডা হাফশার্ট যুবক, বাইক থেকে নেমে অপরাহ্নের আকাশের ব্যাকড্রপে বাইকের ছবি তুলছে। অর্চিষ্মানের মুখ আমার দিকে ফেরানো, ঠোঁট নড়ছে।
বলছি চা খাবে?
খাব খাব।
হাইওয়ের দু’পাশে ধাবার ছিটে পড়তে শুরু করেছে। এক একটার নাম পড়েই এত ভালো লাগল, সুরভী ফেমিলি ধাবা, এ ধাবার চা খারাপ হতেই পারে না, এখানেই নামলে কেমন হয় ভাবতে ভাবতে, নিমাজি ব্রেক কষতে কষতে দারা সিং ধাবা এসে গেল। দারা সিং-এর আশা জাগিয়ে তারপর সেই আশা পায়ে দলে সুরভীতে চলে যাওয়ার মতো স্মার্ট আমি নই, কাজেই দারাতেই ঢোকা হল। সদ্যভাঙা সিয়েস্তার আবহাওয়া। অপ্রতুল টিউবজ্বালা দেওয়ালে জুবিন গর্গ, ভূপেন হাজারিকার ইয়াব্বড় পোস্টার।
পল্লী মিশত নাগরিকতায়, জানতেন তিনি কোনটা মানায়/ কোথায় মানাবে কোথা বেমানান জানতেন তিনি গানের বানান/ শুরুতেই বোঝা যেত কার সুর, কার পায়ে বাঁধা নূপুরে দুপুর।
এই রকম বাংলা এ জীবনে হাত থেকে বেরোবে না সে দুঃখ ভুলতে ভেজ পকোড়াজাতীয় কিছুর খবর নিলাম। দাদা বললেন এখন আলু পেঁয়াজ কপিটপি নিয়ে বসা ঝকমারি ম্যাডাম, বলেন তো বেসনে ডুবিয়ে চট করে দু'পিস পনীর ভেজে দিই?
থাক বলে তিনটে চায়ের অর্ডার দিয়ে বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাস্তার ওপারে অনেকটা ফাঁকা পেরিয়ে একটা বাড়ি। আকাশের এদিক থেকে ওদিক ইলেকট্রিকের তার। চামড়ায় বিকেলের সূর্যের আঁচ।
আসামে পা দেওয়ামাত্র চায়ের স্বাদ ঝড়াং করে ভালো হয়ে যায়। চা খেয়ে জলের বোতল কিনে গাড়িতে উঠলাম। বিকেল ফুরিয়ে আসছে। দিল্লিতে এখনও আলো ফটফট করছে নিশ্চয়, কিন্তু এদিকে সকাল সন্ধে দুই-ই তাড়াতাড়ি।
অর্চিষ্মানের দিকের জানালার বাইরে সূর্য ডুবতে শুরু করেছে। সত্যি ভালো লাগে, না নাটকনভেল পড়ে ভালো লাগে বলতে শিখেছি জানি না, কিন্তু শিখেই যখন ফেলেছি বলি, সূর্যাস্ত আমার সূর্যোদয়ের থেকে বেশি ভালো লাগে। অর্চিষ্মানকে র্যাংকিং জিজ্ঞাসা করছি। অর্চিষ্মান ভাবতে বসেছে। এতে ভাবনার কী আছে ভগবানই জানেন। অর্চিষ্মান বলছে যে ও ভাবার চেষ্টা করছে সূর্যোদয় ও আদৌ দেখেছে কি না। অর্চিষ্মান ভাবছে, আমি হাল ছেড়ে আকাশ দেখছি। সূর্যোদয়কে একেবারে হুট আউট করে দিয়ে নিজেরই খারাপ লাগছে। নিজেকে সর্বক্ষণ হায়ারার্কির মইতে ওঠাচ্ছি নামাচ্ছি বলে সূর্যোদয় সূর্যাস্তকেও সেই মইতে না চড়িয়ে আমার শান্তি নেই। সামনে যা পাব, তাদেরকেই নম্বর দিয়ে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় ঘোষণা করতে হবে এ সব অসুখ আমার চোদ্দপুরুষের ট্রমার, আমার এ বি সি ডি পি টি এস ডি-র, আমার এ ডি এইচ ডি এলোমেলো পি-র।
তবু সূর্যাস্তকে কেন বেশি ভালো লাগে সে নিয়ে ভাবলাম। আমার ভালো লাগে রোজ যাওয়ার আগের এই যেতে চাই না তবু কেন যেতে হবে-র নাটকটা। এই আকাশ জুড়ে লুটোপুটি খেয়ে প্রতিবাদ। কালই আবার আসবে তবু এমন কান্নাকাটি যেন জীবনের মতো এই শেষ দেখা।
অসন্তোষের শো শেষ হল, কৃষ্ণনীলের মধ্যে পড়ে থাকল কয়েকটা সাদা সাদা আঁচড় আর রক্তের মতো একটুখানি কমলা। এক মুহূর্তের জন্য চোখ সরাইনি, তবু এক্স্যাক্ট কোন মুহূর্তে সেটুকুও মুছে গিয়ে গোটা আকাশ কালো হয়ে গেল আর কালোর মধ্যে সোনালি চাঁদ ফুটে উঠল - পিনপয়েন্ট করতে পারলাম না। কষে দুই চোখ খোলা রেখেও মিস করে গেলাম। এতক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ জ্বলছে। চশমা খুলে চোখ কচলাচ্ছি, অর্চিষ্মানের গলা।
সূর্যাস্তকে কী বলে মনে আছে কুন্তলা?
সেরেছে ... আতারদেসের?
আর সূর্যোদয়কে?
এটা মনে আছে। আমানাসের।
অন্ধকার ফুঁড়ে নিমাজির গাড়ির হেডলাইট ছুটছে। দু'পাশের গাছেদের উচ্চতা, ঘনত্ব দুইই বেড়েছে। গাছেদের এখন গাছেদের ভূত বলে ভেবে নিতে বেশি কল্পনা খরচ করার দরকার নেই। কিন্তু আসল ভয়ের ব্যাপারটা জঙ্গলের মধ্যে ঘটছে আসছে না, ঘটছে প্রকাশ্য রাস্তায়, আমার নাকবরাবর, নিমাজির হেডলাইটের উজ্জ্বলতায়। আলোকিত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে অন্ধকার দলা পাকিয়ে উঠছে, পরক্ষণেই বদলে . . . গরু হয়ে যাচ্ছে। ঘুটঘুটে হাইওয়েতে ফুলস্পিডে ছুটে আসা গাড়ি লরি ট্রাকের গতিপথের ডাইনে না, বাঁয়ে না, এক্স্যাক্ট মাঝখানে, গরুর পাল। বাবা গরু মা গরু পুঁচকে বাছুর - বসে আছে, শুয়ে আছে। একটা গাড়ির হেডলাইট ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় না পড়লে কী ঘটতে পারে মাথাই ঘামাচ্ছে না।
সিট আঁকড়ে, হৃদপিণ্ড জিভের তলায় নিয়ে বসে থাকলাম। এই রুদ্ধশ্বাস ব্যাপার চলল, আমার মতে অনন্তকাল, অর্চিষ্মান বলছে খুব বাড়িয়ে ধরলেও পনেরো মিনিট। অবশেষে জেট ব্ল্যাকের মধ্যে জোনাকির টিমটিম ফুটল। জোনাকিরা ক্রমে চল্লিশ পাওয়ারের হলুদ বাল্ব হয়ে গেল আর জঙ্গলের মধ্যে জেগে উঠল আস্ত জনপদ। সে রকম একটা বাল্বের আলোয় চোখ টোখ কুঁচকে বোর্ড পড়ে বুঝলাম আমাদের ডানদিকে জঙ্গলের কিনারা বরাবর রেললাইন চলেছে আর বাঁদিকে জমেছে স্টেশন রোডের সন্ধের বাজার। বাজার পেরোলে আলো নিভে আসছে। আবার অন্ধকার, দু’পাশে ঘন জঙ্গল, কালো রাস্তায় হেডলাইটের হলুদ পিছলে যাচ্ছে, আবার ডানদিকে একটা বোর্ড জেগে উঠছে, আর একটা স্টেশন, আর একটা বাজার।
জানালার পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়াস্টেশনের নাম পড়তে না পারলে আমার ভেতরে যে অনুভূতিটা হয় সেটা যেনতেনপ্রকারেণ আটকাতে সমস্ত মনোযোগ দিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছি, অন্ধকারের স্ট্রেচ পার হয়ে হলুদ আলো টিমটিম করে উঠছে, আমি শরীর টানটান করছি। এই করে করে কয়েকটা নাম পড়তে পারলাম, বড় বা বড়া হাপজান, হাঁসরা, দুমদুমা।
দুমদুমা... দুমদুমা... এটা কি তিনসুকিয়া নাকি গো? তার মানে এটা তিনসুকিয়ার দুমদুমা টাউন? অর্চিষ্মানকে বললাম, ওকে দ্যাটস ইট। আমি এই স্টেশনটা চিনি। অর্চিষ্মান বলল, তাই বুঝি? এদিকে এসেছিলে বুঝি কাকু বা কাকিমা আসামে থাকার সময়?
বললাম, উঁহু। এই দুমদুমা যখন চিনেছি বাবামা কলকাতার অফিস ছেড়ে বেরোনোর কল্পনাও করেননি। মেসোমশাই ছিলেন চা বাগানের ম্যানেজার, বাগানের ভেতর পর্তুগিজ প্যাটার্ন বাংলোয় থাকতেন, এই দুমদুমা টাউন থেকে সপ্তাহের রেশন যেত। এক বছর গরমের ছুটিতে বন্ধুরা মিলে এসেছিলাম, শেয়ালদা থেকে ট্রেনে চড়ে, কামরা শুদ্ধু লোককে রাতভর জাগিয়ে হাহাহিহি করতে করতে। একটা নরখাদক চা-শ্রমিকদের বস্তিতে ঢুকে উৎপাত করছিল বলে মেসো বাংলোর চারদিকে আগুন জ্বালিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এক পূর্ণিমার মাঝরাতে ঘুম ভেঙে জানালা দিয়ে তাকিয়ে মনে হয়েছিল জঙ্গলে আগুন লেগেছে। সবাইকে তুলে মেসোমশাইকে লুকিয়ে অগ্রাহ্য করে আমরা জঙ্গলে বেরিয়ে পড়েছিলাম, তারপর একটা সাংঘাতিক গা ছমছমে অ্যাডভেঞ্চারের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। সেম কেস ঘটেছিল ঝাড়সুগুদাতে। সেই গরমের ছুটি, সেই কলকাতা থেকে বন্ধুরা দল বেঁধে হই হই করতে করতে যাওয়া। শুধু বাড়িটা আমার মেসোর বদলে আমার বদলে আমার পাড়ার বন্ধুর মামার। মামাবাবু ছিলেন কয়লাখনির চিফ মাইনিং এঞ্জিনিয়ার। উন্মুক্ত, পরিত্যক্ত খাদানে ঘুরতে ঘুরতে আমরা একটা আস্ত স্মাগলিং সিন্ডিকেটকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম।
একটা জায়গায় যাওয়া মানে কি শুধু ছুটি নিয়ে, এজেন্ট ধরে, বিশ্বের যত সিভিক সেন্সহীন এনটাইটলড ইডিয়েটদের সঙ্গে ব্লাডপ্রেশার বাড়াতে বাড়াতে, এর পা পাড়িয়ে, ওর সিটে হাঁটু দিয়ে গুঁতিয়ে একটা কোথাও পৌঁছনো? পৌঁছে ফোনে চারটি কাঁপাকাঁপা ছবির প্রমাণ জোগাড়? জ্বোরো গায়ে, স্কুলে না গিয়ে চাদরমুড়ি দিয়ে আনন্দমেলার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে ওর থেকে অনেক বেশি, অনেক দূর দূর জায়গায় যাওয়া যায়। কোটি কোটি বালকবালিকা গেছে। আরও কোটি কোটি বালকবালিকা যাবে। অর্চিষ্মান মেনে নিল। ও-ও গেছে এই পথে অনেক জায়গায়। ভারতবর্ষের ভেতরে, বাইরে। চাঁদে, মঙ্গলে।
আর একটা স্টেশন এসে গেছে। ছোট ছোট বাল্ব জ্বালা দোকানঘর। ঠেলার ওপর চালকুমড়ো। মৃত পাঁঠার ঝুলন্ত অর্ধেক, দুই পা ক্রিসক্রস করা ছালছাড়ানো ফ্যাটফেটে মুরগি। কাঁচের বয়ামে তেলেভাজা। দড়িতে ঝোলানো টিপের পাতা, ঝুড়িতে প্লাস্টিকের ক্লিপ। এগরোলের স্টল। ফুচকার ঠেলা। বাজার থেকে একটু এগিয়ে এসে, একটু আড়ালে, গাছপালার মধ্যে একটা একতলা হলুদ বাড়ি।
অর্চিষ্মান মাঝে মাঝেই বলে, আমি যখন থাকব না, কোথাও একটা গিয়ে ক'দিন থাকতে পার। খারাপ লাগবে না কিন্তু। লেখক হওয়ার তো গ্যারান্টি নেই, অন্ততঃ লেখকসুলভ নির্জন রিট্রিটের অভিজ্ঞতা হতে ক্ষতি কী? নিজেই রোমহর্ষক সব অপশন অফার করে। ম্যাকলিওডগঞ্জ, কসোল, রিষড়া।
এখানে এসে থাকলে কেমন হয়? সাতদিন মনে হয় একটু বেশি তাড়াতাড়ি কেটে যাবে, একমাসের জন্যই আসা ভালো। হয়তো হলুদ বাড়িটার মালিক কর্মসূত্রে অন্য কোথাও থাকেন, দেখাশোনা জন্য কাউকে রেখে গেছেন। ওই বাড়িটা ভাড়া নেব। একমাসের জন্য প্রথমে তারপর ভালো লাগলে তিনমাস।
অর্চিষ্মান কী একটা বলছে। বলছে যে, এখানে ওকে তিনদিন থাকতে বাধ্য করলেও ও মারা পড়বে। ওকে আমার প্ল্যানের কথাটা বলছি। অর্চিষ্মান চোখ গোল করছে। বস্, এখানে কী করবে? করার আছেটা কী?
কেন, ওই লোকগুলো, যারা বাজার দিচ্ছে, বাজারে ঘুরছে, তারা যা করছে তাই। বিকেলবেলা অফিস থেকে ফিরে বাজারে এসে চা চপ খাব, টুকটাক কেনাকাটি, খুচখাচ সামাজিকতা। তারপর বাড়ি ফিরে চা নিয়ে বসে টিভি দেখব, টিভি বন্ধ করে টেবিলে গিয়ে ল্যাপটপ খুলে লিখতে বসব, মাঝে একবার উঠে রান্নাঘরে গিয়ে ঢাকনা তুলে দেখব কী রান্না আছে। খিদে পাবে না, চপটা খাওয়া উচিত নয়নি, তবু খাব না হয় দুটো রুটি তরকারি, আবার টেবিলে গিয়ে বসব। অন্ধকার চরাচর, ল্যাপটপের আলোকিত কী বোর্ড, টেবিল ল্যাম্পের হলুদ আলোর গোল। জানালার বাইরে ঝিঁঝিঁ, প্রতিবেশীর টিভি। রাত বাড়লে শুধু ঝিঁঝিঁ। ঘুমোনোর আগে ছাদে গিয়ে দাঁড়াব হয়তো কিছুক্ষণ। অনেক কিছু ভাবব আবার কিছুই ভাবব না। আলটিমেটলি সবই প্রপঞ্চমায়া বলে নেমে এসে মশারির ভেতর ঢুকে পড়ব। অর্চিষ্মান না জানি শহরের নাইটলাইফ না জানি কত নিংড়ে নিচ্ছে, ভেবে হিংসেয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমিয়ে পড়ব।
এবার আমরা ভূপেন হাজারিকা সেতু পেরোব। ন’কিলোমিটার লম্বা। সম্ভবতঃ ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম। নিমাজি বললেন, ফেরার সময় দিনের বেলা ভালো দেখা যাবে। ব্রিজ থেকে নেমে ব্রেক নিলাম। ছোট দোকানে মহিলা দোকানদার। প্লাস্টিকের নীলকমল চেয়ারে বসে এবিসিডি বলা বাচ্চা। আমার কুরকুরে আর পালস কেনা হতে হতে এবিসিডি সফলভাবে এক্স ওয়াই জেড-এ পৌঁছল। আমি যথারীতি ব্যক্তিগত বাউন্ডারি ভেঙেচুরে কেয়া বাত, এনকোর, এ ছেলের হবে ইত্যাদিতে ফেটে পড়লাম। মহিলা গর্বিত মুখে বললেন, মোরা নাতি।
অরুণাচলের বর্ডারে পুলিস দাঁড় করালো। খচমচ করে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দু'আঙুল দিয়ে স্ক্রিন টেনে বড় করে এজেন্টের পাঠানো ইনার লাইন পারমিট দেখানোর চেষ্টা করলাম। শিওর কিছুই দেখা যায়নি তবু পুলিস ওকে ম্যাম থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ বলে ছেড়ে দিল। নিমাজি বললেন, টুরিস্টদের নাকি খুবই খাতির করে, কিছুই দেখেটেখে না, আগের মাসে নাকি দুজন চাইনিজ ঢুকে পড়েছিল তাই এইটুকু নিয়মরক্ষা করল। অর্চিষ্মানের আবার ফোন এসেছে। মায়াও লাগছে আবার রাগও ধরছে। তেরা দো টকিয়ে কি নোকরি মেঁ মেরা লাখোঁ কা রোডট্রিপ যায়েঁ গোছের ফিলিং হচ্ছে।
রোয়িং এসে গেল। ফেরার সময় দিনের বেলা ভালো করে দেখা যাবে, তবু জানালা দিয়ে মুণ্ডু বার করে শহরটার একটা আঁচ পাওয়ার চেষ্টা করলাম। টানা বাড়ি, সামনে মাঠ। নির্ঘাত স্কুল, এবং আমার বাচ্চা থাকলে আমি অর্চিষ্মানের সঙ্গে কুরুক্ষেত্র করে হলেও যে রকম স্কুলের পাঠাতাম সেই টাইপের স্কুল। রাস্তায় দুয়েকটা যে টাইপের স্কুল দেখেছি, মাঠের ম নেই, আকাশ পর্যন্ত পাঁচিলের পেছনে কাঁচফাচ দিয়ে বানানো বিল্ডিং, স্কুলের মূল নামের নিচে থার্ড গ্রেড সিনেমার স্টাইলে ট্যাগলাইন 'দা গুরুকুল', সেই টাইপের না। কলোনিয়াল টাইপের বাংলো ভুতের মতো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে, মনে হয় সরকারি অফিস। শহর ছাড়িয়ে বেরিয়ে গেলাম। পাঁচ মিনিট ফাঁকা রাস্তায় ছুটে নিমাজির গাড়ি রাস্তা ছেড়ে সাঁ করে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে গেল।
স্টোন হিলস রিসর্টে আমাদের রাত্রিবাস। রিসর্ট শব্দটা মোস্টলি অ্যাসপিরেশনাল। ঘর বাথরুম ঝকঝকে, কিন্তু বাইরেটা আক্ষরিক স্টোন হিলস। রাতে কিছু বোঝা যাচ্ছে না তবে সুন্দর হবে মনে হয়। পেছনে ব্যালকনির গা থেকে বড় বড় ঘাসের জঙ্গল উঠেছে। অর্চিষ্মান বলছে একটা গমগম আওয়াজ পাচ্ছ না? আমি জেনারেটর বলে তাচ্ছিল্য করছি, অর্চিষ্মান সন্দিগ্ধ, আশেপাশে নদী আছে নির্ঘাত। রাত ভোর হলে আমি ভুল অর্চিষ্মান ঠিক প্রমাণিত হবে, কিন্তু রাত এখনও বাকি।
একটা দুর্ঘটনা আবিষ্কার করেছি। আমার ফোন গাড়িতে থেকে গেছে। অর্চিষ্মানের ফোন থেকে ফোন করে নিমাজিকে বললাম, একটু দিয়ে যান দয়া করে। এই একটা সুযোগ পাওয়া গেছিল বারো ঘণ্টা বাধ্যতামূলক ফোন ডিটক্সের, কিন্তু ও সব ডিটক্সফিটক্স দূর থেকেই লোভনীয়, ঘাড়ের ওপর এসে পড়লে প্রাণঘাতী। নিমাজি রাজি হলেন আর আমাকে বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে বললেন। বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম। বেশ ঠাণ্ডা। দুই হাত বিবেকানন্দ করে দাঁড়িয়ে আছি। রহস্যজনক ঝমঝম তখনও চলছে। আকাশের দিকে মুখ তুলতেই তারা আর তারা।
আসামে পোস্টিং সেরে মা বাড়ি ফিরেছিলেন, একটা আনকোরা এম এস সি ইন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস-এর ডিগ্রি বগলে নিয়ে। মা অফিসে অ্যাকাউন্টস দেখতেন। ও ডিগ্রি মায়ের কোনও কাজে লাগেনি। ব্যক্তিগত জীবনেও খুব দর বাড়িয়েছিল মনে হয় না। পৃথিবীতে তিনজন মায়ের এ ডিগ্রির খবর জানত, তাদের মধ্যে একজন আমি। আমার পক্ষে তো মাকে অলরেডি যা ভালোবাসতাম তার থেকে বেশি ভালোবাসা সম্ভব নয়। বা মাকে নিয়ে অলরেডি যত ইমপ্রেসড তার থেকে বেশি ইমপ্রেসড হওয়া সম্ভব নয়। কাজেই। প্রশ্নটা কাজে লাগালাগি বা ইমপ্রেস করাকরির নয়। প্রশ্নটা নিজে নিজে একা একা নিজের জন্য একটা লক্ষ্য স্থির করে, লেগে থেকে সে লক্ষ্যে পৌছনোর। আর পৌঁছনোর পরের আনন্দটার। যে আনন্দটার সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনও আনন্দের তুলনা হয় না। সবাই জানে। যারা না জানার ভান করছে, তারাও।
আনন্দ কি মা রিষড়ায় সংসারের মধ্যে থেকে পেতে পারতেন না? কেন পারবেন না, নিশ্চয় পারতেন। মা চাইলে কিছু পারতেন না আমি বিশ্বাস করি না। তবে শক্ত হত। আসামের ওই দু'বছরের নির্জনবাস মায়ের পারা সহজ করেছিল। গৌরীপুরের মাঠ, বটগাছ, ব্রহ্মপুত্র মায়ের মনটাকে ফুলেফেঁপে ওঠার জায়গা দিয়েছিল। আসাম সুন্দর না কুচ্ছিত না চলনসই হু কেয়ারস, আসামকে আমি মৃত্যুমুহূর্ত পর্যন্ত ভালোবাসব।
এবড়োখেবড়ো রাস্তায় নিমাজির হেডলাইট জ্বালা বোলেরো বাঘের মতো আবির্ভূত হল। আমি নুয়ে পড়ে সরি থ্যাংক ইউ দুটোই বললাম এবং মনের একেবারে অন্তঃস্থল থেকেই বললাম। বাঘের চোখ রাস্তা পেরিয়ে ফের লাফিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। ঘরে ফিরে এসে অর্চিষ্মানকে আকাশভরা তারার খবর দিলাম।
খেতে গেলাম। কটেজের বাইরে গিয়ে একটু দূরে, একটা শেড মতো। শেডের দেওয়াল কাঠের তক্তা ফাঁক ফাঁক সাজিয়ে তৈরি। তক্তার ফাঁক দিয়ে মায়াবী আলো আর তেজী রকসংগীত ছিটকোচ্ছে। আমার খিদে পাচ্ছে না। আমি স্যালাড, অর্চিষ্মান প্রন সেজুয়ান চাউমিন অর্ডার করল। অর্ডার পাঠাতে একটা উত্তাল টাইম নিলেন ওঁরা, পঁয়তাল্লিশ মিনিটে যে ডিনার সারব ভেবেছিলাম, দেড় ঘণ্টা লাগল। কিছু এসে যায় না। ওই পঁয়তাল্লিশ মিনিটে এমন কিছু রাজ্যোদ্ধার করতাম না আমরা। অর্চিষ্মানের চাউমিন নাকি ফাটাফাটি খেতে ছিল। খাওয়া শেষ করে থ্যাংক ইউ বলে বেরিয়ে এলাম। কটেজের দিকে, এবড়োখেবড়ো পাথুরে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে অর্চিষ্মান ঘন ঘন আকাশের দিকে তাকাতে লাগল।
আমার কি চোখ খারাপ হল নাকি? একটাও তারা দেখছি না তো।
ঘাড় তুললাম। তারা নেই। তার মানে মেঘ করেছে। ঘরে এসে শুয়ে পড়লাম। অর্চিষ্মানের ভাগ্যাকাশেও যে মেঘ জমছে টের না পেয়েই। টের পাব কাল আনিনি পৌঁছে।
(চলবে)
আহা কী ভালো লাগলো। অনেকদিন পর কাকীমা এলেন অবান্তরে। যাঁরা স্রেফ নিজের ভালোলাগার জন্যে সম্পূর্ণ অদরকারী কিছু জিনিস শেখেন তাদের প্যাশন আর ডিসিপ্লিনকে মাথা নুইয়ে শ্রদ্ধা।
ReplyDeleteমেঘ সরে যাবে আশা করি।
সরবে, তবে ভুগিয়ে।
DeleteKhub bhalo laglo porte. Apnader journey ta bhari sundar. Assam e ekbar gechhi. kintu khub bhalo legechhilo.
ReplyDeleteKakimar golpo anekdin por porte pere moner araam holo.
Bhalo thakben.
হ্যাঁ, সুস্মিতা, আসাম সত্যি খুব সুন্দর। আপনিও খুব ভালো থাকবেন।
Deletekhub khub bhal laglo poRe.. ki sundor likhechen.. aamaro beRano hoye gelo mone hocche.. kakimar prosongo khub bhalo laglo, aar MSC niye aaro aaro impressed. oi Assam e holud baRi bhaRa niye thakar ideata durdanto. erokom ekta kichu korte paarle ki bhaloi na lagto.
ReplyDeleteshehser cliffhanger o mochotar.
khub bhalo thakben
Indrani
আমার বাড়িভাড়া নিয়ে থাকার আইডিয়াটা আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুবই খুশি হলাম। আমরা ভয় পাই, কিন্তু করে ফেলতে পারলে মনে হয় খারাপ লাগবে না, অনেকেই আমার ধারণা করে।
Deleteমচৎকার শব্দটা আমার মন ভালো করল। অনেকদিন ব্যবহার করা হয়নি। দাঁড়ান নেক্সট পোস্টেই করব।
পড়লাম বলেই লিখছি।গত পরশু তিন্নিকে বললাম, আপনার লেখা ব্লগ আমি প্রিন্ট করে রেখেছি।
ReplyDeleteতিন্নি "আমার বন্ধু হয়" বলে একখানা গর্বের হাসি হেসেছিল ফোনের ওপারে।
যা হোক।
আপনার সব লেখা মিলে একদিন, জাস্ট বিয়িং কিংবা, মাদার মেরি টাইপ ঢাউস কিছু একটা বের হবে, শ্যিওর।
তিন্নিও বলেছে আপনাকে চেনার কথা। আমি ভাবছিলাম প্রসঙ্গটা তুলব কি না্ তারপর তুলিনি।
Deleteকোন প্রসঙ্গ ?
Deleteসরি , আমার রেসপন্স লাইট ইয়ার ট্রাভেল করে আসার মত হয় !
Deleteএই তিন্নির সঙ্গে কমন চেনা বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ।
Deleteএভাবেও ভ্রমণকাহিনী লেখা যায়!! আগে কুন্তলার লেখা পড়ে সেই জায়গায় পৌঁছে গিয়েছি- ক্যাফে, বাসে, ট্রেনে, পাহাড়ি পথে- এই যেমন কিছুদিন আগেই সটান পৌঁছে গিয়েছিলাম, ম্যাকলিওডগঞ্জে সংঘবদ্ধ মেঘদের , পাইন গাছ , লাল নীল সব ছাদ - স্পষ্ট দেখেছিলাম, স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে উঠে গিয়েছিলাম বিমিল সোসাইটির ছাদে, চিপা গলি দিয়ে স্পেস আউটে -তেতে ওঠা টেবিলটপের ছ্যাঁকাও খেয়েছিলাম। এবার যেটা হল-সেটা মারাত্মক। স্ট্রীম অফ কনশাসনেস , আরো স্পেসিফিকালি ইন্টিরিয়র মোনো লগের ম্যাজিকে কখনও ভারজিনিয়া উল্ফকে মনে পড়ল। কখনও কুন্তলার মগজের মধ্যে ঢুকে গেছি বলে ভেবে, পরক্ষণেই আবিষ্কার করলাম হয়তো ব্যাপারটা ঠিক উল্টো।
ReplyDeleteপাঠকের এ এক অলীক ভ্রমণ।
আমি জানি আপনি আমার বন্ধু কাজেই নিশ্চয় একটু একটু পার্শিয়ালও। তবু আমার আপনার সব প্রশংসা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, ইন্দ্রাণী।
Delete