Posts

Truth

Image
"When you wake up in the morning, Pooh," said Piglet at last, "what's the first thing you say to yourself?" "What's for breakfast?" said Pooh.  "What do you say, Piglet?" "I say, I wonder what't going to happen exciting today ?" said Piglet. Pooh nodded thoughtfully. "It's the same thing," he said.

একটি বর্ষার সন্ধ্যে

Image
কেমন কাটলো আপনাদের মাতৃদিবস? যারা মায়ের কাছাকাছি ছিলেন তাঁরা একসাথে কোয়ালিটি টাইম খরচ করলেন কি? যারা দূরেদূরে রইলেন তাঁরা মাকে দূরভাষে উইশ করলেন কি? নাকি আপনি এসব হলমার্ক-হুজুগে বিশ্বাস করেন না, আপনার কাছে প্রত্যেকটা দিনই মায়ের দিন? যাই হোক, আপনি যে দলেই পড়ুন না কেন, আজকের দিনটা আপনার এবং আপনার মায়ের ভালো কেটেছে আশা করি। আমার কথা যদি জানতে চান, তাহলে বলবো এবছরের মাদার’স ডে আমার এত ভালো কেটেছে যে যখন আমি বুড়িথুত্থুড়ি হয়ে যাবো, মাথার বাকি ক’গাছা চুলও সাদা হয়ে যাবে, সাধের দাঁতের পাটি থেকে দু-একখানা দাঁত আলগা হয়ে খুলে পড়ে যাবে, চোখের মাইনাস পাওয়ার পালটি খেয়ে প্লাস হয়ে যাবে, তখনও আমার আজকের দিনটার কথা পরিষ্কার মনে পড়বে। অথচ দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতই শুরু হয়েছিল জানেন। মানে আর পাঁচটা মাদার’স ডে-র মতো। আমি সকালে উঠে রীতিমত হাতাহাতি করে মায়ের হাত থেকে চায়ের সসপ্যান আর ছাঁকনি কেড়ে নিয়ে মা’কে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে খাওয়ালাম। মা ভয়ানক কাঁচুমাচু মুখ করে, বারংবার “এসবের কোন মানে হয় সোনা” বলতে বলতে সেগুলো খেলেন। তারপর আমরা বাবাকে ফোন করলাম, ছোটমামা মাকে ফোন করল, মা আমার...

মায়েদের জন্য

Image
দীপমালা আমাদের ক্লাসের বি সেকশনে পড়তো। আমার সাথে ওর বিশেষ জানাচেনা ছিলোনা কখনোই। আমরা এ সেকশনে পড়তাম কিনা, তাই বি সেকশনের মেয়েদের বিশেষ পাত্তা দিতাম না। তবে ভালো আবৃত্তি করতো আর ছবি আঁকতো দীপমালা, সেটা না মেনে উপায় ছিলোনা। তবে দীপমালার আসল খ্যাতির জায়গাটা আঁকাও ছিলোনা, আবৃত্তিও না। ছিলেন দীপমালার মা। ছেলেমেয়ে নিয়ে বাড়াবাড়ি কমবেশি সব মায়েরই থাকে, কিন্ত দীপমালার মা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছিলেন। আমাদের একতলার ক্লাসরুমে হাফ ইয়ারলির অঙ্ক পরীক্ষা হচ্ছে, আর দীপমালার মা জানালার পাশ থেকে ক্রমাগত উঁকিঝুঁকি মেরে দেখছেন মেয়ে ঠিকঠিক লিখছে কিনা, এ দৃশ্য স্পষ্ট চোখে ভাসছে। রাঙাদিদিভাই গার্ড দিচ্ছিলেন। বার পাঁচেক ভদ্রমহিলাকে চলে যেতে বলার পরও যখন তিনি শুনলেন না, তখন দিদিভাই গলা যথাসম্ভব কঠিন করে বলেছিলেন, “ আপনি এক্ষুনি স্কুল থেকে না বেরিয়ে গেলে আপনার মেয়েকে হল থেকে বার করে দেওয়া হবে। ” তাতে কাজ দিয়েছিলো মনে আছে। কিন্তু তার থেকেও বেশি মনে আছে ক্লাস ফোরে পড়া দীপমালার মুখটা। বাড়ি এসে খুব হিহি করে হেসে গল্পটা বলায় মা গম্ভীর হয়ে বলেছিলেন, “ গুরুজনকে নিয়ে ঠাট্টা করতে নেই সোন...

সাপ্তাহিকী

Image
এই গরমে  দেখেও শান্তি । বহুরূপী! একেই বলে পারম্পর্য। এই মুহূর্তে মহাকাশে। Google ছাড়া কী করে বাঁচতো লোকে কে জানে বাবা। এই ঘরে বসে Matilda লেখা হয়েছিল। ভাবা যায়? প্যারিস না নিউইয়র্ক? নিউ ইয়র্ক নিউ ইয়র্ক! আমার এক্ষুনি একটা সফট বয়েলড ডিম পাড়া মুরগি চাই। চাই চাই চাই। আমি কিচ্ছু জানিনাআআআআ। একদম ওপরের জ্ঞানগর্ভ সারসত্যটি...সত্যি বলছি কোথা থেকে জোগাড় করেছিলাম ভুলে গেছি। কাজেই লিঙ্ক দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত। তবে যেখান থেকেই পাই না কেন, সেখানে গুগল দিয়েই পৌঁছেছিলাম নির্ঘাত, অতএব 'সৌজন্যেঃ গুগল' ধরে নিচ্ছি। আজকে এই পর্যন্তই। তবে এক্ষুনি টা টা বলছিনা, কারণ এ সপ্তাহে আর একটা পোস্ট লিখবে অবান্তর। বুদ্ধিমান পাঠকেরা নিশ্চয় আন্দাজ করে ফেলেছেন সেটা কী নিয়ে হবে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

কেমন আছেন? শরীর মন সব ঠিক আছে তো? আমার তো খারাপ থাকার কোনো কারণ নেই, থাকছিও না। মা রাঁধছেন বাড়ছেন, বসিয়ে পাত পেড়ে খাওয়াচ্ছেন, রাতে শোওয়ার আগে নারকেল তেল গরম করে মাথায় মালিশ করে দিচ্ছেন---আমি আধবোজা চোখে পায়ের ওপর পা তুলে আরাম করছি। মাঝে একবারই একটু গোলযোগের উপক্রম ঘটেছিলো যখন স্নান থেকে বেরিয়ে আবিষ্কার করলাম আমার ল্যাপটপের ওপরে মা কপালের টিপ সেঁটে রেখেছেন। আচ্ছা করে বকে দিয়েছি। তাতে কাজ দিয়েছে মনে হচ্ছে, এখন আর রাখছেন না। যাই হোক, এসব ঘরগেরস্থালির তুচ্ছ কথা থাক। বরং একটা অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলা যাক। বেজায় কিন্তু কিন্তু ঠেকছে, তাও বলছি আরকি। সাফাই গেয়ে রাখছি আগেই, মৃত্যু ব্যাপারটা ছেলেখেলার নয় আমি জানি, তাই সেটা নিয়ে লঘুচালে কথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু ঘটনাটা মাথা থেকে তাড়াতে পারছিনা কিছুতেই। অতি সম্প্রতি জেফ নামের এক ভদ্রলোক জীবনের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। জেফ বাই-পোলার-ডিসঅর্ডারের রোগী ছিলেন। এছাড়াও প্রবল নিঃসঙ্গতা ছিলো, হতাশা ছিলো। আমি কল্পনাও করতে পারিনা কত কষ্ট হলে লোকে নিজেই নিজেকে মেরে ফেলতে পারে। যতই নাটুকে শুনতে লাগুক না কেন, পৃথিবীট...

খবর আছে

সুখবরই বলতে পারেন। আমার মা আসছেন। পোস্ট-রিটায়ারমেন্ট ভ্রমণ। ঠাকুমার অবস্থা অবশেষে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এসেছে, কাজেই মা এই সুযোগে চট করে একবার ঘুরে যাচ্ছেন। এখন ক'দিন দুটো মনের কথা বলে আর ভালোমন্দ খেয়ে বাঁচা যাবে। সোনার ওপর সোহাগা, এবছরের মাদার'স ডে, মা মেয়ে একসাথে উদযাপন করা যাবে। আমি এখন থেকেই প্ল্যানপ্রোগ্রাম শুরু করে দিয়েছি। কোন হলে কী সিনেমা চলছে, সব দেখেটেখে রেখেছি। কিন্তু ভালো খবর কি একা আসে কখনো? খারাপ খবরকে, রি-ইউনিয়ন পার্টিতে ছোটবেলার প্রাণের বন্ধুর অসহ্য পাকা বয়ফ্রেন্ডের মতো, সাথে করে নিয়ে আসে। মা আসার খারাপ দিকটা হচ্ছে, এক'দিন অবান্তরের ভাগে অ্যাটেনশন একটু কম পড়বে। অবান্তর ঠোঁট ফোলাতে শুরু করেছে অলরেডি, কিন্তু আপনারা নিশ্চয় বুঝবেন, বলুন? একেবারে ডুব দিয়ে আমিই থাকতে পারবো না হয়তো। মাঝে মাঝে উদয় হয়ে হাই হ্যালো বলবো, কিন্তু সেগুলো নেহাত ফাঁকিবাজি পোস্ট হবে। হাত পা ছড়িয়ে গল্প করার সুযোগ আসবে একেবারে মা চলে গেলে। তখন গল্প করার মতো জিনিসও থাকবে অনেক আশা করি, আর প্রয়োজনও। হঠাৎ খালি হয়ে যাওয়া বাড়িটায় করার মতো আর কীই বা থাকবে আমার? অবান্তর ছাড়া...

পঁচিশে বৈশাখ

আপনারা সবাই কী করে উদযাপন করবেন ঠিক করেছেন? দোকান থেকে কেক কিনে এনেছেন নাকি বাড়িতেই পায়েস বানিয়েছেন?  আমার এবার কিছুই করে ওঠা হয়নি। অফিস করে, ঘরদোর সামলে, সময় পাওয়া গেলে তো। তাও একেবারে কিচ্ছু না করলে মনটা খুঁতখুঁত করছিল। তাই নিচের গানটা নিয়ে এসেছি আপনাদের শোনাবো বলে। এটাকে শুধু গান বললে অন্যায় হবে যদিও। বরং আমার শৈশবের একটা ক্লিপিংস বলতে পারেন। প্রত্যেক বছর পাড়ার রবীন্দ্রজয়ন্তীর ফাংশানে নাচের দলে আমার জায়গা বাঁধা ছিল। অবশ্য মিনির মতো অত স্মার্ট ছিলাম না তো, তাই মাঝখানে দাঁড়াতে পেতাম না। ওই আশেপাশে যারা নাচছে, আমি তাদের দলে থাকতাম। একটু বড় হওয়ার পর সেখান থেকেও তাড়া খেলাম। তাও হাল ছাড়িনি। উইংসের পাশে গানের দলে ভিড়ে গেছিলাম। আপনারা কে কোন দলে থাকতেন? এই গানটা শুনতে শুনতে আর ছোটবেলার কথা মনে করতে করতে এবছরের রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করবো আমি। আপনাদের গানটা শুনে কারো কিছু মনে পড়ে গেলে আমাকে জানাতে ভুলবেন না যেন।

আদরে বাঁদর

Image
আটচল্লিশ ঘণ্টা লম্বা একটা সময়কে, একটাই সময়কে, শুক্রবার বিকেল আর রবিবার সন্ধ্যে, দুদিক থেকে দেখতে কী আকাশপাতাল আলাদা লাগে, ভাবা যায় না। শুক্রবারের বিকেলে দাঁড়িয়ে এই সময়টা কী দীর্ঘ...আ-ট-চ-ল্ল-ই-শ ঘ-অ-ন-ট-আ...বিশ্বাসই হয়না। শুধু দীর্ঘই না, সম্ভাবনায় টইটম্বুর---পড়াশোনা, গান, গল্প, অবান্তর। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে কতরকম জল্পনা কল্পনা। এতটা সময়, ফেলে ছড়িয়ে নষ্ট করলে তো চলবে না? কীভাবে, কোনদিক থেকে কাটতেছাঁটতে শুরু করলে সবথেকে কম অপচয়ে সবথেকে বেশি রিটার্ন মিলবে, তার কত হিসেব নিকেশ। রেড লাইটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের ওপর কত কপট শাসন, কত আদর করে নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে নিজেকেই বোঝানো, কত সাবধানবাণী। “সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়।” কত আশার কথা-- ঘাবড়াও মাত সোনা, আগের উইকএন্ডগুলো বাজে খরচ হয়েছে তো কী, এই উইকএন্ডটা অন্যরকম কাটবে, দেখে নিও। এ সপ্তাহের সোনা তো আগের সপ্তাহের সোনার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটা মানুষ, তাই না? বলো? আটচল্লিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই টগবগে ব্র্যান্ড নিউ সোনা, রঙ চটে, সেলাই খুলে, ফেটে যাওয়া বেলুনের মতো ফুটনের ওপর চিৎপাত হয়ে পড়ে আছে। দেখলে ...

সাপ্তাহিকী

Image
আমার দেখা বেস্ট সেলিব্রিটি পোজ। বেবি হারপারের আরও ছবি দেখতে চাইলে  এখানে ক্লিক করুন। Jack Kerouac "On the Road" ক'দিনে লিখেছিলেন বলুন তো? ২১ দিনে। শুধু এই তথ্যটা তুলে নিয়ে আপনাদের চমকে দিতে পারতাম, কিন্তু তাহলে এই পোস্টটার ওপর অবিচার করা হতো। শুরু আর শেষ নিয়ে এত সুন্দর লেখা, পড়ে দেখুন ভালো লাগবে। আর ফাউ হিসেবে Kerouac তো আছেনই। হাতু! হাতু! আকাশ কেন ডাকে, পাখি কেন গায়।  বাসতেই যদি হয়, তাহলে এরকম ভালোবাসাই ভালো। জানতে হয়, নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়। দেখুন সেদিনই বিকল্প পেশা নিয়ে বলছিলাম, আজকেই এই লিস্টটা বেরিয়ে গেল। এর মধ্যে অনেকগুলো চাকরি টাকা দিলেও করবো না, তবে শেষের চাকরিটা পাওয়ার জন্য নিজে টাকা দিতে রাজি আছি। ফুঃ, এরাই নাকি মানবসভ্যতা লাটে তুলবে বলে ভয় পাচ্ছিলেন আপনারা? তাহলেই হয়েছে আরকি। আজ আর গান নয়, বরং যেতে যেতে একটা শক্ত প্রশ্ন রেখে যাই। Who is the cutest? ভালো হয়ে থাকবেন, ঠাণ্ডা লাগাবেন না, জাঙ্কফুড খাবেন না। সোমবার আবার দেখা হবে। টা টা।

ইমোশন মাখো মাখো, নিজের পকেটে রাখো।

Image
শেষ কবে বাংলা সিনেমা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছি? এই আধঘণ্টা আগেই। শেষ কবে বাংলা সিনেমা দেখে নিন্দে করার মতো কিচ্ছু খুঁজে পাইনি (এমনকি মিরকে নিয়েও না)? সেও এই আধঘণ্টা আগেই। আপনারা সবাই এতদিনে দেখে ফেলেছেন নির্ঘাত। তবু যদি আমার মতো কেউ থেকে থাকেন, ক্রমাগত দাগা খেতে খেতে শেষমেশ বাংলা সিনেমা দেখাই ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের জন্য নিচের লিঙ্কটা রইল। (সে লিঙ্ক এখন আর কাজ করছেনা, তাই তুলে দেওয়া হল।) যদি ভালো লাগে তবে সে ধন্যবাদ  সুগতর  প্রাপ্য। আর শাশ্বত, শাশ্বত, শাশ্বত...এতদিন কোথায় ছিলেন?  

ছাদের ছবি

Image
আলোকচিত্রী: Jamie Beck   এরকম একটা ছাদের ছবি দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে আমার   বাড়ির ছাদের কথা মনে পড়ে যায়। তাছাড়াও দিনের বিভিন্ন সময়, বিচিত্র পরিস্থিতিতে, আমাদের ছাদটার কথা যখনতখন মনে পড়ে আমার। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মনে পড়ে ছাদের দক্ষিণ দিকের পাঁচিলের ওপর ডিঙি মেরে লগা দিয়ে কল্কে গাছের উঁচু ডালের ফুলগুলো টেনে টেনে কাছে আনার চেষ্টা করছি। মানে মা চেষ্টা করছেন, আমি মাকে পেছন থেকে উৎসাহ দিচ্ছি। কল্কেগাছটা পাজির পাঝাড়া। এমন মগডালে ফুল ফোটাবে যাতে কিছুতেই আমাদের হাত না যায়। কিন্তু আমার মাকে তো চেনে না। শেষে মা এক রামঝটকা দিয়ে পাতাটাতাসুদ্ধু হুড়মুড়িয়ে সব নামিয়ে আনলেন। আনার পর দেখা গেল যে তিনটে ফুলের জন্য এত মারামারি তারা অশোককাকুদের রান্নাঘরের অ্যাসবেসটসের চালে পড়েছে, আমাদের পাঁচিলের এদিকে শুধু একগাদা ছেঁড়া পাতা। কোন মানে আছে? সন্ধ্যেবেলা মাঝে মাঝে হঠাৎ জোরে হাওয়া দিলে তো খুব মনে পড়ে জানেন। মা অফিস থেকে ফিরেছেন, লোডশেডিং, এমারজেন্সি লাইট আর মাদুর নিয়ে ছাদে যাওয়া হয়েছে, অঙ্ক প্র্যাকটিস হবে নাকি। একটু পরেই খাতাপেনসিল গুটিয়ে রেখে, “মা একটা গান গাও না গো।” ম...

শিশুর সাতকাহন

Image
যখন কলেজে পড়তাম তখন বাচ্চা দেখলে নাক কুঁচকোতাম। শুধু আমি না, আমার সব বন্ধুই কুঁচকোতো, কারণ কুঁচকোনোটাই ফ্যাশনেবল ছিল। আর যেসব বড়রা বাচ্চা দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে গাল টিপে আদর করতেন আর উলিবুলি ভাষায় কথোপকথন শুরু করতেন, তাঁদের দেখলে চোখ ঘুরিয়ে বলতাম, “এরা কারা বস?” কিন্তু তখন আমি রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করতাম না, বিউটি পার্লারে যাওয়াটাকে প্রাইম ক্রাইম হিসেবে গণ্য করতাম, কেউ সানন্দা পড়ে শুনলে তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিতাম, আর বিশ্বাস করতাম “প্লেটোনিক” নামে পৃথিবীতে সত্যি সত্যি একরকমের প্রেম হয়। কাজেই তখনকার ‘আমি’কে বেশি পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই। এখনকার আমি আর সে আমি নেই। বাচ্চা দেখলে শুধু যে আদর করতে ইচ্ছে করে তাই না, মাঝে মাঝে মনের ভেতরটা হু হু পর্যন্ত করে, কেন সুস্মিতা সেনের মতো সাহসী হলাম না। হলে বেশ স্টেপ জাম্প করে একটা ছোট্ট ফ্রক পরা, মাথার দুপাশে টেনে দুটো ঝুঁটি বাঁধা, গালফোলা আধো আধো কথা বলা জ্যান্ত পুতুলকে বাড়িতে এনে বন্দী করে রাখা যেত। হাফপ্যান্ট পরা বাটিছাঁট পুতুল হলেও আপত্তি নেই। গালটা যথেষ্ট ফোলা হলেই চলবে শুধু। যেরকম গালে চুমু খেতে গেলে নাকটাক সব ...

ঘুমের আমি ঘুমের তুমি

Image
রাতে বিছানায় শুয়ে, কতক্ষণ ঘুমের অপেক্ষা করার পর আপনি ব্যাপারটাকে, “জাস্ট ঘুম না আসা” থেকে “ইনসমনিয়া অ্যাটাক” পর্যায়ে উন্নীত করেন? ইনসমনিয়া সোজা ব্যাপার নয়, কাজেই সেটা নিয়ে ইয়ার্কি মারা আমার উদ্দেশ্য নয়। ইনসমনিয়া আমি দেখেছি, তার পাল্লায় পড়ে একটা লোক জ্যান্ত অবস্থাতেও যে আধমরা হয়ে থাকতে পারে তাও দেখেছি। হয়তো সেই জন্যই মাঝে মাঝে সারারাত ঘুম না এলেও আমি কিছুতেই স্বীকার করতে চাইনা যে এটা ইনসমনিয়া গোছের কিছু হতে পারে। নিজেকে বুঝিয়ে দিই, হবেই তো। সারাদিনে  অত কাপ চা খেলে ঘুম আসাটাই অস্বাভাবিক। এখন সেটা সত্যিও হতে পারে আবার ডিনায়াল-ও হতে পারে। আমি জানিনা। মোদ্দা কথা হচ্ছে আজ রাত্তিরে শুতে যাওয়ার ঝাড়া আড়াই ঘণ্টা পরেও যখন ঘুম এলো না, তখন আমি ধুত্তোরি বলে উঠে পড়লাম। ল্যাপটপের ঢাকনা তুলে একবার অবান্তরের স্ট্যাটিসটিকসে চোখ বুলিয়ে নিয়ে গুগল করলাম, “হাউ টু কিওর ইনসমনিয়া?” তাতে যা বেরোল তার নব্বই শতাংশ টোটকা আমার আগে জানা এবং সেগুলোয় কিস্যু কাজ হয়না। যেমন ধরুন ওই ভেড়া গোনার ব্যাপারটা। প্রথমত, আপনাদের কথা জানি না, আমার মতো গ্রাম্য পাবলিকের পক্ষে ভেড়...

চেনেন নাকি?

Image
এই ঘুম-তাড়ানো, ঘাম-ছোটানো ললনাকে?

শনিবারের বারবেলা

Image
হ্যালো হ্যালো হ্যালো। কেমন আছেন সবাই? দুদিন কী করলেন? কত মজা করলেন? অবান্তরকে মিস করলেন কি? আমার উইকএন্ড ভালো কেটেছে। ঘুরে বেড়িয়ে, সিনেমা দেখে, বিবিমবাপ খেয়ে। কোরিয়ানরা ভারি ভালো রান্না করে কিন্তু। শনিবার দুপুরে শহরের রাস্তায় বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। বেড়ানো মানে অনির্দেশ্য ঘোরাঘুরি। একটা রাস্তা ধরে নাকবরাবর হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সঙ্গের লোকের কনুই টেনে ধরে, “চলো এই গলিটায় কী আছে দেখে আসি” বলে গলির ভেতর বেমালুম ঢুকে পড়া। সে গলি পছন্দ না হলে আবার অন্য গলি। হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা হয়ে গেলে কফির দোকান আছে, গলির গোলকধাঁধায় খেই হারিয়ে গেলে আছেন হেল্পফুল পথচারী কিংবা পুলিশকাকু। এই করে টাইমপাস যতক্ষণ না বিকেলের শো-এর সময় হয়ে যায়। তখন একবালতি পপকর্ণ আর একগামলা কোক নিয়ে বসে 3 D তে জ্যাক আর রোজের প্রেম। জানি হাস্যকর, তবু যতবার দেখি, শেষদিকটা কীরকম কান্না কান্না পেয়ে যায়। অবশ্য কান্নার আর দোষ কী। জাহাজ ডুবছে, গরিব লোকেদের তালাবন্ধ করে রেখে খুন করা হচ্ছে, বাবামাকে হারিয়ে ফেলা বাচ্চা চেঁচিয়ে কাঁদছে, প্রেমিকাকে বাঁচাতে প্রেমিক মরে যাচ্ছে---কাঁদবেন না মানে? আপনার ঘাড় কাঁদবে। এত...

সাপ্তাহিকী

Image
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর চূড়ো থেকে পৃথিবীটাকে দেখতে কেমন লাগে?  ঠিক এইরকম । এমারজেন্সি।   ". . . overdoing email can be as detrimental to your IQ as smoking weed."  ইয়ার্কি নয়, সিরিয়াসলি।   যেসব আবিষ্কার না হলে মানবসভ্যতা এক ইঞ্চি এগোতে পারত না। বিজ্ঞানের কথাই উঠল যখন তখন মাছ বনাম মাধ্যাকর্ষণের লড়াইয়ে কে জিতল জেনে নিন। শুধু হাই তোলা সংক্রামক কে বলে? যদি আপনি আমার মতো হন, আর আপনারও যদি জামাকাপড়ের তুলনায় হাওয়াই চটি বেশি হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে এই  লিংকটায় অবশ্যই ক্লিক করবেন। আলো দিয়ে আঁকা। আপনাদের কথা জানিনা, আমি DJ Dave -এর ভয়ানক ফ্যান হয়ে গেছি। তাই এসপ্তাহেও তাঁর গান রইল। গানও বলতে পারেন, জ্ঞানও। ঠিক আছে তবে, এসপ্তাহের মতো আসি? সোমবার আবার দেখা হবে। আপনারা সবাই ভালো হয়ে থাকবেন, বাবা মায়ের কথা শুনে চলবেন, সিগারেট কম খাবেন। টা টা। একদম ওপরের ভূতুড়ে ছবিটা তুলেছেন Jamie . যেখানে সেখানে নয়, খোদ প্যারিসের ফ্যাশন সপ্তাহে।

বোরিং বুধবার

বুধবার আমার সারা সপ্তাহের সবথেকে বিশ্রী-লাগা দিন। বিশ্রী অ্যান্ড বোরিং। তার প্রধান কারণ হল দিনটার অবস্থান। এই মাঝামাঝি ব্যাপারটাই আমার জঘন্য লাগে। সে দিনই হোক, কিংবা অন্য কিছু। যেমন ধরুন টকঝাল চানাচুর, কিংবা কাঁচামিঠে আম। আমি সোমবার সকালের নির্মমতা বুঝি, শুক্রবার বিকেলের বাঁধনছাড়া আনন্দও। কিন্তু বুধবার আমার মাথায় ঢোকে না। আর বেছে বেছে বুধবারেই আমার সাথে যত খারাপ জিনিসপত্র ঘটে। মায়ের সাথে মনকষাকষি, বসের সাথে বাকবিতণ্ডা। জঘন্য। এতদিন বাদে মনে নেই যদিও, কিন্তু আমি নিশ্চিত আমার পার্ট ওয়ানের রেজাল্টটাও বুধবার বেরিয়েছিল। নির্ঘাত। বুঝতেই পারছেন, বুধবারে আমার অবান্তরে ফেঁদে বসার মত বাজে গল্পেরও টানাটানি। গত চব্বিশ ঘণ্টায় বলার মতো কিছুই ঘটেনি। কিন্তু গত সপ্তাহে একটা ঘটনা ঘটেছিল, যেটা আপনাদের বলা হয়নি। গল্পটার একটা শিক্ষামূলক দিকও আছে, যেটা আপনাদের কাজে লাগবে। আপনারা কি অফিসে গিয়েই বন্যার মতো কাজ শুরু করে দেন? সে করলে করতেই পারেন, কিন্তু আমি করিনা। পারিনা বলা ভালো। দিনের কাজ শুরু করার আগে আমার ওয়ার্ম আপ করতে লাগে। ইন ফ্যাক্ট আমার সারাদিনের একটা বড় অংশ বেরিয়ে যায় এই ওয়ার্...

শীঘ্রই আসিতেছে!

Image
আমাদের ছোটবেলায় আনন্দবাজারে একটা বিভাগ বেরত। কবে বেরত, তার কী নাম ছিল কিচ্ছু মনে নেই, খালি মনে আছে বিভাগটায় নানারকম বিকল্প পেশার সুলুকসন্ধান দেওয়া হত। মানে ছেলে জয়েন্ট না পেলে বাঙালি বাবামায়েদের সামনে আর কী কী রাস্তা খোলা আছে, সেই ব্যাপারে খোঁজখবর আরকি। তাতে একদিন বেরিয়েছিল, কী করে সীমিত পুঁজিতে লাভজনক মাশরুম চাষ শুরু করা যায়, এমনকি চাইলে নিজের বাড়ির ছাদেই। সেটা পড়ে ভয়ানক উত্তেজিত হয়ে আমি যেই না ঘোষণা করেছি যে বড় হয়ে মাশরুম চাষি হব, বাড়িতে বেড়াতে আসা একজন বয়স্ক আত্মীয় আমাকে ধমকে দিয়ে বলেছিলেন, ওসব “ধড়িবাজি” না করে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে। বুঝুন ব্যাপার। সাসটেইনেবল, স্মল স্কেল লোকাল ফার্মিং, বলে কিনা ধড়িবাজি। অবশ্য বয়স্ক আত্মীয়কে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এককালে শুনেছি ছেলেদের কাছে বড় হয়ে জজ ম্যাজিস্ট্রেট বা “দুষ্টু উকিল” ছাড়া আর কিছু হওয়ার রাস্তা খোলা থাকত না। তখনও মেয়েদের স্বর্ণযুগ চলছে, তাদের অত কিছু হওয়াহওয়ির দায় নেই। একটা বয়স পর্যন্ত পুতুল খেল, তারপর বাচ্চা বানাও। পিসফুল। আমাদের সময়ে এল জয়েন্ট। কিন্তু ততদিনে মেয়েদেরও কপাল পুড়েছে। বাবামায়েরা তাদের...

Nothing good gets away.

Image
ছবি গুগল ইমেজেস থেকে New York November 10, 1958 Dear Thom: We had your letter this morning. I will answer it from my point of view and of course Elaine will from hers. First — if you are in love — that’s a good thing — that’s about the best thing that can happen to anyone. Don’t let anyone make it small or light to you. Second — There are several kinds of love. One is a selfish, mean, grasping, egotistical thing which uses love for self-importance. This is the ugly and crippling kind. The other is an outpouring of everything good in you — of kindness and consideration and respect — not only the social respect of manners but the greater respect which is recognition of another person as unique and valuable. The first kind can make you sick and small and weak but the second can release in you strength, and courage and goodness and even wisdom you didn’t know you had. You say this is not puppy love. If you feel so deeply — of course it isn’t puppy love. But I don’t thi...