Posts

ল্যান্ডোর ১/৩

Image
ভোর সাড়ে চারটেয় নন্দাদেবী এক্সপ্রেস হরিদ্বার স্টেশন ছাড়ামাত্র কত বার যে চেন টানা হল, কত লোক, কত বুড়ো কত বাচ্চা, কত আস্ত আস্ত সংসার যে আধখোলা বাক্স, কাঁধ থেকে ঝোলা গামছা, উশকোখুশকো চুল আর ঘুমভাঙা আতংকিত চোখ নিয়ে ধড়মড় করে গড়িয়ে গড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে পড়লেন, আর পড়লেন তো পড়লেন একেবারে পুলিসের হাতে - এটা ঘটবে আঁচ করে যাঁরা হাসি হাসি মুখে ফাইনের বিলবই খুলে আগেভাগেই দাঁড়িয়ে ছিলেন - আমি আর অর্চিষ্মান লোয়ার বার্থে শুয়ে নাক পর্যন্ত চাদর টেনে সব ঘাপটি মেরে দেখলাম। অর্চিষ্মান পরে বলল, আমাদের কামরার সাইড লোয়ারে যে ভদ্রলোকটি ছিলেন, তিনি নাকি অ্যাটেনডেন্টকে টাকাও দিয়েছিলেন ঘুম ভাঙানোর জন্য, অ্যাটেনডেন্ট এসে তাঁকে ঘুম ভাঙিয়েওছিল, তারপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। শেষমুহূর্তে মারাত্মক হুড়োহুড়ি করে নামলেন। তাও সব নিয়ে নামতে পারেননি, পাওয়ার ব্যাংক পড়ে রইল। তা তিনি নামলেন ভালোই হল, নন্দাদেবী রাতের ট্রেন বলে মাঝের বার্থ পাকাপাকি ভাবে টাঙানোই থাকে, ঘুম ভেঙে গেলে লোয়ার বার্থে বসা অসম্ভব। আমরা উঠে এসে সাইড লোয়ারে বসলাম। একটু পরে আরেক ভদ্রলোক বেরোলেন, তিনি এত চেঁচামেচিতেও ওঠেননি, এতক্ষণে ঘুম ভেঙেছে। এখন দেরা...

#allmothers

Image
প্রতিবছর মাদার্স ডে-তে অবান্তরে একটা পোস্ট থাকে, এবার সত্যি বলছি, মনেই ছিল না। আমার মা রাগবেন না জানি, কিন্তু নিজেরই কেমন কেমন লাগছে, তাই এই নিয়মরক্ষা পোস্ট। নিয়মরক্ষা, এবং পরস্মৈপদী। এই পৃথিবীতে যার থেকে বেশি সত্যি কথা কাউকে কোনওদিন বলতে শুনিনি, সেই ক্যালভিন বলছে… উৎস

লিনেন, সিল্ক

দেজা ভ্যু আমার প্রথম কবে হয়েছিল এখনও মনে আছে। কারণ সেই দিনই আমি কথাটা প্রথম শুনি এবং মানেটাও সেদিনই জানি। স্কুলের ছোট ক্লাস। ফোর ফাইভ, মেরেকেটে সিক্স। রিকশা করে মায়ের সঙ্গে যাচ্ছিলাম স্টেশনের দিকে। দুজনেই ট্রেন ধরব, একই ট্রেন, আমি মাঝপথে নেমে পড়ব, মা যাবেন পুরো পথ। রিকশা চলেছে সিমলা রোড ধরে। বাড়ি থেকে স্টেশনের পথে তিন চারটে পাড়া পড়ত, শেষে একটা কারখানা, তারপর ষ্টেশন। পাড়াগুলো শেষ হওয়া আর কারখানা শুরু হওয়ার মাঝে শ’খানেক মিটারের একটা রাস্তা, রাস্তার পাশে একটা মাঠ, বাড়ি ঘর নেই, যেন নো ম্যানস ল্যান্ড। শীতের রাতে মাঠে কুয়াশা ঘন হয়ে পড়ত, ঠাণ্ডাও লাগত বেশি। তাই রাস্তার নাম সিমলা রোড। (এখন সে মাঠ নেই, সে কুয়াশা নেই, সে ঠাণ্ডাও নেই। সিমলা রোড নামটা আছে কিনা আমি জানি না) একদিন খটখটে সকালবেলা, সাড়ে ন’টা থেকে প’নে দশটার মধ্যে কোনও একটা সময়ে সিমলা রোড দিয়ে রবিকাকুর রিকশা চড়ে যাচ্ছি, পাশে মা, এমন সময় ডানদিকে ফাঁকা মাঠের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হল, ঠিক এই জায়গাটা দিয়ে আমি আগে গেছি। জানি, দেজা ভ্যু চেনার জন্য এই পরিস্থিতি আদর্শ নয়, কারণ সত্যি সত্যি তো আমি ওই রাস্তা দিয়ে গেছি চব্বিশ ঘণ্টা আগেই, আবা...

জুসারের সঙ্গে

জানালার বাইরে জঙ্গলের মাথা আর মাথার ওপারে ছড়ানোছেটানো দু’চারটে বহুতল হোটেলের কাচের গায়ে রোদ্দুরের ঝলসানি দেখতে দেখতে, প্রতি চুমুকের মাঝে পাঁচ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে অর্ধেক বোতল জল শেষ করে, বোতলে আবার জল ভরে, খুব আস্তে হেঁটে হেঁটে সিটে ফিরে এসে দেখি পাঁচ মিনিটও নষ্ট করতে পারিনি। মনখারাপ করে ধপাস করে চেয়ারের ওপর বসে ফোনটা হাতে তুলে আঙুল বোলালাম, অমনি মা বাঁচিয়ে দিলেন। মিসড কল। ‘মা মোবাইল’। মা ইদানীং মাঝে মাঝেই বলেন, “সব কাজ তো ফুরোলো, আর বেঁচে কী হবে?” মা না বাঁচলে যে রোজ রোজ, সকালবিকেল আমাকে বাঁচানোর কেউ থাকবে না, এটা মাকে কে বোঝাবে।  চেয়ার ছেড়ে উঠলাম। জল খেতে ওঠার সময় যে রকম একটা চোর চোর ভাব থাকে, এ বার সেসব নেই। ফোন কানে ধরে, ভুরু কুঁচকে, গটগট করে অফিসের দরজার দিকে হাঁটছি। চাপা, আর্জেন্ট গলায় একবার “হ্যালো” বললাম, যাতে কারও কোনও সন্দেহ না থাকে, দিস ইজ ইম্পরট্যান্ট। আই হ্যাভ টু টেক দিস। “সোনাআআ!” ভাগ্যিস ঠিক একসেকেন্ড আগে অফিসের চৌকাঠ টপকে এসেছি, না হলে এই রিনরিনে গলায়, বিস্ময় আর উত্তেজনা আর কৌতুক আর আরও পাঁচশোরকম নন-সিরিয়াস ইমোশন মাখামাখি ডাকটা কানে গেলে আমার কোঁ...

Always the dishes

Image

এ মাসের বই/ এপ্রিল ২০১৭/ ২

Image
Fingersmith/Sarah Waters উৎস গুগল ইমেজেস ভালো বই খারাপ বইয়ের সঙ্গে রোগা বই মোটা বইয়ের কী কোনও সম্পর্ক আছে? থাকার কোনও কারণ নেই। ভালো রোগা বইয়ের উদাহরণও দেদার আছে, ভালো স্বাস্থ্যকর ভালো বইয়ের নমুনাও ঝুড়ি ঝুড়ি। তবু উপন্যাসের ক্ষেত্রে আমার মতে বইয়ের মোটাত্ব একটা বিশেষ উপযোগিতা সাধন করে। বেশ খেলিয়ে সময়টা, জায়গাটা ধরা যায়। চরিত্রগুলোর ভেতরবাহির যত্ন করে রং বুলিয়ে বুলিয়ে ফুটিয়ে তোলা যায়। সপ্তাহদুয়েক আগে ক্রাফটস মিউজিয়ামের একটা ঘরে ঢুকে দেখেছিলাম চার দেওয়াল জুড়ে মধুবনী ছবি আঁকা। মানুষ, হাতি, পালকি, পালকির ভেতর বউ, গাছ, গাছের পাতা, ফুল, ফুলের ওপর ঝুঁকে পড়া মৌমাছি, গাছের ডালে সবুজ টিয়ার লাল ঠোঁট, সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মোটা বইয়ে যেরকম স্পষ্ট দেখানোর সুযোগ থাকে।  ছোট বইয়ে কি সবটা স্পষ্ট দেখানো যায় না? যাবে না কেন। তবে প্রতিভাটা একটু বাড়াবাড়ি রকম বেশি লাগে।  সারা ওয়াটার্স-এর উপন্যাস ফিংগারস্মিথ আমার এ বছরের পড়া অন্যতম মোটা বই। লেখকের আরেকখানা বই ‘লিটল স্ট্রেঞ্জার’ আমি আগেই পড়েছিলাম, এবং তখনই বুঝেছিলাম যে আবহ তৈরিতে লেখকের জুড়ি নেই।  ফিংগারস্মিথ হল ভিক্টোরিয়া...

A Table of One's Own #2

Image

আফসোস একটাই

আমার নয়, অঞ্জন দত্তের। ‘হাফ চকোলেট’ সিনেমার শেষ সিনের নেপথ্যে তিনি বলছিলেন, আফসোস একটাই, বয়সটা বেড়ে গেল। সাধারণত এ আফসোস আমার হয় না। ভালোই তো বয়স বাড়ছে, বোকামোগুলো পুরোনো হতে হতে ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে। নতুন বোকামোও যে জমছে না সে দাবি করার কনফিডেন্স পাইনি এখনও, তবে আগের থেকে কমেছে অনেক। বয়স বাড়ার অনিবার্য এক্সটার্নালিটি। বুদ্ধি বেড়েছে বলে নয়, জনসংসর্গ কমেছে বলে। একলা ঘরে বসে ভয়ংকর বোকা কিংবা মারাত্মক বুদ্ধিদীপ্ত কিছু করা অসম্ভব। আমি চেষ্টা করে দেখেছি।  তবু আজকাল একটা দৃশ্য মাথায় ভেসে ওঠে বার বার। একটা ঢালু রাস্তা, বেশি দুধ দেওয়া কফি রঙের ভোর, কুয়াশা আর কুয়াশার ভেতর জ্বলজ্বল করা একটা গিটার। ওই গিটারটার সঙ্গে আমরা এতক্ষণ বসে ছিলাম কোনও একটা হোস্টেলের ঘরে। পেরিয়ার না কাবেরী ভুলে গেছি। শীত না গ্রীষ্ম তাও মনে নেই। মনে থাকার কোনও কারণ নেই। বছরের তিনশো চৌষট্টিটা রাতের মতো সে রাতটাও বাজে আড্ডা মেরে, রাজাউজির খতম করে, গিটারের টুংটাং শুনে কেটেছে। এবার হোস্টেলে ফিরে চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিয়ে ঘুম তাড়িয়ে ক্লাসে যাব সবাই। অন্তত প্ল্যান সেরকমই ছিল। শুধু দরজার বাইরে ওয়ার্ডেনের বাগানের...

বইয়ের সঙ্গে ডেট

বইয়ের সঙ্গে ডেটের তুলনা করা অন্যায়, কারণ বই লেটে আসে না, বোর করে না, করলেও তাকে মুড়ে তুলে রেখে দিলেই সমস্যা মিটে যায়। তবুও লোকজন বইয়ের সঙ্গে ডেটের, বা বলা ভালো ফার্স্ট ডেটের তুলনা করেছে। আমিও করলাম।  অকওয়ার্ড ফার্স্ট ডেট সব ফার্স্ট ডেটই আমার জন্য অকওয়ার্ড। কী বলবে, কে বলবে, উল্টোদিকের লোকের পছন্দের খেয়াল রাখবে না নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের। এত কিছু সামলাতে গিয়ে ফার্স্ট ডেটের আসল উদ্দেশ্য (মোটামুটি কিছু সময়ের জন্য একেঅপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সম্ভাবনার ভাত টিপে দেখা) মাটি হয়। অকওয়ার্ড ফার্স্ট ডেটের এতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে যে কোনটা দিয়ে বই খুঁজব সেটা স্থির করা মুশকিল। তবে সব অকওয়ার্ড ডেটেরই একটা কমন বৈশিষ্ট্য থাকে, সেটা হল কথোপকথনের আড়ষ্টতা। বইয়ের সঙ্গে আমার এই অসুবিধেটা হয় যখন লেখকের ভাষার সঙ্গে আমি চট করে স্বচ্ছন্দ হতে না পারি। এই মুহূর্তে যে বইয়ের কথা মনে পড়ছে সেটা হুমায়ুন আহমেদের হিমু সিরিজের কোনও একটা বই, প্রথম যেটা পড়েছিলাম। নাম মনে নেই।   আশাতিরিক্ত ভালো ডেট ডেটের প্রতি আশানিরাশার ব্যাপারটা শুধু ডেটের ওপরেই নির্ভর করে এমন নয়, অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ভালোমন্দ ব...

সুবিধে অসুবিধে

সাধারণত সকাল ছ’টা নাগাদ জানালার পর্দার ছায়া আমার চেয়ারের পেছনে লম্বা হয়ে পড়ে। কাল পড়ল না। সাধারণত ছ’টা নাগাদ আমাদের দক্ষিণের জানালাওয়ালা বাথরুম আলোয় ভেসে যায়, কাল গেল না। আমি বারান্দায় বেরোলাম তদন্ত করতে। দেখি রোদ তো নেইই, তার বদলে শনশনে হাওয়া। সারা পাড়া জুড়ে গত ক’দিন ধরেই একটাদুটো সাদা সাদা রোঁয়ার বল উড়ে বেড়াচ্ছিল, আজ তারা দলে দলে চলেছে গলি দিয়ে বাঁদিক থেকে ডানদিক, ডানদিক থেকে বাঁদিক। গলির মুখটায় একজন সিকিউরিটি দাদা সারা রাত বসে থাকেন, ছ’টায় তাঁর ছুটি। অন্যদিন পাঁচটা পঞ্চান্নতে তিনি টিফিনবাক্স ব্যাগে পুরে, সাইকেলে চড়ে, এক পা প্যাডেলে রেখে রেডি থাকেন, আজ চেয়ারের পিঠে হেলান দিয়ে, পা জোড়া সামনের একটা ভাঙাচোরা মোড়ায় তুলে মুখ হাঁ করে ঘুমোচ্ছেন।  এদিকে অর্চিষ্মানের ঘুম ভেঙে গেছে। চা নিয়ে বসে আমরা সাদা বলের মিছিল দেখলাম। হাওয়ার বেগ ক্রমে ঊর্ধ্বগামী, বাড়িওয়ালার সজনে গাছের নরম কাণ্ড, জমির এক হাত ওপর থেকে দুলতে শুরু করেছে। কচি সজনেগুলো সরু ডাল ধরে ঝুলে আছে, প্রাণভয়ে না মহানন্দে, এক্সপ্রেশন দেখে বোঝার উপায় নেই। মাঝে মাঝে গাছটার অস্তিত্ব ভুলে গেলে পর্দার  ওপাশে দুলন্ত ডালপালা...

পুরোনো ফ্রেম

কাল বেলা এগারোটা নাগাদ আন্টিজির দোকানের দিকে হাঁটছিলাম। রোজই যে রকম হাঁটি। কানে ফোন লাগানো ছিল। রোজই যে রকম থাকে। ফোনের ওপারে হয় দুই মায়ের একজন, নয় তিন্নি, নয় অর্চিষ্মান ছিল। রোজই যেমন থাকে। এমনিতে ওই সময় ফোনের ওপাশে এই চারজনের মধ্যে কে ছিল আমার পক্ষে মনে করা বলা অসম্ভব, কিন্তু কাল কে ছিল বলতে পারব।  অর্চিষ্মান। কারণ কালকের কথোপকথনটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। অথচ মনে থাকার কথা নয়। কারণ রোজই আমাদের কথোপকথন একটা গত ধরে চলে।   “কী চলছে? লাইফে ইন্টারেস্টিং কিছু ঘটল?  -কিছু না। তোমার? -আমারও না। জঘন্য।  -সিরিয়াসলি। ওকে টাটা। -ওকে টাটা।” কালকেও কথাবার্তা এই গতেই চলছিল। কিন্তু  "সিরিয়াসলি" আর "ওকে টাটা" বলার মাঝখানের মুহূর্তে আমি একটা দৃশ্য দেখলাম যা আমাদের কথোপকথনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।  আমি দেখলাম সামনে চারপাঁচটা ছোট ছোট জটলা। অল্পবয়সী ছেলেমেয়ের।  আপনি বলবেন, এতে মোড় ঘোরানোর কী আছে? অল্পবয়সীদের স্বভাবই জটলা করা।  ঠিক। আমার বাবামায়েরা করতেন, ঠাকুমাদাদুরা করতেন (যদিও আমার ধারণা তাঁদের আমলের জটলাগুলো ওনলি মেল কিংবা ওনলি ফিমেল...

এ মাসের বই/ এপ্রিল ২০১৭/ ১

Image
We/Yevgeny Zamyatin উৎস গুগল ইমেজেস জর্জ অরওয়েলের ‘নাইনটিন এইটি ফোর’ যাঁরা পড়েছেন আর Yevgeny Zamyatin -এর ‘উই’ যাঁরা পড়েননি, খুব সহজেই তাঁদের সঙ্গে দ্বিতীয় বইটির পরিচয় করানো যায়। দুটি বইয়ের চরিত্র, ঘটনাবলী, ক্লাইম্যাক্স অবিকল এক।  Yevgeny Zamyatin -এর ‘উই’ লেখা হয়েছিল অরওয়েলের নাইনটিন এইটি ফোর লেখা হওয়ার পঁচিশ বছর আগে। হয়তো দৈববলে দুই লেখকের মগজে একই প্লট, একই চরিত্রেরা হাজির হয়েছিল? হয়তো জর্জ অরওয়েল ‘উই’-এর কথা জানতেনই না? এই সম্ভাবনা শূন্য, কারণ উনিশশো ছেচল্লিশে, নাইনটিন এইটি ফোর প্রকাশের তিন বছর আগে অরওয়েল ‘উই’ উপন্যাসের একটি সমালোচনা লেখেন “ট্রিবিউন” পত্রিকায়।  ‘উই’ উপন্যাসের ঘটনা ঘটছে ভবিষ্যতের কোনও একটি সময়ে। এক হাজার বছর আগে এক দীর্ঘ সংগ্রামের পৃথিবী অ্যামেরিকার অধীনতা স্বীকার করেছে, এখন গোটা পৃথিবীটাই ওয়ান স্টেট এবং সেই স্টেটটি হল অ্যামেরিকা। উইনস্টন স্মিথ-এর বদলে 'উই'-এ আমাদের বক্তা ডি- ৫০৩। মিনিস্ট্রি অফ ট্রুথ-এ ইতিহাস সংশোধনের বদলে ডি ৫০৩-এর কাজ হল স্পেসশিপ বানানো। ‘ইনটিগ্র্যাল’ নামের মহাকাশযান বানানোর প্রোজেক্টের তিনি চিফ ইঞ্জিনিয়ার। ওয়ান স...

And Then The Murders Began

নিজের বইকে অন্যের বই থেকে ঢের ভালো, ঢের ইন্টারেস্টিং আর ঢের বেশি বিক্রি করতে চান? এই ট্রিকটা কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন।

দাদুর ছবি

সোমবার যখন ছুটি নিতেই হবে তখন অত তাড়াহুড়ো দেখিয়ে, বাড়ির লোকের ঘুম মাটি করে সকালের প্লেন ধরার মানে ছিল না। আরাম করে বাড়ি থেকে খেয়েদেয়ে বিকেলে বেরিয়ে রাতে ফিরলেই হত।   কিন্তু অবান্তরের পাঠকরা জানেন, বাড়িতে আমার বড় জোর বিশ্রাম হতে পারে, আরাম হয় না। তবে আরামই তো একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, বাড়ি গেলে আরও অনেক ভালো ভালো জিনিস হয়। দু’পক্ষের মাবাবার সঙ্গে দেখা হয়, পোস্তবাটা, বেগুনপোড়া আর এঁচোড়ের তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়া হয়, বুদ্ধি করে তাক বুঝে যেতে পারলে (যেমন আমরা গেলাম) পয়লা বৈশাখের উপহার মেলে। আর যদি এ সবের কিছুই না হয়, ঠাকুমার সঙ্গে দেখা তো আছেই। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এখন যতটুকু দেখা হয় ততটুকুই কম।  এত সব কাজের মাঝে একেকটা মুহূর্ত আসে যা নিখাদ আরামের। রবিবার দুপুরে যেমন এসেছিল। কোন একটা চ্যানেলে ‘ব্যোমকেশ পর্ব‘ দিয়েছিল, মামেয়ে দেখলাম বসে বসে। এ ব্যোমকেশ ঘোড়ায় চড়তে পারে, লাঠি খেলতে পারে, আইটেম সঙের সঙ্গে হাতে ফুলের মালা জড়িয়ে চপল চোখে তাকাতে পারে। পরের সিনেমাগুলোয় আরও কী কী পারবে ভাবতেই আমার হৃৎকম্প হচ্ছে। তবে এসব খালি নিন্দে করার জন্য করা, মায়ের পাশে বসে যখন  টিভিতে সি...