ল্যান্ডোর ১/৩
ভোর সাড়ে চারটেয় নন্দাদেবী এক্সপ্রেস হরিদ্বার স্টেশন ছাড়ামাত্র কত বার যে চেন টানা হল, কত লোক, কত বুড়ো কত বাচ্চা, কত আস্ত আস্ত সংসার যে আধখোলা বাক্স, কাঁধ থেকে ঝোলা গামছা, উশকোখুশকো চুল আর ঘুমভাঙা আতংকিত চোখ নিয়ে ধড়মড় করে গড়িয়ে গড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে পড়লেন, আর পড়লেন তো পড়লেন একেবারে পুলিসের হাতে - এটা ঘটবে আঁচ করে যাঁরা হাসি হাসি মুখে ফাইনের বিলবই খুলে আগেভাগেই দাঁড়িয়ে ছিলেন - আমি আর অর্চিষ্মান লোয়ার বার্থে শুয়ে নাক পর্যন্ত চাদর টেনে সব ঘাপটি মেরে দেখলাম। অর্চিষ্মান পরে বলল, আমাদের কামরার সাইড লোয়ারে যে ভদ্রলোকটি ছিলেন, তিনি নাকি অ্যাটেনডেন্টকে টাকাও দিয়েছিলেন ঘুম ভাঙানোর জন্য, অ্যাটেনডেন্ট এসে তাঁকে ঘুম ভাঙিয়েওছিল, তারপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। শেষমুহূর্তে মারাত্মক হুড়োহুড়ি করে নামলেন। তাও সব নিয়ে নামতে পারেননি, পাওয়ার ব্যাংক পড়ে রইল। তা তিনি নামলেন ভালোই হল, নন্দাদেবী রাতের ট্রেন বলে মাঝের বার্থ পাকাপাকি ভাবে টাঙানোই থাকে, ঘুম ভেঙে গেলে লোয়ার বার্থে বসা অসম্ভব। আমরা উঠে এসে সাইড লোয়ারে বসলাম। একটু পরে আরেক ভদ্রলোক বেরোলেন, তিনি এত চেঁচামেচিতেও ওঠেননি, এতক্ষণে ঘুম ভেঙেছে। এখন দেরা...