June 06, 2012

Comfort food



আজ আমার কিচ্ছুতে মন বসছে না। সারাদিন ছটফট, অস্থির, উচাটন। চাপা উত্তেজনায় ঘাড়ের কাছটা পাথরের মতো শক্ত হয়ে রয়েছে। নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস পড়ছে অনিয়মিত, ছেঁড়াছেঁড়া। যেমন খুশি, যখন খুশি। কোন কাজ হচ্ছেনা, কাজ হচ্ছেনা বলে টেনশন হচ্ছে, টেনশন হচ্ছে বলে কাজ হচ্ছেনা। এ দুর্বৃত্ত বৃত্ত থেকে বেরোনোর পথ যদি দেখাতে পারত কেউ।

ছোটবেলায়ও এরকম পাগল পাগল হত আমার মাঝে মাঝে। সন্ধ্যে নামার সময়টায়। মা অফিস থেকে ফেরেননি তখনও। আমি গরমের ছুটিতে সারাদিন বাড়িতে বন্দী থেকে শেষপর্যন্ত বিদ্রোহ করতাম। কোন কারণ নেই, হঠাৎ হাত পা ছুঁড়ে প্রবল কান্না। পাশের বাড়ির জেঠি বলতেন, ওমা কী হল সোনা কাঁদে কেন? পিসি বলত, ছিঁচকাঁদুনি মেয়ে কাঁদবে না তো কী। সেই শুনে কান্নার বেগ আরও বাড়ত। শেষপর্যন্ত ঠাকুমা এসে উদ্ধার করতেন। শক্ত হাতে আমার হাত ধরে রান্নাঘরের দিকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলতেন, কান্নার আর দোষ কী? প্যাটে কিছু নাই যে। একবাটি মুড়ি আর প্রাইভেট ভাঁড়ার থেকে দু’খানা মোটা মোটা লাল বাতাসা দিয়ে আমাকে বসিয়ে দিতেন। নিজেও বসতেন পাশে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, বরিশালের গাছভরা আম আর পুকুরভরা মাছ আর গামছা দিয়ে সে মাছ ধরার গল্প শোনাতেন। শুনতে শুনতে আমার চোখের জল গালেই শুকিয়ে যেত। মাথা এমন ঠাণ্ডা হয়ে যেত যে পর্দার আড়াল থেকে মুখ বার করে পিসি ভেংচি কাটছে দেখলেও কিচ্ছু বলতাম না, প্রবল বিতৃষ্ণায় মুখ ঘুরিয়ে নিতাম শুধু।

৩০ বছর বয়সটার একটা ম্যাজিক আছে। যারা বয়সটা পেরিয়েছেন তাঁরা বুঝবেন। ৩০-এর এদিকে ওদিকে অনেককিছু বদলায়, চেহারা, আত্মবিশ্বাস, মেটাবলিজম---কিন্তু সবথেকে বেশি বদলায় ঠাকুমার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি। রাতারাতি আপনি উপলব্ধি করেন যে চুল বাঁচাতে গেলে শ্যাম্পু নয়, চাই নারকেল তেল। বিশুদ্ধ, বোরিং, গ্রাম্য নারকেল তেল। একগাদা ঝুটো লাল নীল সবুজ অক্সিডাইজড দুল রোজ পালটে পালটে জামার সাথে রঙ মিলিয়ে পরার অসারতাটা হঠাৎ জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। এর থেকে একটা ছোট্ট বসানো সোনার দুলই তো ভালো। সবের সাথে সবজায়গায় সবসময় পরে যাওয়া যায়। আর সত্যিই, দেখতেও লাল নীল দুলের থেকে ভালো বই খারাপ লাগে না।

ঠাকুমা আর ঠাকুমার ত্রিকালজ্ঞ দৃষ্টির মর্ম, ৩০ না পেরলে বোঝা অসম্ভব।

কাজেই আজ যখন আমার ওরকম আনচান ভাবটা হল আমি ভাবলাম নির্ঘাত আমার প্যাটে কিছু পড়ার দরকার হয়েছে। ভেবে খুচরো পয়সা হাতে নিয়ে ভেন্ডিং মেশিনের খোঁজে গেলাম। থরে থরে সাজানো হাই-ক্যালরি, ফ্রুকটোস সিরাপে চোবানো খাবারদাবার। তারই একটা বেছে নিয়ে বোতাম টিপলাম। তিনি মেটাল প্যাঁচ বেয়ে বেরোতে বেরোতে মাঝপথে আটকে গেলেন। এই দুর্ঘটনাটা আমার সাথে এতবার ঘটেছে যে আমি এখন তৈরি থাকি, এক্সট্রা পয়সা না নিয়ে ভেন্ডিং মেশিনমুখো হই না। আরও একটা অখাদ্য খাবার বেছে বোতাম টিপে পয়সা ফেললাম। এবং বিশ্বাস করবেন না, ইনিও একজ্যাক্টলি এক অসভ্যতাটা করলেন আমার সাথে। পড়-পড় হয়েও পড়লেন না। খাদের মুখে এসে প্রাণপণে আঁকশি আঁকড়ে ঝুলে রইলেন। হিন্দি সিনেমার অসহ্য ন্যাকা নায়িকাগুলোর মতো।

আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। দুহাতে মেশিন ধরে ঝাঁকিয়ে পরপর গোটা চারেক লাথি কষালাম। মেশিন থরথর করে কাঁপতে লাগল, দুএকজন সহকর্মী ভয়ার্ত চোখে চাইতে চাইতে তাড়াতাড়ি হেঁটে জায়গাটা পেরিয়ে গেলেন কিন্তু ক্যান্ডির প্যাকেট সেই যে ঝুলে রইল ঝুলেই রইল, কিছুতেই পড়ল না।

কীরকম লাগে বলুন দেখি ?

এমন দুঃখ হল যে কী বলব। ঠাকুমা আর ঠাকুমার বাতাসামুড়ির কথা মনে করে কান্না পেয়ে গেল প্রায়। জঘন্য বিশ্রী বড়বেলায়, খেয়ে যে একটু মন ভালো করব তারও জো নেই। আজকের অবান্তরের পোস্ট তাই ছোটবেলার সেই সব খাবারদাবারের মিষ্টিমধুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে। জগতের যে কোন যন্ত্রণা নিমেষে ভুলিয়ে দেওয়ায় যারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

--- ব্রিটানিয়া মারির গায়ে পুরু করে মাখন মাখিয়ে তার ওপর চিনি ছড়িয়ে খেয়েছেন নিশ্চয়। ওটা আমার পয়লা নম্বরের কমফর্ট ফুড। রোজ সকালে মা দুধের সাথে দিতেন। মানে মা শুধু দুধের কাপ, বিস্কুট, মাখনের প্যাকেট আর চামচ নামিয়ে দিয়ে পালাতে চাইতেন, আমি পালাতে দিতাম না। “তুমি লাগিয়ে দাও” বলে এমন চেঁচামেচি করতাম যে মাকে বাধ্য হয়ে বসে বসে বিস্কুটে (নিখুঁত করে, খেতে গিয়ে যাতে আঙুলে মাখন মাখামাখি না হয়) মাখন মাখাতে হত। অফিস-লেটের অনিবার্য রেসিপি। ট্রাই করে দেখতে পারেন।


গুগল ইমেজেস থেকে

--- আমূলের গুঁড়ো দুধ। চায়ে দেওয়ার হোয়াইটনার নয় কিন্তু, ওটা অখাদ্য খেতে, আমি খেয়ে দেখেছি। এই যে এইটার কথা বলছি।


গুগল ইমেজেস থেকে

কাপে করে নিয়ে চামচ দিয়ে খেতে যে কী অমৃতের মতো লাগে যে না খেয়েছে জানেনা। পাছে মিষ্টি কম পড়ে যায়, তাই আমি আবার দুধের সাথে একখাবলা চিনি মিশিয়ে নিতাম। তারপর খাটের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে, পা দুটো হাঁটু থেকে ভেঙে সিলিং-এর দিকে তুলে দিয়ে দোলাতে দোলাতে, এএএএকটু একটু করে চামচের ডগায় নিয়ে খাও আর ফেলুদা পড়। স্বর্গ।

---সুদেষ্ণা রায়ের টিফিনের জ্যাম পাউরুটি। এটা পড়ে আপনি যেমন ঘেঁটে যাচ্ছেন, লিখতে গিয়ে আমিও তেমন যাচ্ছি। কেন যে ওর টিফিনের কাঁচা পাউরুটির ওপর মাখানো সন্দেহজনক একটা সবুজ রঙের জ্যাম খেতে আমার অত ভালোলাগতো সেটা এতদিন পরে কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না। কিন্তু আমি আমার লুচি আলুরদম ওকে হেলায় দিয়ে, ওর জ্যামপাউরুটি চিবোচ্ছি আর আবেশে আমার চোখ বুজে আসছে এ দৃশ্য টিফিন পিরিয়ডে কমন ছিল। সুদেষ্ণাও ভারি ভালো মেয়ে ছিল। কোনোদিন ওর টিফিন আমাকে দিতে (এবং বদলে লুচি আলুরদম নিতে) আপত্তি করেনি।


গুগল ইমেজেস থেকে

---কোয়ালিটি (K-w-a-l-i-t-y, Quality নয় কিন্তু।) কাপ আইসক্রিম। ভ্যানিলা ফ্লেভার। আমি ছোটবেলা থেকেই ভ্যানিলা টাইপ। বড় হয়ে ঢের গ্রিন টি আইসক্রিম, ওয়াসাবি আইসক্রিম খেয়েছি। রণজয়দার পাল্লায় পড়ে একবার রসুন ফ্লেভারের আইসক্রিম খাওয়ার দুর্ভাগ্যও হয়েছিল, কিন্তু গানের স্কুল থেকে ফেরার পথে সাপ্তাহিক কোয়ালিটি ভ্যানিলা কাপ আইসক্রিমকে এখনও কেউ হারাতে পারেনি। এ জীবনে পারা শক্ত।


গুগল ইমেজেস থেকে

---চিনেবাদাম। ছালছাড়ানো, সল্টেড, প্যাকেটে পোরা শহুরে বাবুয়ানি নয়, আসল জিনিস। লোহার কড়াইয়ে বালির বিছানায় সদ্যভাজা। তার ওম খবরের কাগজের ঠোঙা ভেদ করে এসে আঙুলে তখনও হালকা সেঁক দিচ্ছে। কাগজের টুকরোয় মুড়ে বিটনুন দিয়েছে সঙ্গে। আমি বলেছি দু জায়গায় দিতে। বাদাম ভাগ করে খাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু বিটনুন যার যার তার তার। ঠোঙা হাঁটুর ফাঁকে চেপে ধরে, ঊরুর ওপর নুনের মোড়ক ব্যালেন্স করে, বাদাম ভেঙে মুখে ফেলা, ফেলেই চিমটি করে অল্প একটু নুন জিভে ঠেকানো---দু’হাতি মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। তার ওপর গঙ্গার ঘাটের শনশন হাওয়া। বিটনুনের কাগজ প্রায় উড়ে যায় যায়। সিনেমা উপন্যাসে "বাদাম খেতে খেতে প্রেম করা"র কথা বলে বটে হরদম কিন্তু যারা বলে তারা কোনোদিন বাদাম খায়নি। প্রেমও করেছে কিনা সন্দেহ। করলে জানত, বাদাম খেতে খেতে আর অন্য কিচ্ছু করা সম্ভব নয়। প্রেম তো দূর অস্ত।


গুগল ইমেজেস থেকে

---হজমোলা। আমার বাবা আমাকে জীবনে দুবার বকেছেন। দ্বিতীয়বার কেন বকেছিলেন বলব না, প্রথমবার বকেছিলেন হজমোলা খাওয়ার জন্য। আমি মায়ের বেশি ন্যাওটা কিন্তু স্বভাবে বাবার কার্বন কপি। আমার মতো বাবাও হজমোলার ফ্যান ছিলেন। তখন হজমোলা বিক্রি হত বেঁটে মোটা কাঁচের শিশিতে। শিশিতে ১৩০টা করে থাকত। শুক্রবার রাতে অফিস থেকে ফেরার পথে বাবা নতুন শিশি কিনে এনেছিলেন। শনিবার দুপুরের খাওয়া সেরে উঠে হজমোলা খেতে গিয়ে বাবা দেখেন শিশিতে ঠিক ৫টা—একবিন্দু বাড়িয়ে বলছি না—গুনে গুনে ঠিক ৫টা হজমোলা পড়ে আছে।


গুগল ইমেজেস থেকে

হজমোলা একবার খেতে শুরু করে যারা থামতে পারে তারা মানুষ নয়। অপদেবতা।

ব্যস। আরও আছে এদিক ওদিক। কিন্তু আমার কমফর্ট ফুডের হল অফ ফেমে এরাই থাকবে।

এবার আপনাদের কার কী মন ভালো করা খাওয়াদাওয়া আছে সেটা শোনা যাক। রেডি, স্টেডি, গো।

পুনশ্চঃ আমিও পুরনো হজমোলার ছবিটাই খুঁজছিলাম। মনের মতো পাচ্ছিলাম না। কিন্তু নিচের মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, সবাই একমত। প্যাকেজিং ভালো হওয়া মানেই জিনিস ভালো হওয়া নয়। তাই ছবি বদলে দেওয়া হল।

27 comments:

  1. Gobindobhog chaal er bhaat - ektu makha makha fyana bhaat typer. Sathe ghee, duto aloo seddho, ar ekta dim seddho.

    Bolle bishwas korbe na, chhotobelay ei jinishta khete ami eto bhalobashtam, je robibaar sokaler breakfastey luchi-aloor dom chhere diye eita khetam. Tariye tariye. Eirokom fyana bhaater kotha bhablei amar mukhta haashi haashi hoye jay.

    E chharao, bhaat ar patla kore aloo diye rui machher jhol. Eita na kheye ami konodin porikkha ditey jetam na. Jwor theke uthey prothom normal khawa hoto eita diye. Majhe majhe ishkool theke phirey esheo eta khetam. Ekhono bari gelei eita khawar jonyo chechamechi jurey diyi.

    p.s. Bujhte parchho ki, je swobhabe ami bejay bheto? Gorom bhaat pele ami sobkichhu bhule jete pari. Ei pora shohore, eka eka theke ajkal weekend chhara dubela bhaat khawa hoy na. Emonki majhe majhe eirom din-o ashey, jokhon diney ekbaaro bhaat khawa hoye othe na.Ei niye je amar ki dukkho ki bolbo. Kaath bangal bodh hoy ekei bole. :D

    ReplyDelete
    Replies
    1. বাঙালপনা জিন্দাবাদ বিম্ববতী। আমি ভাতের ভক্ত নই, কিন্তু তোমার ঘি দিয়ে সেদ্ধভাতের বর্ণনাটা এতই ভালো হয়েছে যে আমারও খেতে ইচ্ছে করছে। দেখি মাকে বলব বানাতে।

      রুই মাছের পাতলা ঝোল আমার ফেভারিট। খাদ্যরসিকেরা একমত হবেন না, কিন্তু ওই কায়দার দই-মাছ, হ্যানা-মাছ, ত্যানা-মাছের চাইতে আমার ওই কালোজিরে কাঁচালঙ্কার ঝোল অনেএএএক বেশি ভালো লাগে।

      Delete
  2. কম্ফর্ট ফুড খাওয়ার ব্যাপারে আমায় টেক্কা দিতে পারে, এমন যদি কেউ জন্মে থাকে, তবে সে বাড়িছে গোকুলে। 'জিও' লেখা (এটা অনেকদিন ধরেই ভাবি, এই জিও কথাটা হিন্দি থেকে এসেছে, নাকি G-O থেকে; e.g. 'Go Kuntala!') :P
    হজমোলার যে ছবিটা দিয়েছেন, সেটি অতি বাজে খেতে। যে গল্পটা লিখেছেন, সেই শিশিগুলো কাচের হতো, আর তাতে ভরা থাকতো টক-ঝাল একরাশ চাক্তি (এখনকার মাঝখানে গর্ত RBC র মতো দেখতে নয়, সমান)- আহা, চুষলে আরাম, চিবোলে নাক-চোখ কুঁচকে মর্ষকামী তৃপ্তি!
    মেসে থাকাকালীন রাত জেগে সিনেমা দেখতাম, আর ভোরের দিকে খিদে পেয়ে গেলে আবিষ্কার করতাম, কিছুতেই পেটে দেওয়ার মতো খাবার এখন কোথাও পাবো না। সেই সময় কত কত রাত যে আমায় বাঁচিয়েছে গুঁড়ো দুধ আর চিনি, তা যদি জানতেন!
    এই গোত্রে আর একটা হলো ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কিট। এমনিতে অখাদ্য, কিন্তু চিনি দিয়ে খেলে কি করে অমন অনবদ্য হয়ে যায় কে জানে?
    আর একটা হচ্ছে চানাচুর + টম্যাটো সস -- এও সেই সব রাতের সঙ্গী... একসাথে ভাতের মতো মাখিয়ে নিলে অনে-এ-একক্ষণ ধরে খাওয়া যায়। :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. জিও কথাটার তৎসম রূপ G-O বুঝি? বাঃ জানা হয়ে গেল।

      RBC মানে?

      গুঁড়োদুধ আর চিনি নিয়ে আমিও একমত সুনন্দ। ক্রিমক্র্যাকার অবশ্য আমার এমনিও মন্দ লাগে না। তবে তোমার চানাচুর আর টমেটো সসের মিক্সচারটা নতুন শুনলাম। ব্যাপারটা কীরকম দাঁড়াবে সেটা নিয়ে একটু একটু সন্দেহ যে হচ্ছেনা সেটা নয়, কিন্তু তুমি যখন এত উচ্ছ্বসিত রেকো দিলে তখন একবার চেখে দেখব'খন।

      Delete
    2. বাহ্‌! এই তো ছবি পালটে গেছে!
      RBC মানে ওই যাকে গাল ভরে লোহিতরক্তকণিকা বলে আর কি...ওই ইম্লি গুলো একদম ওইর'ম দেখতে হয়...

      Delete
    3. Kichudin agey prothom oi "RBC"-r moto (example ta durdanto) Hajmola khelam. Na dekhei mukhe purechilam, kintu kheyei mone holo ki jeno tofat. Tokhoni bujhlam ota RBC type, pet mota type noy. Eto kheye kheye ki abastha hoyeche dekho, mukhe fellei bojha jaye tofat ki!

      Delete
  3. ব্রিটানিয়া মারির গায়ে পুরু করে মাখন মাখিয়ে তার ওপর চিনি আর ওই গুঁড়ো দুধ আহ...অমৃত :)
    আশ্চর্যজনক ভাবে আজ সকালে আমি ব্রেক ফাস্ট সেরেছি ৬ খানা ব্রিটানিয়া মারি মাখন আর চিনি দিয়ে... তাও বহুদিন বাদে, তাই তোমার লেখা টা পড়ে বেশ excited লাগছে :D
    ছোটবেলায় আমাদের পাড়ার দোকানে অনেক ডালমুট দেওয়া ঝাল ঝাল একটা চানাচুর পাওয়া যেতো। খোলা বিক্রি হতো... সেটা আমার দারুণ পছন্দের খাওয়ার ছিল।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে সংহিতা, হিংসে হিংসে। আজ সকালে তো তোমার রাজার ব্রেকফাস্ট হয়েছে দেখছি। হ্যাঁ হ্যাঁ ডালমুট আমারও খুব ভালোলাগে। শুরু করলে বয়ামের তলা পর্যন্ত না পৌঁছে থামতে পারিনা।

      Delete
  4. kuntala... hajmola aami ekhono khai.. kintu sunondo thik bolechhe, oi beguni ronger imli flavour pochhondo noy.. kalo kacher shishite jegulo pawa jeto, mane sei somoyer ad e bachhata masterjee r hath e dhora porto .. oi gulo..ekhono normal flavour ta bhalo..
    guro doodh to hordom oratam, chayer jonyo jeta rakha thakto (whitener noy kintu) ei baje ovyesher fole majhe majhe meyer dudh o chekhe dekhi. tobe nijeke ager theke oneeek songjoto korechhi.. basically ota bodhhoy churi chamari kore khetei bhalo lage....
    tomar biscuit makhon er moto amader chhilo cheese marie biscuit. amader students'architectural tour e otai amader bachiye rakhto, khabar dabar ekadhik jaygay thik somoy jut to na to, tai..
    fenabhat r ghee to ullsss...

    ReplyDelete
    Replies
    1. ওকে সোহিনী, হজমোলার ছবি বদলে দেওয়া হল। আমিও পুরনো আমলের হজমোলার কথাই বলছিলাম। আজকালকার হজমোলাগুলোও বাজে খেতে। ভাবো। হাহা, মেয়ের দুধ চেখে দেখার ব্যাপারটা মজার। ঠিকই করো। চেখে না দেখলে কোয়ালিটি ভালো কিনা বুঝবে কী করে?

      চুরি করে খাওয়ার ব্যাপারটা একেবারে স্পট অন বলেছ। বুক ফুলিয়ে সবার সামনে গুঁড়ো দুধ খেয়ে সে মজাই নেই যেটা লুকিয়ে খেয়ে আছে।

      এমা আমার চিজ একদম ভালো লাগেনা। এটা মিলল না যাঃ। যাই হোক, গুঁড়ো দুধ মিলেছে যখন আর কিছু না মিললেও চলবে।

      Delete
    2. Ami bhabchilam Bhut nishchoyi guo dudh er prosonge likhbe. Amar jonye dudh gola hoche ar o eshe Ma'r theke ektukhani cheye niye khachhe setao amar khub bhalo mone ache :D

      Delete
  5. আমার কম্ফর্ট ফুডের তালিকায় এই ঘি দেওয়া ফ্যানা ভাত, কালোজিরে কাঁচালংকা দেওয়া পাতলা মাছের ঝোল, চিনা বাদাম, হজমোলা এসবই থাকবে| টমাটো কেচাপ দিয়ে ডালমুট মেখে খেতে আমারও অনবদ্য লাগে - আমি ছাড়া অন্য কেউ সেটা খায় জেনে খুব ভাল লাগলো| বাসী রুটির মধ্যে ঘী আর চিনি মাখিয়ে রোল করে দিত মা ছোটবেলায়, সেটাও হঠাত আজ মনে পড়ে গেল| যতদিন হেলথ-আনকনশাস ছিলাম ততদিনই ভাল ছিলাম, জানেন? ওই যে বলে না, ignorance is bliss! আরেকটা লজ্জার কথা চুপি চুপি বলে রাখি - বাড়িতে শীতের সন্ধ্যায় হয়ত চিনেবাদাম খাওয়া হলো - তারপর তার রাশিকৃত খোসার মধ্যে খুঁজে আমি আবার বাদাম বের করে খেতাম| ভুল করে ফেলে দেওয়া এক আধটা বাদাম সব সময়েই বেরিয়ে যেত| ওই একটা বাদাম বাড়তি খাওয়াটা বড় কথা নয়, ওতে যে একটা গুপ্তধন খোঁজার মতন আনন্দ পেতাম সেইটা দারুন! আর গুঁড়ো দুধ তো রোজ চা খেতে গিয়ে অফিস প্যানট্রী থেকে খেতাম দেশে থাকতে| বেশ কয়েক বন্ধু মিলে লুকিয়ে লুকিয়ে| একবার এক চামচ দুধ মুখে ফেলেছি আর বস এসে হাজির| মুখটা বন্ধ করলাম| নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে শুকনো শুকনো দুধ গলায় সেঁধিয়ে যাচ্ছে, মুখ, গলা শুকিয়ে কাঠ| আর আমি ভাবছি বিষম না খাই| বস কথা বলতে চায়নি ভাগ্যিস, তাই সে যাত্রা বেঁচে গেছিলাম|

    ReplyDelete
    Replies
    1. সুগত, চিনেবাদাম শব্দটা মনে পড়িয়ে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কী করে ভুলে গেলাম কে জানে।

      যাই হোক। ওহ আপনিও টমেটো কেচাপ আর ডালমুট খান? এটা খেয়ে দেখতে হচ্ছে তো তাহলে। বাদামের গুপ্তধন খোঁজার কথাটা একদম ঠিক বলেছেন। আমাকেও মা গরম রুটিতে মাখন মাখিয়ে চিনি দিয়ে রোল পাকিয়ে দিতেন। ইস কী খেতে ইচ্ছে করছে খাবারটা। এক্ষুনি।

      বসের গল্পটা দুর্দান্ত। আপনার বিপদটা কল্পনা করতে পারছি আর ভয়ানক আনন্দ হচ্ছে।

      Delete
  6. school e amio roj tiffin pauruti butter niye jetam...but okhaddo lagto :( durbhagyobosoto amar class e kono kuntala chhilo na :(
    aamar mon bhalo kora khabar -
    1. chanachur chhorano ghughni.. peyaj sosha chhara..sudhu bapi chanachur deoa
    2. bapuji cake - ekhno station e dekhte pele kine khai
    3. packet chire bhaja - telchite gondhowala :| songe khub kom bhujiya r pocha badam deoa
    4. bhat bhaja - ma banato, samanno peyaj pore thaka machher jhol er alu r lonka diye..kibhabe ami jani..but konodin maa er moton banate parini
    5. obosshoyi MAGGI!!

    ReplyDelete
    Replies
    1. বাপুজি কেক! রু, এটা ভুলেই গেছিলাম। ফাটাফাটি মনে করিয়েছ। ঘুগনি মিল, চিঁড়েভাজা মিল, ভাত ভাজা মিল। ম্যাগিটা অবশ্য আমার বড়বেলার কমফর্ট ফুড।

      Delete
  7. Ami sudhu bheto na, tar opore mechho. Tai amar comfort food er first ta holo ilish machh bhaja ar ilish er tel diye makha bhaat. Arekta jani na tomra kheyecho kina, makhon bhaat er sange achar mekhe. Seta diye ami thaba thaba bhaat kheye felte pari :)

    Recently Ma ekhane ashay ekkebare bari'r moto machher jhol bhaat khelam, oi kalo-jeerey deya jhol ta. Ajke murgi'r jhol ranna hochhe, gol gol aloo diye, bari giyei khabo :D

    ReplyDelete
    Replies
    1. মাখন ভাতের সাথে আচার?? ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। ট্রাই করে দেখতে হবে রিয়া। আরে আমার তো মাংসের থেকে মাংসের ঝোলের আলু খেতে বেশি ভালোলাগে।

      Delete
    2. arre amaro mangsher cheye mangsher jholer aalu beshi favourite... besh boro thaba marka aaloo..
      riya keno boleni jani na, amar to oke mone pore papor bhaja achhar diye eektu eektu kore bhenge kheto roj roj...tarpor kisob saririk somosya howay ota puro bondho korte hoyechhilo.. echhara vaccation e ba chutir din bela 11 ta nagad chan tan kore ekta chhoto batite duto machh bhaja nie beraler moto chokh buje buje kheto.

      Delete
    3. হাহাহাহা সোহিনী, রিয়ার চোখ বুজে মাছভাজা খাওয়ার দৃশ্যটা আমি কল্পনা করতে পারছি। আচার দিয়ে পাঁপড়ের আইডিয়াটাও মন্দ না কিন্তু। ভেবে ভেবে ভালো বার করেছিল।

      Delete
    4. Achar-papor ta ekkebare bondo hoye geche. Amar khub low blood pressure hoyechilo ekbar, tokhon doctor jante cheyechilo ami saradin ki khaoa daoa kori. Achar-papor ta jante perei dhundhumar kando holo! Tobe ami oi legacy ta pass on kore diyechi amar Philippina room mate ke. Shey ekhon onek onek papor ar achar khaye :D

      Delete
    5. যাক রিয়া তুমি তোমার লেগ্যাসি হ্যান্ডওভার করে দিয়ে এসেছ শুনে ভালো লাগল।

      Delete
  8. post ebong comment gulo pore, "comfort food" thekeo beshi ei daroon "comfort zone" ta enjoy korchhi.

    gorom bhat aar kalo jeere kancha lonka jhol ke abosshoi high five dilam (amar priyo khabar bole katha).....kintu tar sange amar ektu raasta ghater (read: railway station) er khabar er opor weakness achey.

    jemon patna station er dhone-alu'r jhol er opore attar puri aar kharagpur station er jhal alu makha makha'r sange luchi aar mughal sarai er kochuri-subji...shob futonto gorom aar shaal patay poribeshon kora!

    ReplyDelete
    Replies
    1. ঠিক বলেছ শম্পা, আজকের কমেন্টগুলো অনবদ্য। রোজকার মতোই। স্টেশনের খাবার নিয়ে আমি তোমার সাথে একেবারে একমত। আহা আলুর ঝোল আর পুরির কথা ভেবে মনটা কেমন কেমন করছে গো। শালপাতায় খেতে কী ভালোলাগে না? আমি তো কীরকম স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ভোরবেলা স্টেশনে ট্রেন এসে থেমেছে, শীতের সকালের কুয়াশা চারদিকে, আর আমি বউটুপি পরে বাবার আঙুল ধরে ট্রেন থেকে নেমে কচুরি খেতে যাচ্ছি ওই সকাল। কচুরি নিয়ে কামরায় ফিরে আমি আর মা খাচ্ছি, বাবা জানালার পাশে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেন ভোঁ দিয়েছে আর আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়ে চেঁচিয়ে বলছি, বাবা শিগগিরি উঠে পড় ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে!

      ইস মন খারাপ হয়ে গেল প্রায়।

      Delete
  9. tomar barnona pore amar o chokher samne thik emon i ekta scene bheshe utlo :)) jio jio ba GO GO!!!

    ReplyDelete
  10. aha.. ei sob khawar kheye joto ta anondo, eder kotha pore o prai tototai.... gola bhat ghee diye, tel chitchite plastic er packet e chirebhaja, gnuro Amul dudh..hajmola guli.. shal patar thnoga te station er luchi torkari.. ei sob kichur songe amar ekta adbhut combination bhalo lage seta holo... singara r rosogolla eksathe... mane ek e plate ba bati te... aha rosogollar ros r singarar jhal jhal torkari milemishe ekta sworgio anubhuti dei...

    ReplyDelete
    Replies
    1. বাঃ আরও একটা নতুন আর ইন্টারেস্টিং কম্বিনেশন জানা হল। খেয়ে দেখতে হবে।

      Delete

 
Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.