Things I am Loving


১. আমার আজকের টিফিন। উঁহু, উপ্‌মা নয়। আজ আমার টিফিন হচ্ছে হাতে বানানো আটার দু’খানা নরম রুটি আর ছোটছোট করে কাটা আলু আর কড়াইশুঁটি আর টমেটোর মাখামাখা শান্ত তরকারি। ফাইলফোল্ডার সরিয়ে টেবিলে টিফিনবাক্স গুছিয়ে মেলে বসে আরাম করে খেলাম। কী ভালো যে লাগল। তবে সবথেকে ভালো লাগল পলিপ্যাকের গেরো খুলে যখন একটার বদলে দুটো টিফিনবাক্স আবিষ্কার করলাম। রুটি আলুর তরকারির বাক্সটার ওপর আরেকটা ছোট টিফিনবাক্সখুলে দেখি তার ভেতর একটা নলেনগুড়ের সন্দেশ চুপটি করে বসে আছে

শুধু আজ নয়, আগামী সাতদিন ধরে আমি এরকম ভালোভালো টিফিন খাব। কোনওদিন বেশি করে ডিম দিয়ে বাঙালি কায়দায় চাউমিন, কোনওদিন চিনেবাদাম দিয়ে চিঁড়ের পোলাও আবার কোনওদিন হয়তো এসব ফ্যান্সি কিছু হল না, লুচিতরকারি দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হল

তবে টিফিন তো উপসর্গ মাত্র। আসল ভালোলাগার ব্যাপারটা হচ্ছে, একসপ্তাহের জন্য মা দিল্লি এসেছেন। কাজেই আমি এখন বাড়ির কুটোটি ভেঙে দুটো করব না, দু’বেলা মায়ের হাতের রান্না খাব, তাঁর সমস্ত ওজরআপত্তি করে অগ্রাহ্য করে ধরেবেঁধে ইয়ো চায়না ক্যাফে-তে রামেন নুডল্‌স্‌ খাওয়াতে নিয়ে যাব। মা যতই বলুন না কেন, “ইস্‌ এত খরচ করে এসব ছাইপাঁশ খাওয়ার থেকে বাড়িতে রুটি তরকারি খেলে তো খাবারটা একটু গায়ে লাগত সোনা?” তাতে মোটেই কান দেব না। আর সবকিছুর থেকে বেশি ভালো ব্যাপারটা হচ্ছে, রোজ অফিস থেকে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে খাটের ওপর গুটিসুটি মেরে বসে হাহাহিহি করে গল্প করতে পারব। ভালো না?

২. Wenger’s Deli দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরে আছেন কিন্তু কনট প্লেসের Wenger’s-এর নাম শোনেননি, এরকম লোক পাওয়া শক্ত। Wenger’s-এ আমি আগেও গেছি কিন্তু বেশি মোহিত হতে পারিনি। তার কারণ হচ্ছে, দোকানটায় নোনতা জিনিস বিশেষ পাওয়া যায় না। র‍্যাক ভর্তি খালি সারিসারি চকোলেট আর ক্রিমশোভিত কেকপেস্ট্রি, আর সুগন্ধি দুধের বোতল সাজানো। সে যতই উচ্চমার্গের হোক না কেন, একের বেশি দু’ঢোঁক খেলেই আমার মুখ মেরে আসে।

তাই যখন Wenger’s Deli খোলার খবরটা কানে এল তখন থেকেই প্যাঁচ কষতে লাগলাম কবে যাব। অবশেষে এই সোমবার বিকেলে সময় হল। কনট প্লেসে তো কমদিন ঘোরাঘুরি করছি না, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন্‌টা যে ইনার সার্কেল, কোন্‌টা যে আউটার সার্কেল, এ রাস্তায় সাবওয়ে দিয়ে নামলে যে কোন্‌ রাস্তায় বেরোব, সে আমার এখনও মাথায় ঢোকে না। আমি আর ঢোকানোর চেষ্টাও করি না। লোকের বদান্যতার ওপর চোখকানবুজে বডি ফেলে দিই।

Wenger’s যানা হ্যায় ভাইসাব।”

পুলিশ, অটোওয়ালা, হটডগ বিক্রেতা, যাকে সামনে পাই তাকেই পাকড়াও করি। আজ পর্যন্ত কেউ হতাশ করেননি। তাঁদের তর্জনী ফলো করে করে শেষমেষ একটা জায়গায় পৌঁছে দেখি একজায়গায় অনেক লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের সবার হাতে হয় দুধের বোতল নয় প্লেটে ধরা পেস্ট্রির টুকরো। Wenger’s! এসে গেছি!

Wenger’s Deli হল একেবারে পুরোনো Wenger’s এর গা ঘেঁষেই। ছোট দোকান, ছিমছাম করে সাজানো। উঁচু টুলে বসে খাওদাও পা দোলাও আর কাঁচের দেওয়ালের ওপারে অবিরাম বয়ে চলা সি.পি.র দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকো। বিকেলযাপনের আদর্শ পন্থা।

ভালোর ওপর আরও ভালো হচ্ছে ডেলির খাওয়াদাওয়া আর দাম। এত শস্তায় এত ভালো খাবার আমি সত্যি অনেকদিন খাইনি। একশো চল্লিশ টাকার মেক্সিক্যান চিকেন স্যালাড---তাতে লেটুস, অলিভ, লাল বাঁধাকপি, গাজর, লালসবুজ ক্যাপসিকাম সবাই বেশ টাটকাতাজা আর সবাইকে একে অপরের থেকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল। চিকেনের টুকরোগুলোর সাইজও রীতিমতো সম্মানজনক। কাঁটায় গুনেগুনে একটা চিকেন, একটা অলিভ, একটা ক্যাপসিকাম আর একটা বাঁধাকপির পাতা গেঁথে ‘অন দ্য সাইড’ ড্রেসিং-এ আলতো ডুবিয়ে যখন মুখে পুরছিলাম, মন আর পেট দুটোই জুড়িয়ে যাচ্ছিল।

ঠিক করে ফেলেছি, সময় পেলেই আবার যাব।

৩. রেজিন্যাল্ড হিল রচিত ডিটেকটিভ-জুটি ড্যালজিয়েল অ্যান্ড প্যাসকো। আমি এই সিরিজের একটাও বই পড়িনি, কিন্তু ইউটিউবে বেশ কয়েকটা এপিসোড দেখলাম। দিব্যি। ড্যালজিয়েল ডিটেকটিভ হিসেবে যেমন দক্ষ, যেমন বুদ্ধিমান, মানুষ হিসেবে তেমনি অপরিশীলিত। প্রকাশ্যে নাক খোঁটেন, ঢেঁকুর তোলেন, পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে কেস নিয়ে আলোচনা করতে করতে মহিলা সহকর্মীকে  চা করে আনার হুকুম দেন।

এক কথায় ভয়াবহ।

প্যাসকো হচ্ছেন ড্যালজিয়েলের অধস্তন গোয়েন্দা। গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রি, ফাস্ট ট্র্যাক প্রোমোশন। সোজা কোথায় ড্যালজিয়েল যদি দিন হয় প্যাসকো তবে রাত, ড্যালজিয়েল যদি সাদা হয় প্যাসকো তবে কালো, ড্যালজিয়েল যদি মমতা ব্যানার্জি হয় প্যাসকো তবে বুদ্ধদেব ভটচাজ।

আর এদের দুজনের এই টানাপোড়েনটাই গল্পগুলোর প্রধান আকর্ষণ। খুন তো সব গল্পেই হয়, আর খুনের মোটিভও সব গল্পে একই থাকে। টাকা, ক্কচিৎকদাচিৎ প্রেম। তাই খুনের গল্পের আসল টেনে রাখার দায়টা বর্তায় গোয়েন্দার ওপর। যতই বিরক্তিকর হন না কেন ড্যালজিয়েল সে কাজটা অত্যন্ত ভালো করে করতে পারেন। অন্তত ড্যালজিয়েলের ভূমিকায় ওয়ারেন ক্লার্ক পেরেছেন। সময় পেলে দেখতে পারেন।

উৎস গুগল ইমেজেস

৪. ড্যানিয়েল ডে লিউইস। লিংকন দেখলাম। সত্যি বলতে কি, ‘লিংকন’কেই দেখলাম। স্পিলবার্গ, অ্যামেরিকা, ইতিহাস, যুদ্ধ, রাজনীতি সবকিছু লিংকনরূপী ড্যানিয়েলের ছ’ফুট দু’ইঞ্চি ছায়ার তলায় চাপা পড়ে রইল, এক মুহূর্তের জন্যও মাথা তুলতে পারল না। কিন্তু আমি স্বার্থপরের ঝাড়, নিজের কথা না ভেবে একমুহূর্ত থাকতে পারি না। ড্যানিয়েল ডে লিউইসের ওই অসামান্য উপস্থিতির মাত্র পনেরো ফুট দুরত্বে বসেও মাথার ভেতর থেকে একটা চিনচিনে হিংসেকে তাড়াতে পারছিলাম না। নিজের কাজে কী করে এতটা ভালো হয় কেউ? একই পৃথিবীর মাটিতে হেঁটেচলে বেড়িয়ে, একই দূষিত বাতাসে শ্বাস নিয়ে, কী করে নিজেকে বাকিদের থেকে এই উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে পারে?

উৎস গুগল ইমেজেস


৫. Winnie-the-Pooh আর Binker-এর স্রষ্টা A. A. Milne-এর এই লাইনটা

               

Comments

  1. nolen gurer sandesher katha na bollei chalchilo na?:(

    ReplyDelete
    Replies
    1. কী করব, আমি আবার মরে গেলেও মিথ্যে বলতে পারি না।

      Delete
  2. বাড়ির বাইরে থাকলে মা আসা মানেই জমাট আনন্দ । আলাদা রকমের। আমার অনেকবার এই রকম হয়েছে । ভালো ভালো রান্না বেড়ানো বাইরেখাওয়া আর গল্প ...অনেক সুখস্মৃতি আছে ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. সেই। ছোটবেলার কানমলা বাদ দিলে মায়ের সঙ্গে কাটানো সমস্ত স্মৃতিই সুখের।

      Delete
  3. yaaay! maa eshechey manei tow khub moja. khawa-dawa, adda, gaan, no doing kuto ki benge duto...in short all's well with the
    world :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আল ইজ ওয়েল শম্পা।

      Delete
  4. darun , khub enjoy koro. ar oi Wenger’s er jonye khub hingsha holo. :-)

    ReplyDelete
    Replies
    1. দিল্লি কখনও এলে বলবেন ইচ্ছাডানা, আপনাকে ওয়েংগারসে নিয়ে যাব।

      Delete
    2. Thank u :-) mone rakhbo :-)

      Delete
  5. ড্যাঞ্জেল আর পাস্কোকে দেখে ফেলবো... ভাল ব্যাপার।
    কিন্তু একটা প্রশ্ন, সব ছাপিয়ে ড্যানিয়েলকে দেখুন, স্পিল্বার্গকে ছাপালেন কি করে?

    ReplyDelete
    Replies
    1. সেরেছে সুনন্দ, আমার বলে দেওয়া উচিত ছিল, "আমার" এই সিনেমাটায় স্পিলবার্গের থেকে ড্যানিয়েলকে বেশি ভালো লেগেছে। সেটার একটা খুব বড় কারণ হতে পারে যে আমি সিনেমা বুঝি না। শুধু হিরো হিরোইন দেখেই সিনেমার ভালোমন্দ বিচার করি।

      Delete
    2. এই তো, 'সিনেমা বুঝিনা' জাতীয় প্যাসিভ অ্যাগ্রেসিভ কথা বলে দিলেন... :( আমার বলার কারণ ছিল এটাই যে, স্পিল্বার্গের তো যে কোন সিনেমাতেই নিজের প্রবল অদৃশ্য উপস্থিতি ছাড়া চলেনা, তায় প্রোডিউসার ডিরেক্টর সব মহলে প্রায় প্রেসিডেন্ট সমান ক্ষমতা- সব ছেড়ে এই বয়সে নিজে স্পটলাইট থেকে সরে এসে ড্যানিয়েলকে যে জায়গাটা ছেড়ে দিল, সেটা সিনেমা খুব ভাল না বাসলে হয় না বোধহয়। এতটা লো-কি সিনেমা লোকটা বহুদিন করেনি। সে জন্যেই বোধকরি বেন অ্যাফ্লেক অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক ভাবেই অস্কার নেওয়ার সময় অমন করে চেঁচিয়ে উঠেছিল...
      আর একটা কথা, ড্যানিয়েলকে না দেখে লিঙ্কনকে দেখতে পাওয়ার পিছনেও কিন্তু ওই লোকটারই কেরামতি। মনে করে দেখুন দিকি, সিনেমা চলাকালীন আপনিও কি আর ২০১৩ তে ছিলেন, না কি ১৮৬৫ তেই চলে গেছিলেন?

      Delete
    3. 'নিজের ঢাক অগত্যা নিজেই...'--- http://bit.ly/12w4oLd

      Delete
    4. কান ধরছি সুনন্দ, কারণ ওটা সত্যিই প্যাসিভ অ্যাগ্রেসিভ হয়ে বলেছিলাম। সরি সরি। আসলে কী বলত, (এটা কিন্তু সত্যি সত্যি প্যাসিভঅ্যাগ্রেসিভ হয়ে বলছি না, অন গড ফাদার মাদার অবান্তর) আমি সত্যিইইইই সিনেমা বুঝিনা। সেটা পাছে কেউ ধরে ফেলে তাই শুরু থেকে তেরিয়া হয়ে থাকি। অফেন্স ইস দ্য বেস্ট ডিফেন্স নীতি ফলো করে।

      তোমার প্রতিটি যুক্তির সঙ্গে আমি একমত। আমি তো ১৮৬৫তেই ছিলাম। ড্যানিয়েল/লিংকনকে জমি ছেড়ে দেওয়ার কাজটা স্পিলবার্গ সত্যিই সরেস করেছেন।

      Delete
    5. তোমার অস্কার নিয়ে লেখাটা আমি পড়েছি। কিন্তু কমেন্ট করিনি, কারণ তখন একটা সিনেমাও দেখা ছিল না গো।

      Delete
    6. এঃ হে, এ তো বেজায় মুশকিল, কান টান ধরা খুব খারাপ ব্যাপার, ধরলে শুধু ছোট ভাই-বোনেদের ধরা উচিত (ওই শরীরের ভাষা পোস্টের ব্যাপার বজায় রাখতে) :D জানেনই তো, সিনেমা নিয়ে আমার হাল্কা মাথার ব্যামো আছে, এমন করলে এর পর আর কোন সিনেমার পোস্টে কমেন্ট করবো না... (ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস)

      Delete
    7. তাহলে আমিও আর কোনওদিন সিনেমার বিষয়ে পোস্টই করব না। সেটা কি ভালো হবে? যাদের মাথায় কোনওরকম ব্যামো নেই, তাদের আমি ভীষণ ভয় পাই। তুমি যা বলেছ, একেবারে ঠিক বলেছ। আমিও তোমার সঙ্গে একমত। সত্যি সত্যি তিন সত্যি বলছি। দুইমত হলেও কিছু ক্ষতি নেই। কিন্তু আমি তবুও একমত।

      ভাব ভাব ভাব/ গাছ থেকে পেড়ে দেব নেয়াপাতি ডাব...

      Delete
  6. Ki bolchho Kuntala di? Wenger's er nonta khabarer kotha jano na? Dillitey theke Wenger's er Shami Kabab je khayni, tar jeebontai britha. Plus, prawn cocktail sandwich. Plus, ham and cheese sandwich. Plus, chicken croissant sandwich. Plus, patties. Plus, panini. Plus, quiche. Plus, bibhinno dhoroner pnauruti.

    Kintu sobar opore...Shami kabab. Kheye dyakho. Maaney, sworgiyo jaake bole.

    p.s. Milkshake toh Keventer's ey pawa jay. Wenger's eo je jay seta jantam na. Kalkei giye khete hobe.

    ReplyDelete
    Replies
    1. হোয়াট? আমি সত্যি অন্ধ হয়ে গেছি। সরি সরি, না জেনে ভুল ইনফো দেওয়া উচিত হয়নি। নেক্সটবার গিয়ে খাব।

      Delete
    2. ও, আর ওটা মিল্কশেক না। পুরো মিল্ক। ফ্লেভারড মিল্ক।

      Delete

Post a Comment