মাল্টিগ্রেন ইডলি মিলেট পোহা
ডিসেম্বরে (নাকি জানুয়ারির শুরুতে?) আমাদের বার্ষিক হেলথ চেক আপের ডেট পড়ল। মানে অর্চিষ্মান পড়াল। আমাকে লিখেছিল অবশ্য। তোমার হবে তো অমুক উইকেন্ডে? যেন ফাঁসির ডেট ফেলার আগে আসামীর অ্যাভেলেবিলিটি মিলিয়ে নিচ্ছে। এই সব হেলথ চেকআপ মেকআপের আমি হান্ড্রেড পার সেন্ট বিরুদ্ধে। প্রিন্সিপ্যালি, মর্যালি, র্যাশনালি, ইমোশন্যালি, স্পিরিচুয়ালি, রিলিজিয়াসলি, অ্যাবসলিউটলি। মরার আগে রিপোর্ট পড়ে দু’বেলা ভয়ে মরাকে আমি আমার লেফট রাইট কোনও ব্রেন দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি না। কিন্তু অর্চিষ্মান আমার জন্য টিভিতে খবর দেখা ছেড়েছে, বদলে আমি বার্ষিক চেক আপে ঘাড় পেতেছি। দাম্পত্যের দৈনন্দিন দেয়ানেয়া।
সে মা এখনকার আমির থেকে অনেএএক ছোট। ওইটুকু মানুষের মধ্যে সম্পূর্ণ অন্য একটা মানুষকে এতখানি ভালোবাসার সুপারপাওয়ার কী করে আসে, কোথা থেকে আসে - না ভেবে পারা যায় না আর ভাবতে গেলেই মহা বিপদ। টিস্যুটা গেল কোথায়। হে ভগবান, যেন সবাই ভাবে চোখে কিছু একটা পড়েছে।
কালীদাদুর পরেও মা আমাকে চোখ, নাক, পেট, কান, হৃদয় ও হরমোন, মস্তিষ্ক ও মেয়েরোগ - ভ্যারাইটি ডাক্তারখানায় নিয়ে গেছেন, যেতে যেতে ডাক্তারখানার প্রতি আমার মধ্যে চরাচরচোবানো বিরক্তির উদ্ভব হয়েছে। যাতায়াতের পথে ট্রেনেবাসে মায়ের সঙ্গ, অ্যাসিস্ট্যান্টের ডাক পাওয়ার আগে পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনারামদায়ক চেয়ারে বসে ঘরভর্তি চিন্তিত, দুঃখিত, বিরক্ত ভিড়ের মধ্যে থেকে দুয়েকটা স্যাম্পল বেছে মায়ের কানে তাদের সম্পর্কে ফিসফিসিয়ে মন্তব্য করা ছাড়া সে অভিজ্ঞতায় ভালোলাগার কিচ্ছু নেই। তবে এ যন্ত্রণা বেশিদিন চলেনি। আরও একটু বড় হওয়ার পর সব রোগ যেমন পিলপিল করে এসেছিল তেমনি সরসর করে হাওয়া হয়েছিল। ভাইর্যাল, ডেঙ্গু, ডিপথেরিয়া, ম্যালেরিয়া, কোভিড - ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড, ফোর্থ, ওমিক্রনফোমিক্রন - টাচ পর্যন্ত করার সাহস দেখায়নি। যা হয়েছে সব অ্যাকসিডেন্ট। অসুখ না। অর্চিষ্মানের ক্লাউডে একটা ফোল্ডার আছে কুন্তলা নামে। ভেতর আলাদা আলাদা সাবফোল্ডার। টুইস্টেড অ্যাংকল, স্প্রেইনড নেক, ব্রোকেন রিবস। অর্চিষ্মান মাথা নাড়ে, এটা গোলমেলে কারও হাতে পড়লে . . .
অর্চিষ্মানের মতে হেটমেট বাজে কথা। কই আমার তো হয় না, কাদের এত রোগবালাই হয় ম্যাগো - এইটা হচ্ছে তোমার চিপ। তোমার রোগটোগ হয় না, তুমি লৌহমানবী - এইটা হচ্ছে তোমার ফ্লেক্স। আর বাই দা ওয়ে, এই কোভিড না হওয়ার গুলটা দেওয়া বন্ধ করবে, প্লিজ?
অর্চিষ্মানের ধারণা আমার কোভিড হয়েছে, আলবাত হয়েছে, আমি 'টেস্ট করাব না' মাটি কামড়ে থাকায় ধরা পড়েনি।
এর থেকে উদ্ভট যুক্তি শুধু আমার না, পৃথিবীর আট বিলিয়ন লোকের কারওর চোদ্দ পুরুষ শোনেনি। যে রোগ টেস্ট না করালে নেগেটিভ, টেস্ট করালেই পজিটিভ - অর্চিষ্মানের শরীর লাফ দেওয়ার আগের মুহূর্তের হুলোর মতো টাইট, চোখেমুখ হিংস্র উল্লাসে চকচকে - যদি একবারের জন্যও মুখ থেকে বার করে ফেলি, সে রোগ আসলে রিয়েল রোগ নয়, রাজনৈতিক চক্রান্ত - কিন্তু আমার মুখ থেকে সে রকম কিছুই বেরোয় না, ওকে হতাশ মুখে টুইটারে ফিরে যেতে হয়।
আমার কোভিড হওয়া না হওয়া নিয়ে অর্চিষ্মানের মাথাব্যথা স্রেফ হিংসুটেপনা। নিজে সবক'টা ওয়েভে নাকানিচোবানি খেয়েছে বলে আমার একবারও না খাওয়াটা মেনে নিতে গা জ্বলছে। আর কোভিড নিয়ে কমপিটিশনের কী আছে? লোকের অবশ্য কমপিটিশন দেওয়ার জিনিসের অভাব নেই। হোয়াটসঅ্যাপের ফ্যামিলি গ্রুপে একবার একজন কোভ্যাক্সিনের ইঞ্জেকশন নিয়ে এসে বলছিলেন, বাকি সব ভ্যাকসিন মন্ত্রপূত জল, একমাত্র কোভ্যাক্সিন যারা পেয়েছে তারা বাঁচলেও বাঁচতে পারে। আর একজন এসে বললেন, আই এগ্রি তবে নামটা ভুল হয়ে গেছে, আসল ভ্যাকসিন হচ্ছে কোভ্যাক্সিড, বাকি সব চরণামৃত। কোভ্যাক্সিড না কোভ্যাক্সিন মনে নেই, একজন সেই যে গ্রুপ ছাড়লেন এখনও ফেরত আসেননি।
অর্চিষ্মান লিখল, কী গো শনিরবি হবে কি না বল। আমি লিখলাম, হেউ। অর্চিষ্মান শনিবার ডেট নিল। শনিরবিতে চেক আপের অপরচুনিটি কস্ট আরও হাই। হাসপাতালের করিডরে করিডরে নীল ইউনিফর্ম পরে ফাইল হাতে দৌড়তে না হলে দুজনে কোথাও একটা গিয়ে মুখোমুখি বসে থাকা যেত।
সাড়ে ন'টায় সিকন্দর চলে গেলে বেরোলাম, তবু যদি ফাঁকায় ফাঁকায় সারা যায়। নরকযন্ত্রণা পাঁচ পার সেন্ট কমতে পারে। যদিও গোটা ব্যাপারটার সবথেকে এন্টারটেইনিং পার্ট ভিড়টাই, দিন যত এগোয় রিয়েলাইজ করি। অর্চিষ্মানের সঙ্গে দেখা না হওয়াজনিত যাতনাও কমতে থাকে। এ শনিবার মুখোমুখি বসিবার নয়, কিন্তু এই যে আমি এই টি-এর ল্যাজা ধরে দৌড়ে যেতে যেতে দেখছি টি-এর মাথা দিয়ে অর্চিষ্মান সাঁ করে বেরিয়ে গেল, নার্স স্টেশনের পাশ দিয়ে পাস করার সময় নার্ভাস হাসিতে ঘাড় ঘোরাচ্ছি, উচ্চতামাপক যন্ত্রে অর্চিষ্মান কাঠ হয়ে সেঁটে আছে, পেটিট নার্স চেয়ার জোগাড় করে চড়ছেন, আমি রক্ত দিতে ঢুকছি, ও বেরোচ্ছে, ঝুঁকে পড়ে কানে কানে বলছে, চেকশার্টকে দেখে রাখো পরে বলছি, পর্দার ওপারে অর্চিষ্মানের ট্রেডমিল চালু হচ্ছে, চালু হল, ইনক্লাইন বাড়ছে, স্পিডও, অর্চিষ্মান ছুটছে নিশ্চয় সর্বাঙ্গে তার সেঁটে, আমি সিলিন্ডারে নিঃশ্বাস ফেলে ফুসফুসের জোর মাপাচ্ছি, বাবাগো কতক্ষণ ছুটছে অর্চিষ্মান, আমাকেও এই স্পিডে এতক্ষণ ছোটাবে নাকি?
রিসেপশনের আমন আহুজা, আশ্চর্যরকম এফিশিয়েন্ট, ফর্মে চোখ বুলিয়ে বলল, ওকে নাউ গো অ্যান্ড হ্যাভ ব্রেকফাস্ট। দৌড়লাম। প্রায় ট্রেডমিলের স্পিডে। যাক। অর্চিষ্মান বসে আছে, সামনে ব্রেকফাস্টের শূন্য থালা, একটা শূন্য কফি কাপ, অন্যটা অর্ধেক ভর্তি।
বস্, কত আস্তে ছুটছিলে? রুল ভেঙে সেকেন্ড কাপ কফি নিতে হল।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে মাল্টিগ্রেন ইডলি থেকে মিলেট পোহা। প্লেট নিয়ে অর্চিষ্মানের উল্টোদিকে চেয়ার টেনে বসছি, অর্চিষ্মান মুচকি হাসল। সত্যি দৌড়চ্ছিলে তো? নাকি স্রেফ ব্রিস্ক ওয়াকিং? উত্তর না দিয়ে সাবধানে হেলদি ইডলি মুখে পুরলাম। প্রায় আনহেলদি ইডলির সমান ভালো খেতে। চেকশার্ট কিছু লাইন ভাঙছিল। দেখলে? একজন পেশেন্টের সঙ্গে হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সিরিয়াসলি? সিরিয়াসলি। অবশ্য যার সঙ্গে লেগেছিল তিনিও চমৎকার। কে গো? কালো কোট পরা একটা লোক, যার বউয়ের কোঁকড়া চুল। কোঁকড়া চুল তো টাকমাথার বউ। উঁহু, অর্চিষ্মান আমার প্লেট থেকে পোহা তুলে মুখে পোরে। টাকমাথার বউয়ের গলায় স্পনডিলাইটিসের বালিশ, কোঁকড়া চুলের বর কালো কোট।
ভাবছি ক'টাকার বাজি ধরব, পঞ্চাশ না একশো, অর্চিষ্মান উঠে পড়ল। উফ, কখন শেষ হবে। তোমার কী কী বাকি গো? আমার এর পর নাককান দাঁতচোখ। অর্চিষ্মান দুঃখী মুখে বেরিয়ে যায়। আমি কফিতে ধীরে চুমুক দিই। জানালার বাইরে পঞ্চশীল পার্কের মোমঘষা আমপাতা রোদ্দুরে দোল খায়। অর্চিষ্মান নাককান নিয়ে আতংকিত, আমার কপালে এর পর কী নাচছে যদি জানত। দেরি করলে দুঃখ কমবে না জেনে উঠে পড়ি। রিসেপশন থেকে আমানের জেন্টল রিমাইন্ডার ভেসে আসে, স্ট্রেট দেন লেফট, ম্যাম। রুম ওয়ান ই। ওয়ান ই-র দরজার মাথায় অল ক্যাপসে 'অ্যাবানডন অল হোপ, ইয়ে হু এন্টার হিয়ার'। অদৃশ্য হরফে। দৃশ্যমান হরফেঃ ম্যামোগ্রাফি।
হাটে মাঠে লিফটে টিকিট কাউন্টারে অচেনা লোকের সঙ্গে র্যান্ডম স্মল টক করার আমার "অ্যামেরিকান" বন্ধুত্বপূর্ণতাকে অর্চিষ্মান নিচু চোখে দেখে। অস্বস্তিও পায়। ও যেটা বোঝে না, আমি এটা করি প্রিসাইজলি অস্বস্তি এড়াতেই। লিফটে উঠেই একটা টুক মন্তব্য করে রাখলে ওই সরু, স্লো লিফটে, নেক্সট পনেরো সেকেন্ড অচেনা কনুইয়ে কনুই ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অস্বস্তি অর্ধেক।
ম্যামোগ্রাফির ঘরে এ টোটকা ব্যবহার না করার কোনও কারণ নেই। বয়সে আমার হাফ ও গাম্ভীর্যে ডবল টেকনোলজিস্টের হাতে, চূড়ান্ত ভালনারেবল পরিস্থিতিতে, নিজের প্রাণ সঁপে নেক্সট আধঘণ্টা কাটাতে হবে। তবু আমার স্মল টক হাই-এর বেশি এগোয় না। সত্যি কথা বেরিয়ে পড়ে।
আই অ্যাম নট লুকিং ফরওয়ার্ড টু দিস।
টেকনোলজিস্ট আমার ফর্ম পরীক্ষা করে হাত থেকে পুরোনো গ্লাভস ছিঁড়ে বিনে ফেলেন।
নোওয়ান ডাজ, ম্যাম। সিধে খড়ে হো যাইয়ে। বিলকুল সিধে। গুড। চটাস শব্দে ফর্সা কবজিতে নীল গ্লাভস সেঁটে যায়।
*****
রিপোর্ট আসার দিন অর্চিষ্মানের বছরের দ্বিতীয় অকালবোধন। আমারটা এসে গেছে। বেলা বারোটায় হোয়াটসঅ্যাপের খোপে ঘোষণার অন্তে তিনটে বিস্ময়চিহ্ন। তোমারটা এল? এখনও না। তিন ঘণ্টায় আরও তিনবার খবর নেয় অর্চিষ্মান। যথাসম্ভব উদাসীনতার সঙ্গে।
এই উদাসীন ভঙ্গির ইতিহাস আছে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যে কোনও ব্যাপারে অর্চিষ্মানের উদ্যম অসীম। ধরা যাক আমি ট্রিপল এ ব্যাটারির খোঁজে ড্রয়ার হাঁটকাচ্ছি, অর্চিষ্মান রান্নাঘর থেকে কফি নিয়ে বেরোতে বেরোতে গলা বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করছে, কী খুঁজছ গো, পরক্ষণেই উচ্ছ্বাসের আর্তনাদ। এটা এখানে?? আমি ভেবেছিলাম হারিয়ে গেছে। ভাগ্যিস নতুন অর্ডার করতে গিয়েও করিনি। হাত বাড়িয়ে ছোট স্টেপলারের প্যাকেটটা তুলে নিচ্ছে।
একটা স্টেপলারের জন্য এত আবেগ? স্টেপলার নয়। অক্সিজেন মাপার চিমটে। কফির কাপ নামিয়ে বাঁ তর্জনীতে চিমটেটা পরে নেয় অর্চিষ্মান। যেন সদ্য প্রোপোজালের হীরকাঙ্গুরীয়। ওর মাপা হয়ে গেলে আমারটাও মাপা হয়। নেক্সট তিনদিন সকালে উঠেই নিজের অক্সিজেন মেপে ফেলে অর্চিষ্মান, আমি অবভিয়াসলি রিফিউজ করি।
অর্চিষ্মানের থেকে প্রাইভেট পার্সন আমি কম দেখেছি। না। লেট মি রিফ্রেজ। অর্চিষ্মানের থেকে প্রাইভেট পার্সন আমি দেখিনি। ও আমার থেকেও বেশি প্রাইভেট। কিন্তু বুদ্ধির মতো ' প্রাইভেটনেস'-এরও বিবিধ ডায়মেনশন। আমি যেমন 'প্রাইভেট' হওয়া সত্ত্বেও পনেরো বছর ধরে ব্লগ খুলে ব্যক্তিগত কথা লিখছি, তেমনি অর্চিষ্মানের প্রাইভেটপনার ব্যতিক্রম প্রথম টের পেয়েছিলাম যে বছর আমাদের প্রথমবার চেক আপ হয়েছিল। ফোনে নিজের থাইরয়েড, লিপিড প্রোফাইলের খুঁটিনাটি দিয়ে যখন পা নাচাতে নাচাতে চনমনে গলায় বলেছিল, কুন্তলারও সব ঠিকঠাক, শুধু . . .
জীবনে যে আঙুলে গোনা বিষয়ে হার্ড বাউন্ডারি টেনেছি, এটা একটা। তুমি তোমার স্বাস্থ্যের খবর আড়ে কাটো বহরে কাটো, আমারটা ছেড়ে দাও। যত প্রিয়জনই হোক, বলবে না। বলতে হলে আমি বলব। অর্চিষ্মান অবাক হয়েছিল, আহা কাকুকে বলবে তো নাকি?
বলব না। তেমন মরণবাঁচন কিছু না হলে বাবা শুনতে ইন্টারেস্টেডও হবেন না। অ্যাকচুয়ালি, মরণবাঁচন হলেও না বলা বেটার। বাবা সারপ্রাইজ পছন্দ করে।
তাছাড়া আমি প্রাপ্তবয়স্ক। বাবার জুরিসডিকশনের সম্পূর্ণ বাইরে। আমার রিপোর্ট শুধু তুমি জানবে কারণ যদি কিছু বেরোয় আমি তো আর একা একা ডাক্তারখানা যাব না। তুমি সঙ্গে যাবে।
তিনটে নাগাদ আমার রিপোর্ট এল। স্ক্রোল করে বোল্ড লাইনগুলো ছুঁয়ে গেলাম, নাথিং এক্সাইটিং। অর্চিষ্মানকে পাঠালাম। এই যে। আমার রিপোর্ট।
সেকেন্ডের মধ্যে হাসিমুখ এল। আমি জানি এ ইমোজির পেছনের ইমোশন রিয়েল।
কাউকে বলবে না কিন্তু। কাউকে না।
না রে বাবা না।
তেমন কিছু না থাকলে আমাকেও না জানালে আই উড অ্যাপ্রিশিয়েট।
বুঝেছি। তোমার লৌহমানবীর ডেলিউশন অটুট রাখতে হবে। তাই তো?
অ্যাট এনি কস্ট।
সন্ধেবেলা যথাসময় বেল বাজল। দরজা খুললাম। কানে গানের তালে তালে মাথা দোলাতে দোলাতে অলরেডি খোলা, স্পাইসি টমেটো ফ্লেভারড টকাটকের প্যাকেট এগিয়ে ধরল অর্চিষ্মান। আবার করুণাদির মোমোও এনেছে। অনাবশ্যক চেঁচিয়ে বলল, রাতে ফোর এস যাবে?
দীর্ঘশ্বাস চাপলাম। অর্থাৎ আশু মুক্তির আশা নেই।
খুব ভালো লাগলো।
ReplyDelete"ওয়ান ই-র দরজার মাথায় অল ক্যাপসে 'অ্যাবানডন অল হোপ, ইয়ে হু এন্টার হিয়ার'।" - দারুন।
আমার নিজের টেস্ট ফেস্ট করতে খারাপ লাগে না। ডাক্তার একটা করতে বললে কখনো দু-তিনটে করে ফেলি। মানে, সুচ ফুটিয়ে যখন নিচ্ছেই, তখন ওই দিয়েই করে নিক না আরো দু একটা টেস্ট। শুনেছি, ডাক্তার নাকি বলেছে, আমি নাকি এই দিক দিয়ে দারুন পেশেন্ট।
অবশ্য আমার উৎসাহ ওই টেস্ট করানো অবধি। আর ওষুধ যখন যা দেয় সেটাও খাই। কিন্তু নন-ওষুধ নিৰ্দেশলিপির প্রতি আমি একেবারেই উদাসীন।
আপনার এইটা পড়ে, এই টেস্ট আর রিপোর্ট নিয়ে আমার অফিস সংক্রান্ত একটা মজার ঘটনা মনে পড়ছে, যেটা নিয়ে বেশ লেখাও যায়। তবে শুধু ওটা নিয়ে লিখলে বড্ডো ছোট্ট হবে, তাই দেখি, কখনও যদি কোনও লেখার মধ্যে দেওয়া যায়, তাহলে লিখবো।
"অবশ্য আমার উৎসাহ ওই টেস্ট করানো অবধি। আর ওষুধ যখন যা দেয় সেটাও খাই। কিন্তু নন-ওষুধ নিৰ্দেশলিপির প্রতি আমি একেবারেই উদাসীন।" এটা একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট। আমার চেনা টেস্টপ্রিয় লোকজনরাও এক্স্যাক্টলি এই রকম। আবার আমি টেস্ট প্রিয় নই, কিন্তু আমার ভয়ানক অ্যাসপিরেশন নন-ওষুধ নির্দেশাবলী মেনে জীবনযাপন করার। সব সময় পারি না, এবং সন্তাপে ভাজাভাজা হই।
Deleteছোট বড় লেখা নিয়ে একটা অযাচিত উপদেশ দিতে পারি। আসলে কোনও লেখাই বড় হয় না। হওয়া সম্ভব না। এফিশিয়েন্টলি কাজের কথাটুকু বলে বেরিয়ে যেতে গেলে পৃথিবীর সব গল্প দু'লাইনে শেষ হয়ে যেত। আপনি যেটা করতে পারেন, ওই ঘটনা মনে পড়লে মাথায় আরও যে সব ভাবনা আপসে আসে সেগুলো খানিকটা খানিকটা লিখে দিন। তখন আবার দেখবেন লিখে কূল পাচ্ছেন না।
ছোট লেখা নিয়ে আপনার মন্তব্য পড়ামাত্র কয়েকটা লাইন লাফ দিয়ে উঠেছে মাথায়, রাজর্ষি। কিছুতেই তাড়াতে পারছি না। আপনি "ছোট" গল্প বলতে যা বোঝাতে চেয়েছেন তার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই, তবু মনে পড়েছে যখন লিখেই দিই।
Delete"What does an artist do, mostly? She tweaks that which she’s already done.
There are those moments when we sit before a blank page, but mostly we’re adjusting what’s already there. The writer revises, the painter touches up, the director edits, the musician overdubs. I write, “Jane came into the room and sat down on the blue couch,” read that, wince, cross out “came into the room” (why does she have to come into the room?) and “down” (can someone sit up on a couch?) and “blue” (why do we care if it’s blue?) and the sentence now has become: “Jane sat on the couch,” and suddenly, it’s better (Hemingwayesque, even), although…why is it meaningful for Jane to sit on a couch? Do we really need that?
So we cut “sat on the couch.”
And are left with, simply: “Jane.”
Which at least doesn’t suck, and has the virtue of brevity."
---George Saunders, A Swim in Pond in the Rain
আপনি ছোট বড় লেখা নিয়ে নিয়ে যেটা বললেন, সেটা ঠিকই। দেখি, কোনোদিন হয়ে ওঠে কিনা ওটা নিয়ে লেখা।
Deleteআর George Saunders অন্য শিল্পীদের নিয়ে যেটা বলছেন, সেটাও বটে। কিন্তু, নিজের লেখার সম্মন্ধে যেটা বললেন, সেটার প্রেক্ষাপট না বুঝেও বলে ফেলছি যেটা মাথায় এলো - 'এটা তো ভারী গোলমেলে - এরম করে লিখলে, অত অত বই কিভাবে লেখা হয়ে গেলো'! ওনার লেখা অবশ্য এখনও পড়া হয়নি। উদ্ধৃত বইটা, বা ওনার লেখা, পড়লে হয়তো বুঝবো।
সন্ডারসের উক্তিটা রসিকতা, রাজর্ষি।
Deleteওহ - কি কান্ড! বুঝলাম।
DeleteDarun lekha :) Niyomito hoyechhen dekhe bhalo lagchhe. Annual Health Check-up niye amaro oneeha aachhe. :(
ReplyDeleteনিয়মিত লিখতে আমারও ইচ্ছে করে, সায়ন। এবং এটা কাউকে বিশ্বাস করানো অসম্ভব হবে, আমি অত্যন্ত নিয়মিত লিখি। আমি জীবনে লেখা ছাড়া আর কোনও কাজ এত নিয়মিত করি না, করিনি, করবও না। কিন্তু আজকাল অবান্তর ছাড়া অন্য লেখাতেও সময় দিতে ইচ্ছে করে। আরও অনেক ফ্যাক্টর আছে। আমি অ্যাভারেজের থেকে অনেক, অনেক কম পরিশ্রমী। তাছাড়া আমার অত্যাশ্চর্য রকম সময় লাগে এক একটা লেখা লিখতে। এই সব মিলিয়ে কেবলই দেরি হয়ে যায়। আমি একরকম আপোষ করে নিয়েছি আমার এই বিলম্বের সঙ্গে। তবু আমার এই অনন্ত দীর্ঘসুত্রিতায় আপনার মতো পাঠকরা যখন অ্যাকটিভ ঠেলা দেন সে যে কী প্রিভিলেজ। থ্যাংক ইউ। ভালো থাকবেন ।
Delete"Annual Health Check-up niye amaro oneeha aachhe." থাকাই উচিত। ও ব্যাপারে উৎসাহীদের চোখে চোখে রাখা দরকার।
Delete