অরুণাচল ৩ঃ লস্ট
সকালে উঠে দাঁত মেজে, কফি বানিয়ে, খাতাপেন নিয়ে রোয়িং-এর স্টোন হিলস কটেজের বারান্দায় এসে বসেছি। আজ সোমবার। শনিবার ক্লাস টেস্ট। রবিবার ফাইন্যাল পরীক্ষা। কাল প্রায় কিছুই পড়িনি। আজ না পড়লে গোল্লা পাব। অর্চিষ্মান বলে, কুন্তলা নম্বর ইম্পরট্যান্ট নয়, শেখাটাই ইম্পরট্যান্ট। বেশি নম্বর পেলেই বেশি শেখা বা কম নম্বর পেলে কম শেখার কোরিলেশন অত সরল এবং সহজ নয়। আমার এক ইউনিভার্সিটির বন্ধুর মতে অবশ্য অতটাই। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিল, আসলে গ্র্যাজুয়েশনে ইকনমিক্সটা ভালো করে শিখতে গেলাম কি না তাই ফার্স্ট ক্লাস ফসকে গেল।
চব্বিশ বছর আগে থতমত খেয়েছিলাম। এখন হলে খেতাম না। কারণ এখন জানি সব মায়া হোক না হোক সবই কোপিং।
আমার পড়ার মেটেরিয়াল হচ্ছে ক্লাসনোট। নোট অনেকেই নেয়, খুব ভালো নেয়। স্প্যানিশ ক্লাসমেটদের কারও কারও নোটখাতা খাতা কম, কালার কোডেড এক্সেল শিট বেশি। আপনি যতক্ষণে কন্ট্রোল এফ টিপে পি টাইপ করে ও -এর দিকে আঙুল বাড়াবেন, সে ততক্ষণে জাবদা খাতার মাথা থেকে উজিয়ে থাকা এক কোটি রংবেরঙের স্টিকি নোটসের টিকি ধরে 'পজেসিভোস টনিকোস' বার করে দেবে। আমার নোট তার ধারেকাছে না। আমার নোট নেওয়ার মধ্যে পাঁচটা সাঁইত্রিশে হাওড়া ব্রিজের অন্তে বাস থেকে নেমে থেকে পাঁচটা চল্লিশের তারকেশ্বরের জন্য দৌড়ের ডেসপারেশন আছে, শুরু থেকে শেষ প্রথমে পেনসিলে লিখে তার ওপর পেন দিয়ে লিখে একই খাতা দু'বার ব্যবহারের উদবাস্তুহুডের জেনারেশনাল ট্রমা আছে, জীবনে যা যা ঘটছে সব লিখে ফেলার অযৌক্তিক অ্যাম্বিশন আছে। দিদিমণি যা পড়ালেন, ক্লাসমেটরা যা প্রশ্ন করল, যা উত্তর পেল, জানালার বাইরে হনুমান মন্দিরের বাঁদরগুলো যা যা হুপহাপ করল, পাশের ক্লাসে মাস্টারমশাই জনপথ কাঁপিয়ে যতবার হাঁচলেন সব টোকা আছে আমার খাতার পাতায় পাতায় প্রতি মিলিমিটার জুড়ে দাঁড়ি কমা সেমিকোলন র্যান্ডম রেফ হঠাৎ হসন্তশুদ্ধু। আমার প্রস্তুতিতে খামতি থাকতে পারে কিন্তু আমার নোটখাতায় উত্তর নেই এমন প্রশ্ন দিদিমণি সেট করতে পারলে মেনে নেব। বই অর্চিষ্মানের ব্যাগে, ও বই পড়ে তৈরি হবে, আমি আমার খাতা পড়ব। ঠিক পড়বও না। আমার শিখতে গেলে লিখতে লাগে কাজেই আমি অন্য একটা খাতায় এই নোটখাতাটা পুরোটা টুকব। পেনের সঙ্গে আঙুলের, খাতার সঙ্গে পেনের সংযোগে যে চিড়িক হবে তা ব্রেনের কোণে কোণে স্প্যনিশ পুঁতে দিয়ে আসবে।
এ সবই হবে আর একটু পর থেকে, অফ কোর্স। আপাততঃ খাতা খুলে হাঁ করে আকাশবাতাস আশপাশ দেখছি। পাথুরে পাহাড় কেটে স্টোন হিলস প্রপার্টির সীমানা বাড়ছে। আরও কটেজ তৈরি হচ্ছে। মনে মনে অল্প অল্প রাগছি। আমার থাকার মতো কটেজ তো হয়েই গেছে, এবার সব কনস্ট্রাকশন বন্ধ কর। আমার পৌছনোর রাস্তা তৈরি হয়ে গেছে এবার ক্লাইমেট বাঁচাও। একটা ছেলে, প্রকাণ্ড ধাতব হাঁ ফিট করা হলুদ গাড়ি চালিয়ে পাথর তুলে এখান থেকে ওখানে নিয়ে গিয়ে ফেলছে। এই গাড়িগুলো দেখলে এত অস্বস্তি হয়, এত নড়ে, ছেলেটা সিটে বসে আছে কী করে কে জানে। ছেলেটার মোবাইলেই সম্ভবতঃ একটা গান চলছে। হলুদ গাড়ি আমার বারান্দার সামনে দিয়ে পাস করার সময় এক মহিলা সুরেলা কণ্ঠে গান গেনে উঠছেন, বাকি সময়টা কিছুই শোনা যাচ্ছে না। মানে রেশটেশ কিছুই না। কালকের গুমগুম শব্দটা এখনও হচ্ছে। আমি এখনও নদী আছে যে টের পাইনি। আর একঘণ্টার মধ্যে পেয়ে যাব। নদীর নাম দেওপানি।
ঠিক এই মুহূর্তে কফির কাপের কিনারায় একটা সবুজ পোকা এসে বসল। গঙ্গাফড়িং-এর মতো, কিন্তু জাম্বো। চ্যাপ্টা বডি থেকে কাঠি কাঠি পা, শুঁড়। গলার ঝামেলা নেই। শরীরের সামনে দুটো কালো বিন্দু। নির্ঘাত চোখ। ওই পজিশনে চোখ ছাড়া আর কীই বা থাকবে।
কাল রাতে খেয়ে ঘরে ঢোকার সময় ফ্রেমের কাঠে বসে ছিল যে সবুজ পোকাটা, নির্ঘাত এটাই। গঙ্গাফড়িং-এর তুলনায় জাম্বো হতে পারে কিন্তু আমি তো ওর তুলনায় ঈশ্বর। দরজার হ্যান্ডলের দিকে হাত বাড়াচ্ছি, চাবি ঘোরাচ্ছি দরজা খুলছি দেখেও গ্যাঁট হয়ে বসে থাকল, নড়ার নাম করল না। পাছে ওই কাঠি কাঠি হাত পা পাল্লায় চিপটে যায় ভয়ে আমাকেই দরজা খুলতে আর বন্ধ করতে পাঁচ সেকেন্ডের জায়গায় পনেরো সেকেন্ড লাগাতে হল।
এটাই যে সে পোকা নিশ্চিত হওয়ার কোনও উপায় নেই, যমজ বোন বা পিসেমশাইও হতে পারে, তবু আমি শিওর। যে ভাবে আমার অনেক বন্ধু জীবনে একটামাত্র স্কুলে পড়েও শিওর যে তারা পৃথিবীর বেস্ট স্কুলে পড়েছে, যে ভাবে ইউটিউবে একজন ভটচাজের পো আর একজন খাসনবিশের পো গপ্পাচ্ছিলেন - ভাই ফ্রেঞ্চ জার্মান ভিয়েতনামিজ অনেক দেখলাম, বাঙালি খাবারের থেকে বেস্ট খাবার দেখলাম না। মা যখন আসেন ঘি দিয়ে চটকানো ফেনাভাতের থালা নিয়ে, ওহ্, তার সামনে চাইনিজ কঞ্জিফঞ্জি সব হাওয়া। যে নিশ্চয়তায় দিল্লি ব্যাংগালোর টোকিও সানফ্রান্সিসকো ঘোরা লোক কনফিডেন্টলি জানায় কলকাতার মতো শহর পৃথিবীতে আর নেই কারণ এখনও এ শহরে একজন পড়ে গেলে অন্যরা দৌড়ে তুলতে আসে। গত বছর উনি তিনদিন কেপটাউনে কনফারেন্সে গেছিলেন, দেখে এসেছেন, ওখানেও কেউ আসে না তুলতে।
আমি ওপরের স্যাম্পলদের মতো অযুক্তিবাদী নই, নস্ট্যালজিয়ার সঙ্গে ফ্যাক্ট গুলিয়ে ফেলি না, কাজেই নিশ্চয়তা কোয়ালিফাই করছি। আমি পঁচানব্বই শতাংশ শিওর যে এটাই ওই পোকাটা। আর নিরানব্বই পারসেন্ট শিওর যে ওর ওই একমাত্রিক চোখ দিয়ে ও আড়চোখে আমাকেই দেখছে। আমিও ওকে আড়চোখে চোখে রাখলাম। এই সব চোখাচোখি করতে গিয়ে কফি ঠাণ্ডা হয়ে গেল।
*
আজ তাড়াতাড়ি বেরোব। আনিনি যাব। যেখানে যেতে দিল্লি থেকে উজিয়ে এসেছি। যে জায়গার ছবি ইন্টারনেটে দেখে প্রথম মনে হয়েছিল এখানে গেলে বেশ হয়। রোয়িং থেকে আনিনি পৌঁছতে কম হলে সাত বেশি হলে এগারো ঘণ্টা লাগবে। আটটায় বেরোনোর কথা হয়েছে নিমাজির সঙ্গে । হোটেলে ব্রেকফাস্ট খাব না। রাস্তায় সিক্সটিফাইভ নামে একটা জায়গা আছে, সবাই সেখানে খায়, আমরাও খাব। নিমাজিও কাল থেকে বলছেন, উধার বহোত আচ্ছা খানা মিলতা হ্যায় ম্যাম। হোটেল মে মত খানা।
হোটেলে এমনিও খেতাম না। কাল রাতে চাউমিন দিতে ওঁরা দেড়ঘণ্টা লাগিয়েছিলেন, ভুলিনি। ফরগিভেন, বাট নেভার ফরগটেন। এখন পরোটা ভাজতে বললে বারোটা বাজাবেন । আধঘণ্টা আগে অর্চিষ্মান নড়াচড়া শুরু করার পর দুটো কফি বলেছিলাম, দুটোই ব্ল্যাক, দুধও গুলতে হবে না - এখনও আসেনি। এটা কেন ঘটছে কাল রাতেই অল্প চর্চা করেছি - ওই যে কফি এসেছে, অবশেষে - কফি খেতে খেতে আবার করছি। সিদ্ধান্তে পৌঁছচ্ছি, ম্যানেজারের অভাবে। এখানে সকলেই আদেশ পালন করছে, আদেশ দিচ্ছে না কেউ। অর্চিষ্মান বলছে, ভালো ম্যানেজার যে কী জরুরি কুন্তলা। মনে মনে ভাবছি, আমার থেকে ভালো কেউ জানে না। আমার জীবনে একজন ভালো ম্যানেজার ছিলেন অনেক জন্ম আগে, তিনি যবে থেকে অবসর দিয়েছেন, রাহু রেট্রোগ্রেডে যাওয়ার নাম করছে না। বা রেট্রোগ্রেডে ঠ্যাঁটার মতো বসে আছে। মোট কথা যেটা খারাপ সেটাই ঘটছে, ঘটেই চলেছে।
অর্চিষ্মান হেঁটে হেঁটে খাবারদাবারের বিল মেটাতে গেল, নিমাজি ছুটে ছুটে আমার দিকে এলেন। ম্যাডাম ইঁহা সে খাকে নিকলতে হ্যায়, উপর কুছ নহি মিলেগা। মিলেগা ভি তো ঘটিয়া মিলেগা।
পালটির কারণ স্পষ্ট। আমাদের এজেন্টেরই আরও একটা গাড়ি আনিনি চলেছে, ঠিক একসঙ্গে নয়, কাছাকাছি। সে গাড়ির ড্রাইভার নিমাজির যাকে বলে জিগরি। ওই গাড়ির লোকজন খেয়ে বেরোবে, নিমাজি বন্ধুর সঙ্গে সঙ্গে বেরোতে চান কাজেই আমরাও খেয়ে বেরোলে নিমাজির সুবিধে। সেটা খুলে না বলে না ওপরে খাবার না পাওয়া যাওয়ার বা পেলেও পাতে দেওয়ার অযোগ্য হওয়ার ভুজুংটা দিচ্ছেন।
ভুজুং-এ আমার আপত্তি নেই। জীবন সহনীয় করার জন্য সবাইকেই ভুজুং দিতে হয়, নিজেকে বা অন্যকে, আমিও ঘণ্টায় পাঁচটা করে দিই। নিমাজির বন্ধুর সঙ্গে যেতে চাওয়ার ইচ্ছেটা অত্যন্ত সঙ্গত। তাছাড়া আটটার বদলে দশটায় বেরোলে দুনিয়া এধারওধার হয়ে যাবে না। এর থেকে অনেক গুরুতর ঘটনা যাতে দুনিয়া অ্যাকচুয়ালি এধারওধার হতে পারত বা হয়েছেও - সারভাইভ করেছি, এটাও করব। আনিনি যাওয়ার জন্য রোয়িং থেকে দশটায় বেরিয়েছিলাম না বারোটায় বেরিয়েছিলাম বাড়ি ফেরার আগেই ভুলে যাব।
কিন্তু আর একটা জিনিস ঘটবে। এই ক্ষণিকের উদারতা আধঘণ্টার মধ্যে উবে যাবে, তারপর নিমাজিকে মনে হবে সুবিধেবাদী দি গ্রেট, নিজেকে মনে হবে অপদার্থ টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি, অর্চিষ্মানকে মনে হবে উদাসীন। আমি কেন এ রকম, কবে আমার শিক্ষা হবে, কেন আমার সঙ্গেই এ রকম হয় ঠাকুউউউউর। এবং এটা কতক্ষণ চলবে কোনও গ্যারান্টি নেই, পাঁচ মিনিটেও শেষ হতে পারে,আবার আনিনি পৌঁছনো পর্যন্ত চলতে পারে। গোটা রাস্তার দুপাশের ভিউর ষড়ৈশ্বর্য মিস।
নিমাজির কথা মন দিয়ে শুনলাম। তারপর অর্চিষ্মান যে দিক থেকে আসছে, প্রায় এসেই পড়েছে, আঙুল দেখিয়ে বললাম, উনসে পুছ লিজিয়ে।
নিমাজি পুছলেন। অর্চিষ্মান বলল, নেহি সার, উপর যাকে খায়েঙ্গে। কুন্তলা উঠে পড়। বলে গাড়িতে উঠে পড়ল। নিমাজিও উঠে গাড়ি চালু করলেন।
রোয়িং-এ আমরা ফেরার পথেও থেমেছিলাম, কিন্তু শুধু রাত্রিবাস। শহর ঘুরে দেখার সুযোগ হয়নি। নেটে দেখলাম লিখেছে দেখার কিছু নেই, কিন্তু আমার ধারণা রোয়িং আমার ভালো লাগবে। হ্যাঁ, কিছুই করার নেই হয়তো, কিন্তু আমিও কর্মযোগী নই। শপিং, বোলিং, মানুষের ভালো - সবেতেই সমান নিরুৎসাহী। হ্যাঁ, কফি শপের একটা বদঅভ্যেস হয়েছে বটে, কিন্তু সেটা কমপেনসেট করার জন্য রোয়িং-এ কিছু না কিছু বার করে ফেলা যাবে।
গাড়ি চলছে। আকাশের গায়ে দাঁড়িয়ে আছে ছায়া ছায়া, ছমছমে মিশমি পাহাড়। আমরা ওই পাহাড়েই চড়ব। নিমাজির অনুমতি নিয়ে ওঁর পাশের সিটে বসেছি। অর্চিষ্মানকে বলেছি খাওয়ার পর সিট ওকে ছেড়ে দেব।
অরুণাচল বেড়িয়ে এলাম শুনে অপরাজিতা উত্তেজিত আর জ্যোতিষ্মান মৌন হয়েছিল। কৌতূহল দেখাতে বলেছিল, ওর ধারণা অরুণাচল একটু দরকারের বেশি সবুজ। টু গ্রিন। ওর নাকি পাহাড়ে গেলে সবুজের মধ্যে সাদার ছিটে লাগে। বললাম, তাহলে চলে যাও তাওয়াং। ছিটেটিটে না, সাদায় সাদায় ছয়লাপ। এখন, পথের বর্ণনা মনে করে লিখতে গিয়ে টের পাচ্ছি জ্যোতিষ্মান হ্যাজ আ পয়েন্ট। সব পাহাড়েই মোটামুটি জঙ্গল থাকে, কিন্তু অরুণাচলের পাহাড়ের জঙ্গল সত্যিই ওভারহোয়েলমিং টাইপের। গোটা বর্ষা পেরিয়ে আসার পর তো আরও। আমার ভালো লাগছিল কারণ আমার যে কোনও রকম বাড়াবাড়িই ভালো লাগে। ওয়েল অ্যাডজাস্টেড, মাত্রাজ্ঞানসম্পন্ন লোকদের নাও লাগতে পারে। কোটি কোটি রকম গাছ একই সঙ্গে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে। পাইন, আম, কলা, ফার্ন, গোল পাতা, লম্বা পাতা, চকচকে পাতা, ম্যাড়মেড়ে পাতা, মোটা গাছ সরু গাছ এ ওর হাঁটুর নিচ দিয়ে গলে, কোমরের বাঁক দিয়ে সরে ঘাড়ের ওপর দিয়ে উঁকি মারছে। আর কিছু কলাগাছ। বাপরে কিছু দৈত্যাকার কলাগাছ। আমাদের পাঁচটা কলাগাছের সমান একএকটা। বুড়ো পাতারা হাওয়ায় ছিঁড়ে ছিঁড়ে গেছে, তেমন বুড়োরা তো প্রায় নারকেল পাতার চেহারা নিয়েছে, কোমর ভেঙে নুয়ে পড়েছে। কচি পাতারা নিটোল সবুজ সোজা দাঁড়িয়ে আছে। এখন প্রিয় রং জিজ্ঞাসা করলে ডেড স্যামন আর এলিফ্যান্টস ব্রেথ ছাড়া বলি না, এখানে এসে কচি কলাপাতার মহিমা মনে পড়ল। গাদাগাদির মধ্যে কিছু সরু সরু গাছে কিছু খুদি খুদি ফুল - আই গেস, রঙের রংবাজি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
কুয়াশা শুরু হল। কুয়াশা বললে কুয়াশা মেঘ বললে মেঘ। প্রায় কিছুই দেখা যায় না। নিমাজির ওয়াইপার প্রবল ফাইট দিচ্ছে। আর দিন পনেরো পরে গেলেই বৃষ্টির নাগাল পেরিয়ে যাওয়া যেত এবং ঝকঝকে রোদ্দুরেও হয়তো, হয়তো কেন নিশ্চিত মিশমি পাহাড়ের সৌন্দর্য পেখম মেলত, কিন্তু একেবারে মন থেকেই বলছি, আবার যদি আনিনি যাই বর্ষাতেই যাব। পরের তিনদিন ধরে লোয়ার দিবাং ভ্যালি আমাদের সামনে যে মূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করবে বা কুয়াশায় নিজেকে মুড়ে রাখবে -আমি জীবনে - হ্যাঁ, ভেবেই বলছি - জীবনে সে রকম কিছু দেখিনি।
নিমাজি ব্রেক কষলেন। ইয়ে হ্যায় মায়োদিয়া পাস। বলে নাকের ভেতর দিয়ে হাসলেন।
গাড়ি থেকে নামলাম। চারদিকে কুয়াশা। মায়োদিয়া না খাইবার, পাস না ফেল বোঝার উপায় নেই। ওই নাকের ভেতর দিয়ে হাসিও রাগের প্রকাশ। বন্ধুর সঙ্গে আসা থেকে বিরত করার প্রতিশোধ।
দৃশ্যের অভাব বা ব্যঙ্গের হাসি কোনওটাই আমাকে দমাতে পারল না। সে আমার ডমিন্যান্ট বাঙাল জিনের জন্য হতে পারে বা অন্য কারণে। প্রথম কারণ, অর্চিষ্মান সঙ্গে আছে, আমার খারাপ লাগার পঁচাত্তর পারসেন্ট সম্ভাবনা ওখানেই শেষ। তাছাড়া দেখার জিনিসের অভাব আমার জেনারেলি হয়ও না। খানে আমি আমার জাগ্রত জীবনের সত্তর শতাংশ অতিবাহিত করি সেই ব্লু টোকাইতেই হয় না, বরং বেশি হয়ে যায় বলে আজকাল দেওয়ালের দিকে মুখ করে বসি।
এখানে তো সে তুলনায় ভিউর ভূরিভোজ। কুয়াশা আছে, চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে, আবার সরে যাচ্ছে। কারও যদি একবার সন্দেহ না হয় যে কুয়াশাটার প্রাণ আছে, কল্পনাশক্তিকে ডাক্তার দেখানো উচিত। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি আছে, যার ভেতর দিয়ে মাথায় হাতের পাতার ছাতা মেলে আমরা মায়োদিয়া ক্যাফের দিকে দৌড়চ্ছি, বারান্দা পেরিয়ে ন্যাড়া ঘরে ঢুকে কাউন্টারে মিলিটারি পোশাক পরা একজন অতি ভদ্র ভাইসাবকে নমস্তে বলে আধানোংরা চেয়ারটেবিলে বসছি, দেওয়ালে সাদা বোর্ডে সেদিনের মেনু অর্চিষ্মান মন দিয়ে পড়ছে। চায়ের সঙ্গে মোমো না আলুভাজা নেবে কুন্তলা? ডানহাতের তর্জনী মধ্যমা কপালে ঠুকে বাঁ হাতের সামনে ধরছি, বাঁ হাত মোমোর আঙুল ধরেছে। ভালোই ধরেছে। চায়ের কোয়ালিটি আসাম ছাড়ার পর পড়েছে ন্যাচারেলি, কিন্তু মোমো ফাটাফাটি।
কত হল? পঁচিশ পারসেন্ট পূর্ণ হয়ে উপচে পড়েছে। এখানে এসে কুয়াশার জন্য যাদের ভিউ কম পড়বে তাঁরা, সরি নট সরি, মায়োদিয়া পাস দেখতে আসেননি। ইন্টারনেটের মায়োদিয়া পাসের ছবির সঙ্গে পনেরোটি মিল খুঁজে বার করার খেলা খেলতে এসেছেন। এঁরাই সাফারিতে গিয়ে বাঘ না দেখতে পেলে মুখ হাঁড়ি করে ধুর পুরো পয়সা নষ্ট বলে হাতপা ছোঁড়েন। আরে ভাই, বাঘ যেমন বাড়িতে দেখিস না, এত গাছও তো বাড়িতে দেখিস না। গাড়ির কান ঘেঁষে হরিণও তো দৌড়য় না। বন্দর দেখনে কো আয়া হ্যায় কেয়া? কেন বাঁদর না দেখার কী আছে? আর এই পথের পাশে পাগমার্ক? গাছের গায়ে নখের আঁচড়? ঝিঁঝিঁর রেওয়াজ? এ সবও তো বাড়িতে দেখিসশুনিস না, সেগুলো দেখেশুনে পয়সা উশুল কর না।
ইন্টারনেটের রৌদ্রকরোজ্জ্বল ভিউর বাইরে মায়োদিয়া পাস যে আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন অবতার আস্তিন থেকে বার করেছে তাতে তো বরং আমি বেশি উত্তেজিত। আক্ষরিক ধন্য।
নিমাজির চা মোমো ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে, একবার ডেকেও এসেছি, কিন্তু নিমাজি ভেতরে আসার নাম করছেন না। কারণ বন্ধুর গাড়ি এসে গেছে। উত্তেজিত হাসাহাসি শুনতে পাচ্ছি। আমি আর একবার ডাকতে বেরোলাম। বন্ধুকে পেয়ে আমাদের প্রতি রাগও পড়ে গেছে। দেখেই বললেন, ম্যাম ইধার আইয়ে, সারকো ভি লেকে আইয়ে। অর্চিষ্মান আর আমাদের দুজনকে মায়োদিয়া পাস লেখা বোর্ডের সামনে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে খচাৎ করে ছবি তুললেন। কেন কে জানে।
গাড়ি চলতে শুরু করল। কুয়াশা চারদিক থেকে নেমে আসছে, জানালায় ধাপ্পা দিয়ে সরে যাচ্ছে। সিক্সটি ফাইভ এসে গেল। মেজদা, ছোড়দা, সেজপিসির মতো সিক্সটিফাইভও ইউটিলিটারিয়ান নাম। রোয়িং থেকে পঁয়ষট্টি কিলোমিটার দূরে বলে সিক্সটিফাইভ। কয়েকটা ঝুপড়ি দোকান আছে। আনিনির পথে সবাই এখানে খায়। আমরাও খাব। ছাপ্পান্নতে মোমো খেয়েছি বলে পঁয়ষট্টিতে আবার খাওয়া যাবে না কোথাও লেখা নেই। তবে ভাত খাব না। কী খাব তাও জানি। ভারতবর্ষের পাহাড়পর্যটনের জাতীয় খাবার, হলুদ প্যাকেটে দোকানের জানালায় সারি সারি রাখা।
দো লেমন টি, নো সুগার। অর দো ম্যাগি।
এর পর যেটা ঘটবে, সেটা আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অর্চিষ্মান যে এতদিন ধরে কানের কাছে বলছে কুন্তলা জীবনে নিপাট ভালো নিকষ কালো বলে কিছু হয় না, সবই গ্রে, সবাই গ্রে আর আমি হুঁহাঁ করেছি মনের মধ্যে নিইনি কারণ আগাপাশতলা খারাপের সামনে পড়ার দুর্ভাগ্য এখনও না হলেও জীবনে কিছু জিনিস দেখেছি যা পারফেক্ট। যেমন ওই হলুদ প্যাকেট।
বা দেখেছিলাম। সিক্সটিফাইভের ম্যাগি মুখে পড়া পর্যন্ত। ম্যাগির যে এই পরিমাণ পিণ্ডি চটকানো যায়, সিক্সটিফাইভে না খেলে বিশ্বাস করতাম না। একগাদা ট্যালটেলে জন্ডিসরং জলে ম্যাগি ভাসছে, ম্যাগির সঙ্গে ভাসছে ছুরি বা বঁটির বদলে কাস্তে দিয়ে কোপানো কিছু গোবদা পেঁয়াজ। পেঁয়াজগুলো ম্যাগির সঙ্গেই সেদ্ধ করা হয়েছে তাতে ট্যালটেলে জল পেঁয়াজের গন্ধ ভুরভুর হয়েছে অথচ পেঁয়াজগুলো সেদ্ধ হয়নি। আধা কচকচে আধা ন্যাতানো।
এই মুহূর্তে আমার সত্যি অত ভায়োলেন্ট অনুভূতি হচ্ছে না, তবু লিখলাম তৎকালীন মনের ভাবের প্রতি সততা মেন্টেনের জন্য। সততা মেন্টেনের জন্য আরও কিছু কথা বলা দরকার। ম্যাগিটা অবজেকটিভলি খারাপ খেতে হয়েছিল সেই স্ট্যান্ড থেকে নড়ছি না। কিন্তু 'আহা সব বার তো সমান হয় না-র বেনেভোলেন্সও যে বুকের মধ্যে জোগাড় করতে পারছিলাম না তার কারণ ব্যক্তিগত। যিনি ম্যাগি বানালেন, তিনিই আমার অর্ডার নিয়েছিলেন এবং অর্ডার দেওয়ার মুহূর্ত থেকে আমার তাঁর প্রতি বীতরাগ জন্মেছিল। তাঁর মুখের প্রতি। মুখ গোল না চৌকো, ফরসা না কালো, কানকাটা খরগোস না হাঁ করা বোয়াল মাছ, ছাগলা দাড়ি না ডাবা হুঁকো - এ সব নিয়ে আমার মাথাব্যথা জিরো। আমার অস্বস্তি অন্য জায়গায়। আমি যে অতগুলো কথা ওঁকে বললাম এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবেই বললাম - কারণ আমি অনেক কিছু হলেও পৃথিবীর কারও সঙ্গে প্রথম আলাপে অসভ্য নই - ওঁর চোখেমুখে এককণা ভাবও ফুটল না।
হাসতে হবে না। হাসি না পেলে হাসা উন্মাদের লক্ষণ। তা বলে ঠাণ্ডা চোখ মেলে তাকিয়ে থাকার এবং কথা শেষ হলে একটি শব্দও দাঁতের ফাঁক দিয়ে বার না করে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার কুলনেস দেখানোরও দরকার নেই। কারণ ওটা কুল নয়। ওটা ব্যাড অ্যাটিচিউড। ব্যাড অ্যাটিচিউড দিয়ে কোনও মহৎ কর্ম তো দূর, এক প্লেট পদস্থ ম্যাগিও বানানো যায় না।
ফেরার পথেও সিক্সটি ফাইভে থামা হয়েছিল। অর্চিষ্মান ভাত খেয়েছিল, আমি আবারও ম্যাগি। তিনিই ছিলেন অর্ডার নেওয়া এবং ম্যাগি রান্নার দায়িত্বে। আমি এবার জল কম দিয়ে শুকনো ম্যাগি বানাতে বলেছিলাম। অফ কোর্স মুখে ভাবলেশ ফোটেনি এবং ম্যাগি এসেছিল, ট্যালটেলে জলে ভেসে।
আরও একটা সম্ভাবনার কথাও মাথায় রেখেছি। হয়তো ম্যাগির দোষ নয়, অ্যাটিচিউডেরও না। ভারতবর্ষের জনহীন প্রান্তে, পাহাড়, জঙ্গল, কুয়াশা, বৃষ্টি, ঘুপচি দোকান, কাঠের টেবিল বেঞ্চি, অদূরে থাবায় মাথা রেখে বসে থাকা ঝুপো কুকুর পরিবৃত হয়েও যে আমি ম্যাগির চুল চিরতে বসেছিলাম তাতে হয়তো প্রমাণ হয় জীবনের প্রতি প্রসন্নতা অবশেষে হারাতে শুরু করেছি।
সেটা হলে রিয়েল স্যাড।
*
এর পর রানলি বলে একটা জায়গায় থামা হয়েছিল, আনিনি পৌঁছনোর আগে শেষ স্টপ। এখানে খিদে না পেলেও খেতে হবে কারণ এর পরে আর কিছু নেই। অর্চিষ্মান থালি খেয়েছিল, আমি আবারও আবার ম্যাগি। দিব্যি প্রত্যাশাপূর্ণ করা ম্যাগি। যেমন বলেছিলাম, শুকনো, তেমনই এসেছিল। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেল। এই যে ম্যাগির পছন্দঅপছন্দ স্পেসিফাই করা শুরু করলাম। শিবরামের গল্পের বিবেকের মতো আমার মনেরও আরও একটা তলতলে জায়গা দরকচা মেরে গেল। ম্যাগিকেও চোখ বুজে বিশ্বাস করা যাবে না।
আনিনির অনেক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাবেন, দেখে যদি বিষয়টা আন্দাজ না করতে পারেন আগ বাড়িয়ে বলে দিচ্ছি। লোয়ার দিবাং ভ্যালি হচ্ছে অরুণাচলের সবথেকে কম জনসংখ্যার জেলা। আনিনি লোয়ার দিবাং-এরও একেবারে ঘুপচিতে। এত জনশূন্য জায়গা আমি দেখিনি। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার চলে হয়তো দেখা গেল লাঠি হাতে এক বুড়ি খুরখুরিয়ে চলেছে। তিনদিন আনিনিতে কাটিয়ে ফেরার দিনও দেখলাম রাস্তায় লাঠি হাতে ওই এক্স্যাক্ট বুড়িই চলেছে। সিরিয়াসলি, বাড়িয়ে বলছি না। রিষড়া থেকে হাওড়া ডেলিপ্যাসেঞ্জারি-তুতো এক মাসি ব্যাংকে কাজ করতেন আর মেসো সম্ভবতঃ সরকারি বিজ্ঞানী ছিলেন। মেসোর কাজের সূত্রে ওঁরা ভারতবর্ষের ভয়ানক অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গায় ঘুরেছেন। মাসিরা নাকি উনিশশো ছিয়াত্তর সালে আনিনি এসেছিলেন। তখন আনিনির চেহারা কল্পনা করার চেষ্টা করে পারিনি।
ফাঁকা রাস্তায় নিমাজি বোলেরোতে পক্ষীরাজের স্পিড তুললেন। চারটে নাগাদ আনিনি পৌঁছে গেলাম। মোড়ের মাথায় পাঁচিলতোলা ধূসর বিষণ্ণ সরকারি সার্কিট হাউস। ঘাড় ঘুরিয়ে যতক্ষণ পারা যায় তাকিয়ে থাকতে থাকতেই গাড়ি মিশমি রিসর্টের কম্পাউন্ডে ঢুকে গেল। পরের দু'দিন ধরে মিশমি হিলস রিসর্ট আমাদের মন কেড়ে নিয়েছে। আবার যদি কোনওদিন আনিনি যাই প্রথমে সার্কিট হাউসে বুকিং পাওয়ার চেষ্টা করব, না পেলে সোজা মিশমি। ঘরদোর বাথরুম পরিচ্ছন্ন, সুন্দর বাগান খাবার স্বাদু, সার্ভিস বন্ধুত্বপূর্ণ। শেষেরটার কারণ হতে পারে কর্মীদের নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব। কর্মীরা, অন্ততঃ আমাদের সঙ্গে যাদের দু'বেলা মোলাকাত হচ্ছিল, বেশিরভাগই বাচ্চা এবং নিজেদের মধ্যে বাচ্চাসুলভ হাবভাবে রত। খেতে বসলে রেগুলার রান্নাঘর থেকে উচ্ছ্বসিত হাসি ভেসে আসত। একদিন সকালে কটেজের বারান্দায় বসে ছিলাম, বৃষ্টির মধ্যে একটা মেয়ে ছাতা হাতে কাজে ঢুকছিল। হাইয়ের বহর আর হাঁটার স্পিড দেখেই বোঝা যাচ্ছিল বেচারার ঘুম পুরো হয়নি। মেয়েটা যতক্ষণ হেঁটে হেঁটে মিশমির মূল অফিসের দরজা পর্যন্ত গেল, একটা ছেলে দরজায় দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে নাচল। ভাবুন, আপনি মুখ ভেচকিয়ে অফিসে ঢুকছেন আর আপনার কলিগ আপনার মুড ভালো করার জন্য নাচ দেখাচ্ছে। এ রকম অফিস পাই তো লাফিয়ে ঢুকি।
এজেন্ট অলরেডি ঘর বুক করে রেখেছেন। আই ডি চেক শুধু বাকি। আমার ভোটার কার্ড বার করে দিয়েছি। অর্চিষ্মান পাসপোর্টের জন্য ব্যাগ হাতড়াচ্ছে। এ খোপে নেই। ও খোপে নেই। মেয়েটা বলছে, নো ইস্যুজ। ঘরে যান। কফি নিয়ে যে যাবে তার হাতে পাঠিয়ে দেবেন।। স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপ করে দিলেও হবে।
ঘরে এলাম। অর্চিষ্মান ব্যাগ বিছানার ওপর উল্টো করে ঝাড়ল। সব আছে, পাসপোর্ট ছাড়া। আমি আমার ব্যাগ ভালো করে খুঁজলাম। আমার ব্যাগে থাকবে না, এ শুধু চাবি যেখানে পড়েছে সেখানে খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে আলো আছে সেখানেও খোঁজা। অর্চিষ্মান নিমাজিকে ফোন করে ডেকে গাড়ি খোলাল। সিটের সব পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখল। নিমাজি সিটের নিচে আলো ফেলে দেখলেন।
নেই। অর্চিষ্মান মিত্রর পাসপোর্ট কোত্থাও নেই।
পুনশ্চঃ সে রাতেই এজেন্টের হোয়াটসঅ্যাপ আপডেটে আমার আর অর্চিষ্মানের যুগল ছবি এসেছিল। যে ছবি মায়োদিয়া পাসে নিমাজি আমাদের ওপর রাগ পড়ার পর তুলে দিয়েছিলেন। ছবির ওপর বড় বড় ক্যাপশনঃ মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মিত্র এক্সপ্লোরিং অরুণাচল উইথ বলে এজেন্সির নাম। যতটা চিড়বিড়ানি হওয়ার কথা হয়নি কারণ ওর থেকে অনেক গুরুতর একটা সমস্যা ততক্ষণে ঘাড়ে এসে পড়েছে। এর থেকে যেটা শেখার, ছোটখাট বিরক্তি থেকে বাঁচতে হলে জীবনে বড়সড় বিরক্তির ব্যবস্থা করুন। নিয়মিত সিরিয়াস বিপাকে পড়ার অভ্যেস করলেই দেখবেন জীবনের ছোটখাটো ওঠাপড়া আর গায়ে লাগছে না, বোরোলিন ছাড়াই।
Comments
Post a Comment